Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৬

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৬

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৬
Chadny islam

রাত প্রায় দুইটার দিকে, চারপাশে বেশ ঠান্ডা পরছে আকাশ কুয়াশায় মোরানো!বাইরের কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়!এই ঠান্ডার মাঝে হাত পা ছেরে বসে আছে আদিব! চারপাশে কোথা ও রিমঝিম এর কোনো খোঁজ নেই, কোনো খবর পাওয়া যায় নি! রিমঝিম এর ফোন টাও বন্ধ! কি করে খুজবে তাকে এত বড় শহরে!
আদিব ফ্লোরে বসে আছে,সে যে বড্ড নিরুপায় কোনো কুল কিনারা খুজে পাচ্ছে না!নিজেকে বড্ড বেশি অসহায় লাগছে! হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে আদিব,সে মূলত রিমঝিম এর ছবি গুলো কে দেখছে! কত সৃতি তাদের এক সাথে কোথাই হারিয়ে গেলো হঠাৎ করে! আদিব রিমঝিম এর ছবিতে একটা চুমু খেয়ে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো! তার কাঁদতে কাদতে বলতে লাগলো!

কোথায় হারিয়ে গেলা তুমি “বেইমানি করলা কেন আমার সাথে, তুমি না কত স্বপ্ন দেখতা আর আমাকে বলতা আমাদের একটা সংসার হবে! তুমি সব সময় আমার পাশে থাকবে! আমার বড্ড কষ্ট হচ্ছে তোমাকে ছাড়া! কোথায় আছো তুমি” আর কোনো লুকোচুরি নয়! দেখা দাও আমায়! সামনে আসো! আমি কেনো তোমার কাছে গেলাম না সেদিন! তোমাকে আনতে, তাহলে অনন্ত শেষ বারের মতোন দেখা টা হতো আমাদের! রিমঝিম কোথায় তুমি শুনতে পাচ্ছো! তোমার ডক্টর সাহেব তোমাকে ডাকছে! সারা দাও রিমঝিম কোথায় তুমি….

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

বলতে বলতে আদিব কান্নায় ভেঙে পরলো! না আছে৷ তার পাশে কলি আর না আছে রিমঝিম! কলি কে হারিয়ে কিছুটা শান্ত হয়ে গিয়ে ছিলাম তোমাকে পেয়ে! এবং তোমাকে হারিয়ে ফেললে আমি শেষ হয়ে য়াবো! আমার বেঁচে থাকার তুমিই একমাত্র আশা! আমাকে বাঁচতে দাও, বাচিয়ে রাখার জন্য হলেও তুমি আসো! রিমঝিম শুনতে পাচ্ছো!
আদিব এর কান্না যেনো পুরো রুম জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে! শান্ত মেজাজ এর মানুষ টাও কেমন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে উঠছে!
ভোর সাত টা,

ইরা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেছে, পাশেই আদিল সুয়ে আছে! ইরা কে শক্ত করে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে! ইরা রেগে আছে আদিল এর উপর! তাকে সময় দেয় না,তার সাথে কথা বলে না!মূহুর্তেই ইরা রেগে গেলো! তার সাথে যখন কথা বলে না”তাকে সময় দেয় না! তাহলে তাকে এত কাছে নিয়ে ঘুম আসার কি প্রয়োজন! ইরা আদিল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চাইলো বার বার! সে এই মানুষ টার একদম কাছে যাবে না! সময় দেয় না যখন ভালেবাসা দেখাতে হবে না তখন!
ইরা রাগে কটমট করে উঠলো!তার এত গুলা এক্সাম গেলো আদিল তো অনন্ত একদিন সাথে করে নিয়ে যেতে পারতো, ভালোবাসা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করতে তো পারতো! তোমার পরীক্ষা কেমন হয়, তা না করে বউকে জড়িয়ে দরে সুয়ে আছে বেহায়া লোক!!
ইরা কোনো রকম আদিল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে অল্পদূরে সরতেই, আদিল এক টানে ইরাকে বুকের বাহুডোরে আবব্ধ করে ফেললো!মুচকি হেসে ইরার চুল গুলোকে ঠিক করতে করতে বললো!!

