Home Love or Hate love or hate part 14

love or hate part 14

love or hate part 14
ইভেলিনা তূর্জ

তীক্ষ্ণ ধারালো ছুঁড়িটা কার্জনের গলা ভেদ করে দেয়ালে গেঁথে গেলো ঠিকি তবে তা আদ্রিয়ানের গাল স্পর্শ করে যাওয়ায় গালের চা\মড়া অল্পখানিক কেটে গাল বেয়ে র*ক্ত রোজের হাতে চুপচুপ করে পড়তে শুরু করে।রোজ আদ্রিয়ানের গলা ছেড়ে হাতটা চোখের সামনে ধরতেই রোজের হাত বেয়ে গরম র’ক্ত কনুই দিয়ে মেঝেতে পড়ে।রোজ আঁতকে উঠে একবার মেঝেতে চোখ ফেলে আবার আদ্রিয়ানের গালে দৃষ্টি ফেলে অস্পষ্টস্বরে মৃদু শীৎকার দিয়ে উঠে,

-“আপ..আপনার গাল।আপনার গাল.. এ..এতো র’ক্ত….. ।”
হঠাৎ করে মিউজিকের শব্দ আরও উচ্চশব্দে বাজতে শুরু করে।রোজ নিজের কান চেপে ধরে ফেলে।পুরো ফ্লোর অন্ধকার। তাদের দুজনের মাঝে শুধু মৃদু রশ্মি জ্বল জ্বল করছে।আদ্রিয়ানের মিউজিক বা নিজের তেজস্ক্রিয় ক্ষতর উপর কোনো ধ্যানজ্ঞান তো দূরে থাক সে মোহাবিষ্ট নয়নে রোজকে বিভোর হয়ে দেখছে।রোজের কোমল চাহনিতে মুগ্ধ হলো আবার।দু’দিন ঘুমোতে পারেনি।কি আছে সামনে থাকা ভিনদেশী নারীর ঐই চোখজোড়ায়। কিসের এতো টান।ভূকম্পনের ন্যায় কম্পিত হওয়া হৃদস্পন্দন যন্ত্রটা আরও তীব্র বেগে কম্পিত হতে লাগলো, রোজ নিজের জামার অগ্রভাগ দিয়ে আদ্রিয়ানের গাল চেপে র’ক্ত পড়া বন্ধ করতে লাগলো।চারপাশের কোনো কিছু রোজের বুঝের হয়ে উঠলো না।চোখের সামনে দিয়ে কিছু একটা তীর্যকগতিতে ছুটে গেলো আদ্রিয়ানের গাল ছুঁয়ে, এতেও আদ্রিয়ানের কোনো হিতাহিতজ্ঞান নেই।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রোজের পুরো শরীর ঠান্ডায় জমে উঠেছে।ততক্ষণাৎ উপায়ন্তর না পেয়ে রোজ যেই মূহূর্তে আদ্রিয়ানের হাত নিজের কোমড় থেকে ছাড়িয়ে নিতে নিচে দৃষ্টি ফেলে,রোজ দেখতে পায় একটা আগুন্তকঃ হাত আদ্রিয়ানের পেট বরাবর সাইলেন্সারযুক্ত বন্দুক নিশানা করে রেখেছে।রোজের কপাল বেয়ে গুরিগুরি ঘাম পড়তে শুরু করে।নিঃশব্দ চাহনিতে আগুন্তকঃ হাতটা কার পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে অগ্নিশিখায় লেলিহান চোখে রণমুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে ইউভান।আদ্রিয়ান যেমন কিঞ্চিৎ পরিমাণ নড়ছে না ইউভান ঠিক সেভাবেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে,দু’জনে দৃষ্টি রোজের উপর নিক্ষেপ করা,রোজের শ্বাস আঁটকে এলো।দু-জোড়া চোখের দিকে পরপর তাকালো,এক জোড়া চোখে শীতল মুগ্ধতার সংমিশ্রণ অন্যটায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর উত্তাল লাভা।ইউভান যে মুহূর্তেই সবকিছু রণক্ষেত্রে রূপ দিবে তা রোজ ঠিকি বুঝলো।শুকনো ঢুক গিলে ইউভানের হাতের থেকে বন্দুকটা টানতে উদ্ধৃত হলে ইউভান হেঁচকা টানে রোজের পিঠ নিজের ব’ক্ষে মিশিয়ে নেয়।পিছন থেকে রোজের ঘাড়ে থুতনি ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে তীক্ষ্ণ কন্ঠে গর্জে উঠে,

-“শরীরে যদি এতোই তেজ,আমায় বলতি আমি মিটিয়ে দিতাম।ফা*ক,নাচার এতো শখ,নাচার জন্যে লোক কম পড়ে গিয়েছিলো নাকি!নাকি আজ কাল শএু শিবিরেই বেশি শান্তি পাস।”
রোজ ইউভানের ঘ্রিবা থেকে খাচা বন্দি পাখির ন্যায় ছটফট করতে শুরু করে।বিরক্তিভরা চাহনিতে ইউভানকে সরিয়ে দিয়ে ব’লে,
“-একদমি ছুঁবেন না আমায়।আর আপনি বন্দুক নামান বলছি।ওনার উপর বন্দুক কেন তাক করে রেখেছেন।”
তারপর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে রোজ আবার ভয়ার্ত স্বরে ব’লে উঠে,

“-আ…আপনি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো, আপনাকে মেরে ফেলবেন ওনি।কি হলো চুপ করে আছেন কেনো।”
রোজের কাঁপতে থাকা কণ্ঠস্বর ভেদ করে নিস্তব্ধতার ভিতর এক অদ্ভুত শীতলতা নেমে এলো।আদ্রিয়ান তখনো নড়ছে না, শুধু রোজের চোখে চেপে থাকা আতঙ্ক, তার হাতের গরম রক্তের ছোঁয়া এই দুটো জিনিসই তাকে কোনো অদ্ভুত হিস্টিরিক মোহে আবদ্ধ করে রেখেছে।

তার ঠোঁটের কোনে অতি সামান্য, বিপজ্জনক হাসির রেখা ফুটে উঠলো।এমন হাসি যা দেখলে মনে হয় অন্তরালে কোনো পিশাচ শ্বাস নিচ্ছে, কিন্তু সে মুখে কিছুই বলছে না।রোজ আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে কাঁপা শ্বাসে অনুনয় করলেও আদ্রিয়ান যেন সেই কণ্ঠস্বরই শুনছে না। সে কেবল রোজের চোখের দিশা অনুসরণ করে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে ইউভানের হাতে থাকা বন্দুকের দিকে তাকালো।
দৃষ্টি শীতল তবে নির্মম।কিন্তু ইউভান রোজকে শক্ত করে ধরে রেখেই আগুনরাঙা চোখে অদ্রিয়ানের সঙ্গে দৃষ্টি লড়াই শুরু করে দিলো।ইউভান রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে কর্কশ কন্ঠে হাসলো,

-“তুই কতোটা ছোটলোক চিন্তা কর,তোর তো দেখি রিক চৌধুরীর জিনিসের প্রতি বেশি আকর্ষণ হউক সেটা প্রোপার্টি কিংবা….. ”
ইউভান এক মূহুর্ত থেমে আবার তাচ্ছিল্যে হেসে ব’লে,
-“রিকের ফা*কিং মে’ইড”
রোজ ইউভানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে নিজের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে ব’লে,
-“হাত ছাড়ুন আমার।আমি বলছি হাত ছাড়ুন।”
আদ্রিয়ান ধীরে শান্ত স্বরে ইউভানকে উদ্দেশ্য করে ব’লে,

-“মিস্টেক হয়ে গেলো তো।নিজেদের ঝামেলায় বাহিরের কাউকে না টানাই ভালো।ইট’স অ্যা নরমাল ইস্যু।এই টুকু বোঝার ক্ষমতা আশা করছি রিক চৌধুরীর হয়েছে।মেয়েটাকে ছেড়ে দে।শুধু এই মেয়ে কেনো পুরো বেসমেন্ট খালি কর।তারপর না-হয় চুক্তি সারাজীবনের মতো চুকিয়ে দিবে আদ্রিয়ান শাহ।
আদ্রিয়ানের এমন খামখেয়ালি শান্ত রূপে আরও ত্যাক্ত হলো ইউভান।এক পা এগিয়ে আদ্রিয়ানকে মারতে উদ্ধৃত হয়েও পারলো না।শরীরের লেলিহান আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে গর্জে উঠে,

-“শু*য়োররররর!এতোই বা’ল বুঝলে বর্ডার ক্রস করতে যাস কেনো।”
-“ওয়েট।হুয়াট ডু ইউ মিন ব্যাই বর্ডার? ”
-“তোর এসব বা’ল বুঝা না বুঝাতে অ্যাম নট ফা*কিং ইন্টারেস্টে’ড।
মূহূর্তেই ইউভান তাক করা বন্দুকটা আদ্রিয়ানের পেট ছেড়ে গলায় তাক করে,পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে ব’লে,
-“রিক মৃত্যুকে ভয় পায় না।Am not afraid of Death Ass*hole !তোর চামচাকে বল আমার পিঠ পিছে বন্দুক না ধরে সামনে এসে দাঁড়াতে।”

পরক্ষণেই পুরো ডান্স ফ্লোরের লাইট জ্বলে উঠে। পুরো ফ্লোর ফাঁকা।আদ্রিয়ানের ডান হাত আবরার ইউভানের মাথায় বন্দুক তাক করে রেখেছে।আপরদিকে একটু দূরে তুষার,দামিয়ান,লাড়া,রাহাসহ ঘিরে রেখেছে আদ্রিয়ানের চারপাশ।রোজ এইসব কিছুই বুঝতে পারছে না।সে শুধু ভয় আর বিভ্রান্তির মধ্যেই আটকে আছে।ইউভান এতোটাই শক্ত করে রোজের হাত চেপে ধরে রেখেছে, রোজ চাইলেও ইউভানের কাছ থেকে ছাড়া পায় না।তবে পুরো ফ্লোরে আলো জ্বলে উঠার সঙ্গে সঙ্গে রোজ অপর হাতে মুখ চেপে ধরে ফেলে।শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। কিছুক্ষণ আগের স্বাভাবিক পরিবেশ কি করে এতো লৌহমর্ষক রূপ নিলো।তা রোজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ভেদ করতে না পারলেও ইউভানের লোকেরা আগে থেকেই ওত পেতে ছিলো
তার আগের রাত থেকেই সব পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখা। অন্যদিকে, আদ্রিয়ানও খবর পেয়ে গিয়েছিলো।তার চুপচাপ, হিসেবি মুখের পেছনে ছিলো ঝড়ের মতো প্রস্তুতি।আজকের পার্টি মাত্র একটা ফাঁদ। দু’পক্ষই জানত। তবে এদের মাঝে রোজ এক প্রকার ফেঁসে গিয়েছে।হঠাৎ ব্যাকস্টেজের কালো পর্দা নড়তেই
ইউভান আপর হাতে ওয়াকিটা বের করে চাপ দিয়ে নিচু স্বরে নির্দেশ দেয়।

“ফেজ থ্রি। পজিশন নাও।”
ইউভানের গার্ডরা ইতিমধ্যে ইউভানের আন্ডারকভার লোকজনদের চিহ্নিত করে ফেলেছে।কিন্তু আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোনে হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি ফোটলো।
আবরার, আদ্রিয়ানের এর ডান হাত আর চোখের ইশারাই বুঝে গেলো।এক থর থর করা নীরবতা ঘনিয়ে এলো চারপাশে।তবে আবরার কিঞ্চিৎ হতবাক হলেও টের পেলো আদ্রিয়ান শাহ এর অন্তরের এক চোরাগোপ্তা আকাঙ্ক্ষা সে কোনোভাবেই রোজকে ভয় দেখাতে সে চায় না,বরং আড়ালে সেই ভয় নিজের দিকে টেনে নিতে চায়।ইউভান রোজকে ধরে রেখেছে, কিন্তু তখন তার চোখে অন্য আগুন জ্বলছে,রোজের জন্য না,বরং সামনে থাকা সেই প্রাচীন শত্রুর জন্য।

এই লড়াই রোজকে নিয়েও না,অথচ অদ্ভুতভাবে আজকের সংঘর্ষটা রোজের উপস্থিতিতে কয়েকগুণ বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।আদ্রিয়ানের ইশারায় আবরার ইউভানের পিছনে থেকে সরে গিয়ে রাইফেল নিচে ফেলে দেয়।চারপাশ গাঁ ছমছম নিঃস্তব্ধতা।আবরার সরে যেতেই ইউভান রোজকে ঘুড়িয়ে নিজের হিংস্রতা প্রকাশ্যে আনতেই আদ্রিয়ান সুযোগ বুঝে রোজকে টেনে নিজের পিছনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়।নরম গলায় ঘাড় হেলিয়ে রোজকে শান্ত করার উদ্দেশ্য নিচু স্বরে ব’লে,

-“Clam down!এই রুম থেকে বের হতে হবে।আমার গার্ড আবরার তোমাকে সেইফ জোনে নিয়ে যাবে।”
এতো এতো অপরিচিত মুখের ভিড়ে রোজের দম এমনিতেই বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম তার উপরে এখন এদের হিংস্রতা রোজ কাউকে বিশ্বাস করে না।ভয়ে, রাগে চোখের কোণে না চাইতেও জল জমে উঠেছে। বড় একটা শ্বাস টেনে দু’হাতে জামা খিচে ধরে মাথা নাড়ায়।
-“আমি আপনার কথা কেন শুনবো।আপনিও এসবের সাথে যুক্ত। আপনারা সবাই এক নদীর মাছ।
আদ্রিয়ান রোজকে নিয়ে এক পাঁ পিছুতে পিছুতে রোজকে আশ্বাস দিয়ে ব’লে,
“-অ্যাম ন’ট ডেঞ্জার ফর ইউ।বিলিভ মি রেড।”

রোজ শুকনো ঢুক গিলে আদ্রিয়ানের পিছন থেকে ইউভানের দিকে কিছুটা কাঁপা দৃষ্টি ফেলতেই আঁতকে উঠে রোজ।ইউভান কেমন অবনরত কেমন ভারী শ্বাস টানছে।তার দৃষ্টি অস্বাভাবিক হয়ে হিংস্রতায় পরিণত হচ্ছে, রোজ সব ভূলে মেইন ডোরের দিকে দৌড় দিতে যাবে তার আগেই ইউভান হিংস্র পশুর ন্যায় থাবা ফেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আদ্রিয়ানের উপর অনবরত ঘুষিরাঘাত মারতে থাকে। আদ্রিয়ানের নাক থেকে র’ক্ত ছিটকে ইউভানের গালে পড়তেই।ইউভান ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতো নাকের পাটা ফুলিয়ে তোলে।ততক্ষণে ইউভান নিজের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গিয়েছে।তার ভিতরের অতৃপ্ত ক্ষুধার্ত দানবটা বেরিয়ে এসে আদ্রিয়ানের বুকে গুলি করার আগেই রোজ দৌড়ো এসে কেঁদে উঠে ইউভানের বন্দুকটা উপরের দিকে উঠিয়ে দেয়।গুলি ঠিক উপরে থাকা ঝাড়বাতিতে পড়তেই কড়মড় শব্দে ঝাড়বাতি ছিঁড়ে মেঝেতে পড়ে কাঁচের টুকরো চারপাশে ফুলের পাপড়ির মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে থাকে।রোজ আকুতি ভরা কন্ঠে ইউভানের কোমড় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ব’লে,

-“ছেড়ে দিন মানুষটাকে।দয়া করে থামান মৃত্যু খেলা।আর কতো জানো*য়ারের পরিনত হবেন।”
আদ্রিয়ানের ইশারার নিষেধের ফলে না আবরার এক পাঁ নড়তে পারছে আর না লোকজনদের আদেশ ছুঁড়তে পারছে। বসে্র কথা অমান্য করতে পারছে না।আদ্রিয়ান শুধু রোজের দিকে এক পলক তাকিয়ে মৃদু হেসে উঠে।তবে চোখজোড়া র’ক্তিম লাল।ইউভান চোখে ধ্বংসের প্রফুল্লতার ছায়া।প্রতিহিংসার দাবানল যেনো সর্বঘ্রাস করে নিয়েছে তাকে।ইউভান মুহূর্তেই রোজের চুল শক্ত করে চেপে ধরে টেনে নিজের মুখোমুখি করে দু গালে চড় বসিয়ে দেয়।অসহ্য যন্ত্রণায় রোজ কেঁদে উঠে, চুলগুলো খুলে পিন গুলো নিচে টুপটুপ করে পড়তে থাকে। ইউভান উচ্চশব্দে চিৎকার করে উঠে,

-“এই বান্দী।আমার কাজে বাঘ্রা দেয়ার পরিণতি কি হতে পারে তা এতোদিনেও বুঝতে পারিস নি।আমি কি হাল করতে পারি তোর কোনো আইডিয়া আছে?….
একটু থেমে রোজের গাল চেপে ধরে,
“-আমার জীবনের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিস।উপরে ফেলতে পারছি না কেনো।কাঁটার মতো যেখানে সেখানে বিঁধে যাস কেনো।”
রোজ ইউভানের লেলিহান চোখের দিকে তাকিয়ে চোখের জল নিয়ে হেসে উঠে,

-“কাঁটা?কাঁটার আঘাত সহ্য করার জন্যেও অনূভুতি দরকার যা আপনার মধ্যে নেই।কারণ আপনি তো মানুষের কাতারে পড়েনি না।আপনি একটা মানুষ রূপী শয়তান।যদি ক্ষমতা থাকতো আপনাকে মেরে ফেলার তাই করতাম।কিন্তু আপনাকে মেরে নিজের হাত নোং*রা করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।”
রোজ বাক্যে শেষ করার আগেই তীব্র বেগে অগ্নিশিখার গতিতে একটা বুলেট ইউভানের হাতের মাঝবরাবর বিঁধে যায়।ইউভান অপর হাতে আরও শক্ত করে রোজের কোমড় শক্ত করে চেপে ছিটকে যায় পিছনের দিকে।ইউভান আদ্রিয়ানের দিকে অনবরত সুট করতে থাকে। তবে আদ্রিয়ানের গার্ডরা এসে তাকে প্রটেক্ট করে নেয়।পরক্ষণেই পুরো ফ্লোরে হট্টগোল পড়ে যায়।ভয়ানক বিশৃঙ্খলা। ডান্স ফ্লোর দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।দামিয়ান ইউভানের দিকে ছুটে আসতে নিলেই ইউভান হাত নাড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেয়।
পরক্ষনেই ডান্স ফ্লোরের কোণে কোণে গার্ডা জড়ো হয়।
Tzzz–Tzzz–Takk!
পরপর সাইলেন্সড গুলির শব্দ।

আদ্রিয়ানের গার্ডরা প্রায় বৃত্ত তৈরি করে সামনে এগিয়ে গেল।ইউভানের গার্ডরা অন্ধকারের বিপরীত দিক থেকে ছুটে এলো।দুই দলের ছায়া এক সঙ্গে আছড়ে পড়তেই পুরো ফ্লোর এক মুহূর্তে অরাজক রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিল।ইউভানের হাত থেকে চুপসে র’ক্তধারা বেয়ে পড়তে শুরু করে। কিন্তুু তাও সে রোজকে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।এক পলকের মধ্যে পুরো হলরুম অন্ধকারে ডুবে গেলো। শুধু লাল জরুরি লাইটগুলো জ্বলে উঠল।ম সেই লাল আলোয় ইউভানের চোখ দুটো যেন রক্তের আগুনে জ্বলতে থাকে। রোজ ইউভানের এমন ভয়ানক রূপ আর দেখতে পারছে না।চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসছে,এখান থেকে পালাতেও পারছে না।ইউভানের শক্ত হাতের ঘ্রিভায় আবদ্ধ সে।শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে। ইউভানের শুধু এক ঠাণ্ডা শিস… আর পরের মুহূর্তেই তার গার্ডরা চারদিক থেকে ফায়ারিং শুরু করে দেয়।

