দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৩+২৪
আনায়া আফরিন
কেটে গিয়েছে ১ সপ্তাহ।আফরিন,রুদ্ভিকা,অধরা সকলেই প্রায় সুস্থ।আফরিনের গলার ক্ষ*ত শুকিয়েছে কিছুটা।অধরা আর রুদ্ভিকার পা-য়ের কা*টাও অনেকটাই ঠিক হয়ে গিয়েছে।আনায়া ঘা*টা এখনো বেশ কাচা।তবে আনায়া এখানে থাকতে না*রাজ।সে বাড়ি যাবে।আদিল তার এই জে*দের সামনে টিকতে পারেনি।ফারাজ না করেছে তবে আনায়া বাসায় যাবেই।আবার অন্যদিকে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তান-দের জন্য উ*ন্মা*দ হয়ে আছে।ইরফান সাহেব আর মিতালি বেগম তো পুরোই অসুস্থ।মেহেরও বড্ড কান্নাকাটি করে।তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে।এরিক হসপিটালের বিল পরিশোধ করলো।
আদিলও সেখানেই।সকলে বাসায় যাওয়ার জন্য রেডি।আনায়া যদিও এখনও ঠিকমতো বসতে পারেনা।তাকে মুলত কোলে করেই নিতে হবে।আফরিন এরিকের সাথে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।আদিল যেহুতু আনায়াকে নিয়ে যাবে তাই এরিদ বললো সে রুদ্ভিকাকে ড্রপ করে দিয়ে আসবে।আদিল জানে এরিদ বিশস্ত,এখানে উপস্থিত বাকি ৩টা পুরুষের প্রতিই তার অগাধ বিশ্বাস।তাই সে নিশ্চিন্তায় বোনকে এরিদের সাথে পাঠালো।আদিল অধরার থাকার ব্যাপারটা আনায়া বললো অধরা তাদের বাড়ি থাকতে অন্য কোথাও কেন থাকতে যাবে।অধরা তার সাথেই থাকবে।তবে অধরা চায়না অন্যের করুণায় সে বাচুক।তার প্রাণ ভোমরা একটা।সে মুনতাহাকে নিয়ে সম্পুর্ন নিজের উপর নির্ভর করে বাচতে চায়।তাই আনায়া সিদ্ধান্ত নিলে তাদের বাফির দোতলায় না হয় অধরা থাকবে।বন্ধুকে তবুও সে নিজের সঙ্গেই রাখতে চায়।আর আনায়ার কেন জানি মুনতাহাকে বড্ড মনে ধরেছে।তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তাকে আনায়াদের বাড়িতেই নেওয়া হবে।
আনায়ার কেবিনে-
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নার্স আনায়াকে গুছিয়ে দিচ্ছে।ফারাজ বাহিরে অপেক্ষা করছে।নার্স বেরিয়ে যেতেই আদিল জিজ্ঞাসা করলো-
“তুই সিউর এ্যানা তুই বাসায় গিয়ে ঠিক থাকবি?”
আনায়া তার দিকে তাকিয়ে বললো-
“এমা এটা আবার কেমন কথা?বাসায় তোমাদের সাথে থাকলেই আমি সুস্থ হয়ে যাবো পুরোপুরি।তুমি তো জানোই আমি কতো হোমসিক একটা মানুষ।এখানে দমবন্ধ লাগছে তাই বাসায় যাবো আমি!”
আদিল-“তোর ক্ষ*ত এখনো কাচা এ্যানা!”
আনায়া-“যেই ক্ষ*ত বুকে পুষছি তার চেয়ে কাচা না পেটের টা।বুকের ক্ষ*তটা বেশি ব্যাথা করে ভাইয়া!”
আদিল অন্যদিকে তাকিয়ে বললো-
“ক্ষ*ত পুষে রাখছিস কেন বোকা?”
আনায়া-“তোমার মতো ভালোবেসে পুষে রাখছি।আমরা মানুষ,আ*ঘা*ত যেখানে পাই সেই স্থানটা অযত্নে রাখি,আর যে আ*ঘা*ত করে তাকে যত্ন করে ভালোবাসিইইই!”
আদিল হেসে বললো-
“ভালোই কথা শিখেছিস!”
আনায়া-“একটু একটু”
কথা শেষ হলে আদিল আনায়াকে পাজকোলে তুলে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়।ফারাজ বাহিরেই দাড়ানো ছিলো।আনায়া চোখ মুখ খিচে রেখেছে।সে*লা*ই এর জায়গাটায় সামান্য টান লাগছে যদিও আদিল অত্যন্ত সাবধানে আগলে রেখেছে।ফারাজ দেখলো,বুঝলো,বললো-
“বেশি খারাপ লাগছে তোমার!”
