Home লাল শাড়িতে প্রেয়সী লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৬

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৬

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৬
Fatima Fariyal

আহাদের সম্মতি নিয়েই পরদিন সকালে রিদিতা আর আহিয়া আসে আনিকাদের বাসায়। দরজা খুলে দেন আনিকার মা। তাদের মুখ দেখেই তিনি বুঝে যান, তারা কেন এসেছে। তবুও ভদ্রতার খাতিরে অজানা সেজে প্রশ্ন করেন,
“তোমরা হঠাৎ!”
আহিয়া সালাম দিয়ে একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করল, “আন্টি, আনিকা কই?”

“ভিতরেই আছে। কিন্তু তোমরা…”
কণ্ঠে কোনো কৌতূহল নেই, আছে শুধু একরাশ ক্লান্তি।
রিদিতা সামনে এগিয়ে এসে নরম স্বরে বলল,
“আসলে আন্টি, আনিকা আমাদের বিয়েতেও যায়নি। আবার হুট করেই যোগাযোগ বন্ধ… তাই একটু দেখতে আসা।”
এক মুহূর্তের নীরবতা। “আসো, ভিতরে আসো।”
দুজনেই তাড়াহুড়ো করে ভিতরে ঢুকে পড়ে। আনিকা খাটের এক কোণে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিল। এখন উঠে বসেছে। চোখ দুটো ফুলা, নাকের ডগা লালচে। বোঝাই যাচ্ছে; অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছে। এখন শুধু থেমে থেমে নিশ্বাস নিচ্ছে। রিদিতা তার কাঁধে হাত রাখে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“নিজেকে এভাবে কষ্ট কেন দিচ্ছিস আনিকা। ওদিকে শাহীন ভাইও কষ্ট পাচ্ছে।”
আনিকা আবার নাক টানলো। আহিয়া দৃঢ় কন্ঠে বলে ওঠে, “এত কান্নাকাটি করে কী হবে? চল আমাদের সাথে। তোর আব্বু একদিন না একদিন ঠিকই মেনে নেবে।”
আনিকা ধীরে মাথা নাড়ে। নাক টেনে, ভাঙা স্বরে বলে,
“না আহিয়া। তোরা আমার আব্বুকে চিনিস না। আব্বু বলেছে, আমি যদি যাই; তাহলে যেন তাদের মরা মুখটাও দেখতে না আসি।”
একটু থেমে শ্বাস নেয়। গলাটা কাঁপছে।

“আমি তাদের একমাত্র মেয়ে। আমাকে তারা চোখের মণির মতো ভালোবাসে। আমি যদি এভাবে চলে যাই… আব্বু-আম্মু এমনিতেই মরে যাবে। তখন আমার কী হবে বল?”
আহিয়া যুক্তির সুরে বলে, “কেমন ভালোবাসা এটা? তোর কথাই তো শুনছে না!”
আহিয়া হয়তো বুঝতে পারছে না, কিন্তু রিদিতা খুব ভালো করেই বুঝছে আনিকার ভেতরের টানাপোড়েন। এই জায়গাটার যন্ত্রণা সে নিজেও একদিন বয়ে বেড়িয়েছে। সে জানে, ভালোবাসা আর দায়িত্বের মাঝে আটকে গেলে মানুষ কীভাবে ভেঙে পড়ে। সে নিচু, স্থির স্বরে বলল,
“তুই বুঝবি না আহি। কোনো বাবা-মা কখনো সন্তানের খারাপ চায় না। কিন্তু অনেক সময় তাদের ভয়টা, তাদের অসহায়ত্বটা আমরা সন্তানরা বুঝতে পারি না।”
আহিয়া এবার সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।

“এখন কী করতে চাস তুই?”
আনিকা ভাঙা গলায় বলল, “আমি শাহীনকে বিয়ে করতে চাই। বিশ্বাস কর, আমি সত্যিই চাই। কিন্তু আব্বু-আম্মুকে কষ্ট দিয়ে… আমি কিছু করতে পারব না।”
“শাহীন ভাইয়ের সাথে একবার কথা বলবি?”
উত্তর আসে একেবারে স্পষ্ট, দ্বিধাহীন। “না।”
এই এক শব্দেই সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। রিদিতা আর আহিয়া একে অপরের দিকে তাকায় অসহায়ের মতো। এখন আর কিছু বলার নেই। ভারী মন নিয়ে দুজনেই বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল আহাদ আর শাহীন। দূর থেকেই তাদের মুখ দেখে শাহীন সব বুঝে যায়। ঠোঁটের কোণে সৌজন্যমূলক, ক্ষীণ একটা হাসি টেনে নেয়; নিজের ভেতরের রক্তক্ষরণ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা। সে জানে না, এই হাসিটা কতটুকু সফল হলো। শুধু জানে, ভেতরের ক্ষতটা আগের চেয়েও গভীর হয়ে গেল।

অক্টোবর মাস প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে বলে শীতের আমেজটা ধীরে ধীরে জানান দিচ্ছে নিজের উপস্থিতি। বিশেষ করে সকালের আবহাওয়াটায় শীতল প্রভাব লেগেই থাকে। তখন চারপাশে হালকা কুয়াশার একটা আস্তরণ জমে। যেন প্রকৃতি নরম তুলোর চাদর মুড়িয়ে বসে আছে।
রিদিতার শরীরটা ইদানীং ভালো যায় না। মাঝে মাঝেই দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে। কিন্তু সে এসবের কিছুই আহাদকে বুঝতে দেয় না। যদি কোনোভাবে আহাদ টের পেয়ে যায়, তাহলে তাজমহল দেখার স্বপ্ন মুহূর্তেই গোল্লায় যাবে। অথচ তার কত দিনের ইচ্ছা, খুব কাছ থেকে তাজমহল দেখবে। এই ইচ্ছেটুকু পূরণ করতেই আহাদ হাজার ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে সাত দিনের ছুটি নিয়েছে। এই সাত দিনে তারা ভারতের কয়েকটা বিশেষ জায়গা ঘুরবে। যদিও আহাদ এর আগে বহুবার ভারতে গেছে, তাজমহলও দেখেছে; তবু এবার যাওয়াটা একেবারেই আলাদা। কারণ এবার সে যাচ্ছে রিদিতার ইচ্ছা পূরণ করতে। তারা অবশ্য একা যাচ্ছে না। আদনান আর আহিয়াও সাথে যাচ্ছে।

এটাও রিদিতার বায়না। ইদানীং রিদিতা প্রায় সবকিছু নিয়েই বায়না ধরে। আর সেটা না শুনলে কখনো হুট করে রেগে যায়, আবার কখনো গাল ফুলিয়ে পটকা মাছের মতো বসে থাকে। এই দুটোর কোনোটাই আহাদ সহ্য করতে পারে না। তাই শেষমেশ প্রেয়সীর কাছে হার মেনে নেয়। বেলা তিনটায় তাদের ফ্লাইট। সব ব্যাগপত্র নামিয়ে আহাদ দেখল রিদিতাই এখনো নামেনি। সে গলা উঁচু করে ডাকল,
“রিদি! নিচে আসো। রি..”
“এইতো!”

দ্বিতীয়বার ডাকার আগেই রিদিতা হাজির। চোখে-মুখে একঝলক উচ্ছ্বাস। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার বেরিয়ে গেল। আদনান আর আহিয়া আগেই ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়ে গেছে। আহাদ রিদিতাকে নিয়ে অন্য একটা রাস্তা ধরল। সেটা বুঝতে পেরে রিদিতা প্রশ্ন করল,
“এদিকে কোথায় যাচ্ছেন?”
আহাদ আড়চোখে তাকাল রিদিতার দিকে। মেয়েটাকে সে ইদানীং ঠিকমতো সময় দিতে পারছে না। কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এটা নিয়ে রিদিতার কোনো অভিযোগ নেই। আহাদ মাঝে মাঝে চায়, সে অভিমান করুক, অভিযোগ করুক। কিন্তু হয় ঠিক উল্টো। সামান্য কিছু হলেই গাল ফুলিয়ে চুপ করে বসে থাকে।
“কী হলো? কী ভাবছেন?”
রিদিতা আবার জিজ্ঞেস করল। আহাদ সামান্য হাসল। কিছু বলল না। তখনই তার চোখে পড়ল শাহীনকে। তার পাশে নীলা। রিদিতার চোখ চকচক করে উঠল। সে আহাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

“নীলাও যাবে আমাদের সাথে?”
“হুম।”
“সত্যিই?”
“না।”
রিদিতার মুখটা মুহূর্তেই চুপসে গেল। মিনমিন করে বলল,
“আপনি তো কেবলই বললেন যাবে।”
“তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছো কেন?”
রিদিতা চুপ করে গেল। আহাদ তার মনোভাবটা বুঝে মাথা ঠাণ্ডা করে বলল,
“ওদের মাঝখানের প্রাচীর ভাঙতে হলে একান্ত সময় কাটানো জরুরি। তাছাড়া নীলাও একটু খুশি হবে। তাই ভাবলাম ওদেরকেও নিয়ে যাই।”
রিদিতা মৃদু হেসে বলল, “আপনি এত ভালো কেন?”
“বেশি ভালো?”
“না। এট্টু এট্টু!”
আহাদ ঠোঁট কামড়ে হাসল। নীলা আর শাহীন গাড়িতে উঠে বসল। তবে দুজনেই নীরব। তাদের গাড়ি সোজা এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হলো। সেখানে আদনান আর আহিয়া অপেক্ষা করছিল।

দীর্ঘ জার্নি শেষে রাত আটটার দিকে সবাই ভারতে পৌঁছাল। দ্য ওবেরয় আমারভিলাস হোটেলে আগে থেকেই রুম বুক করা ছিল। ২০২ নম্বর রুমে আদনান আর আহিয়া; ২০৩ নম্বর রুমে শাহীন আর নীলা। আহাদ আলাদা ফ্লোরে রুম নিয়েছে। ভীষণ ক্লান্তির কারণে সবাই যে যার রুমে চলে গেল।
রিদিতা ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। বারান্দার দিকে তাকাতেই তার চোখে পড়ে আহাদকে। সে ফোনে কথা বলছে। কপালের ভাঁজ দেখে বোঝা যায়, কাজের কথা। রিদিতা ধীরে ধীরে পা ফেলে হঠাৎই পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে। বুকের সাথে পিঠ ঠেসে যায়। নরম করে তার পিঠে নাক ঘষে নেয়। আহাদ কথার মাঝেই হালকা হেসে ওঠে। কল কেটে ঘুরে দাঁড়ায়। কপালে কপাল ঠেকায়। নাক ঘষে আলতো গলায় জিজ্ঞেস করে,

“কী হয়েছে হুম? উষ্ণতা প্রয়োজন?”
রিদিতা চোখ নামিয়ে মৃদু গলায় বলে, “উহুম। আপনাকে প্রয়োজন।”
আহাদের ঠোঁটে খেলাচ্ছলে হাসি।
“আচ্ছা? কিন্তু কে জানি বলে.. আমি খারাপ!”
রিদিতা মুখ তুলে তাকায়। চোখে দুষ্টুমি আর আদরে ভরা চাহনি।
“বেশি না তো! এট্টু এট্টু খারাপ, আবার এট্টু এট্টু ভালো।”
আহাদ ভ্রু কুঁচকে ভান করে, “এটা কেমন কথা!”
“এটা আহাদ রাজার প্রেয়সীর কথা।”
“বেশ কথা শিখেছেন দেখছি।”
“শিক্ষক আপনি নিজেই।”

আহাদ এবার ভালো করে তাকায় তার দিকে। সাদা চুড়িদারে প্রেয়সীকে আজ অদ্ভুত রকম স্নিগ্ধ লাগছে। যেন সকালবেলার আলোয় ধোয়া কোনো পরি। সে হঠাৎ করেই নিজের বুকের মধ্যে টেনে নেয় রিদিতাকে। ভীষণ আশ্লেষে নিজের সাথে মিশিয়ে ডাকে,
“রিদি।”
“হুম।”
“আমার একটা ব্যাঙের বাচ্চা লাগবে।”
রিদিতা মাথা তুলে তাকায়। চোখ বড় বড় করে বলে, “আমাকে বলছেন কেন?”
“কী আশ্চর্য! ব্যাঙের মাকে বলবো না তো কাকে বলবো।”
“আমি মোটেও ব্যাঙ না। ব্যাঙ আপনি।”
আহাদ হেসে শব্দ করে ওঠে। রিদিতা তার কথার মানে স্পষ্টই বুঝেছে, তবুও কিছু বলল না। শুধু চোখ নামিয়ে মিটমিট করে হাসছে। আহাদ তার মাথাটা নিজের বুকে শক্ত করে চেপে গভীরভাবে নিশ্বাস টেনে বুক ভরে নেয় রিদিতার চেনা সুবাস।

নীলা রুমে ঢুকে একটু অস্বস্তি বোধ করল। ঠোঁট কামড়ে রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল। শাহীন সেটা বুঝতে পারল। ফ্রেশ হয়ে একটা বালিশ নিয়ে বলল,
“আমি বারান্দায়ই থাকবো। তুমি নিশ্চিন্তে এখানে থাকতে পারো।”
নীলা কিছু বলল না। সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল।শাহীনও দ্রুত বারান্দায় চলে গেল। দুজনের মাঝখানের বোঝাপড়ার প্রাচীর এখনো অটুট। এই এক মাসে কেউই কারোর দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায়নি। দুজনেই নিজের ভেতরে গুটিয়ে আছে। শাহীন ভারী শ্বাস নিয়ে আকাশের দিকে তাকাল। আকাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার; একদম তার ভিতরের মতো। মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল পেছনের ঘটনাগুলো।

সেদিনের পর আনিকার বাবাকে কত বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে। এমনকি তার মা পর্যন্ত আনিকার বাসায় গিয়েছিল প্রস্তাব নিয়ে। আনিকাও অনেক কান্নাকাটি করেছে। কিন্তু তার বাবার একটাই শর্ত, আহাদের সঙ্গ ছাড়তে হবে, রাজনীতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। তিনি তার একমাত্র মেয়েকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।
এই শর্ত শাহীনের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। আহাদ নিজেও বলেছিল তার সঙ্গ ছাড়তে। কিন্তু শাহীন নড়েনি। সে জীবন দেবে, তবুও আহাদের সঙ্গ ছাড়বে না। যে মানুষটা তাকে আর তার মাকে নতুন জীবন দিয়েছে, তাকে মাঝপথে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

একদিন হঠাৎ জানতে পারে আনিকারা খুলনায় চলে যাচ্ছে। তার বাবার বদলি হয়েছে। সেদিন শাহীন প্রায় আনিকার পায়ে ধরা বাকি ছিল শাহীনের কিন্তু আনিকার একটাই কথা, বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে সে যেতে পারবে না। আনিকারা চলে যাওয়ার পর শাহীন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। যেটা আহাদের সহ্য হয়নি। অন্যদিকে নীলাও নিঃসঙ্গতায় ভুগছিল। আহাদ ভেবেছিল, দুজন নিঃস্ব মানুষ যদি একই সুতোয় বাঁধা পড়ে, তাহলে হয়তো একে অপরের পরিপূরক হবে। সেই ভাবনা থেকেই দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।
আজ এক মাস হতে চলেছে। অথচ তাদের সম্পর্কের এক বিন্দুও পরিবর্তন আসেনি। শাহীন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। নীলা গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে। বাড়িতে তারা মায়ের অগোচরে আলাদা ঘরে থাকে। কিন্তু এখানে সে সুযোগ নেই। শিরশিরে ঠান্ডা অনূভতি হতেই দ্বিধা ভুলে শাহীন ভেতরে ঢুকে পড়ল। তাতেই নীলা অস্বস্তিতে উঠে বসল।

“আসলে বাইরে ঠান্ডা লাগছিল তাই…”
শাহীন অজুহাত দিল। নীলা চোখ নামিয়ে রেখে বলল,
“আপনি চাইলে… বেড শেয়ার করতে পারেন।”
শাহীন চমকে তাকাল। নীলা দ্রুত যুক্ত করল,
“না মানে… এখানে তো আর অপশন নেই। আপনি এক পাশে থাকলেই হবে। আমার সমস্যা নেই।”

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৫

শাহীন কিছুক্ষণ চুপ থেকে এক পাশে শুয়ে পড়ল। নীলাও পিঠ ফিরিয়ে অন্য পাশে শুয়ে পড়ল। তার চোখ ছলছল করছে। এই এক মাসে কিছু না পেলেও শাহীনের মায়ের ভালোবাসা পেয়েছে। নিজের মেয়ে নেই বলে মমতাজ বেগম নীলাকে চোখে হারান। আসার সময় তার কাছে একটাই আবদার করেছিলেন, নাতি-নাতনীর মুখ দেখতে চান। তখন নীলা চুপ ছিল। এখন ভাবছে, এই কথা শাহীনকে বলবে কীভাবে? কিংবা সে নিজেই বা এই আবদার পূরণ করবে কীভাবে?

লাল শাড়িতে প্রেয়সী পর্ব ৫৭