তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৯
জান্নাতি আক্তার জারা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেটে গিয়েছে ছয়টা দিন, দেখতে দেখতে রশ্মির কানাডা যাওয়া তারিখ চলেই এলো,আর মাএ একটা রাত। রাত কেটে ভোরের আলো ফুটে সূর্যের ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রশ্মিও হাড়িয়ে যাবে আরাতের জীবন থেকে। রশ্মিরাত আলেদা হবে হয়তো কিছু মাস কিছু বছরের জন্য, হয়তো সারাজীবনের জন্য।
রশ্মির প্রস্তুতি নেওয়া শেষ, জামাকাপড় থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কসমেটিক হইতে শুরু করে সবকিছু গোছানো শেষ, রশ্মির প্যাকিং গুলো আরিশা সুন্দর মতো করে দিচ্ছে। রশ্মির ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আরাত মন খারাপ নিয়ে রশ্মির জন্য আরিশার প্যাকিং করা দেখতাছে। আর রশ্মি মলিন মুখে বিছানায় বসে। রশ্মির মনে হচ্ছে একেকটা সেকেন্ড যাচ্ছে তো রশ্মির আপনজন দের থেকে দূরের যাওয়ার সময়টা ঘনিয়ে আসতেছে। এইতো এই অতি’চিরোচেনা রুমটা আপন মানুষ গুলো বেস্ট ফ্রেন্ড, ছোট ভাই, সবাইকে এখন নিজের সামনে দেখছে, আর মাএ কয়েক ঘন্টা তাহলে সবকিছু থেকে অনেক, অনেকটা দূরে। আজ আসে তো কাল নেই।
আচ্ছা এতটা দূরে যাওয়ার পড়ে কী রশ্মির সবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে গা জুড়াবে, শান্তি পাওয়া যাবে, আরাতের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারবে, হয়তো না, চাইলেও হুটহাট আরাত কে জরিয়ে ধরতে পারবে না,অনেকটা দূরে চলে যাবে রশ্মি। রুমটাতে শুধু কসমেটিকের ঝনঝন আওয়াজ ছাড়া কিছুই শুনা যাচ্ছে না, কী আজব রশ্মি তো এখনো যায় নাই, অথচ রুমটা নীরব, হ্যাঁ হয়তো কালকেও রুমটা এমন নীরব পড়ে থাকবে, শুধু পার্থক্য, আজকে রুম ভর্তি মানুষ, কালকে খালি ঘর থাকবে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আইরা রশ্মির রুমে ধুঁকে বলে উঠলো, তোদের কতদূর ওদিকে সবার রাতের খাবার খাওয়া শেষ , মামা মামনী ওই বাড়ি যাচ্ছে সবগুলো, আমাকে তোদের ডাকতে বললো,, রাহিমা আন্টি ওই বাড়িতে যাইতাছে।
রশ্মি যাওয়া উপলক্ষে আজকে রাহিমা সুলতানা, রশ্মির পছন্দের সব খাবার রান্না করছিলেন, রান্না কাজে হেল্প করেছেন, রাবেয়া তালুকদার আদিবা তালুকদার, রশ্মির নানুবাড়ি থেকে অনেকেই আরছিলো,তারউপর তালুকদার বাড়ির সবাই রশ্মিদের বাড়িতে দাওয়াত ছিলো, আহাদ তালুকদার আদনান তালুকদার, আনহা শেখ আতিফ শেষ, সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে, তালুকদার বাড়িতে যাচ্ছে, রশ্মিদের বাড়িটা বেশি একটা বড়ো না, নিচের তালায় কিচেন রুম, গেস্ট রুম আর ড্রয়িং রুম, উপরে তালায়, রশ্মির একটা রুম আলভী রুম,রাহিমা সুলতানা একটা রুম, আর একটা রুম ফাঁকা থাকে। ড্রয়িংরুম ছোট্ট হওয়ার সবাই রাতের খাবার খেয়ে রশ্মিদের বাড়ি থেকে আরাত দের বাড়িতে যাচ্ছে।
আইরা রশ্মির রুমে আসাতে রুমটা কিছুটা পরিবর্তন ঘটলো, আরিশা প্যাক শেষ করে টলি ব্যাগের চেনটা লাগাতে লাগাতে আইরা উদ্দেশ্য বলে উঠলো —“এই তো শেষ।
কথাটা বলেই আরিশা, রশ্মিরাতের দিকে তাকিয়ে বলল।
“চল ওই বাড়িতে যাওয়া যাক!
