Home Love or Hate love or hate part 24

love or hate part 24

love or hate part 24
ইভেলিনা তূর্জ

পুরো প্যালেসে নৈ:শব্দ্যে নিস্তব্ধতা।বারুদের গন্ধ বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে উঠেছে চারপাশ।পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আদ্রিয়ান মার্বেলের পায়ে বন্দুক পয়েন্ট করে গুলি চালিয়ে দিতেই মার্বেল ছিটকে দূরে সরে যায়,আদ্রিয়ানের দৃষ্টির তৎক্ষনাৎ অগ্নি শিখার মতো জ্বলে উঠে।প্যালেসের বাহিরের পরিবেশ আরও ভয়াবহ, মাফিয়াদের সাঙ্গপাঙ্গরা একে অপরের উপর পশুর ন্যায় ঝাঁপিয়ে পরতে লাগলো।পৌষ্য নে*কড়েগুলো ছেড়ে দিলো খুবলে ছিঁড়ে খাওয়ার উদ্দেশ্য।আদ্রিয়ান গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছুটতে লাগলো রোজের পানে।যেনো এ এক অসহ্যযন্ত্রণার ধৈর্য পরীক্ষা দিচ্ছে , না চাওয়া সত্তেও রেড রোজকে ইউভানের হাতে ছেড়ে দেয়ার।রোজের সামনে এমন দানবীয় রূপে নিজেকে উপস্থাপন করে বিশ্বাসে ঘর কি করবে ভাঙ্গবে দ্যা লায়ন লিডার ভোলকভ। আদ্রিয়ান নিজের মধ্যে ছিলোই না, তপ্ত দেহের র*ক্ত টগবগ করে উঠছে,পিঠ বেয়ে ততক্ষণে রক্তবন্যা বইছে।এদিকে আদ্রিয়ানের বা হাত কিলিং মাস্টার ইউসুফ তাকে জড়সড় হয়ে ধরে ফেললো মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে।

“বস্!সামনে আর এগুবেন না বস্।আই ইউল হ্যান্ডেল দিজ্।আমাদের কিছু গার্ড ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে।”
এদিকে হৃদয়ে বিস্ফোরণ ঘটে পৃথিবীটাকে কালো রঙে রাঙিয়ে যেতে দেখে আদ্রিয়ান রোজের কথা ভাবতে লাগলো।মন মস্তিষ্ক সর্বঘ্রাস করে নেয়া সেই রমণী যার বাদামী চোখ দুটি এই পিশাচীয় আত্মা প্রায়শয় সপ্ন দেখতো প্রতিরাতে সপ্নে এক রমণীর চক্ষুজোড়া।তবে তা শুধু সপ্ন ভেবে কাটিয়ে দিয়েছে বছরখানিক ধরে, কিন্তু পৃথিবীতে আশ্চর্যরূপ আবির্ভাব হলো সেদিন যেদিন সপ্নে দেখা রমণীর চোখদুটোর মতো মিল পেলো কোনো এক বৃষ্টির রাতে রাস্তায় বসে অশ্রু বিসর্জন দেয়া নারীকে দেখে।পৃথিবীটা বড়ই আশ্চর্য খেলা জানে। দু’নয়ন ভরে দেখেছিলো সেদিন অশ্রুসিক্ত কাজল লেপ্টে যাওয়া দু’নয়ন।নিজের অন্ধকার ঘেরা প্যালেসে আবদ্ধ রুমে দেয়ালে নিজের প্যান্টিং করা চোখজোড়া হুবহুব রেড রোজের সাথে মিলিয়ে দেখলো।আদ্রিয়ান শাহ ভোলকভ,দ্যা আন্ডারওয়ার্ল্ড স্মাগলারের জীবনে আগমন ঘটলো সেই সপ্নপরীর।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রোজ তূর্জ চৌধুরীর সম্পর্কে একে একে বের করলো সকল ইনফরমেশন, জানতে পারলো তার শাহ গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির রাইভাল,উরুফে ইউভান রিক আলবার্ট মেয়েটাকে নিজের মেই’ড বানিয়ে বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসেছে।আলবার্ট ম্যানশনের মে’ইড মোনা থেকে জানতে পারলো ইউভান মেয়েটাকে কিভাবে কষ্ট দেয় প্রতিনিয়তো।মানবযন্ত্রটার মনে আগুন জ্বলে উঠেলো সেদিনই।ইউভানের মনে ভোলকভকে নিয়ে সন্দিহান থাকলেও আদ্রিয়ান খুব ভালো করেই জানতো ইউভানই স্পাইডারের বর্তমান গ্যাং লিডার দ্যা মন্সটার বিচ্।
আদ্রিয়ান শাহ এর দুনিয়াটা উলোটপালট করা মেয়েটার নিথর দেহে র*ক্তশ্রোত যেনো ক্ষত বিক্ষত করে দিয়ে পুড়িয়ে ফেললো।চতুর মস্তিষ্কে নানা প্রশ্নের দানা বাঁধলেও তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলো।তবে চোখের সামনে যা ঘটল তা কেমন করে মিথ্যা হবে।রোজের বি*ল্ডিং টা যে ছিলো অস্বাভাবিক। মুহূর্তেই হাড় কাঁপানো কন্ঠে আওড়ালো।