আনায়া কেবল “উঁহু” বললো।জিজ্ঞাসা করলো-
“অধরা আর মুনতাহা কোথায়?”
ফারাজ-“ওরা গাড়িতেই বসে আছে।”
আনায়াকে আদিল অধরার সাথে ব্যাকসিটে বসালো।আদিল ড্রাইভিং সিটে বসলো।ফারাজও আদিলের পাশে বসলো।ফারাজকে দেখে আদিল বলে উঠলো-
“তু-তুই বাসায় যাবি না?”
ফারাজ হাসি মুখে বললো-
“তোকে একা রেখে কি করে যাই?”
আদিল গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বললো-
“আমাকে একা রেখে?আমার চিন্তা আবার কবে থেকে করিস তুই?”
ফারাজ মুখ ভেঙচি মেরে বললো-
“তূই কখনো আমার ভালোবাসা বুঝবি না।”
আদিল মজার ছলে বললো-
“ভালোটা কি আমাকে বাসিস?”
ফারাজ থতমত খেলো কেন জানি।আদিলের দিকে না তাকিয়েই বললো-
“হ্যাঁ তুই তো গ*রু এসব বুঝবি না!”
আদিল কিছু বললো না।মুনতাহা গুটিশুটি মেরে অধরার সাথে লেগে বসে ছিলো।আনায়া তাকালো তার দিকে।মুনতাহার দৃষ্টি তার ক্ষ*তের দিকে।আনায়া মুচকি হেসে প্রশ্ন করলো-
“কি হয়েছে পাখিই?কিছু বলবে?”
মুনতাহা মিষ্টি স্বরে বললো-
“তোমার এখানে কাতলো কীবাবে?ব্যাথা কলে বেশি?”
এমন বাচ্চামো উচ্চারণ শুনে আনায়া হাসলো।বললো-
“এইতো দু*ষ্টুমি করতে গিয়ে কেটে গিয়েছে পাখি।”
মুনতাহা গোল গোল চোখ দুটি দিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।আনায়াও তাকিয়ে রইলো।কিছুক্ষণ পর মুনতাহা বললো-
“আর দুত্তুমি করো না।আল্লাহ তোমাকে বালো করে দিবে ফুপ্পি!”
আদিল হঠাৎ করেই দ্রুত গাড়িতে ব্রেক মা*রলো।ফারাজ দ্রুত তার হাত দিয়ে আনায়া সামনের দিকে আসতে নিলে সামলে নিলো।অধরা মুনতাহাকে ধরে নিলো।আদিলের দিকে তাকিয়ে ফারাজ বি*র*ক্তির সুরে বললো-
“রাস্তার মাঝে হঠাৎ এমন ব্রে*ক করার মানে কি?তোর একা পটল তুলতে ইচ্ছে করলে তুই একা ক্ষেতে যে।দিন দুপুরে খোলা রাস্তায় এই শিশু অবস্থায় আমাদের ইচ্ছে নেই ভাই।”
আদিল চোখ উল্টিয়ে বললো-
“তোকে নিয়েই ম*র*বো।”
ফারাজ-আদিল দুজনেই পিছন ফিরে জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছো তোমরা?”
অধরা মাথা নাড়ালো।ফারাজ আনায়াকে পরখ করে বললো-
“ব্যাথা পেয়েছো আনায়া?”
আনায়া-“না আমি ঠিক আছি।”
ভাইয়ের এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ আনায়া বুঝলো বোধহয়।ঠোঁট টিপে হাসলো।অধরাও মুনতাহার আনায়াকে ফুপি সম্মোধনে একটু অবাক হলো।জিজ্ঞাসা করলো-
“আনায়া তোমার ফুপ্পি কবে থেকে হলো?”
মুনতাহা-“রোদ ফুপ্পি বলেছে।”
অধরা-“ওরা তোমার আন্টি হয়,ফুপ্পি না!”
আনায়া-“আহা বলুক ফুপ্পিই বলুক।কী হয়েছে এতে?”
আদিল থতমত খেলো।বে*চারা নিজের বোনদের প্রতি বড্ড অসন্তোষ হলো।কারণ তাদের সকলের ভাই এই একজনই।তো?ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে সে গাড়ি চালানোতে মন দিলো।ফারাজ বন্ধুর এই অবস্থা দেখে ব্যাপারটা বুঝলো।মুনতাহাকে বললো-
“ঠিকই আছে মুনতাহা।তুমি ওদের ফুপ্পিই বলো।ওদের যেই একটা ভাই আছে সে তো কখনো মনে হয়না আর বিয়ে করবো।তাই তুমিই ওদের ফুপি ডাকো।বেচা*রিরে ভাবি না পাক,ফুপি ডাকটার থেকে অত্যন্ত বঞ্চিত না হোক!”
