এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬৩
Chadny islam
প্রায় রাত এগারো টার দিকে, ইরা খালি চেয়ারে চুপ করে বসে বসে পা দুলাচ্ছে,পাশেই বৃষ্টি দাড়িয়ে! থরথর করে কাঁপছে! সে চাইলেও এখন এই অন্ধকার ঘর থেকে বেরুতে পারবে না, ইরার অনুমতি ছাড়া! বৃষ্টি কে এমন ভাবে কাঁপা কাঁপা করতে দেখে,
ইরা বৃষ্টি কে ডেকে নিজের সামনে দাড় করালো, এর পর ব্যাগ থেকে বেশ কিছু টাকার ব্যান্ডিল হাতে দরিয়ে দিলো,এবং চলে যেতে বললো! অনেক দূরে পুলিশ এর দৈঘ্য সীমানা পেরিয়ে! ইরার কথা শুনে বৃষ্টি ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো, কারন ইরা তাকে বলে ছিলো সাহায্য করার জন্য,যদি সে রাজি হয় তাহলে আর তার কোনো রকম ক্ষতি করবে না! ইরা সত্যি নিজের কথা রাখছে!!
বৃষ্টি কান্না রত অবস্থায় ইরা কে জড়িয়ে দরার চেষ্টা করলে, ইরা খিপ্ত মেজাজ দেখিয়ে বলে!!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
__এক মিনিট এর ভেতরে চলে যাও, এই খান থেকে!নয়তো তোমার অবস্থা ও করুন থেকে করুনতম হবে!
বৃষ্টি আর এগোলো না, কারন ইরার মাথা ঠিক নেই কখন কি করে বসে, কখন কি করে বসে তারও ঠিক নেই!তাছাড়া প্রান বাঁচানো ফরজ, তাই বৃষ্টি টাকা গুলো কে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আবার ফিরে আসে, ইরার কাছে নয় বরং ঘুমন্ত স্বামীর কাছে, বৃষ্টি এক দলা থুথু ছুরে মারে রনির মুখে! আর শব্দ করে বিশ্রি একটা গালি ছুরে দেয়! সেই সাথে স্বামী কে কাপুরুষ বলতে ভুলে না, টাকার লোভে নিজের বউ কে কিনা এই রকম বাজে জায়গায় নিয়ে এসেছে! বৃষ্টি আর দাড়ালো দূত জায়গা পরিবর্তন করলো!
ইরা একবার সবার দিকে নজর ভুলালো,হয়তো ঘুমন্ত অবস্থায় আছে তাই কেউ বুঝতে পারছে না, জেগে গেলে তাদের অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হবে! মৃত্যুর দৈঘ্যরাই পৌঁছে যেতে হবে! এই মহৎ কাজ টা না হয় আমিই করলাম! ইরা বাঁকা হাসলো পাগলের মতোন প্রায় অনেক খন! তার হাসি থামানোর জন্য ও কেউ নেই! ইরা একবার চোখ ঘুরালো আদিল এর দিকে, কি নিষ্পাপ তার মুখ,আপনার সৌন্দর্য প্রতি মূহুর্তে আমাকে টানে সিকদার সাহেব!
ইরা কিছু সময় নিয়ে চুপ করে বসে থাকে, এখন তার ভাবনার মাঝে অনেক কিছু এসে কড়া নাড়ছে বার বার, তার মধ্যে সকালের ঘটনা,
রনি যখন বৃষ্টি কে কল করে ছিলো, ঠিক তখন তার সামনে ইরা দাড়িয়ে ছিলো, বৃষ্টি কোনে ভাবে রনি কে বলতে বা বুঝাতে পার ছিলো না!তার সামনে ইরা দাড়িয়ে আছে, কি করে বলবে বৃষ্টি ইরা তখনি হয়তো সাথে সাথে পুলিশ কে ইনর্ফম করতো, নয়তো জিন্দা কবর দিয়ে রাখতো, নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য মিথ্যা ছলা কলা করতে বাধ্য হলো বৃষ্টি, তাও কিনা নিজের স্বামীর সাথে!
সকালে আশরাফ সিকদার ঘুমের ঔষধের জন্য যখন আদিব এর উপর রেগে ছিলেন,ঔষধ টা আদিব এনে ছিলো ঠিকি,কিন্তুু ঔষধ টা আশরাফ সিকদার দেখার আগেই ইরা সরিয়ে ফেলে!