—“ইউভান!রেড রোজের উপর কোনো প্রকার অন্যায় আমি সহ্য করবো না।নেভার!তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেললো।”
আদ্রিয়ানকে ইউসুফ তার কাঁধের উপর ভর দিয়ে দাঁড় করালো, তবে নিস্তেজ হওয়া শরীরের তখনও জলন্ত আগুনে লেলিহান হয়ে আছে,ইউসুফকে পুনরায় সরিয়ে রোজের উদ্দেশ্য হাঁটা ধরলো,ইউসুফ আটকালে রাগমিশ্রিত কন্ঠে নিভুনিভু চোখে বলল,
—“ইউসুফ!!! সি ইজ্ ইন ডেঞ্জার।আমাকে শুকতারার কাছে যেতে হবে।সেইভ হার লাইফ ইউসুফ। ”
—“শুকতারা?হু ইজ্ সি বস্??”
—-“ঐ যে রেড রোজ,যার মাঝে এক সমুদ্র মুগ্ধতা আছে। নক্ষত্রের মতো চোখে মায়া আছে।হাসিতে স্নিগ্ধতা আছে।তার চোখে তাকে না পাওয়ার শূন্যেতা দেখেও ভীষণ করে কাছে চাই,যেমন করে অন্ধ মানুষ পৃথিবীর আলো দেখতে চায়।

বাক্যেটুকু সম্পূর্ণ করার আগেই ইউসুফের কাঁধে মুখ থুবড়ে পড়লো আদ্রিয়ান।
অপরদিকে প্যালেসের বাহিরে রোজকে এক হাতে পাজকোলে তুলে অনবরত এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সামনে এগুতে লাগলো মন্সটার বিচ্ টা।অপ্রতিরোধ্যে হাতের বাঁধনে আবিষ্ট হয়ে আছে রোজ।নিষিদ্ধ প্রণয়ের পরিপূর্ণ বাঁধন।পাথর হৃদয়ের পুরুষটার কালো কোর্ট ভিজে উঠেছে র*ক্তশ্রুতে।আকাশের বুক ছিঁড়ে একটা প্রাইভেট জেড নেমে এলো।কক্’পিটে বসে আছে তুষার।ওয়াকিটকিতে রোজকে দ্রুত ইউ এস এ সি’ফট করার সকল ব্যবস্থা করা শেষ ইতিমধ্যে। ইউভানের ভারী পাঁয়ে একেকটা পদাঘাতে চাকচিক্যের থেকে বেশি ছিলো ধ্বংসাত্নক তেজি মনোভাব। ইউভানের চারপাশের গার্ডরা একে একে রাস্তা ক্লিয়ার করতে থাকে।ইউভান প্রাইভেট জেডে পাঁ রাখতেই পিছন থেকে রয়াল বিল্ডিং এর দু’জন পুরোনো রক্ষক ইউভানকে ব্লু ভেইলকে নিয়ে যেতে দেখে ভয়ার্ত কন্ঠধ্বনি ফেলে বলল,

—“মাফ করবেন রিক স্যার।আপনি ব্লু ভেইলকে নিয়ে যেতে পারেন না এই দ্বীপ ছেঁড়ে,উইমেন ট্রেফিকিং এর কোনো নারীকে এভাবে নিয়ে যাওয়া ভোলচরের নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে পড়ে।রয়াল বিল্ডিংয়ে বাদশাহর কাছে খবর পৌঁছালে আপনাকে শাস্তি পেতে হতে পারে।তার উপরে ওনার দেয়া অবসেডিয়ান শিরাগুলো আপনি মার্বেল ব্রিস্টকে দিয়ে ফেলেছেন।এর পরিণাম কি হবে বুঝতে পারছেন না ??।ব্লু ভেইলকে অন্যে যেকোনো মাফিয়াদের হাতে তুলে দিন,নাহলে মে*রে দিন।এই মেয়ে আপনার জন্যে শুভকর হবে না কখনো!…..প্যালেসের খবর বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে দু’মিনিটও লাগবে না।

ক্ষিপ্তপ্রায় উল্কাপিণ্ড শরীরটা হালকা নাড়ালো ইউভান।পরক্ষণেই পুনরায় হাত নড়লো।কপালের উপর পড়ে থাকা ব্রাউনিশ চুলগুলো আঙুলের ডগা দিয়ে বেকব্রাশ করে, কোনো চিৎকার না দিয়ে নৈঃশব্দ্যে সতর্কতা না ফেলে,
পিছনের দুটি শরীর রানওয়ের আলোয় নিথর হয়ে পড়লো, ভোলচর দ্বীপের নিয়মের আরও দুটি লা*শ।ইউভান এক সেকেন্ডও পেছনে তাকালো না।
জেটের সিঁড়ি উঠতে উঠতে ওয়াকিটকিতে গম্ভীর নির্দেশ ভাসিয়ে দিলো—-
—-“Tusshar Direct California.[U.S.A]”
প্র*কম্পিতো স্বরে একটা বাক্যে আওড়ালো,যা তুফান বেগে ছড়িয়ে পড়লো ভোলচর দ্বীপের বাতাসে।
—-“This Ordinary girl is the lady of Rick Albert, the king of Vulture Island.just listennnn! She is the lady of Mon*ster Bi*tch .