অধরা বোকার মতো জিজ্ঞাসা করলো-
“কেন আদিল ভাই কি চিরকুমার থাকবে নাকি?”
আদিল অবলীলায় জবাব দিলো-
“এই জনমে থাকতেই হবে।”
অধরা চুপ করে রইলো।আদিল ফারাজকে চোখ রা*ঙানি দিলো।ফারাজ যেনো দেখলোই না।আনায়া জানে তার ভাই এই জন্ম কুমার হয়েই কাটাবে।তবে সে ভীষণ করে চায়,কেউ আসুক,তার ভাইকে ভালোবাসুক,তার ভাই আবার সুযোগ দেক কিন্তু জানে না আদৌ এটা সম্ভব নাকি!পাশের রমণীর দিকে তাকালে মনে হয় সম্ভব তবে কোথাও না কোথাও ধর্মের দেওয়াল টা এসে বাধা পড়ে।
রুদ্ভিকা জানালার কাচ দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে।২০ মিনিট ধরে এই রাস্তায় বসে।এরিদ যতোবার আসে এই রাস্তা দিয়েই আসে।সকলে জানে এই রাস্তায় সর্বদা জ্যাম থাকে।তাও এরিদ এই রাস্তা দিয়েই আসে।রুদ্ভিকার একটু রাগ লাগছে আবার কোথাও না কোথাও ভালো লাগছে।এরিদ রুদ্ভিকা কে জিজ্ঞাসা করলো-
“কোন সমস্যা হচ্ছে?খারাপ লাগছে তোমার?”
রুদ্ভিকা-“না!”
এরিদ-“কিছু খাবে?”
রুদ্ভিকা-“উঁহু”
এরিদ লক্ষ করলো রুদ্ভিকার দৃষ্টি তাদের গাড়ি থেকে একটু দুরেই একটা আইসক্রিম স্টলের উপর।এরিদ জিজ্ঞাসা করলো-
“তোমার কোন ফ্লেভারের আইসক্রিম পছন্দ?”
রুদ্ভিকা-“নির্দিষ্ট কোন ফ্লেভার পছন্দ নয়।হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
এরিদ-“তুমি একটু বসো।আমি আসছি।”
এরিদ গাড়ি ভিতর থেকে লক করে দিয়ে গেলো।এরিদ যেতেই রুদ্ভিকা সামনের দিকে ঝুকে মাথা কাত করে রাখলো।কিছুক্ষণ পর এরিদ এসে গাড়িতে বসতেই রুদ্ভিকা মাথা তুলে তাকালো।হা করে রইলো সে।এরিদের হাতে ৮ ফ্লেভারের ৮ টা আইসক্রিম।এরিদ রুদ্ভিকার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো-
“সেখানে এই ৮টা ফ্লেভারই ছিলো।তোমার যেটা ভালো লাগে খাও!”
রুদ্ভিকা অবাক হলো।আমতাআমতা করে বললো-
“এতোগুলা আইসক্রিমের দরকার ছিলো না।এতো গুলো কি করে খাবো আমি?”
এরিদ মুচকি হেসে বললো-
“এই জ্যাম ছুটতে ছুটতে খেতে থাকো।”
রুদ্ভিকা একটা এরিদের দিকে এগিয়ে দিলো।এরিদ নিলো আইসক্রিম টা।রুদ্ভিকা একটু লজ্জা পেলো।বলে উঠলো-
“দরকার কি ছিলো এতো টাকা ন*ষ্ট করার?”
এরিদ মুচকি হেসে আস্তে করে বললো-
“তুমি চাইলে পুরো দোকানটাই তোমার।সেখানে সামান্য এই ৮টা কিছুই না!”
রুদ্ভিকা-“কিছু বললেন?”
এরিদ-“তোমাকে প্রতিবার এই জ্যামে এনে বসিয়ে রেখে যেই দুঃখ দেই তার তুলনার ৮টা আইসক্রিম কিছুই না!”
রুদ্ভিকা-“আচ্ছা আপনি এই রাস্তা দিয়ে প্রতিবার আসেন কেন?জানেনই তো এখানে যে জ্যাম থাকে?”
এরিদ-“বাকি রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা।এটা মেইন রোড।তাই এটা দিয়ে আসতেই ভালো লাগে।”
রুদ্ভিকা-“আফরিনের কাছে শুনেছি আপনার জ্যাম পছন্দ না।জ্যাম ছাড়া যেকোনো রাস্তা দিয়েই আপনি যেতে প্রস্তুত!”
