Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৮

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৮

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৮
আরোবা চৌধুরী আরু

জারিন চোখে পানি নিয়ে রিশার রুমের সামনে এসে থেমে গেল। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু হাতের পিঠ দিয়ে মুছে ফেলল ও। এখন যদি নিজের কান্নায় ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর দুঃখের পাশে দাঁড়ানোটা কেমন যেন অন্যায় লাগবে। তাই নিজেকে জোর করে সামলে নিয়ে হালকা করে দরজায় ধাক্কা দিল।
দরজাটা আলগা চাপা ছিল, সামান্য ধাক্কাতেই খুলে গেল। ঘরটা একদম অন্ধকার নিঃশব্দে জারিন ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে লাইট অন করল। আলো জ্বলার সাথে সাথে পুরো ঘরটা স্পষ্ট হয়ে উঠল, আর সেই সঙ্গে চোখে পড়ল রিশা, মেঝেতে গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে, জড়োসড়ো হয়ে।
দৃশ্যটা দেখে জারিনের বুক কেঁপে উঠল। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে রিশার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। দুই হাত দিয়ে আলতো করে রিশার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে কাঁপা গলায় বলল,

“এই রিশু! আমার বেবি, কি হয়েছে তোর? ওঠ না, বল আমাকে কি হয়েছে।”
এতক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকা রিশা ধীরে চোখ খুলল। চোখের পাতা ভারী, লালচে হয়ে গেছে কান্নার চাপে। গাল বেয়ে শুকনো অশ্রুর দাগ এখনো স্পষ্ট। রিশা জারিনের দিকে তাকাতেই আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে জড়িয়ে ধরল শব্দ করে কান্না শুরু করল।
জারিনও বুক ভরে আগলে নিল তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবীকে। এক হাত দিয়ে রিশার পিঠে আরেক হাত দিয়ে মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে লাগল।
“কি হয়েছে, রিশু? বল তো। প্লিজ, বল না, তোকে এভাবে কাঁদতে দেখলে আমার একদম ভালো লাগে না।”
জারিনের কোমল কণ্ঠে যেন আরও ভেঙে পড়ল রিশা। আরও জোরে কান্না শুরু করল।
জারিন আবার মাথায় হাত বুলিয়ে, আদুরে কণ্ঠে বলল,
“প্লিজ সোনা, বল তো কি হয়েছে। আমি আছি তোর পাশে। ফোনে যেভাবে কাঁদছিলি, আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম। আকাশ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেছিলি, তাই না? কি বলল, সব খুলে বল।”
রিশা কেঁদে কেঁদে ফুপিয়ে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আমাকে কখনো নিজের কাছে টানবে না, এমনটাই বলে দিয়েছে। পাষাণ পুরুষ! একেবারে পাষাণ! শুধু নিজের দিকটাই দেখে, আমার দিকটা একটুও বুঝল না। সে আমাকে চায় না, একটুও না…”
জারিন রিশার গাল মুছে দিয়ে বলল,
“ভালো করে বল তো, কি হয়েছে ঠিকমতো বল কিছু খুলে না হলে বুঝবো কেমন করে ?”
রিশা জারিনের কোলে মাথা রেখে আবার মেঝেতে শুয়ে পড়ল, পা ছড়িয়ে দিল ক্লান্তভাবে। জারিন ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, যেন একটু হলেও শান্তি পায় বান্ধবীটা।
রিশা বড় একটা শ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে সব খুলে বলল। আকাশের সাথে দেখা, তার কথাগুলো, সেই মুহূর্তের অপমান আর ভাঙা স্বপ্ন, একে একে সব।
জারিন নিঃশব্দে শুনে গেল। চোখে একফোঁটা অশ্রু জমে উঠল, কিন্তু ওর সামনে তা লুকিয়ে রাখল। শেষে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

“শোন, এত ভেঙে পড়িস না রে। আমি আছি তো। আমরা দুজন মিলে কোনো না কোনো উপায় বের করবই।”
রিশা ফিসফিস করে বলল,
“না জানু, কিছু হবে না। সে আমাকে নিজের করে নিতে চায় না। জোর করে কেউ কারো হয় না। সে শুধু আমার ভালো চেয়েছে, কিন্তু আমি কি চাই, সেটা কখনো ভাবেনি। আমার মনের দিকটা, আমার কষ্টটা একটুও বোঝেনি।”
জারিন গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“চুপ কর এখন, আর একবার চেষ্টা কর রিশু। একবার না পারলে শতবার চেষ্টা কর। না হলে সারাজীবন আফসোস থেকে যাবে। হয়তো সময় বদলাবে, মানুষও বদলাবে।”
রিশা তিক্ত কণ্ঠে বলল,

