Home Love or Hate love or hate part 9

love or hate part 9

love or hate part 9
ইভেলিনা তূর্জ

শরৎের শেষ আর শীতের শুরু।ডেনমার্কের কুয়াশা প্রায় প্রতিদিন সকালে নেমে আসে, বিশেষ করে কোপেনহেগেন, আরহুস বা ওডেন্সের মতো শহরে। এদেশের মানুষজন মোটা জ্যাকেট, স্কার্ফ, গ্লাভস, আর উলের টুপি পরে রাস্তার ফুটপাতে, হাঁটে, হাতে দেখা যায় গরম কফি বা কোকো কাপ।এখানে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি বা তুষারের কণাও পড়ে।

গোধূলি বেলা সূর্য প্রায় পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে।ভোর পাঁচটায় ইউভানরা ডেনমার্কের ফ্লাইটে কোপেনহেগেন এয়ারপোর্টে এসে ল্যান্ড করে।রাতে এক প্রকার জোরপূর্বক ইউভান রোজকে নিয়ে ডেনমার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো।রোজ রাজি না হওয়ায় ইউভান রোজের গালে সপাটে চারটে চড় বসিয়ে দেয়। ইউভানের পাঁচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট রোজের গালে ভাসমান হয়ে আছে।পুরো ১২ঘন্টার জার্নি তে রোজ নিস্তেজ হয়ে প্লেনের ভিআইপি সিটে গা হেলিয়ে শুয়ে ছিলো।ইউভানও আর কোনো কথা বলেনি রোজের সাথে। বিয়ের বিষয় টা ইউভান যেহেতু দামিয়ান আর লাড়াকে কিছু বলে নি।তাই তারা দুজনেই বেশ্ অবাক হয়।ইউভান কেনই বা একটা মেই’ডকে সোজা বিদেশের মাটিতে নিয়ে এলো,রোজকে কি তার পার্সোনাল সেক্রেটারি বানাবে নাকি।দামিয়ান যদিও কয়েকবার রোজের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলো তবে রোজ কোনো প্রতিউত্তুর করে নি।ইউভানরা এয়ারপোর্টে আসার পরমূহর্তে পরপর দশটা কালো মার্সিডিজ কার এসে তাদের রিসিভ করতে চলে আসে।সামনের গাড়িটার ব্যাকসিটে রোজকে নিয়ে বসে আছে।রোজ বারবার ইউভানের হাত তার কাধঁ থেকে সরায় আর ইউভান ততোবারই রোজকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরে।ইউভান রোজের গাল চেপে ধরে নিজের মুখোমুখি করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“কিরে কি খেয়ে বড় হ’য়েছিস, শরীর এতো নরম কেন,? ধরলেই লাল হয়ে ফুলে উঠে”
রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলে।ইউভান রোজের চুলের পিছনে হাত রেখে চুল টেনে ধরতেই রোজ এর ঠোঁটের ফাঁক গলে আহ!শব্দ বেরিয়ে আসতেই ইউভান চেঁচিয়ে উঠে,
“What’s wrong with you? এভাবে তব্দা মেরে পরে আছিস কেনো?কথা কানে যায় না নাকি।বোবা হয়ে গিয়েছিস?”
রোজ ইউভানের চোখে দৃষ্টি রাখে,চোখ তোলে তাকাতেই চোখের কোণে জল এসে জমে।কাঁপা গলায় সুধায়,

“দুনিয়াতে কলঙ্কের সৌভাগ্যটা আমাদের নারীদেরই হয়।”
ইউভান নাকের পাটা ফুলিয়ে রোজকে আরও কাছে টেনে এনে শরীরে নিজের হাত বিচলন করতে থাকে, ইউভানের স্পর্শে রোজের শরীরে আগুন জ্বলাতে থাকে।ইউভান চোয়াল শক্ত করে বুনো ষাঁড়ের মতো শ্বাস টেনে ব’লে
কলঙ্ক? কোথায় কলঙ্কের দাগ দেখা আমায়।কিস করে সব মিটিয়ে দিচ্ছি দেখা কোথায় আছে।
ইউভান রোজের গলার লাল ছুঁপ ছুঁপ দাগ গুলোতে আঙুল ছুঁইয়ো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“তোর শরীরে আমার দেয়া রেড মার্ক গুলো এতো জোশ্ দেখায় কেন।আয় আরও কয়েকটা বা’ইট দেই।”
ইউভান রোজের ঘাড়ে ওষ্ঠের স্পর্শ দিতে গেলে রোজ ধাক্কা মেরে সরিয়ে ব’লে উঠে,

