Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭১

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭১

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭১
তাবাস্সুম খাতুন

নিশান সিমির মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে বললো,
“এইটা তোর গিফ্ট জানবাচ্চা, আমার খেয়াল ছিলনা। তবে আজকে এইভাবে তুই সারপ্রাইস ভাবে পেয়ে যাবি সেইটাও ভাবি নি। তবে সারপ্রাইস ভাবে পাওয়া গিফ্ট টা অবশ্যই তোর ভালো লাগবে। কারন এই মেয়ের হৃদপিন্ড তোর পায়ের যোগ্য যে।”

নিশানের কথা শুনে সিমির ভয় যেন আরো দ্বিগুন বাড়লো। সে এইসবের সাথে পরিচিত না। তার বড্ড ভয় লাগছে। নিশানের বুকে যেন একদম ঢুকে যেতে পারলেও তার ভয় কমবে না। সে কাঁপা কণ্ঠে বললো,
“দ.. দরকার নেই কোন সারপ্রাইস আর না কারোর হৃদপিন্ড, আমার ভয় লাগছে। সরিয়ে দিন প্লিজ।”
নিশান এইবার সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। সিমিকে বেডে বসিয়ে দিলো। নিশান উঠতে গেলেই সিমি নিশানের হাত ঝাপ্টে ধরে বললো,
“প্লিজ উঠবেন না, আমার ভয় লাগছে।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নিশান সিমির দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু পল।ভয়ে সিমির চোখের পাতা বারবার কেঁপে উঠছে। ঠোঁট দুটোও অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। নিশান কিছু মুহূর্ত পরে বললো,
“এইভাবে কাঁপাকাঁপি করিস না জানবাচ্চা, আমি নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারছিনা।”
সিমি কাঁপা চোখ নিয়েই নিশানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ওইটা আনার কি দরকার ছিল? আমি কি এইসবে অভ্যস্ত?”
নিশান উঠে দাঁড়িয়ে নিজের মতো বললো,
“অপেক্ষা কর দশ মিনিট, আমি সাওয়ার নিয়ে আসছি।”
সিমি ব্লাঙ্কেট এর নিচে ঢুকে বললো,
“এর উপরে টাইম না গেলেই হলো। এখন এই বড়ো বাড়িতে আমার একা থাকতে হলে জানটা হাতে আনতে হবে। দ্রুত আসুন।”

নিশান আর কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলো। সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে আসলো। রুমে এসে নিজের চুলগুলো শুকিয়ে নিলো। চুলগুলো হাল্কা সেট আপ করে নিলো। টি টেবিল থেকে ফোন উঠিয়ে দেখলো। সময়টা গিয়ে ঠেকছে রাত এগারোটা বেজে দশ মিনিটে। নিশান ফোনটা রেখে দিলো।চোখ উঁচিয়ে সিমির দিকে তাকালো। সিমি ঘুমিয়ে পড়েছে। ব্লাঙ্কেটটা পেট পর্যন্ত টেনে দিয়েছে, উড়নাটা অবহেলাই এক পাশে পরে আছে।চুলগুলো হাত খোঁপা করে রাখা। দুই একটা চুল মুখে এসে পড়েছে।ডান হাতটা মাথার কাছে রাখা। আর বাম হাতটা পেটের উপরে। নিশান এক পলক দেখে রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা কিচেন এ গেলো। ফ্রিজ থেকে খাবার বাহির করে গরম করে প্লেটে বেড়ে আবারো উপরে আসলো।রুমে এসে রুম লক করে।