মামনী রা ওই বাড়িতে চলে গিয়েছে, এদিকে তো সবকিছু কমপ্লিট।
আরাত হুমম বলে সামনে দিকে এগুলো রশ্মি বিছানা থেকে নামতেই রশ্মির ফোনে ফোন এলো, ফোনের রিংটোন আরিশা আইরা আরাত তিনজন রশ্মির দিকে তাকালো, রশ্মি ফোনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, রশ্মির ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকেই তিনজনের উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
“তোমরা যাও আমি কিছুক্ষণ পড়ে আসতাছি।
আইরা দুষ্টু হেসে বলে উঠলো, পার্থ চৌধুরী বুঝি হুমউউ?
রশ্মি হালকা হেসে মাথা নাড়ালো, যার অর্থ হ্যাঁ পার্থ ফোন করেছে, আরিশা আইরা কে ধমকে সরে বলল,
“চল এখান থেকে এখন কোনো ফাজলামো না, রশ্মিকে কথা বলতে দে, চল আমরা যাই।
কথাটা বলেই আরিশা আইরা হাত টেনে নিয়ে গেলো, আরাত চুপচাপ আরিশা দের সঙ্গে চলে এলো নিজের বাড়িতে। ড্রয়িংরুমে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছেন, আরিশা আইরা আরাত তিনজন মিলে বাড়িতে আসতেই দেখতে পেলো বাড়ির ছোট বড়ো সবাই একাত্তরে বসে আছে, শুধু তাকবীর নেই,তাকে বাড়ির আড্ডায় পাওয়া যায় না ।
আহিন আলভী দু’জন আরাতের ফোন নিয়ে ড্রয়িং রুমের এক সাইটে মেঝেতে বসে কাটুম দেখতাছে, আদনান তালুকদার, আহাদ তালুকদার, আতিফ শেখ, তিন কর্তা সোফাতে বসে একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে। আনাস সোফায় এক কোণে নিজের ফোন ঘাটাঘাটি করছে। আদিবা তালুকদার আনহা শেখ রাহিমা সুলতানা তিনজন ডাইনিং টেবিলে চেয়ারে বসে গল্প করছেন, রাবেয়া তালুকদার নিজের রুমে গিয়েছেন।
আরিশা, ওর আম্মুর কাছে ডাইনিং গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে বসলো, আরাত ড্রয়িং রুমে নিজের বাবার কাছে এগিয়ে গিয়ে বাবার কাছে জায়গায় করে নিয়ে বাবার ঘাড়ে মাথা ঠেকিয়ে মন খারাপ করে বসে পরলো, আহাদ তালুকদার নিজের পাশে মেয়েকে জায়গায় করে দিয়ে ভালোভাবে এক হাত দিয়ে জরিয়ে নিয়ে, জানতে চাইলো —
” আমার মায়ের কী মন খারাপ?
সঙ্গে সঙ্গে আদনান তালুকদার, আতিফ শেখ, আনাস, তিনজন আরাতের দিকে তাকালেন। আরাত বাবার কাঁধে মাথা রেখেই বলে উঠলো — উহুম!
আহাদ তালুকদার, হাসি মুখে, নিজের ঘাড় থেকে আরাতের মাথা উঠিয়ে কপালে একটা চুমু খেয়ে বলে উঠলো।
“বুঝতে পেয়েছি আমার মায়ের মন খারাপ, আমার মায়ের মুখে শুধু খুশি মানায়, মন খারাপ না, ঠিক আছে। এখন একটু হাসো তো!
