Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৮

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৮

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৮
জান্নাতি আক্তার জারা

হানিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে গেলো, রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগলো, কার থেকে পালাচ্ছে জানা নেই, শুধু জানে তাকবীর আর আরাত কে একসঙ্গে দেখতে পারবে না, বিয়ে হয়ে গেছে ওরা একসঙ্গে থাকে একি ঘরে একি বেডে এবং কী একে-অপরকে জরিয়ে থাকে, হানিয়া মেনে নিয়েছে, সবকিছু তো চোখের আড়ালে তবুও দু’জন কে ভাবতে বুকের ভিতর ছ্যাত করে উঠে, তাকবীর হানিয়ার ভাগ্যই নেই হানিয়া মেনে নিয়েছে, একটু একটু করে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে, কিন্তু চোখের সামনে শখের পুরুষ কে তাঁর অর্ধাঙ্গিনীর হাত নিজের হাতের মধ্যে আগলিয়ে রাখতে দেখে একটু একটু করে গুছানো হানিয়া এক নিমেষেই আগের ন্যায় ভেঙ্গে গেলো,নিজেকে সামলাতে পারলো না, মনে পড়ে গেলো শখের পুরুষ তাঁর শখের নারীর জন্য প্রত্যাখান করেছিলো,হ্যাঁ শখের পুরুষ তাঁর শখের নারী কে নিয়ে সংসার করছে তাঁরা পূর্ণতা পেয়েছে, হানিয়া এটাই চেয়েছিলো নিজের ভালোবাসা কে নিজের করে না পাক, ভালোবাসা তাঁর ভালোবাসাকে নিজের করে পেয়ে যাক, তাহলে কেনো এতটা খারাপ লাগছে,দুজন কে একসঙ্গে দেখে বুকটা কেনো হাহাকার করছে, হানিয়া ফাঁকা রাস্তায় আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,

___” আপনাকে অন্য কারো পাশে দেখার যন্ত্রণা,
আপনার প্রত্যাখান করার যন্ত্রণার চাইতে দ্বিগুন ব্যাথা দিচ্ছে এই বুকটাতে, আপনি শুনতে পারছেন তাকবীর….
হানিয়া চিৎকার দিয়ে হাউমাউ করে কান্না করতে করতে রাস্তায় বসে পরলো,কুয়াশায় ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোর মধ্যে একটা মেয়ে শুনশান রাস্তায় বসে হাউমাউ করে কান্না করছে, কান্নার আওয়াজ ভয়ংকর লাগছে,হানিয়া বুকে এক হাত দিয়ে কান্না করতে করতে বলতে লাগলো,
___” তুমি দেখতে পারছো তাকবীর আমার কষ্ট হচ্ছে, ভিষণ কষ্ট হচ্ছে,তুমি আমার কখনো ছিলে না আর না কখনো আমার হবে, এই ছোট কথাটা আমি ভাবতে পারি না দম বন্ধ হয়ে আসে আমার,তোমার বউ হওয়ার স্বপ্ন আমার স্বপ্নই রয়ে গেলো!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

___”দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরার পরে মানুষ তার খুব প্রিয় কিছুর প্রতি থেকেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে জানো তো!
হানিয়া কারো কন্ঠে শুনে মুখ তুলে সামনে তাকালো, চোখমুখ কান্নার কারণে লাল হয়ে গেছে, ফুপাতে ফুপাতে সামনের মানুষ টাকে অবাক হয়ে দেখছে, আদিল হানিয়ার সামনে বসে পানির বোতল হানিয়ার সামনে ধরে আছে, হানিয়া তাকেই আদিল চোখ দিয়ে ইশারা করলো পানিটা খেয়ে নিতে, হানিয়া বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___” আপনি এখানে?
হানিয়ার কথায় আদিল পানির বোতল হানিয়ার হাতের মধ্যে খুঁজে দিতে দিতে বলল,
___” হ্যাঁ আমি, এই রাস্তায় কী অন্য কারো আসা নিষিদ্ধ!
হানিয়া আদিলের থেকে চোখ ফিরিয়ে পানির বোতলের দিকে রাখলো, এই শীতের মধ্যেও গলাটা শুকিয়ে গেছে পানির বড্ড প্রয়োজন ছিলো, হানিয়া পুনরায় বিরক্ত গলায় বলল,

___” নিষিদ্ধ থাকবে কেনো এটা আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি তো আর না।
আদিল হানিয়ার কথায় মায়া ঝাকিয়ে সামান্য হাসলো, হানিয়া আদিলের হাসির দিকে বিরক্ত চোখে চেয়ে রাস্তা থেকে উঠে দাঁড়ালো, হানিয়া কে উঠতে দেখে আদিলও উঠে দাঁড়ালো, হানিয়া এক ঢোক পানি খেয়ে আদিলের দিকে পানির বোতল ছুরে দিয়ে ছোট করে 🙂 বলে সামনে হাঁটা ধরলো, আদিল হানিয়ার ছুরে দেওয়ার পানির বোতল ক্যাচ ধরে হানিয়ার পিছনে হাটতে হাটতে বলল,
___” কই যাও এতো রাতে?
হানিয়া জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো, আদিলের কথার উত্তর না দিয়ে উল্টো আদিল কে প্রশ্ন করে উঠলো,
___” আপনি আমার পিছু নিয়েছেন কেনো?
আদিল স্বাভাবিক মুখে বলল,
___” কই তোমার পিছু নিলাম, রাস্তা দিয়ে যে কেউ হাঁটতে পারে!
হানিয়া জায়গায় দাঁড়িয়ে বলল,
___” যান আপনি, আপনার রাস্তা মাপেন!
আদিল এদিক ওদিক তাকিয়ে শরীর চাড়া দিতে দিতে বলল,
___” আমাদের গন্তব্য মেবি এক!

