mad for you part 45
তানিয়া খাতুন
আজকের দিনটা যেন একটু অন্যরকম।
খান ম্যানশনের নীরবতা আজ নেই।
অনেকদিন পর যেন সুখের একটা আলো সবাইকে ছুঁয়ে যাচ্ছে—বাড়ির কোণে কোণে হালকা উষ্ণতা।
কিছুক্ষণ আগেই ক্ৰিশ মুসকানকে মামাবাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে।
মুসকান বাড়ি ঢুকতেই পুরো বাড়িটাই যেন হেঁসে উঠল।
এদিকে পুষ্পো আর আয়ানকে রুহি ফোন করে ডেকে নিয়েছে এই বাড়িতে।
ক্ৰিশের মুখে সে শুনেছে— আয়ান একা থাকে, আর তার ঘরটাও খুব ছোট।
তাই রুহি ঠিক করেছে,
“যতদিন না আয়ান একটা ভালো ঘর পাচ্ছে, ততদিন ও আর পুষ্পো এই বাড়িতেই থাকবে।”
আয়ান প্রথমে মানতে চায়নি, স্বভাবসুলভ নরম হাঁসি দিয়ে বলেছিল—
“না রে, থাক… আমি ম্যানেজ করে নেবো।”
কিন্তু ক্ৰিশেৱ ধমক শুনেই শেষমেশ রাজি হতে হয়েছে তাকে।
রুহির চোঁখে তখন যেন স্বস্তির ছায়া—
ওদের দু’জনকে নিরাপদ স্থানে রাখতে পারছে, এটুকুই তার কাছে বড়।
ক্ৰিশ, আয়ান আর মুসকান ছাদে উঠেছে।
সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে।
আকাশের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে পুরো দিনটার ক্লান্তি মিলিয়ে যাচ্ছে।
মুসকান ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে ছাদের এক কোণা থেকে আরেক কোণায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নিচতলার রান্নাঘরটা আজ অদ্ভুত উষ্ণতায় ভরা।
রুহি চুলে ক্লিপ গোঁজা, কড়াইতে সবজি নাড়ছে।
মসলার গন্ধ ঘরময় ছড়িয়ে পড়ছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
পাশে পুষ্পো দাঁড়িয়ে সবজি কাটছে, তবে তার মুখে কেমন যেন অস্থিরতা, বাৱ বাৱ ৱুহি কে দেখছে।
হঠাৎ ৱুহি আর চুপ থাকতে না পেরে ধীরে ধীরে পুষ্পোৱ দিকে তাঁকাল।
ৱুহিঃ “আমায় এভাবে কেন দেখছো হুম?”
পুষ্পো চমকে তার দিকে ফিরল।
পুষ্পোঃ “তুমি অনেক ভাগ্যবতী। জীবনে এত ভালো জীবনসঙ্গী পেয়েছো, তার ভালোবাসা পেয়েছো… একটা বাচ্চাও আছে।”
রুহি গ্যাসটা কমিয়ে সবজির বাটিতে হাত রাখল।
“আচ্ছা, তা তুমি… বুঝি ভাগ্যবতী নও?”
পুষ্পো চোঁখ বড় করে তাকাল।
মনে হলো যেন প্রশ্নটা তার বুকের ভিতরে ঢুকে গেছে।
রুহি এবার একটু দুষ্টুমি মেশানো স্বরে বলল—
“আচ্ছা একটা কথা বলো… সেদিন যদি আয়ানের সাথে তোমার বিয়ে না হয়ে আমার বর-এর সাথেই হতো, তুমি কি খুশি হতে?”
পুষ্পো যেন বিদ্যুৎ খেয়ে চমকে উঠল।
“আরে না! ছি ছি, তা কেন?”
তার হাতের ছুরি প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
রুহি হালকা হেঁসে বলে,
“তাহলে তুমি অখুশি হলে কী কৱে?