তারপর ওষুধ টা বৃষ্টির হাতে দিয়ে বলে ছিলো, বিরিয়ানিতে ঔষধ টা মিশাতে, বৃষ্টি প্রথমে মানতে নাকোচ হলেও পরে ইরা বেশ চাপ সৃষ্টি করে বাধ্য করে ছিলো বৃষ্টি কে ঔষধ মেশাতে!
বৃষ্টি যদি কোনো রকম চালাকি করে, তাই ইরা ছোট একটা ক্যামেরা লাগিয়ে দেয় বৃষ্টির শরীরে, যদি বেশি চালাকি করে তাহলে”নিজেও বিনা টিকিটে কবরে জায়গা করে নিবে! তার দায় কিন্তু আমার নয়!
সকালের পাসপোর্টটা ইরা বেশ ভালো করে দেখে ছিলো, তার মধ্যে রনি লুনান প্রিয়াশ এবং আদিল এর পাসপোর্ট ছিলো! আদিল রুমে এসে ইরা কে না জানিয়ে লুকিয়ে রেখে ছিলো! দুর ভাগ্য বশত পাসপোর্ট টা ইরার হাতে গিয়েই পরে! তবে ইরা কোনো রকম আদিল কে কিছু বুঝতে দেয় না! এমন ভাবে থাকে যেনো মনে হয় ইরা কিছুই জানে না! কিছুই দেখে নি!
প্রথম বার যখন একশো টা মেয়ে প্রাচার করার কথা আসে, তখন ইরা সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করে ছিলো বাঁধা দেয়ার, সফল হয়েও হয়নি! মাঝ খান থেকে ফেসে গেলো আবদুল মামুন! ইরা ভেবে ছিলো এবার হয়তো আদিল সব ছেড়ে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু না ইরার ধরনা সম্পূর্ণ ভাবে ভুল প্রমাণিত করে আদিল! সেই একি ভুল আদিল আবার করে, ভুল নয় পাপ, পাপী সে!
এবার একশো জন ছিলো না পাঁচশো জন নারী ছিলো তবে তার মাঝে রিমঝিম ও! সেদিন আদিব যদি রিমঝিম এর চেন টা না চিনতে পারতো, তাহলে হয়তো এত কিছু জানা সম্ভবি হতো না!
রিমঝিম কে পাওয়া যাচ্ছিলো না বিধায় আদিল টেনশনে ছিলো, আদিল এর সন্দেহ হয়ে ছিলো এই রকম টাও হতে পারে ওই সব মেয়ের মাঝে রিমঝিম ও আছে!আদিল যখন সিউর হয় রিমঝিম ও ওই মেয়ে দের সাথে আছে” তখন আদিল রাতে প্রিয়াশ কে ম্যাসেজ করে নিষেধ করে রিমঝিম এর কোনো রকম ক্ষতি করতে, কিন্তু আদিল এর ছবি আর ম্যাসেজ প্রিয়াশ এর কাছে পৌঁছানোর আগেই প্রিয়াশ রিমঝিম কে হত্যা করে!
খবর টা আদিল পেয়ে ছিলো পরের দিন সকালে,যখন বড় জঙ্গলে লাশ টাকে পাওয়া গিয়ে ছিলো! সকালে যখন আশরাফ সিকদার রাগ করে কল কেটে দিলেন, নাকোচ করলেন যাওয়ার জন্য,তখন আদিল গিয়ে ছিলো ডক্টর এর সাথে পরামর্শ করতে, ডক্টর এর ব্যাখা অনুযায়ী কয়েক জন পুরুষ মিলে তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে! তখন আদিল এর কিছুই করার ছিলো না, বলা যায় সব টাই তার হাতের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ছিলো! আদিল সেদিন রাতে ব্লাকরোজ বাড়িতে এসেছিলো, এবং প্রিয়াশ কে ইচ্ছে মতোন হটস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ছিলো! প্রিয়াশ কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তা স্বীকার করে, এবং দুই হাতে আদিল এর পা জড়িয়ে প্রাণ ভিক্ষা চাই! আর বলে এমন টা আর কখনো করবে না!
