Home লাল শাড়িতে প্রেয়সী লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫২

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫২

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫২
Fatima Fariyal

রাত অনেকটা গড়িয়েছে। সারা দিনের ক্লান্তি আর বাড়ির উৎসবমুখর পরিবেশ কাটিয়ে নিজের রুমে এসে বিছানায় ধপাস করে পড়ল আদনান। বুকের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি, উত্তেজনা আর চাপ একসাথে চেপে ধরেছে তাকে। সে টানটান হয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘরের নীরবতায় নিজের নিঃশ্বাসের শব্দটাও কেমন অস্বস্তিকর লাগছে। তাদের বিয়ের ব্যাপারটা আহাদ আর রিদিতা ছাড়া বাড়ির বড়রা কেউই জানে না। আদনান ভেবেছিল, আহাদ তাণ্ডব বাধাবে, বাড়ি মাথায় তুলে ফেলবে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে রিদিতা কীভাবে যেন সব সামলে নিল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতেই দিল না। আদনান মনে মনে স্থির করল, সুযোগ পেলেই রিদিতাকে ধন্যবাদ জানাবে। শুধু ধন্যবাদ নয়, ক্ষমাও চেয়ে নিবে।

একটা ভারী নিঃশ্বাস ছেড়ে সে এপাশ-ওপাশ করতে লাগল। তবুও ঘুম আসছে না। বুকের ভেতর কেমন যেন খালি খালি লাগছে। আজকের অনুভূতিটা একেবারেই নতুন। নতুন জীবন শুরু করেছে বলেই কি এমন অদ্ভুত, অচেনা অনুভূতি? নাকি এটা অন্য কিছু?
সে নিজেকে আর সেই অনূভূতিটাকে দমিয়ে রাখতে পারল না। হঠাৎ করেই বুকের ভেতর তীব্র একটা তাগিদ জন্ম নিল, এই মুহূর্তে আহিয়াকে এক ঝলক দেখা ভীষণ প্রয়োজন। নিচে এত মানুষের ভিড়ে ভালো করে দেখতেও পারেনি তার সদ্য বিয়ে করা বউটাকে। যেই ভাবা, সেই কাজ। উঠেই ধীর পায়ে আহিয়ার রুমের সামনে এসে দাঁড়াল আদনান। আশ্চর্য, এবার আর আগের মতো দ্বিধা কাজ করছে না। ভয় নেই, সংকোচ নেই, এক ধরনের অধিকারবোধ বুকের ভেতর শক্ত হয়ে বসে আছে।
সে ঝট করে ভেতরে ঢুকে পড়ল। আহিয়া তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। হঠাৎ আদনানকে এমন অসময়ে নিজের রুমে দেখে তার শ্বাসপ্রশ্বাস রুদ্ধ হয়ে এলো। বুকের ভেতর ধক করে উঠল। বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আদনান ভাই!”
কিন্তু কথা শেষ করার সুযোগ পেল না। এক ঝটকায় আদনান তাকে টেনে নিজের বক্ষস্থলে এনে ফেলল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। মাথাটা চেপে ধরল বুকের সাথে। যেন এই এক মুহূর্তেই সব অস্থিরতা, সব ভয়, সব ক্লান্তি গিলে নিতে চায়। চোখ বন্ধ করে সে গভীর, তৃপ্ত এক নিঃশ্বাস নিল। আহিয়া পুরোপুরি বেকুব বনে রইল। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। হতভম্ব চোখে তাকিয়ে রইল, শরীরটা কাঠ হয়ে গেছে। শ্বাস নিতে ভুলে গেছে সে।
আদনান টের পেল সেটা। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে হিসহিস করে বলল,
“কী হলো? নিশ্বাস নিচ্ছিস না কেন? আমাকে একা ফেলে রেখে মরার ধান্দা করছিস নাকি?”
আহিয়া তখনও হতবুদ্ধি। আদনান আবার বলল, কণ্ঠে আদেশের সুর,