সময়টা তখন প্রায় সাড়ে চার বছর আগেকার—
জীবন নামের কঠিন পরীক্ষার খাতায় সদ্য ডাক্তারি পাশ করা এক তরুণী, ডাক্তার মিরাব মালভীয়া। বাবা-মায়ের আকস্মিক এক্সিডেন্টে মৃত্যু তার জীবনের ভিতটুকু এক ঝটকায় ভেঙে দিয়েছিল। তবু ভাঙা বুক বুকে চেপে, আত্মসম্মানের শেষ আশ্রয় আঁকড়ে ধরে, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই শেষ করেছিল ডাক্তারি পড়াশোনা। তুরস্কের কারাহিসার শহরে, Girlsfeed নামের একটি লেডিস হোস্টেলের ছোট্ট ঘরটাই তখন তার পুরো দুনিয়া। সেখান থেকেই চেম্বার—চেম্বার থেকে ফেরার পথে অনেক রাত, অনেক একাকীত্ব, অনেক নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস।
সেই রাতটাও তেমনই ছিল।

মেঘে ঢাকা আকাশ, বাতাসে অশান্তির পূর্বাভাস। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা ফাঁকা, গাড়ির দেখা নেই। ঝড় আসছে বৃষ্টি নামার আগের সেই চাপা থমথমে অনুভূতি বাতাসে জমে ছিল। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর একা দাঁড়িয়ে থাকার ঝুঁকি না নিয়ে হাঁটতে শুরু করে মিরাব। ঠিক তখনই, “Burger King” রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছাতেই কানে আসে এক পুরুষের ভারী গোঙানির শব্দ—যন্ত্রনায় ভাঙা, মৃত্যুর কাছাকাছি কোনো কণ্ঠস্বর।
প্রথমে থমকে যায় সে।
মিরাব একজন নারী, তাও গভীর রাতে ভয় কাজ করাটাই স্বাভাবিক। চারপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে আবারও হাঁটা দিতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই সেই কণ্ঠটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাস্তার ওপারে, একটি লাল রঙের টেলিফোন বুথে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে এক পুরুষ জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে ঝুলে থাকা এক র*ক্তাক্ত অবয়ব। মিরাব পার্স থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশ জ্বালাতেই দৃশ্যটা পরিষ্কার হয় ঘন কালো চাপ দাঁড়ি, চাপা আগুনে পোড়া চোখ, আর এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত শরীর যেন যম*রাজের মৃ*ত্যুর মঞ্চ থেকে জোর করে ছিনিয়ে আনা হয়েছে।
কে সে তা জেনে সময় নষ্ট করেনি মিরাব।
ডাক্তারের প্রবৃত্তি ভয়কে পেছনে ঠেলে দেয়।লোকটার পাল্’স চেক করতে হাত ধরতেই লোকটা কাঁপা কণ্ঠে অনুরোধ করে—

–“Save me, ma’am… আপনার কাছে পেন হবে?”
নিজের পার্স থেকে একটা কলম বের করে লোকটার হাতে দিতেই সে মিরাবের হাতে প্যান্টহাউসের লোকেশন ম্যাপ করে দেয়।নিজের কোর্টের বুক পকেট থেকে একটা গাড়ির চাবি বের করে হাতে দিয়ে ব’লে,
—“আমাকে এই লোকেশনে পৌঁছে দিন।”
—“কিন্তুু আপনাকে তো হসপিটালে নিয়ে যাওয়া দরকার ইমার্জেন্সি! ”
তবে মিরাবের কথার ঘোড় বিরোধিতা করে মাথা নাড়িয়ে নাসূচক করে বড় বড় শ্বাস টেনে বলল,
—“নো মিস্।সেখানে আমার লোকজন আছে।হসপিটাল যাওয়ার প্রয়োজন নেই।”
সেদিন সেই সিদ্ধান্তটাই ছিল ভাগ্যরেখা।
মিরাব গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে যায় আর সেই অন্ধকার, ঝড়-প্রাক্কালের রাতেই তার জীবনে প্রবেশ করে এক নাম

—আদ্রিয়ান শাহ। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর এক অস্তিত্ব, অথচ সেদিন শুধু একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ। সেই রাতেই মিরাব তাকে চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে।
এরপর সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে।
আদ্রিয়ান, সুস্থ হয়ে ওঠার পর, মিরাবের অতীত জানার পর সিদ্ধান্ত নেয়, মিরাব থাকবে তার পার্সোনাল ডক্টর হয়ে। ডেনমার্ক থেকে তুরস্ক, এক দেশ থেকে আরেক দেশ,প্রতিটি মিশনের পর র*ক্তাক্ত শরীর, ক্ষতবিক্ষত অস্তিত্ব,আর প্রতিবারই নির্ভরতার শেষ ঠিকানা মিরাব। সময়ের স্রোতে ভয় কমে আসে, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আদ্রিয়ানের পেশা তার ভয় লাগাতো, তবু অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল মিরাব কারণ মানুষটার ভিতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা ছিল, যা সে অনুভব করতে পারতো।

এভাবে বহমান নদীর শ্রোতের মতো সময় পার হতে লাগলো, মিরাব প্যান্টহাউসে থাকা শুরু করার ঠিক ছয় মাসের মাথায় এক রাতে আদ্রিয়ান প্যান্টহাউসে একা আসে।মিরাব সেদিন বেশ্ আশ্চর্য হয়েছিলো আদ্রিয়ানের কোলে একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে,হ্যাঁ একটা একদিনের দুধের বাচ্চা ছেলে।মিরাব সেদিন আদ্রিয়ানকে কোনো প্রশ্ন করে নি যে কে! আদ্রিয়ান শুধু বাচ্চাটাকে মিরাবের কোলে দিয়ে বলল,
—“আনানের দায়িত্ব আজ থেকে তোমার মিরাব।”
মিরাব আনানকে কোলে তোলে নেয়।একটা একদিনের বাচ্চার নাম পর্যন্ত রেখে ফেলেছে আদ্রিয়ান। তবে কে এই বাচ্চা তা জানার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করে বলল-

