Home শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮০

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮০

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮০
নূরজাহান আক্তার আলো

আজ শুক্রবার। কর্মব্যস্ত মানুষের সাপ্তাহিক ছুটির দিন। রোদ ঝলমলে সুন্দর একটি সকাল। ​তবে ‘সুন্দর’ শব্দটা বড়ই আপেক্ষিক। কারণ, সব সুন্দর সবার জন্য সুন্দর হয়ে আসে না। এই যেমন শীতলের কথাই ধরা যাক, আজ তার সকালটা শুরু হয়েছে জেলখানার বন্দি দশায়। এখানে বাবা নেই, মা নেই, নেই প্রাণপ্রিয় পুরুষটিও। অথচ গতকাল সকালটাও তার জন্য অন্যরকম ছিল। পরিবারের আদুরে মেয়ে হয়ে সবার আদরে সময়ও কাটিয়েছিল সে। অথচ আজকে তার অবস্থান ভিন্ন, পরিস্থিতি ভিন্ন। কে জানত, ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ে বদলে যাবে জীবনের গতিপথ। ভেঙে যাবে স্বপ্ন! এখানে আসার পর থেকে কেন জানি তার মনে হচ্ছে জেলের দেয়ালগুলো তাকে দেখে উপহাস করে হাসছে। ফিসফিসিয়ে বিদ্রুপ করছে। শীতল নামটা বদলে দিয়ে ‘খুনি’ নামে ডাকছে।

সে অবশ্য তাতে লজ্জা কিংবা ভয় পাচ্ছে না বরং ভালো লাগছে। কারণ সে জানে এ সমাজের মানুষের চোখে খুনি, আসামি, অপরাধী হলেও যা করেছে ভাইকে বাঁচাতে করেছে। বোনের মুখের হাসি টেকাতে করেছে। করেছে অনাগত অতিথির জন্য। করেছে একজন মায়ের জন্য যিনি কোলে বুকে করে তার সন্তানকে মানুষ করেছেন। করেছে চৌধুরী বাড়ির সব জীবন্ত ফুলগুলোকে একই ডালে ফুটিয়ে রাখতে। সেখান থেকে একটা ফুলকে হারিয়ে ফেললে বাগানের সব সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। শূন্যতা গিলে খাবে বাকি ফুলগুলোকে। তাছাড়া নতুন অতিথিকেও জানানো দরকার বাবা মানে বিশাল বটবৃক্ষ। সন্তানকে আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করার জীবন্ত দেয়াল।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

শুধু এইটুকু বোঝানোর জন্য হলেও ভাইয়াকে যে বাঁচতেই হবে।সে অবশ্য জানেই না নতুন অতিথি আগমনের কথা। শুধু সেই না বাড়ির কেউই জানে না। শীতল নিজেও জানত না, যদি না পরশু রাতে বোনের কাছে শুতে যেত। শুদ্ধ না থাকলে কেন জানি ঘুম আসে না তার। একা শুলে আবোলতাবোল কিসব চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। চোখের সামনে নীল রঙা দুটো চোখ ভাসতে থাকে। মনে হয় কেউ তাকে ফলো করছে। কেউ তাকিয়ে থেকে হাসছে। কিয়ারাকে মিস করে। তাদের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। শুদ্ধর বাইরে থাকলে বুকের ভেতরটা ভয়ে কুঁকড়ে থাকে।

তার বয়স অল্প, তবে জীবনে যেসব সমস্যা পার করছে ভয়টা আজকাল জেঁকে বসেছে। এসব চিন্তা যখনই মাথায় ভর করে তখনই মায়ের কাছে ছুটে চলে যায় নাহলে দেখে সায়ন আছে কি না। যদি দেখে সায়ন নেই তাহলে স্বর্ণের সঙ্গে ঘুমায়।স্বর্ণ তাকে কাছে টেনে গল্প করতে করতে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সেদিনও সে গিয়েছিল, কিন্তু রুমে ঢুকে দেখে স্বর্ণ ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছে। চোখে-মুখে পানি দিয়ে এলেও কাহিল অবস্থা তাকে দেখে স্বর্ণ হেসে শুতে বলল। মুখ মুছে পানি খেয়ে শীতলের গা ঘেঁষে শুলো। তিনবোন আগে এভাবেই শুয়ে কত গল্প করত শখ চলে যাওয়ায় একটু খারাপই হয়েছে। শীতল একবার ভাবল,

