তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৩
নওরিন মুনতাহা হিয়া
_ সমগ্র কলেজের ছাএ ছাএীর দৃষ্টি এখন ফারহান আর মেঘের উপর সীমাবদ্ধ। হাঁটু গেঁড়ে মাটিতে বসে হাতে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে ফারহান। সবাই আগ্রহ নিয়ে মেঘের উত্তর শুনার অপেক্ষা করছে! কিন্তু মেঘ খুব শান্ত তার চোখে _ মুখে খুশির ঝলক দেখা যায় না বরং ফুটে উঠে একরাশ বিরক্ত আর বিস্ময়। মেঘ স্বপ্নে ও কখন কল্পনা করেনি ফারহান তাকে এমন করে প্রপোজ করবে! ফারহান কাছে নুন্যতম ম্যাচিউরিটি বোধ আশা করেছিল মেঘ। কিন্তু ফারহান কি করল?মেঘ এখন কি করবে? কলেজের সকলের এমন উৎসুক দৃষ্টি দেখে মেঘের অস্বস্তি আর বৃদ্ধি পায়! তার কণ্ঠ দিয়ে কোন শব্দ উচ্চারিণত হচ্ছে না।
অনুষ্ঠান থেকে বেশ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল আদ্রিয়ান। কিন্তু হঠাৎ ফারহানের মেঘকে প্রপোজ করা দেখে সে অবাক হয়! মেঘ যখন চাই না তাদের বিয়ের কথা ফারহান জানুক তাই আদ্রিয়ান চুপচাপ ছিল। কিন্তু এখন ফারহানের সাহস কি করে হয় মেঘকে প্রপোজ করার? মেঘ এখন ও আদ্রিয়ানের বউ তার বিবাহিত স্ত্রী! আর অনুষ্ঠানে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ফারহান তার স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে! রাগে শরীর জ্বলে উঠল আদ্রিয়ানের হাত মুষ্টিবদ্ধ করার পর ও রাগ সংযত করতে পারল না। দাঁত কটমট করে বড় বড় পা ফেলে ফারহানের দিকে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ান। আজ ফারহান চৌধুরীকে খুন করবে সে!
হঠাৎ অপর পাশ থেকে আসা এক ব্যক্তির আগমনে আদ্রিয়ান থমকে যায়! অবিশ্বাস্য চোখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকায়। কলেজের গেইট দিয়ে সাদা গাউন পরিধান করে এগিয়ে আসছে এক অল্প বয়সী যুবতি। আদ্রিয়ান অস্পষ্ট স্বরে বিস্ময়ের সহিত বলে উঠে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“জিয়া?”
হাস্যজ্জ্বল চেহারা নিয়ে দ্রুত হেঁটে এগিয়ে আসছে জিয়! তার পড়নে সাদা গাউন আর কালো টপস বেশ পরিপাটি করে সাজসজ্জা তার। আদ্রিয়ান জিয়ার রূপে মুগ্ধ হয়ে যায়নি বরং তার ভয়ে তটস্থ হয়ে যায়! একই সাথে তার ভীষণ রাগ হয় জিয়ার প্রতি! এই বেহায়া‚ নির্লজ্জ মেঘে! কেন তার পিছু ছাড়ে! আদ্রিয়ান বিশ্রি কয়েকটা গালি দেয় জিয়াকে! কিন্তু এখন যদি আদ্রিয়ান ফারহানকে গিয়ে মারধর করে বা কলেজের সকলের সামনে মেঘ তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়। তখন জিয়া যদি শুনে নেয় তখন? জিয়া ঠিক কতটা সাইকো আর তার জন্য উন্মাদ তা আদ্রিয়ান জানে! যদি রাগে‚ জিদে মেঘের কোন ক্ষতি করে দেয় তখন? না‚ আদ্রিয়ান মেঘের কোন ক্ষতি করতে পারবে না!
চোখে মুখে ফুটে উঠা আদ্রিয়ানের রাগ শান্ত হয়ে যায়। তার এখন কিছুই করার নাই! জিয়ার থেকে মেঘের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে হবে তার! যদি একবার জিয়া জানতে পারে মেঘই আদ্রিয়ানের স্ত্রী তবে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মেঘকে খুন করতে ও দ্বিধা বোধ করবে না! তাছাড়া আদ্রিয়ান চাই মেঘ নিজ মুখে ফারহানের প্রপোজ রিজেক্ট করে দিক!
আদ্রিয়ান মাথা উঁচু করে মেঘের দিকে তাকায়! মেঘ শান্ত আর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘকে এমন চুপচাপ থাকতে দেখে আদ্রিয়ানের সন্দেহ হয়। মেঘ এখন ও ফারহানকে রিজেক্ট করছে না কেন? এতো সময় ধরে কি ভাবছে মেঘ? তবে কি ফারহানের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাবে মেঘ? কিন্তু মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে না! মেঘ আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে ‚ তার স্বামীকে। আদ্রিয়ান জানে তার মেঘ কখণ এই প্রস্তাবে রাজি হবে না। অসম্ভব। আদ্রিয়ানের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে তার মেঘের উপর‚ মেঘ অবশ্যই না করে দিবে ফারহানকে।
শত শত জন মানবের ভিড়ে মেঘের চোখ থমকে যায় আদ্রিয়ানের উপর। ওই দুই জোড়ায় তার দৃষ্টি আটকে যায়! উভয়ই চোখ মিলিত হয় ‚ মেঘের কণ্ঠ “না” শব্দটা শুনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আদ্রিয়ান। কিন্তু মেঘের চোখে মুখে ভয় ফুটে উঠে কপালে মৃদু মৃদু ঘাম জমা হয়। বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে হাঁটু গেঁড়ে বসে মেঘের উত্তর শুনার অপেক্ষা করছে ফারহান।কিন্তু মেঘ চুপচাপ! মেঘ ভীত নয়নে একবার কলেজ গাউনে উপস্থিত সকল ছাএ ছাএীর দিকে তাকায়। আবার ‚ ফারহান আর আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়!
প্রায় পাঁচ মিনিট পর সকল অপেক্ষা অবসান ঘটিয়ে। কাঁপা কাঁপা হাতে ফারহানের থেকে ফুল নেয় মেঘ। কিন্তু কণ্ঠ দিয়ে কোন উত্তর প্রদান করে না! মেঘ ফারহানের হাত থেকে ফুল নিয়েছে তার প্রপোজাল একসেপ্ট করেছে! মানে মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে! ফারহানের মুখে প্রাপ্তির হাসি ফুটে উঠে। মেঘের সম্মতি পেয়ে দ্রুত ফারহার নিচ থেকে উপরে উঠে দাঁড়ায় ‚ এরপর খুশিতে আত্মাহারা হয়ে তার নিকটে থাকা মেঘকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কলেজ গাউনে উপস্থিত সকলে হাততালি দিয়ে উঠল ‚ ফারহার উচ্চ স্বরে বলে উঠল
“মেঘ‚ তুমি আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছ? মানে তুমি ও আমাকে ভালোবাসো! বিশ্বাস কর মেঘ ‚ আমি আজ অনেক খুশি! আই লাভ ইউ মেঘ। আই রিয়েলি লাভ ইউ।”
ফারহানের কথা মেঘের কানে পৌঁছায় তার। ফারহানের মুখে ভালোবাসি শব্দটা শুনে ও তার মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি! ফারহান মেঘের কাঁধ জড়িয়ে তার হাতের শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ করল মেঘকে। মেঘের দুই চোখ জুড়া দূরে থাকা আদ্রিয়ানের চেহারার উপর নজর ভুলায়।
দূরে থাকা মেঘ আর ফারহানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে আদ্রিয়ান এক পা পিছিয়ে যায়। তার শরীরে থাকা সমস্ত শক্তি হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে যায়! দুই চোখে অশ্রু কণা জমা হয় ‚ হয়ত কয়েক ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে! অবশেষে মেঘ তার জীবন থেকে হারিয়ে গেল। সারা জীবনের জন্য! মেঘ এখন অন্য একজনকে ভালোবাসে! তার হবু বউ হল মেঘ! কিন্তু আদ্রিয়ানকে কেন ভালোবাসল না মেঘ? কারণ আদ্রিয়ান নয় বছর ধরে নিজের স্ত্রীকে অবহেলা করেছে ‚ তাকে ঘৃণা করেছে‚ অসম্মান করেছে! তার শাস্তি স্বরূপ এইটুকু শাস্তি আদ্রিয়ানের প্রাপ্য ছিল!
সকল শাস্তি পেতে আদ্রিয়ান প্রস্তুত। তার মেঘ চাই তাকে কষ্ট দিতে! তার থেকে দূরে থাকে‚ আদ্রিয়নাকে ঘৃণা করে অন্য পুরুষের সাথে সুখে থাকতে ! আদ্রিয়ান মেঘের ইচ্ছা পূরণ করবে! স্বামী হওয়ার কোন অধিকার সে পূরণ করেনি কিন্তু আজ করবে! মুক্তি দিবে মেঘকে সে! ফারহানকে যদি ভালোবাসে তবে তার সাথেই সুখে থাকুক মেঘ। আদ্রিয়ান না হয় ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকবে! মা‚ বাবা‚ সবাই তাকে ঘৃণা করবে এইটাই চাই আদ্রিয়ান।
কলেজ গাউনে এতোখন ফারহান আর মেঘের প্রপোজের কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে যায় জিয়া। কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসেছিল সে‚ যদিও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদ্রিয়ান। কিন্তু অনুষ্ঠানে এসে এমন দৃশ্য দেখবে তা আশা করেনি! মানে মেঘের সাথে ফারহান চৌধুরীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে? মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে? জিয়া সন্দেহ করত আদ্রিয়ান হয়ত মেঘকে ভালোবাসে! যার জন্য বাংলাদেশ থাকা বউয়ের মিথ্যা গল্প শুনিয়েছে তাকে! কিন্তু না‚ মেঘ অন্য কারো হবু স্ত্রী। তার প্রতি আদ্রিয়ানের কোন অনুভূতি থাকার কথা নয়।
জিয়ার চোখ যায় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিয়ানের দিকে! মেঘ আর ফারহানকে একসাথে দেখে আদ্রিয়ান কোন কথা বলছে না! ও্হ গ্রেট! আদ্রিয়ান মেঘকে ভালোবাসে না। জিয়ার সন্দেহ ভুল ছিল। এখন আদ্রিয়ান শুধুমাএ তার। জিয়া খুশি মনে দ্রুত হেঁটে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানের কাছে এরপর তার পাশে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ানের চোখ এখন ও দূরে থাকা মেঘ আর ফারহানের উপর। পাশে থাকা জিয়ার অস্বস্তি এখন ও অনুভব করল না সে‚ জিয়া বলে
“আদ্রিয়ান‚ দেখ আমি এসেছি! তোমার জিয়া। তুমি কি আমায় দেখে খুশি হওনি? আদ্রিয়ান আমায় এই ড্রেসে কেমন লাগছে?”
বেহায়া জিয়ার কথা আদ্রিয়ান শুনল কিন্তু কোন উত্তর দিল না। চুপচাপ শান্ত হয়ে থাকল। কিন্তু আদ্রিয়ানের থেকে সন্তুষ্ট জনক উত্তর না পেয়ে জিয়া খুশি হয়নি‚ তাই আদ্রিয়ানের ডান হাত ধরে যখন পুনরায় প্রশ্ন করতে যাবে। তখন এক ঝটকায় আদ্রিয়ান তার হাত সরিয়ে নেয় আর বলে
“তুমি এখানে কি করছ জিয়া? অনুষ্ঠান প্রায় শেষ এখন কেন এসেছ?”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে জিয়া ন্যাকামি করে বলে
“আমার শরীর ভীষণ অসুস্থ ছিল আদ্রিয়ান। যার জন্য আসতে দেরি হয়ে গেছে।”
“অসুস্থ শরীর নিয়ে আসতে গেলে কেন?”
“আদ্রিয়ান তোমায় দেখতে এসেছি। তোমায় একবার দেখলে আমার সব অসুখ ঠিক হয়ে যায়।”
জিয়ার কথা শুনে যথেষ্ট বিরক্ত বোধ করল আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ান বলে উঠে
“জিয়া আমায় দেখা শেষ তোমার? এখন আমি যায়? আমার ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে। বাড়ি যাব আমি।”
আদ্রিয়ানের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা শুনে জিয়া বরল
”কিন্তু আদ্রিয়ান —– ”
____ কথা শেষ করার আগেই পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে চলে যায় আদ্রিয়ান। শেষ বার ফিরে তাকাল না মেঘ আর ফারহানের দিকে। চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি হাত দিয়ে মুছে বড় বড় পা ফেলে কলেজ গাউন থেকে বের হয়ে যায়। তবে মুখ দিয়ে কিছু কথা আওড়ায়
“তোমার কাছে শেষ সুযোগ চেয়েছিলাম আমি মেঘ। যা ভুল করেছি তার জন্য অনুতপ্ত ছিলাম আমি। তবুও তুমি এতো পাষাণ কেন হলে মেঘ? আমি কি এতোই খারাপ বিন্দু মাএ ক্ষমা করলে না আমায় তুমি? তুমি যদি চাও? আমি কষ্ট থাকি তবে যেন শত কষ্টের মধ্যেই আমার জীবন আবদ্ধ থাকে! তুমি না হয় অন্য কারো সঙ্গে সুখে থাকো! বিদায় মেঘ। আজ থেকে সকল প্রকার বন্ধন থেকে মুক্তি দিলাম তোমায়। বিদায়।”
আদ্রিয়ান কলেজ গেইট অতিক্রম করে বড় বড় পা ফেলে বাহিরে চলে যায়। অন্যদিকে ফারহানের শরীরে মৃদু ধাক্কা দিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দেয় মেঘ‚ এরপর বলে
“ফারহান স্যার‚ আপনার সাথে কথা বলতে চাই আমি।”
“হুম বল মেঘ?”