এরিদ-“নিয়মটা সবার জন্য না।একজনের জন্য ব্যতিক্রম।”
রুদ্ভিকা ভ্রু কুচকে ফেললো।তার মনে পড়লো আফরিনের বলা কথাটা।এরিদের মনের মানুষের কথা।এরিদ মনে হয় সেই মানুষটার কথাই এখন বললো।কেন জানি তার মন খারাপ হলো।অথচ বোকা রুদ্ভিকা বুঝতেই পারলো না এরিদের সেই একজনটা রুদ্ভিকা নিজেই।এরিদ যতোক্ষণ জ্যাম ছিলো ততোক্ষণ রুদ্ভিকাকেও দেখে গেলো।রুদ্ভিকা অন্যমনস্ক হয়ে আইসক্রিম খাওয়াতেই ব্যস্ত রইলো!
এরিক বাসার সামনে নামতেই দেখলো তার রাজনন্দিনী দাড়িয়ে আছে ইউহান ভিলার মেইন দরজার সামনে।আফরিন আস্তে আস্তে গাড়ি থেজে নামতেই মেহের দিক-বেদিক ভুলে ছুটে এলো।আফরিন ভাবিকে দেখে জড়িয়ে ধরলো।মেহের আলতো করে আফরিনের কপালে চু*মু দিলো।যত্ন নিয়ে হাতটা ধরলো।জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছো আফরিন?জানো তুমি এই দুই সপ্তাহ কেমন কেটেছে আমার?কী অনুভব করেছি আমি?”
আফরিন ভাবির হাত ধরেই বললো-
“আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি।আমার এতোদিনে যত্নের অভাব না হলেও মমতার বড্ড অভাব ছিলো।”
মেহের সতর্ক গলায় বললো-
“আর ছাড়ছি না একা তোমায়,তোমাদের।”
আফরিন-“চলো ভিতরে যাই!”
এরিক পিছন থেকে বললো-
“আমার খবর কেউই নিলো না।আমি বুঝি কারো কিছু না!”
মেহের এগিয়ে গেলো তার দিকে।ঠোঁট গুলো কাপছে তার।
“আপনার কী অবস্থা করেছেন?চুল আর মুখের কী অবস্থা?বেশি কষ্ট হয়েছে?আমাকে হসপিটাল নিয়ে যেতেন।চলুন ভিতরে।”
এরিক-“একই প্রশ্ন আমার।কী করেছেন নিজের?আমি তো রাজনন্দিনীকে রেখে গিয়েছিলাম। এতো দেখি বি*ধ্ব*স্ত মেহের।”
মেহের-“আপনাদের অভাবে এমন হয়ে গিয়েছি।এখন ঠিক হয়ে যাবো।”
এরিক-“আমিই ঠিক করে নিবো।”
তিনজন ভিতরে প্রবেশ করলো।রহিমা খালা দ্রুত আসলেন।চোখে জল ভরে গিয়েছে তার।মিতু দৌড়ে এসে ঝাপটে ধরে আফরিনকে।আফরিনও আগলে নেয়।রহিমা খালা তো কেদেই ফেললেন।সেই তো সামলেছিলো বেশি এই মেয়েটাকে।মিতুর মতো করেই সে যে বড্ড ভালোবাসে আফরিনকে।রহিমা খালা আর মিতু আফরিনকে তার রুমে নিয়ে গেলো।এরিক ফ্রেশ হতে গিয়েছে।মেহের খাবার গরম করে আফরিনকে খাইয়ে দিলো।অতঃপর এরিকের জন্য খাবার নিয়ে আসলো।এরিক সবে মাত্র ফ্রেশ হয়ে এসেছে।রাত প্রায় দশটা।এরিক আর মেহের দুইজন একসাথেই খেলো।খাওয়া শেষ করে মেহের প্লেটগুলো কিচেনে রেখে এসে দেখলো এরিক বারান্দায় বসে আছে।সেও গেলো।এরিক না তাকিয়েই অনুভব করলো এটা যে মেহের।মেহের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো-
“এই শীতে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন যে?”
এরিক-“বহুদিন পর সব ঠিক লাগছে!”
মেহের-“বেঠিক করার পেছনে যারা ছিলো তাদের ব্যবস্থা হয়েছে কোনো?”
এরিক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো-
“চ্যা*লাদের ধরেছে তবে মুল ধরতে পারেনি।”
মেহের-“ওহ আচ্ছা!”
এরিক মেহেরের দিকে তাকালো।হালকা পিংক রঙের একটা থ্রি-পিস পড়েছে সে।মাথায় খোপা গাথা।কিছু ছোট চুল সামনে এসে গিয়েছে।এরিকের কাছে মনে হচ্ছে সে আজীবন এদিকে তাকিয়েই থাকবে।মেহের এরিকের তাকানো অনুভব করতেই বলে উঠলো-
“কিছু বলবেন?”
এরিক-“আমি তোমার কী হই?”
মেহের নির্দ্বিধায় বলে ফেললো-
“শুদ্ধ পুরুষ!”