বেডে গিয়ে বসলো প্লেটটা টি টেবিলের উপরে রেখে। সিমিকে ডাকতে লাগলো। তবে সিমির কোন হুস নেই।নিশান এইবার সিমিকে উঠিয়ে বসালো। সিমি মুখ দিয়ে “চ “সূচক শব্দ উচ্চারণ করলো, নিশান ভাত মাখিয়ে সিমির মুখে এক লোকমা তুলে দিলো। সিমি ঘুমের মধ্যে খেয়ে নিলো। নিশান নিজেও খেলো। এইভাবে দুইজনে পুরো খাবার শেষ করলো। সিমিকে আবারো বালিশে মাথা রাখিয়ে শুয়ে দিলো।নিশান সবকিছু গুছিয়ে, লাইট অফ করে বেডে আসলো। সিমি এখনো নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। নিশান বেডে এসে এক হাত দিয়ে ভর দিয়ে সিমির মুখের দিকে তাকালো। রুমে জ্বলতে থাকা একটা লাল জিরো লাইট এ সিমির মুখটা ভালো ভাবেই দেখা যাচ্ছে। নিশান সিমির নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,

“তোকে ঘুমাতে কে বলেছে এত তাড়াতাড়ি? সেই থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে এখন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিস? এখন এইভাবে আমিও জরিয়ে ধরি তোকে।”
নিশানের বিড়বিড় কথা ঘুমন্ত সিমির কানে পৌঁছালো না। তবে নিশান সিমির কপালে গভীর এক চুম্বন এঁকে বললো,
“আজীবন ঐভাবেই জড়িয়ে রাখিস আমাকে, আমিও তোকে আগলিয়ে নেব শত বাঁধা বিপত্তি থেকে।”
বলে নিশান সিমিকে নিজের বুকের মাঝে নিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমের রাজ্যে হারাতে লাগলো।

চৌধুরী বাড়ি যেন ধীরে ধীরে আগের মতো হয়ে উঠেছে। সবাই এখন অনন্দে মেতে থাকে। একসাথে বসে আড্ডা দেই খেলা করে। মাঝে মাঝে রাত্রি ও আসে দুই – একদিন থেকে চলে যাই। তাজউদ্দিন এখন নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছে। আগের মতো ভাইদের সাথে মিলে চলে একসাথে অফিস যাই আড্ডা দেই। সবার হাসিখুশি জীবনের মধ্যেও তিহান যেন সেই আগের মতোই আছে। সে যত চাই তার পাখিকে ভুলতে তবুও দেইনা সেই পাখি তাকে ভুলের নিশানা খুঁজতে। তবুও পরিবারের সঙ্গে যখন থাকে তখন সে সবাইকে এইটা বোঝাই যে সে সত্যি ভালো আছে। তবে দিন শেষে রাতের আঁধারে সিমরানের কবরের পাশে বসে কান্না করতে করতে সে আজও একটা বাক্য বলে,

‘আমি তোমার কদর অনেক বুঝলাম, এইবার নাহয় ফিরে আসো পাখি। আমি যে তোমাকে আপন করে পাওয়ার জন্য, প্রতিদিন জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে কান্না করছি। ”
তবে সিমরানের কবর থেকে কোন শব্দ আসে না। সে জানে সিমরান ফিরবে না তবুও যেন আশা নিয়ে প্রতিদিন রাতে এই কবরের পাশে বসে কান্না করে ডাকতে থাকে তার পাখিকে। “তার পাখি যে তার নীড়ে ফেরে নি, ওই দূরের কোন এক গন্তব্যেতে চলে গেছে।”

সামিয়া আর জারার ইয়ার চেঞ্জ এক্সাম শেষ হলো সেইদিন। জারা এখন অর্নাস সেকেন্ড ইয়ার এ পরে। সামিয়া ইচ্ছা করেই আর সেকেন্ড ইয়ার এ যাই না। জিহান যেতে বলাই তার উত্তর আসে,
“আমি ঘরের বউ, কাজ করতে হবে আমাকে। ঐসব পড়াশোনা আমার দিয়ে আর হবে না যা পড়ছি মাশাআল্লাহ তাতেই এনাফ।”
জিহান ও আর জোর করে না। সে যদি না চাই তবে বারবার বলে লাভ কি? তবে জারা এখনো নিজের পড়াশোনা কন্টিনিউ করছে সাথে তো আয়ানের সাথে প্রতিনিয়ত দেখা সাক্ষাৎ হয়, আর দুইজনের যেকোনো কথাই ঝগড়া লেগে যাবে। এইভাবেই টুকটাক তাঁদের জীবন চলছে। তবুও সবার এত আনন্দ হাসি খুশির মধ্যে চৌধুরী পরিবারের প্রতিটা মানুষ নিশান আর সিমিকে সবসময় মিস করে। নিশান কারোর সাথে যোগাযোগ রাখি নি। এমনকি জিহানের সাথেও না। তাই জিহান ও খবর দিতে পারে না। তবে সবাই একটা দোয়াই করে দুইজন যেইখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ যেন তাঁদের সবসময় ভালো রাখে।

