Home তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৯

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৯

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৯
তানিশা সুলতানা

পুত্র সন্তানের জননী হয়েছে ইশারা। গোলুমোলু ধবধবে ফর্সা একটা সুন্দর বেবি। যাকে দেখে নার্স ডাক্তারাও মাশাআল্লাহ বলে উঠেছে কয়েকবার। আমান বাবু দুনিয়াতে আসার খবর জেনেই আজান দিয়েছে। আহাদ ছুটেছে মিষ্টি আনতে। গোটা হসপিটালের সবাইকে মিষ্টি মুখ করাবে। ইশারার বাবা ভাইকেও কল করে জানানো হয়েছে। বাবুর পিক পাঠানো হয়েছে।

নার্স যখন বাবুটাকে পরিষ্কার করে সাদা তোয়ালে মুরিয়ে কেবিনের বাইরে নিয়ে এলে তখন প্রথমেই কোলে নিয়েছে আবরার। নার্সের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে মোটা অঙ্কের কিছু টাকা। ছোট্ট ছানাটাকে সে যখন কোলে তুলে নিচ্ছিলো তার হাত দুটো থর থর করে কাঁপছিলো। বুকের ভেতরে প্রশান্তির হাওয়া বয়ে চলেছিলো। এ যেনো একটা ছোট্ট চাঁদ। শুকনো অধর চেপে চুমু খেয়েছে চাঁদের কপালে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আতিয়া বেগম এর ব্যস্ততা কমছে না। অনবরত ডাক্তার নার্সদের সাথে তর্ক করে চলেছে। মূলত ছোট বাচ্চাদের সরিষার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করে দিতে হয়। উনি সেটাই করতে চাচ্ছে। কিন্তু ডাক্তার নার্স কিছুতেই এটা করতে দেবে না। সেটা নিয়েই তর্ক বিতর্ক। টিশা ইশারার পাশে ছায়ার মতো বসে আছে। সদ্য সিজার হয়েছে। কিছু লাগবে কিনা, ব্যাথা পাচ্ছি কিনা এসব তো তারই দেখতে হবে।
সিয়াম এক কোনায় ঘাপটি মেরে বসে আছে। আসলে স্বপ্ন দেখছে কিনা বাস্তব এটাই বোঝার চেষ্টা করছে সে। বাচ্চার মুখটাও এখনো দেখে নি। আমান আহাদ ইভান সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে আবার বেরিয়েছে। খালি হাতে বাবুর মুখ দেখবে না তাই গিফট কিনতে গিয়েছে।

আবরার বাবুকে নিয়ে আদ্রিতার কেবিনের দিকে পা বাড়াতে গিয়েও যায় না। পাশ ফিরে চিন্তিত সিয়াম এর মুখ পানে তাকায়। এবং বাবুকে নিয়ে ওর কাছে আসে। গম্ভীর স্বরে বলে
“রাজপুত্রকে কোলে নে সিয়াম।
ধ্যান ভাঙলো যেনো সিয়াম এর। সে মাথা তুলে প্রথমেই তাকায় আবরারের মুখ পানে তারপর বাবুর পানে।
” ভাই আমার মতো একটা ভন্ড কবির ছেলে এতো কিউট কেমনে হইলো? ডাক্তাররা মনে হয় ভুল করে অন্য বেবি আমাদের দিছে।
আবরার ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকায় সিয়াম এর পানে। ব্যাসস মুহুর্তেই সে শুকনো ঢোক গিলে এবং বাবুকে কোলে নেয়। ভাই রে ভাই এ যেনো সত্যি একটা চাঁদ। সিয়াম চিল্লিয়ে উঠে বলে