শখকে ভিডিও কল করে গল্পের সঙ্গী করতে। কিন্তু অর্ক থাকলে খারাপ দেখাবে তাই সেই চিন্তা বাদ দিলো। নড়েচড়ে স্বর্ণের পেটের উপর এক পা তুলে দিয়ে আরাম করে শুলো। পাশের জনের পেটের উপর পা না দিলে তার ঘুম আসে না। বিয়ের প্রথম কদিন ঘুমের ঘোরে শুদ্ধর পেটের ওপরেও পা তুলে দিতো। শুদ্ধ নামিয়ে দিলে আবার দিতো তাতে ভীষণ বিরক্ত হতো। একপর্যায়ে বিরক্তির সুরে বলত,
-‘ নাহ্ এর জ্বালায় তো পারা গেল না, কোনো ভদ্র মেয়ে এভাবে ঘুমায়?’
সেও ঘুমের ঘোরে জবাব দিতো,

-‘খ্যাচ খ্যাচ না করে ঘুমান সকালে উঠে সালাম করে নেব।’
বেচারা তখন কিছু বলার ভাষা খুঁজে না পেয়ে চুপ করে থাকে। কয়মাসে
অবশ্য তারও অভ্যাস হয়ে গেছে। বরং এখন সে পা না দিলে নিজে টেনে নেয়। শীতল অভ্যাসবশত স্বর্ণের পেটে পা দিলে স্বর্ণ নামিয়ে দিলো। গল্প করতে করতে আবার পা দিলে আবারও নামিয়ে দিলো। একপর্যায়ে সে ব্যাপারটা খেয়াল করে মুখ বেজার করে বলল,

-‘আপু, তুই বড় জা-য়ের মতো ব্যবহার করছিস কেন? একটু পা দিলে কি আর এমন হবে?’
একথা বলে পা দিতে গেলে স্বর্ণ পা ধরে থামিয়ে দিয়ে বলল,
-‘কার যেন বেবিদের গায়ের স্মেল পছন্দ? ‘
-‘আমার! ওয়েট, ওয়েট, এই আপু বেবি এলো কোথা থেকে?’
-‘ তার উপস্থিতি এখানে আছে বলেই তো আনা হলো।’
-‘মানে কি?’
-‘ সামথিং সামথিং।’

একথা শুনে শীতল তড়াক করে উঠে বসল। কিছু একটা আন্দাজ করে চোখ বড় বড় করে একবার স্বর্ণের মুখের দিকে তাকাল তো একবার ওর পেটের দিকে। মূল ঘটনা ধরতে পেরে খুশির চোটে চিৎকার করতে গেলে স্বর্ণ মুখ চেপে ধরে ইশারায় না করল। মৃদু হেসে বলল,
-‘চুপ বোন চিৎকার করিস না। বাড়ির কেউ জানে না।’
স্বর্ণ শীতলের মুখ ছেড়ে দিলো। ছাড়া পেয়ে শীতল বোনকে জড়িয়ে ধরে
অভিনন্দন জানিয়ে বলল,

-‘ আমাকে অভিনন্দন জানাবে না?’
-‘ তুইও কনসিভ…!’
-‘আরে না, আমি তো খালামণি হব।’
-‘আসলেই? নাকি..!’
-‘ তোমার হিটলার দেবর আগেই বলে দিয়েছে বাচ্চাকাচ্চা এখন না।
তাকে যতটুকু চিনি ভুল করেও ভুল করবে না সে।’
-‘ভাগ্যে থাকলে আমাদের পরিকল্পনার বাইরেও অনেক কিছু ঘটে। তবে
ভাইয়া যখন বারণ করছে তাহলে জেনেবুঝে করেছে। আগে পিরিয়ডের সমস্যা ছিল এখনো আছে?’
-‘হুম। ভাবছি আরেকবার ডাক্তারের কাছে যাব। আচ্ছা আপু, সুখবরের কথা ভাইয়া জানে?’

স্বর্ণ না বোধক মাথা নাড়াল অর্থাৎ জানে না। কদিন যাবৎ শরীর বেশি খারাপ হওয়ায় ইউরিন টেস্ট করেছিল। পজিটিভ দেখে বিশ্বাসই করতে পারে নি পরে ব্লাড টেস্ট করে রিপোর্ট পেয়েছে আজ সন্ধ্যার পর। সায়ন
আগেই জানিয়েছে আজ রাতে ফিরবে না। ফিরলে আগামীকাল দুপুরে। আর ফোনে জানাতে ইচ্ছে করে নি। কিছু মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করাটা উত্তম। সত্যি বলতে, তার মনে হয়েছে ফোনের থেকে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলার আনন্দটুকু অন্যরকম। সে ফিরুক, ফেরামাত্রই সায়নের মুখোমুখি দাঁড়াবে তারপর প্রেগনেন্সি কিট আর ব্লাড রিপোর্টটা হাতে ধরিয়ে দেবে। তারপর দেখার পালা শাহরিয়ার চৌধুরী কি করে। কিভাবে নেয় খবরটা।