____পালাচ্ছেন কেনো ম্যাডাম???
ইরা আদিল এর ঠিক করা চুল গুলো কে আবার এলোমেলো করে নিলো, অন্যদিকে গুরে গাল ফুলিয়ে বললো!!
___পালাচ্ছি না, সকাল হয়ে গেছে ঘুম থেকে উঠছি!
“”এত অভিমান কিসের ম্যাডাম? আপনি কি রেগে আছেন??
ইরা আদিল এর বুকের উপর থেকে কোনো রকম সরতে সরতে বললো!!
____ছাড়ুন আমাকে!
আদিল ইরা রাগের কারন টা মূহুর্তেই দরে ফেললো! তাই আদিল ইরা কে মানানোর জন্য বললো!!
___ব্যাস আর তিনটা দিন দাও, তার পর থেকে তোমার সিকদার সাহেব তোমার কাছেই থাকবে!
ইরা একটু রাগ কমালো, এবং ভাবলো,আর তিনটা দিন কিসের জন্য কি করবে আদিল! কৌতুহল বশত ইরা বললো!
____কি এমন কাজ নিয়ে আপনি ব্যাস্ত, আমি জানতে চাই!
আদিল মূহুর্তেই ইরা কে ছেড়ে দিলো, এবং বিছানায় সুয়া থেকে উঠে বসলো ইরার ঠিক সামনে, ইরার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো!!

___তোমার স্বামী অনেক খারাপ কাজ করে, তুমি সেটা জানলে ঘৃণা করবে আমায়!এখন তোমার এবং আমার পৃথিবী সম্পূর্ণ আলাদা! তবে কথা দিচ্ছি আমি ঠিক তিন দিন পর থেকে তোমার এবং আমার পৃথিবী একটাই হবে!
ইরা চোখ সরিয়ে নিলো, কি খারাপ কাজ করে আদিল আগের বার তো সব মেয়ে গুলো কে বাচিয়ে, বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়ে ছিলো! তাহলে আবার ও কি আদিল নারী পাচার..
না আর করবে না এমন, আমাকে তো বলে ছিলো ভালো হয়ে যাবে! ওনি স্বামী আমার বিশ্বাস করা আমার দায়িত্ব! তাই ইরা বললো!!

____পৃথিবী একটাই হোক বা ভিন্ন, হারাম কাজ থেকে বিরত থাকবেন! আমি আপনাকে ভরসা করি বিশ্বাস করি! তাই আমি বলবো, আমার ভরসা এবং বিশ্বাস নষ্ট হতে দিবেন না!
“””আচ্ছা যদি কখনো জানো তোমার স্বামী পৃথিবীর সব থেকে খারাপ মানুষ তখন কি করবে!
ইরা হাসলো নিশব্দে, এবং সিরিয়াস গলায় বললো!!
__খারাপ কাজ হলে তা আপনি পরিবর্তন করুন! আর যদি আপনি মানুষ টাই খারাপ হন তাহলে আপনার মৃত্যু মঞ্জুর হোক! খারাপ মানুষ এর বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই!
“””নিজের স্বামী কে মরে যেতে বলছো!
আপনি ভুল শুনেছেন, আমি আপনাকে না আপনার মধ্যে পাপ কে মরে যেতে বলছি!
আদিল খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!

___আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি শুনো! আর হ্যা একদম সঠিক উওর দেয়ার চেষ্টা করবা!
ইরা মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করলো, যার মানে সে চেষ্টা করবে, সঠিক উওর দেয়ার!
আদিল বলতে শুরু করলো,
“” ধরো এক দিকে পুরো পৃথিবী আর অন্যদিকে আমি! তুমি কাকে বেঁচে নিবে??
___আপনাকে!
___ভেবে বলো, তোমার জন্য সময় আছে লাগলে আরও নাও তবুও সঠিক উওর দাও!
__আপনাকে নিয়ে আমার ভাবনার কিছু নেই, পুরো পৃথিবী এক দিকে থাকলেও আপনি আপনার দিকেই থাকবো!
__কেনো!
___আপনি ছাড়া আমার পৃথিবী শূন্য, আপনি না থাকলে আমি বেঁচে থেকে কি করবো!
__আর যদি আমি কোনো হারাম….

