৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৪
সারা চৌধুরী
-“শ্রাবন এগুলা কি শুনছি অহনা যা বলছে সব ঠিক…?
শ্রাবন কি উত্তর দিবে ভেবে পাই না।মাথা নিচু করে থেকেও কোনো সমাধান নেই।পুরো বাড়ির সকলে তার দিকে তাকিয়ে আছে।শ্রাবন এটাও জানে বেশিক্ষন চুপ থাকলে ফারুক তালুকদার রেগে যাবেন হলোও তাই ফারুক তালুকদার ধমকে উঠলেন শ্রাবণ কেপে উঠে সাথে বাড়ির সকলে।এ বাড়ির সকলে ভয় পাই তাকে।ফারুক আবারো বলে…
-” কি হলো বলো..?
-“জ্বী মামা।
-“কিসের জ্বী…?
-“অহনা যা বলেছে সত্যি..!
শ্রাবন কথাটা বলা মাত্রই আনিস উঠতে চাইলো উদ্দেশ্য শ্রাবনকে চড় মারা।ফারুক তালুকদার বুজতে পেরে আটকালেন।পুরো বাড়ির মানুষের সামনে একটা এত বড় ছেলেকে অপদস্ত সে করবে না এমনকি অপমানিত হয় সে কাজ ও করবে না।শ্রাবন এর বাবা ফারুক তালুকদার এর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো সে হিসেবেই নিজের বোন মনিরার সাথে বিয়ে দেই শ্রাবন এর বাবা কে।তবে শ্রাবন এর বাবার অকাল মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।শ্রাবনের বাবা মৃত্যুর আগে ফারুক তালুকদার কে বলে গিয়েছিলো.. যে তার ছেলে কোনো ভুল করলে ভুল ধরিয়ে দিতে আর নিজের সন্তান এর মতো আগলে রাখতে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ফারুক তালুকদার সেটাই করলেন।সেজন্যই শুভ্র আর শ্রাবন কে একই চোখে দেখেন তিনি।দুই ভাই কে কখোনো কষ্ট পেতে দেন নি কোনো জিনিসের তবে আজ এত বড় ভুল করে বসেছে এর কি ক্ষমা হয়।ফারুক তালুকদার রেগে গেছেন শ্রাবন এর কথায়। রাগী কন্ঠেই বলে উঠলো..
-“তোমার লজ্জা করে নাই একটা গর্ভবতী মেয়েকে একলা ফেলে এসে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে।আমার আফসোস লাগছে ঠিক মতো বড় করে তুলতে পারি নি আমি তোমাকে।
শ্রাবন এর খুব খারাপ লাগলো।ছোট থেকে ফারুক তালুকদার তাকে বাবার মতো ভালোবাসেন।আর কখোনো বকে নাই।সেই মানুষটা আজ তার জন্য কষ্ট পাচ্ছে।বাড়ির সবার ই রাগ হলো। শুভ্রর চোখ শক্ত হয়ে গেলো যতই হোক অহনা তার বেস্ট ফ্রেন্ড আর শ্রাবন তার ভাই।তবুও রেগে শ্রাবন কে বলে উঠলো..
-“তোকে ভাই বলতেও লজ্জা করছে এতটা কাপুরুষের মতো কাজ করলি কিভাবে।
শুভ্রর কথা শুনে শ্রাবন মুখ তুলে তাকায়। শুভ্রর কথা শুনে তার মাথায় ও রাগ উঠে যায়।নিজেও রেগে বলে উঠে…
-“তোর জন্যই তো।তোকে কেন্দ্র করেই ভুল বুজেছিলাম।
শ্রাবন এর কথায় সবাই চমকায়।শুভ্র ও চমকে যায়।বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষ যেনো আজ চমকের উপর আছে।শুভ্র কপাল কুচকে বলে উঠে..
-“কি আজে বাজে বলছিস আমাকে কেন্দ্র করে মানে..?
-“যা বলছি সত্যিই বলছি তোকে কেন্দ্র করে ভুল বুজে আমি অহনাকে ডিভোর্স দিয়েছি শুধু তোর কারনে নয়তো ওকে আমি কম ভালোবাসতাম না।
-“তুই পাগল হয়ে গেছিস আজে বাজে বকা বন্ধ কর আমার জন্য ডিভোর্স দিয়েছিস মানে কি..?
-“তুই বুজিস না আকাশ প্রতি দিন একের পর এক তোদের অঙ্গরঙ্গ ছবি আমাকে সেন্ড করতো আমি একজন পুরুষ হয়ে কিভাবে সইতাম এসব..?
-“মানেহ…?