হয়তো কথা বলায় ভুলে যাবে নয়তো খুশিতে তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলবে। তার মানুষটা আবার একটু অন্যরকম। অন্যরকম বলতে দুঃখ পেলে হাসতে পারে খুশির সময় কাঁদতে পারে। এসব নিয়ে কথা বলতে বলতে স্বর্ণ ঘুমিয়ে গেল। কিন্তু খুশির চোটে শীতলের চোখে ঘুমই এলো না। সে নিঃশব্দে উঠে স্বর্ণের গায়ে কাঁথা টেনে চারপাশটাও বালিশ দিয়ে ঘিরে দিলো। যাতে বোন গড়িয়ে না পড়ে যায়। এখন থেকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। তারপর সে পা টিপে টিপে বেরিয়ে রান্নাঘরে গেল। নিজের খুশিটুকু উদযাপন করতে একটা মিষ্টি মুখে পুরে আরেকটা হাতে নিয়ে ওপরে উঠে এলো। শুদ্ধর রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল। বাবু কি তার মতো হওয়ার সম্ভবণা আছে? নাহলেও সবাইকে বলবে তার মতোই হয়েছে। কথা হচ্ছে খবরটা শুদ্ধকে দিতে মন চাচ্ছে। কিন্তু সায়ন যখন জানে না তখন আর কাউকে জানানো উচিত হবে না। আগে সায়ন ভাই জানুক এরপর ঘটা করে সবাইকে জানাবে। তবে এই মুহূর্তে শুদ্ধকে একটু রাগানো যাক। একথা ভেবে সে বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল। মিটিমিটি হাসতে হাসতে শুদ্ধকে মেসেজ করল,

-‘ বাড়ি আসা হোক। এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হোক।’
পাক্কা বিশ মিনিট পর শুদ্ধর রিপ্লাই এলো,
-‘দেরি হবে।’
মেসেজ দেখে শীতলের রাগ হলো পরক্ষণেই খুশিতে গদগদ হয়ে টাইপ করল,
-‘আমার না বেবিদের গায়ের স্মেল খুব ভালো লাগে। আপনার ভালো লাগে না?’
মেসেজ দেখে শুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। কিসের মধ্যে কি? ব্যাঙাচি নিশ্চয়ই মুভি দেখেছে নতুবা হঠাৎ বেবির কথা এলো কোথা থেকে? তবে
এখন বেবি টেবি না। এক বেবিকে পেলেপুষে বড় করে বউ বানাতে প্রচুর ধকল গেছে তার। এখন সেই বেবির বেবি হলে জীবন শেষ। ঘরের বেবি আরো বুঝদার হোক। তার ঘুমানোর স্টাইল ঠিক হোক নয়তো এই রিস্ক নেওয়া যাবে না। দেখা যাবে, বেবির পেটের উপর পা তুলে দিয়ে অবস্থা খারাপ করে ফেলবে। একথা ভেবে সে কিছু টাইপ করার আগে শীতল টাইপ করল,

-‘ মিস করছি।’
-‘ রাত অনেক হয়েছে ভুলভাল বকে ব্রেণকে কনফিউজ না করে ঘুমিয়ে পড়।’
-‘ঘুমাব এক শর্তে।’
-‘কি শর্ত?’
-‘আদুরে সুরে একবার বলুন, ‘ আই লাভ ইউ শীতলপাখি।’
-‘ভালোবাসলে নাহয়, ‘ভালোবাসি’ বলতাম।’
শুদ্ধর চালাকি শীতল ধরতে পারল না বরং শুদ্ধকে পঁচাতে বলল,
-‘কেউ ভালোবাসে না আবার আমার কিছু হলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদে।
-‘ বয়েই গেছে কারো জন্য কাঁদতে। আমার চোখের পানি এত সস্তা না।’
-‘ বুঝলাম। এবার যা বলতে বললাম ফটাফট বলুন দেখি।’
-‘মানুষ আছে।’
-‘ মানুষ থাকলে আমি কি করব? আমি কি মানুষকে বলছি আমাকে, ‘লাভ ইউ’ বলতে? আপনাকে বলেছি আপনি বলুন নয়তো ঘুমানো দূর মেসেজ করে খুব জ্বালাব।’