হানিয়া বিরক্ত মুখে আদিল কে দেখছে, আদিলের সঙ্গে এর আগে কখনো কথা হয়নাই, দুজনের দেখাও খুব একটা হয়েছে বলে মনে হয় না, আগে যতটুকু দেখা হয়েছিল অপরিচিত হিসাবে, শুরু এতটুকু জানে আদিল তাকবীরের পিএ এবং আদিল কখনো হানিয়ার সঙ্গে কথা বলেনি, হানিয়া কে দেখলে পালাতে চাইছে, কিন্তু টুকিটাকি হানিয়ায় আদিলের সঙ্গে নিজে থেকে কথা বলছে, আদিলের কাছে জানতে চাইছে তাকবীর বাড়ি অফিস বা কখন কোথায় থাকে, দুজনের মধ্যে কখনো তাকবীরের খোঁজ নেওয়া ছাড়া কথা বলতে দেখা যায় নি, কিন্তু ইদানিং হানিয়া লক্ষ করে আদিল কে হুট করে হানিয়ার ভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে, হানিয়া তেমন পাওা দেয় না ভাবে অফিসের কাজে এসেছে হয়তো, কিন্তু হাবীবের বিয়ে উপলক্ষে তিনদিন আগে যখন হাবীব দের বাড়িতে আদিল আশিক মায়া আনাস এলো, তিনদিন থেকে হানিয়া লক্ষ করছে আদিল কে, ছেলেটা বদলে গেছে, হুটহাট ইচ্ছাকৃত ভাবে হানিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়, নিজে থেকে কথা বলতে চেষ্টা করে, ইচ্ছাকৃত ভাবে হানিয়ার সামনে একটা অঘটন ঘটিয়ে মুখ থেকে সরি সরি বলে ভেনা তুলে, হানিয়া তেমনটা ঘাটে না আদিল কে, আদিলের কান্ড গুলো দেখেও ওদেখা হয়ে থাকছে, আদিল যে হাবীব দের বাড়িতে আসার পর থেকে হানিয়া কে সবসময় ফলো করছে হানিয়া ব্যাপারটা প্রথম থেকে লক্ষ করে আদিল কে ইগনোর করছে, কিন্তু আজকে আদিল কে সরাসরি নিজের পিছু নেওয়া দেখে স্বাভাবিক গলায় হাতে হাত ভাজ করে জানতে চাইলো,

___” আপনার প্রবলেমটা কী, আমি বেশকিছু দিন থেকে আপনাকে লক্ষ করছি, আপনি আমাকে ফলো করছেন, কিন্তু কেনো?
আদিল বোতলের মুখা খুলে পানি খেতে খেতে আঁড়চোখে হানিয়ার দিকে চেয়ে বলল,
___” আপনি আমাকে লক্ষ করছেন?
আদিলের কথায় হানিয়া আগের ন্যায় বলে উঠলো,
___” আপনাকে কেনো লক্ষ করবো, লক্ষ করেছি আপনার চালচলন কে!
আদিল পানি খেয়ে বোতল টা রাস্তায় উপর ফেলল, হানিয়া আদিলের কান্ড তীক্ষ্ণচোখে দেখছে, আদিল বোতালটা পা দিয়ে সট মারতে মারতে বলল,
___” তো কী বুঝলেন?
প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো আদিল কে প্রশ্ন করতে দেখে হানিয়া রেগে গেলো, কিছুক্ষণ আগের কষ্ট গুলো ভুলে গিয়ে মুখে মেকি হাসি টেনে বলল,

___” আপনার নানা আর নানি, যতসব আজাইরা পোলাপান।
কথাটা বলে হানিয়া হাঁটা ধরলো, আদিল পুনরায় হানিয়ার পিছু নিয়ে হাটতে শুরু করে, হানিয়া বুঝতে পেয়ে বিরক্ত হয়ে একহাত কোমরে রেখে আরেক হাত কপালে রাখলো, হানিয়া কে দাঁড়াতে দেখে আদিলও পুনরায় দাঁড়িয়ে গেলো, হানিয়া পিছনে ফিরে আদিলের দিকে তাকালো, আদিল ভোলাভালা মুখে হানিয়া কে দেখতে লাগলো,
___” কিছু বলবেন?
আদিল হানিয়ার পাশে এসে দাঁড়ালো, হানিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আপনার পাশাপাশি হাঁটতে চাই, হাঁটতে দিবেন?
হানিয়া আদিলের দিকে নিস্পলক চোখে তাকালো, কিছুপলক চুপচাপ আদিলের দিকে চেয়ে থেকে হতাশা মুখে রাস্তার দিকে হাতের ইশারায় দেখিয়ে বলল,