“দেখা করবে না সে আমার সাথে আর।”
“হবে , আমি ব্যবস্থা করব,” জারিন ওর হাত ধরে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমার রিশু বেবিকে এভাবে ভাঙতে দেব না। তার জন্য যা করতে হয় তাই করব আমি।”
রিশা জারিনের বুকে মুখ গুঁজে আরও জোরে কেঁদে ফেলল।
জারিনও ওর পিঠে হাত বুলিয়ে রইল, কিছুক্ষণ আগের ঘটনা স্মরণে আসতে নিজেও কান্না চেপে রাখতে পারল না । কোনদিন সাইফান কে মাফ করবেন। যেটা হয়েছে একদম ঠিক হয়নি একদম না। দু’জনার কান্না একাকার হয়ে গেল ঘরের নীরবতার সঙ্গে।

আপ্পি, প্লিজ ডাক না… নাফুকে একবার দেখা করিয়ে দে না, প্লিজ প্লিজ এখানে আসতে বল।”
আরিব রোশনাকে অনেকক্ষণ ধরে বোঝাচ্ছে। যেন নাফিসাকে এই বাসায় নিয়ে আসে। কিছুদিনের জন্য রোশনাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে সে, আর এসেই একরকম আবদার ধরে বসেছে নাফিসাকে ডাকার জন্য।
ওই বাড়িতে আরিব চাইলে নিজেও যেতে পারত, কিন্তু গিয়ে কোনো লাভ হয় না। নাফিসার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলার সুযোগই পায় না। কখনো নিজের ঘরে বসে থাকে, আবার কখনো আফিয়া বেগম কিংবা রিশাদের সঙ্গে ব্যস্ত থাকে।
রোশনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে,, এখন নাফিসার পরীক্ষা সামনে, এই সময়ে ডাকলে মেয়েটার পড়াশোনার ক্ষতি হবে। রোশনা তখন মিষ্টির জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখছিল। হঠাৎ আরিব এসে ওর হাত ধরে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিল। নিজে শুয়ে পড়ে মাথাটা রাখল বোনের কোলের ওপর।
আবদারের সুরে বলল,

“আপি, একেবারে পার্মানেন্টলি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দে না, প্লিজ। আমি আর দূরে থাকতে পারছি না। তুই একবার কথা বল সবার সঙ্গে। নাফুর তো এখন আঠারো বছর হয়ে গেছে। আমারও পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে অচিরেই। ওর সব দায়িত্ব আমি নেব, একটুও হেরফের করব না। প্লিজ, আমার সোনা বনু, একটু কথা বল না তুই!”
রুশনা মুচকি হেসে ভাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
“আরো কিছুদিন যাক, তারপর দেখা যাবে। এত অধৈর্য হচ্ছিস কেন রে?” বলে ওর কানে হালকা টোকা দিল।
আরিব মুখটা কাত করে বিরক্ত গলায় বলল,
“আপি প্লিজ! আমি বিয়ের কথা বলছি, আর তুই কানে দিচ্ছিস ধাক্কা। এটা একদম ঠিক না!”
রুশনা বিরক্ত স্বরে বলল,

“হ্যাঁ, তুই তো বিয়ের জন্য লাফাচ্ছিস, আর ওইদিকে কেউ দিনকে দিন ধামরা হয়ে যাচ্ছে, বিয়ের নামই নিচ্ছে না। বিয়ের কথা বললেই এমন মুখ ভার করে ফেলে যেন অপরাধ করে ফেলেছি!”
আরিব বুঝে গেল বোন কার কথা বলছে। ও নিজেও বোঝে না, সায়মান ভাই আসলে বিয়ে করতে চায় না কেন। বয়স কম হলো না! সবসময় মুখটা গম্ভীর, আবার মাঝে মাঝে এমন আচরণ করে, যেন কেউ ওর সঙ্গে কথা বললেই অপরাধ করছে।
এসব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে আরিব আবার রোশনাকে অনুনয় শুরু করল,