—“আনান??এই বেবি টা কে??”
—“যে হউক ওকে বড় করবে আমার পরিচয়ে, এড’শ এর উত্তরাধিকারসূত্রে। মায়া-মমতার কোনো কমতি যেনো না থাকে।মনে রাখবে ও আদ্রিয়ান শাহ এর ছেলে।”
—“আপ..আপনার??আমার জানামতে আপনার তো কোনো স্ত্রী নেই,কোথায় পেলেন ওকে??”
আদ্রিয়ান বাঁকা হাসলো।ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে কোনো প্রতিউত্তর না করে চলে যেতে নিয়েও পাঁ থামিয়ে এক শব্দ ছুঁড়ে দিলো।
—“ডাস্টবিন! ”

মিরাব সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলো।আদ্রিয়ানের মতো মাফিয়া, মানুষের মুখ থেকে শব্দধ্বনি ফুটে উঠার আগে মৃত্যুেমঞ্চে দাঁড় করানো লোকের মনেও মায়া আছে।এ কি করে সম্ভব। তাও সমুদ্রের মতো বিশাল, কাঁচের মতো স্বচ্ছ। লোকটা কি জানে তার ভেতরকার মনটা তার থেকেও অপূর্ব সুন্দর।
এভাবেই বিগত চারটা বছর আনানকে নিয়ে প্যান্টহাউসে হেঁসে খেলে সময় পার করতে লাগলো মিরাব।একটা মে’ইড অব্দি রাখেনি। সব নিজের হাতে সামলাতো।কোলে পিঠে মানুষ করলো আনানকে।যার জন্ম পরিচয় অজানা হলেও ভালোবাসার কোনো কমতি রাখলো না।সেদিন থেকে আনান তার বুকের ভেতর জায়গা করে নেয়। মা হয়ে ওঠে সে,র*ক্তের নয়, তবু ভালোবাসার। চার বছর ধরে একা হাতে মানুষ করে, Mom থেকে Mimi শব্দ বদলায়, অনুভূতি হয় আরও গভীর।

সব কিছু তো ঠিকি ছিলো।আদ্রিয়ানের প্রতি এক তরফা ভালো লাগা এতোদিনে হৃদযন্ত্রকে পুরোপুরি ঘ্রাস করে নিলো।আনানকে নিয়ে যেনো এই প্যান্টহাউসকে নিজের সংসারের মতো অবচেতন মনে সাজাতে লাগলো। আদ্রিয়ান বছরে এক-দুবার তুরস্কে এসে আনানের কাছে রাএিযাপন করে চলে যেতো, সেরকমি এক কালরাএিতে আবারো আগমন ঘটলো আদ্রিয়ানের, তবে সাথে ছিলো রোজ।একটা অপূর্ব সুন্দরী মেয়েকে আদ্রিয়ানের কোলে দেখে অচিরেই মনটা ধক্ করে উঠেছিলো।তবে বরাবরের মতো সেদিনও কোনো প্রশ্ন মিরাব করে নি।আদ্রিয়ান বলল,মেয়েটাকে যেভাবেই হউক সারিয়ে তুলতে, মিরাব সুস্থ করে তোললো।জানতে চাইলো না রোজের পরিচয়।দিন পার হতে থাকলো রোজের মতো মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে শুধু মিরাব কেন, যেকারোর মনে ভালোলাগা সৃষ্টি করতে বাধ্য। ধীরে ধীরে নিজের ছোট বোনের স্থানে বসালো রোজকে।রোজকে নিয়ে আসার পর থেকে আদ্রিয়ানও প্যান্টহাউসে থাকতে শুরু করলো।রাত হলে ভিতরে ভিতরে নানা যন্ত্রণা মন্ত্রণা মিরাবের মনকে ঘ্রাস করতে চাইলেও সব বাঁধা ধুয়েমুছে ছাপ করতে লাগলো সে।তবে মানুষের মন বড়ই জটিল গোলকধাঁধা বাস।রোজের প্রতি আদ্রিয়ানের এতো কেয়ার যত্ন মনের ভিতরটাকে এক প্রকার পোড়াতে শুরু করলো।নিভৃতে না পাওয়ার আকাঙ্খাটা আরও তীব্র গতিতে বাড়লো।মিরাব মালভীয়া যে অত্যন্ত ধৈর্যশীল নারী।মুখে হাসি রেখে ভেতরের জ্বলন্ত আগুন নেভাতে থাকলো।পোড়া বুকটাকে ঢেকে দিলো নিখুঁত অভিনয়ের আস্তরণে।

মিরাব যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সে মানুষের মন মস্তিষ্ক পড়তে সক্ষম একটু হলেও।আদ্রিয়ানের চোখে রোজের প্রতি যে প্রণয় আকাঙ্খা মিরাব দেখেছিলো তা মিথ্যা কি করে হতে পারে।এইটুকু সত্য মেনে নেওয়ার সক্ষমতা হলো না আর।রোজের জন্মদিনের পরদিন সকালে যখন রোজকে আদ্রিয়ানের রুম থেকে বের হতে দেখেছিলো অনিচ্ছা ক্রোধ মাথায় চেপে বসলেও নিয়ন্ত্রণ করলো।তবে সপ্তাখানিক আগে মেয়েটা মিরাবের কাছে এসেছিলো বলল,তার শরীরটা তেমন ভালো নেই,মাথাটা ঝিমঝিম করে।কখনো কখনো বমি পায়।রোজ মিরাবকে এটাও ব’লেছিলো যেনো তাকে একটু চেক্আপ করে, সদ্য আঠারোতে পাঁ দেয়া মেয়েটা ধরে নিলো তার হয়তোবা বদহজম হয়েছে।
একজন নারী ডক্টর অপর নারীর অন্তরগত সমস্যা বাহ্যিক আচরণে বুঝতে সক্ষম। রোজের কথায় মিরাব ভিতর থেকে দুশ্চিন্তাগত হলেও তা প্রকাশ করলো না।নিউ*রণ টেস্ট করালো।তবে ফলস্বরূপ যা পেলো তা যেনো বজ্রাঘাত করলো মিরাবের দেহের প্রতিটা রন্ধ্রে শিরা-উপশিরায়। মস্তিষ্ক অচল হয়ে পড়লো।