এরিক স্তব্ধ হয়ে গেলো।এই প্রথম মেহের তাকে এই সম্মোধনটা করলো।মুচকি হেসে তাকিয়ে রইলো মেহেরের দিকে।মেহের আবার জিজ্ঞাসা করলো-
“আর কিছু বলবেন?”
এরিক-“একটা গানের কিছু অংশ গাইতে ইচ্ছে করছে।”
মেহের-“তাহলে অপেক্ষা কীসের,জলদি গেয়ে ফেলুন।আমি শুনবো”
এরিক এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো-
“চলো বলে ফেলি,কিছু কথা কলি,
জন্মেছে বলতে তোমায়!”
“তোমাকে চাই”
মেহেরের এতোটুকু শুনেই লজ্জায় গাল দুটো লা*ল হয়ে গেলো।মেয়েটা ভাষা হা*রিয়ে ফেলেছে।রুমের দিকে যেতে যেতে বলে উঠলো-
“ভিতরে আসুন।বাহিরে ঠান্ডা।”
এরিক মেহেরের লাজরাঙা মুখটা দেখে বেশ মজা পেলো।এসে জিজ্ঞাসা করলো-
“পুরোটা শুনলে না?আমার গানের গলা এতো খারাপ বুঝি?”
মেহের-“উঁহু একদমই না।আপনার গানের গলা খুব ভালো।ডাক্তার না হয়ে গায়ক হতেন!”
এরিক-“তুমি আমার জীবনে আগে এসে এই পরামর্শটা দিতে।এটাই মানতাম আমি!”
মেহের চুপ হয়ে গেলো।”আগে” শব্দটা বুকে লাগলো।আগে সে কী করে আসতো?সে কী কখনো কল্পনা করেছিলো যে তার প্রেমিক সে তার স্বামী হবে না বরং তার বন্ধু হবে।ভাবেনি তো সে।মাথায়-ই আনেনি সেই প্রেমিক ছাড়া অন্য কাউকে!
শীতের রাত।চারদিকে ঠান্ডা আবহাওয়া।স্তব্ধ পরিবেশ।ঘড়ির কাটার টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে।ফারাজ সবেমাত্র বাসায় ফিরেছে।নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই শান্ত গলায় একজন বললো-
“অবশেষে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করেছে?বেশ ভালোই বড় হয়েছিস?”
ফারাজ তেমন একটা পাত্তা দিলো না কথাটার।এড়িয়ে যেতে নিলেই ডাইনিং রুমে বসে থাকা নারীটি নিজের বইটি টেবিলের পাশে রেখে ডেকে উঠলো-
“আম্মু,আম্মু!”
মেয়েটির ডাক শুধু শুনে একজন ভদ্রমহিলা একটি রুম থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বললেন-
“কী হয়েছে?”
ফারিয়া রাগান্বিত স্বরে বললো-
“অবশেষে তোমার আদরের পুত্র বাড়ি ফিরেছে।তার যে একটা পরিবার আছে,বাড়ি আছে তা মনে পড়েছে!”
আফসানা বেগম ছেলেকে দেখে দ্রুত ছেলের কাছে গেলেন।চিন্তিত গলায় প্রশ্ন করলেন-
“বাবা ঠিক আছিস তুই?”
ফারাজ নিজের সকল ক্লান্তিকে দূরে রেখে বললো-
“আমি ঠিক আছি মা।”
আফসানা বেগম অভিমানী সুরে বললেন-
“মায়ের যে চিন্তা হয় বাবা।দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর বাড়ি ফিরেছিস।সব ঠিক আছে তো?মেয়েগুলো কেমন আছে?”
ফারাজ-“সব ঠিক আছে মা।সবাইকে সবার বাসায় পৌছে দেওয়া হয়েছে।তুমি তো জানোই আমি হসপিটাল ছিলাম এতোদিন!”
আফসানা বেগম স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন।বললেন-
“বাবা ফ্রেশ হয়ে আয় তুই,আমি খাবার দেই।শুকিয়ে গিয়েছিস তুই!”
মায়ের এহেন ভাব দেখে ফারিহা আরো রেগে গেলো।কর্কশ গলায় বললো-
“মা ও এতো বড় হয়নি যে সব ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে থাকবে?বাবার ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছে তা ১ মাসও ঠিকমতো পালন করেনি।”
ফারাজ এবার রেগে গেলো।সে বি*র*ক্তির সুরে বললো-
“আমি কখনোই ব্যবসা সামলাতে চাইনি।আমার স্বপ্ন অন্য কিছু ছিলো।”
ফারিয়াও বি*র*ক্তি সুরে বললো-
“সেসবে ভবিষ্যৎ হয় নাকি?সেগুলো আবেগ।”
ফারাজ-“আমি কোন কিশোর নই ফারিহা যে আবেগে চলবো।২৯ বছর আমার এমনিই হয়নি।”
ফারিয়া-“তাহলে বাড়ি ফিরে আসার প্রয়োজন বোধ করিসনি যে?”