আরাত বাবার কথায় মুখে একটু মুচকি হাসি দিয়ে আবার কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে বলে উঠলো।
” আমার মন খারাপ তুমি কিভাবে জানলে বাবা?
আরাতের কথায়, আহাদ তালুকদার হেঁসে উঠলেন।
এতক্ষণে আইরা, আতিফ শেখ যে সোফাতে বসেছেন। সেই সোফাতে বাবার পাশে এসে বসেছে। আইরা এক হাত সোফার কণারে রেখে মুখটা হাতের উপড়ে রেখে দিয়ে। সামনে সোফায় বসা আনাস কে চুপিচুপি দেখতাছে । আতিফ শেখ এবার আইরার এক হাত নিজের হাঁতের মুঠোয় নিয়ে, মুখে হাসি টেনে আরাতের উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো।
“কী জানো তো আরাত মামনি, পৃথিবীর সমস্ত বাবা তার মেয়েকে, পড়তে পাড়ে, তোমাদের মন খারাপের কারণ ।খুশির কারণ। হাসির কারণ।ভালো থাকার কারণ। সবকিছু বাবা’রা মেয়েদের মুখ দেখলেই বুঝে যায়।
আতিফ শেখ নিজের কথাটা শেষ করে একবার নিজের মেয়ের, মুখের দিকে তাকালেন । আইরাকে সামনে আনাস সের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে, মুখে মুচকি হাসি টেনে পুনরায় আরাতের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলেন ।
“বাবা’রা সবসময় হাজার ব্যস্ততার মধ্য দিয়েও মেয়েদের খেয়াল রাখে। তোমরা কিসে ভালো থাকবে, কিসে কষ্ট পাবে, তোমরা কখন কী করছো,কখন কী চাইছো। সবকিছু কিন্তু নজরে নজরে রাখে, বুঝতে পারছো মামনী?
আরাত মলিন হাসি দিলো একটা,
আতিফ শেখের কথায়, সঙ্গে সঙ্গে আইরা লজ্জা পেয়ে সোজা হয়ে বসে পড়লো, তারপর অন্যদিকে তাকিয়ে মুখে মুচকি হাসি টেনে পুনরায় আড়চোখে একবার আনাস সের দিকে তাকালো, তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেলো।
আনাস এতক্ষণ যাবত, বোনের মন খারাপের কথা শুনতে পেয়ে বোনের দিকে তাকিয়ে দেখছিলো। আতিফ শেখের কথায় সেদিকে তাকালো, তাকিয়ে আতিফ শেখের পাশে আইরা কে বসে থাকতে দেখে, না চাইতেও একবার সেদিকে তাকালো, তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেলো। আনাস স্বাভাবিক ভাবেই নিচের চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার ফোনে আবদ্ধ হইলো।
আনাস কে ইগনোর করতে দেখে আইরা,আতিফ শেখের ঘাড়ে মাথা রাখতে রাখতে ঢং বলে মুখ বাঁকালো ।
আনাস পুনরায় আঁড়চোখে একবার আইরা কে দেখলো, তারপর আবার ফোন ঘাটাঘাটি করায় মগ্ন হয়ে গেলো।