মেঘ আশেপাশে মানুষের দিকে তাকায় এরপর বলে
“এখানে নয় চলুন আমার সাথে।”
মেঘ ফারহানের হাত ধরে তাকে সবার থেকে দূরে নিয়ে যায়। কলেজ গাউনের ডান পাশে ফাঁকা নিরিবিলি জায়গায় পৌঁছে ফারহানের হাত ছেড়ে দেয়। এরপর হাতে থাকা একগুচ্ছ ফুল ফারহানের মুখের উপর ছুঁড়ে মারে বলে
“ফারহান স্যার‚ একটু আগে কি করলেন আপনি? কলেজের সবার সামনে এমন করে প্রপোজ করার মানে কি?”
মেঘের চোখে মুখে ফুটে উঠা উত্তপ্ত রাগ দেখে ফারহান বলে উঠে
“মেঘ‚ তুমি এমন রেগে যাচ্ছ কেন? তোমায় প্রপোজ করেছি আমি এখানে রাগ করার কি আছে?”
ফারহানের কথা শুনে মেঘের শরীরে থাকা রাগ তরতর করে বেড়ে উঠল। মেঘ রাগী স্বরে বলে
“আপনার কমনসেন্স কোথায় ফারহান স্যার? আপনি কলেজের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে ‚ কলেজ গাউনে দাঁড়িয়ে হাঁটু গেঁড়ে তাকে প্রপোজ করছেন? এইটা কি খুব সম্মানীয় কাজ বলে মনে হয় আপনার? এমন বুদ্ধি নিয়ে আপনি আমেরিকার একজন বিখ্যাত ব্যবসায়ী হলেন কি করে?”
মেঘের কথায় ফারহান অপমানিত বোধ করে ফারহান বলে
“মেঘ‚ তুমি আমার হবু বউ। তোমায় প্রপোজ করার অধিকার আছে আমার।”
“হবু বউ নয়। বউ নয়? আর বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয়েছ মাএ বিয়ে হয়ে যায়নি এখন?”
মেঘের কথা শুনে ফারহান বলে
“মেঘ‚ তুমি কি আমার প্রপোজ করায় খুশি হওনি? তবে তখন ফুল হাতে নিয়ে একসেপ্ট করেছিলে কেন?”
ফারহানের কথার উত্তর মেঘ এখন আসল কারণ বলে
“আপনার হাত থেকে ফুল নেওয়া ছাড়া আর কি উপায় ছিল আমার ফারহান স্যার! যদি তখন আমি না বলতাম তখন সবাই আপনার উপর হাসাহাসি করত! কলেজের প্রধান অতিথি একজন ছাএীকে প্রপোজ করেছে। কিন্তু ওই ছাএী সকল শিক্ষার্থীর সামনে তাকে মুখের উপর না করে দিয়েছে! তখন কি আপনার কোন মান সম্মান থাকত? আপনি আমার বড় আব্বুর বন্ধুর ছেলে। তাই আপনার অপমান করতে আমি চাইনি! তাই বাধ্য হয়ে ফুলটা নিয়েছি।আর আমি আপনার হাত থেকে শুধু ফুল নিয়েছি। একবার ও বলেনি যে ভালোবাসি!”
“তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না মেঘ?”
ফারহানের কথা শুনে মেঘ বলে
“ফারহান স্যার‚ আজ প্রথম আমি আপনাকে দেখেছি! এইটুকু সময়ের মধ্যে আপনাকে কি করে ভালোবাসব আমি?”
মেঘের কথায় যেন ফারহানের অন্তর তিক্ত হয়ে যায়। ফারহান বলে
“তুমি তবে কাকে ভালোবাসে মেঘ?”
মেঘের এই কথার উত্তর বলে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪২
“আমার জীবনে ভালোবাসা শব্দটার কোন অস্তিত্ব নাই ফারহান স্যার।
মেঘ কথা বলা শেষ করে চলে যেতে চাই কিন্তু আবার পিছনে ঘুরে তাকিয়ে বলে
— আশা করি যতদিন অবধি আমাদের বিয়ে না হচ্ছে। ততদিন আপনি আর আমার সামনে আসবেন না। আর ভবিষ্যতে কখন আমাদের হবে কি তার কোন নিশ্চয়তা নাই। আপনার ভাগ্য হয়ত অন্য কোন নারী লিখা আছে। আর আমি কখন আপনাকে ভালোবাসতে পারব না ফারহান স্যার। ক্ষমা করবেন আমায়—।