আদিল এর কথা শেষ করার আগেই ইরা বলে উঠলো!
____তবে আমার হাতে আপনার মৃত্যু মঞ্জুর হোক প্রিয় স্বামী!
আমাকে খুন করতে তোমার কষ্ট হবে না! হাত কাঁপবে না! তোমার পৃথিবী শূন্য হয়ে যাবে না???
ইরা হাসলো মৃদু হাসি, কি চমৎকার সেই হাসি ফের আবারও বললো!!
____জানেন, যে পাপ করে আর যে দেখে তারা সমান পাপী! সেই জায়গায় আপনি আমার স্বামী পাপ টা হয়তো সমান সমান নি হবে!
তাই হারাম থেকে বিরত থাকুন! আর হ্যা আপনাকে খুন করতে আমার বড্ড কষ্ট হবে, তাই ভাববেন না আমি আপনাকে ছেড়ে দিবো, আপনি স্বামী পরে আগে অপরাধী!সব শেষে আমি এইটাই বলবো, আপনি ছাড়া আমি শূন্য! এই কথা টিকে আমার দুর্বলতা মনে করবেন না!
“””ভালোবাসি তোমায়, অনেক ভালোবাসি, বিশ্বাস করো এই কাজ টা শেষ হয়ে গেলে তুমি রানীর মতোন থাকবে! ব্যাস শুধু এই কাজ…

আদিল চট করে বিছানা ছেড়ে ওঠে চলে গেলো ওয়াশরুমে! ইরা চুপ করে বসে রইলো কিছু সময়! একদিক সেদিক চোখ পরতেই দেখে বিছানার ব্রেড সাইডে সেই অহনা সিকদার এর দেয়া “প্রেগনন্সি টেস্ট স্ট্রিপ”! ইরা বিছানা গুছিয়ে টেস্ট স্ট্রিপ হাতে তুলে নেয়! আদিল ওয়াশ রুম থেকে বের হলে ইরা ডুকে যায় ওয়াশরুমে চেক করার জন্য!
এদিকে আদিল ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায় বাসা থেকে! অন্যদিকে ইরা টেস্টে পজিটিভ পাওয়ার ফলে, মুখ কপাল কুঁচকে ফেলেছে! কি করে সে এত তাড়াতাড়ি সে প্রেগন্যান্স হলো, সবার মনের অবস্থা খারাপ! কাকে কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না! তাই ইরা ভাবলো আগে আদিল এর সাথে শেয়ার করা প্রয়োজন! ইরা তাড়াতাড়ি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে আদিল কে জানাবে বলে, সে তো বাবা হতে চলেছে শুনলে নিশ্চয় অনেক খুশি হবে! ইরা বের হওয়ার পর যা দেখলো তাতে সে অবাক, রুমের কোথাও আদিল নেই বরং দরজা টাও খোলা সে সাথে কার্বাড টাও!

ইরা মনে মনে ভাবলো আদিল মনে চলে গেছে নিজের কাজে, আগে তো বলে যেতো কি আশ্চর্য এখন বলে যাওয়ার ও প্রয়োজন মনে করে না!
হাতের প্রেগন্যান্সির স্ট্রিপ টা ছুরে ফেলে দিলো ফ্লোরে! এবং নিজেও বসে পরলো ফ্লোরে,না চাইতেও অজান্তে কেঁদে উঠলো ঝরঝর করে,
সবাই মা হওয়ার পর খুশি হয়, আর আমি এমনি জনম দুখী মা!যে আমার এই মূহুর্ত টাও আমি কারোর সাথে শেয়ার করতে পারছি না!

আশরাফ সিকদার সহ পুরো পরিবার বসে আছেন আদিব এর পাশে! আশরাফ সিকদার ফজরের নামাজের পর এসেছেন আদিব এর কাছে!তবে অহনা সিকদার ছিলেন ছেলের কাছে রাতে বেশ কয়েক বার এসে ছিলেন ছেলে কে দেখতে! যখন দেখলেন তিনটার দিকে আদিব ঘুমাই নি তখন বেশ বুঝিয়ে সুনিয়ে সুয়ে দিয়েছেন বিছানায়!
আদিব বিছানায় সুয়ে আছে, হয়তো এখন একটু ঘুম এসেছে সারা রাত তো জেগে ছিলো!