ফারাজ-“আমি কখন কি করবো তা অন্তত তোর থেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে না আমার।”
ফারিয়া-“তাহলে কি ঘুরে ফিরেই খাবি?”
ফারাজ-“তুই কি স্বামীর বাড়ি না গিয়ে এই বাড়িতেই খাচ্ছিস কিছু বলেছি কখনো?”
ফারিয়া-“বলার অধিকার আছে?নিজের টাকায় খাচ্ছি”
ফারাজ-“আমিও নিজের টাকায় ঘুরছি।তোর মতো এই বাড়িতেই বসে রইনি!”
ফারিয়ার মুখ রা*গে লাল হয়ে গেলো।আফসানা বেগম অবস্থা খারাপ দেখে বললেন-
“ফারাজ যা বাবা রেডি হ।আর ফারিয়া বস তুই।ছেলেটা বাহির থেকে এসেছে।থাম তুই।”
ফারিয়া বইটা সোফায় ফেলে নিজের রুমে চলে গেলো।ফারাজও পা বাড়ালো নিজের রুমের দিকে।ফারিয়া ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বিছানায় বসলো।তার কি রাগ লাগছে?সবাই জানে রাগ অথচ ফারিয়ার কষ্ট লাগছে।ফারিয়া ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ের থেকে একটা ছোট্ট বক্স বের করলো।সেখানে একটা ক্লিপ,একটা র/ক্তা/ক্ত রুমাল,একটা শুকনো জবা!ফারিয়া রুমালটা হাতে নিলো।তার বুক ভার হয়ে আসছে।চোখ দিয়ে আর পানি পড়ে না তার।গত ৮ বছরে মেয়েটার সব পানি শুকিয়ে গিয়েছে।প্রিয় মানুষটার মৃ/ত্যু/র পর ফারিয়া পারেনি আর কাউকে জায়গা দিতে মনে।নিজের রাস্তা নিজে বেছে নিয়েছে।বয়স আর কদিন পর ৩১ পেরিয়ে যাবে।অথচ ৮ বছরের আর পুরনো প্রেমিক ইরহামকে নিয়েই ফারিয়া আটকে আছে।পারেনি দূরে সরতে।সব জায়গায় ফারিয়ার বিবেক কাজ করলেও ইরহামের বেলায় ফারিয়া কিশোরীই থেকে যায়।ইরহাম মা*রা গিয়েছে বাইক এ/ক্সি/ডে/ন্টে!তারপর ফারিয়া পেয়েছিলো এই র/ক্তা/ক্ত রুমালটা।ফারাজই এনে দিয়েছিলো এটা।স্মৃতিচারণ করতে করতে যখন বেশ খানিকটা সময় কেটে গেলো তখন আওয়াজ পেলো দরজায় টোকা দেওয়ার।ফারিয়া কিছুক্ষণ সময় নিলো।অত:পর দরজা খুললো।বিছানায় সেগুলো সেভাবেই পড়ে আছে।ফারাজের মাথার চুল থেকে জল পড়ছে।হয়তো গোসল করেছে।ফারিয়া কিছু বললো না।চুপচাপ বিছানায় এসে বসলো।ফারাজ জানতো এই বক্সটা সে দেখতে পারবে।বোনকে বললো-
“খেতে আয়”
ফারিয়া তার দিকে।না তাকিয়েই বললো-
“যা তুই”
ফারাজ বক্সটার ভিতর রুমালটা রেখে সেটা জায়গা মতো রাখলো।আবারও বললো-
“খেতে আয় ফারু”
ফারিয়া কর্কশ গলায় বলে উঠলো-
“আ/ঘা/ত-ই করিস কেন আর আহ্লাদই করিস কেন?”
ফারাজ-“তুই যখন যেটার প্রাপ্য সেটাই করি”
ফারিয়া বুঝলো কথা বললে কথা বাড়বে।তাই চুপ রইলো!