আদ্রিয়ানের গার্ডরা দ্রুত প্রতিরোধে নামে। ভারী বুলেটপ্রুফ স্যুটে মোড়া সেই মানুষগুলো নিচে ঝুঁকে টেবিল উল্টে ব্যারিকেড বানায়।আদ্রিয়ানের আহত দেহটা নিয়ে আবরার সেদিকে যায়।যদিও ইউভানকে গুলি করার পর একটু শান্তি অনূভুত হচ্ছে।রোজ বুঝতে পারেনি ইউভানকে কে গুলি করেছিলো। দু’পক্ষের গুলির লড়াই যেন দুই সাম্রাজ্যের পুরনো রক্তশত্রুতার প্রতিধ্বনি।একই সময় তুষার বাঁদিকের কলামের আড়াল থেকে বেরিয়ে ডাবল-ফায়ার করে আদ্রিয়ানের দুই গার্ডকে ফেলে দেয়। ইউভানের চোখ রাগে ধু ধু করতে থাকে। দু’ক্ষণের মধ্যে দুই পক্ষই অর্ধেক মানুষ হারিয়েছে।হলরুম কুয়াশার মতো গানপাউডারে ভরে গেছে।আদ্রিয়ান জানতো ইউভান কখনো কোনো পার্টি শুধু পার্টির মতো আয়োজন করে না।তাও এতো সহজে তার সাথে ডিলে ইউভানের মতো অমানুষ কোনোদিনও এতো সহজে রাজি হওয়ার কথা না।ইউভানের প্রি -প্ল্যান আগে থেকে টের পেয়েছিলো আদ্রিয়ান।

যার প্রতিটা পদক্ষেপের পিছনে থাকে শিকার করার মতো হিংস্রতা।এজন্যই কয়েকঘণ্টা আগেই আদ্রিয়ান চুপিসারে নিজের টিমকে জায়গা বদলে দিয়েছে।প্রবেশদ্বারের কাছে নয়, বরং ছাদের ওপর স্নাইপার ভ্যানটেজ পয়েন্টে হলরুমের পেছনে নয়, বরং বারের পেছনের ইনভিজিবল করিডোরে।
বার কাউন্টারের পিছনের দিকে রোজকে আটকে রেখেছে ইউভান।রোজের কারণে নড়তেও পারছে না।হাতের আঘাত তার কাছে তুচ্ছ।এসব নতুন কিছু না।তবে রোজের অনবরত ছটফটানিতে বিরক্ত হয়ে আঁছড়ে ধরলো দেয়ালে।ইউভানের গলার শিরাগুলো ভয়ানকভাবে টানটান,ইউভান হাতের পিস্তলটা রোজের থুতনিতে ধরে মুখটা উঁচু করে নিয়ে।রোজের ল’লাটে মুখ নিয়ে শ্বাস টেনে নেয়।রোজ মুখ সরিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। পরক্ষণেই ইউভান রোজের চোয়াল শক্ত করে ধরে রোজের গলায় বন্দুক ধরে লাভা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ব’লে,

“-নষ্ট হয়ে গিয়েছিস তুই”
রোজ ঘৃণায় নাক ছিটকিয়ে ভাঙ্গা গলায় ব’লে,
“-ন-ষ্ট আপনি করে দিয়েছেন আমাকে।আর কি বাকি আছে আমার।”
রোজ বাক্যে শেষ করার আগেই ইউভানের বাহু তার কোমরে জড়িয়ে ধরে।এক ঝটকায় রোজকে নিজের কাঁধে তুলে নেয়,যেন পশুর মতো মালিকানা দাবি করবে এই অনূভুতিহীন যন্ত্রমানবটা।

আদ্রিয়ান তখনো দাঁড়িয়ে আছে এক কোণায়, কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই। লাল আলোয় ভেজা চেহারা নিয়ে, তার মুখ বেয়ে এখনও রক্ত ঝরছে কিন্তু চোখে কোনো ব্যথা নেই, শুধু অবোধ্য আকর্ষণের গভীর নেশা।আবরার তার পাশে এসে দাঁড়াতেই দেখলো আদ্রিয়ানের গায়ের শিরা যেনো ফুলে উঠছে, চোখে রক্তিম রাগ, আর শ্বাসটা অদ্ভুতভাবে ভারী।
আবরার ধীরে বলে উঠে,
“-বস্ হঠাৎ এই পরিবর্তনের কারণ কি?”
আদ্রিয়ান ঠান্ডা, প্রায় ফিসফিসে স্বরে বলে,
-“I’m obsessed.”
একটা মৃতশীতল স্বীকারোক্তি। আবরার স্তব্ধ।
আদ্রিয়ান হাসলো।