চারপাশে শোরগোল পরে গেছে,মিডিয়া জুড়ে নতুন সংবাদ এর শিরোনাম প্রকাশ পেয়েছে! আদিস সিকদার সকাল সকাল ঢিভি ওন করতেই দেখেন, বড় জঙ্গলে নাকি কোনো লাশ পাওয়া গেছে, সেইটা তদন্ত করার দায়িত্ব আপাতত পুলিশ নিয়েছে! আদিস সিকদার নিউজ চেন্স করলেন! আপাতত তার এই রকম নিউজ এর দরকার নাই! ইরা নিচে ড্রয়িংরুমে থেকে হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিলো! এক্সাম হলে চলে যাবে বলে! ঈশান আসবে অবশ্যই তাকে নিয়ে!
আদিব সুয়ে আছে, পাশেই আশরাফ সিকদার এর কল টা বেজে উঠছে বার বার, আদিব গুমিয়েছে তাই আশরাফ সিকদার কল টা বাইরে গিয়ে রিসিভ করলেন!অপর পাশ থেকে একজন পুলিশ সালাম দিয়ে বললেন!!

____স্যার একটি নারী কে আমরা বড় জঙ্গল এর পাশে পেয়েছি মৃত অবস্থায়, মেয়েটির মুখ স্পষ্ট নয় তাছাড়া…
পুলিশ থেমে গেলো, তাই দেখে আশরাফ সিকদার বললেন!!
____তাছাড়া কি এসপি???
পুলিশ টি বেশ নার্ভাস হয়ে কাপা কাপা গলাই বললেন!!
____মা..নে.. স্যার! মেয়ে টিকে জঘন্য ভাবে রেপ করা হয়েছে! এছাড়া শরীরে এত মারের আঘাত, এবং মুখ টিকে কোনো ভাবে সনাক্ত করা যাচ্ছে না! যদি আপনরা আসতেন, মানে… স্যার যদি ওই মেয়ে টি হয়!
আশরাফ সিকদার এক উচ্চ থমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন, এবং বললেন!!

_____চুপ করো ইডিয়েট,সিকদার পরিবারের মেয়ে দের সাথে এমন করার দুঃসাহস কেউ দেখাবে না!
বলেই আশরাফ সিকদার কল টা কেটে দিলেন, বেশ বিরক্ত হয়ে! সকল সকাল মুড টাই কিনা নষ্ট করে দিলো, যত্তসব ইডিয়েট এর দল!
দুপুর দুইটার দিকে,
সিকদার পরিবারের সবাই বসে আছে ড্রয়িংরুমে, আশরাফ সিকদার সকালে একবার গিয়ে ছিলেন কামাল সাহেব এর বাড়িতে! তারাও তেমন কোনো খোঁজ খবর পাই নি রিমঝিম এর! রিমঝিম এর মা ভিষণ অসুস্থ হয়ে গেছে, খাওয়া দাওয়া বন্ধ সেই সাথে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে! কামাল সাহেব এবং ওনার ছেলে আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে সব জায়গায় রিমঝিম এর খোঁজ চালাই,কিন্তু দুঃখ জনক রিমঝিম এর কোনো খোজ পাওয়া যানি!
ইরা এক্সাম শেষ করে বাসায় এসেছে, আজকেই লাস্ট এক্সাম ছিলো! তাই যদি জুথী এবং ঈশান ইরা দের বাড়িতে এসেছে! তাড়াও মূলত রিমঝিম এর নিখুঁজ হওয়ার খবর টা মিডিয়া থেকে শুনেছিলে ঈশান ! রাতে একবার আশরাফ সিকদার এর সাথে কথা বলে ছিলো রিমঝিম এর ব্যাপারে! তবে আদিব কে অনেক বার কল করার পর ও রিসিভ করে নি! তাই ঈশান ভাবলো,