“নিশ্বাস ছাড়, আহি।”
এইবার আহিয়া ঘন ঘন, এলোমেলোভাবে শ্বাস নিতে লাগল। সবকিছু যেন তাল হারিয়ে ফেলছে। মাথা ঝিমঝিম করছে।আদনানের হাতের বাঁধন আরও শক্ত হলো। কণ্ঠটা নিচু, ভারী, প্রায় ভাঙা গলায় বলল,
“আমার তোকে প্রয়োজন, আহি। ভীষন প্রয়োজন। কখন যে তুই আমার জন্য এতটা জরুরি হয়ে গেলি, আমি নিজেও টের পেলাম না।”
একটু থেমে সে আবার কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
“আজ একটা আবদার করবো আহি?”
কম্পিত কণ্ঠে আহিয়া জিজ্ঞেস করল,
“কী আবদার?”
আদনান তার মাথাটা আলতো করে একটু তুলে ললাটে মৃদু, নরম ওষ্ঠজোড়া ছুঁইয়ে দিল। একরাশ অধিকার নিয়ে বলল,

“আমার ধৈর্য শেষ চূড়ায় পৌঁছে গেছে। আমার সাথে আপোষ করে নে না আজ।”
এই মুহূর্ত আহিয়ার জন্য সম্পূর্ণ নতুন, অচেনা, দমবন্ধ করা। সে একেবারে এলোমেলো হয়ে গেল। লজ্জায় কান দুটো গরম হয়ে উঠল। সেই লজ্জা ঢাকতেই সে মুখ গুঁজে দিল আদনানের বুকের মাঝখানে।আদনান তৃপ্তির হাসি হাসল। তাদের নতুন অনুভূতির মাঝখানে এক অদৃশ্য বোঝাপড়া ঝুলে রইল। ঠিক তখনই বাইরে থেকে ভেসে এলো রিদিতার কণ্ঠ,

“আহিয়া… আহি…”
আহিয়া যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে সরে গেল। আদনানও কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। দ্রুত আহিয়ার গালে দু’হাত রেখে ফিসফিস করে বলল,
“আমি দেখছি। তুই কিন্তু ঘুমিয়ে পড়িস না। আমি আবার আসবো, কেমন?”
আহিয়া হ্যাঁ না কিছুই বলল না। শুধু লাজের ভারে দৃষ্টি নামিয়ে নিল। আদনান বেরিয়ে আসতেই রিদিতা স্তম্ভিত হয়ে গেল। এক মুহূর্তের জন্য ভুলেই গিয়েছিল আহিয়া এখন বিবাহিত। ইশ, কী লজ্জার বিষয়!
আদনান মনে মনে অনুতপ্ত হলো। এই সময় রিদিতার আহিয়ার রুমে আসার কথা না। হয়তো আহাদের সাথে মন-অভিমান এখনো ভাঙেনি। তার জন্যই রিদিতাকে এত বারবার কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আজ আবার এই মান-অভিমান। রিদিতার একটু অস্বস্তি হলো আদনানকে এভাবে চেয়ে থাকতে দেখে। সে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিল। ঠিক তখনই পিছন থেকে আদনানের গম্ভীর স্বর তাকে থামিয়ে দিল,

“রিদিতা!”
রিদিতা থেমে গেল। আদনান ধীর পায়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল। কণ্ঠে অনুশোচনা আর কৃতজ্ঞতা মিলেমিশে,
“তোমাকে ধন্যবাদ জানানোর ছিল।”
উৎকণ্ঠা নিয়ে রিদিতা প্রশ্ন করল, “কেন?”
“এই যে তুমি… আমার আর আহিয়ার বিষয়টা সামলে নিয়েছো। এমনকি আমার পাগল ভাইটাকেও।”
রিদিতা দৃষ্টি সরিয়ে নিল। নিচের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
“এটা আমার দায়িত্ব। তাছাড়া আহিয়া আমার বন্ধু, আমার বোন। আপনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। এতটুকু তো করতেই পারি।”
আদনান একদণ্ড চেয়ে রইল তার নিষ্পাপ মুখটার দিকে। আজ প্রথমবার গভীরভাবে লক্ষ করল, রিদিতার মুখে এক ধরনের কোমল মায়া লুকিয়ে আছে। হয়তো এই কারণেই আহাদ তার জন্য পাগল। একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে আদনান বলল,

