Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৪

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৪

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৪
রাফিয়া জান্নাত রিফা

কিছুক্ষণ পর সেখানে আলবান উপস্থিত হয়ে লোকটি ঘাড়ে একটা থাপ্পর মেরে বলে,,,
__কি রে তুই এখানে,কতবার ফোন দিলাম ধরছিস না কেন??
__নারীদের জালে আটকে গেছিলাম??
আলবান এবার আলোকছটাদের দিকে তাকিয়ে অবাক স্বরে বলে,,,
__তোরা এখানে কেন??
তিনজনেই কথার উত্তর না দিয়ে মুখ বাঁকিয়ে অন্য দিকে তাকায়।
যে লোকটির সাথে বিথী ধাক্কা খেয়েছে তিনি হলেন আলবানের বন্ধু, নাম দির্শক প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছে,এখন ঢাকার একটি ভালো কলেজে ইংরেজি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকতা করে।দির্শক ভ্রু কুঁচকে বলে,,,,

__এই উজ্জ্বল নারীদের চিনিস তুই??
__ হ্যাঁ চিনি। কিন্তু তুই এদের সাথে কেন??
__একটু উষ্টা খায়া এদের সাথে আরকি?? উজ্জ্বল নারীদের ভাষ্যমতে আমি নাকি অসভ্য ভদ্র লোক। আচ্ছা যাই হোক, এখন বল এই উজ্জ্বল নারীরা তোর কি হয়??
__কাজিন??
আলবান আলোকছটাদের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__নাম বল তোদের??
ইতি মনে মনে বলে,,,
__এমন ভাব করছে যেন নাম জানেই না ।নাটক কত??
এবার বলে,,
__হাত ব্যাথা করছে। একটু কষ্ট করে আপনি বলেন??
বিথী মুখে হাত দিয়ে অসহায় কন্ঠে বলে,,,
__আমি তো ঠোঁট নাড়িয়ে কথাই বলতে পাচ্ছি না।
নীধি বলে,,,

__আমার পা ব্যথা করছে,আমি ও বলতে পারলাম না দুঃখিত ??
এই বলে তিন বোন হাতে হাত ধরে পার্কের লেকের দিকে যায়।
এদের তিন বোনের কথায় মিটমিট করে হাসতে থাকে দির্শক। কিন্তু আলবান রাগে ফেটে যাচ্ছে।দির্শক আলবানের কাঁধ হাত রেখে বলে,,,
__এত রাগের কি হয়েছে, মেয়েগুলো অনেক ইনজয়এ্যাবেল,এখন তুই তোর খবর বল কেমন আছিস??
নিজেকে শান্ত করে আলবান বলে,,,
__আলহামদুল্লিলাহ ভালো আছি তুই??
__আলহামদুল্লিলাহ।এতো তড়িঘড়ি করে ডাকলি যে,কোন সমস্যা?
__ওই কালনাগিনীর মতো উজ্জ্বল নারী গুলোকে প্রতিদিন বাসায় গিয়ে পড়াবি,ওই জন্য তোকে ডাকা??
এমন কথায় দির্শক যেন আকাশ থেকে জমিনে পড়লো।এই আলোকছটাদের দির্শক কিছুতেই পড়াবে না।যারা কিনা সামান্য সহজ একটা ইংরেজি শব্দ কে বাঁকিয়ে বাঁকিয়ে উল্টে পাল্টে নিহত করলো তাদেরকে দির্শক কিছুইতেই পাড়াবে না। অবশ্যই এতে দির্শকের সম্মানে আঘাত আসবে,না না কিছুতেই সে পড়াবেন না।ভেবে চিন্তে কিছুক্ষণ পর বলে,,,