মিরাবের ভাস্যমতে একটা আন’মেরিড মেয়ে রোজ তাও পাঁচ সপ্তাহের প্রেগন্যান্সি,,, রোজ প্যান্টহাউসে এসেছে কয়েকসপ্তাহ হলো মাত্র।মিরাব কি করবে বুঝতে পারলো না।ভাবতে লাগলো,রোজের সাথে আদ্রিয়ানের সম্পর্ক প্যান্টহাউসে আসার আগ মূহুর্তে,রাতে আর ঠিক মতো ঘুম হলো না মিরাবের,শুধু অশ্রু বিসর্জন দিলো,বুকের ভেতরের ধ্বংসাত্নক পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার মতো যন্ত্রণা সহ্য করতে লাগলো। না রোজকে এ ব্যাপারে কিছু বললো আর না আদ্রিয়ানকে।পুরো সত্যটা মাটি চাপা দিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা চালালো।ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গতে লাগলো।
এভাবে সপ্তাহখানিক যাওয়ার পর নিউ ইয়ারের এর আগের দিন রাত্রিতে একাকী রুমে বিছানায় পড়ে রইলো।প্রায়সয় রাতে অ্যালকোহল খেয়ে নেশাগ্রস্ত হতো।সেই রাতেও খেলো।কেন খাবে না সে তার তো এখন পাগল পাগল লাগে।কি করে মেনে নিবে??আদ্রিয়ানের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকলেও কোন দায়িত্বটা পালন করে নি মিরাব??এতো বছরের ভালোবাসা, যত্নে গড়ে তোলা সংসার হারানোর ভয় ভিতর থেকে কুঁড়েকুঁড়ে খেতে লাগলো।যেনো হৃদপিন্ড টা কেও ভিতর থেকে টেনে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলছে।

আদ্রিয়ানের রোজকে শাড়ী গিফট করা, রোজ সেটা পড়ে এতো খুশি, এসব সহ্য করার ক্ষমতা আর হ’য়ে উঠলো না মিরাবের, নেএপল্লব আজ তার বড্ড ক্লান্ত। অবিনাশী।একটা অল্প বয়সী মায়ের অনাগত সন্তান তাকে না জানিয়ে প্রেগন্যান্সি সমাপ্ত করার জন্য Mife****tone এবং Mis****stol নামক ঔষুধের সংমিশ্রণ ঘটালো চায়ের কাপে।অথচ রোজ মিরাবের হাতের চা খেয়ে তৃপ্তি মিটাতো।নিউ ইয়ার ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার আগে সেই চা আয়েশ করে খেলো মেয়েটা।অন্তঃসত্তার বিনাশ ঘটিয়ে।
মিরাব ভেবেছিলো ঔষধের প্রভাব রাতের মধ্যে হলে সে সামলিয়ে নিতে পারবে তবে সব কিছু বিপরীত মেরুর দিকে অভিমুখ হলো তখনি যখন রোজ নিউ ইয়ার ফেস্টিভ্যাল মেলা থেকে হারিয়ে গেলো।যা ছিলো অকল্পনীয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঔষধের প্রভাব, তার উপরে রোজের হারিয়ে যাওয়া, জীবন বিপদের মুখে ভেবে ভেবে মিরাব অনুশোচনায় ভোগতে লাগলো।সে তো রোজের ক্ষতি করতে চায়নি।আদ্রিয়ানকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার ভয় মনকে দগ্ধ আগুনে পুড়াচ্ছিলো।

|বর্তমান |
শুরু থেকে সবটা মনে করতে করতে নিজের বিছানায় উল্টো হয়ে শুয়ে রইলো মিরাব।চুলগুলো কেমন পাগলের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।এই তো কিছুক্ষণ আগে আনানকে গাল ভরে চুমু খেয়ে এলো মিরাব।মৃত্যুের আগের শেষ কয়েকমিনিট তাকে নর*কযন্ত্রণায় ভোক্তভোগী করে তুলেছে। ডান হাতে একটা বোতল, ম্যাড হানির [Deli Bal], তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর Black Sea অঞ্চলে মধু যাকে ‘পাগল মধু’ বলা হয়। এটি মূলত রডোডেনড্রন ফুল থেকে তৈরি হয়। এতে গ্রায়ানোটক্সিন থাকে, যা বেশি পরিমাণে খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।মিরাব সেই মধু পুড়োটা খেয়ে নিয়েছে।ভিতরটা তেমন ভাবে পুড়ে চলেছে ঠিক যেমন করে পুড়িয়েছে অনাগত একটা প্রাণকে।জীবনের শেষ মুহূর্তে আদ্রিয়ান আনানের সাথে কাটানোর সকল স্মৃতি নেএপল্লবে এনে গভীর শ্বাস টানলো।সিলিং এর পানে তাকিয়ে জোরে জোরে চিল্লিয়ে কাঁদতে লাগলো।