___”চলুন!
আদিল হানিয়ার পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো, কারো মুখে কথা নেই, হানিয়ার চোখ সামনে রাস্তায়, আদিল আশেপাশে চোখ বুলিয়ে আঁড়চোখে হানিয়া কে দেখছে বারংবার, কেটে গেলো কিছুমুহূর্ত আদিল আর নীরব থাকতে পারলো না, হাঁটতে হাঁটতে বলল,
___” আমাদের গন্তব্য কোথায়?
হানিয়া নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে আদিল কে একপলক দেখে নিয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
___” সামনে ছোট্ট বাচ্চা দের একটা পার্ক রয়েছে।
আদিল হানিয়ার কথায় অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
___” এই রাতে আপনি পার্কে যাবেন, পার্ক বন্ধ না?
হানিয়া মলিন হাসি দিয়ে বলল,

___” এতো উন্নত পার্ক না যে বন্ধ থাকবে।
আদিল ছোট করে ও বলল,হানিয়া পুনরায় আদিল কে একপলক দেখে নিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,
___” যখন আমার মন খারাপ থাকে, তখন ওই খোলামেলা পার্কে একা একা বসে সময় কাঁটায়, মন খারাপ নিমেষেই ভানিস হয়ে যায়।
হানিয়া মলিন হাসলো কথাটা বলতে বলতে, আদিল হানিয়ার মলিন হাসির দিকে চেয়ে বলল,
___” আজকে আমি আপনার সঙ্গী হলাম।
হানিয়া আদিলের দিকে তাকালো, কিন্তু কথা বলল না, এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে একপর্যায়ে আদিল শান্ত কন্ঠে ডেকে উঠলো,
___” হানিয়া ?
আদিলের ডাকে হানিয়া স্বাভাবিক ভাবে বলে উঠলো,
___” জ্বি বলেন?
আদিল সংকোচ কাটাতে একটু সময় নিলো,হানিয়া কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

___” আপনি ঠিক আছেন?
আদিলের কথায় হানিয়ার মুখে পরিবর্তন ঘটলো, জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো মুহূর্তে, আদিল প্রশ্ন করে হানিয়ার দিকে চেয়ে আছে, মলিন হয়ে আছে পুরো মুখময়,পরমুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো, আদিলের চোখ থেকে চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলল,
___” ইয়া, আই এম অল রাইট, আমার আবার কী হবে।
হানিয়া কে চোখ লুকাতে দেখে আদিল পুনরায় বলে উঠলো,
___” আপনি শিওর ঠিক আছেন?
আদিলের প্রশ্নে হানিয়া কিছুক্ষণ আগের রাগ পুনরায় বাড়তে লাগলো,তিরতির মেজাজে ভারী কন্ঠে বলল,
___” আমাকে দেখে আপনার কী মনে হচ্ছে?
আদিল আগের ন্যায় বলে উঠলো,
___” আপনি কাউকে নিয়ে কিছু একটা ফিল করছেন বাট উপরে উপরে ইগনোর করার ট্রাই করছেন?
হানিয়ার চোখে পানি জমে গেছে,দীর্ঘশ্বাস ফেলল এক হাতে চোখের কোণে জমানো পানি মুছে, আদিলের কথায় নরম কেটে বলে উঠলো,

___” এতটাও ইমপোর্ট্যান্ট কেউ নেই।
___” আপনি মিথ্যা বলছেন ?
এবার চোখের পানি আর বাদ মানলো না, গাল বেয়ে পরলে লাগল, আদিল সবকিছু জানার পড়েও নতুন করে জানতে চাইছে, এতে মনের ভিতর হাহাকার গুলো বাড়ছে বই কমছে না, বুকটা জ্বালা করছে, হানিয়া হটাৎই দু’হাতে কান্নাভেজা কন্ঠে আদিলের কলার ধরে হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো,

___” হ্যাঁ হ্যাঁ আছে আমার জীবনে ইমপোর্ট্যান্ট একজন, ভালোবাসি তাঁকে আমি, তাকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি, জানি কখনো সে আমার দিকে ভালোবাসার চোখে তাকায়নি, তবুও তাকে আমি ভালোবাসি, এটাও জানি সে এখন অন্য করো তবুও তাঁকে আমি ভালোবাসি,শুনছেন শান্তি এবার!
কান্না করে কথাগুলো বলতে বলতে হানিয়া আদিলের কলার ধরে রেখে আদিলের বুকে নিজের দুহাতে উপর মাথা ঠেকিয়ে দিলো, আদিল চুপচাপ হানিয়ার পাগলামো গুলো দেখছে,বুকের মধ্যে কোথাও একটা খারাপ লাগছে, আজকে পুরোপুরি হানিয়ার কষ্ট নিজে ফিল করছে, করবেই না কেনো হানিয়ার জায়গায় নিজে দাঁড়িয়ে আছে যে, শখের নারীর মুখে অন্য পুরুষের কথা শুনতে কার না খারাপ লাগবে, শখের নারী তাঁর কলার ধরে অন্যর জন্য কান্না করছে, হানিয়া বুক থেকে মাথা তুলে আগের ন্যায় চোখে পানি নিয়ে বলল,

___” কখনো কী কাউকে অসহায় হয়ে বলেছিলেন, ভালোবাসি আপনাকে, আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না আমি?
আদিল হানিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগে বলে উঠলো,
___” না, মুখ ফুটে বলা হয়নি কখনো।
হানিয়া অবাক হলো, হাত কলার থেকে ধিলা হয়ে গেলো, মুখ ফুটে বলা হয়নি মানে, আদিলও কী কাউকে এক তরফা ভালোবেসে, হানিয়া আদিলের কথা বুঝতে না পেয়ে অবাক চোখে বলে উঠলো
___” মানে?
আদিল নিজের কলার থেকে হানিয়ার হাত সরাতে সরাতে স্বাভাবিক গলায় বলল,