__আরে ভাই ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ওরা কতটা ভালো ,ব্রিলিয়ান্ট, ট্যালেন্টেড, স্টুডেন্ট, ওদের কোন টিচার লাগবে না,ওরা তিনজনই একাই একাই তিনজনের ৩০০ । বুঝলি??
__পড়াবি কিনা সে কথা বল নাহলে??
__নাহলে কি??
__ওই জে ছবি খানা আছে,ওটা ফেইসবুকে আপলোড দিবো??
__কিইইইইই এখনো তোর কাছে সেই ছবি আছে??
আমার বন্ধু না রে,তোর মতো মিরজাফর বন্ধু যেনো কারো না হয়।
__ হ্যাঁ।এখন বল ওদের পড়াবি কি না??
__দেশে কি শিক্ষকের অকাল পড়ছে??
__আরে ওদের জন্য পড়ছে।যে শিক্ষক ওদের পড়াতে আসে সে শিক্ষক এ লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়।দ্যাখ দোস্ত ,তুই হলি বীরপুরুষ শিক্ষক, তুই কিন্তু খবরদার পালাবি না বলে দিলাম??
দির্শক একটা শুকনো ঢোঁক গিলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,,,

__আল্লাহ এ কেমন বিচার তোমার,ইহকালেই জাহান্নামে পাঠাচ্ছো।
__এত নাটক না করে বল পড়াবি কিনা??
রাগি কন্ঠে দির্শক বলে,,,
__পড়াবো রে পড়াবো।
__আচ্ছা তাহলে কাল ৩টার সময় আসবি??আর হ্যাঁ নিজেকে ভালো ভাবে প্রিপেইড করে আসবি , কারণ ওরা কখন কি করবে বলা যায় না??বুঝলি।
দির্শক অসহায় স্বরে বলে,,,
__তোর কোন পাকা ধানে মই দিছি ভাই??
আলবান হেঁসে হেসে বলে,,,
__হয়েছে হয়েছে চল এখন।
__কোথায়??
__ আর্দ্রের সাথে দেখা কর??
__চল।

আর্দ্র লেকের সামনে ক্যামেরা হাতে নিয়ে আছে,ছবি তুলছে না, মুলত সে এখন ইতি, বিথী, নীধিকে ভলো ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনজনেই হাত ধরে হাঁটার ফলে পুরো রাস্তাটা ব্লক করে নিয়েছে ,আশেপাশের রাস্তা দিয়ে চলাচল করা লোকজনগুলো রাস্তা থেকে সড়ে হাঁটার পরামর্শ দিলেও তা গ্রহণ করে না।এতে অবশ্য অনেক মানুষই অনেক গালিগালাজ করে তাতে কোন ভাবান্তর দেখায় না তারা।তারা তাদের মতো হাত দোলাতে দোলাতে হাঁটছে। তাদের পিছনে হাঁটছে এক মধ্যেবয়ষ্কা বুড়ো, থুতনিতে সামান্য কিছু দাড়ি,যাকে এককথায় বলে ছাগল দাড়ি, মাথার মাঝখানে টাক,মুখ ভর্তি পান আরাম আয়েশ করে চিবোচ্ছে, অনেকক্ষণ যাবৎ পিছোন থেকে আলোকছটাদের মুখ দেখার চেষ্টা করছে কিন্তু পাচ্ছে না।সাহসা কন্ঠে ডাকলো,,,

__এই তিন মাইয়া দাড়াও একটুখানি??
তিন আলোকছটা থেমে গিয়ে পেছন ঘুরে তাকায়।লোকটা পান চিবানো তরল রস মাটিতে ফেলে মুখ ভরা হাসি দিয়ে বলে,,,
__আমি একজন ইন্টারন্যাশনাল ঘটক??
ইতি, বিথী, নীধি তিনজনই মূহুর্তেই হকচকিয়ে ওঠে একসাথে খুশি হয়ে বলে,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ আমরা বিবাহ যোগ্য কন্য,আমরা বিয়ে করবো।
ঘটকটা খানিকটা অবাক হয়ে বলে,,
__আসলে….
কথা শেষ হতে না দিয়েই বিথী বলে,,,
__ হ্যাঁ বুঝেছি,দেখান ছেলের ছবি??
__না মানে…
এবার ইতি বলে,,,,
__ টাকা দিবো সমস্যা নেই? এখন ছেলের বায়োডাটা দিন।
ঘটক হা হয়ে দেখতে থাকে তাদের, ভাবতে থাকেন,,,