“আপি, সায়মান ভাইয়ের কথা বাদ দে না। আমরা ছোটগুলো আগে বিয়ে করে ফেললে, ভাই তো লজ্জা পেয়ে করবেই তখন। আমারটা আগে কর না প্লিজ।”
রুশনা এবার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ কুঁচকালো,
“ওরে আমার বিয়ে-পাগল ছেলে রে! এবার তো মনে হচ্ছে, নিজের বিয়ের ব্যবস্থা নিজেই করবি বুঝি?”
“আপি প্লিজ, এমন করিস না। একটা ব্যবস্থা কর না প্লিজ,” বলে আরিব দুই হাত জোড় করল।
রোশনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আচ্ছা করব, এবার খুশি?”
এই কথাটা কানে যেতেই আরিব লাফিয়ে উঠে রোশনার গালে দুটো জোরে চুমু দিয়ে দিল।
“এই না হলে আমার আপ্পি! ইয়া ইয়াহ!” বলে খুশিতে দুই হাত প্রসারিত করে উঠল।
রোশনা চমকে বলল,
“এই! এসব কি রে, ধইরা এক্কেরে দিব! বিয়ের কথা শুনে কেমন লাফাচ্ছিস তুই! বড় বোনের সামনে লজ্জা কর না একটু? এখনই যদি এত নির্লজ্জ হস, বিয়ের পর কি করবি? আর এত নাচানাচি বন্ধ কর, এখন আর কোনো বিয়ের কথা বলব না আমি। আগে নাফিসার পরীক্ষা শেষ হোক।”
আরিব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,

“আর মাত্র দুই-তিন মাস, আপি! এইটুকু আমি নিজেকে সামলে নিতে পারব।”
রোশনা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল,
“হুম, আর কি বলব তোদের! তুই আর সাইফান ——— দুইজন একদম এক রকম, পুরো বিয়ে-পাগলা! আর একজন যদি একটু এমন হতো, আমি খুশি হতাম। ওই যে, বুড়ো হয়ে যাচ্ছে এখনো বিয়ে করছে না। দেখি এবার যেভাবেই হোক পাকড়াও করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে।”
রোশনা কথাটা বলে হতাশভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

জারিন রিশার সাথে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর নিচে নেমে ওর জন্য খাবার আনতে গেল। আফিয়া বেগমের কাছে গিয়ে জানাল, আজকে তারা দুই বান্ধবী সারারাত গল্প করবে, রিশার কাছেই থাকবে সে। রিশা মুভি দেখবে বলে সবকিছু ঠিক করছে বলে নিচে আসেনি। তাই ও খাবার নিতে এসেছে,, কোনোমতে আফিয়া বেগম আর ইমা বেগমকে বুঝিয়ে খাবারটা হাতে নিয়ে দ্রুত পায়ে ছুটল রিশার ঘরের দিকে।
করিডোর পার হওয়ার সময় হঠাৎ সামনে সায়ফানের সাথে দেখা হয়ে গেল। জারিন থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য, বুকের ভেতর যেন হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ল। এই মানুষটাকে দেখলে এখন শুধু রাগই নয়, অজানা এক কান্নাও গলা পর্যন্ত উঠে আসলো ।
ও কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলো, কিন্তু সায়ফান এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকে দিল।
জারিন থেমে গেল, চোখ রাগে চকচক করছে।

“সামনে থেকে সরেন।”
রাগমাখা কণ্ঠে বলল জারিন। যেন চোখ দিয়েই সায়ফানকে গিলে ফেলবে।
সায়ফান একটু থেমে শান্ত গলায় বলল,
“না, তোমার সাথে কিছু কথা আছে।”
তার কণ্ঠেও দ্বিধা, অপরাধবোধের ভার যেন গলায় জড়িয়ে আছে।
কিন্তু জারিনের মনে হলো, এই কথাগুলো যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো। ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আপনি সবসময় সব বিষয় ফাজলামির মোড়ে রাখেন। কখন, কোন পর্যায়ে ব্যাপারটা চলে যায়, সেটার কোনো ধারণাই থাকে না আপনার, সায়ফান ভাই।”
সায়ফান গভীর একটা নিঃশ্বাস নিল মুখে থাকা অপরাধবোধ স্পষ্ট। এইবার সত্যিই বড় ভুল করেছে। কিন্তু তার কি পুরো দোষ ছিল? পরিস্থিতিটাই এমন হয়ে গিয়েছিল।
ও শান্ত স্বরে বলল,
“দেখো, চশমা… আমি তোমাকে সরি বলতে এসেছি শুধু।”
“সরি?”