তোমারও তো খুব ভালো বর আছে।
তুমিও সংসার করবে, ভবিষ্যতে তোমারও বাচ্চা হবে… সবই হবে।”
পুষ্পোর গাল হালকা লাল হয়ে উঠল।
ছুরির কাটার শব্দ থেমে গেল। সে ধীরে চেয়ে রইল রুহির দিকে।
ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলে—
“সত্যি হবে? না মানে… আয়ান ভাই আমাকে অনেক সাপোর্ট করেন, কিন্তু উনি কি কোনো দিন আমাকে ‘ওয়াইফ’ হিসেবে দেখবেন?”
রুহি এবার পুষ্পোর কাছে গিয়ে তার চোঁখে চোঁখ রেখে বলে—
“মানে কি… আয়ান তোমাকে ভালোবাসে। তাই তো ক্ৰিশ তোমাদের বিয়ে দিয়েছে।”
পুষ্পোর বুকের ভিতর ধক করে উঠল।
তার মনের মধ্যে ভেসে উঠল সেই রাত—
আয়ানের প্রথম চুমু…
তখন পুরো শরীর কেঁপে উঠেছিল তার।
পুষ্পো খুব আস্তে বলল—
“উনি সত্যি আমায় ভালোবাসেন…”
রুহি হেসে পুষ্পোর কাঁধে হাত রাখল।
তার চোখে বড় বোনের মতো আদর।
পুষ্পোর চোখ চিকচিক করছে, কিন্তু মুখে শিশুর মতো লজ্জা।
রুহি নরম গলায় বলল—
“আচ্ছা শোনো… তুমি কি চাও আমার মতো সুখে সংসার করতে?
তোমার বর তোমাকে ভালোবাসবে, তোমরা সংসার হবে, তোমাদের বাচ্চা হবে… এগুলো চাও?”
পুষ্পো এপ্রোনের কোণা মুচড়াতে লাগল।
গাল জ্বলছে লজ্জায়।
ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।
রুহি হাঁসল—
“আরে লজ্জা পেও না। আমি তোমাকে যা যা বলছি— তুমি শুধু সেগুলো করো।”
পুষ্পো মাথা নাড়তে লাগল, চোখ নিচে, ঠোঁটে লাজুক হাসি।
ছাদে নরম বাতাস বইছে। আকাশে লালচে আলো, দিনের শেষ উষ্ণতা টিকে আছে।
ক্ৰিশ আর আয়ান রেলিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল।
হঠাৎই মুসকান দৌড়াতে দৌড়াতে শ্বাস হাঁপাতে হাঁপাতে এগিয়ে এল।
হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
“আব্বু… কোলে!”
ক্ৰিশ হাঁসল, চোখ-মুখ নরম হয়ে গেল।
সে নিচু হয়ে মুসকানকে কোলে তুলে নিল।
মেয়েটা ক্ৰিশের গলা জড়িয়ে ধরল।
ক্ৰিশঃ “এত দৌড়াদৌড়ি করছ কেন, আমাৱ কুচুকু?”
মুসকান খুব গম্ভীর মুখ করে তাকাল ক্ৰিশের দিকে।
মুসকানঃ “আব্বু, আমার একতা ভাই লাতবে।”
কথাটা শুনে আয়ান হো হো করে হেঁসে ফেলল।
হাঁসতে হাঁসতে বলে—
“চিন্তা করো না, তোমার আব্বু খুব তাড়াতাড়ি আনবে।”
ক্ৰিশ সঙ্গে সঙ্গে আয়ানের দিকে রাগী চোঁখে তাকাল—
একদম ‘চুপ থাক’ টাইপ দৃষ্টি।
মুসকান সেই চোঁখ দেখে ব্যাপারটাই ধরতে পারল না।
সে ক্ৰিশেৱ গালে হাত রেখে বলল—
“ভাই এনে ডেবে টো আব্বু?”