___” মানে আপনার মতো এক তরফা,সেও অন্য কাউকে ভালোবাসে, আপনি যেমন অসহায় হয়ে ভালোবাসার কথা বলেছিলেন, আমি পারিনি,কোথাও একটা ভয় হতো, যদি প্রত্যাখান করে দেয়,সহ্য করতে পারবো না ।
আদিল থেমে গেল, হানিয়ার জানতে ইচ্ছা করলো আদিলের লাভ স্টোরি শুনতে ইচ্ছা করলো, আদিলের মধ্যে নিজেকে খোঁজে পেলো, হানিয়া তো তাকবীর কে ভালোবাসে, যখন প্রকাশ করতে গেলো তখন জানতে পারলো, তাকবীরের মনে আরাত আছে, মজার ব্যাপার হলো তাকবীর সে সময় আরাত কে এক তরফা ভালোবেসে ছিলো, হানিয়া সব জানার পর অসহায় হয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলো, আজকে আদিলের ভালোবাসা সেম দেখতে পারছে হানিয়া, যেখানে আদিল মেয়েটাকে ভালোবাসে অথচ মেয়েটা অন্য ছেলেকে ভালোবাসে, হানিয়ার আগ্রহ হলো, ব্যাকুল কন্ঠে পুনরায় জানতে চাইলো,

___” তারপর?
আদিল হানিয়ার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে বলল,
___” তারপর আর কী, তাঁকে মুখ ফুটে বলা হয়নি কখনো।
হানিয়া বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___” তারমানে সে জানে না?
আদিল আগের ন্যায় হানিয়ার দিকে অপলক চেয়ে থেকে হাতাশা কন্ঠে বলল,
___” না।
হানিয়া গালে হাত দিয়ে চিন্তিত মুখে রাস্তায় সাইটে বসে পরলো,ল্যাম্পপোস্টের আলোতে হানিয়ার চিন্তিত মুখটা আদিল মুগ্ধ চোখে দেখলো, হানিয়া চিন্তিত মুখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আদিলের দিকে তাকিয়ে বলল,

___” মেয়েটা যাকে ভালোবাসে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে ?
___” না, মেয়েটা যাকে ভালোবাসে তাঁর সে বিয়ে করেছে।
___” মানে?
আদিল হানিয়ার পাশে এসে বসলো, হানিয়া আদিলের দিকে চেয়ে আছে, আদিল নিষ্পলক হানিয়ার দিকে চেয়ে বলল,
___” শুনতে চাও আমার স্টোরি?
হানিয়া মাথা ঝাকালো যার অর্থ হ্যাঁ, আদিল রাস্তায় বসে দুহাত পিছনে ভর দিয়ে আকাশের দিকে তাকালো, হানিয়া অপলক আদিলের দিকে আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে, আদিল একটা গম্ভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলতে শুধু করল,

___” আজ থেকে প্রায় সাতবছর আগের কথা, মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলে আমি, বাবা-মার একমাত্র সন্তান,মধ্যবিও হয়ে কখনো কষ্ট কী জানতাম না, বাবা-মা জানতে দিতো না, বাবার ছোট একটা মুদির দোকান ছিল,আর একটা স্কুটি, বাবা স্কুটি নিয়ে যাতায়াত করত, সময়টা দুপুরের ঘরে, আমি ছিলাম কলেজে,নিত্যদিনের মতো মা বাবার জন্য রেঁধে ওয়েট করছিল, বাবা স্কুটি নিয়ে দোকান থেকে বাড়ি ফিরার পথে দোকান থেকে বের হতেই একটা ট্রাক এসে চাপা দিয়ে যায়….
আদিল কথা বলতে বলতে ঠোঁট কাপঁছিলো, হটাৎ অতীতের কথা স্মৃতিচারণ হতে আদিলের ঠোঁট কাঁপছে, হানিয়া আদিলের কাছাকাছি বসে আদিলের হাতে হাত রেখে শান্তনা স্বরূপ বলতে লাগলো,
___” আই এম সরি, আপনাকে আর বলতে হবে না, প্লিজ মন খারাপ করবেন না।
আদিল অন্ধকার আকাশ থেকে চোখ ফিরিয়ে হানিয়ার দিকে রাখলো, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মলিন হেঁসে বলল,

___” সরি বলছেন কেনো, আমি বলতে বেটার ফিল করছি, যানেন তো কোথায় না কোথায় মানুষ তাঁর মনের না বলা কথা গুলো শেয়ার করে হালকা হতে চায়, আমার না এমন কেউ নেই, যার কাছে আমি দুমিনিট মন খুলে নিজেকে হালকা করবো!
আদিলের কথাটা শুনে হানিয়া অবাক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ খারাপ লাগে, হানিয়া মলিন মুখে পুনরায় বলল,
___” আপনি বেটার ফিল করলে শেয়ার করতে পারেন।
আদিল মলিন মুখে বলল,
___” বলল?
হানিয়া চোখ দিয়ে ইশারা করে বলতে বলল,আদিল মলিন মুখে রাস্তায় চোখ রেখে নীরব কন্ঠে পুনরায় বলতে শুরু করলো,