সময়টা গিয়ে ঠেকেছে দুপুর তিনটা বেজে চার মিনিট। জিহান অফিস থেকে ফিরেছে আধা ঘন্টা হচ্ছে। সে সাওয়ার নিয়ে কোমরে একটা সাদা টাওয়াল জড়িয়ে সোফায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে লাগলো। গলায় তার আরো একটা সাদা টাওয়াল আছে। জিহানের কাজের মধ্যেই সামিয়া রুমে ঢুকলো, সে জিহানের জন্য খাবার এনেছে। সোফার কাছে এসে টি টেবিলের উপরে রেখে বললো,
“ল্যাপটপ রেখে খেয়ে নেন।”
জিহান ল্যাপটপ রেখে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

“খাইয়ে দাও বউ।”
সামিয়া চোখ ছোট ছোট করে বললো,
“কেন? আপনার হাত কি ভেঙে গেছে?”
জিহান একই টোনে বললো,
“বউ আছে তো কষ্ট করে হাত দিয়ে খেতে যাবো কোন দুঃখে?”
সামিয়া ও নিজের মতো বললো,
“বউ কি আপনার কেনা গোলাম যে খাইয়ে দেবে? পারতাম না পারলে খান নয়তো রেখে দেন।”
“এইভাবে বলো না। যদি না খাই তবে আমি ক্ষুদার যন্ত্রনায় কাতরিয়ে মরবো।”
সামিয়া একই ভাবে আবারো বললো,
“এক বেলা না খেলে কেউ মরে না।”
জিহান একটু জোর গলায় বললো,
“সবাই আর আমি সমান নাতো বউ।”
সামিয়া চোখ ছোট করে বললো,
“কোন দিক থেকে সমান না? আপনারও দুটো হাত বাকি সবারও তাই, আপনার দুইটা চোখ বাকি সবারও তাই, আপনার একটা মুখ বাকি সবারও তাই, আপনার একটা নাক বাকি সবার ও তাই, আপনার একটা মাথা বাকি সবার ও তাই ব্লা ব্লা সবই তো এক।”
জিহান সরল ভঙ্গিতে বললো,

“সবই এক তবে আমি অন পিস জিহান শেখ একমাত্র সামিয়ার জামাই এইরকম কেউ নেই বউ।”
সামিয়া একটা ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে সোফায় বসলো। প্লেট নিয়ে ভাত মাখিয়ে লোকমা তুলে জিহানের মুখ এর কাছে দিলো। জিহান সময় নষ্ট না করে খেয়ে নিলো। সামিয়া সম্পূর্ণ খাবার জিহানকে খাইয়ে দিলো। খাওয়া শেষ হতে সামিয়া হাত ধুয়ে নিলো। জিহানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আপনার পোশাকে কি কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে যে বিনা পোশাকে ঘুরছেন।”
জিহান ভাবলেশিন ভাবে বললো,
“হয়তো দিয়েছে, তাই তো পাই না।”
সামিয়া কিছু না বলে উঠে দাঁড়িয়ে আলমারির দিকে যেতে নিলেই জিহান সামিয়ার হাত আচমকা টান দিয়ে সোফায় ফেললো। আর নিজের আরেক হাত সোফায় রেখে সামিয়া কে আটকিয়ে নিলো। সামিয়া অবাক কন্ঠে বললো,