-‘আমিও।’
-‘আমিও মানে?’
-‘আমিও বাড়ি ফিরে জ্বালাব..!’
এরপর শীতল বেশ কয়েকটা মেসেজ করলেও সিন হলো না রিপ্লাইও এলো না। তবে একটু হলেও জ্বালাতে পেরে শান্তি নিয়েই ঘুমিয়েছিল।ওই মানুষটাকে জ্বালানোয় যা শান্তি তা অন্যকিছুতে নেই। সেসব কথা স্মরণ করে দেওয়ালে মাথা ঠেকাল শীতল। উঁচুতে থাকা জানালার শিক দিয়ে যতটুকু আলো আসছে তাতে বুঝল সকাল হয়েছে। রাতের অন্ধকারকে সূর্যের আলো গোগ্রাসে গিলে খেয়েছে। এখন দিনের রাজত্ব। অথচ তার জীবনে ঘুটেঘুটে অন্ধকার পাকাপোক্ত ভাবে গেঁড়ে বসেছে। সে জানে না, এ অন্ধকার আর কখনো কাটবে না কি না। আর কখনো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে কি না। সমাজের মানুষ তাকে সহজভাবে মেনে নিবে কি না। গতকাল রাতে শতরুপা চৌধুরী অনেক কাঠ পুড়িয়েও তার জামিন করাতে পারেন নি।

ফলে রাতটুকু এখানেই কাটাতে হয়েছে। আজকে দুপুরে নাকি তাকে আদালতে তোলা হবে। সে অবশ্য জানত ছুটির দিন আদালত পুরোপুরি বন্ধ থাকে। কিন্তু গতরাতে জানল শুক্র-শনিবার বা সরকারি ছুটির দিন হলেও বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে না। বরং এই কাজের জন্য প্রতি জেলায় একজন ডিউটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত থাকেন। ​পুলিশ আসামীকে সেই বিচারকের বাসভবনে অথবা আদালতের বিশেষ চেম্বারে হাজির করেন। সেই ​বিচারক তখন আসামীর অপরাধ অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক হলে হাজতে আর ১৮ বছরের কম হলে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার ক্ষেত্রেও সেটাই করা হবে। এসব ভেবে চোখ বন্ধ করতেই শুদ্ধর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। কালকে সায়নকে হসপিটালে পৌঁছানোর পর শারাফাত আর সাফওয়ান চৌধুরী আজমের থেকে পুরো ঘটনা জেনেছেন। উনারা প্রথমে ভেবেছিল এটা বিরোধীদল এর কাজ। রাজনীতিতে যে দু’দিন পর পর এমন কোপাকুপি হয় সেটাও জানেন। এমন কতদিন সায়ন আহত হয়ে ফিরে এর জন্যই তো ছেলেকে বারণ করেন কিন্তু সে তো শোনার ছেলে না। কিন্তু মূল ঘটনা জানার পর যখন জানলেন এখানে শীতলের নাম জড়িয়ে গেছে। শুধু জড়ায় নি সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে থানায়।

একথা শুনে উনি হতভম্ব হয়ে কয়েকপল তাকিয়ে ছিলেন। উনি কল্পনা করতেও পারেন নি শীতল এমনকিছু ঘটাতে পারে। গতদিন শুদ্ধ আহত সায়নকে কোলে তুলে উঠে দাঁড়াতেই উনারা পৌঁছেছিলেন। পিছনে বসা শীতলকে নজরে আসে নি। আসত, যদি ছেলের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে নিজেরাও ঠিক থাকত। পাগল পাগল হয়ে ছেলেকে নিয়ে না ছুটতেন। আরেকটা কলিজার টুকরোও যে সেখানে ক্ষুণাক্ষরেও টের পান নি। কিন্তু যখন শুনলেন সায়নকে ওটিতে ঢুকিয়ে সাফওয়ান চৌধুরী, আজমসহ শুদ্ধর ফ্রেন্ডদেরকে ওখানে রেখে শারাফাত চৌধুরী ছুটেছিলেন শীতলের কাছে। ওদিকে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ চলছে এই ঘটনা। শাহাদত চৌধুরী মিটিং এ ছিলেন যখনই ঘটনা শুনলেন কলের পর কল দিতে থাকলেন। মেয়ের অবস্থা জেনে পাগলের মতো করতে লাগলেন। শারাফাত চৌধুরী ভাইকে কোনোমতে বুঝিয়ে বুঝ দিলেও নিজে সারারাস্তা কাঁদতে কাঁদতে থানায় পৌঁছেছেন। গিয়ে দেখেন, শীতল বেঞ্চের উপর বসে আছে যেন কাঠের পুতুল। মেয়েটার অবস্থা দেখে বুক কেঁপে উঠল। উনি মায়াভরা কন্ঠে একবার ডাকলেন,