___” টিফিন পিরিয়ড চলছিল, মাঠে বসে ফ্রেন্ডদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমার বাড়ির পাশে একটা ছোট ভাই কলেজে বাবার এক্সিডেন্টের খবর নিয়ে হাজির হয়, আমি দিকদুনিয়া ভুলে দৌড় লাগালাম বাট বাবার সঙ্গে শেষ কথাটাও বলতে পারলাম না, আমি পৌঁছাতে পৌঁছাতে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তখন থেকে পৃথিবীতে চলতে শিখলাম, বাবার মৃত্যুর শোক মা নিতে পারে নি, মা অসুস্থ হয়ে যায়, ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম ডাক্তার বলে দিলো শহরে নিতে হবে, আমি কী করবো মাথা কাজ করছিলো না, বেকার আমি, কাছে টাকা নেই, বাবার বন্ধ বললেন মুদির দোকান বেঁচে দেও, আমি তখন কোনোকিছু না ভেবে দোকান বেঁচে দিলাম, কিছু বুঝতাম না জানতাম না এটার সুযোগ নিয়ে আঙ্কেল আমাদের ঠকালেন, যেখানে দুলাক টাকা হবে, সেখানে আমাদের বুঝিয়ে দিলেন একলাক, আঙ্কেল বললেন বাবা উনার কাছে দোকানের জন্য টাকা হাওলাত নিয়েছিল, সালা স্বার্থপর দুনিয়া, একলাক থেকে ৫০০০ ভদ্রলোক নিয়ে নিলো, আমি হাতে করে ৫০০০ টাকা নিয়ে শহরে পা রাখলাম,বুঝতে শিখলাম মানুষ কে চিনতে শিখলাম, শহরে এসে মা কে একদিন ডাক্তার দেখাতে আমার বিশ হাজার পকেট থেকে নেমে গেলো,হাতে থাকে তিরিশ হাজার, মাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল, আমি কী করবো কীভাবে কী ম্যানেজ করবো বুঝতে পারছিলাম না, ডাক্তারের দেওয়া মেডিসিন কিনতে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসলাম, ক্লান্ত শরীর নিয়ে এদিক ওদিক ছুটছিলাম হটাৎ একটা গাড়ির সামনে এক্সিডেন্ট হতে হতে বেঁচে যাই, এক্সিডেন্ট মেবি আমার জীবন কে নতুন করে সুযোগ দিতে হয়েছিল, এক্সিডেন্ট তাকবীর স্যারের গাড়ির সঙ্গে হয়েছিল।
আদিল তাকবীরের কথা বলে হানিয়ার দিকে তাকালো, হানিয়া এতক্ষণ আদিলের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো, আদিল তাকবীরের কথা বলে হানিয়ার দিকে তাকাতেই হানিয়া চোখ অন্য দিকে ফিরে বলল,

___” কন্টিনিউ।
আদিল ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে পুনরায় বলতে লাগলো,
___” স্যার আমাকে রাস্তায় থেকে তুলে গাড়ির ভিতরে বসায়, সাইটে দোকান থেকে পানির বোতল নিয়ে এসে আমাকে দেন, আমার মুখ দেখে গম্ভীর গলায় শুধু বলেছিলো, প্রবলেম কী, আমি স্যারের গম্ভীর দেখে ইতস্ত বোন করছিলাম, পর মুহুর্তে সব দিধা ভুলে সবকিছু স্যার কে খুলে বললাম, স্যার সবকিছু শোনার পর আমাকে নিয়ে প্রথমে মাকে দেখতে হাসপাতালে যায়, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আমাকে নিয়ে তালুকদার বাড়িতে যায়, তালুকদার বাড়িতে আন্টি আঙ্কেল আমার পরিচয় জানতে চাইলে স্যার একটা কথায় বলেছিলেন, আমার নিউ পিএ, আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি জাস্ট অবাক হয়ে স্যার কে এন্ড তালুকদার বাড়ির মেম্বার দের দেখছিলাম, শুধু এখানেই শেষ না স্যার আমাকে পড়াশোনার সুযোগ দেন, এবং আমার নামে এই শহরে একটা ফ্ল্যাট দিয়ে দেয়, অফিসের সব কাজ আনাস ভাই আমাকে বুঝিয়ে দেয়, আনাস ভাইয়ের সঙ্গে আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং টা ভালো ছিলো, খুব দ্রুত সবকিছু আমি শিখে গেলাম, নিত্যদিন অফিস তো হাসপাতাল চলাচল চলছিলো আমার, এভাবে কেটে যায় প্রায় বারো থেকে পনেরো দিন, মার শরীরে পরিবর্তন থাকলো,আগের থেকে বেটার হচ্ছিল, আমি ফ্ল্যাটে বসে অফিসের কাজ করছিলাম, হাসপাতাল থেকে ডাক্তারের কল আসে মার কন্ডিশন হটাৎ খারাপ দেখাচ্ছি, আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো সব কাজ ফেলে হাসপাতালের উদ্দেশ্য দৌড়ে নিচে নেমে আসলাম, ফ্লাট থেকে নিচে নামতেই একটা রিকশা কে আসতে দেখতে পেলাম, রিকশা কে আটকাতে রিকশার সামনে দাঁড়ালো, রিকশা আটকিয়ে বললাম, মামা আমাকে দ্রুত হাসপাতাল দিয়ে আসুন আপনি যত টাকা চাইবেন আমি দিয়ে দিবো,
আমার কথায় রিকশা ওলা মামা রেগে গেলেন, কারণ রিকশাতে যাত্রী ছিলো,আমি যাএী কে রিকোয়েস্ট করতে পিছনে তাকালাম, দেখলাম স্কুল ড্রেস পরিহিত এক মেয়ে, কোলে তাঁর স্কুল ব্যাগ, আমি রিকোয়েস্ট করার আগে মেয়েটা রিকশা ওয়া কে বকা দিতে দিতে রিকশা থেকে নিচে নামছে,

___” মামা আপনি উনার সঙ্গে মিস বিহেভ করছেন কেনো, উনি তো বললো হাসপাতালে যাবে, উনি নিচ্চয় বিপদে পড়েছে, উনাকে পৌঁছে দিয়ে আসেন!
___” কিন্তু মা আপনি আসেন এজন্য।
রিকশা ওয়ার কথায় মেয়েটা রিকশা থেকে নেমে কলেজ ব্যাগ থেকে টাকা বের করে রিকশা ওয়ালাকে ভাড়া দিতে দিতে বলল,
___” আমার বাসা সামনেই আমি এতটুকু হেঁটে যেতে পারবো প্রবলেম নেই।

কথাটা বলে মেয়েটা চলে গেলো, আমাকে একটা থ্যাংকস বলার সুযোগ পর্যন্ত দিলো না , আমি রিকশাকে উঠে বসলাম, মার টেনশনে মেয়েটার কথা মাথা থেকে বের হয়ে গেলো, হাসপাতালে পৌঁছে দেখলাম মার কন্ডিশন খারাপ বুঝলাম আমাকে একা করে চলে যাবে, আল্লাহ কে ডাকা ছাড়া কোনো লাভ হবে না, রাত কেটে ভোরের দিকে মা আমাকে এই দুনিয়াতে একা করে চলে গেলো, ভিতর থেকে ভেঙে পরলাম, স্যারের অর্ডার হলো, তালুকদার বাড়িতে আমার থাকতে হবে, তালুকদার বাড়িতে থাকলাম, নিজের একটা পরিবার কে পেয়ে গেলাম, আমাকে হাসাতে সবসময় পিচ্চিরা লেগেই থাকতো, নিজেকে গুছিয়ে নিলাম, পুনরায় অফিস জয়েন করলাম অফিসের পাশাপাশি কলেজ করতে লাগলাম, আমার দিনগুলো আমার নিয়মে কাটতে থাকলো, তাকবীর স্যার আমার জান, স্যারের জন্য আমি আমাকে গুছিয়ে নিতে পেয়েছি স্যারের জন্য আজকের আদিল আমি, স্যার আমার থেকে আমার জীবন চেয়ে বসলে আমি নির্দ্বিধায় আমার জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
আদিল কে তাকবীরের প্রশংসা করতে দেখে হানিয়া মলিন হাসলো,আদিল হানিয়ার দিকে চেয়ে থাকলো কিছুপলক,হানিয়া আদিল কে নিজের দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকতে দেখে বলে উঠলো,

___” সব বুঝলাম কিন্তু আপনি যে মেয়েকে ভালোবাসেন সে কে, আর তার কথা তো বললেন না?
আদিল মুচকি হাসলো, হানিয়া আদিলের মুচকি হাসিতে কপাল কুঁচকে তাকালো,আদিল হানিয়ার তাকানো তে মাথা নিচু করে মুচকি হেঁসে বলতে লাগলো,
___” আমি তালুকদার বাড়ি থেকে ফ্ল্যাটে শিফ্ট হলাম, একদিন বিকালে কফি হাতে নিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হটাৎ রাস্তায় দেখতে পেলাম সেই স্কুল ড্রেস পরিহিত মেয়ে কে, আমি একটা থ্যাংকস দেওয়ার জন্য নিচে নামতে নিয়ে পা পুনরায় জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলাম, কারণ আমি নিচে পৌছাতে পৌছাতে মেয়েটা এতক্ষণে চলে যাবে, আমি নিচে নামলাম না আমি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে মেয়েটা কে ফলো করতে লাগলাম, মেয়েটা প্রতিদিন আমার ফ্ল্যাটের সামনে দিয়ে স্কুলে যায়, মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে থাকলে আমি নিজের অজান্তে বেলকনিতে দাঁড়ায়, এভাবে মেয়েটা আমার অভ্যাস হয়ে গেলো, তাঁকে না জানিয়ে দূর থেকে খুতিয়ে খুতিয়ে দেখা, তালুকদার বাড়িতে আমার যাওয়া আসা সবসময় লেগেই থাকতো, একদিন তাকবীর স্যার আর আনাস ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর ফ্রেন্ডের বাসায় গেলাম, আমি সেখানে গিয়ে মেয়েটাকে দেখে এভাবে সারপ্রাইজ হয়ে যাবো কল্পনা করিনাই, কথায় কথায় জানতে পারলাম মেয়েটা আর কেউ না আনাস ভাইয়ের ফ্রেন্ড এর বোন।
হানিয়া অবাক চোখে আদিলের দিকে চেয়ে আছে, সবকিছু মাথায় উপর দিয়ে যাচ্ছে, কোথাও যেন মনে হচ্ছে মেয়েটা আর কেউ না হানিয়া নিজেই, আদিল হানিয়ার চাহনি দেখে মুচকি হেঁসে পুনরায় বলতে লাগলো,