হয়তো মন খারাপ তাই কল দরছে না, তাছাড়া ছেলেরা কখনো নিজের দুঃখ কষ্ট কারোর সাথে শেয়ার করতে চাই না! ইশান সিকদার মহলে এসে সোজা চলে গেছে আদিব এর রুমে!।
আদিব বাসা থেকে বের হওয়ার অনেক চেষ্টা করে ছিলো, অহনা সিকদার এবং আশরাফ সিকদার কোনো মতেই ছেলে কে বাসা থেকে বের হতে দেন নি! ছেলের মানসিক অবস্থা একদম ভালো না! এই মূহুর্তে একা ছাড়লে যদি আদিব এর কোনো সমস্যা হয়!
পুরো ড্রয়িংরুম ভর্তি মানুষ, তাছাড়া পুলিশ এর লোক বডিগার্ড তো আছেই! আশরা সিকদার সোফায় গা এলিয়ে সুয়ে আছেন! আজকাল কারোর মন টা ভালো নেই! আশরাফ সিকদার এর নাম্বারে কল আসে, কিন্তু আশরাফ সিকদার তা দরেন না! আজকে না হলেও হাজার টা কল এসেছিলো ফোনে! সে আপাতত বিরক্ত কল আসা নিয়ে! একবার দুইবার তিন বার তারপর বিরক্তি নিয়ে কল দরলেন আশরাফ সিকদার! অপর পাশ থেকে লম্বা সালাম দিয়ে বললেন!

____স্যার যদি একবার হসপিটালে আসতেন,
____কেনো??
আসলে স্যার আপনাদের তথ্য অনুযায়ী মেয়ে টির সাথে অনেক টাই মিল পাওয়া গিয়েছে, মেয়ের পরিবার থেকেও লোক আসছে!
আশরাফ সিকদার স্বাভাবিক গলায় বললেন!
____ওকে আসতেছি!

আশরাফ সিকদার আদিস সিকদার কে নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে, পেছন থেকে আদিব বলে আমি ও যাবো ড্যাড!
আশরাফ সিকদার বারন করলেও আদিব শুনে না! আশরাফ সিকদার কিছু বলার আগেই রিমঝিম এর ভাই লিয়ম কল করে জানায় আদিব কে!আদিব এর সাথে ঈশান ও যায় হসপিটালে!আদিব কে একা ছাড়া ঠিক হবে না ভেবে!
আশরাফ সিকদার যেখানে আদিব কেই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান না,সেই খানে বাড়ির মহিলারা যেতে চাচ্ছে বিষয় টা খুবি খারাপ দেখায়! তাই আর কেউ যাওয়ার কথা বললো না!
ইরা জুথী কে নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে যায়, ইরা জুথী কে উদ্দেশ্য করে বললো!

____দরজাটা বন্ধ করে দে!
জুথী ও সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা বন্ধ করে দেয়!এর পর ইরা কে জিজ্ঞেস করে!
___কিছু হয়ছে???
ইরা কথা বলে না, বরং ল্যাপটপ টা নিয়ে বসে,
এবং সকালের কথা একটু ভাবে, আদিল ওয়াশ রুম যাওয়ার পর, ইরা ছোট একটা বডি ক্যামেরা আদিল এর জ্যাকেট এর উপর লাগিয়ে রেখে ছিলো, খুবি গোপনীয় তার সাথে! বিশেষ করে আদিল কেথায় যায় তার খবর নিতে! এক্সাম না থাকলে হয়তো আদিল পিছু নিতো ইরা!

এখন বডি ক্যামেরার সাথে ল্যাপটপ কানেক্ট করে দেখবে, আদিল কোথায় আছে, বা ওর কাজ টা কি মূলত?
পোস্টমর্টেম এর জন্য লাশ টাকে সরকারি মেডিক্যাল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়ে ছিলো!
আশরাফ সিকদার এবং কামাল সাহেব এর পরিবারের কিছু সদস্য এসেছেন! তাছাড়া পুলিশ লোক এবং বড় বড় ডক্টর রয়েছেন! পুলিশ সবাই কে নিয়ে লাশের কাছে চলে যান! লাশের এর মুখটা পুরো পুরি ঠেতলানো, মুখ একদম স্পষ্ট নয়,কালো রক্ত জমাট অবস্থায় পরে আছে! সবাই বেশ ভালো করে দেখলো এবং বললো সবাই! ১০০% সিউর এইটা রিমঝিম হতেই পারেন না!
রিমঝিম তো কালো নয়, কিন্তু এই মেয়ের বডি চুল মুখ সব অন্যরকম, এইটা হতেই পারে না, পাশ থেকে এক জন পুলিশ কমিশনার বললেন!!