পয়তাল্লিশ তলার শেষ করিডরের রুম নাম্বার “4519”
অপ্রস্তুুত ইউভান রোজকে কাঁধে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে রোজকে ছুঁড়ে ফেলে কিংসাইজের মখমলের সাদা বিছানায়।এক পাশে গ্লাসওয়াল।যেখান থেকে পুরো শহর দেখা যায়।পুরো রুম গুটগুটে অন্ধকার। রোজ বেডে উঠে বসে পড়ে, বিছানার চাদর খামচে ধরে পিছাতে শুরু করে।অন্ধকারের আপছা ছায়ায় ইউভানের লম্বা দেহটা আরও ভয়ানক দেখাচ্ছে।রোজের গলা ততক্ষণাৎ শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে।নিঃশব্দ রুমে শুধু দু মেরুর দুই মানব মানবীর তীব্র শ্বাসের শব্দ ভেসে আসে।ইউভান দু’হাতে নিজের শার্টের বুতোম খুলতে শুরু করলে রোজ আঁতকে উঠে। রোজ স্পষ্ট লক্ষ্যে করে ইউভানের ভিতরের অগ্নুৎপাত উন্মাদনাকে।রোজ ততক্ষণাৎ চিৎকার করে উঠে,

-“আপনি আমার কাছে আসবেন না।হল ভর্তি এতো মানুষের সামনে আমাকে অপমান করেও আপনার সাধ মিটেনি বুঝি।আর কি চাই।”
ইউভান শেষের গুতোম খুলে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বা হাতে এখনো গুলিবিদ্ধ। পুরো হাত অবশ হয়ে আছে।তাতে বিন্দু পরিমাণ নজর নেই।কোনো ব্যথাই যেনো ইউভানকে কখনো স্পর্শ করতে পারে না।ইউভান বেডে হাত রেখে রোজের দুপা টেনে নিজের দিকে টেনে এনে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়।রোজের গলার পিছনে হাত রেখে চুল মুষ্টি বদ্ধ করে অবাধ্য স্বরে ব’লে,
“-তোর কারণে আমায় যুদ্ধক্ষেএ ছাড়তে হ’য়েছে।এর হিসেব গুনে গুনে নিবো তোর থেকে।স্ব-ইচ্ছায় কাউকে বি’ষ পান করতে দেখেছিস?”
ইউভানের হিংস্র থাবায় রোজের কোমল দুধ-সাদা মুখ লাল হয়ে উঠেছে।অশ্রুশিক্ত নয়নে ইউভানের চোখে তাকিয়ে জবাব দেয়।

-“পৃথিবীতে সবচেয়ে জঘন্য কোনো বি’ষ নেই যা খেলে মানুষ নরকযন্ত্রণা ভোগ করে অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে…যেটা খেলে আপনার মতো শয়তানরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।”
ইউভান আরো শক্ত করে রোজের চুল ধরে টেনে উচ্চশব্দে অদ্ভুত হাসিতে ফেটে পড়ে।হোটেল রুম যদি সাউন্ড প্রুফ না হতে এমন ধ্বংসমিশ্রিত হাসি প্রত্যকেটা করিডর ভেদ করে চারপাশ কেঁপে উঠতো।রোজের কানের চুলগুলো আঙুল দিয়ে সরিয়ে কানে মুখ নিয়ে গরম শ্বাস ছেড়ে ব’লে,
-“রিকের জীবনে তোর থেকে বড় বি’ষ আর কিছু হতেই পারে না।That’s why am fuc*king hate u”
মুহূর্তেই আবার ব’লে,
-“আমি মরলে তুই বিধবা হয়ে যাবি”

রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলো।তাকালো না ইউভানের দিকে।যদি আর পাঁচটা নারীর মতো তার জীবন হতো।বিয়েটা মন থেকে কবুল করতো।তাহলে এই একটা শব্দ তার হৃদপিন্ড অসহ্য যন্ত্রণা অনুভুত হতো।তবে তার তো মনে হয়না সেও কারোর অর্ধাঙ্গীনী।ভুলেই যায় এই তিক্ত সত্য কথাটা।নিজের ভিতরের সকল প্রকার ক্ষুভ পাহাড়চূড়া সমতল যন্ত্রণাগুলো প্রকাশ্যে এনে রোজ ইউভানের মুখের উপর এক কঠিন বাক্যে ছুঁড়ে দেয়।
“-আমিই ঘনকালো মেঘে ডুবে থাকা প্রথম নারী যে নিজের উপর হওয়া অন্যায় এর পরিবর্তে নিজের বিধবা হওয়া কামনা করলাম।হ্যাঁ আমি বিধবা হলে যদি অভিশাপমুক্ত হতে পারি তবে তাই যেনো হয়।”
ইউভান রোজকে বেডে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।নিশ্চুপে সরে গেলো।কাবার্ডের দিকে হাত বাড়াতে বাড়াতে ব’লে উঠে,
“-রিয়েলি।যদি বিধবা হওয়া তোর জন্যে মঙ্গলজনক হয়।তাহলে সেই মঙ্গল তোর জীবনে না আসুক।তার আগেই তোকে উপরে যাওয়ার টিকিট ধরিয়ে দিবো।”

