Home সায়রে গর্জন সায়রে গর্জন পর্ব ৫৭

সায়রে গর্জন পর্ব ৫৭

সায়রে গর্জন পর্ব ৫৭
নীতি জাহিদ

ক্রুজ এখন ইসাবেলা দ্বীপে। রোদ – বৃষ্টি আবহাওয়া। সব মিলিয়ে পরিবেশে স্বচ্ছতা। কোথাও রোদ, কোথাও শীতল। তুলনা মূলক উত্তাপ বেশী। পুরোনো প্রবালে ঘেরা ইসাবেলা দ্বীপ। একেকটি দ্বীপের বয়স কম হলেও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ বছর। সবচেয়ে নব্য দ্বীপের বয়স সাত থেকে আট লক্ষ বছর। নতুন দ্বীপ গুলো নাব্যতা পেয়ে বেড়ে উঠছে পুরোনো দ্বীপ গুলো তলিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রথম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড এই গ্যালাপাগোস দ্বীপ পুঞ্জ। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের উপর দু ধরনের কারেন্ট বা স্রোত আছড়ে পড়ে। দুটোই এর জীববৈচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একটি হলো পানামা কারেন্ট যা উষ্ণ স্রোত এবং অন্যটি হাম্বল্ট কারেন্ট, শীতল স্রোত বিশিষ্ট। গ্যালাপাগোসে দ্বীপের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট নয়। ধারণা মতে গ্যালাপাগোসে প্রায় একশ সাতাশটি দ্বীপের হদিস পাওয়া গেলে বসতি রয়েছে তিন বা চারটি দ্বীপে। বাকি দ্বীপ গুলোকে ইকুয়েডরের জাতীয় উদ্যান হিসবে ঘোষনা করা হয়েছে।

গ্যালাপাগোস এরিয়া ইকুয়েডর সরকার কতৃক কঠোরভাবে সংরক্ষিত। পর্যটকটদের জাহাজে বা ক্রজেই অবস্থান করতে হয়। সেই ব্যাপারে ও কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। গ্যালাপাগোস সারা বছর ভ্রমণের জন্য উপযোগী। বিষুবরেখা উপর দিয়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে দিন ও রাত সমান। বারো ঘন্টা দিন এবং বারো ঘন্টা রাত হয়ে থাকে। তাপমাত্রা ও থাকে স্বাভাবিক। স্থলভাগে তাপমাত্রা প্রায় ২৫/২৬° সেলসিয়াস এবং জলভাগে ২১/২২° সেলসিয়াস। ক্রুজ থেকে নেমে শাহাদ ইসাবেলার মাটিতে পা রাখতেই চোখ বুজে শ্বাস নিলো। কি স্নিগ্ধ মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্যের পরিবেশ। মেয়েকে কোলে নিয়েই সামনে আগালো। পেছনে তার দল। মাথার উপর সাই সাই করে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখি। গ্যালাপাগোসের পাখি। দূরে কিছু পাহাড়। রাহিল এগিয়ে এসে বললো,

– দেখো এখানে পাহাড় ও আছে। কিন্তু সবুজ না।
শাহাদ হেসে বলে,
– এগুলা পাহাড় না বেটা, আগ্নেয়গিরি।
– এটা কি?
শাহাদ হতবাক। রোকসানাকে ধমকে বললো,
– বুঝলাম ইংলিশ মিডিয়ামে দিয়েছিস? বাংলাটা শেখাতে পারিস নি এত বয়সেও। কয়েক বছর পর তো বিয়ে দিবি। কি ধরনের কথা এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আগ্নেয়গিরি কি জানেনা?
রোকসানা ছেলের দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে। শাহাদ রাহিলের দিকে তাকিয়ে বললো,
– It’s Volcano. Which is an opening of earth surface. It’s actually a rapture in the crust and finally the magma comes out with a huge eruption. Do you know what is magma?

– জ্বি জ্বি জানি। আসলে স্যরি আংকেল আমি আগ্নেয়গিরি কি শুনেছি কিন্তু ভুলে গিয়েছি ভলক্যানোকেই আগ্নেয়গিরি বলে।
মাকে বকা দেওয়াতে ব্রেইনকে ভালো করে স্ট্রর্ম করে রাহিল বুঝতে পেরেছে এই শব্দ তার পরিচিত। মাঝে মাঝে বাংলা পড়া উচিত বলে আজ আবশ্যিক মনে হচ্ছে। নতুবা শাহাদ আংকেলের মতো মানুষের খপ্পরে পড়লে জান শেষ। ভাগ্যিস এখানে ইনায়া ছিলো না। ছিঃ ছিঃ সদ্য সদ্য প্রেম হয়েছে। হিরো হিরো ভাব ধরা ছেলেটার এই হাল দেখলে আজই ব্রেক আপ হত।
পায়ের কদম অগ্রসর হলো। হাঁটতে হাঁটতে শাহাদ বললো,
– রাহিল, তোমাকে প্রশ্ন করতে আমি বাঁধা দি নি। চুপ হয়ে থাকবে না। যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করবে। কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বাংলা চর্চা ও ভালো। আমাদের ভাষা খুবই চমৎকার। তুমি কি জানো পৃথিবীর আরো একটি দেশের মানুষের ভাষা বাংলা? যারা সম্মান করে আমাদের ভাষাকে। ২০০২ সালে বাংলাকে তাদের সরকারি ভাষার তালিকা ভুক্ত করা হয়।

– না তো আংকেল। কোন দেশ?
– সিয়েরা লিওন।
রাহিলের মুখে হাসি। নতুন একটা তথ্য পেয়েছে। একাডেমিয়াতে পড়ার সুবাধে অনেক ইনফোরমেশন জানা ছিলো না বাংলা সম্পর্কে। নিজ থেকে তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য তেমন কোনো বইয়ের সাথে লেনদেন ছিলো না ফলশ্রুতিতে আজ অনেক সাধারণ প্রশ্নই তার অজানা। হঠাৎ প্রশ্ন করলো,
– আংকেল এখনো কি ম্যাগমা বের হয়?
– ম্যাগমা শেষ বার ইসাবেলা দ্বীপে বের হয়েছিলো ২০১৮ তে। তবে বেশ সক্রিয় এই আগ্নেয়গিরি গুলো।
বাকিরা অনেকেই জানে,আবার বাকিরা জানে না। বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছে। আদিত্য বলে উঠলো,
– শাহাদ ভাই এমন ভাবে বলছেন প্রতিটি কথা মনে হচ্ছে আপনি বেশ কয়েক বার এসেছেন।
শাহাদ হেসে বলে উঠলো,

– বেশ কয়েকবার আসিনি তবে কিছু জানি। যা জানি খুবই সামান্য জানি।
কিছুদূর এগিয়ে যেতেই রকিব শাহাদের কাছে এলো। কানের কাছে ফিসফিস করে কি যেন বললো। শাহাদ খানিকটা হেসে সায় দিলো। সামনে কদম বাড়াতেই একটার পর একটা প্রানী দৃশ্যমান হতে শুরু হলো। প্রথমে যা দেখতে পেলো তা হলো,
গ্যালাপাগোস বিখ্যাত জায়ান্ট টরটয়েজ। এত বড় কচ্ছপ জীবনে প্রথমবার দেখেছে সকলে। মিনিমাম দূরত্ব ছ ফিট। দৈর্ঘ্যে প্রায় পাঁচফিট। দিয়া দেখে ভয় পেয়ে শাহাদের পেছনে লুকালো। শাহাদ ঠোঁট টিপে হাসছে। এখানে আসার আগে যেন কি বলেছিলো? ভয় পাওয়ার কি আছে। কচ্ছপ টা ওদের দিকে এগিয়ে আসছে। রোকসানা এবং মল্লিকা রীতিমতো চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে উঠলো। এদের এভাবে ভয় পেতে দেখে রাহিল আঁৎকে উঠলো। ভয়ের তোড়ে উলটা পালটা ভুল ভাল ইংলিশ বকতে শুরু করলো,

– ইট ইজ সো বিগ, আংকেল প্লিজ লস্ট ইট, আরেহ না আংকেল সরান। হোয়াই ইট ইজ সো বিগ। মাম্মা বাঁচাও। এটা এভাবে হাঁটছে কেনো?
আদিত্য, রকিব এবং মনিরুজ্জামান হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়েছে। অদ্ভুত ভাবে কচ্ছপের কোনো হেলদোল নেই। শাহাদ অনেকটা সেদিকে এগুতেই দিয়া চেঁচিয়ে বললো,
– শেহজার বাবা, প্লিজ সামনে যাবেন না। আমার মেয়েটা ভয় পাবে। আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। শেহজার বাবা প্লিজ আগাবেন না।
দিয়ার চেঁচামেচিতে শাহাদ থেকে ওর দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,