আদিল কোনো রকম নিজেকে সামলে চলে যায় ব্লাকরোজ বাড়ির ভেতরে! নিজের রাগ কে কোনো ভাবে কন্ট্রোল করতে না পেরে গত দুই দিন সিকদার মহলেই ফিরে না! যদি আদিব কিছু জানে, বা নিজের ভাইয়ের দিকে আঙ্গুল তুলে! তখন কি বলবে আদিল, ভাই এর সামনে মাথা নত করে দাড়ানো বেশ লজ্জার!গত দুই দিন পর যখন খবর আসে রিমঝিম এর মৃত্যুর কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করা যায় নি , ঠিক তখন আদিল বাড়িতে ফিরে, সবাই তার চেহারা দেখে বুঝেই ফেলে ছিলো আদিল আমেরিকা যায় নি মিথ্যা বলছে!সে মিথ্যা বাধী হবে কিন্তু কোনো রকম নিজেকে সবার সন্দেহের তালিকার বাইরে রাখবে না!
আর এদিকে মাইমুনা সিকদার সকাল সকাল ইরার থেকে ও বেশ কিছু কথা লুকিয়ে ছিলেন, ইরা যখন জানতে চাইলো প্রিয়াশ কে মিস করেন কিনা, তিনি মুখের উপর না করে দিলেন, অথচ সেদিন রাতে প্রিয়াশ চুপি চুপি বাড়িতে এসেছিলো!
ইরা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সব টাই দেখে ছিলো, প্রথমে চুর ভাবলেও, পরে তার সেই ভাবনা টা আর ভাবা যায় নি! কারন ইরা চুপি চুপি রুমের দরজা খোলে ড্রয়িংরুমে দিকে তাকাকেই দেখে প্রিয়াশ মাইমুনা সিকদার এর কাছে যাচ্ছে!
প্রিয়াশ আর কারোর সাথেই দেখা করে নি শুধু নিজের মায়ের সাথে, কলির মৃত্যুর খবর টাও বেশ পরে পেয়ে ছিলো! ছেলে কে কাছে পেয়ে মাইমুনা সিকদার হাউমাউ করে কাদছিলো!
প্রিয়াশ বেশি সময় দাঁড়ায় নি মাএ কিছু সময় ছিলো, এর পর তাড়াতাড়ি বাসা থেকে চলে যায়, আদিল সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধ করেছিলো বাড়িতে না আাসার জন্য!হয়তো আদিল নিজেও জানে না প্রিয়াশ বাড়িতে এসেছিলো!
রাতের খাবার শেষ করে ইরা ব্যাগের মধ্যে কিছুটা মরিচের গুঁড়ো, ব্লেড, এসিড, আর বড় একটা চুরি ব্যাগে করে নিয়ে বেরিয়ে গেছে আদিল এর ঘরের লুকনো সেই ছোট দরজা দিয়ে! বাড়ির ভেতর দিয়ে আসলে কারোর নজরে পরা টাই স্বাভাবিক, তাছাড়া গেটের সামনে দাড়াোয়ান পাহারা দিচ্ছে! এখন সবাই অনন্ত ভোরের আলো ফোঁটার আগ পর্যন্ত রুমের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করবে না???
কনকনে ঠান্ডার মাঝেও কেমন ঘেমে একা কার হয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ ভাবনার ছেদ ঘটতেই এক পলক তাকাই আদিল এর দিকে, এর পর দ্রুত চোখ সরিয়ে নেই!আর ভাবে..
“কিছু মানুষ ঠিক অভিশাপ এর মতোন”জীবনে আসবে হাসাবে কাদাবে এরপর নিঃস্ব করে হারিয়ে যাবে..!
ইরা উঠে দাড়ালো, বিরিয়ানিতে ঘুমের ঔষধ মেশানো ছিলো! এখন সারা রাত কেন দিনে ও ঘুম ভাঙ্গবে না এদের! ইরা সামনের দিকে এগতেই দেখে খাবার খাওয়া জায়গায় পরে আছে বেশ দামি দামি ব্যান্ডের মদের বোতল! হয়তো বিরিয়ানি খাওয়া শেষ করে এসব কু_খাদ্য খেত।ইরা বোতল এর মুখ গুলো কে খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করলো! কালো বোরকা গায়ে জড়ানো, নিকাব এর কারনে বেশ সমস্যা হচ্ছে তাই নিকাব টা খুলে ফেললো,তবে হিজাব দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে পুরো মাথা বুক!