আদনান তালুকদার এতক্ষণ, বাবা মেয়ের আগলিয়ে রাখা ভালোবাসা টুকু মুগ্ধ চোখে দেখছিলেন, ওনার মেয়ে নেই, তাকবীর জন্মের পর আদিবা তালুকদার নিজস্ব শারীরিক সমস্যা কারণে কনসিভ করতে পারে নাই, দৈর্ঘ্য ১৬ বছর পর ডক্টরের পরামর্শ পুনরায় কনসিভ করেন, আশা ছিলো একটা সুন্দর ফুটফুটে রাজকন্যার, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিলো, তাইতো দৈর্ঘ্য ১৬ বছর পর আদনান তালুকদারের ঘরে নতুন ফাজিলের আগমন ঘটেছিলো। আদনান তালুকদার মাঝেমধ্যে নিজের ছেলেদের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, এক গর্ভে দুটো আলেদা চরিত্র কথা। বড়ছেলে (তাকবীর) ছোট্ট বেলা থেকেই সবসময় চুপচাপ ,গম্ভীর টাইপে, পড়াশোনায় টপার ছিলো। আর ছোট্ট ছেলে (আহিন) পড়াশোনা অমনোযোগী সারাদিন শুধু মাথার মধ্যে দুষ্টুমি ঘুরে বেড়ায় ,কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হেঁসে উঠলেন আদনান তালুকদার।
হাসতে হাসতে দরজায় রশ্মি কে আসতে দেখে, রশ্মি কে ডেকে উঠলেন আদনান তালুকদার।
“এই তো আমার রশ্মি মামনী চলে এসেছে , মামনী এদিকে আসো তো, আমার পাশে বসো, ওরা একা একা আমাকে দেখিয়ে মেয়েকে আদর করছে।
আদনান তালুকদারের কথায় রশ্মি হাসিমুখে এগিয়ে এসে আদনান তালুকদারের পাশে বসলো, আদনান তালুকদার রশ্মিকে পাশে বসিয়ে পুনরায় বললেন।
“এইতো আমার মেয়ে এসে গেছে এখন আমিও আমার মেয়েকে আদর করবো।
কথাটা বলতেই এবার তিন কর্তা একসঙ্গে হেঁসে উঠলেন। আহাদ তালুকদার রশ্মির দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার ফ্লাইট কয়টায় মামনী?
রশ্মি আদনান তালুকদার পাশে বসা আবস্থায় আহাদ তালুকদারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“জ্বি আঙ্কেল, আগামীকাল সকাল সাড়ে দশটা!
আতিফ শেখ কে বলতে শুনা গেলো — তাহলে তো তোমাকে রিসিভ করতে ভাইজান এয়ারপোর্টে আসবে ?
“জ্বি ফুপা, আব্বু নিজে আসবে,আমাকে রিসিভ করতে!
এভাবে কথা বলার মধ্যে দিয়েই, তাকবীর সিড়ি বেয়ে নিচে নিমে এলো, দুপুরের দিকে ঘুমিয়ে সেই ঘুম ভাঙছে দু-তিন ঘন্টা হবে। এতক্ষণ নিজের রুমের বেলকনিতে ছিলো , মাএ নিচে নেমে এলো রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। নিচে এসে কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা কিচেনের দিকে এগুলোতেই আনাস তাকবীর কে পিছন থেকে ডেকে উঠলো,
” ভাইয়া?
তাকবীর দাঁড়ালো, পিছনে না তাকিয়ে আনাস সের কথায় উত্তর করলো,
“হুম!
ভাইয়া বড়আব্বু এদিকে একটু বসতে বললো,
তাকবীর ভ্রুকুচকে পিছনে ঘুড়িয়ে দাড়ালো, তারপর সামনের দিকে এগিয়ে এসে প্রশ্নবোধক চাহনিতে তাকালো।
” তাকবীর এদিকে এসো তো কিছু কথা ছিলো!
আদনান তালুকদার বসা আবস্থাতে তাকবীর কে নিজের কাছে ডাকলেন। তাকবীর কিছুটা এগিয়ে এসে সবার সামনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
আতিফ শেখ তাকবীর কে বললেন, তাকবীর এদিকে এসে বসো, তোমার সঙ্গে তো কথা হয়না, একটু বসো সবার সঙ্গে আড্ডা দেও, তোমার ভালো লাগবে।
” ইট’স ওকে ফুপা !
আনাস তাকবীর কে বলে উঠলো —রশ্মির আগামীকাল সকাল সাড়ে দশটায় ফ্লাইট, ও স্টাডি কমপ্লিট করতে কানাডা যাচ্ছে আঙ্কেলের কাছে।
আনাস সের কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে, তাকবীরের চোখজোড়া স্থির হইলো সোজা আরাতের উপর, মেয়েটা আহাদ তালুকদারের কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে মলিন মুখে চুপচাপ দু-হাত দিয়ে ওড়নার কাণীআংশ মোড়াচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ে তাকবীর ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল , চোখ ঘুড়িয়ে একবার আনাস সের দিকে তাকালো, তাকিয়ে বলল।
” আধাঘন্টা পড়ে আমার রুমে আসবি।
আনাস তাকবীরের কথায় মাথাটা ঝাকিয়ে বলল — “ওকে!
কথাটা বলেই একবার,তাকবীর নিজের বাবার দিকে তাকালো। বাবার পাশে রশ্মি কে বসে থাকতে দেখে, রশ্মির উদ্দেশ্য বলল,
“বেস্ট অফ লাক!
রশ্মি হাসি মুখে, তাকবীর কে বলল, থ্যাংকস ভাইয়া দোয়া করবেন।
তাকবীর নিজের কথাটা শেষ করে কিচেন রুমের দিকে এগিয়ে গেলো, রাতের খাবার খাওয়ার জন্য, কিচেন রুমে এসে দাঁড়াতে, আদিবা তালুকদার এগিয়ে এলেন, আদিবা তালুকদার রশ্মি দের বাড়ি খাবার তাকবীরের জন্য আগেই সেজে রেখে দিয়েছিলো। তাকবীর খাবার প্লেট হাতে নিয়ে সিড়ি বয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
আইরা আরিশা রশ্মিরাত, চারজন মিলে আরাতের রুমে সবগুলো,আর মাএ একটা রাত, তাহলে রশ্মি থাকবে না আর সবার সঙ্গে, আজকে রাতটা চারজন মিলে আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিবে,কিন্তু আহিন আলভী আড্ডায় শামিল থাকবে না, এটা তো হওয়ার না।
আনহা শেখ আতিফ শেখ, দুজন আজকে তালুকদার বাড়িতে থেকে গেলেন। বড়ো রা সবাই সবার রুমে রুমে গিয়েছে। আনাস তাকবীরের রুমে গিয়ে তাকবীর কে কোথাও না পেয়ে বেলকনিতে এগিয়ে গেলো, তাকবীর বেলকনির সোফাতে বসা আবস্থাতে ঘাড়টা সোফার সঙ্গে এলিয়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবনায় মগ্ন। পা দুটো সোফার সামনে টেবিলে রাখা। হটাৎ আনাস সের ডাকে তাকবীরের ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটলো।
” ভাইয়া?
তাকবীর আনাস সের দিকে তাকালো, তারপর চোখের ইশারায় আনাস কে সোফায় বসতে বললো,আনাস তাকবীরের কথা মতো সোফাতে বসল। তাকবীর এবার নিজেও ঠিকঠাক হয়ে বসে আনাস সের দিকে তাকিয়ে বলল।
“রশ্মি কে এয়ারপোর্টে এগিয়ে দিতে কে কে যাবে?
“আমি, আরাত, আন্টি, আলভী কে আন্টি রেখে যাবে আমরা তিনজন যাবো।
” গুড, টেক কেয়ার!
আনাস তাকবীরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো, তাকবির আনাস কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড!
আনাস মুচকি হাসি দিয়ে।
“নাথিং,
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর আনাস তাকবীরের মুখে দিকে চেয়ে কিছু একটা ভেবে পুনরায় তাকবীর কে বলল,
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৮
“ভাইয়া তুমি হয়তো কিছু বলতে চাইছো?
তাকবীর এবার আনাস সের দিকে তাকালো, তারপর চোখ ঘুড়িয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে একটু সময় নিয়ে বলল ।
” পাগলটাকে সামলে রাখিস !
আনাস তাকবীরের কথায় মুচকি হাসি দিয়ে বলল, হুম তা আর বলতে, এয়ারপোর্টে কী পাগলামি শুরু করে দেবে আল্লাহ মালুম।