ইউভান কাবার্ড থেকে একটা কাঁচি বের করে। বাম কাঁধের মাংসে গুলি ঢুকে আছে।কিন্তু তার মুখে ব্যথার কোনো চিহ্ন নেই। বরং লাল চোখ জ্বলছে অদ্ভুত উ’ন্মত্ত আগুনে।ইয়ুভানের নিশ্বাস ভেঙে উঠল, কিন্তু সে থামল না।কাঁচি দিয়ে ক্ষতের ভেতর থেকে বুলেটটা টেনে বের করলো
মাং/সের ভেজা ছিঁড়ে যাওয়া শব্দে।রোজ চোখ সরিয়ে নিলো। ঠোঁট ফাঁক হয়ে বরফ ঠান্ডা শ্বাস বের হলো।ইউভান বুলেটটা তুলে তার চোখের সামনে ধরল।র’ক্তে ভেজা, ঝকঝকে, সদ্য মাং/স থেকে বের হওয়া ধাতব গোলক।এমন বিভৎসতা দেখে রোজের দম বন্ধ হয়ে আসে।লোকটা ঠিক কতো বছর ধরে নিজের ক্ষত নিজে সারিয়ে তোলে কে জানে।ইউভান নিজের হাত ফাস্ট ইট করার ব্যাস্থতার মাঝে রোজ বিছানা ছেড়ে উঠে শব্দহীন পায়ে পিছিয়ে যেতে থাকলো।এই রুম থেকে বের হতে হবে যেভাবেই হউক। রোজ শেষের পাঁ ফেলতেই ইউভান ঘূর্ণিঝড়ের বেগে ছুটে রোজকে টেনে বেডে ফেলে দেয়।রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরতেই ইউভানের ভিতরের রক্ত টগবগ করতে শুরু করে।কপালের শিড়া মুহূর্তেই ফুলে উঠে, রোজের হাতের তালুতে শুকনো র*ক্ত লেপ্টে আছে।গ্রাউনেও।রোজের বুক ওঠানামা করছে ভয় আর টানটান উ’ত্তেজনায়.কিন্তু ইউভানের চোখে সেই সেসবের কোনো অস্তিত্বই নেই, যেন সে মানুষ নয়, ঝড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা কোনো উ’ন্মাদ জন্তু।ইউভান পর মূহুর্তেই হাতের কাচি দিয়ে রোজের পেটের অংশের গ্রাউন ছিঁড়ে ফেলে।রোজ ভয়ে কেঁপে সরে যেতে নিলে।ইউভান রোজের উ’ন্মুক্ত উদর চেপে ধরে,

-“জানো*য়ারটা কোথায় কোথায় টাচ্ করেছে।”
রোজ নিজের জামা আঁকড়ে ধরতেই ইউভান রোজের দু-হাত চেপে ধরে এক হাত দিয়ে, হাড়ভাঙ্গার ন্যায় যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠে ব’লে,
-“জা*নোয়ার ওনি নাকি।আসল জা-নোয়ার তো আপনি”
“-আমি জানো*য়ার? ফাইন আজ তোকে তার উন্মাদ*নায় শিখাবো।”
ইউভানের হিংস্রতা আরও তিব্র বেগে বেড়ে রোজকে বেডে শুয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়।ইউভানের উ’ন্মুক্ত বুকের স্পর্শের রোজের স্নায়ু টানটান হয়ে উঠে। অসহ্য যন্ত্রণা অনুভুতি ঘিরে ধরে তাকে।ইউভানের ওষ্ঠাধর অবাধ্যভাবে রোজের গাল,গলা,ঠোঁটে স্পর্শ করতে থাকে। ইউভান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁতের আঘাতে কাম*ড়াতে শুরু করে।রোজ ব্যথায় মৃদু গোঙিয়ে উঠতেই,ইউভান রোজের গ্রাউন এক টানে খুলে রোজের কোমল দেহটা উ’ন্মুক্ত করে দেয়।রোজের চোখে লজ্জা ফুটে উঠলেও তার থেকে দ্বিগুন ছিলো ভয়।যে কোনো মূল্য রোজ ইউভান থেকে ছাড়া পেতে চায়।রোজ আকুতি ভরা কন্ঠে ব’লে,

“আমার পেইন হচ্ছে।আপনার স্পর্শ আমার অসহ্য লাগে।”
ইউভান রোজের ই’নার ঠোঁট দিয়ে খুলতেই পৈশাচিক স্বরে ব’লে,
-“pain”কিছু তো করলামি না।”
রোজের হাতের তালুর শুকনো রক্ত ঘষে ঘষে তুলতেই চোয়াল শক্ত করে আবার ব’লে,
“-Did you know white & red can creat pink, but you & i can create white!”