“যখন বড় ভাইয়ের চোখেই দেখ, তখন বড় ভাই মনে করে আমার করা সব অন্যায় ক্ষমা করে দিতে পারবে। আমি সত্যিই দুঃখিত। আহিয়াকে পাওয়ার লোভে আমি হিতাহিত বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেদিন যদি আমি তোমার ব্যাপারে ওদেরকে না বলতাম, তাহলে হয়তো তোমার উপর এত বড় আক্রমণ হতো না।”
রিদিতার ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেল।
“আক্রমণ? আপনি কী বলছেন, আমি বুঝতে পারছি না। ওরা কারা?”
“তোমাকে আহাদ বলেনি কিছু?”
রিদিতা ডানে বামে মাথা নাড়ল। আদনান একটু দ্বিধা নিয়ে বলতে শুরু করল,
“আমার মনে হয়েছিল আহাদ তোমাকে সব বলে দিয়েছে। আসলে… নির্বাচনের আগে আহাদকে বাঁচাতে গিয়ে তোমার যে গুলি লেগেছিল। আসলে সেদিন তোমার উপর…”
কথা শেষ করার আগেই বজ্রধ্বনির মতো ভেসে এলো আহাদের কণ্ঠস্বর,

“রিদি!”
দুজনেই চমকে উঠল। মুহূর্তের ভেতর বাতাসটা ভারী হয়ে গেল। আদনান অনিচ্ছাসত্ত্বেও এক পা পিছিয়ে যায়। আহাদ দ্রুত এসে রিদিতাকে নিজের দেহের আড়ালে টেনে আদনানের সামনে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে গেল। চোখে আগুন, কণ্ঠে শীতল কিন্তু ধারালো রুক্ষতা।
“ঘরে যাও, রিদি।”
রিদিতা তখনও স্তব্ধ। কী ঘটছে তার মস্তিষ্ক যেন কিছুই ধরতে পারছে না। আহাদের গলায় এবার গর্জন নামল, ধৈর্যের শেষ সীমা ছুঁয়ে,

“আমি রুমে যেতে বলেছি, রিদি। একবার বললে কথা কানে যায় না?”
আদনান ছিল বলে রিদিতা আর বাড়াবাড়ি করল না।
নিঃশব্দ, বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নিচু করে নিজেদের ঘরের দিকে চলে গেল। তার পায়ের শব্দ মিলিয়ে যেতেই যেন বাঁধ ভাঙল আহাদের। এক ঝটকায় সে আদনানের কলার চেপে ধরল। তার চোখ দুটো জ্বলছে হিংস্র, বেপরোয়া, ঠিক যেন শিকার সামনে পাওয়া বুনো পশু। দাঁতে দাঁত চেপে নিচু, বিষাক্ত স্বরে বলল,
“আমি তোকে বলেছিলাম না, আমার রিদির কাছ থেকে দূরে থাকবি? তোর সাহস হয় কী করে ওর সাথে কথা বলার?”

একটু থেমে আরও নিচু স্বরে যোগ করল,
“আমি তোকে এক বিন্দুও বিশ্বাস করি না, আদনান। নিজের স্বার্থের জন্য তুই আর কতটা নিচে নামবি? আর কত?”
আদনান ঝটকা মেরে আহাদের হাত সরিয়ে দিল। শার্টের কলার ঠিক করতে করতে ঠান্ডা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমি তোকে আগেও বলেছি, এখন আবারও বলছি। সেদিন যেটা করেছি, ভুল করেছি। তার জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি তখন বুঝতে পারিনি।”
আহাদ এক পা এগিয়ে এলো। তর্জনী তুলে চোখে চোখ রেখে বলল, কণ্ঠে জমে থাকা আগুন,
“তুই যেটা করেছিস, সেটা ক্ষমার অযোগ্য। সেদিন যদি ওটা রাবার বুলেট না হয়ে থার্ড বুলেট হতো, তাহলে রিদিতার কী হতো তোর কোনো ধারণা আছে?”
কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে উঠল,

