লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২১
অহনা রহমান
নাফি হিয়ার ঘোমটা তুলে আবারও সালাম করলো,
“আসসালামু আলাইকুম।”
হিয়া অত্যাধিক কাঁপছে। নিচু হয়ে বসে আছে মেয়েটা। নাফি ঘোমটা তুলে দিয়েছে, বউয়ের মুখটা দেখার জন্য। কিন্তু হিয়ার জন্য তা আর হচ্ছে? হিয়া তো চোখ তুলে তাকাচ্ছেও না। নাফি আবারও বলল,
“এই যে হিয়া রানি সালামের জবাব দিতে হয় কিন্তু।”
হিয়া চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। লজ্জা লাগছে অনেক। কিন্তু আসলেই তো সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। হিয়া বুঝলো নাফি তার দিকে তাকিয়ে আছে৷ হয়তো উত্তরের আশায়! হিয়া ভিষন নার্ভাস। তবুও নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। যদিও খুব একটা লাভ হলো না। এরপর রিনরিনে স্বরে বলল,
“জ্বি বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।”
হিয়ার জবাব শুনে নাফি ফিক করে হেঁসে উঠলো। নাফির হাসি শুনে হিয়া বুঝলো সে কি বলে ফেলেছে। বেচারি লজ্জিত হলো খুব। লজ্জায় একপ্রকার মাথা কাটা গেল তার। জিভ কামড়ে ধরলো সে। উশখুশ করতে থাকলো মেয়েটি। মনে মনে বলল, যেন কোনো অদৃশ্য জাদু শক্তিতে সে নাফির সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে যাক। ওদিকে নাকির হাসি কিছুতেই থামছে না৷ সে হাসতে হাসতেই উঠে দাঁড়ালো। হিয়ার দিকে কিছুক্ষণ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা এত্তো বোকা কোন? এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে এরপর কি হবে?? নাফি হিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“স্বাভাবিক হও। কোনো ভয় নেই তোমার। ওজু করে এসো_নামাজ পড়বো আমরা।”
নাফি হিয়াকে সময় দিলো। সে চলে গেল ওয়ারড্রোবের কাছে। ড্রয়ার থেকে নিজের ট্রাউজার এবং টিশার্ট নিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমের দিকে।
হিয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। ইশশ! তাকে কেন বারবার নাফির সামনে লজ্জায় পড়তে হয়? ছিঃ ছিঃ কি বলদের বলদ সে! কি ভাবলো নাফি? যাক হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর ভেবে কাজ নেই৷ হিয়া আস্তেধীরে উঠলো বিছানা ছেড়ে। মেয়েটির মনে পড়লো_ওর ছোট চাচি বলেছিলো, নাফি ঘরে আসলে যেন হিয়া পায়ে হাত দিয়ে সালাম দেয়। সাথে একগ্লাস গরম দুধ খেতে দেয়। এসব কথা মনে পড়লে হিয়া ঠোঁট ভ্যাঙালো। এহহহ! তার বুঝি বয়ে গেছে। নাফির সামনে চোখ তুলে সে তাকাতে পারছে না, আবার সালাম করবে তাই না? হিয়ার বুঝি লজ্জা লাগে না? হিয়া করবে না এসব৷ এখন তার এইসব ভাবলে চলবে না যদিও। নাফিকে কিভাবে রাজের কথাটা বলবে সেটাই ভাবার বিষয়।
হিয়া ঘর জুড়ে পায়চারি করতে থাকলো। রুমে তো ওয়াশরুম একটাই, তাহলে নাফি ওকে কোথা থেকে ওযু করতে বলল? ততক্ষণে নাফি বের হয়েছে ওয়াশরুম থেকে। নাফি ব্লাক টিশার্ট ও হোয়াইট ট্রাউজার পরিহিত। ওয়াশরুমের দরজা খুলে নাফি নিজের ভেজা চুল গুলো মুছতে মুছতে বের হলো। হিয়াকে হাটাহাটি করতে দেখে নাফি বলে উঠলো,
“কিছু হয়েছে পুতুল?”
অপরিচিত সম্মধনে ধরফরিয়ে পেছনে তাকালো। নাফিকে দেখে সে আবারও ঠুস ঝিমিয়ে গেল। কাচুমাচু হয়ে দাঁড়ালো। নাফিকে সে ভয় পাচ্ছে না কিন্তু তার কেমন অদ্ভুত লাগছে। হঠাৎ করে কিভাবে বিয়েটা হয়ে গেল। আবার হঠাৎ করে এ বাড়িতে চলেও এলো। আর এখন নাকি এই ব্যাডার সাথে এক রুমে ঘুমাতে হবে। ইয়াক!! নাফি হিয়ার অবস্থা দেখে পুনরায় তপ্ত শ্বাস ফেললো। এগিয়ে গেল হিয়ার দিকে। রমনীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সে। পুনরায় মাথায় হাত বোলালো। আদুরে স্বরে বলল,
“তোমাকে পুতুলের মতোই সুন্দর লাগছে, তাই পুতুল বলেছি৷ আর এমনিতেও একটা নিকনেম দিলে তোমাকে মানাবে না। এইজন্য আলাদা আলাদা নামে ডাকি। বাই দা ওয়ে, এখন যাও ফ্রেশ হয়ে ওযু করে এসো।”
হিয়া কোনমতে দুপাশে মাথা দোলালো। গুটিগুটি পায়ে সরে গেল নাফির কাছ থেকে। নিজের তোয়ালে টা নিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমে।
হিয়া যাওয়ার পর নাফি আনমনে হেঁসে নিলো খানিকক্ষণ। হিয়াকে যে তাকে এভাবে ভয় পাচ্ছে কেন, কিছুতেই বুঝতে পারছে না সে। এমন তো না যে আজই তাদের প্রথম দেখা!
মিনিট দশেক পরে হিয়া বের হলো ওয়াশরুম থেকে। দেখলো নাফি তার জন্য নিজের একটুখানি পেছনে জায়নামাজ রেখে নামাজে দাঁড়িয়েছে। হিয়া আর কোনও কথা না বলে, চুপচাপ নাফির পিছনে নামাজে দাঁড়ালো। দুজনে দুই রাকআত করে শোকরানা নামাজ আদায় করো নিলো।
সালাম ফিরিয়ে জায়নামাজে বসে আছে নাফি। কিছুক্ষণের মধ্যে হিয়ারও নামাজ শেষ হলো। হিয়া মনে মনে ভাবলো এটাই সুযোগ, সবকিছু বলার। এখনই সব সত্যি কথা বলে দেবে সে। তাতে যা হয় হোক। নাফির পিছনে বসা ছিলো হিয়া। তাই নাফিকে নিজের দিকে ফেরানোর জন্য হিয়া বলল,
“এই যে শুনছেন?”
নাফি শোনার জন্য প্রস্তুতই ছিলো। হিয়ার এক বলাতে সে পিছনে ফিরে তাকালো। মুখ ধোয়ার পর হিয়াকে আরও স্নিগ্ধ লাগছে। নাফি অবাক হয়ে গেল৷ হিয়াকে আজ এই মুহুর্তে সে নতুন ভাবে চিনলো। বলা যায় প্রেমে পরলো আবারও। নাফি মোলায়েম কন্ঠে বলল,
“হ্যাঁ বলো না।”
হিয়া মাথা নিচু করে নত স্বরে বলল,
“একটা কথা ছিলো আপনার সঙ্গে।”
নাফি এগিয়ে গিয়ে বসলো হিয়ার সামনে। হিয়া তখন আসন দিয়ে বসা। হাত দুটো সামনে কোলের উপরে রাখা। নাফি হিয়ার একটা হাত নিজের হাতের মধ্যে নিলো। আদুরে স্বরে বলল,
“আচ্ছা সব কথা শুনবো তোমার, এক মিনিট।”
নাফির ঠান্ডা হাতের স্পর্শে কেঁপে উঠলো হিয়া। তবে ওর কথার প্রতুত্তর করার স্পর্ধা দেখালো না। আবারও মাথা নিচু করে বসে রইলো। এবং হিয়াকে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়ে বলতে শুরু করলো,
“প্রিয়তমা, আজ এই পবিত্র মুহূর্তে, আমাদের একসাথে জীবন শুরু করার এই প্রথম রাতে, আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ মনে করছি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে শুধু একজন সঙ্গীই দেননি, দিয়েছেন তোমার মতো একজন রূপসী, গুণসী, জীবনসঙ্গিনী। তুমি তাঁর দেওয়া সেই অনন্য তোহফা, যা পাওয়ার জন্য আমি হয়তো সারাজীবন প্রার্থনা করেছি।
এই নবজীবন শুরুর লগ্নে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তুমি যেভাবে আমার জীবনে এসেছো এক অপার আশীর্বাদ হয়ে, আমিও তোমার জীবনকে সুখে-শান্তিতে ভরিয়ে দেবো। তোমার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি আশা, প্রতিটি স্বপ্নকে আমি আমার নিজের মতো করে লালন করবো।
তুমি আমার জীবনের সেই ফুল, যার সুঘ্রাণে আমার প্রতিটি দিন মোহিত হবে। আজ থেকে আমরা দু’জনে এক হয়ে গেলাম। এই নতুন যাত্রায় তুমি আমার পাশে থাকো_এই কামনা আজ সৃষ্টিকর্তার কাছে। তোমাকে পেয়ে আমার জীবন সার্থক হলো, প্রিয়তমা।”
কথাগুলো বলে নাফি একটি বক্স সামনে আনলো। কিছুসময়ের মাথায় বক্সটি উন্মুক্ত করলো নাফি। হিয়া যদিও কিছুই দেখছে না। সে হতভম্ব হয়ে গেছে। নাফি কি বললো ওসব? নিজের কানকে আপাতত অবিশ্বাস করছে হিয়া৷ সে এতক্ষণে নাফির দিকে তাকালো। ঠিক সেসময়ে নাফি উন্মুক্ত বক্সটি হিয়ার সামনে ধরলো। তাতে দুইটি সোনার নুপুর। নাফি হিয়াকে আরেক দফা অবাক করে দিয়ে বলল,
“প্রিয়তমা, আমাদের নতুন জীবনের এই প্রথম রাতে, আমি তোমার হাতে এই ছোট্ট উপহারটি তুলে দিলাম। এটা শুধু একটি উপহার নয়, এটা আমার ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে জেন। আমাদের সম্পর্কের একটি স্মারক যা আজ থেকে শুরু হলো।
যেমন এই উপহারটি মূল্যবান, তার চেয়ে কোটিগুণ বেশি মূল্যবান তুমি আমার জীবনে। আজ থেকে আমাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা এবং ভালোবাসা একসাথে গাঁথা হবে। এই উপহারটি আমাদের সুখী ভবিষ্যতেরই একটি প্রতিশ্রুতি। আশা করি, তুমি এটা পছন্দ করবে এবং প্রতিবার এটা দেখে মনে পড়বে আজকের এই রাতের কথা, যখন থেকে আমরা একে অপরের হয়েছি।”
হিয়া অন্যজগতে হারিয়ে গেছে। সে নাফির চোখের দিকে তাকানোই ছিলো। নাফিও হিয়ার চোখের দিকে তাকালো। মিলিত হলো দুটি মুগ্ধ চোখের। কিছুক্ষণ কাটলো এভাবেই। হিয়ার টনক নড়লো নাফির কথাতে,
“পছন্দ হয়েছে পুতুল?”
হিয়া সত্যিকার পুতুলের ন্যায় নাফির কথাতে সায় জানালো। মাথা ঝাঁকিয়ে নরম স্বরে বলল,
“হ্যাঁ হয়েছে।”
নাফি এরপর নিজের হাতে হিয়ার পায়ে নুপুর জোড়া পড়িয়ে দিলো। হিয়া তো তখনো অন্য দুনিয়ায়। কি হচ্ছে আদৌও সে বুঝতে পারছে কি’না সন্দেহ! হিয়া এরপর স্বাভাবিক হলো নাফির আরেকটি কথাতে,
“কি বলতে চেয়েছিলে এবার বলো।”
ওরা দুজন তখনো জায়নামাজে বসে আছে৷ হিয়া ভাবলো আরেকবার। নতুন জীবন হিয়া নতুন করেই শুরু করতে চায়। অতীতে কি হয়েছে না হয়েছে তা নিয়ে ভবিষ্যৎ কোনভাবেই খারাপ করতে চায় না। হিয়ার হাবভাবে এটা স্পষ্ট সে নাফির বিষয়ে যথেষ্ট স্যাটিসফাইড! হিয়া কিছুক্ষণ ভেবে তপ্ত শ্বাস ফেললো। এখন নাফি কি রিয়াক্ট করে সেটাই দেখার বিষয়৷ হিয়া আবার মাথা নিচু করে ফেললো৷ কেমন একটা গুমোট গলায় বলল,
“আমার অতীত সম্পর্কে কিছু বলার আছে আপনাকে। বিয়েটা এতো তাড়াতাড়ি হয়েছে যে, বলার সুযোগ পাইনি। তাছাড়া এটা কিভাবে বলবো আমি বুঝতে পারছিলাম না৷”
নাফি অমায়িক হাসি দিলো একটা। সে ভাবতেও পারেনি হিয়া তাকে রাজের কথা বলবে। তাও আবার এই সময়ে। যেহেতু নাফি জানে, তাই আজ এই পবিত্র সুন্দর রাতটাকে ওই অমানুষের জন্য খারাপ করতে চায় না সে। ওদিকে নাফির একটুখানি নিরাবতা হিয়াকে ভাবিয়ে তুললো। সে বুঝতে পারছে না নাফি কি ভাবছে মনে মনে৷ তাই হিয়ায় বলা শুরু করলো,
“না না ভুল ভাববেন না! সেরকম খারাপ কিছুই ঘটেনি আমার সঙ্গে। আমি জাস্ট……!”
হিয়া কথা সম্পুর্ন করতে পারলো না। তার আগেই নাফি থামিয়ে দিলো হিয়াকে। হিয়ার ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
“উহুম! আজ এসব কথা নয়। অতীতে যেটা হয়েছে সেটা অতীতেই চলে গেছে। এখন তুমি সম্পুর্ন আমার। তোমার সম্পুর্ন সৃতিও আমাকে দিয়ে ভরা থাকবে। ওসব ঝেড়ে ফেলে দাও মাথা থেকে। বলেছি না আজ থেকে নতুন জীবন শুরু হলো আমাদের?”
হিয়া আর কথা বলতে পারলো না৷ নাফি এরকম? কই সে তো কখনো বুঝতেও পারেনি।
“হিয়া সারাদিন অনেক ধকল গেছে তোমার উপর দিয়ে। চলো ঘুমাবে চলো।”
নাফি আর কোনো কথা বলতে দিলো না হিয়াকে। নিজেও বললো না আর। দুজন গিয়ে শুয়ে পরলো বিছানায়। এবং বাসর-টাসর বাদ দিয়ে দুজনেই পারি জমালো ঘুমের রাজ্যে।”
ভোর পাঁচটা বাজে। হিয়া উঠেছিলো ওয়াশরুমে যাবে বলে। কিন্তু কলিংবেলের শব্দে তা আর হচ্ছে কোথায়? নিচে কলিংবেল বেজেই চলেছে। হিয়া ওয়াশরুমে না গিয়ে নিচে নামলো দরজা খোলার জন্য। এতো সকালে আবার কে এলো? নিচে নামতে নামতে হিয়া ভাবলো, সে নতুন বউ। দরজা খোলা কি ঠিক হবে? আর নাফিমা ও বোধহয় ঘুমের ঔষধ খেয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। কালকে ওই মানুষটিও বহুত খাটুনি খেটেছে৷ তাই হয়তো এতো শব্দে জাগতে পারছে না৷ কিন্তু হিয়া ভাবলো নিজের কথা৷ তাই হিয়া আবারও উপরে গেল নাফির কাছে৷ আলতো করে নাফিকে ডাকতে লাগলো,
“এই যে শুনছেন? কে যেন এসেছে একটু দেখবেন?”
নাফি ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। সে আর উত্তর দেয়? হিয়া বেশ কয়েকবার ডাকলো নাফিকে৷ তারপর নাফি ঘুমের ঘোরে বলল,
“আচ্ছা তুমি দরজা খুলে দেখো কে এসেছে৷ হয়তো তাশরিফরা এসেছে৷ তুমি যাও আমি আসছি।”
হিয়া জানে নাফি ঘুমের ঘরে এটা বলছে। জেগে থাকলে জীবনেও হিয়াকে যেতে বলতো না৷ নাফির কথা শুনে হিয়া নিচে নামলো আবার। দ্রুত গিয়ে দরজা খুললো। দরজা খুলে যা দেখলো তাতে হিয়ার চক্ষু চড়কগাছ! রাজ আর রুহি দাঁড়িয়ে আছে৷ হিয়াকে দেখে রাজ রুহিও অবাক হলো। রুহি অবাক হয়ে বলল,
“তুই? তুই এখানে কেন? বাড়িতে যাসনি?”
হিয়া কি বলবে এখন? এটা তো এখন তারও বাড়ি৷ হিয়া বলল,
“ভেতরে এসো তারপর বলছি।”
হিয়ার উত্তর ওদের ঠিক পছন্দ হলো না। রুহির মনে কু ডাক ডাকতে লাগলো। কি হয়েছে যা তারা জানে না? রাজ বলল,
“হিয়া এটা কিন্তু রুহির উত্তর নয়। তাছাড়া তুমি এসব শাড়ি পরেছো কেন?”
রুহি ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। রাজের কথাতে লক্ষ করলো। আর খেঁকিয়ে বলল,
“হিয়ার বাচ্চা কি লুকাচ্ছিস বল কিন্তু। নাহলে তোকে আমি ছিঁড়ে ফেলবো কিন্তু।”
লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২০
রুহি হিয়াকে ঠেলতে ঠেলতে ধমকাতে ধমকাতে ড্রয়িংরুমের ভেতরে নিয়ে এলো। বারবার বলতে লাগলো,
“এখানে কি হয়েছে বল হিয়া। কি হয়েছে আমাদের অবর্তমানে?”
হিয়া জবাব দেওয়ার আগেই দোতলা থেকে ভেসে আসে কাঠকাঠ গলার স্বর,
“রাজ তোকে আর তোর বউকে লাস্ট এন্ড ফার্স্ট ওয়ার্নিং দিলাম। সেকেন্ড টাইম যেন হিয়ার সাথে এমন ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখাস না। আর হ্যাঁ! তোদেরকে জানিয়ে রাখি, ও আমার স্ত্রী। অর্থাৎ তোদের বড় ভাবি। ওকে যেন নাম ধরে ডাকতে না দেখি। কথাটা মাথায় রাখিস।”

Apo please deri kore dio na,,,porer part ta taratari dio 🥺🥺🥺