ক্ৰিশ নরম গলায় বলে—
“তোমার ভাই আসবে, কিন্তু সেটা তোমার আয়ান চাচু দেবে।”
মুসকান খুশিতে হাত চাপড়ে উঠল—
“টাহলে টো খুব মজা! আয়ান চাচু, তালাতালি আনো!”
আয়ান বুকে হাত দিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
“আরে, হায়! আমি কথা দিয়ে ভাই আনব?”
ক্ৰিশ আয়ানের পিঠে একটা চাপড় মারল।
দু’জনেই হাঁসিতে লুটোপুটি।
এদিকে মুসকান আবার মুখ কুঁচকে গম্ভীর হলো—
মুসকানঃ “আমার আব্বু দেমন ভাবে এনেতে, সেভাবেই আনবে। আব্বু, টুমি আয়ান চাচুকে শিতিয়ে দাও টো।”
আয়ান এতটাই ভড়কে গেল যে তার মুখের হাঁসিটা শুকিয়ে গেল।
সে গলা খাঁকারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ক্ৰিশ মাথা নিচু করে হেঁসে বলল—
“শুধু আয়ান চাচু পারবে না। তোমার পুষ্পো চাচিকেও হেল্প করতে হবে।”
মুসকান যেন বড়দের মতো বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল—
মুসকানঃ “ওতে, টো এখন আমি পুষ্পো চাচির সাতে জরুরি মিতিং-এ যাব। আব্বু, আমাকে নামাও।”
ক্ৰিশ কপালে হাত চাপৱালো— পুৱাই ড্ৰামা কুইন।
“ঠিক আছে, ঠিক আছে… নামিয়ে দিচ্ছি।”
ক্ৰিশ তাকে নিচে নামাতেই, মুসকান সোজা সিঁড়ির দিকে দৌড়ে গেল।
যেন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন তার কাঁধে।
মুসকান অদৃশ্য হতেই
ক্ৰিশ আর আয়ান দু’জনেই হো হো করে হেসে উঠল—
হাঁসতে হাঁসতে চোখে পানি চলে এলো।
ছাদের বাতাসে তাদের হাসির শব্দ গমগম করে উঠল—
বাড়ির উপর আজ যেন সত্যিই সুখের দিন নেমে এসেছে।
মুসকান সিঁড়ি বেয়ে ঝড়ের গতিতে নিচে নেমে এলো।
তার ছোট ছোট পায়েৱ নুপুর ঝুমঝুম শব্দ করছে।
চোখ দু’টো রীতিমতো গোল— যেন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়েই গলা চড়িয়ে বলল—
“পুষ্পো চাচি! জরুরি মিতিং!”
পুষ্পো চমকে ঘুৱে তাঁকাল।
রুহি হেসে ফেলল, কারণ ও জানে—এই মেয়ে আবাৱ কোনো আবদাৱ নিয়ে এসেছে।
পুষ্পো এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসল—
“কী হয়েছে বেবি?”
মুসকান খুব সিরিয়াস মুখ করে পুষ্পোর দুই গাল নিজের ছোট্ট হাত দিয়ে ধরে বলল—
“চাচি, টোমাকে একটা ভাই আনটে হবে। এতনই প্ল্যান করটে হবে।”
পুষ্পোর মুখ হাঁ হয়ে গেল।
তার গাল লাল হয়ে উঠল, চোঁখ বড় বড়।
“কি-কি আনতে হবে?”
মুসকান গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল—
“একটা ভাই।
আয়ান চাচুকে টুমি হেল্প করবা, বুঝেতো?”
রান্নাঘরের এক কোণ থেকে রুহি চেপে রাখা হাসি সামলাতে পারছিল না।
তবুও গম্ভীর স্বরে বলল—
“তুমি ছোটো মুসকান এৱাকম কথা ছোটোৱা বলে না কেমন।”
পুষ্পো তো একেবারে লাল টকটকে।
পুষ্পোঃ “মু-মুসকান… এগুলো তুমি কোথা থেকে শিখলে?”