__এ কেমন মাইয়া মানুষ গো? বিয়ের জন্য লাফাচ্ছে?যাই হোক আমাকে তো টাকা দিবে এটাই অনেক।
এবার বলেন,,,
__তোমাদের বাবার নাম্বারটা দিলে ভালো হতো।
বিথী বলে,,,
__আরে ধুর, ওখানে চলেন বসে সবকিছু সেটাআপ করবো। বাবাদের বললে তারা ডিরেক্ট বলবে আরো ৫ বছর পর ?চলেন তো, এতো ধৈর্য আমাদের নেই।শুভ কাজে দেরি করতে নেই।চলেন, চলেন??
ঘটকের চোখ এবার বড় বড় হয়ে যায়, অবাকের চরম পর্যায়ে। গলার খাদ নামিয়ে বলে,,,

__বড়রা ছাড়াতো শুভ কাজ সম্পন্ন হয় না মা??
ইতি বলে,,,
__আরে ঘটকমশাই ওটার আমাদের ওপর ছেড়ে দিন??
ঘটক আর কিছু না বলে সামনে থাকা বসার সিটে গিয়ে বসে ইতি, বিথী ও গিয়ে বসে। কিন্তু নীধি আসে না ইতি তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,,,,
__কি রে আয়, বিয়ে করবি না??
নীধি বোধহায় একটু নাকোচ করেই বললো,,
__বিয়ে করবো, কিন্তু আমার ঘটককে পছন্দ হয় নাই,তাই তোরাই সব সেটাআপ কর।
বিথী বলে,,,

__আজব তো তুই ঘটককে পছন্দ করে করবিটা কি? তুই কি এখন ঘটককে রানবির কাপুরের মতো চাচ্ছিস নাকি??
ইতি নীধি দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__দ্যাখ এই ঘটক বুইড়া হইলেও অভিজ্ঞতা আছে ভালো??
ঘটক অসহায় সুরে বলে,,,
___৫০বছরের অভিজ্ঞতা। আমি বাংলাদেশের টপ ঘটক বলে বিবেচিত?
বিথী বলে,,,
__শুনলি, বলদি এমন ঘটক আর পাবো না ,আয় এদিকে ,জলদি??
নীধি নানান দ্বিধা সংকোচ নিয়ে মুখ কালো করে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ঘটক বলে,,,
__মা আপনাদের কেমন ছেলে পছন্দ তা আমাকে বলুন???
বিথী বলে,,,
__ভোলাভালা, সাদাসিধে, আমাদের কথায় উঠবে বসবে,ঘর ঝাড়ু দিবে, রান্না করবে, কাপড় চোপড় ধুয়ে দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি মেলা কাজ করবে।যা চাইবো তাই কিনে দিতে হবে, এবং খাওয়াতে হবে।এক কথায় পৃথিবীতে আরো যত ধরনের কেয়ার,কাজ আছে সব করবে??
ইতি বিথীর কথায় সায় জানায়।
এদিকে বুড়ো ঘটকের কপালে একশো ভাঁজ পড়লো। হতভাগ হয়ে ঘটক বললো,,

__ভুলে যাচ্ছেন মনে হয়, আমি ইন্টারন্যাশনল ঘটক পাএ খুঁজে দেওয়ার সার্চ ইঞ্জিন, কাজের লোক খুঁজে দেওয়ার সার্চ ইঞ্জিন নাই।
ইতি বলে,,,
__ওই মিয়া আমরা জামাই খুঁজছি জামাই, কানে কম শুনেন নাকি??
বিথীর তো আর ধৈর্য নেই বললেই চলে বিথীর মতে ভালো পাএ পেলে তারা এখুনি বিয়ে করবে। অধৈর্য হয়ে বিথী বলে,,,,
__ওই মিয়া এত কথা না বলে ছবি দেখান??
বিথী কথায় ঘটক একটু ভয় পেয়ে যায় মনে মনে ভাবতে থাকে “ভুল জায়গায় এসে ফাসলো না তো”। ঘটক আর কোন কথা না বলে, সাথে থাকা ব্যাগটা থেকে ছবি বের করে দেখাতে লাগলো ইতি,বিথী কে।নীধির কোন চাহিদাই দেখা গেল না এসব এ,সে অন্যমনস্ক হয়ে অন্যকিছু ভাবতে ব্যস্ত ।
ইতি বিথী অনেক ছেলের ছবি দেখার পর অনেক কষ্ট করে একটা ছবি সিলেক্ট করলো। ঘটকের কাছে থাকা সব ছবিই তাদের পছন্দ হয়েছে কিন্তু কি আর করার একটা ছেলেকেই তো সিলেক্ট করতেই হবে।ইতি ঘটককে ছবিটি দিয়ে বলে,,,