___”সবার সামনে মুখ ফুটে বলতে পারলাম না, শুধু দেখলাম তাঁকে মুগ্ধ চোখে, এভাবেই কেটে গেলো কয়েকমাস, মেয়েটার অগোচরে তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা আমার জীবনে একটা চাকরির মতো হয়ে গেলো, মাঝেমধ্যে মনে হতো তাঁর সামনে মনের কথাটা বলে দেই, পরমুহুর্তে মনে হতো না তাঁকে তাঁর অগোচরে লুকিয়ে দেখার ফিলিং নষ্ট হয়ে যাবে, থাক না লুকোনো অনুভূতি গুলো লুকিয়ে, ভালো লাগছে এভাবে, আমার ভাবনা টা ছিলো ভুল আমি প্রকাশ করলাম না, এভাবে বছর কাটতে লাগলো, একদিন জানতে পারলাম,মেয়েটা অন্য একজন কে ভালোবাসে, আর যাকে ভালোবাসে সে আর কেউ না আমার এই দুনিয়ায় সবচেয়ে প্রিয় একজন,আমি নিজের লুকানো অনুভূতি গুলো যত্ন করা লুকিয়ে রাখলাম, দূরে সরে গেলাম তাঁর থেকে ধীরে ধীরে তাঁকে লুকিয়ে দেখার অভ্যাস গুলো ছাড়তে লাগলাম, কিছুদিনের মধ্যে বুঝতে পারলাম মেয়েটা কষ্ট পেতে চলছে, বিলিভ মি আমি এতে সবচেয়ে খুশি ছিলাম,
দ্বিতীয়বার তাকে পাওয়ার আশা খোঁজে পাইলাম কিন্তু ভয় হয় যদি প্রত্যাখ্যান করে দেয়। আপনি কী বলেন সে আমাকে মেনে নিবে?
আদিল হানিয়া কে প্রশ্নটা করে হানিয়ার মুখের দিকে চেয়ে রইলো, হানিয়া নিস্তব্ধ হয়ে মাথা নিচু করে আছে, আদিলের কথায় একদম সিওর মেয়েটা সে নিজেই, আর আদিল উওর জানার জন্য জেনে-বুঝে প্রশ্ন করছে হানিয়া কে, হানিয়া হটাৎ বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো, আদিলের দিকে না তাকিয়ে বাড়ির পথে গমগম পায়ে হাঁটা ধরলো, আদিল হানিয়া কে যেতে দেখে বলল,

___” এমনটা কি হতে পারে না, আমি তাঁর কাছে তাঁকে চাইবো, আর সে মুচকি হাসি দিয়ে বলবে, নিজের জিনিস চাইতে নেই?
হানিয়া থমকে গেলো, কথাটা শুনে পিছনে আঁড়চোখে একবার আদিল কে দেখে নিয়ে পুনরায় হাঁটা ধরলো, আদিল আর কথা বাড়ালো না সময় দেওয়া প্রয়োজন, মনের কথা পৌঁছে তো গেছে, এখন শুধু অপেক্ষা। হানিয়া আগে আগে হাঁটছে আদিল কয়েক পা পিছনে পিছনে হাটছে ,দুজনের গন্তব্য এক জায়গায়।

সকাল আটটা, কয়েক দিন কলেজ মিস গিয়েছে, গতকাল রাতে বিয়ে বাড়ি থেকে অনেক রাতে যে যার গন্তব্যের চলে গেছে, আরাত তো তাকবীরের সঙ্গে খাবার খেয়ে সবাই কে রেখে আগেই চলে এসেছে, গভীর রাতে আনাস আইরা রশ্মি এবং কী বাড়ির বড়রা ফিরেছে, আজকে সকাল টা কেমন অনমোনা অনমোনা লাগছে, ডাইনিং টেবিলে তাকবীর বসে সকালের নাস্তা শেষ করছে, আরাত নিজের খাবার সহ মিমের খাবার প্লেটে সেজে মিমের রুমে গেছে, তাকবীর নিজের নাস্তা শেষ করে কিছুক্ষণ বসে রইলো, আরাত মিমের নিচে নামার, প্রায় পনেরো মিনিট অপেক্ষা করার পড়ে আরাত আর মিমের দেখা মিললো, আরাত মিম কে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেয়ে কলেজের জন্য একদম রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো, তাকবীর আগে আগে সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলো, আরাত আদিবা তালুকদার তে চিল্লিয়ে বলতে বলতে মিমের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো, তাকবীর গাড়ি পার্কিং থেকে বের করে আরাতের জন্য অপেক্ষা করছে, আরাত মিম কে গাড়িতে বসতে বলে রশ্মি কে ডাকতে গেলো, তাকবীর এতক্ষণ গাড়ির মধ্যে বসে ফোন স্ক্রল করছিলো, মিম চুপচাপ ব্যাক সিটে বসে পরলো, তাকবীর ফোন স্ক্রল করতে করতে গলা খাঁকারি দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