মুসকান গালে হাত দিয়ে, বড়দের ভঙ্গিতে বলল—
“আব্বু শিখাবে বলেতে। টুমি আৱ আয়ান চাচু এতসাথে শিখে নিও।”
একথা শুনে রুহি আর হাঁসি ধরে রাখতে পারল না— হো হো করে হেঁসে উঠল।
পুষ্পো লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলল—
মুসকান আবার গম্ভীর হলো।
পুষ্পোর হাত ধরে রান্নাঘরের মাঝে দাঁড় করিয়ে দিল।
পুষ্পোঃ “চাচি, এখন মিতিং শুরু।
প্রথম কথা— তুমি আয়ান চাচুকে ‘লাভ’ কলো”
পুষ্পো আবাক হয়ে বলে কী কৱি?
মুসকান জিভে জিভ লাগিয়ে খুব বিরক্তি নিয়ে বলল—
“আহ্ চাচি! ভাই আনতে হলে তো লাভ লাগে!”
রুহি এবার চেয়ারে বসে পড়ে, হাঁসতে হাঁসতে পেট ধরে বলল—
“হে আল্লাহ… কী সর্বনাশ!”
পুষ্পো কেমন কাঁপা গলায় বলল—
“মুসকান… এইসব কথা ছোটরা বলে না। তুমি কিছু ভুল শুনেছো।”
মুসকান মুখ ভার করে হাত গুটিয়ে নিল—
টুমি কি আয়ান চাচুকে ভালোবাতো না?”
পুষ্পো হঠাৎ থমকে গেল।
তার চোখ বড় হয়ে গেল।
রুহিও চুপ হয়ে তাঁকিয়ে রইল।
ছোট্ট মুসকানের চোঁখে খুব আন্তরিক আশা—
যেন সে সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বুঝতে চায়।
পুষ্পো ধীরে ধীরে বলল—
“হ্যাঁ… ভালোবাসি। খুব।”
মুসকান খুশিতে হাত তালি দিল—
“ব্যস! তাহলেই ভাই আতবে!
তলো এখনই আয়ান চাচুর কাছে যাই!”
পুষ্পো মাথা ধরে বসে পড়ল—
“হাই আল্লাহ্… আমি গেলাম!”
রুহি এগিয়ে এসে পুষ্পোর পিঠে চাপড় দিল—
“চলো, চলো… এখন এই মামলার সমাধান লাগবে।”
মুসকান দুইজনের হাত ধরে টানতে লাগল—
রুহি হাঁসছে।
রাত নেমে এসেছে।
চারদিক গাঢ় অন্ধকারে ডুবেছে, জানলার বাইরে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।
বাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা— সবাই রাতের খাবার খেয়ে যার যার ঘরে চলে গেছে।
পুষ্পো ধীরে ধীরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল।
মুখে ক্লান্তি আর লজ্জার মিশ্র ভাব।
ঘরে ঢুকতেই দেখে— আয়ান সোফায় লম্বা হয়ে শুয়ে আছে।
পুষ্পো ভ্রু কুঁচকে আস্তে কৱে বলে—
“আপনি সোফায় শুয়েছেন কেন? এত বড় খাট থাকতে!”
আয়ান চমকে উঠে বসে পড়ল।
মনে হলো সে কিছু ভুল শুনলো।
তার চোঁখে বিস্ময়— পুষ্পো কি তবে তাকে একই খাটে শোয়ার ইশারা দিচ্ছে?
পুষ্পো একদম শান্ত গলায় আবার বলল—
“কি হলো? কি ভাবছেন?”
আয়ান গলা শুকিয়ে ফেলল।
“হ্যাঁ না… না, কিছু না। আমি খাটে শুলে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না?”