__এই ভেবলাকান্ত ছেলেই সিলেক্ট।
ঘটক বলে,,,
__আচ্ছা।এখন আরো দু’টো ছেলের ছবি পছন্দ করেন??
বিথী বলে,,,
__আর ছেলেকে পছন্দ করে কি করবো??
ইতি বলে,,,
__শুনুন ঘটক মশাই আমরা একটাই ছেলেকেই তিনজন বিয়ে করবো,তারপর তিনজন থেকে চারজন হয়ে সংসার করবো।বুঝতে পারছেন???
এমন কথা শুনে ঘটকের মাথায় যেন ব্রজপাত হলো।এ কেমন মেয়ে মানুষ লা এক ছেলেকে তিনজনই বিয়ে করতে চায়,ঘটক মশাই শক্টের পর শক্ট খেয়েই যাচ্ছে। ঘটক বাপের জন্মে ও এমন ঘটকালি করে নাই।ঘটকের মনে হলো তার এখানে থাকা উচিত না , সত্যি সে ভুল জায়গায় এসে ফেঁসে গেছে।ঘটক কি করবে বুঝতে পারলো না।পান চিবানো বাদ দিয়ে হা হয়ে কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল দেখিয়ে বললো,,,,

__খুব জোরে পেয়ে??
বিথী এবার রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__বাড়ি থেকে সেড়ে আসতে পারেন না,ভুল জায়গায় এসে এন্টি নেয়।
ইতি বিথী কে বলে,,,
__আরে বলদি বুঝিস না কেন? এটা প্রকৃতির ডাক।
বিথী ঘটককে বলে,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ যান ৩০ সেকেন্ড সময় দিলাম।
ঘটক মোক্ষম সুযোগ পেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে চলল। বিথী গলা উঁচিয়ে বললো,,,
__ঘটক মশাই তাড়াতাড়ি আসবেন??
__ হ্যাঁ হ্যাঁ মা এই জাবো আর এই আসবো না।মায়েরা তোমাদের দ্বারাই শুরু হবে পুরুষ নির্যাতন কেস। তোমাদের কোন পুরুষ বিয়ে করলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য।আর আমি তোমাদের বিয়ে দিয়ে তার ভিক্টিম হতে চাই না। ক্ষমা করো মা জননীরা।
ঘটকের এমন কথা শুনে তিন বোনেই হতবাক।বিথী রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__বুইড়া বেটা তোরে অভিশাপ দিলাম তোর ছাগল দাড়ি গুলো ঘাস মনে করে গরু চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে,তোর মাথায় খাইরুললোর মতো চুল গজাবে,তোর বউয়ের টাকা চুরি করে জেলে যাবি তুই??
ইতি ও রাগ দেখিয়ে বলে,,,,

__মদনের ঘরের মদন,জনসম্মুখে তোর লুঙ্গি খুলে পরুক।
আরো কিছু বলতাম কিন্তু এখন মনে পড়ছে না।যা আজ ছেড়ে দিলাম??
ঘটক তাদের কথায় কান না দিয়ে ভো দৌড় দিয়ে উধাও হলো।নিধি কিছু বললো না সে মূলত এখন হাসতে ব্যস্ত। হঠাৎ করেই পিছোন থেকে দুই থেকে চার রকমের হাঁসি একসাথে হয়ে বিশ্রী শব্দদূষণ তৈরি হলো। তিন আলোকছটারাই হকচকিয়ে পিছন ঘুরে দেখে আর্দ্র একটা গাছে নিজের শরীর ভর করে হাসছে আর দির্শক হাসতে হাসতে আলবানে পিঠে বারবার চাপ্পড় মারছে,পিকি লাল লাল লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁট গুলো দিয়ে স্নিগ্ধ ঝরা ঘূর্ণিঝড়ের মতো করে হাসছে।মুহিন তো হাসতে হাসতে পড়ে যায় যায় অবস্থা। নিঝুম ও হাসছে কিন্তু শব্দ হচ্ছে না।
আলবান হাসছে না সে রাগে ফুঁসছে, রক্ত লাল গরম গরম চোখ তাকিয়ে আছে ইতির দিকে। তিন জনেই একটু ভয় পেলেও সেটাকে তারা পাত্তা দেয় না। কারণ তাদের ডিকশনারি তাদের মায়ের খুন্তির,বেল্লা,ঝাড়ু, কঞ্চি এগুলোর মাইর ছাড়া আর কোন ভয় নেই।আলবান তাদের দিকে রাগে গর্জে এগিয়ে যাবে এমন সময় দির্শক আলবানকে ধরে হাসতে হাসতে বলে,,,