“মানুষ খেকো দানব।বিকৃত মস্তিষ্কের শয়তান।আপনার নোং’রা স্পর্শ দিবেন না আমায়।ঘৃণা করি আপনাকে কতো বার বলবো।”
“উহু।অ্যাম ন’ট মানুষ খেকো,অ্যাম রোজ খেকো”
“আমার নাম মুখে আনবেন না।”
“শুধু নাম কেনো আরও অনেক কিছুই আনবো ওয়েট এন্ড সি”-ইউভান রোজকে ছেড়ে দিয়ে গাড়ি হাই স্পিডে চালাতে আদেশ দেয়।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের এয়ারপোর্ট ছেড়ে মহাসড়ক দিয়ে দশটা ব্ল্যাক মার্সিডিজ এসে হঠাৎ ব্রেক কষিয়ে পরপর থেমে যায়। গাড়িগুলো থেকে পরপর কালো পোশাকধারী গার্ডরা বেরিয়ে আসে।দু-জন এসে ইউভানের কারের ডোর খোলে দাঁড়িয়ে পড়ে।গাড়ি থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ভারী পাঁ ফেলে নামে ইউভান।
R.C. Group of Industries C.E.O।
বয়স মাত্র ত্রিশ হলেও তার হাতে আজ কোটি কোটি ডলারের সাম্রাজ্য।তবে তার র’ক্তে মিশে আছে কুখ্যাত এক মাফিয়া বংশের সন্তানের ট্যাগ।
“Spider Blood Circle ” ডেনমার্কের ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুর মাফিয়া সংগঠন।ইউভানের বাবা রুশান আলবার্ট ছিলেন সেই মাফিয়া সাম্রাজ্যের লিডার।একসময় রক্ত, অস্ত্র, ও অবৈধ বাণিজ্যের জগতে যার নাম শুনে মানুষ কেঁপে উঠতো।
তবে আজ থেকে প্রায় আঠারো বছর আগে ইউভানের জীবনে কালো অধ্যায় নেমে এসেছিলো।যখন পুরো ডেনমার্কে বজ্রেরগতিতে খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো,রুশান আলবার্ট নিজের স্ত্রীকে খু’ন করে আত্মহত্যা করেছে।

ইউভান সবসময় কালো পোশাক দিয়ে নিজেকে জরিয়ে রাখে।যেনো রঙের কোনো অস্তিত্ব তার জীবনে নেই।ইউভান গাড়ি থেকে নেমেই রোজকে গাড়ি থেকে নামতে বলে।রোজ এক চুল অব্দি না নড়লে ইউভান রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামায়।ইউভান এতোটাই শক্ত করে রোজের হাত চেপে ধরেছে, যেনো রোজের হাতের হাড় মটমট করে ভেঙ্গে যাবে।রোজ নেমেই সামনে চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পায়।একটা বিশাল বিলাসবহুল কালো রঙের বাড়ি।বড় বড় অক্ষরে নাম লিখা “Albert Mansion ”

রোজের আর বুঝতে বাকি রইলো না এটা এই দানবটার বাড়িই হবে। লোকটা যেমন অদ্ভুত ভয়ংকর। তার বাসস্থান তার থেকেও দ্বিগুন।নাহলে এমন কুচকুচে কালো রঙের বাড়ি কার হয়।দিনের বেলায় এতো ভয়ানক দেখতে রাতে কেমন দানবীয় রূপ ধারণ করে কে জানে।রোজের মন অজানা আতঙ্কে ভরে উঠে।রোজ ইউভানকে গুন্ডা সন্ত্রাস ভেবেছিলো।কিন্তুু এই নরপিশাচ তো তার ভাবনা থেকে দশ ধাপ এগিয়ে, রোজ ভয়ার্ত দৃষ্টি ফেলে কুঁকড়ে উঠছে।গাঁয়ের লোম আকষ্মিক দাঁড়িয়ে যাচ্ছে,রোজ ইউভান এমন বিশাল সাম্রাজ্য দেখে তাকে বিলিয়নার কোনো কুখ্যাত মাফিয়া গ্যাং লিডার ভেবে বসলো,যদিও এটা শুধু রোজের ভাবনা না,এমনটা পুরো ডেনমার্ক মনে করে,ইউভান হয়-তোবা তার বাবার পাপের সাম্রাজ্যেতে হাত লাগিয়েছে,স্পাইডার গ্যাং এর বর্তমান লিডার ,তবে এমনটা শুধু মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ।

লাড়া, দামিয়ান, তুষার গাড়ি থেকে নেমে ইউভানের পাশে এসে দাঁড়ায়। লাড়া রাগে গজগজ করতে থাকে। সামান্য একটা মে’ইড এভাবে তাদের সাথে আনার কোনো মানেই বুঝে উঠতে পারছে না সে।দেশে না হয় একজনের দরকার ছিলো তাই বলে এভাবে নিজের পার্সোনাল মে’ইড বানিয়ে নিয়ে আসবে।আবার ইউভান হাতও ধরে রেখেছে। ইউভানের মাথায় যে কি চলছে তা বুঝা বড়ই দায়।গেইট থেকে শুরু করে ম্যানশনের সদর দরজা পর্যন্ত লাল কার্পেট বিছানো। কালো পোশাকধারী গার্ডরা দুপাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পড়ে। ইউভান পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে সিগারেট ধরিয়ে রোজের মুখের সামনে ধোঁয়া ছাড়ে।

রোজ দুহাতে ইউভানের শক্ত গ্রিবা থেকে নিজেকে ছাড়াতে জোরজবরদস্তি করতে থাকে। সিগারেটর ঝাঁঝালো গন্ধে রোজের গাঁ গুলিয়ে মাথা ঘুরতে শুরু করে।রোজের সিগারেট ধোঁয়া সহ্য হয়না।ইউভান তাচ্ছিল্য হেসে রোজকে নিজের কাছে টেনে এনে বড় বড় পা ফেলে রেড কার্পেটর উপর হাঁটতে শুরু করে পাশে থাকা গার্ডেরা মাথা নিচু করে কুর্নিশ করে থাকে।ইউভান রোজকে টেনে টেনে প্রবেশ আলবার্ট ম্যানশনের বওশাল বিলাসবহুল ডাইনিং স্পেসে।ইতালিয়ান মার্বেলে তৈরি ফ্লোরগুলো।ভিতরের প্রত্যেকটা আসবাবপত্রে আভিজাত্যের ছোঁয়া মিশে আছে।তবে সব কিছু বিদঘুটে কালো রঙের সাজানো।রোজ ভিতরে পাঁ ফেলার আগেই তার নিঃশ্বাস আটকে আসে।রোজের শরীরে ছুঁইয়ে ঠান্ডা বাতাস যেতেই পুরো শরীরটা জমে উঠেছে।

ইউভান ম্যানশনের ভিতরে পাঁ রাখার মূহুর্তেই রোজকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় মার্বেল ফ্লোরে। সমস্ত শরীরের হাড় ভাঙ্গার ন্যায় কুঁকড়ে উঠে রোজ, কোমড়ে ব্যাথা অনুভব করার আগেই পিছলিয়ে গিয়ে ডাইনিং স্পেসের মাঝে সোফার সামনে গিয়ো পড়ে।হাতের তালু ফ্লোরে ঘষে ছিলে গিয়েছে। যন্ত্রণায় কলিজার মুচড়ে উঠে ছিঁড়ে যাবে যেনো।ঠোঁট উল্টো করে কেঁদে কাঁপা কাঁপা হাত গুলোতে চোখ বুলাতে থাকে। ছিলে গিয়ে র’ক্ত জমে উঠেছে। রোজ শব্দহীন কেঁদে সোফার দিকে অশ্রুশিক্ত নয়নে তাকাতেই দেখে সোফার উপর পাঁয়ের উপর পাঁ তোলে বসে আছেন একজন বৃদ্ধা ড্যানিশ মহিলা, বয়স ষাটের ঘরে হবে।তবে চেহারায় বয়সের বিন্দু পরিমাণ ছাপ নেই।সাদা চুলের গোছা নিখুঁতভাবে বাঁধা। গলায় ছোট্ট প্লাটিনামের মুক্তোর মালা হাতে রূপালি ব্রেসলেট।

যিনি আর কেউ না ইউভানের দাদি গ্র্যান্ডমাদার এ্যাশ এমিলিও আলবার্ট R.C group of industry এর চেয়ারম্যান উইমেন।ইউভানের বাবার মৃত্যুর পর স্পাইডার ব্লাড সার্কেল ভেঙে তিনি জন্ম দেন এক নতুন নাম R.C. Group।সব অপরাধের চিহ্ন মুছে দিয়ে ব্যাবসাকে বৈধতার মুখোশে ঢেকে দেন।যেনো কোনো কিছুর ছায়া ইউভানের উপর না পড়ে। ইউভান বাড়ি ফিরেছে তা তার চোখে পড়ার আগে গ্যান্ডমাদার তার চোখের সোনালী ফ্রেমের চশমাটা খুলে রোজকে এভাবে পায়ের কাছে এসে পড়েতে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন।রোজের ফেঁকাসে মুখখানা যেনো খুব পরিচিত মনে হলো তার কাছে।ব্রাউন আই’স। কি স্নিগ্ধ নরম মুখ।কোথাও একটা মিলানোর চেষ্টা চালিয়ে হঠাৎ বিষম খেয়ে ইউভানের উপর প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে,
রিক!এগুলো কেমন আচরণ। আর এই মেয়ে কে?
ইউভান রোজের সামনে এসে পাশের সিঙ্গেল সোফায় পায়ের উপর পাঁ বসে পড়ে, বাঁকা হাসির রেখা টেনে ব’লে,

“হবে কেউ একজন”
ইউভান কথা এড়িয়ে যাচ্ছে দেখে গ্যান্ডমাদার দামিয়ানদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ব’লে,
“সবাই সাইলেন্ট হয়ে আছো কেন? আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি তো।”
“আলবার্ট ম্যানশনের নতুন মে’ইড”-ইউভান ঘাড় নিচে করে রোজের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ব’লে। বিয়ের পরও মে’ইডে পরিচয় পাওয়ার পর রোজের মুখের কি পরিবর্তন আসে তা দেখতে ইউভান ঠোঁটে আঙুল রেখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রোজের দিকে। তবে রোজের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না।ইউভান যে তাকে নিজের দাবা খেলার গুটি বানিয়েছে তা বুঝার সক্ষমতা রোজের আছে।ইউভানের মতো বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষকে তো সে নিজেই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেনি।সেখানে বউয়ের পরিচয় চাইবে কোন আক্কেলে।তবে খারাপ লাগা কাজ করে নিজেকে এতোটা নিচু অবস্থায় দেখতে।রোজ তাকালো না। ফ্লোরের পানে চোখ রেখে কেঁদে যাচ্ছে।গ্যান্ডমাদার মিসেস এ্যাশ রোজকে উঠে দাঁড়ানোর আদেশ দিয়ে ইউভানকে আবারও জিজ্ঞেস করে,

“মে’ইড?কোনো ম্যানশনে মোনা আর লিসা তো আছে, তোমার হঠাৎ মে’ইডের প্রয়োজনীয়তা কেন পড়লো বলবে আমায়?”
“ইউ নো আই লাভ বাঙালি ফুড’স। মোনা লিসা এরা ঠিক মতো পারে না।ভাবলাম কেনো না বিডিতে এসেছি একটা জবর’দস্ত মে’ইড সাথে নিয়ে এলে মন্দ হবে না তাই না।শুনেছি বাঙালি উই’মেনরা অনেক ঘরোয়া টাইপের।”
“শুধু তাই? ”
ইউভান রোজের দিকে হালকা ঝুঁকে ব’লে,
“কি মিসেস রোজ পারবেন তো আলবার্ট ম্যানশন সামলাতে??। ”

রোজ দাঁতে দাঁত পিষে উঠে দাঁড়িয়ে গ্যান্ডমাদার এ্যাশ এর মুখোমুখি হয়।মিসেস এ্যাশ একবার ইউভানের দিকে তাকায় তো একবার রোজের দিকে।একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে চোখে চশমা টা পড়ে নেয়।ইউভানকে তিনি খুব ভালো করে চিনেন হুট করে বাংলাদেশ যাওয়া তাও আবার কাউকে কিছু না ব’লে, আবার সাথে করে এমন সুন্দর একটা মেয়ে নিয়ে আসা।রোজকে দেখে তার ভালো ঘরের মেয়েই মনে হতে থাকে।মনটা বারবার অজানা কারণে খচখচ করে উঠলেও নাতীকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলেন না আর।বেপরোয়া ছেলেকে যেরা করেও কোনো লাভ ল’স কিছু হবে না।মাথায় যা আসে তা করে।রোজকে একবার পাঁ থেকে মাথা পর্যন্ত পরক করে নেয়।তার সন্দেহর মাত্রা তিব্র হতে থাকে,তবে ইউভানকে বুঝতে না দিয়ে চশমা ঠিক করে ব’লে,

“মোনা, লিসা থেকে সব কিছু রু’লস জেনে নিও।”
গ্যান্ডমাদার কথা শেষ করার আগেই ইউভান সোফা ছেড়ে লাফিয়ে উঠে রোজের হাত ধরে দুতালায় নিজের বেড রুমের উদ্দেশ্য পাঁ বাড়াতেই যাবে।মিসেস এ্যাশ থামিয়ে দেয়। ইউভানকে রোজের হাত ধরতে দেখে সেদিকে দৃষ্টি ফেলে বলেন,

“রোজ কেন উপরে যাবে?মেই’ডদের বেডরুম তো নিচে”-বলেই তিনি লিসাকে ডাকে। লিসা এলে তাকে বলে নিচতলার পশ্চিমের শেষর রুমটা ক্লিন করে রোজের থাকার ব্যাবস্থা করে দিতে।লিসা রোজকে তার সাথে যেতে বললে।রোজ কান্নার মাঝে একটু প্রশান্তি খুঁজে পায়।হাঁপ ছেড়ে বাঁচার ন্যায় জামা খিচে গুটিগুটি পায়ে লিসার পিছন পিছন যেতে থাকে। ইউভান মূর্তির ন্যায়কিছুক্ষণ রোজের চলে যাওয়া দেখতে থাকে।র’ক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সজোরে সোফায় লাথি মেরে গদগদ করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়।মিসেস এ্যাশ কপালে হাত রেখে সোফায় বসে পড়েন।ইউভানের কর্মকান্ডে প্রায়সময় তার প্রেশার হাই হয়ে যায়।মাথা টন টন করে উঠতেই মোনাকে আদেশ দেয় তার জন্যে এক কাপ চা বানিয়ে আনতে।

রাত প্রায় এগারোটা।রোজকে দেয়া রুমটা বেশ্ বড় না হলেও তেমন ছোটো ও না।মে’ইডদের বেডরুমও যে এমন হয় তা সে এখানে না আসলে যানতই না,এগুলো যদি এমন হয়,দু-তলার গুলো না জানি কেমন বিলাশবহুল হবে। রোজ সেই যে রুমে প্রবেশ করেছে আর বের হয়নি।লিসা এসে রোজকে খাবার দিয়ে গিয়েছিলো তাও সে খায় নি ঠিকমতো।রোজ বিষন্ন ভরা মন নিয়ে বেলকনিতে বসে ছিলো।আকাশের পানে তাকিয়ে সব অভিযোগ করছিলো তুলে ধরছিলো মৃত মায়ের কাছে। আকাশের তাঁরা গুনা ছোটোবেলার অভ্যাস তবে আজ আর সেদিকে মন গেলো না রোজের।সে কি নিজের জীবনের সকল প্রকার সুখ শান্তি হারিয়ে ফেললো নাকি।
“তবে কি আঠারোতে পাঁ ফেলার আগে জীবনের সুখ, শান্তি সারাজীবন এর জন্যে হারিয়ে ফেললো রোজ।”

নিজকে বিশুদ্ধ করা দরকার। রোজ শাওয়ার নিতে এলো। ঝর্ণার পানি ছেড়ে বসে থাকলো কিছুক্ষণ। চোখ দুটো কেঁদে কেঁদে ফুলে উঠেছে।কনকনে শীতের মধ্যে শাওয়ার নিচ্ছে।ঝর্ণার নিচে বসে খুব করে কাঁদলো।কাঁদলে মন হালকা হয়।শাওয়ার শেষ করে শরীরে শুধু টাওয়াল জড়িয়ে রুমে প্রবেশ করে। রুমটা পুরোটা অন্ধকার করা।শুধু বেলকনি থেকে আগত চাঁদের আলো রোজের শরীরে এসে পড়ে আছে।রোজের চুল বেয়ে জল টুপটুপ করে পড়তে থাকে।রোজ মিররের সামনে এসে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে থাকে। চাঁদের আলোটাও ভালো লাগছে না তার।অসহ্য লাগছে আলো।সামনে এগিয়ে বেলকনির পর্দা লাগিয়ে দেয়।হঠাৎ নিজের উ’ন্মুক্ত উ’রুতে একটা শীতল হাতের স্পর্শ পেতে রোজের পুরো শরীর কম্পিত হয়ে উঠে। হাতের স্পর্শ উরু বেয়ে উপরে উঠে রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে তাকে ঠান্ডা দেয়ালে ঠেসে দেয়।রোজ ভয়ার্ত হয়ে তাকাতেই তার মনে পরে যায় সে তো ডোর লক করে নি।বেলকনি থেকে আগত ঠান্ডা বাতাসে পর্দা সরে চাঁদের আলো পড়তেই দেখে ইউভান তাকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।পড়নে নাইট সুট।বুক উন্মুক্ত হয়ে সৌষ্ঠব বুক ভাসমান হয়ে আছে। এবারের মতো ইউভানের ধূসর চোখ জোড়া রোজ দেখতে পায়।চাঁদের আলোতে তা জ্বল জ্বল করছে।

রোজের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে।পানির তৃষ্ণায় কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
“আ…আপনার সমস্যা কি।আমার রুমে কেনো এসেছেন। ”
ইউভান রোজের টাওয়ালে আঙুল ঢুকিয়ে আরও কাছে টেনে ব’লে,
“আমার বাড়ি, আমার ব …. ”
একটু থেমে,
“সবি তো আমার, সো হুয়াট। তুই কি অন্যে কাউকে আশা করেছিলি”
“লজ্জা করে না আপনার।সবার সামনে আমাকে মেই”ড বানিয়ে আবার আমার রুমে এসেছেন।চলে যান বলছি”
“কোনো জ্বলে যাচ্ছে নাকি পুড়ে যাচ্ছে তোর শরীর।চল আমার বেড রুমে।”
“মরে গেলেও না। না মানে না।আপনার মুখটা “দেখতে ভালো লাগে না আমার।জানেন নিশ্চয়ই ”
কি ভালো লাগে তাহলে,বল,সেটাই নাহয় দেখাবো”