“আমা…আমাকে ভালোবাসলে কি এমন ক্ষতি হতো আদ্রিয়ান??? জীবনটা কি খুব বেশি খারাপ হতো??আমায় কেন ভালোবাসলি না! তোকে পাওয়ার যে তীব্র ইচ্ছা আজ সেই ইচ্ছাই আমায় মে*রে দিচ্ছে ।শেষ বারের মতো কল টাও ধরলি না।
একটা জোরালো শ্বাস টানলো মিরাব।নিঃস্বাস টা ভেতর ছিঁড়ে বের হচ্ছে ক্রমাগত।বুক উঠানামা করছে।
“তুইও তো পাপী এড’শ!সেই পাপকে ধ্বংস করে আমিও পাপী হলাম।তবে তোকে না বলা একটা কথা যে রয়ে গেলো! সেটার কি হবে???”
—-“আমি তোকে ভিষণ ভালোবাসি। ভিষণ। তোর ভালোবাসার স্পর্শ না পাওয়ার আফসোস আমার জন্ম-জন্মান্তরের।”
পুরো প্যান্টহাউস আজ নৈ:শব্দ্যে।পুরো দুনিয়া থেকে চিরতরে মুছে যেতে যেতে শেষ বারের মতো মনে মনে আওড়ালো মিরাব-

|হে জগৎ শ্রষ্ঠা!|
ঈর্ষার বশীভূত হৃদয়ে আমি একি করলাম!
একটা অনাগত প্রাণকে পৃথিবীর আলো দেখতে দিলাম না।আমি কি জাহান্নামি হয়ে গেলাম??নর*কেও ঠাই হবে তো আমার?..আমি আজ ব্যর্থ,না হতে পারলাম কারোর প্রিয়, না হতে পারলাম মা..আনানকে ছেড়ে যেতে যে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে :)আমি যে পাপী! পাপীষ্ঠ চোখে তাকানোর সাহস আর,নেই আদ্রির পানে,পারবো না আর রোজের চোখে চোখ রাখতে।বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে বসেছি চিরতরে।
সর্বপরি, আমায় ক্ষমা করবে বিধাতা??

চিরতরে বন্ধ হলো একজোড়া নেএপল্লব।পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলো মিরাব মালভীয়া নামক এক নারী।না হওয়া এক প্রেয়শী।না হওয়া এক মা।ঈর্ষার অন্ধ বশবর্তী হয়ে যে নারী নিজের ভেতরের মানবিকতাকে হত্যা করেছিল, সে কখনো জানবেই না সে অন্যায় টা ঠিক ক’জনের সাথে করেছে।তার এই অন্যায়ের ফয়সালা হবে না আর এই দুনিয়ার কোনো আদালতে।তার ভূলের কারণে জানলো না এক মা তার মাতৃত্বের প্রথম অনূভুতি,আদ্রিয়ান জানলো না তার অসতীত্বে মিশে যাওয়া রমণীর অন্যে এক পুরুষের অনাগত সন্তান গর্ভে ধারণ করা।অপরদিকে ইউভান নিষ্ঠুরতম, অনুভূতিশূন্য পুরুষটা সব জানলো,সব সত্য তার সামনে ন*গ্ন থাকলেও,কিন্তু একটি সত্য জানলো না,নিজের অস্তিত্ব কতটা কলুষিত,নিজের নামে সে কতটা ধ্বংস ডেকে এনেছে।তার নামেই জন্ম নেয়ার কথা ছিলো যে প্রাণ,যার প্রথম নিঃশ্বাসটা নেওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে কেড়ে নেওয়া হলো।
মিরাব যদি সেদিন একবার,মাত্র একবার
আদ্রিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে,সমস্ত সত্য উজাড় করে দিতে পারতো,তাহলে হয়তো,এই অধ্যায়ের শেষটা অন্যরকম হতো,পরিণতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতো।তবে ভাগ্যে যে বড়ই নিষ্ঠুর খেলা জানে।

|আমেরিকার, ক্যালিফোর্নিয়া|
আকাশের বুক ছিঁড়ে কালো প্রাইভেট জেড টা ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ঘেরা নির্জন উপত্যকায় সমুদ্রের কাছাকাছি, ফরেস্ট লাইনে নামলো , চারপাশে কোনো আলো নেই শুধু ল্যান্ডিং প্যাডের চারপাশে জ্বলছে নীল আলোগুলো।এই জায়গাটাও মানচিত্রে নেই।এটা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নিরিবিলি, এলিট, হাই-সিকিউরিটি প্রাইভেট মেডিক্যাল ফ্যাসিলিটি।
প্রাইভেট জেডের দরজা খুলতেই ইউভান নামলো প্রথম। তার বাহুতে নিথর রোজ। মাফিয়া ব’সে্র কালো কোর্টে জমাট বাঁধা র*ক্ত,ইউভানের হাঁটার প্রতিটা পদাঘাত ভারী, স্থির, নিঃশব্দ। ইউভান কোনো প্রকার আদেশ না দিয়ে রোজকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে লাগলো।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ফ্যাসিলিটিটা লকডাউন হয়ে গেলো।প্রবেশপথে আর্মড গার্ড।ছাদে বেশ কিছু স্নাইপার।ভিতরে নাইট-ভিশন ক্যামেরা।মোবাইল সিগন্যাল সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয়া হলো ইউভানের আদেশে।ইউভান ঠান্ডা কণ্ঠে ওয়াকিটকিতে বলল-

——“তাদের মধ্যে থেকে বেস্ট ডক্টরদের ওয়াশিংটন থেকে ফাস্ট নিয়ে এসো।”
ঘণ্টাখানেকের ভেতরেই, ওয়াশিংটন থেকে এয়ারলিফট করে আনা হলো তিনজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। দু’জন নারী, একজন পুরুষ।ডক্টর এলিসা,ডক্টর কিয়ারা আর পুরুষ ডক্টরটা আর কেউ না ওয়াশিংটনের ফেমাস তরুণ বাঙালি হার্ট সার্জেন্ট রায়হান মির্জা। ইউভানের আদেশমতো বেস্ট ডক্টরদের নিয়ে আসা হলো তবে তাদের পরিচয়টুকু ইউভান জানার আগ্রহ প্রকাশ করলো না।তুষার মূলত এদের গার্ড দিয়ে ধরে নিয়ে এসেছে।চলেতো এসেছে বাঘের খাঁচায় তবে বেঁচে ফিরতে পারবে কি-না তা ভেবেই নারী ডক্টরদের গাঁ বেয়ে শীতল ঘাম ঝরতে লাগলো।ডক্টর রায়হান মির্জাকে তার বাসা থেকে তুলে আনা হয়েছে।বেহুশ হয়ে পড়ে আছে একটা কক্ষে।আর তুষার হিংস্র দানবের মতো গনপিটুনি দিচ্ছে দুজন গার্ডদের মূলত গার্ডরা ভুলবশত ডক্টর থেরণের পরিবর্তনে অন্যে এক পুরুষ ডক্টরকে নিয়ে চলে এসেছে।এ খবর যদি ঘুনাক্ষরে ইউভানের কানে যায় সে কথা ভেবেই গার্ড দুজনকে ইচ্ছে মতো উদম শরীরে আঘাত করছে।নির্দয় ভাবে।জিম্ গড়ণে পড়নের শার্টটা পরিবর্তন করে নিলো তুষার।দাঁতে দাঁত পিষে হাতের বেল্টটা দেয়ালে ছুড়ে মারে।বেল্টের গায়ে চাম/ড়া ছিঁড়ে লেগে আছে।অল্পভাষী তুষার হুটহাট রেগে না গেলেও মাথায় রাগ চেপে বসলে নিয়ন্ত্রণ করা তার পক্ষে মহা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।

ফিমেল ডক্তর এলিসা আর কিয়ারা রোজের শরীর স্পর্শ করতেই মুখ শক্ত হয়ে গেলো।এটা তো পেল*ভিক ব্লি*ডিং।এলিসা কিয়ারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটা শুকনো ঢুক গিলে, কাঁপন ধরা হাতে রোজের চিকিৎসা শুরু করলো।গ্লাসডোরে পর্দা টেনে ঢেকে দিলো সম্পূর্ণ রুম।
চারপাশে মনিটর। দরজার বাইরে চারজন গার্ড। ভিতরে ঢোকার অনুমতি শুধু দুইজন ডাক্তার আর ইউভানের।নার্সদের বদলে দেওয়া হলো।
দু’জন নারী সিকিউরিটি যোগ করা হলো।
পেশাদার চোখে লুকোবার কিছু নেই এই র*ক্তপাত দেখে ডক্টর এলিসা কিয়ারা বুঝল এটা সাধারণ কোনো আঘাত ছিলোই না। এলিসার আঙুল থমকে গেলো মনিটরের উপর। কিয়ারার চোখ নেমে গেলো রোজের নিথর পেল*ভিক অঞ্চলের দিকে। শব্দ না করেই দু’জন একে অপরের দিকে তাকালো। সেই দৃষ্টিতে ছিলো ভয়, ছিলো অনিবার্য সত্যের ভার।কিয়ারা ঠোঁটের ফা’ক গলে বের হলো-

——“ohhh no!it’s pe*lvic bleeding!”
শব্দটা কিয়ারার ঠোঁট ছুঁয়ে বেরোতেই ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।এলিসা একটা শুকনো ঢোক গিলে কাঁপন ধরা হাতে গ্লাভস টানলো…বেশ্ কিছুক্ষণ। তারপরমনিটরের শব্দ একটানা বেজে উঠলো।ড্রিপ ঝুলছে।ওষুধ ঢুকছে রোজের শিরায়।
কিন্তু রোজের শরীর যেনো অন্য কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে অচেতনতার গভীরে, যন্ত্রণার অতলে।
তার কিছুক্ষণ পর এলিসা ধীর পায়ে বেরিয়ে এলো।মুখে সার্জিকাল মাস্ক পড়া। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিলো ইউভান। তার চোখে কোনো প্রশ্ন ছিলো না। এলিসা খুব ধীরে, খুব স্পষ্ট করে বললো
——“so…sorrry! She’s miscarrying. And the bleeding… it’s dangerous. Her life is at risk right now!”

কথাটা ইউভানের কানে পৌছাতেই ডক্টর এলিসার মাথায় বন্দুক তাক করলো।ইউভানের এমন হিংস্র অবয়ব দেখে,,,, এলিসা এক পা পিছিয়ে যায়।তার বিস্ময়ভরা চোখে ইউভান হুঙ্কার ধ্বনি ফেলে বলল।
——“হুয়াট!হুয়াট দ্যা হে’ল ইজ্ দিস্। প্রাণের ভয় নেই নাকি আপনার কি বলছেন ভেবেচিন্তে বলছেন তো???”
ডক্টর এলিসা হতভম্ব হয়ে ভীত দৃষ্টি ফেলে তোতলানো –
—-“আ…আমি মিথ্যা বলছি না,আপনি কে হন মেয়েটার,ওনি প্রেগনেন্ট ছিলো।,6 week pregnancy……ওনি কি কোনোভাবে প্রেগন্যান্সির জন্যে কোনো পি*ল খেয়ে নিয়ে ছিলো??মিস্ক্যারেজ্ হয়ে গিয়েছে। অ্যাম ন’ট ড্যাম সিউর,বাট ওনার জীবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ”

—“হুয়াট দ্যা ফা*ক! –ইউভান রিভলবার ধরা ডান হাতটা দিয়ে দেয়ালে গুষি মারলো।শরীরোর গরম র*ক্ত গুলো মুহূর্তেই টগবগ করতে লাগলো।কপালে,গলার শিড়া গুলো ফুলে ভাসমান হয়ে উঠেছে। ডক্টর এলিসাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে রোজের উদ্দেশ্য হাঁটা দিলো।ইউভানের রণমুর্তি মুখাবয়ব এর ভয়ানক বিভীষিকাময় অবস্থা সামাল দিতে তুষার ছুটে এসে ইউভানকে এলোপাতাড়ি ধরে ফেললো।আটকাতে চাইলো।রোজের অবস্থা এমনিতেই করুণ। ইউভান গিয়ে রোজের সামনে গলা হাঁকালে রোজের অবস্থা আরও ক্রিটিকাল হয়ে যাবে।ইউভান তুষারের হাতে আঘাত করতে লাগলো,
—“মর*তে না চাইলে ছাড় আমায়।ঐ বান্দীর কতো বড় সাহস।এতো সাহস হয় কি করে।মেডিসিন নেয়ার সাহস হয় কি করে।আই উ’ইল কিল হার।”

—-“যাতা কথা বলিস না রিক।আমরা যেমনটা ভাবছি তেমন নাও হতে পারে।মেয়েটাকে সুস্থ হতে দে।যাস্ট কো’ল ডাউন,।তুই কি জানতি!”
ইউভান গ্লাসডোরে শক্ত হাতের প্রবল চাপে গ্লাসডোর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো।তৎক্ষনাৎ ইউভানের হাতে কাচ ঢুকে গলগল করে র*ক্ত ঝড়তে লাগলো।ইউভান গলার শিড়া ফুলিয়ে ষাঁড়ের মতো ফুসফুসতে বলল-
—-“নো.ফা*ক!আমি কি করে জানবো।এই বান্দী আমি না শয়তান।খারাপ মানুষ। তুই কি ছলনাময়ী। রিকের সন্তান মেরে ফেলার সাহস হলো কি করে তোর।”
ঘৃণাকে তামাশা বানালি??you are a fu*cking murderer mrs. Rose Turjo Chowdhury! ”
ইউভান গেলো না রোজের কাছে।তুষারের কথাটা বারবার মাথায় ঘুর্ণিবাক খেতে লাগলো। রোজ কিছু করেছে কি না ইউভান সিউর না।তবে মাথাটা আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।এখানে থাকলে রাগ সামাল দিতে পারবে না ভেবে এক ঝটকায় তুষারকে সরিয়ে উল্টো দিকে হাঁটা দিলো।

ক্যালিফোর্নিয়াতে তখন তিমিরে ঢাকা রাত।শুনশান নিস্তব্ধতা।ইউভান করিডরের শেষ একটা রুমের মেঝেতে বসে আছে।অ্যালকোহল খেলেও ইউভানে নেশা হয় না।না সে নেশাগ্রস্হ হয় তেমন ভাবে।তবে আজ শরীরটা সামাল দিতে পারছে না।চোখ দুটো ঢলঢল করছে।একেরপর এক ম*দের গ্লাস শেষ করে চলছে।পুরো রুম অ্যালকোহলের উদ্ভট গন্ধে জড়জরিত হয়ে উঠেছে।ইউভানের মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ একএে মাথা চেপে ধরে রেখেছে যেনো।যন্ত্রণা হচ্ছে প্রচন্ড বেগে।অনেকদিন পর ইউভান আজ ড্রা*গ নিয়েছে। ড্রাগের নেশায় মন মস্তিষ্ক নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়ালো মাফিয়া টা।পড়নের কোর্ট শার্ট খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেললো। পুরো শরীর ঘামে চ্যাট চ্যাট হয়ে আছে।অথচ ক্যালিফোর্ণিয়াতে তখন তুষারপাত।
ইউভান রোজের কেবিনে ঢুকতে ঢুকতে মৃদু চিৎকার করতে লাগলো।চোখের সামনে সব ঝাপসা তাও আওড়ালো।

—-“আই হেই’ট ইউ মিসেস ডার্ক রোজ।লিসেন্ট ইউ আর ন’ট মাই ওয়া’ইফি।ইউ আর ন’ট।”
অচিরের বেলকনিতে থেকে অগত ঠান্ডা বায়ু প্রবাহ প্রবেশ করলো পুরো কক্ষ জুড়ে।ইউভান এসে রোজের মুখের উপর ঝুঁকলো।কেমন যেনো দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে আওড়ালো-
—“তাকা আমার দিকে, তাকা।”
পরক্ষণেই কপাল ভাঁজ করে পুনরায় মনে মনে আওড়ালো।
—“তাকাস না ইউভান! ঐ চোখে শুধু ঘৃণা দেখবি।এতো ঘৃণা!!এতো ঘৃণা যা তোকে জ্বালিয়ে দিবে।”
রোজের মুখে অক্সিজেন মাস্ক।ইউভান মাস্ক টা সরিয়ে দিতে রোজ জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগলো যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো।ইউভান পুনরায় তা পড়িয়ে রোজের জামার খামচে ধরলো।সর্বাঙ্গের সকল শক্তি প্রয়োগ করে পুরুষালির হাস্কি স্বরে বললো।

love or hate part 23

—“ম*রতে পারবি না।তোকে মা*রার অধিকার শুধু আমার,শুধু আমার।।তোকে যন্ত্রণা দেয়ার অধিকার শুধু আমার।কি বলেছিলাম মনে নেই তোকে কাঁদানোর অধিকার শুধু এই ইউভানের আছে আর কারোর নেই।”
ইউভান দাঁতে দাঁত পিষে গর্জে উঠলো।চোখ দু’টো লালবর্ণ ধারণ করতেই।রোজকে ছেড়ে দিলো।একটা সিগারেট ঠোঁটে পুড়িয়ে হাসতে লাগলো।
—“যাস্ট ওয়াক আপ্ little dove!

love or hate part 25