__আলবান স্টপ, একদম কিছু বলবি না ওদের। তুই কি রে ভাই তোর কি একটু হাসি পাচ্ছে না।আগে তো এমন ছিলি না।হোয়াটস রং আলবান জাস্ট চিল,ওরা খুব ইন্টারেস্টিং এন্ড ইনজয়এ্যাবেল মেয়ে। একটু বেশিই দুষ্টু ও অবাধ্য কিন্তু খুবই ডেডিকেটেড সেপারেট (নিবেদিত প্রাণ)।
আলবান দির্শক কে রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__তুই ছার আমায়, ওরা এমন অসভ্যতামো বাড়িতে করে সেটা ঠিক আছে তাই বলে বাইরেও করবে?? আই ওয়েন্ট পানিস দেম? ছাড় আমায়।
এবার প্রচুর বিরক্তি নিয়ে আলবান সবাইকে বলে,,,,

__এভরিওয়ান প্লিজ স্টপ লাফিং ??
দির্শক জোরপূর্বক হাঁসি থামায়।দির্শক বিথী কে বলে,,,
__তোমার অভিশাপ গুলো কম হয়ে গেছিলো??
আর্দ্র এসে ইতিকে বলে,,,
__তোমার অভিশাপটা দারুন ছিল, পাবলিক প্লেসে যদি লুঙ্গি খুলে পড়ে ব্যাপারটা দারুন হতো,জাস্ট ওয়াও?
পিকি বলে,,,
__ডোন্ট ওয়ারি কোবরা টুইস্ট আমি ওই ঘটকের লুঙ্গিকে ডিজাইন করে বানাবো?একন এখান থেকে চলো নইলে এবি তোমাদের সেল্পাপ দিবে।
তিন আলোকছটাদরা আর কোন কথা না বলে আর্দ্রের সাথে সামনে হাঁটতে থাকে।ইতি পিছনে ঘুরে একটু জোর গলায় আলবানকে বলে,,,
__আলবান ভাই আমাদের জন্য আর একটা ঘটক ঠিক করুন না প্লিজ??
এমন কথায় আলবান তম্বা খেয়ে যায়।আলবান তাদের দিকে তেড়ে যেতে ধরলেই তিন বোনেই ভো দৌড় দেয়।আলবান গলা উঁচিয়ে বলে,,,,
__শুধু দেখতে থাক কাল থেকে তোদের কি অবস্থা করি??

আলবান আর্দ্র,দির্শক একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করে নানা ধরনের গল্প গুজব করলো। পরিশেষে খাওয়া দাওয়া করে দির্শক কে বিদায় জানিয়ে সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
বাড়ি আসতে আসতে তাদের ৫ টা বেজে গেল। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেই কেউ আর কোনো কথা না বলে যে যার যার রুমে চলে গেল।
ইতি ,বিথী, নীধি রুমে গিয়েই মাথার হেজাব খুলেই এক এক করে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে। তখনি রুমে প্রবেশ করে তাদের মা জননী সিদ্দিকী বেগম।হাতে একটা কঞ্চি নিয়ে আসে।মায়ের হাতে কঞ্চি দেখে ভয়ে জড়সড় হয়ে যায় তিন আলোকছটারা।তিনজনের সামনে এসে সিদ্দিকী বেগম বলে,,,,
__আম্মাজানেরা ফজরের নামাজ পড়ছিলেন??
ইতি শুকনো ঢোঁক গিলে বলে,,,,
__মা আমি স্বপ্নে বিভড় ছিলাম??তাই ফজরে উঠতে পারি নাই??
__কি স্বপ্ন দেখেছিলে আম্মাজান??
__আমি ঝাড়ুতে বসে উড়ে যাচ্ছিলাম কোথাও। আবার মনে হচ্ছিলো ১০ তলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে যাচ্ছিলাম। আবার নানু বাড়ির আলু ক্ষেত,ধান ক্ষেত,পটল ক্ষেত একের পর এক ক্ষেতে দৌড়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছিলাম।আরো মেলা স্বপ্ন দেখছি মা যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে মুহিন কে গিয়ে বলো, মুহিন ও আমার সাথে সপ্নে দৌড় দিসিলো।

__আচ্ছা?
সিদ্দিকী বেগম বিথীর দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__আপনার কি সমস্যা ছিল আম্মাজান বলেন দেখি??
বিথী ভয় ভয় করে বলে,,,,
__মা পাশের বাড়ির আন্টির ছেলেটা আমার কোলে হিসু করে দিয়েছিল স্বপ্নে, তারপর পরিষ্কার করতে করতে সকাল আটটা বেজে গেছে।
__আচ্ছা।
নিধির দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__আপনি কি স্বপ্ন দেখেছিলেন আম্মা??
কাঁদো কাঁদো স্বরে নিধি বলে,,,
__আমি কি স্বপ্ন দেখছি তা তো মনে নেই মা?? আমিও উঠে দেখি সকাল আটটা বাজে??
এবার তিন বোনেই একসাথে বলে,,,
__সরি মা কাল থেকে আর মিচ হবে না??
সিদ্দিকী বেগম এবার রাগ দেখিয়ে বলে,,,

__একটা দিন শুধু ফজরে ডাকি নাই তাতেই নামাজের কথা ভুলে গেছিস। নামাজ না পড়ে আবার আমাকে অজুহাত দেখাস। আল্লাহ ভয় নেই তোদের,কত বলবো আর, আজকের জন্য ক্ষমা করে দিলাম, কিন্তু এর পর থেকে যদি এমন করিস তাহলে এই কঞ্চি তোদের পিটে ভেঙ্গে ফেলবো বলে দিলাম।
সিদ্দিকী বেগম এবার নরম কন্ঠে বলেন,,,
__বুঝিস না কেন সোনারা, নামাজই আমাদের আসল শান্তির স্থান, নামাজে বসেই আমরা আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলি, আল্লাহকে মনের সব কথা খুলে বলি, আল্লাহ তখন মনের সব ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেয়, নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সুস্থ সবল রাখে,বরকত দান করে। নামাজে আর কোন ফাঁকি নয় সোনা মায়েরা।আমি যখন মরে যাবো তখন তোদের নামাজও ঈমানই আমাকে পরকালে শান্তি দিবে, আল্লাহ তখন সন্তুষ্ট হয়ে বলবে “উওম শিক্ষা দিয়েছো তোমার কন্যাদের”। বুঝলি??
তৎক্ষণাৎ তিন বোনই তাদের মাকে জড়িয়ে ধরে চোখে টলমলে পানি নিয়ে বলে,,,

__তোমার কিছুই হবে না মা।তুমি আমাদের ছেড়ে কোথাও যাবে না।
__পাগলি মেয়েরা আমার, সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে হবে।
ইতি আরো শক্ত করে তার মাকে জরিয়ে ধরে বলে,,,
__ওসব কথা বলো না মা খুব কষ্ট হয়??
__আচ্ছা বলবো না,এখন তোরা সোজা হয়ে বস দেখি??
তিনজনই সোজা হয়ে বসে।ইতি একটু ইতস্তত হয়ে মাকে বলে,,,
__মা আমি একটা কথা বলতে চাই??
সিদ্দিকা বেগম তিন বোনের মাঝে বসে বলে,,,
__ হ্যাঁ মা বল??
__ওই স্বপ্নটা আমি আবার দেখেছি মা??
মূহুর্তেই সিদ্দিকী বেগমের চোখে মুখে অন্ধকার নেমে আসে, অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে হতভম্ব হয়ে বলে,,,
__কতবার বলেছি আয়াতুল কুরসি পাঠ করে ঘুমাবি??
__পড়ি তো মা তাও ??
নিধী বলে,,,
__মা জানো কাল মধ্যেরাতে ইতির কান্নার আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছিল, ফোনের টচ অন করে দেখি ঘুমের ঘোরেই ছটপট করে কাঁদছে ইতি,পরে ইতিকে জোরে ঝাপ্টে ধরে ঘুম যাই।
বিথী বলে,,,