জারিনের চোখ আরও লাল হয়ে উঠল, ঠোঁট কাঁপছে রাগে আর কষ্টে মিশে।
“সত্যিই কি ‘সরি’ বললেই সব ঠিক হয়ে যায়? আপনি প্রতিবারই কিছু না কিছু করেন, আর শেষে একটা ‘সরি’ বলে সব শেষ করে দেন। সব ভুলের ওষুধ ‘সরি’ নয়, সায়ফান ভাই। সব কষ্ট এমন করে হজম করা যায় না…”
শেষ কথাগুলো বলার সাথে সাথে জারিনের চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ে গেল।
ওর চোখের অশ্রু দেখতে না পেরে সায়ফানের বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। কেন এমন হচ্ছে জানে না, কিন্তু এই মেয়ের কান্না তার একটুও সহ্য হচ্ছে না।
গলার ভেতরটা শুকিয়ে গেল, কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
ঠিক তখনই জারিন পাশ কাটিয়ে দ্রুত হেঁটে চলে গেল।
সায়ফান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ওর পেছনে তাকিয়ে।
“এখন কিছু বলা ঠিক হবে না। পরে শান্ত মাথায় বোঝাতে হবে। ধীরে ধীরে… সব ঠিক হবে।”
সেই ভাবনাতেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে সায়ফান ঘুরে দাঁড়াল।
আর জারিন, কাঁপা হাতে খাবারটা আঁকড়ে ধরে রিশার রুমের দিকে হাঁটতে লাগল, চোখের কোণে জ্বলজ্বল করছে অপূর্ণ কান্নার আলো।

নাফিসা সায়মানের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে আবার পড়ার টেবিলে বসেছিল। এশার আজানের শব্দ কানে আসতেই উঠে নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষে কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করে আবার পড়তে বসল।
রাত বেশ হয়ে গেছে, তবুও পড়ার মনোযোগে সময়ের খেয়াল ছিল না ওর। কিছুক্ষণ পর নিচে নেমে আফিয়া বেগমের সঙ্গে একটু সময় কাটিয়ে এল, গল্প করল, খাওয়াদাওয়াও সেরে নিল। তবে আজ আর সবার সঙ্গে বসে খায়নি, একা খেয়ে আগেই উপরে চলে এসেছিল।
রুমে এসে আবার পড়ায় মন দিল। টেবিলের ওপর বই, খাতা ছড়িয়ে পড়ে আছে। পাতা উল্টে উল্টে পড়তে পড়তে কখন রাত গভীর হয়ে গেছে, সে টেরই পায়নি। চোখ দুটো ভারী হয়ে এলো, মাথা টেবিলের ওপর রেখে অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ল।

বাইরে হালকা বাতাস বইছিল, জানালার ফাঁক দিয়ে সেই ঠান্ডা বাতাস এসে লাগল নাফিসার গালে। শরীরটা হালকা কেঁপে উঠল, ঘুমের ঘোরে একটু নড়েচড়ে আবার মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল সে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার একই অনুভূতি,
হালকা হাওয়ার ছোঁয়া মুখে লাগছে বারবার। বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে গেল নাফিসার। ধীরে ধীরে চোখ খুলল, আর সেই মুহূর্তেই দেখল, তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে সায়মান।
ওর মুখের খুব কাছে ঝুঁকে ফু দিচ্ছে, দুষ্টু মুচকি হাসি নিয়ে।
নাফিসা অবাক চোখে তাকিয়ে রইল, আর সায়মানের ঠোঁটে খেলে গেল এক চেনা হাসি।
“ঘুম হয়েছে বউ হে, এখন ওঠো। নিজের প্যাকিং সেরে ফেলো।”
নাফিসা চোখ বড় করে বলল,

“মানে? প্যাকিং?”
সায়মান চোখ টিপে হালকা গলায় বলল,
“মানে আমরা বাইরে যাচ্ছি।”
নাফিসা আরও অবাক হয়ে তাকাল, কপালে ভাঁজ পড়ল।
“কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
উত্তর না দিয়ে সায়মান ওর দিকে আরও ঝুঁকে এল, একেবারে কাছে এসে নাফিসার কপালে একটা ভালোবাসায় ভরা চুমু দিল।
তারপর নরম গলায় বলল,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৭

“ওঠো, রেডি হও। বাকিটা নিজেই বুঝে যাবে।”
নাফিসা হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। চোখেমুখে অজস্র প্রশ্ন, কিন্তু সায়মান শুধু হাসল,
সেই হাসিটা যেন একরাশ রহস্যে ভরা, ভালোবাসায় ভেজা।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৯