“এ এই আবরার ওকে আমার থেকে নে। কোলে নিতে পারবো না আমি।
আবরার তাড়াহুড়ো করে সিয়াম এর থেকে বাবুকে নিয়ে নেয়। এবং বলে
” হোয়াটস রং উইথ ইউ।
সিয়াম জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে বলে
“ওর থেকে দূরে দূরে থাকবো ভাই।
আমার মতো ভন্ড হলে মুশকিল। তুই বরং তোর কাছেই রাখিস সব সময়।
আবরার সিয়াম এর মাথায় চাটি দিয়ে বাবুকে নিয়ে আদ্রিতার কেবিনে ঢোকে।
সিয়াম মুচকি হাসে। তার ইচ্ছে করছিলো বাবুটাকে কিছুক্ষণ কোলে রাখার। তুলতুলে গালে চুমু এঁকে দেওয়ার। ইশারার পাশে বাবুকে শুইয়ে দিয়ে তাদেরকে ক্যামেরাবন্দি করার। আবরারের ইচ্ছে করছিলো বাবুকে নিয়ে আদ্রিতার কাছে যাওয়ার। তাই নিজের ইচ্ছেকে বিসর্জন দিয়ে আবরারের ইচ্ছেটাই পূরণ করলো সিয়াম। কেনো করবে না?

আবরারের জন্য সে জানটাও দিতে প্রস্তুত। আর এই টুকু ত্যাগ করতে পারবে না?
সিয়াম গুটি গুটি পায়ে ইশারার কেবিনে প্রবেশ করে। দেখতে পায় আতিয়া বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। টিশা পানি খাইয়ে দিচ্ছে।
তখন মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে বাসায় পৌঁছেছিলো আবরার। এবং আদ্রিতাকেও হাসপাতালে নিয়ে আসে।
ডাক্তার চেকআপ করে জানায় আদ্রিতাও মা হতে চলেছে। দুই সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট।
সকলের খুশি যেনো দ্বিগুন বেড়ে যায়। শুধু হাসি ফোঁটে না আবরারের ঠোঁটের কোণে। সে বেশ চিন্তিত।
আদ্রিতা নিজেও জেনেছে তার প্রেগন্যান্সির খবর। খুশি হয়েছে তবে প্রকাশ করছে না। আবরারের মুখে হাসি দেখলো না এটাই তাকে চিন্তিত করে তুলছে সারাক্ষণ।

কারো পায়ের আওয়াজে পাশ ফিরে তাকায় আদ্রিতা। দেখতে পায় আবরার আসছে। তার কোলে সাদা তোয়ালে মোড়ানো একটা ছানা। মানে রাজপুত্র দুনিয়াতে চলে এসেছে?
আদ্রিতা উঠে বসার চেষ্টা করে। আবরার সঙ্গে সঙ্গে ধমকে বলে ওঠে
“আমি তো তোমার কাছেই আসছি না? তো চামচিকার মতো লাফালাফি করছ কেনো।
গাল ফুলিয়ে শান্ত হয়ে শুয়ে পড়ে আদ্রিতা। আবরার ছোট্ট পাখিটাকে তার পাশে শুইয়ে দেয়। এবং সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে ফোন বের করে কয়েকখানা ফটো তুলে নেয়।
এবং বিড়বিড় করে আওড়ায় “মাশাআল্লাহ”
দুইটা ফুল একসাথে।

আদ্রিতা কিছু মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে বেবিটার মুখ পানে। তারপর বলে ওঠে
“কিছুদিন পরে আমাদেরও এমন একটা বেবি আসবে আবরার। আপনি কি খুশি না?
আদ্রিতার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাবুটা কেঁদে ওঠে। বোধহয় তার খিদে পেয়েছে। পাবে না? কখন থেকে এর কোল ওর কোল ঘুরু ঘুরু করছে।
আবরার আদ্রিতার কথার জবাব না দিয়ে বাবুটাকে তুলে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়।
আমান আহাদ ইভান ততক্ষণে চলে এসেছে। আমান এনেছে গোল্ড এর চামচ এবং বাটি। তার অনুরোধ তাদের রাজপুত্র কে এই বাটি থেকেই খাওয়ানো হবে। আহাদ বাবুর জন্য গোল্ড এর চেইন এনেছে। আর ইভান ইশারার জন্য বেসলেট এনেছে।

বাবুকে খাওয়ানোর জন্য ইশারার কোলে দেওয়া হয়। তখনই তিন বন্ধু হুরমুর করে কেবিনে ঢুকে।
আতিয়া বেগম গোল্ডের বাটি সুন্দর করে ধুয়ে মুছে এনেছে।
ইভান বাবুর কপালে চুমু এঁকে দিয়ে ইশারার ডান হাত খানা ধরে। কব্জিতে ব্রেসলেট বেধে দিতে দিতে বলে
“থ্যাংক ইউ ইশারা
আমাদের এত সুন্দর একটা চাঁদ গিফট করার জন্য।
চোখে পানি চলে আসে ইশারার। এতোটা ভালোবাসা তার জন্য বরাদ্দ ছিলো? সিয়ামকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া একদম সঠিক ছিলো।
আমান নিজে হাতে বাবুর মুখে এক চামচ দুধ দেয়। এবং খুশিতে লাফিয়ে ওঠে।
আবরার এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। টিশা বলে

” ভাইয়া আপনি গিফট ছাড়াই বাবুকে দেখলেন? কিছুই দিবেন না ওকে।
আমান কড়া দৃষ্টি তাকায় টিশার মুখ পানে। মানে চুপ করতে বলছে।
আবরার জবাব দেয়
“আমার ভাগের যতটুকু প্রোপার্টি রয়েছে তারপর ৫০% সাম্বাকে দিয়ে দিয়েছি।
রাজপুত্রকে খালি হাতে দেখবো? এটা হয়?
সিয়াম এবং ইশারা অবাক হয়।
কিছুদিন আগেই আবরারের প্রোপার্টি ৫ ভাগ করেছে। সিঙ্গাপুরে পাঁচটা শোরুম পাঁচজনের। সুইজারল্যান্ডের দশটা শোরুম। একেকজনের দুটো করে। বাংলাদেশ নেদারল্যান্ড সহ বিষের যে কয়টা রাষ্ট্রে তার বিজনেস রয়েছে সবই সমান সমান ভাগ করা হয়েছে।
এখন আবার নিজের ভাগ থেকে ফিফটি পার্সেন্ট তার ছেলেকে দিয়ে দিলো।
সকলের থমথমে মুখশ্রী দেখে আতিয়া বেগম বলে ওঠে

“বাহ নামটাও রেখে ফেলেছিস? সাম্বা খুব সুন্দর নাম।
আবরার আবার বলে
” ইশতিয়াক আব্রাম সাম্বা
ইশারা তোমার পছন্দ নাহলে চেঞ্জ
ইশারা আবরারের কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে ওঠে
“খুব পছন্দ হয়েছে ভাইয়া।
আমার বাবুর নাম এটাই থাকবে।
গাল ফুলিয়ে ফেলে টিশা।
বলে

“আমি আর আদ্রিতা কি দোষ করলাম? আমাদের নামের সাথে কেনো মিলল না?
সিয়াম বলে
“এতো ভাড়ি অন্যায়? কেনো মিললো না? যুদ্ধ ঘোষণা করো টিশা। আমি পেছনে আছি। সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালাবো।
সকলেই হেসে ওঠে। আবরার সিয়াম কে বলে

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৮

“তুই গিয়ে ওদের পাশে বস। একটা পিকচার তুলে দেই।
আমান জোর করে সিয়ামকে বসিয়ে দেয় ইশারার পাশে থাকা টুলে। পিকচার তুলে দেয়। তারপর সবাই মিলে দাঁড়ায় পিকচার তুলবে তখনই টিশা বলে
” ওয়ান মিনিট
আমি আদ্রিতাকে নিয়ে আসি।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৯০

1 COMMENT

Comments are closed.