“দুন্দার যদি আমাকে না বলতো, তাহলে আমি জানতেই পারতাম না যে তুই মাতাব্বরের সাথে হাত মিলিয়েছিস। আমাকে ধ্বংস করতে রিদিকেই কেন বেছে নিলি? হ্যাঁ?”
আদনান এবার কণ্ঠ নামিয়ে আনল। শব্দগুলো ছিল স্থির, কিন্তু তার ভেতরের টানাপোড়ন স্পষ্ট,
“তুই ভুল বুঝছিস, আহাদ। আমি মাতাব্বরের সাথে হাত মিলাইনি। মাতাব্বর নিজেই আমার চেম্বারে এসেছিল। কোনোভাবে সে জেনে গেছে আমার আর তোর ছোটবেলা থেকে বনিবনা নেই। সে তোর দুর্বলতা জানতে চেয়েছিল।
যেটা আমারও জানার প্রয়োজন ছিল। আমি তোর আর রিদিতার সম্পর্কটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম। তাই মাতাব্বরকে তোদের ব্যাপারে বলি, শুধু তোর রি-অ্যাকশনটা দেখার জন্য।”
আহাদের চোখ আরও কঠিন হয়ে উঠল। আদনান বলতে লাগল,

“আর আমি শিওর হলাম, তোর জীবনে রিদিতা কতটা প্রভাব ফেলে। আমি তোকে জব্দ করতে চেয়েছিলাম, শুধু আহির জন্য। আমি যদি অপরাধী হই, তুইও এক দিক থেকে সমান অপরাধী। তুই যদি শুরুতেই আহির আর আমার সম্পর্কটা মেনে নিতি, তাহলে আমাকে এসব করতে হতো না।”
আহাদ ঠান্ডা গলায় একটা হুংকার ছাড়ল, দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“খোদার কসম, আদনান। আমি যদি রিদিকে কসম না দিতাম… তাহলে এখন তোর কী হাল করতাম, আমি নিজেও জানি না।”

সেদিন শাহবাগ চত্বরে নির্বাচনের কোলাহল আর ভিড়ের মাঝে আহিয়া আর রিদিতাদের উপস্থিতি মোটেও আকস্মিক ছিল না। সেটা ছিল আদনান আর মাতাব্বরের পূর্বপরিকল্পিত চাল। গুলিটা সেদিন আহাদের জন্য নয়, সরাসরি নিশানা করা হয়েছিল রিদিতাকেই। বেচারি রিদিতা ভেবেছিল, গুলিটা আহাদের দিকে ছোড়া হয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সামনে। হয়তো এই একটুখানি ভুল বোঝাবুঝিই সেদিন তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। আহাদ যখন জানতে পেরেছে, ড্রাইভারও এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তখন সে ড্রাইভারকে এমনভাবে শায়েস্তা করেছে যে সে এখন নিজের ছায়াকেও ভয় পায়। সেদিনই চাকরি থেকে বের করে দিয়ে নতুন ড্রাইভার রেখেছে।

এই ঘটনার কিছুই সে পরিবারের কাউকে জানায়নি। এমনকি রিদিতাকেও না। কারণ সে জানে, সবাই আদনানকে যে সরল, নির্দোষ চোখে দেখে, সেটা ভেঙে গেলে ভয়ংকর তিক্ততা জন্ম নেবে। কষ্ট পাবে। বিশেষ করে চাচি আম্মা আর আহিয়া। তাদের দুজনেরই প্রিয় আদনান। আহাদ সেটা চায় না। সে চায় না কেউ কষ্ট পাক। যদিও তার নিজের কর্মকাণ্ডে সবাই বিরক্ত হয়। কিন্তু আদনান তাদের কাছে আলাদা। সেখানে কোনো আঁচ পড়ুক, সেটা সে কোনোভাবেই চায় না।