কেটে গিয়েছে কয়েকদিন।ইউহান ভিলা এখন আগের মতো স্বাভাবিক।আফরিন সুস্থ।সকলেই সুস্থ।আনায়া পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।মেহের আর আফরিন তাকে দেখতে যাবে আজ।এরিদ বসে আছে লিভিং রুমে।আফরিন রেডি হয়ে এসে ভাইয়ের পাশে বসলো।তার মধ্যে এখন আগের চঞ্চল ভাবটা নেই।পুরোই শান্ত সে।এরিদ-এরিক ভেবেছে হয়তো ঘটনার জন্য।তারা আফরিনকে এটা ভুলে।যেতে বলেছে।কিন্তু তারা তো জানে না আফরিনের দুঃখটা আসলে কোথায়।ভাইয়ের পাশে চুপ করে বসে রইলো আফরিন।
অন্যদিকে,
মেহের একটা মেরুন কালার থ্রি-পিস বের করেছে।এরিক মেহেরের সাথে মিলিয়ে একটা মেরুন রঙের শার্ট পড়েছে।এরিক বিছানায় বসে ঘড়ি পড়ছিলো।এ সময় মেহের গোসল সেরে বেরিয়ে এলো।লম্বা ঘন চুলগুলো থেকে টিপটিপ করে পানি পড়ছে।এরিকের চোখ আটকালো,হৃদয় থমকালো।মেহের এরিকের দিকে তাকিয়ে বললো-
“কি হয়েছে?”
এরিক অপলক চেয়ে থেকেই বললো-
“সর্বনাশের শেষ প্রান্তে দাড় করিয়ে বলছো কি হয়েছে?আমার অবস্থা দেখো!”
মেহের থতমত খেলো।সে কিছুই বুঝলো না।এরিক উঠলো।ধীরে ধীরে মেহেরের কাছে এগিয়ে আসলো।মেহেরের এবার লজ্জা লাগলো বড্ড।সে একটু পিছিয়ে গেলো।এরিক সামনে এসে আলতো করে মেহেরের সামনে আসা চুলগুলো কানের নিচে গুজে দিলো।মেহেরের চোখে তাকিয়ে বললো-
“তোমাকে বড্ড সুন্দর লাগছে রাজনন্দিনী।আমার হৃদয়ের বি/না/শ ঘটবে তোমার রুপের তাপে”
মেহেরের কান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে বোধহয়।সে আস্তে করে বলে উঠলো-
“ঠিক আছে আপনি?”
এরিক একটু পিছু সরলো।বললো-
“তুমি যেমন রেখেছো আমি তেমনই আছি”
মেহের এই প্রথম এরিকের নীলকান্ত মণির দিকে তাকালো।তার কাছে মনে হলো এখানে এক সমুদ্র আছে।যেই সমুদ্র কেবল তার।এই সমুদ্রে সে কখনো হারিয়ে যাবে না।দুইজনের এই চোখাচোখি দীর্ঘসময় ধরে চললো।এরিক বলে উঠলো-
“রেডি হয়ে নিন।দেরি হয়ে যাবে আমাদের রাজনন্দিনী”
মেহের হেসে দিলো।এরিক তাকিয়ে রইলো।মেয়েটাকে কি মিষ্টি লাগে।কোন খুত নেই মেয়েয়ার ভিতরে।এরিক বললো-
“হাসলে তোমাকে সুন্দর লাগে।”
মেহেরের হাসিটা বৃদ্ধি পেলো।এরিক ভ্রু কুচকালো।জিজ্ঞেস করলো-
“কি হয়েছে রাজনন্দিনী?”
মেহের এবার মুচকি হেসে বললো-
“আপনার এই তুমি-আপনার সংমিশ্রণটায় আমার বড্ড হাসি পায়।”
এরিক এবার বুঝলো মেহেরের হাসির কারণ।সে হালকা হেসে বললো-
“সবসময় এক ডাকে বোরিং হয়ে যাবে বুঝলে।তাই আলাদা আলাদা ডাকি”
মেহের-“আমি কখনোই আপনার কিছুতে বোরিং হবো না শুদ্ধ পুরুষ!”
এরিক মেহেরের দিকে তাকালো।মেহের চোখ সরিয়ে নিলো।আফরিনের রুমের দিকে চলে গেলো।এরিক দাড়িয়ে রইলো।মেহের যেতেই তার যাওয়ার পানে চেয়ে বলে উঠলো-
“কবে আমায় ভালোবাসবেন রাজনন্দিনী?আমি যে তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো অপেক্ষা করছি আপনার ভালোবাসার পাওয়ার জন্য”
ইরফান সাহেব বসে আছেন তার রুমের বারান্দায়।গায়ে শাল জড়ানো।হাতে চায়ের কাপ।সময়টা দুপুর।তার আবার বেলা-অবেলায় চা খাওয়ার অভ্যাস।আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন।মানুষটা বড্ড মেয়ে পা*গ*ল।আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একা বলে উঠলো-
“অনু মা।তোর আগের ব্যক্তিত্বটা হারিয়ে গিয়েছে।এতো শান্ত হয়ে গেলি তুই?বড় হয়ে গিয়েছিস বাবা।”
হঠাৎ করেই শব্দ পেলো রুম থেকে।হয়তো কেউ এসেছে।আনায়া এসেছে।সবিতা বেগম মেয়েকে ধরে এনেছেন।আনায়া এসে বাবার সামনে রাখা চেয়ারটাতে বসলো।ইরফান সাহেব নিজের গায়ের শালটা খুলে মেয়ের গায়ে জড়িয়ে দিলেন।আনায়া মুচকি হাসলো।বললো-
“আব্বু গায়ে সোয়েটার আছে তো?ঠাণ্ডা বাতাস বইছে নেও তুমি এটা!”