পুষ্পো মাথা নিচু করে নরম স্বরে বলল—
“অসুবিধা কেন হবে… আপনি তো আমার হাজবেন্ড।
আপনার আমার সাথে ঘুমানোর পুরো অধিকার আছে।”
আয়ানের বুক ধড়ফড়িয়ে উঠল।
সে বিশ্বাস করতে পারে না— এই মেয়েটা সত্যিই পুষ্পো তো।
পুষ্পো ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে আয়ানের হাত ধরল।
তার হাত ঠান্ডা, লাজুক।
নরম টান দিয়ে বলল—
“আসুন…”
সে আয়ানকে নিয়ে খাটে বসাল।
তারপর নিজে উঠে খাটের এক পাশে শুয়ে পড়ল—
চোখ বন্ধ করে, নিঃশ্বাস হালকা কাঁপছে লজ্জায়।
আয়ান শুকনো ঢোক গিলল—
তার বুকের ভেতর কেমন যেন জোরে ধুকধুক করছে।
ধীরে ধীরে সে পুষ্পোর পাশে শুয়ে পড়ল।
পাশ থেকে পুষ্পোর মুখের দিকে তাঁকিয়ে রইল—
মেয়েটা চোখ বন্ধ করে আছে,
গাল লাল, নিশ্বাস একটু দ্রুত।
হঠাৎ যেন নিজের অজান্তেই আয়ান একটু কাছে এগিয়ে এল—
মনে হচ্ছিল পুষ্পোর চেহারাটা আলোতে আরও ভালোভাবে দেখতে চায়।
ঠিক তখনই—
পুষ্পো হঠাৎ হাত বাড়িয়ে আয়ানকে জড়িয়ে ধরল।
আয়ানের বুকের উপর মাথা রেখে বলল—
“ঘুমিয়ে পড়ুন… রাত হয়েছে।”
আয়ান সম্পূর্ণ স্তব্ধ।
তার চোঁখ বড় হয়ে গেছে—
এত তাৱাতাৱি নিজের কাছে টেনে নেওয়া— পুষ্পোর কাছ থেকে সে আশা করেনি।
এক মুহূর্ত পর তার ঠোঁটে ধীরে একটা হাঁসি ফুটে উঠল।
সে খুব নরমভাবে পুষ্পোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল
আঙ্গুলগুলো চুলে হারিয়ে গেল।
আয়ান আলতো করে তাকে নিজের বাহুর মধ্যে টেনে নিল।
তার চোঁখ বন্ধ হয়ে আসছে—
আজ বহু দিনের পরে তার ভিতরে একটা শান্তি, নরম উষ্ণতা।
কারণ—
তার প্রেয়সী আজ তার বুকের উপর ঘুমোচ্ছে।
তার স্ত্রী আজ তার বাহুর ভেতর।
তার পৃথিবী আজ ঠিক তার পাশে।
মুসকান মুখ গোমড়া করে খাটে বসে আছে।
ক্রিশ রুমে ঢুকতেই তাকে দেখতে পায়।
ক্রিশ এগিয়ে গিয়ে মুসকানের পাশে বসে তাকে কোলে তুলে নেয়।
মুসকান: সৱে যাও আব্বু, আমি রেতে আতি।
ক্রিশ ভুরু কুঁচকে তার গালে চুমু খায়—
ক্রিশ: কী হল সোনা, কেন রাগ করেছো?
মুসকান মুখ বেঁকিয়ে বলে—
টোমার বউ আমার চতলেত খেয়ে নিয়েছে!
ক্রিশ হেঁসে ফেলে। চকলেটটা সে রুহির জন্যই এনেছিল, কিন্তু প্যাকেট দেখে মুসকান রেগে আছে।
ক্রিশ: কোনো ব্যাপাৱ না সোনা, আম্মু তো ছোটো।
মুসকান সাথে সাথে পাল্টা উত্তৱ দেয়—
mad for you part 44
আম্মু ছোতো, টাহলে আমি কী?
ক্রিশ মৃদু হেঁসে তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধৱে_ তুমি তো আমার আম্মু! তোমাকে কাল অনেক চকলেট এনে দেব।
মুসকান একটু চোঁখ বড় করে—
পাক্কা?
ক্রিশ তার নাকে নাক ঠেকিয়ে—
পাক্কা।