__ওমা বলো না, কেন ইতি এমন স্বপ্ন দেখে?
সিদ্দিকী বেগমের মধ্যে সব ভয়ে জড়ো হয়। অজানা ভয়ে আঁতকে উঠেছেন বারবার। অতীত যে বড়ই ভয়ংকর সেই অতীত ইতির ভবিষ্যৎ কে অন্ধকারে তলিয়ে দিবে, ইতিকে বাঁচতে দিবে না। সিদ্দিকি বেগম ভীষণ ভয় পেয়ে ইতিকে আষ্টে পিষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ভয় ও হালকা রাগ দেখিয়ে বলে,,,,
__বললাম তো দোয়া না পড়ে ঘুমানোর কারণে এমন স্বপ্ন দেখিস।
ইতি বলে,,,
__তুমি ভয় পাচ্ছো কেন মা??
__ককই আআমি কোন ভয় পাচ্ছি না।
__মা স্বপ্নে আমাকে একটা ভয়ংকর কালো পোশাক পড়া লোক বিশ্রী কন্ঠে বলে “তোর সময় শেষ,এখন যেতে হবে”
তারপর আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়।
আমার খুব কষ্ট হয় মা আমাকে ধরে মারেও।আমি চিৎকার করে বলি আমি আমার পরিবার ও বোনদের ছেড়ে কোথাও যাবো না।তাও জোরপূর্বক নিয়ে যায় মা।
এমন কথা শুনে সিদ্দিকী বেগমের নারী সত্তা ভয়ে কেঁপে উঠে। চোখের পানি টপটপ করে পড়তে লাগলো।আরো শক্ত করে ইতি কে জরিয়ে ধরে বলে,,,,

__কেউ কোথাও নিয়ে যেতে পাবে আমার কাছ থেকে তোকে মা,কেউ নিতে আসলে আমি তাকে কুঁচি কুঁচি করে কেটে গাঙ্গে ভাসিয়ে দিবো।ওসব বাজে স্বপ্ন মা আমার।
বাস্তবতায় তো কেউ তোর গায়ে টাচ ও করতে পাবে না।
সিদ্দিকী বেগম ইতিকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে তিনজনকেই বলে,,,
__এই বিষয়ে আর একটাও কথা শুনতে চাই না।তোরা থাক আমি তোদের জন্য নাস্তা পাঠাচ্ছি।
এই বলে গটগট পায়ে ফেলে চলে যায় সিদ্দিকী বেগম। রুমের বাইরে যেতেই দেওয়ালে হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে শুরু করে। কিছু একটা ভেবে হু হু করে কেঁদে ওঠেন। চোখের পানি মুছে নিজেকে শক্ত করে আবার রান্নাঘরে চলে যান।আলবান ড্রয়িং রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রুম থেকে বের হয়েই সিদ্দিকী বেগমের এমন কান্না ও চোখে মুখে ভয় দেখে আলবান থমকে দাঁড়িয়ে যায়।তার মতে তার মেজো মা একজন হাস্যোজ্জ্বল মহিলা সহজে কান্না করেন না তিনি, কিন্তু আজ হঠাৎ কি হলো, সকালেই তো ভালো ছিল।আলবান সিদ্দিকী বেগমের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ সন্দিহীন চোখে তাকিয়ে থাকে।
সিদ্দিকী বেগমের হঠাৎ এমন ভাবে চলে যাওয়ায় তিন বোনেই তিনজনের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে।আর ভাবতে থাকে তার মায়ের আজ হলোটা কি। সন্দিহীন কন্ঠে ইতি বলে,,,