-‘মা! আমার আম্মা।’
পরিচিত কন্ঠ শুনে শীতল চোখ তুলে তাকাল। বড় আব্বুকে দেখে ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল। একটা শব্দ মুখ দিয়ে বের হওয়ার আগে চোখ দিয়ে অঝরে অশ্রু গড়াতে লাগল। একলা একা এখানে খুব অসহায় লাগছিল।
জীবনে কখনো এতটা অসহায় লাগে নি। লাগবে কিভাবে তাকে কখনো একা ছেড়েছে নাকি কেউ? আর না কখনো থানায় আসা হয়েছে। উনি দ্রুত গিয়ে শীতলকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। মমতামাখা হাত মাথায় রেখে বললেন,
-‘ভয় নেই মা। এই যে আমি এসে গেছি। তোমার ফুপিও এক্ষুণিই চলে আসবে, মা। একটুপরই আমরা বাড়ি ফিরে যাব।’

শীতল ছোট। বয়স কম। তবে একেবারে অবুঝ নয়। সে জানে বড় আব্বু বুঝাতে এসব বলছে। কোনো খুনি গ্রেফতার হলে সাথে সাথে ছাড়া পায় না। তবে এ নিয়ে কিছু বলল না বড় আব্বুর কাঁধে মাথা রেখে বসে রইল।
মাথার ভেতর কিসব চিন্তা ঘুরঘুর করছে। বাবা কি জেনেছে তার কথা?
মা কি করছে? খবর শোনার পর ঠিক আছেন তো? আর আপু? আপুর কি খবর? সে যখন একা একা এসব ভাবছিল তখন শুদ্ধ আর শতরুপা এলো। পুলিশের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে কিসব কথা বলল। ধারণা মতে, তাকে আদালতে তোলা হবে একথায় বলেছে পুলিশ। কনক যদি মারা না যেতো কিংবা নির্বাচনে না দাঁড়াত তাহলে রিস্ক নিয়ে হলেও শীতলকে ছাড়ত। কিন্তু যা ঘটেছে তাকে ছাড়া মানেই হাজারটা প্রশ্নের মুখে পড়া।

তার উপরে মরার উপর ফাঁড়ার ঘায়ের মতো পেছনে পড়েছে মিডিয়া। সাংবাদিকরা ছোঁ পেতে আছে কখন শীতলকে বের করা হবে আর প্রশ্ন করা হবে। ঠিক একারণে স্বয়ং শাহাদত চৌধুরী কথা বললেও উনাকে সরি বলতে হয়েছে। কেননা বিরোধিদল নজর রাখছে জলঘোলা করার জন্য। এসব ছাপিয়ে ছাড়লে উনাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হয়ে যাবে। এভাবে আরো কিছুক্ষণ আলোচনা চালালেও কাজ হলো না। এদিকে রাত বাড়ছে দেখে একটা সময় তাদেরকে যেতে বলা হলো। শীতল চুপ করে বসেছিল। তার কিছু বলার নেই, চাওয়ার নেই, আবদারও নেই।
এখন কান্নাকাটি করা বোকামি ছাড়া কিছু হবে না। শতরুপা শীতলের মনের অবস্থা বুঝে বুকে টেনে কপালে চুমু খেলেন। কত কি বলে অভয় দিলেন। ডাক্তার নাকি বলেছে সায়ন তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যাবে, সেসব বললেন। শীতলও বুঝল ফুপি তার মানসিক চাপ কমানোর জন্য এসব বলছেন। শীতলের পোশাক বদলানো দরকার দেখে শুদ্ধর আনা ড্রেসটা পরল শীতল। তবে তাকে জোর করেও কেউ কিছু খাওয়াতে পারল না।
মুখেই নিলো না। তাকে খাওয়াতে গিয়ে শারাফাত চৌধুরী ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। আর সে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে শুদ্ধর মুখপানে তাকিয়ে ছিল।

জামিন না হওয়াতে কেন জানি মানুষটার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। চোখজোড়া লাল লাগছিল। যাওয়ার সময় মায়া নিয়ে বারবার ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছিল। একধাপ এগিয়ে আবার দাঁড়িয়ে পড়ছিল। কথা বলতে পারছিল না। কন্ঠস্বর কাঁপছিল। অবস্থা বুঝে শারাফাত চৌধুরী সামনে এগিয়ে গেলেন। সুযোগ পেয়ে শীতল শুধু এইটুকু বলল,
-‘ফাঁসিতে ঝুলে গেলে গেলাম আফসোস রাখিয়েন না। যে একবার মৃত্যুর চোখে চোখ রেখেছে তাকে ফাঁসির দঁড়ি আর কি ভয় দেখাবে?’
এইটুকু বলতে না বলতে একজন মহিলা পুলিশ এসে তাকে নিয়ে চলে।
শুদ্ধ দেখল নিয়ে যাওয়া। সঙ্গে নিয়ে যাওয়ারও ক্ষমতা নেই। যা ঘটেছে যত কষ্টই হোক মানতেই হবে। এখন শুধু দেখার পালা তার ভাগ্য তাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করায়।

ওদিকে সময়ের সাথে সাথে সায়নের অবস্থা অবনতি হচ্ছে। তার পুরো শরীর কোপানো। রড দিয়ে মারার কারণ হাঁড়ে ফাটল ধরেছে। দুই হাঁটুর যা অবস্থা সহজে উঠে দাঁড়াতে পারবে কী না সন্দেহ। মাথাতেও গুরুতর আঘাত পেয়েছে। ধারালো ছুরি বসানোর ফলে গলার চামড়া কেটে তার শ্বাসনালীর একদম কাছে থেমেছে। আর এক চুল পরিমাণ নড়চড় হলেই এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যেতো প্রধান ধমনী। শুদ্ধরা থানা থেকে বেরিয়ে আবার ছুটেছে হসপিটালে। ব্যাগ ব্যাগ রক্ত লাগছে। অর্ক, স্যান্ডি, হাসান কামরান যখন যা লাগছে ছুটে গিয়ে নিয়ে আসছে। আজম চৌধুরী বাড়ি গিয়ে বাড়ির মেয়েদের এনেছে। সিতারা স্বর্ণের কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। স্বর্ণের মাঝে কোনো হেলদোল নেই। সে শুধু একমনে ওটির লাল লাইটের দিকে তাকিয়ে আছে। সে জানে, রাজনীতিতে এসব হয়। হবেই। তার বেহায়া পুরুষটা তাকে বারবার বুঝিয়েছে রাজনীতিতে এসব স্বাভাবিক। কখনো যদি আহত হয় ভুলেও যেন মরাকান্না না করে।

সেও মেনে নিয়েছিল তার কথা তবে বলেও দিয়েছিল মার খাক, অসুস্থ হোক, তবে একেবারে পালানোর চেষ্টা যেন না করে। সে মানতে পারবে না, একদমই পারবে না। কারণ মাত্র এ কয়েক মাসের সংসারে মন ভরে নি। তার আরো সময় লাগবে। আরো ভালোবাসা লাগবে। আরো আদর লাগবে। সর্বপরি সর্বদা তাকে পাশে লাগবে। সে কি ভেবেছি, যে আসছে তার সব দায়িত্ব তাকে চাপিয়ে দিয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবে? এত সোজা? মানবে না, কোনোভাবেই মানবে না। তাকে জানতে হবে তাদের মাঝেও আরেকজন আসতে চলেছে। ওই উন্মাদ পুরুষটাকে কেউ বাবা ডাকার জন্য চলে এসেছে। অনাগত প্রাণটার কোনো দোষ নেই তবে সে কেন বাবাকে পাবে না? কেন তার আগমনের কথা জানার আগেই কেউ পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা এঁটেছে? বেহায়ার মতো করে ঠিকই বলতো, ‘জান রে, শুদ্ধ আমার আগে বাসর সেরেছে আমি ওর আগে বাবা হবো।

এবার গো হারান হারাব ওকে, মিলিয়ে নিস।’সেটাই হচ্ছে তবে পালানোর তাড়া কিসের? এসব নাহয় বাদই থাকল। কিন্তু তাদের কলিজার টুকরো বোনটা? চৌধুরী বাড়ির তোতাপাখিটা? সে তো খুনের দায় ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়েছে। পবিত্র দুই হাতে রক্তের দাগ লাগিয়েছে, তার কি হবে? বোনের কষ্টকে স্বার্থক করতে হবে না? এসব ভেবে স্বর্ণ উঠে দাঁড়াল। সারাদিনে বেশ কয়েকবার বমি করেছে। এখনও পেটের মধ্যে গুলিয়ে যাচ্ছে। সে ওয়াশরুমে গিয়ে বমি করতে লাগল। পেটে কিচ্ছু নেই খালি পেটে বমি করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। মাথাটাও ঘুরছে। স্বর্ণ বেসিন ধরে নিজেকে
সামলে নিলো। বেশ কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে থেকে চোখে, মুখে পানি দিয়ে বের হলো। বের হতেই দেখে শুদ্ধ একটুদূরে দাঁড়িয়ে আছে। তখনও থরথর করে কাঁপছে সে। প্রেসার কি একেবারে নেমে গেল নাকি? এমন হচ্ছে কেন? সে বরাবরই শক্ত ধাঁচের। সহজে কষ্ট পায় না। তবে আজকে কেন উল্টো কিছু হচ্ছে? কেন দমটা আঁটকে আসছে? যখন দেয়াল ধরে এসব ভাবছিল হঠাৎ অনুভব করল কেউ তাকে স্নেহমাখা স্পর্শে আগলে নিয়েছে। নিভু নিভু চোখে শুদ্ধকে দেখে হাল ছেড়ে দিলো। শুদ্ধও স্বযত্নে বুকে আগলে নিলো বোনকে। শখের থেকে কম ভালোবাসে না স্বর্ণকে।

তারপর শক্ত মেয়েটার কী হলো কে জানে এতদিন যা করে নি আচমকা সেটাই করে বসল। সে শুদ্ধর হাতটা কপালে ঠেকিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। তবে এ কান্নার শব্দ নাহলেও সেকেন্ডের মধ্যে শুদ্ধর হাত ভিজে গেল। তাকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে বুকের ভেতর টা দুমড়ে-মুচড়ে গেল। তখন শুদ্ধ নরম সুরে বলল,
-‘ এই ঘটনা কি নতুন? এর আগেও কতবার আহত হয়েছে আবার সুস্থ হয়েও উঠেছে। এবারও হবে, ইনশাআল্লাহ।’
জবাবে স্বর্ণ অস্পষ্ট শুধু এইটুকু বলল,
-‘ তাকে থেকে যেতে বলো ভাইয়া। দ্রুত ফিরতে বলো। তাকে কিছু বলার আছে আমার। তার অনেক কিছু জানার আছে।’
এইটুকু বলতে বলতেই স্বর্ণ জ্ঞান হারাল। স্বর্ণের অবস্থা দেখে আরেকটা কেবিন নিয়ে স্বর্ণকে শুইয়ে ডাক্তার ডাকা হলো। প্রেসার মেপে একবারে লো দেখে স্যালাইন দেওয়া হলো। শুদ্ধ সিরাতকে স্বর্ণের কাছে বসিয়ে
রেখে ওটির সামনে গিয়ে দেখে কান্নাকাটি বেঁধে গেছে। ডাক্তার-নার্সরা ছুটাছুটি করছে। সায়নের অবস্থা আরো খারাপ। ডাক্তার অভিভাবককে ডাকলে শুদ্ধ নিজেই গেল ডাক্তারের চেম্বারে। কারণ শারাফাত চৌধুরীর প্রেসার বেড়ে গেছে অলরেডি। দরদর করে ঘামছেন। উনাকে টানাটানি করা আর ঠিক হবে না। শুদ্ধ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ডাক্তার বলল,

-‘ইয়াং ম্যান মনকে শক্ত করো।’
-‘ স্যার, ভণিতা না করে যা বলার সরাসরি বলুন প্লিজ।’
-‘ পেশেন্ট ধীরে ধীরে রেসপন্স করা ছেড়ে দিচ্ছে। সরি টু সে.. পেশেন্টের
অবস্থা দেখে এইটুকুই বলতে পারি সে রিকোভারী করবে না। নিজেদের মনকে শক্ত করো।’
-‘বাইরের দেশে..! ‘
-‘ আয়ু না থাকলে পৃথিবীর যে প্রান্তেই ভাইকে নিয়ে যাও কাজ হবে না।
তবে আমি বলব তাকে নিয়ে আর টানা হেঁচড়া না করাই ভালো।’
শুদ্ধ আরো কিছু নিয়ে আলোচনা করে বেরিয়ে এলো। তবে কাউকেই এ ব্যাপারে কিছু বলল না। নিজের মধ্যে সংগোপনে এটাও চাপিয়ে রাখল।