ইউভানের কামু*ড়ের আঘাতে রোজের গলায় ছুপছুপ র’ক্ত জমাট বেঁধে আছে।ইউভান নিজের ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা র’ক্ত আঙুল দিয়ে মুছে হেসে উঠে, রোজকে তার দেয়া যন্ত্রণায় কাঁদতে দেখে শান্তি লাগছে।রোজের উদরে পরপর কয়েকটা চু’মু খেয়ে জিভ স্পর্শ করতে রোজের ঠোঁট গলে আর্তশীৎকার জমে উঠে।রোজ পরক্ষণেই উঠে স্বরে যেতে নিলে ইউভান রোজের গলা চেপে ধরে ফেলে।ইউভান উঠেই রোজকে নিজের উরুর উপর বসিয়ে দেয়। ইউভানের হাত রোজের সংবে/দনশীল স্থানে বিচলন করতেই রোজ ইউভানের বুকে ধাক্কা মেরে সরে যেতে নিলে ইউভান রোজকে শুইয়ে দেয়।ঠোঁটের স্পর্শে উন্মা*দনার ঝড় তুলতে থাকে।রোজের শ্বাস ভারী হয়ে উঠে,ইউভান যে মুহূর্তেই তাকে পুরোপুরি ভাবে ঘ্রাস করে ধ্বংস করে দিবে তাকে তা বুঝতে পারলো।রোজ চায় না আর নিজেকে এভাবে এই দানবটার কাছে সপে দিতে।ততক্ষণাৎ রোজের ভিতর ভয় আরও জমে উঠে,ইউভান নিজের বেল্ট খুলতে শুরু করে, বেল্ট নিজের হাতে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে রোজের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, রোজের ঠোঁটে ফাঁক হয়ে তিনটে শব্দ বের হয়ে আসে,

“-আপ…আপনি কি আমায় মারবেন।”
ইউভান বেল্টাঘাত করে বেডের উপর।রোজ পিছিয়ে যেতে থাকে।ইউভান ঝুঁকে বাঁকা হেসে উঠে,
“-মারবো কেনো।নাচার শখ মিটাবো।”
রোজ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। নিঃশ্বাস আটকে আসছে। ইউভান যদি তাকে সত্যি সত্যি মারে। এই দানবটা তাকে মেরে ফেলবে।রোজ যত পিছাতে থাকে ইউভান তত রোজের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে।রোজ নাকের পানি চোখের পানি এক করে ইউভান থেকে ছাড়া পাওয়ার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। গ্লাসের ফাঁক গলে চাঁদের আলো ইউভানের মুখাবয়ব পড়তে রোজের গলা পানি তৃষ্ণায় কাঠ হয়ে উঠলো।যেনো বহুদিন পানি পান করে না।ইউভান রোজের হাতে ধরে বেল্ট পেঁচাতে যাবে হঠাৎ ফুলদানির আঘাতে ইউভানের চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে যায়।রোজ অধর চেপে কান্না থামিয়ে ফুলদানিটা মেঝেতে ফেলে দিয়ে বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।আবচেতন মনে কি করে ফেলেছে বুঝতে উঠতে পারলো না।ইউভান দু’হাতে মাথা চেপে ধরে রেখেছে।রোজ মুখে হাত দিয়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা ইউভানের শার্টটা কোনোমতে শরীরে জড়িয়ে নেয়।ইউভান এখন তাকে ধরতে পারলে মুহূর্তেই মেরে খাদিয়ে দিবে তার ভয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।হ্যাঁ রোজ পালাবে।কাবার্ডের উপর রাখা ইউভানের গাড়ির চাবিটা নিয়ে দৌড় দেয় দরজার কাছে।ইউভান চোখ মেলে তাকাতেই রোজকে দরজা খুলে বেরিয়ে যেতে দেখে মৃদু শীৎকার করে গর্জে উঠে,

-“ওরেএএএ শালী।”কতক্ষণ বোকা মেয়ে।if rick will catch u,you are finished dam,it.
ইউভান উদম শরীরেই রোজের পিছু ছুটে চলে।রোজ বারবার পিছনে তাকিয়ে দেখতে থাকে ইউভান আসছে কিনা।হাত অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপতে শুরু করে।কোনোভাবে লিফটে উঠে,গ্রাউন্ড ফ্লোরে যেতে G প্রেস করে ফেলে।রোজের লিফট নিচে যেতে দেখেই ইউভান সোজা সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে নামতে শুরু করে।রোজের আঘাতটা জোরে না পড়লেও ইউভানের কপালে কেটে দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। ইউভান নামতে নামতে ইয়ারপিস কানেক্টেড করে হোটেল ম্যানেজারের কাছে কল লাগায়।

-“lock the hotel.সব দরজা লক করে দাও।ইমেডিয়েট’লি।একটা মেয়ে ব্ল্যাক শার্টে নিচে যাবে। আই সেইড।কোনোভাবেই যেনো বের হতে না পারে।কোনোভাবেই না।”
রোজকে মাত্র গ্লাস ঠেলে বাহিরে বেরিয়ে যেতে দেখে ম্যানেজার ব’লে উঠে,
“-বা’ট স্যার,একটা মেয়ে বেরিয়ে গেলো।ব্ল্যাক শার্টে।”

love or hate part 13

ইউভান কান থেকে ইয়ারপিস টা ছুঁড়ে ফেলার আগে ম্যানেজারকে উদ্দেশ্য করে তীর্যককন্ঠে ব’লে উঠে,
“owhhh shit!fu*ck.catch her right now. Am coming …….
ইউভান জীবনের প্রথম পয়তাল্লিশ তলার সিঁড়ি বেয়ে লাফিয়ে নামতে শুরু করে।ইউভান এক মূহুর্তের জন্যে ভেবে উঠতে পারেনি রোজ এমন একটা কাজ করে বসতে পারে…….

love or hate part 15