শ্রাবন আরো কিছু বলতে যাবে। তার আগেই ফারুক তালুকদার কঠিন এক ধমক দিয়ে দুজন কে চুপ করিয়ে দেয়।তিনি বুজেছেন দুই ভাইয়ের ঝামেলার মাঝে কিছু মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। তবে সেটা কি।এখন এমন তর্কাতর্কি করলে দুই ভাইয়ের মাঝে ঝামেলা হবে পরে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।
ফারুক তালুকদার এর কথায় শুভ্র শ্রাবন দুজনেই থেমে যায়।আনিস তালুকদার বসে বসে আছেন বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে।বাড়ির সবাই নিশ্চুপ।যেনো কথা বললেই কিছু মিচ করবেন।ফারুক তালুকদার নিজের কঠিনত্ত বজায় রেখেই শ্রাবন কে বলে..
-“শ্রাবন তুমি সব কিছু খুলে বলো।দোষ যার শাস্তি সে পাবে আজ বিচারে বসেছি সমাধান করেই ছাড়বো।
শ্রাবন মাথা নিচু করে নেই। তার পর আবারো আড়চোখে অহনার কান্না রত লালচে মুখ টা দেখে নেই।অহনার মুখ দেখে শ্রাবনের বুক কেপে উঠে।কত শুকিয়ে গেছে মেয়েটা।বেশ কিছুক্ষন শ্রাবন চুপ থেকে বলা শুরু করে…
-“আমার আর অহনার বিয়ের পর আমারা লুকিয়ে একটা সংসার শুরু করি।অহনা নিজের পড়াশোনা চালু রাখে আমিও আমার কাজ।আমি কখোনো কাওকে বুজতে দেই নি।আমাদের বিয়ের কিছুদিন পর শুভ্র ও জেনে যায় তবে আমার সাথে অহনার বিয়ে হয়েছে এটা জানতো না।তারপর একদিন রাতে আমি ঘরে সুয়ে আছি অহনা তখন ঢাকায় আর আমি এখানে হটাৎ আকাশের একটা টেক্সট আসে।বলে ভাইয়া আপনার আর আপুর কি ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।আমি চমকেছিলাম নিজের শালার মুখে তার বোনের কথা শুনে।আমি যখন বলি কেন। তখন আকাশ আমারে কয়েকটা ছবি দেই।ছবি গুলো এমন ছিলো যে কয়েকটা দেখলে মনে হবে শুভ্র অহনাকে চু/মু খাচ্ছে।তখন আমার মাথা গরম হয়ে যায়।তখন জীবনের একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি আকাশ কে ফলো করার কথা বলেছি।ও প্রতিদিন আপডেট দিতো।আমিও ভাবতাম নিজের বোনের এমন খারাপ সম্পর্ক ভাই হিসেবে না মানতে পেরে এসব করছে।এক সময় সে অন্য ছেলেদের নিয়েও দিতো তখন থেকেই অহনার প্রতি আমার ইন্টারেস্ট চলে যেতে শুরু করে।অহনার সান্নিধ্যে খারাপ লাগতে থাকে।।আমিও খেয়াল করতাম শুভ্র অহনার সাথে বেশি মিশে।আর অহনা বেশি টাইম বাইরে বাইরে কাটাতো। তাই আমারো রাগ হয়।
শ্রাবন একটু থেমে আবার বলতে শুরু করে বিশেষ করে খারাপ লাগতে শুরু করে অহনা কিভাবে পারছে শুভ্রর সাথে সম্পর্ক করতে।শুভ্র আমার ভাই ছিলো।একদিন সব কিছু ছাড়িয়ে গেলো আমি সিলেট আসার দিন।আমি দুপুরে বসে আছি ও আমারে বলছে শ্রাবু তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।আমি তখন জিজ্ঞাসা করলেও অহনা বলেছিলো পরে বলবে। আমি আর ঘাটি নাই।সেদিন রাতে আসার সময় আকাশ আমার ফোনে কিছু চ্যাট লিস্ট আর কিছু খারাপ ছবি দেই।যাতে আমার ঘৃনা জন্মায় অহনার প্রতি।আমিও ভেবেছিলাম আকাশ হয়তো নিজের বোনের এসব খারাপ জিনিস সহ্য করতে পারছে না বলেই আমাকে এসব দিয়ে সাহায্য করছে দূরে চলে যেতে।সেদিন পর পর আরো কয়েকটি ছবি আসে শুভ্রর সাথে অহনার আর কিছু অন্য ছেলের চ্যাট লিস্ট। যাতে স্পষ্ট অহনা কিছুদিন পর আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য ছেলেকে বিয়ে করবে।