___” অন্যর কথায় নিজেকে কখনো ভাঙ্গতে দিবে না, নিজের প্রতি কনফিডেন্স রাখবে মেয়েরা কখনো তুচ্ছ না, মেয়েরা সময়ের তালে তালে কখনো হয়ে উঠে মা, আর মা মানে জান্নাত, বউ হয় চিরকালের সঙ্গী, বোন হয় ইজ্জত, আর মেয়ে হয় রহমত,কখনো নিজেকে দুর্বল ভাববে না, সামনে কী হবে তোমার ইচ্ছার উপর ডিফারেন্ট করছে।
তাকবীরের গম্ভীর কথায় মিম নিজের মধ্যে শক্তি পেলো, তোমার ইচ্ছার উপর সবকিছু, শেষের কথাতে বুঝতে পারলো, তাকবীর মিমের বিয়ে হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা সবকিছু জানে, মিম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, মন থেকে ভয় কেটে গেলো, মা-বাবা কে তাকবীর সামলে নিবে এটা মিম খুব ভালো করে বুঝে গেলো, এখন মিম যা চাইবে তাঁর উপর পড়ের ডিসিশন নেওয়া হবে, মিম তাকবীরের কথায় ছোট করে উওর করে উঠে,

___” জ্বি ভাইয়া।
এতক্ষণে রশ্মিরাত এসে গেছে, দু’জন গাড়িতে বসলো আরাত সিটে বসে তাকবীরের দিকে আঁড়চোখে তাকালো,আরাত তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে দেখলো তাকবীর আরাতের দিকে তাকিয়ে আছে, আরাত কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে তাকবীর অ্যাটিটিউড নিয়ে চোখে চশমা পড়ে পরলো,আরাত ছোট ছোট চোখে তাকবীরের দিকে চেয়ে রইলো,তাকবীর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সামনে চোখ রেখে গম্ভীর কন্ঠে ভয়েস স্লো করে বলল,

___” এভাবে তাকাও না কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবো।
আরাত তাকবীরের কথায় খুকখুক করে কেশে উঠে সামনে তাকালো, পুনরায় আঁড়চোখে একবার তাকবীরের দিকে তাকালো, দেখে মনে হচ্ছে আরাতের দিকে তাঁর কোনো ধ্যান নেই, সব ধ্যান সামনে, আরাত তাকবীর কে দেখে নিয়ে পুনরায় পিছনে তাকালো, মিম গাড়ির কাচ ভেদ করে বাহিরের পরিবেশ দেখতে দেখতে নিজেকে নিয়ে ভাবতে মগ্ন, রশ্মি ফোন স্ক্রল করছে, আরাত সোজা হয়ে বসে সামনে রাস্তায় চোখ রাখলো, নাকমুখ ছিটকে তাকবীরের কথায় বিরবির করে উঠলো,

___” ছি পঁচা লোক একটা, কথায় কী সিরি।
তাকবীর সামনে চোখ রেখেই আগের ন্যায় ভয়েস স্লো করে বলে উঠলো,
___” মন মাইন্ড ঠিক করো বেয়াদব, আমি গাড়ির কথা বলছি।
তাকবীরের কথায় আরাত লজ্জা পেলো,লজ্জামিশ্রিত
আরাত দুহাত কচলাতে কচলাতে সামনের দিকে তাকালো, গাড়ি টা এসে থামলো কলেজের সামনে, গাড়ি থামতেই মিমের ভাবনা থেকে বের হয়ে এলো, রশ্মি গাড়ি থেকে নেমে পড়লো,রশ্মির নামার পরপর মিম নেমে পড়লো, অন্যদিনের মতো আজকেও আরাত গাড়িতে থেকে গেলো, মিম রশ্মি আরাতের আশায় না থেকে চুপচাপ কলেজের ভিতরে ঢুকে গেলো, দু’জন কোনো দিকে না তাকিয়ে ক্লাস রুমের উদ্দেশ্য একসঙ্গে হাঁটছে, তাঁদের হাঁটার মধ্যে মাঠের মধ্যে থেকে রুপা মেয়েটার কন্ঠে জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো মিম,

___” আরশ ওই দেখ আজকে তোর কলঙ্ক বউ এসেছে!
তোর বউ কথাটা শুনা মাএ মিমের শরীর তেলের জ্বলে উঠলো, হাতে হাত মুঠ পেকে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, রশ্মি আরশ দের দিকে তাকালো, দেখলো মাঠের মধ্যে সবুজ ঘাসের উপর আরশ পায়ের উপর পা তুলে শুয়ে আছে, রুপার কথায় আরশ শুয়া থেকে উঠে বসলো,বুক থেকে কালো চশমা টা খুলে নিয়ে চোখে পড়ে নিয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো, রশ্মি ভীড়ের মধ্যে চেনা মুখটা খুঁজে না পেয়ে আরশ কে নিজেদের দিকে আসতে দেখে মিম কে বলল,

___” চলো মিম ওরা এদিকেই আসছে!
মিম রশ্মির কথায় স্বাভাবিক ভাবে সামনে হাঁটতে লাগলো, আরশ মিম কে যেতে দেখে ডেকে উঠলো,
___” হাজবেন্ডের থেকে পালিয়ে বাঁচবে কতক্ষণ বউ?
মিম জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো, মিম কে দাঁড়াতে দেখে আরশের মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো, রশ্মি মিম কে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৭

___” দাঁড়ালে কেনো চলো!
মিম রশ্মির দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ওয়েট আপু।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৯