ইরফান সাহেব মুচকি হেসে বললেন-
“রোদও আছে মা।তুই বোস।আমি রোদ পোহাবো।”
সবিতা বেগম মেয়ের জন্য চা নিয়ে এলেন।আনায়া চা টা হাতে নিলো।ইরফান সাহেব আদুরে গলায় বললেন-
“ঠিক আছিস মা?শরীরটা কি বেশি খারাপ লাগে?”
আনায়া চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললো-
“না আব্বু।ঠিক আছি আমি।একটু জ্বলে তবে আগের থেকে সুস্থ আছি!”
ইরফান সাহেব বিষন্ন গলায় বললো-
“বাবা তোর খেয়াল রাখতে পারছি না মা ঠিকমতো।”
আনায়া-“আব্বু দো*ষ আমার ছিলো।বাদ দেও সে কাহিনি।বেচে আছি এই তো অনেক!”
ইরফান সাহেব বললেন-
“আমার অবশিষ্ট আয়ুটুকুও তোর হোক।”
আনায়া মুচকি হাসলো।বাবা-মেয়ে জমিয়ে গল্প করলো।বিকেল হয়ে গেলো।আদিলের আওয়াজ শুনতে পেলো তারা।আদিল বারান্দায় এসে তাদের দেখলো।ইরফান সাহেন জিজ্ঞাসা করলেন-
“আজ এতো তাড়াতাড়ি এসে পড়লে যে?”
আদিল-“বাসায় এরিক,ফারাজ ওরা আসছে আনায়াকে দেখতে।মামা-মামি আসবে তাই দ্রুত এসে পড়লাম”
ইরফান-“ভালোই করেছো”
আনায়া বললো-
“ভাইয়া আম্মুকে একটু ডাক দেও তো আমি আমার রুমে যাবো”
ইরফান সাহেব আদেশের সুরে বললেন-
“না না মা দরকার নেই এই অবস্থায় সে ফ্ল্যাটে যাওয়ার।তুমি তোমার মায়ের রুমে যাও এখন।”
আনায়া-“আব্বু আমি এখন ঠিক আছি।চিন্তা করো না তো”
মেয়েকে বারণ করলেও মেয়ের জে*দের কাছে হার মানলেন।আদিল নিজেই বোনকে তার রুমে নিয়ে গেলো।আনায়াকে বিছানায় বসালো।আদিল বললো মা-কে পাঠয়ে দিচ্ছে।আনায়া বলে উঠলো-
“ভাইয়া মুনতাহাকে একটু এবে দিবে দোতলার থেকে”
আদিল-“তুই অধরাকে ফোন দিয়ে বল ওকে নিয়ে আসতে।অধরা তো আজ বাসায়-ই আছে বোধহয়।”
আনায়া-“তোমার যেতে সমস্যা কী?”
আদিল-“রেডি হয়ে যাবো আমি।মুনতাহা বোধহয় ঘুমাচ্ছে এখনো”
আনায়া-“ও প্রতিদিন দুপুরে ঘুমায়না ভাইয়া”
আদিল-“ওহ্”
আনায়া-“ভাইয়া”
আদিল-“বল”
আনায়া-“বিয়ে করবে-”
আদিল-“জানি না”
আনায়ার প্রশ্ন আদিল জানতো আর আদিলের উত্তরও আনায়া জানতো।শত বার এটা আনায়া জিজ্ঞাসা করেছে।তাই দুইজনেরই মুখস্থ।আনায়া এবার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই আদিল বললো-
“তুই ভালো করেই জানিস”
আনায়া-“জীবনকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেও!”
আদিল-“ইচ্ছে নেই”
আনায়া-“কেন?”
আদিল-“তুই দে”
আনায়া কি বলবে খুজে পেলো না।
আদিল বললো-
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২১+২২
“সবাই পারেনা জীবনকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিতে।কিছু কিছু মানুষ এক জায়গাতেই থেমে যায়।দ্বিতীয়বার ভালোবাসা ভুল নয়,তবে সহজও নয়।আর পেয়ে হারিয়ে ফেললে কথাই নেই।”
আনায়া আর কিছু বললো না।আদিল চলে গেলো।আনায়ার মনে পড়লো সে তো পায়নি। তবে তার এতো কষ্ট লাগে কেন?কোনটার যন্ত্রণা বেশি?পেয়ে হারানোর নাকি না পাওয়ার?