__বুঝলি রে বলদিরা, অতীতে মনে হয় আমি মেল্লা খুন করছি ,আর যাদের খুন করছি তারা ভূত হয়ে রাতের বেলা নিয়ে যেতে চায়।ইসস যদি মনে পড়ে যেত ঠিক কতগুলো খুন করছি।
বিথী হাসতে হাসতে বলে,,,
__ওরে বলদি তুই তো রক্ত দেখলেই ভয় পেয়ে জ্ঞান হাড়াইস??
__আসলে তো,তাহলে কি হতে পারে বলতো।
নিধি এবার আরো জোরে হাসতে হাসতে বলে,,,
__আমার মনে হয়,ভুল ক্রমে তুই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাথরুমে গিয়ে হাইগা দিয়া আসছোস,তারপর ডোনাল্ড ট্রাম সেই হাগুর স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করে তোকে সনাক্ত করছে, এখন হয়তো তোর হাগু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দ হয়েছে ওই জন্য তোকে স্বপ্নে এসে নিয়ে যেতে চায়, এবং জোরপূর্বক বিয়ে করতে চায়।
নিধি এমন কথা কথা শুনে তিনজনেই হাসতে হাসতে ঢলাঢলি শুরু করে দেয়, হাঁসি থামার নামই নিচ্ছে না।অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বিথী বলে,,,

__হইছে থাম এলা,নিধি আমার জামা উপরে থাইকা সর ছিঁড়ে যাবে তো জামাটা,কাল একটা জামা ছিঁড়ে ফেলছি ওটা মা এখনো দেখে নাই, দেখলে আমার রক্ষা নাই।
নিধি বিথীর জামা থেকে মাথাটা ও পিটটা সরায়,ইতি হাসতে হাসতে বলে,,,
__পরশু তো দৌড়াতে গিয়ে জুতো গুলো ও ছিড়লি,আবার আজকের জামাটায় আইসক্রিম ফেলায় দিয়ে একদম বাজে অবস্থা করছিস।মা দেখলে তুই শেষ যে বইন।
বিথী কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,,

__আমি কি করবো বল, তিনজনই তো একসাথেই কাজ করি,একসাথেই খাই, আবার একসাথেই দৌড়াদৌড়ি করি, কই তোদের তো এমন কিছুই হয় না সব দূর্নীতি শুধু আমার সাথেই হয়,ভালো লাগে না আর।মা তো দেখলেই চিল্লাবে আর বলবে “এর কোটি কোটি জামা তাও টিকে না,তোকে আইজ থেকে গন্ডারের চামড়া দিয়ে জামা বানায় দিবো। জুতা গুলো ছিঁড়া দেখলে তো বলবেই “তোকে লোহার জুতো বানিয়ে দিলেও টিকবে না”।
নিধি বলে,,,

__ধুর মা বুলুক গে।ওসব এক কান দিয়ে শুনবি আর অন্য কান দিয়ে বের করে দিবি।
ইতি বলে,,,,
__বাদ দে ওসব বিথী ,নিধি যা গিয়ে তুই দরজাটা বন্ধ কর,আমি একটা গান লাগাই??
নিধি বলে,,
__বলদি আসতে করে শাউন দিস,না হলে মা শুনলে এবার খুন্তি নিয়ে মারতে আসবে।
__আচ্ছা।
নিধি গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো,ইতি মাঝারি ভলিয়ম দিয়ে গান ছাড়লো,,,,,

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩

🎶🎶Haan Hai Koi To Wajah Jo Jeena
Ka Maza Yun Aane Laga Yeh Hawaon
Mein Hai Kya Thoda Sa Jo Naasha Yun Chane Laga Pucho Na Pucha Mujhe Kya Hua Hai Teri Raahon Mein Aakar🎶🎶
(Pucho Na Pucha Na) Pucho Na Pucha Mujhe Kya Milega Teri Bahon Mein Aakar Yeh Ishq Haaye Baithe Bithaye Jannat Dikhaye Haan O Raama Yeh Ishq Haaye Baithe Bithaye Jannat🎬🎬,,,,
গানের তালে তালে হালকা পাতলা নাচাতে শুরু করলো।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