___স্যার প্লিজ আপনারা মাইন্ড করবেন না” আমাদের তথ্য অনুযায়ী এইটাই কিন্তু সেই মেয়ে, আপনারা যাকে খুজছেন! এই মেয়েটি পুরো ঠান্ডা শীতের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা সময় রাস্তায় পরে ছিলো! প্রচন্ড শীতে পুরো শরীরের শক্ত জমে গিয়েছে! তাই দেখতে এমন লাগছে!

পুলিশ এর কথায় কেউ মানতে রাজি না,এইটা রিমঝিম এর লাশ হতেই পারে না! সবাই যেনো শুধু দর্শক এর মতোন করে সব টা দেখছে! তাদের কাছে তো কোনো প্রমান নেই রিমঝিম কে চেনার! আদিব বেশ দূরে দাড়িয়ে সব টাই দেখছে, কাছে যাওয়ার মতোন শক্তি হচ্ছে না তার! যদি রিমঝিম হয় তখন, যখন সবাই মৃত লাশ কে দেখা শেষ করে চলে আসে, যখন ঈশান পাশ থেকে বলে, রিমঝিম কে চেনার মতোন কোনো কিছু দেখেছিলে কখনো??
হুম,ব্যাস আদিব এই টুকু কথা বলে এগিয়ে যায় মৃত দেহ টার দিকে, সবাই যখন বলছে এইটা রিমঝিম না, তাহলে হয়তো সত্যিই এইটা রিমঝিম না! আদিব বুক ভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলো, আদিব দেহ টার সামনে দাড়াতেই একজন ডক্টর মুখ থেকে কাপড় টা সরিয়ে দেয়!মুখ টাকে এমন বাজে ভাবে আহত করা হয়েছে, কোনো ভাবে মেয়ে টা কে চেনা সম্ভব নয়, তাছাড়া গাড়ে অজস্র খামচি এবং কামুড় এর দাগ, দেখে মনে হচ্ছে কিছু জানোয়ার রা মিলে মিশে বেশ তীপ্তি নিয়ে মেয়ে টিকে ভোগ করছে! তারপর নিসংষ্হ ভাবে হত্যা করেছে !
আদিব মুখ ফিরিয়ে নেই,সামনের দিকে চলে যায়, ঠিক তখন একটা ডক্টর এসে বললেন!!

____স্যার এই রিং টা মেয়ে টির হাতে পেয়েছি!
আদিব তখন আবার তাকাই ডক্টর এর দিকে, ডক্টর হাত দিয়ে রিং উঁচু করে দরতেই আদিব চট করে আংটি হাতে নেই! ভালো করে নজর ভুলাতেই দেখে সেদিন রিমঝিম কে প্রপোজ করা সেই রিং টার কথা! একদম সেইরকম রিং টা,আদিব আরেক টু ভালো করে মেলালোর জন্য ফোনে রাখা ছবির সাথে আংটি টিকে মেলানোর চেষ্টা করলো! আশ্চর্য ভাবে মিলে যায় আংটি টা! আংটির উপর ভিওি করে আদিব দরে নেই এই টাই রিমঝিম!
আদিব যখন রিমঝিম বলে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে!তখন সবাই এক এক করে দৌড়ে ছুটে আসে আদিব এর কাছে! আদিব কেঁদে উঠে ঝরঝর করে, এবং চিৎকার করে কাঁদতে কাদতে বলে!!

___এই টাই আমার রিমঝিম, এই আংটি টা তো আমি ওকে দিয়ে ছিলাম, সেদিন!
আদিব শক্ত হয়ে দাড়িয়ে ঝাপটে দরে রিমঝিম কে, পাগলের মতোন হুহুহু করে কেঁদে উঠে,রিমঝিম এর এর সেই অগোছালো আহত মুখ টাকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়!আর বলতে থাকে!!
____রিমঝিম এই রিমঝিম, দেখো আমি আসছি তোমার ডক্টর সাহেব আসছে,তোমাকে নিয়ে যেতে!তুমি যাবে না আমার সাথে! লুকোচুরি খেলছো তাই না আমার সাথে! ঠিক আছে তুমি যাও জিদে গেছো এবার তো চোখ খুলো, এই বউ বউ পাগলী!
তুমি না বলতা আমি কেন তোমায় বউ ডাকি না, আমি তো তোমাকে বলতাম বিয়ের পর ডাকবো, এই দেখো আমি তোমাকে বউ ডাকছি! আমার বউ তোমার ডক্টর সাহেব এর বউ!তাকাও এই পাগলী রাগ হচ্ছে কিন্তু আমার! দেখো না…

আদিব শক্ত করে চেপে দরে কাদছে, লাশ টা রিমঝিম এর সনাক্ত করার সাথে সাথে কামাল সাহেব জ্ঞান হারিয়ে বেহুশ হয়ে গেছেন! এখনো রিমঝিম দের বাড়িতে খবর পাঠানো হয় নি! আদিব কে কেউ সামলাতে পারছে না! আদিব তো রিমঝিম কে ছারছেই না! বরং রিমঝিম কে হাত দরে টানছে সাথে করে নিয়ে যাবে বলে! আশরাফ সিকদার ছেলের এমন পাগলামি দেখে হুহু করে কেঁদে উঠলেন! তার ছোট ছেলে টা আজ কত বড় হয়ে গিয়েছে! আদিব বার বার রিমঝিম কে বুকের সাথে মিশিয়ে নিচ্ছে! আর বলছে!

°___বউ এই বউ তোমার এমন অবস্থা কে করছে বলো আমারে একটি বার বলো!
ঈশান আদিব কে কোনো রকম টেনে ছারিয়ে আনে রিমঝিম এর মৃত দেহ থেকে! শরীরের উপর অনেক আঘাতের চিহ্ন উল্টা পাল্টা স্পর্শ করা ঠিক নয়! আগে কলির মর্মান্তিক মৃত্যু সবাই কে বেশ কষ্ট দিয়েছে!আর এখন আবার রিমঝিম মেয়ে টা কে ও জঘন্য ভাবে দর্শন সেই সাথে শরীরের আঘাত বেশ দুঃখ জনক! আশরাফ সিকদার একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও কিছু করতে পারছেন না!

আদিব ঈশান জে ছারিয়ে দৌড়ে ছুটে যায় রিমঝিম এর মৃত দেহ টার কাছে! শক্ত করে বুকের সাথে মিশিয়ে নেই,
আদিব কে এমন পাগলামী করতে দেখে ইশান বলে, আদিবমেয়েটা মৃত! বুঝার চেষ্টা করো!
কে বলছে রিমঝিম নেই, রিমঝিম আছে! রিমঝিম শুনতে পাচ্ছো,এই দেখো তোমার ডক্টর সাহেব আসছে, এই পাগলী আমার পাগলি, আমার বউ তুমিই তো আমার সব, আমার ভালোবাসা তুমি কোথায় গেলে বলো একবার, তাকাও আমার দিকে, আমি আসছি তো তোমাকে নিতে, কোনো বাঁধায় শুনবো না আমি আমার সঙ্গে করে তোমাকে নিয়েই যাবো! আমি আজকেই বিয়ে করবো তোমাকে, এখনি বিয়ে করবো কবুল বলো! তাকাও বলো না শুনছো না!
আদিব কাঁদতে কাদতে কিছু সময়ের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লরো পরে যায়!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৫

গত দুইদিন এর অতিরিক্ত টেনশন রাত জেগে থাকা সব কিছু মিলিয়ে শরীর বেশ দূর্বল! আদিব বার বার শরীর ছেড়ে দিচ্ছে কিছু সময় কান্না করতে করতে সেখানে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে! আশরাফ সিকদার এবং বাকি সবাই মিলে আদিব কে হসপিটালে ভর্তি করে! ঈশান সবাই কে রিমঝিম এর মৃত্যুর খবর টা
জানিয়ে দেয়!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৭