রাতটুকু সেভাবেই কাটল। সকালবেলা শুদ্ধ মেয়েদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো। হসপিটালে শুধু অর্ক, আজম আর শুদ্ধ থাকল। ঘন্টা খানিক পর কামরান, হাসান আর স্যান্ডি আসলে অর্ককে জোর করে পাঠানো হলো।
তবে আজম আর শুদ্ধ একচুলও নড়ল না। দু’জনই ঠাঁই সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। আজ দুপুরে শীতলকে আদালতে তোলা হবে। শুদ্ধকে যেতে হবে।
তাই বারবার সবাইকে সাবধানে থাকতে বলে দূর থেকে একবার ভাইকে দেখে বাড়ির পথে রওনা হলো। তার গায়ে এখনো ভাইয়ের রক্তমাখা টি শার্ট। বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে ছুটবে শীতলের কাছে। আজ সঙ্গে গাড়ি বা বাইক না থাকায় সিএনজি করে এলো। সায়নের পার্টি অফিসের সামনে ছেলেপুলেকে জটলা করে বসে থাকতে দেখে নামল। এ ছেলেগুলোকে কিছু বলা দরকার। তাকে দেখে ছেলেগুলোই দাঁড়িয়ে গেল। মলিন মুখে সালাম দিলো। শুদ্ধ ঠোঁটে মলিন হাসি এঁটে সালামের জবাব দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলল,

-‘ সব ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। সকালে নাস্তা করেছিলে তোমরা?’
-‘ না ভাই।’
-‘বলো কি? এখন বাজে সাড়ে এগারোটা।’
একথা বলে ওয়ালেট থেকে টাকা বের করে একজনের হাতে দিয়ে বলল সবাই মিলে নাস্তা করে নিতে। তারপর বলল,
-‘ নাস্তা করে গায়ে জোর বাড়াও জরুরি কাজ সারতে হবে তো নাকি।’
-‘ কি কাজ ভাই?’
-‘ পরে বলব। তবে যে কাজ দিবো করতে পারলে জন প্রতি একটা করে টাকিলা। আদারস্ অপশনও আছে।’
-‘আমরা প্রস্তুত ভাই।’

শুদ্ধ মৃদু হাসল। তারপর সময় দেখে তাদেরকেও সাবধানে থাকলে বলে রাস্তা পার হলো। রাস্তার ওপাশে রবি একটা ঘর তুলেছে। সেটা বর্তমানে তার অফিস। রবির আপাতত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই দেখে তার মুখের হাসি সরছেই না। কনক তিন হাত মাটির নিচে আর সায়নের যা অবস্থা আশা করা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই তার জানাজায় শরিক হতে হবে। এ কনকটা এমন দুষ্টু সায়নকে জবাই করতে নাকি গলায় ছুরি চালিয়েছে। সায়ন আগে যেমন অন্যের গলায় ছুরি চালাত ঠিক সেভাবে। ভালোই হয়েছে, সব আপদগুলো একসাথে বিদায় হয়েছে। এই খুশিতে সায়নের পার্টি অফিস ভাঙার প্ল্যান করে ফেলেছে। কিন্তু সায়নের দলের ছেলেরা ওখান থেকে একধাপ সরছে না। আজম নেই এই সুযোগ ভেঙে ফেলার।

এসব নিয়ে আলোচনা করতে করতে খেয়াল করল শুদ্ধ হেঁটে কোথাও থেকে ফিরছে। থানার পুলিশের থেকে জেনেছে শীতলেন জামিন হয় নি। আজ আদালতে তুলবে একথা শুনে তো তাদের খুশি দ্বিগুন হয়ে গেছে।
মেয়েটাকে আলাভোলা ভাবত কিন্তু যেই খেল দেখাল তাতে তার লাভও হয়েছে। তবে এখন একটু মজা নেওয়া যায়। বিপদে পড়া শত্রুকে এমন হাবুডুবু খেতে দেখে কার না ভালো লাগে? নিজেরা নিজেরা এসব নিয়ে আলোচনা করে শুদ্ধকে শুনিয়ে শীতলকে ইঙ্গিত করে সাউন্ড বক্সে গান ছেড়ে দিলো। রবির দলের ছেলেপুলেরা নিজেরাও গলা মিলিয়ে গাইতে শুরু করল,

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৭৯

বাংলা সিনেমায় নাকি ধুম পড়েছে
আহামরি সুন্দরি এক নায়িকা এসেছে।
কোমরের দোলায় নাকি সাগরেরই ঢেউ
দেখেছিস নাকি ওরে তোদের মাঝে কেও?
চল যাই, চল যাই ,বাংলা সিনেমা দেখি
সিনেমারই নাম নাকি পরাণ পাখি।
শুদ্ধ দাঁড়িয়ে গেল। বুঝতে বাকি রইল না রবির খোঁচাটা। তবে পিছনে তাকিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করল না। সব হিসাব পাই টু পাই বুঝিয়ে দেওয়া হবে। শুধু খারাপ পরিস্থিতি সামলে উঠুক, তারপর নাহয় বাংলা সিনেমা দেখার মজা রাজকীয় ভাবে সেলিব্রেট করা যাবে।

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮১

1 COMMENT

Comments are closed.