Home mad for you mad for you last part 

mad for you last part 

mad for you last part 
তানিয়া খাতুন

এক মাস পর…
মুসকান সারা বাড়ি জুড়ে ছোট্ট পায়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, তার হাসির শব্দে বাড়িটা ভরে উঠছে।
পেছন থেকে রুহি ছুটছে,
— এই দাঁড়া, আজ তোকে ছাড়ব না!
হাঁসতে হাঁসতে মুসকান সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল।
ছোট ছোট পায়ে দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎ করে ডাইনিং-এর পাশে রাখা সোফায় বসে থাকা পষ্পোর কোলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
পুষ্পো হেঁসে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরতেই রুহি ভান করা রাগে বলল,

— পুষ্পো, আজ কিন্তু তুমি ওকে বাঁচাতে পারবে না। ভীষণ দুষ্টু হয়ে গেছে!
পুষ্পো আদর করে মুসকানের চুলে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— আবার কী করেছো, মুসু সোনা?
মুসকান চোঁখ বড় বড় করে, একদম নিরীহ গলায় বলে,
— তিচ্ছু না! আমি শুদু বলেতি… আব্বু আরও সুন্দরী বউ ডিজাট্ট করে।
পুষ্পো জোৱে হেঁসে ওঠে মুসকানেৱ কথায়।
রুহি ভ্রু কুঁচকে মুসকানের দিকে তাঁকিয়ে বলে,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— তাই নাকি? তোমার আব্বু খুব হ্যান্ডসাম তাই না!
বলতে বলতেই রুহি মজা করে হাত তুলল, হালকা একটা মার দেবে বলে।
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজা খুলে ক্ৰিশ আর আয়ান ঘরে ঢুকল।
দৃশ্যটা চোঁখে পড়তেই ক্ৰিশ দৌড়ে এসে রুহির হাতটা ধরে ফেলল।
ক্ৰিশঃ কী হয়েছে, বাটারফ্লাই? আমার কুচুকু টা কে মারছো কেন?
রুহিঃ এই যে আপনি, আপনার আদরে ও আরও বিগড়ে যাচ্ছে! আপনি ওকে—
কথাটা শেষ করার আগেই রুহির মুখের রং বদলে গেল।
চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল। মাথাটা হালকা করে দুলে উঠল।
ক্ৰিশ…
এই একটা শব্দ বলেই রুহির শরীরটা ঢলে পড়ল।
এক সেকেন্ডও দেরি করেনি ক্ৰিশ। সে শক্ত করে রুহিকে ধরে ফেলল,

— রুহি!
পরের মুহূর্তেই সবাই আতঙ্কে ছুটে এলো।
ক্ৰিশ রুহিকে কোলে তুলে নিল।
তার হাত দুটো কাঁপছে, বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠছে।
— বাটারফ্লাই… চোঁখ খোলো… প্লিজ… আমার দিকে তাঁকাও…
রুহি নিথর, কোনো সাড়া নেই।
ক্ৰিশ কপালটা রুহির কপালে ঠেকিয়ে বলে,
— এইভাবে আমাকে ভয় দেখিও না… আমি পারব না… আমি একদম পারব না…
মুসকান ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে রুহির পা জড়িয়ে ধরল,
— আম্মু… আম্মুর তি হলো? আম্মু কতা বলতে না তেনো?
ক্ৰিশের চোঁখ ভিজে উঠল, কিন্তু সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে।

— কিছু হবে না, সোনা… আম্মু ঠিক হয়ে যাবে…
আয়ান ফোনে ডাক্তাৱ কে কল লাগাতে লাগাতে বলে,
— তুই ওকে ওপরের ঘরে নিয়ে যা। আমি ডাক্তার ডাকছি, এখনই।
পুষ্প চোঁখে পানি নিয়ে বলে
— হ্যাঁ ভাইয়া, তাড়াতাড়ি রুমে নিয়ে চলো।
ক্ৰিশ রুহিকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে সিড়ি ভেঙে ওঠে ৱুমে নিয়ে যায়।
ক্ৰিশঃ তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে… কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে না… তাহলে এখন চোখ বন্ধ করে আছো কেন?
ঘরে ঢুকে সে রুহিকে বিছানায় শুইয়ে দিল, কিন্তু হাত ছাড়ল না।
রুহির ঠান্ডা হাত দুটো নিজের বুকে চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,