রোজের শরীর জ্বলে উঠছে ইউভানের স্পর্শে।ইউভানতো নেশা করে নি আজ। নেশার কোনো গন্ধ ও আসছে না তার শরীর থেকে। তাহলে ইউভানকে দেখে কেন মনে হচ্ছে সে নেশা করে আছে।রোজের ঠোঁট লাল হয়ে ফুলে কাঁপতে থাকে। ইউভান মাতাল কন্ঠে রোজের অধরে আঙুল ঠেকিয়ে কানে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
“If you S my D, i will S Your B,
F your P, till you C,”
রোজ ইউভানকে ধাক্কা দিয়ে সরে যেতে নিলে ইউভান এক হাত দিয়ে রোজের দু-হাত চেপে ধরে ফেলে। রোজের ললাটের চুল সরিয়ে আঙুল ছুঁয়ে রোজের মুখের দিকে অগ্রসর হতেই রোজ মুখ ফিরিয়ে নেয়। ইউভান রোজের থুতনি চেপে ধরে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ঠোঁট ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। রোজ নিঃশ্বাস আটকে গোঙিয়ে উঠে। দেয়ালে পিঠ ঘষে নিস্তেজ হয়ে পড়ে যেতে নিলে ইউভান মুখ সরিয়ে রোজকে কোলে তুলে নেয়।রোজ আকুতি ভরা দৃষ্টি ফেলে ব’লে উঠে,

“ছেড়ে দিন প্লিজ”
ইউভান বেডে বসে রোজকে নিজের উ’রুর উপর বসিয়ে দেয়। ইউভান রোজের বুকে নাক ঘষে শরীরে ঘ্রান নিয়ে শ্বাস টানতে থাকে।রোজ উঠে যেতে নিলে ইউভান আরও শক্ত করে চেপে ধরে বসিয়ে দেয়। ইউভান এলোপাতাড়ি রোজের স্পর্শকাতর স্থানে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে থাকে।রোজের টাওয়াল খুলে শরীর উ’ন্মুক্ত করতেই রোজ কেঁদে উঠে। তারপর ইউভান রোজের পেট জোরে আকড়ে ধরে উন্মাদনায় মত্ত হয়ে ঘাড়ে অগনিত চুমু খেতে খেতে দাঁত বসিয়ে দেয়। রোজ মৃদু ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। ইউভান নেশালো সুরে বড় শ্বাস টেনে ব’লে
“যাস্ট ফিল মি।”

ইউভান হিংস্রাত্তক হয়ে নিজের ওষ্ঠাধর দিয়ে রোজের অধর আকড়ে ধরে। উন্মা’দ হয়ে চু’ম্বন তিব্র করে কামু’ড় বসিয়ে দেয়। রোজ গোঙিয়ে উঠে।রোজকে ছটপট করতে দেখে ইউভান তাকে বিছানায় শুয়ে দেয়।ইউভানের শরীরে যেনো দাবানল জ্বলে উঠেছে।রোজ ব্যথায় ইউভানের চুল খামচে ধরতেই ইউভান পাগলপায় হয়ে কা’মুড় আরও তিব্র করতেই রোজের ঠোঁটে কে’টে দু ফোটা শীতল র’ক্ত বালিশে পড়ে,যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রোজ ইউভানের পিঠে আঘাত করতে থাকে।ইউভান রোজের হাতের আঙুলে আঙুল ঢুকিয়ে, ঘাড় গলায় সমান তালে ওষ্ঠ ঠেকাতে থাকে।কানের ল’তিতে চুমু খেতেই রোজ হিম শীতল হয়ে জমে যায়।চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তেই ইউভান ব’লে উঠে,

love or hate part 8

“Darkrose, I want to sp’lit you,and li*ck the Middle part of u.
ইউভান এক টানে নিজের পড়নের নাইটসুট খুলে হিংস্র হয়ে ওষ্ঠের লড়াইয়ে নামতেই ডোরে কারোর ধাক্কার শব্দ ভেসে আসে……

love or hate part 10