তবু সত্যটা সত্যই। আদনান তাকে জব্দ করতে, আর আহিয়াকে পেতেই এই নোংরা খেলায় নেমেছিল। এটা ঘোর অন্যায়। নির্মম অন্যায়। তার সবচেয়ে দুর্বল জায়গায় আঘাত করেছে। আর এই অপরাধের জন্য, আহাদ আদনানকে ক্ষমা করবে না। কখনোই না।
এসব ভাবতে ভাবতে পাহাড়সম রাগ নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকল আহাদ। ঢুকেই থমকে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিদিতা। দুই হাত বুকে ভাঁজ করা, ঠোঁটজোড়া শক্ত করে চেপে ধরা। চোখে স্পষ্ট অভিমান, তবে সেটা আহাদের আগুনসম রাগের তুলনায় কিছুই না। আহাদ এক মুহূর্তও সময় নিল না। ঝট করে তার বাহু শক্ত করে চেপে ধরল। কণ্ঠে রুক্ষতা, সাথে দখলদার অধিকার,

“এই আল্লাহর বান্দি এই! আদনানের সাথে এত কথা কিসের, হ্যাঁ? এত ঘেঁষাঘেঁষি করার সাহস কে দিল তোমাকে? কতবার বলেছি আদনানের আশেপাশে যাবে না! কতবার!”
তার চোখ দুটো সংকীর্ণ করে গর্জে উঠল, রিদিতা নিজের বাহু ঝাঁকিয়ে ছাড়িয়ে নিল। কণ্ঠে জমে থাকা অভিমান ছড়িয়ে পড়ল,
“আদনান আমার বড় ভাইয়ের মতো। ভাসুর হয় আমার।”
আহাদ এক কদম কাছে এসে গলার স্বর নামাল। এই নরম স্বরের আড়ালেই লুকিয়ে থাকল সবচেয়ে ভয়ংকর হুঁশিয়ারি,

“তোমার ভাসুর হোক, আর শ্বশুরই হোক। সবাই তোমার জন্য পরপুরুষ। আমি এই দুইজনের আশেপাশেও যেন তোকে না দেখি। এই কথাটা ভালো করে মাথার ভেতর গেঁথে নে।”
রিদিতার বুকের ভেতর জমে থাকা রাগ আর ক্ষোভ ধরে রাখা গেল না। সে ধপ করে সোফায় বসে পড়ল। চোখ জ্বালা করছে, গলা ধরে আসছে। আহাদ বুঝল, ভীষণ অভিমান করেছে তার প্রেয়সী। কিন্তু তাতেও তার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো উপায় নেই। সে কখনোই তার প্রেয়সীকে অন্য কারোর সাথে ভাগ করবে না। নিজের বাপের সাথেও না। কিছুটা গম্ভীর স্বরে ডাকল,

“এখন আবার গাল ফুলিয়ে বসে আছো কেন? অনেক রাত হয়েছে। এদিকে আসো, আমি ঘুমাব।”
রিদিতা ঝট করে দাঁড়িয়ে পড়ল। কণ্ঠে স্পষ্ট প্রতিবাদ,
“আমি আপনার সাথে ঘুমাব না। আপনি এখানেই থাকেন। আমি আজ আম্মার সাথে ঘুমাব।”
এই কথা বলে সে দরজার দিকে এক পা বাড়াতেই আহাদ বজ্রনিনাদের মতো হুংকার ছাড়ল,

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫১

“এক পা দরজার বাইরে দিয়ে দেখ, জানু! ঠ্যাং ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে দেব। আহ্লাদ পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠে যাচ্ছিস একদম, বজ্জাত বেডি!”
রিদিতা ঠোঁট কামড়ে বাধ্য মেয়ের মতো আবার জায়গায় গিয়ে বসল। ঘরটা নিস্তব্ধ। ভালোবাসা আর দখলদারিত্বের সংঘর্ষে বাতাস ভারী হয়ে রইল।

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৩