— আমি কিছু ভুল করেছি? তুমি রাগ করে আছ? চোঁখ খুললেই আমি হাজারবার সরি বলব… শুধু চোঁখটা খোলো…
— বাটারফ্লাই… প্লিজ… একবার চোঁখ খোলো…
রুহি নিথর, কোনো সাড়া নেই।
মুসকান বিছানার এক পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে,
— আব্বু… আম্মু ঘুমিয়ে গেতে? কেন উঠতে না?
ক্ৰিশ কাঁপা গলায় বলে,
— না সোনা… আম্মু ঘুমায়নি… একটু অসুস্থ হয়েছে… ঠিক হয়ে যাবে…
ঠিক তখনই দরজায় তাড়াহুড়োর শব্দ।
আয়ান দৌড়ে ঢুকে বলল,
— ডাক্তার এসে গেছে!
পুষ্পো সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দিল।
মাঝবয়সি একজন ডাক্তার আর এক নার্স ঘরে ঢুকলেন।
ডাক্তার পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বললেন,

— কী হয়েছে?
ক্ৰিশ প্রায় ভেঙে পড়া গলায় বলল,
— হঠাৎ মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে গেছে… কথা বলছিল… তারপর—
ডাক্তার আর কিছু না শুনে সঙ্গে সঙ্গে চেকআপ শুরু করলেন।
— নার্স, প্রেশার মাপো।
— পালস চেক করো।
ডাক্তার রুহির চোখের পাতায় আলো ফেললেন, কবজি ধরে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
ক্ৰিশ নিশ্বাস পর্যন্ত নিতে ভুলে গেছে। তার চোঁখ একবারও ডাক্তারের হাত থেকে সরছে না।
— কেমন আছে? — ভয়ে ভরা গলায় ক্ৰিশ‌ জিজ্ঞেস করল।
ডাক্তার শান্ত গলায় বললেন,

— চিন্তা করবেন না। পালস একটু দুর্বল, তবে স্থিতিশীল।
তিনি দিয়ে বুক পরীক্ষা করলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন,
— এর আগে কখনো এমন হয়েছে? মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া?
ক্ৰিশ থমকে গেল।
— না… মানে… না… কখনো না…
পুষ্পো ধীরে ধীরে বলে,
—আপু খুব কাজ করে, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া কৱে না…
ডাক্তার মাথা নাড়লেন।
তাৱপৱ হালকা হেঁসে বললেন,
— কংগ্র্যাচুলেশনস, মিস্টার খান। আপনার স্ত্রী আবাৱো মা হতে চলেছেন।
ক্ৰিশ যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারল না। চোখ বড় বড় করে ডাক্তারকে আবার জিজ্ঞেস করল,
— স… সত্যি বলছেন? আরেকবার বলুন প্লিজ!
ডাক্তার আবার হাঁসলেন,

— হ্যাঁ, একদম সত্যি।
এই কথাটা শুনেই ক্ৰিশ হঠাৎ আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল,
— বাটারফ্লাই! তুমি শুনেছ? আমাদেৱ নতুন বেবি আসবে!
ক্ৰিশের চিৎকারে রুহির কানে শব্দ গেল। সে ধীরে ধীরে চোঁখ খুলে দুর্বল গলায় বলে,
— কী হয়েছে? এত চেঁচামেচি কেন করছেন?
ক্ৰিশ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
সে আনন্দে পাগল হয়ে ৱুহিকে বিছানা থেকে কোলে তুলে ঘোরাতে শুরু করল।
— আমরা আবাৱো বাবা-মা হতে যাচ্ছ!
পুষ্পো হেঁসে বলে,
কংগ্র্যাচুলেশনস, রুহি আপু। তোমার নতুন বেবি আসতে চলেছে।
এতক্ষণে মুসকান ধীরে ধীরে সবটা বুঝতে পারল।
সে বড় বড় চোঁখে তাকিয়ে উত্তেজিত গলায় বলল,

— স… সত্যি বলতো পুষ্প চাচি? আমার ভাই আসতে?
আয়ান হেঁসে মাথা নাড়ল,
— হ্যাঁ গো মুসু, তোমার ভাই খুব তাড়াতাড়ি আসবে।
রুহি সবার কথা শুনে একদম হতবাক।
সে ধীরে ধীরে ক্ৰিশের দিকে তাঁকাল।
ক্ৰিশ‌ঝ চুপ করে তাঁকিয়ে আছে তাৱ দিকে, চোঁখে পানি আর মুখভরা হাসি।
ডাক্তার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
— ঠিক আছে মিস্টার খান, মিষ্টি নিয়ে চেকআপ করাতে আসবেন। আমি এখন যাই।
এই বলে তিনি নার্সকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
পুষ্পো মুসকানকে কোলে তুলে বলল,

— চলো, আমরা মিষ্টি আনতে যাই।
বলতে বলতে আয়ানের দিকে ইশারা করল।
ইশারাটা বুঝে আয়ান হেসে ক্ৰিশেৱ কাঁধে হাত রেখে বলল,
— কংগ্র্যাচুলেশনস ব্রো। আমরা মিষ্টি আনতে যাচ্ছি। ততক্ষণে তুই একটু রোমান্স চালিয়ে যেতে পারিস।
ঘরে তখন শুধু হাঁসি, আনন্দ আর ভালোবাসার আবহ।
রুহি আর ক্ৰিশ একে অপরের দিকে তাঁকিয়ে আছে—

নতুন জীবনের খবরটা তাদের দু’জনকেই নিঃশব্দে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
ক্ৰিশ রুহিকে কোলে নিয়েই ধীরে ধীরে কাছে টেনে নিল।
রুহির নিঃশ্বাসে এখনও দুর্বলতা, চোখে বিস্ময় আর লাজের ছায়া।
ক্ৰিশছর বুকের ধকধকানি রুহি স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে।
ক্ৰিশ খুব আস্তে রুহির কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— তুমি জানো… আজ আমি কতটা খুশি?
রুহি লজ্জায় চোঁখ নামিয়ে বলল,

— কী করছেন… দরজা খোলা আছে…
ক্ৰিশ হালকা হেসে তার কপালে চুমু এঁকে দিল।
ক্ৰিশঃ “I want a kiss right now.”
রুহি কিছু বলার আগেই ক্ৰিশ ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো জোর নেই—শুধু ভালোবাসা।
তার ঠোঁট ছুঁয়ে গেল রুহির ঠোঁটে, একটুখানি নরম, একটুখানি কাঁপা চুমু।
রুহির চোঁখ বন্ধ হয়ে এল। সেই চুমুতে ছিল ভয় কাটিয়ে ওঠার সাহস, ছিল নতুন জীবনের আনন্দ, ছিল নিঃশব্দ প্রতিশ্রুতি।
ক্ৰিশ কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে,
—বাটারফ্লাই…mad for you.
রুহি ধীরে হেসে তার কাঁধে মাথা রাখল।
— mad for you too…
ঘরের ভেতর তখন শব্দ নেই, শুধু দু’জনের নিঃশ্বাস আর নতুন জীবনের নীরব সুখ।

রাত একটার সময়।
পুরো শহর নিস্তব্ধ। চারপাশে শুধু গভীর ঘুমের নিঃশ্বাস।
ঘরের ভেতর মৃদু অন্ধকারে পুষ্পো হঠাৎ চোঁখ খুলে উঠে বসে।
পাশে তাঁকিয়ে দেখে আয়ান গভীর ঘুমে আছে। তার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে। চুল এলোমেলো, মুখে অদ্ভুত এক শান্তি।
পুষ্পো অজান্তেই হাত বাড়িয়ে দেয়। খুব যত্ন করে আয়ানের চুলগুলো আরও এলোমেলো করে দেয়।
মুখে একচিলতে হাঁসি।
ফিসফিস করে বলে,

— আজ রুহি আপুর কথা শুনে… আপনি কতটা খুশি হয়েছেন!
আপনি কি চান না… আমাদেরও একটা বেবি হোক?
একটু থেমে সে আবার বলে,
— সামনের মাসেই তো আমরা নিজের বাড়িতে চলে যাব… তখন তো আমি একা হয়ে যাব।
আপনি কি… আমাকে একটা বেবি দিতে পারেন না?
কথাগুলো বলে পুষ্পো একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে।
এই কথাগুলো সে কখনো আয়ানেৱ সামনে বলতে পারত না।
লজ্জায় গাল লাল হয়ে যেত।
কিন্তু মানুষটা ঘুমাচ্ছে ভেবেই আজ সব বলে ফেলেছে।
পুষ্পো মুখ ফুলিয়ে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামতে যাবে—
ঠিক তখনই আয়ান হঠাৎ তার হাতটা টেনে ধরে।
পুষ্প চমকে উঠে তাঁকায়।
আয়ান চোঁখ খুলে শান্ত কিন্তু গভীর গলায় বলে,

— বাচ্চা আনা মুখের কথা নয়, সুন্দরী।
তার জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়।
তুমি কি পারবে সেই কষ্ট সহ্য করতে?
আয়ানের কথা শুনে পুষ্প লজ্জায় লাল হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
— হা… আল্লাহ! আপনি জেগে ছিলেন? আমি তো ভাবলাম—
কথা শেষ করার আগেই আয়ান হঠাৎ টেনে পুষ্পোকে বিছানায় ফেলে দেয়।
পুষ্পো কিছু বলার সুযোগও পায় না।
আয়ান ঝুঁকে এসে আলতো করে তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
একটা ছোট, নরম, অপ্রত্যাশিত চুমু।
পুষ্পোৱ চোঁখ বড় হয়ে যায়, নিঃশ্বাস থেমে আসে।
আয়ান কপাল ঠেকিয়ে নিচু গলায় বলে,
— এই কথাগুলো… আর কখনো ঘুমের মধ্যে লুকিয়ে বলবে না।
আমাৱ চোঁখে চোঁখ রেখে বলবে।
পুষ্পো কিছু বলতে পারে না। শুধু লাজে মুখ লুকিয়ে আয়ানের বুকে মাথা রাখে।
আয়ান নিচু গলায় বলে,

— প্রক্রিয়াটা শুরু করি?
পুষ্পো চোঁখ বন্ধ করে ধীরে মাথা নাড়ে।
এই ছোট্ট সম্মতিটুকুর জন্যই যেন আয়ান এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল।
সে আবার পুষ্পের ঠোঁটে ঠোঁট মেলায়।
এবার আর শুধু ছোঁয়া নয়—ভালোবাসার তীব্রতায় সে মুহূর্তটাকে গভীর করে তোলে।
পুষ্পো দু’হাতে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে।
আয়ানের স্পর্শে পুষ্পের শরীরটা কেঁপে ওঠে।
অনুভূতিগুলো অজান্তেই তাকে অস্থির করে তোলে।
আয়ান আরও কাছে টেনে নেয়, যত্নে, ভালোবাসায়।
পুষ্পের চোখে পানি জমে ওঠে।
সে হাঁপাতে হাঁপাতে আয়ানকে আঁকড়ে ধরে, যেন এই ভরসাটুকু হারিয়ে না যায়।
আয়ান ধৈর্য নিয়ে, ভালোবাসার শেষ সীমায় পৌঁছে তাকে নিজের করে নেয়।
কোনো তাড়া নেই—শুধু যত্ন, বিশ্বাস আর গভীর আবেগ।
দু’জনেই ভেসে যায় ভালোবাসার সাগরে—

যেখানে কোনো বাধা নেই,
কোনো ভয় নেই,
শুধু দু’জন মানুষের নিঃশব্দ প্রতিশ্রুতি।
সেই নিঃশব্দ রাতে, ভালোবাসা আর ভরসার বাঁধনে তারা বুঝে নিয়েছিল—একসাথে থাকাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

mad for you part 45

ভবিষ্যৎ আর অজানা পথে তাদেৱ ভয় লাগছিল না, কারণ তারা জানত—এই ভালোবাসাই তাদের চিরন্তন ঠিকানা।
ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন দু’টি মানুষ একে অপরের অসম্পূর্ণতাকেও আপন করে নেয়।
একসাথে হাঁটার প্রতিশ্রুতিতেই সেই ভালোবাসা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে

সমাপ্ত