– ভয় পাচ্ছো কেনো? কিছুই করবে না। ওরা মানুষ ভয় পায় না বোকা মেয়ে। তুমি আছো না, কি আছে তা ওদের ধ্যানেই নেই। পৃথিবীতে একমাত্র গ্যালাপাগোসের প্রাণীরাই এমন ভীতিহীন হয়৷ মানুষ ছাড়া পৃথিবী লক্ষ্য বছর আগে কেমন ছিলো তা আজ দেখাবো তোমাদের। আমাদের এরা কোনো ক্ষতিই করবে না।
কচ্ছপটা পথ বদলে চলে গেলো আপন পথে। আর কিছুটা পথ হাঁটতেই দেখতে পেলো সাদা সাদা এক ঝাঁক পাখি উড়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই রাকিব চিৎকার দিয়ে বললো আলবাট্রস। রাহিল এবং রকিব ছবি তুলতে ব্যস্ত। শাহাদ তাকিয়ে আছে সেই পাখিটির দিকে যে ইতিহাস স্বাক্ষী। রাইম অফ দ্য এনশিয়েন্ট মেরিনার বইয়ে মেরিনারদের জীবনে সকল দুঃখ দূর্দশার কারণ। উড়ে গেলো পাখি গুলো। প্রায় ৫৬ প্রজাতির পাখি আছে যার মাঝে ৪৫ প্রজাতি বিশ্বের আর কোথাও নেই। এদের দেখতে হলে আসতে হবে গ্যালাপাগোস। এরপর এলো রঙ বেরঙের কাকড়া। বিশাল বিশাল সাইজের এই কাকড়া দেখতে ভয়ানক। মনে হয় যেন সামনে গেলেই ধারালো খুরের মতো পা দিয়ে কেটে দিবে। একটু সাবধানে এড়িয়ে চললো সকলে।
হঠাৎ শাহাদের মনে হলো পাশ দিয়ে কিছু একটা ছুটে গেলো। ছুটে যাওয়ার চেয়ে ও বড় কথা আশেপাশের মানুষ গুলো আতঙ্কে চিৎকার দিয়ে উঠলো। কিছুক্ষন পর শাহাদের উপলব্ধি হলো এটা তো মারাত্মক জিনিস? শাহাদ উত্তেজনায় বললো,

– ওহ মাই গুডনেস। ইট’স গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন।
দিয়া ভীত গলায় বললো,
– ইয়া আল্লাহ পেঙ্গুইন যে গরমের দেশেও থাকে এখানে না আসলে জানতাম না।
শাহাদ হেসে বললো,
– এটাই একমাত্র পেঙ্গুইন যা এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা যায় হাম্বল কারেন্টের সাথে এসব পেঙ্গুইন এন্টার্কটিকা থেকে এসে পড়েছে। আরো অনেক প্রাণী এখানে পাওয়া যায় যা পৃথিবীর অন্য জায়গায় বিলুপ্ত প্রায়।
কথা বলতে বলতে বসে পড়লো প্রবালের উপর। সময় গড়িয়ে গিয়েছে। ক্লান্ত হয়ে ক্রুজের কুককে জানালো এখানে কিছু ড্রিংক্স দিয়ে যেতে। সেই হিসেবে কুক সকলের জন্য কোকোনাট লাইম ড্রিংক্স এর আয়োজন করেছে। খেতে খেতে ছোট খাট প্রাণী কচ্ছপদের দৌঁড়ঝাপ দেখছে। সারাদিনের ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে রাজ্যের ঘুম আসছে দিয়ার। মাটিতে বসতেই সকল দ্বিধা ভুলে শাহাদের কাঁধে মাথা এলিয়ে দিলো। কিছুটা হতচকিত হলো শাহাদ। সকলের সামনে তো মেয়েটা এমন আচরণ করে না। প্রথমে কিছু না বললেও দিয়ার নিরবতা টের পেয়েই দেখলো মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়েছে৷ রোদের উত্তাপ ও আছে ভালোই। শেহজাকে ক্রুজে নিয়ে খাওয়াতে হবে। মেয়েটা ইচ্ছেমতো দৌঁড়েছে, খেলেছে। শাহাদ মেয়ের অনেক ভিডিও চিত্র বানিয়েছে। রাহিলের সাথে অনেক ভাব হয়েছে শেহজার। তবে শেষের দিকে রাহিল মজা করে শেহজার চকলেট খেয়েছে। মেয়েটা চিৎকার দিয়ে রাহিলের চুল ছিড়ে দিয়েছে। দিয়া বকেছে। বাবার কাছে নালিশ দিয়ে বলেছে,