ইরা বোতল টাকে শক্ত করে বাড়ি পারলো চেয়ারে এর সাথে, সাথে সাথে বোতলের মুখ খুলে পরলো, সেই সাথে এক টুকরো কাচ গিয়ে পরলো ইরার গায়ে, যা কচ করে কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলো! ইরা এক বার পায়ের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো,এর থেকে ও হাজার গুন কষ্ট নিয়ে পৃথিবীর মায়া ছারতে হবে তোদের!! জানোয়ার এর বাচ্চা!!
ইরা প্রিয়াশ এর দিকে এগিয়ে গেলো, এর পর মুখের বাঁধন টা খুলে দিয়ে, মদের পানি ছুরে মারলো প্রিয়াশ এর মুখে, সাথে সাথে প্রিয়াশ কয়েক টা বিশ্রি গালি দিতে শুরু করলো! প্রিয়াশ এর এমন বিশ্রি গালি শুনে, ইরা হাসলো শব্দ করে হাসলো, অথচ তার হাসার কথা নয়, বরং রাগ করার কথা! পর পর সবাই কে একি ভাবে তুললো,এতো ঝাঝালো মদের পানিতে মুখ ঝলসে যাচ্ছে! ইরা সবার মুখ খোলে দিলো, সবাই কেমন তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যু বরন করে সেটাই দেখার পালা! সবার আত্ননাথ কেমন হবে, হবে হয়তো এমন শুধু শরীরের মাঝে শুধু দেহ টাই পরে থাকবে আর রুহু টা উড়ে যাবে দূর আকাশে!
ইরা শব্দ করে হেসে উঠলো, আর বাধা অবস্থায় সবার বুঝতে বাকি রইলো না, কি হতে চলছে, হয়তো আজ তাদের সাথে ভালো কিছু হবে না,বরং খুব খারাপ হতে চলেছে! সবার আগে রনি ছটপট করতে শুরু করলো, বাঁচাও বাচাও বলে চেচাতে থাকলো!
লুমান যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে, তাই ইরা কে কৌশলে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলো, অন্যদিকে আদিল শুধু ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে দেখলো! তার মনের আনআছে কানকাছে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে বাঝছে ইরার সেইর অভিমানী বাণীটা,
“”আমার হাতেই আপনার মৃত্যু মঞ্জুর হোক সিকদার সাহেব!!
ইরা হাতে একটা পয়সা রনির সামনে দাড়াতি আছে, বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____চল একটা খেলা খেলি, এই খেলাটা বিছানার উপর নয় বরং জীবন মৃত্যুর খেলা! রাজি তুই??
রনি বেশ অনুরোধ করলো তাকে ছেড়ে দিতে, নিজের মায়ের পেটের আপন বোন বানাতেও ভুললো না! ইরা হাসলো বেশ হাসলো শব্দ করে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই মেয়ে টা বুঝি পাগল হয়ে গিয়েছে!
ইরা হাতে একটা পয়সা নিয়ে গুড়াতে থাকলো,এবং রনি কে উদ্দেশ্য করে বললো,
এই খানে মানুষ ওর ফুল আছে তুমি যদি জিতে যাও তাহলে তুমি আরও বেশি সময় বাঁচতে পারবে! তার যদি হেরে যাও তাহলে পৃথিবী কে টাটা বাই বাই বলে চলে যাবে! তাহলে খেলা টা শুরু করি, আর খেলার মাঝে কথা বললে স্পেশাল বোনাস হিসাবে থাকবে অনেক কিছু…
ইরা পয়সা টাকে গুরাতে থাকলো, এরপর এক হাতের উপর রেখে আরেক হাত দিয়ে ডেকে ফেললো!রনি কে বলতে বললো!!
___বলো???
রনি ভয়ে ঠকঠক করছে, না জানি কখন ছোট প্রাণ পাখি টা উড়ে চলে যায়,তাও বাচার আপ্রাণ চেষ্টা করতে করতে কাঁপা কাঁপা গলা নিয়ে বললো!!
___ফুল, ন..না মানুষ, না ফুল ?
ইরা বিরক্ত হলো, এরপর ও শান্ত গলাই বললো!!
___যেকোনো একটা??
“মা… মানুষ!
ইরা হাতের উপর আরেক হাত তুলে রনির সামনে নিয়ে বললো!
___তুমি হেরে গেছো? ফুল পরছেযএখন বলো কিভাবে মরতে চাও!
“দয়া করো, মেরো না আমাকে, আমি আর কোনো মেয়ে কে খারাপ ভাবে দেখবো না, মা ছেড়ে দাও আমায়!! আল্লাহর দোহায় লাগে!
“তুমি কিন্তু চিটিং করছো, খেলার নিয়ম এমন ছিলো না, কিভাবে মরতে চাও বলো শেষ বারের মতোন তোমার এই ইচ্ছে টা আমি পূরন করি!
‘ছেড়ে দাও মা, ছেড়ে দাও!
ইরা বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে এগিয়ে গেলো ব্যাগের কাছে!ইরা ব্যাগ থেকে ছুরি ব্লেড এডিস মরিচের গুঁড়ো সব বের করে রাখলো চেয়ারের উপর! এরপর এক হাতে মদ তো অন্য হাতে মরিচের গুঁড়ো নিয়ে এগিয়ে গেলো রনির দিকে, রনি ভয়ে নেতিয়ে গিয়েছে, ইরার মুখে হাসি ঝলঝল করছে, ইরা রনির সামনে গিয়ে শব্দ করে হেসে বললো!!
___তোর বউ কিন্তু মানুষ ভালা না, তোর সাথে বেইমানি করছে, পরের জনমে গিয়ে অপেক্ষা কর নিজের বউ এর জন্য,এবং প্রতিশোধ এর জন্য!আমি ভালা মানুষ টাই বলে দিলাম, এখন আবার বলিস না ছেড়ে দিতে!!!
রনি চিৎকার করছে, ছেড়ে দিতে বলছে, ইরা চেয়ারের সাথে বাড়ি মারে মদের বোতল টিকে, ঝনঝন শব্দ করে তা ভেঙে গড়িয়ে পরে, ইরা হাতে তুলে নেয় এক টুকরো কাচ, এর পর এক টানে রনির গায়ের পরিহিত শার্ট খুলে ফেলে! এর পর কাচের টুকরো দিয়ে অজস্র আঘাত করতে থাকে শরীরের উপর, টুকরো কাচের আঘাতে রনি ব্যাথায় আরও জুড়ে চেঁচাতে থাকে,
রনির বুক পিঠ থেকে সয়ে সয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়ে ফিনকি বেয়ে নিচে পরে যাচ্ছে! ইরা হাতে তুলে নিলো মরিচ এর গুঁড়ো, এর পর ধীরে ধীরে কাটা স্থানে তা লাগিয়ে দিলে ঠিক মলমের মতোন করে,
“রনি চিৎকার করে কাঁদছে, ঝলসে যাচ্ছে, ছেড়ে যাও নয়তো আমাকে মেরে ফেলো, পানি দাও পানি পানি!!
ইরা শব্দ করে হাসলো, প্রিয়াশ লুমান ভয়ে ভরকে আছে, তাদের সাথে ও ঠিক এমন টাই হবে কিছু খন বাদে!
প্রিয়াশ রাগে বিরক্তিতে আদিল এর দিকে তাকিয়ে কয়েক শো নোংরা বকা দিয়ে দিলো,সেই সাৎে বলতে ভুললো না,
___কই ছিলাম না, এই মেয়ে টারে মেরে দেয়, শুনলি না আমার কথা আজ দেখ তার বিনিময়ে আমরা কি পাচ্ছি!
আদিল চুপ, প্রিয়াশ এর কথা কে কানে না নেয়ার মতোন শুনে নিলো, ইরা চোখ গুরিয়ে দেখে নিলো আদিল কে, আদিল এর মুখ চোখ সবার মতোন নয়, ভয়ের রেশ মাএ নেই, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা নেই! মৃত্যুর ভয় নেই!
রনি বাঁচতে চাইছে, লুমান শুধু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে! মনে হচ্ছে বুকের পাশে নিশ্বাস টা আটকে আছে! ইরা হাতে ছুরি তুলে নিলো, এরপর রনির দিকে পা বাড়াতে শুরু করলো, রনি ব্যাথায় ছটপট করছে, প্রান জায় জায় অবস্থা! ইরা কে খুব করে মিনতি করছে হয় ছেড়ে দাও নয়তো প্রাণে মেরে দাও!
ইরা তো কখনো ছারবে না, তাই রনি বললো,আমাকে মেরে দাও, আমি আর সহ্য করতে পারছি না, রনি নতুন সে হয়তো আগে কখনো এসব করে নি, এবারি প্রথম টাকার লোভ সামলাতে না মেরে কাজে লেগে গিয়ে ছিলো! তাই ইরা বেশি আঘাত করতে চাইলো না, কিন্তু তৎক্ষনাৎ রিমঝিম এর কথা মনে পরতেই, রনি কে কুপাতে শুরু করলো, নিজের শরীরের সব টুকু শক্তি দিয়ে ছুরি চালাতে থাকলো, এরপর ঠান্ডা মাথায় এক এক করে হাত থেকে পা সব আলাদা করে ফেললো, শুধু দেহ টা আটকে পরে রইলো চেয়ারের সাথে! প্রাণ পাখি উড়ে চলে গেছে সেই কখন!!
ইরা এবার এগলো লুমান এর দিকে, আর পয়সা খেলতে ইচ্ছে করলো না! তাই চেয়ারে উপর থেকে এডিস নিয়ে আসলো, এরপর ছুরে মারলো লুমান এর পা এবং হাতের দিকে সাথে সাথে সব গলে ঝলসে পরতে শুরু করলো, লুমান ব্যাথার কান্না করতে শুরু করলো, ঝলছে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ব্যাথায় গরগর করে বমি করে দিলো, মাথা ঘুরছে হাত পা নিমিষেই কুচকে গেলো, গলে যেতে থাকলো! লুমান চিৎকার করে কাঁদছে, বাচার জন্য আত্ননাথ করছো, ছেড়ে দাও বলছি!
ইরা কিছু সময় ছটপট করতে দেখলো, এর পর চলে গেলো প্রিয়াশ এর কাছে , প্রিয়াশ সামনে দাড়াতেই ইরা এক দলা থুথু ছুরে মারলো ঘৃণায়, আর রাগে হুংকার ছেরে বললো!!
___কি করে পারলি নিজের বোন এর সম বয়সী মেয়েকে মেরে ফেলতে??
“ভুল করে ফেলছি প্লিজ এইবার এর মতোন আমাকে ক্ষমা করে দাও ভাবী! একটা. সুযোগ দাও…
“ভাবী?? কে ভাবী??? ঘৃনা করে না সুযোগ চাইতে! ছি নোংরা!
ইরা রাগে হুংকার দিয়ে বলে উঠলো!
___তোর মতোন পাপী কে ক্ষমা করে দিলে আল্লাহ ও আমার উপর নারাজ হবেন!
ভা..ভাবী…প্লিজ
ইরা এডিস নিয়ে এগিয়ে গেল প্রিয়াশ এর দিকে, সে শুধু ঝিমঝিম কে হত্যা করে নি, তার সাথে অনেক গুলো মেয়ে কে হত্যা করছে, মায়ের মতোন বড় বোন আদ্রিতা কেও ভালোবাসার প্রলবন দেখিয়ে হত্যা করেছে! এর মতোন অমানুষ কে কিভাবে হত্যা কষ্ট টা হাজার গুন বেশি পাবে জানা নেই! ইরা এগিয়ে গিয়ে প্রিয়াশ এর পান্ট একটু সরিয়ে এডিস ডেলে দেয় গোপনঙাগে, সাথে সাথে প্রিয়াশ চিৎকার করে উঠে! আদিল কে ডাকে…
“প্লিজ বাচা ওরে ছাড়তে বল ভাই বাঁচা আমারে আমার কষ্ট হচ্ছে, ঝলে যাচ্ছে!!
প্রিয়াশ ইচ্ছে মতোন চেচামেচি করতে থাকে, ইরা দাঁতে দাঁত পিসে,
এত অহংকার তোর এই জিনিস নিয়ে, যা পুড়িয়ে দিলাম তোর অহংকার কে! তোকে মেরে ও ফেলবো, তুই মৃত্যুর বেশির ভাগ যন্ত্রণা এই পৃথিবী থেকেই নিয়ে যাবি! তোর মৃত্যুর যন্ত্রণা কঠিন থেকে কঠিনতম হোক!
প্রিয়াশ পানি পানি বলে চেঁচাতে থাকলো, ইরার ও বেশ মায়া হলো পানির কথা শুনে, মরার আগে অনন্ত পানি টা খাওয়ানো দরকার! ইরা বললো!!
___যদি দুই মিনিট চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে পারিস তাহলে অবশ্যই তোকে পানি দিবো, আমি তো আবার অনেক মহান! মরার আগে তোর মনের শেষ ইচ্ছা পূরন করবো না তা আবার কখনো হয় নাকি!
ইরা এবার লুমান এর কাছে গেলো, শব্দ করে হেসে ফেললো!
__আমেরিকা থেকে এসেছিস মেয়ে নেয়ার জন্য!ঘরে মা বোন নাই??? জানোয়ার এর বাচ্চা!
লুমান এর শরীর ঝলে যাচ্ছে, কিছু মিনিট আগেও বাঁচার জন্য মিনতি করছিলো, আর এখন কথা ও বলতে পারছে না! কি হাস্যকর তাই না” ব্যাস কি সময়ের পার্থক্য! ইরা লুমান এর চুল টেনে দরলো, এবং সাথে সাথে ছুরি দিয়ে হেচকা টান দিয়ে গলার মোটা রগ টাকে কেটে ফেললো,সাথে সাথে লুমান এর দ
দেহ থেকে মাথাডা আলাদা হয়ে গেলো! মূহুর্তেই ইরার শরীরে রক্তের বন্যা বয়ে যেতে লাগলো, কালো বোরকা রক্তে লাল হয়ে উঠলো!!!
প্রিয়াশ একটু পানির আশার চুপ করে দাড়িয়ে আছে, যদি কোনে কথা বললে আবার পানি না দেয়,পানি পিপাসা পেয়ে খুব! হৃদয় জ্বলে যাচ্ছে! এসিড পড়া জায়গায় গলে গেছে, ইরা এসিড হাতে করে নিয়ে যায় প্রিয়াশ এর দিকে! প্রিয়াশ ভয়ে কুঁকড়ে উঠে,
“”প্লিজ পানি! পানি দাও ভাবী! পানি পানি ঝলসে যাচ্ছে! মরে যাচ্ছি!
ইরা হিহি করে হাসতে থাকলো, আর বললো!
___নিয়ম অনুযায়ী তুমি কথা বলেছো, তাই আর পানি তো পাবা না!
তুমি তো আমার প্রানপ্রিয় দেবর, তোমাকে পানি নয়, তোমাকে আমি স্পেশাল একটা জিনিস খাওয়াবো! খেয়ে কিন্তু রিভিউ দিতে ভুলো না!!
ইরা প্রিয়াশ এর মুখে চাপ দিয়ে এডিস পুরো টাই ডেলে দেয় প্রিয়াশ,এর মুখে! সাথে সাথে তা গলা থেকে পেট পর্যন্ত গলে যায়!হয়তো সাথে সাথে নিশ্বাস আটকে যায়!এরপর ইরা ছুরি দিয়ে ইচ্ছে মতোন কুপাতে শুরু করলো , এক কুপে গলা থেকে মন্ডু আলাদা করে ফেললো! এখন চেয়ারের সাথে শুধু আটকে আছে প্রিয়াশ এর দেহটা!
আর এ দিকে আদিল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, এত গুলা খুন করার পরও তাকে কত বেশি সুন্দর লাগছে, তার ঘরের বউ যে ধ্বংসবতী সে কখনো তা উপলব্ধি করতে পারেনি! এই ইরাবতী কে সে চিনে না জানে না! ইরার খুন করাকে আদিল শুধু দুচোখ মেলে তাকিয়ে দেখেছে! মনে হচ্ছে এই খুব করার কাজ টাই যেনো তার নিত্য দিনের পেশা!!
ইরা উঠে ছুটে গেলো ছুরি নিয়ে, আদিল কে আঘাত করার জন্য!আদিল এর চোখে চোখ পরতেই ইরা দমকে গেলো, দূর্বল হয়ে পরে, সেই সাথে থেমে গ
যায় হাত, ইরা চেয়ার এর সাথে বাঁধা আদিল কে মুক্ত করে দিলো হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিলো! এর
ইরা শব্দ করে হেসে ফেললো, এবং আদিল কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৬২
___এবার আপনার পালা!
আদিল ইরার পাশে বসতে বসতে ভারী দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!
___তবে তাই হোক ধ্বংসবতী, তোমার হাতে আমার মৃত্যু মঞ্জুর হোক!!!