সেখান থেকে রাগ সৃষ্টি সাথে জেদ আমিও প্রতিজ্ঞা করি ও ডিভোর্স দেওয়ার আগে আমি দিবো আর আমি সেই ভুলটাই করি।তার কিছুদিন পর শুনি অহনা বিয়ে করেছে সাথে প্রেগন্যান্ট এই খবরটাও আমাকে আকাশ দিয়েছিলো।তবে বাচ্চাটি আমিও ভেবেছিলাম অন্য ছেলের।তবে আমার ভুল ভাঙে বুজতে পারি ছবি গুলো ইডিট করা।আর আকাশ যে ফটো এডিটর আমি কখোনো জানতাম না।আকাশ কে আমি অনেক বিশ্বাস করতাম তবে আমার ভুল ভাংতে দেরি হয়। ততদিনে সবাই জেনে গেছে অহনা আর শুভ্র বিয়ে করেছে আর অহ্না গর্ভবতী আমিও ভেবেছিলাম হয়তো বাচ্চাটি শুভ্রর। তাই আমি চুপ হয়ে যায়।রাগ হয় আমার শুভ্র কেড়ে নিলো আমার ভালোবাসার মানুষটিকে আমিও তাই করবো।
সেই রাগ থেকেই সেদিন আমি সারা আর শুভ্রর মাঝে দন্দ লাগিয়ে সারাকে নিজের করতে চেয়েছিলাম।শুধু রাগ থেকেই যাতে শুভ্র আমার কষ্ট বুজতে পারে।তবে আজ যখন জানলাম অহনা বিয়ে করেনি আর ওটা শুভ্রর নয় আমার সন্তান তখন আমার পুরোপুরি ভুল ভাঙে।
কথা গুলো থামে শ্রাবন মাথা যন্ত্রনা করছে তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অনুতপ্ত নোনা জল।বাড়ির সকলে নিরব। অহনার বুজতে বাকি নেই যে ভাইকে সে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসে ছে সেই ভাই তার সুন্দর সাজানো জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে।নিস্তব্ধতা ভেঙে ফারুক তালুকদার শ্রাবন কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
-“তো শেষ অব্দি কি মনে হচ্ছে এখানে কার দোষ ছিলো..?
শ্রাবন মাথা নিচু করে করুন কন্ঠে বলে উঠে…
-“এখানে আমার দোষ ছিলো,, যেখানে আমি নিজের স্ত্রীর থেকে তার ভাইকে বেশি বিশ্বাস করেছি।নিজের স্ত্রী কি কখোনো সত্যি মিথ্যা জিজ্ঞাসা করে নি।নিজের ভাই সম্পর্কে খারাপ ধারনা নিয়েছি।সব শেষে আমি দোষি।
ফারুক তালুকদার একটু গম্ভীর কন্ঠেই বলে উঠে..
-“ফারুক তালুকদার এর কাছে ভুল মানেই ভুল আর ভুল করলে শাস্তি পেতেই হবে।আর তোমাকে পাওয়া লাগবে শাস্তি।কঠিনতম শাস্তি।বলে ফোন লাগালো নিজের বন্ধু আকরাম যে কিনা পুলিশের ওসি।তাকে কিছু টেক্সট দিলো সাথে আসতে বললো।
পুরো বাড়ির সকলে কেপে উঠে ফারুক তালুকদার এর এমন কাজে।শেষ পর্যন্ত জেল এ দিবে।ভাবা যাচ্ছে না।শ্রাবন নিরবে চোখের পানি ফেলে।শুভ্র কিছু বলতে গেলে হাতের ইশারায় থামিয়ে দেই তারপর অহনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে…
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৩
-“তো অহনা শ্রাবন এর কথা শুনে মেইন কাল/প্রিট খুজে পেয়েছো। নাকি আমি খুজে দিবো।নাকি তোমার কাছে এখোনো শ্রাবন দোষি…?
ফারুক তালুকদার এর কথায় অহনা আবারো কেদে উঠে।যাকে নিজের সব ভাবতো সেই ভাই তার লাইফ টা শেষ করালো।কিভাবে পারলো এতো নিষ্ঠুর হতে।কি জবাব দিবে এত মানুষের ভিড়ে। যে তার ভাই ই তার সংসার নষ্ট করেছে।খুব ঘৃনা হচ্ছে নিজের ভাইয়ের প্রতি।আজ সারার ও খারাপ লাগছে অহনার জন্য সাথে ফাতিহার ও।ভুল বুজাবুজি তে একটা সম্পর্ক কিভাবে শেষ হয়।হটাৎ অর্কের ফোন বেজে উঠে অর্ক ফোন পকেট থেকে বের করে শুভ্রকে কিছু একটা ইশারা করতেই শুভ্র বেরিয়ে যায় বাইরে…