– বাবা মা পতা, মাকে ভাউ লাগাও।
দিয়া পেঙ্গুইন দেখে ভয় পেয়েছে এখন মেয়েও তা নিয়ে মজা নিচ্ছে। পেঙ্গুইন এর নাম দিয়েছে ভাউ। শাহাদ মেয়ের সাথে খেলতে খেলতে বাস্তবে দিয়াকে পেঙ্গুইনের ভয় লাগিয়েছে। দিয়া গাল ফুলিয়ে গত আধঘন্টা কথাই বলে নি শাহাদের সাথে। সেই খুনশুটি দেখে মনিরুজ্জামান বার বার বলছে,
– এবার দেশে ফিরে একটা বিয়ে করবোই। এরকম একটা শেহজা আমার লাগবেই যাতে তার মাকে ভাউ লাগাতে পারি।
সকলে হো হো করে হাসছে। শাহাদের পিঠে হেলান দিয়ে পুরোপুরি ঘুমে আচ্ছন্ন হলো শাহাদপ্রিয়া। রোকসানার কোলে মেয়েকে দিয়ে দিয়াকে কোলে তুলে নিলো শাহাদ। পুনরায় সকলে ক্রুজে ফিরে গেলো।

নওরীনের দুচোখে খুশির পানি। সকাল থেকে নিজে নিজে বহুবার কেঁদেছে। শাহীন এখনো বাসায় ফিরেনি। ফোনে এমন ঘটনা বলার আনন্দ কোথায়? কারো সাথে এই ঘটনা প্রথম শেয়ার করতে চাচ্ছেনা। অশ্রু মুছে কলিংবেল বাজায় দরজার দিকে গেলো৷ দরজা খুলতেই শাহীনকে দেখে সোজা নিজের কামরায় ফিরে এলো।
বেশ কিছুক্ষন পর সবার সাথে দেখা করে শাহীন কামরায় এলো। হাতে রিপোর্ট টা ধরিয়ে দিলো। পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে ড্রেসিং টেবিলে রাখলো। টুল টেনে বসে রিপোর্ট টা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে। অকস্মাৎ কিছু একটা দেখে থমকে গেলো। চোখ কচলে পুনরায় দেখলো। এমন ভাবে চিৎকার করে উঠলো মনে হলো ভুত দেখেছে। বাড়ির বাকিরা ছুটে এসেছে রুমে। এদিকে নওরীন তাজ্জব বনে গেলো। কানে তালা লাগিয়ে দিলো চিৎকারে। রায়হান সাহেব, সুলতানা কবির ছেলের সামনে এসে বুকে হাত দিয়ে ভয় পাওয়ার ভঙ্গিতে বললো,

– কি হলো শাহীন, চিৎকার দিলে কেনো?
শাহীন ভাষা হারিয়ে ধপ করে বসলো। বাবার হাতে রিপোর্ট ধরিয়ে দিলো। রায়হান সাহেব রিপোর্ট পড়ে হাসছে। সুলতানা কবির কেড়ে নিলো রিপোর্ট। উনি পড়ে রিপোর্ট শেফালীর হাতে ধরিয়ে নওরীনের কাছে গিয়ে নওরীনকে জড়িয়ে ধরলেন। নওরীন শাহীনের চিৎকার শুনে ভুলে গিয়েছে উচ্ছ্বাস প্রকাশের ভাষা। সুলতানা কবির ছেলের বউয়ের কপালে চুমু দিয়ে বললেন,
– আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ সকল বদ নজর থেকে রক্ষা করুন আমার ঘরের সম্পদদের।
গলা থেকে চেইন খুলে সরাসরি ছেলের বউয়ের গলায় পরিয়ে দিলেন। রায়হান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন,
– বাবুর বাবা, বাবুকে লাইনে পেলে বলবে যেন ফেরার পথে বড় বাবা হওয়ার খুশিতে কিছু নিয়ে আসে নতুন অতিথির জন্য।
রায়হান সাহেব সম্মতি দিয়ে মাথা ঝাকালেন। সকলে একা রেখে গেলো দম্পতিকে। শাহীন বউকে জড়িয়ে ধরে বললো,

সায়রে গর্জন পর্ব ৫৬

– নিরা আমি অনেক খুশি। কিভাবে তুমি সারাদিন না জানিয়ে থাকতে পারলে?
– এভাবে চিৎকার দিয়ে লজ্জায় ফেললে কেনো?
– জানিনা, আমি ভেতর থেকে এত খুশি হয়েছি, সামলাতেই পারলাম না। স্যরি কষ্ট দিলে। আচ্ছা শুনো না আমাদের কি হবে? প্রিন্স না প্রিন্সেস?
নওরীন হেসে লাজুক স্বরে বললো,
– জানিনা। আল্লাহ যা দিবেন তাতেই সন্তুষ্ট আমি।
– ইনশাআল্লাহ।
শাহীন নওরীনকে কোলে তুলে আনন্দে মেতে উঠেছে। মম আনচান করছে ভাইজানকে তাক লাগিয়ে দেয়ার জন্য। শেহজার ভাই বোন আনতে বলেছিলো। সে নিয়ে আসছে। এবার শাহীন জিতে গিয়েছে।

সায়রে গর্জন পর্ব ৫৮