“রাত দুপুরে ভূত চাপলো নাকি? সরে যান।”
জিহান সামিয়ার ঠোঁটে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল রেখে বললো,
“সিসস কোন কথা না। একটু ফিল নিতে দাও।”
জিহানের কথা শুনে সামিয়া হাত নামিয়ে চোখ রাঙিয়ে বললো,
“কিসের ফিল? খাইয়ে দিয়েও স্বাদ মেতে নি নাকি। সরে..
বাকি কথা বলতে না দিয়ে জিহান সামিয়ার ঠোঁট দুটো নিজের দখলে করে নিলো। সামিয়ার চক্ষু জোড়া বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। হঠাৎ করে জিহান এমন করবে সে বুঝতে পারিনি। দুই মিনিট পরে জিহান সামিয়াকে ছেড়ে দিয়ে তার উড়না দিয়ে ঠোঁট মুছে বললো,
“এইবার মিটেছে স্বাদ…..!’

সেইদিনের পরে কেটে গেছে, পুরো একটা মাস। আগের মতোই চলছে সবার জীবন। নিশান আর সিমির ও একই অবস্থা। নিশান সারাদিন অফিসে থাকে, আর সিমি বাড়িতে। টিভি দেখে সময় কাটায়। তবে টিভি দেখতে দেখতে তার আর ভালো লাগে না। কেমন যেন একাতিত্ব বোধ কাজ করে এখন। যেন মনে হয় তারা আদাও পূর্ণ না কিছুর তো কমতি আছে। কি সেই কমতি বাচ্চা? সে কি আদাও আবার মা হতে পারবে? আজও তাকে সেই যন্ত্রনা পীড়া দেই। কষ্ট হয় তবে মুখ ফুটে কিছু বলে না। তবে এখন মন ও মানছে না। শুধু মনে হচ্ছে নিশানকে একবার বলতে বাচ্চার কথা। দেখি সে কি বলে? সে কি রাজি হবে? এই প্রশ্ন তাকে আবারো পিছিয়ে দিচ্ছে। তবুও মনস্থির করলো আজ রাতে বলবে যখন নিশান বাড়ি ফিরবে। সিমি সবকিছু ভেবে রাখলো কিভাবে সে নিশানকে বেবি নেওয়ার কথা টা বলবে। দেখতে দেখতে রাত আটটা বেজে গেলো। সিমি রুমে বেডে বসে নিশানের অপেক্ষা করছে। সে সময় নিশান আসলো। রুমে ঢুকে সিমিকে বসে থাকতে দেখে কিছু বললো না। তবে সিমি বললো,

“এত দেরি হলো যে?”
নিশান ব্লেজার খুলে, শার্ট এর বোতাম খুলতে খুলতে বললো,
“প্রতিদিন তো এমন সময় আসি।”
সিমি আর কিছু বললোনা। তার ভয় লাগছে নিশানকে এখন কিছু বললে সে কি বলবে? নিশান শার্ট খুলে ফেললো। কোমড়ে টাওয়াল বেঁধে প্যান্ট খুলে রেখে দিলো। সে এইবার ওয়াশরুমের দিকে যেতেই সিমি বলে উঠলো,
“আমার বাবু লাগবে?”
নিশান নিজের পা থামিয়ে সিমির দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো,
“ইউটুব চিনিস?”
সিমি নিজের মতো বললো,
“হ্যা চিনি তো যেইখানে অনেক কিছু পাওয়া যাই। গান, ভিডিও। যেইগুলো বেশি ভালো লাগে সেগুলো ডাউনলোড করে রাখি। পরে শোনার জন্য।”
নিশান বাঁকা হেসে বললো,

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭০

“Good তো বাবু ভালো লাগে?”
“অনেক বেশি ভালো লাগে।”
নিশান একই ভঙ্গিতে বললো,
“তাহলে ইউটুব এর সার্চ অপশন এ গিয়ে লেখ baby দেখবি অনেক baby পাবি , যেইটা পছন্দ হবে বেশি সেইটা ডাউনলোড করে নিবি ।”
নিশানের কথা শুনে সিমি ভেবাচ্যাকা খেয়ে বললো,
“এহ!”
নিশান ওয়াশরুম এর দিকে যেতে যেতে বললো,
“এহ না হ্যা।”

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭২