Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪
কায়নাত খান কবিতা

” অরিন আমার বউ না হলে, ওকে ম’রতে হবে! ”
” কিংশুকককক!”
হাতে থাকা রিমোট কন্ট্রোলটি টি-টেবিলে রেখে, কিংশুক আতিয়া বেগমের মুখোমুখি দাড়ায়! তার মুখে নেই কোনো চিন্তার ছাপ! আচ্ছা একটা মানুষ ঠিক কোন পর্যায়ে গেলে তার মুখ দেখলে কোনো এক্সপ্রেশন আন্দাজ করা যায় না??
আতিয়া বেগম কী বলবে কিছু ভেবে পায় না! না সে কিংশুককে থামাতে পারবে! আর না অরিনকে তার হাতে তুলে দিতে পারবে!
যেখানে ভালোবাসা কম ক্ষোভ জমা হয়ে থাকে বেশি, সেখানে কী আদোও সুখে থাকা সম্ভব?

” অরিন তোকে ভয় পায়! পাগলামি বন্ধ কর!”
” পাগলামি তো করিনি মনি! বিয়ে করবো বলেছি! বাই হোক অর বাই কোক! ‘
” টাকা দিয়ে কী সব পাওয়া যায় কিংশুক? ”
আতিয়া বেগমের কথা শুনে উচ্চশব্দে হেসে উঠে কিংশুক! ললাটে চিন্তার ভাজ পড়ে আতিয়া বেগমের!
” আমি বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতি! চাইলে রাতকে দিন আর দিনকে রাত বলাতে পারি! আমি খু’ন করলে ও সেটা এক্সসিডেন্ট হিসেবে গন্য হবে! তার সামনে তোমার এই এক রত্নি মেয়েকে দুনিয়া থেকে গায়েব করা কোনো ব্যাপারই নয় মনি!”
টাকা! তাই তো! টাকাই তো সব! যেখানে টাকা দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, একটি পরিকল্পিত দূরঘটনাকে নিহাত ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া যাচ্ছে, সেখানে একটি মেয়েকে গায়েব করা আর কী এমন আহামরি কাজ??

কোনো শব্দ ছাড়াই কিংশুকের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে আতিয়া বেগম! এখন তাকে শক্ত হতে হবে! মেয়েকে বোঝাতে হবে! জীবনে বাঁচাটা জরুরি! কীভাবে আছি সেটা নয়! প্রাণ একবার গেলে আর ফেরত আসবে না! কিন্তু বেঁচে থাকলে অনেক কিছু করা যাবে! এখন আবেগ নয়! বরং বিবেগ দিয়ে ভাবতে হবে!!
আতিয়া বেগম চলে যাওয়ার পরপরই কিংশুক আবার ও স্ক্রিন অন করে! যেখানে সে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অরিনকে দেখছে!
একটা মানুষের স্বাধীনতা বলতে কিছু জিনিস থাকে! যা একান্তই তার! কিন্তু অরিনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ‘স’ ও দেওয়া হয়নি!

” খান_বাড়ি”
খান বাড়িতে এসে আতিয়া বেগম সোজা অরিনের রুমে চলে যায়! এখন তাকে বোঝাতে হবে! নিজের করা ভুলের মাসুল তাকেই দিতে হবে!
ক্যাটরিনার কোলে মাথা দিয়ে অনবরত কেঁদেই চলেছে অরিন! থামা-থামির কোনো নাম গন্ধ নেই! আজকে যে তার কৃতকর্মের ফল সে হারে হারে পাচ্ছে!!
” রাজি হয়ে যা অরিন!”
আতিয়া বেগমের ঠান্ডা, কিন্তু আদেশময় বাক্য কানে আসতেই উপরে চোখ মেলে তাকায় অরিন! তার এই চার লাইনের বাক্যে ছিলো কঠিন আদেশ! যেন অরিনকে রাজি হতেই হবে!

” ম..মনি..?!!
” আর কোনো কথা নয়! কিছু দিনের মধ্যে বিয়ে!”
আতিয়া বেগম চলে যায় কক্ষ থেকে! অরিন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে! তার শেষ আশা-ভরসা টুকু ও আজ শেষ হয়ে গেলো!
নিজের বোকামির ফল যে অরিন এভাবে পাবে সেটা কল্পনা ও করতে পারেনি সে!
অরিনের এই দূর ভোগ শুরু হয় আজ থেকে ২০ দিন আগে!
অর্থাৎ ডিসেম্বর ৬, ২০২২ হতে!
” তোমার উচিত হয়নি আমার চোখে পড়া মেয়ে!”
অরিনকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলে কিংশুক! কিন্তু অরিন শুনতে পায়নি! কারণ একটু আগে সে কিংশুককে পাগল বলে সম্মন্ধণ করেছে! তাই তড়িঘড়ি করে কিচেন থেকে চলে গেছে সে! আর কিংশুক তখন ও কিচেনেই রয়ে গেছিলো!

”পরের দিন সকাল বেলা”
সকাল সকাল প্রচন্ড চিৎকার আর অধিক চেচামেচিতে বিরক্ত বোধ করে কিংশুক! ছোটোবেলা থেকে একা থেকে থেকে সাউন্ডলেস দুনিয়াতে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে সে! হঠাৎ এতো চিৎকার শুনে জগিং করা বাদ দিয়ে সোজা খান ম্যানসনের ভিতরে আসতে থাকে সে!
সাথে তার দু-জন গার্ড ও!
সকালে এতো চিৎকার শুনে কিংশুকের মেজাজ অত্যাধিক গরম হয়ে যায়! যে চিৎকার করছে আজকে তার কপালে দুঃখ্য ছাড়া আর কিছুই নেই!!

খান ম্যানসনের ভিতরে হল রুমে ঢুকতেই কিংশুকের রাগ ঠান্ডা হয়ে যায়! কারণ তার সামনে মাথা নিচু করে অরিন দ্বারানো! তার পাশে কিংশুকের বোন ক্যাটরিনা ও রয়েছে!
কিন্তু কিংশুকের মন বেশিক্ষণ ঠান্ডা থাকে না! সামনে দ্বারানো আফতাব হোসেনের কথা শুনে! সে একের পর এক, কথা বলেই যাচ্ছে আতিয়া বেগমকে, অরিনকে উদ্দেশ্য করে!
আফতাব হোসেন ও বাংলাদেশের একজন নাম করা বিজনেস ম্যান! কিংশুকদের থেকে পরপর তিন নাম্বার ভিলাটি তাদের!
কিন্তু কিংশুকের মনে প্রশ্ন জাগে কেন অরিনকে বকা হচ্ছে! তাও তার সামনে!
আতিয়া বেগম বসা থেকে উঠে অরিনের সামনে দাড়ায়!

” কী করেছো তুমি! ”
অরিন মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে বলে,
” ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছি মনি!”
অরিনের মুখে হঠাৎ এহেন কথা শুনায় কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে উঠে কিংশুকের মুখে!!
” সাব্বাস!”
কিংশুকের মুখ দিয়ে অস্পষ্ট শব্দটি বেরিয়ে যায়! কারণ অরিন মার খেয়ে নয় বরং দিয়ে এসেছে!
” কেন ভে’গেছো?”
” তুমিই তো বলেছিলে, বড় হও, ইন্ডিপেন্ডেন হও, নিজের হয়ে লড়ো! so i did it! ”
” আমি কী তোমাকে ঠ্যাং ভাঙ্গতে বলেছিলাম? ”
” নাহ!”
” তাহলে ভাঙ্গলে কেন?”

” ওই ডাইনি বুড়ি আমাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছিলো মনি! আমার হাত ও কেটে গেছে! ”
অরিন নিজের হাত বের করে দেখায়! কজ্বির উপরে মাঝারি সাইজের কাটা চিহ্ন! রক্ত জমাট বাঁধা!
আতিয়া বেগমের চোখ কপালে উঠে যায়! সে তড়িঘড়ি করে যখনই অরিনের হাত দেখতে যাবে ঠিক তখনই কিংশুক পিছন থেকে এসে অরিনকে কোলে তুলে নেয়! আর খুব জোড়ে দৌড়াতে থাকে তাকে নিয়ে!
” টাইগারররর! স্টার্ট দ্যা কাররর!! সি ইজ বিল্ডিং! ”
” আঙ্কেল আস্তে! পড়ে যাবো আমিমমমম!”
” কিং দাড়া বাবা!”
আতিয়া বেগম পিছু পিছু ছুটতে থাকে! কিন্তু কিংশুকের কানে যেনো কোনো কথা যায় না! সে নিজের মতো করে অরিনকে নিয়ে যেতে ব্যস্ত!!
সকলের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে! এভাবে কিংশুক কোনো কথা নেই বার্তা নেই! অরিনকে কেন কোলে তুলে নিয়ে এতো জোড়ে দৌড় দিচ্ছে!
গার্ডরা আগে থেকেই গাড়ির ডোর খুলে রাখে! কিংশুক তাড়াতাড়ি করে অরিনকে কোলে নিয়েই বসে পড়ে!
” হ্যারি আপ ড্যাময়েট!”
খুব জোড়ে শক্ত করে ধরে অরিনের হাত! খুব জোড়ে গাড়ি চলতে থাকে! অরিন প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকে! কিন্তু কিংশুকের কান অব্দি কিছু যায় না!

” তোমার কিছু হবে না রোজ! আমি আছি তো! খুব লেগেছে না তোমার? তুমি প্লিজ কষ্ট পেয়ো, আমি আছি!”
অরিন রাগে এক ঝাটকা মে’রে কিংশুকের হাত নিজের হাত থেকে সরিয়ে দেয়! আর তাড়াতাড়ি করে পাশের সিটে বসে পড়ে কিংশুকের কোল থেকে উঠে!
” কি হয়েছে? খুব বেশি লেগেছে? ”
অরিন নিজের হাত সামনে ধরে স্টিকারটি তুলে ফেলে! আর সাথে কিংশুক গাড়ি দাড় করায়!
” কিছু হয়নি আমার আঙ্কেল!”
কিংশুক চোয়াল শক্ত করে তাকায় অরিনের দিকে! তারপর নিজের টি-শার্টের হাতা উপরে উঠাতে থাকে! কিংশুকের রাগিভাব দেখে, অরিন সাথে সাথে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ানো শুরু করে! আর কিংশুক ও তার পিছু নেয়! খান বাড়ির সুবিশাল রাস্তার মাঝে অরিন দৌড়াতে থাকে! আর তার পিছনে কিংশুক!

” অরিন দাড়া বলছি!”
” ও আঙ্কেলললল! মাফ করে দেন!”
দৌড়াতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে অরিন খান বাড়ির ভিতরে গার্ডেনে চলে যায়! পিছু পিছু কিংশুক ও যায়! এ পর্যায়ে ধরে ফেলে অরিনকে কিংশুক! খুব শক্ত করে ধরে অরিনের হাত!!
—– ৫ মিনিট পর!!
” ৬…৭….৮…..৯….
ভাইজান আপা মনি থাইমা গেছে গা!”
খুব কড়া চোখে কিংশুক তাকায় অরিনের দিকে! কিংশুক তাকানোর সাথে সাথে অরিন আবার ও কান ধরে উঠবস শুরু করে!
” কিংশুক কু’ত্তা দেখে নিবো তোকে!”
” কি বললি?”
” কিছু নাহহ! দোয়া পড়ছিলাম! ”
” উঠবস কর!”

কিংশুকের ঝাড়ি শুনে অরিন উঠবস করতে থাকে! পাশে আতিয়া বেগম এবং ক্যাট ও বসা! তারা চুপচাপ বসে বসে অরিনের কানে ধরে উঠবস করা দেখে! সকলেই মিটমিট করে হাসছে! কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না!
অরিন প্রায় কাঁদো কাঁদো ভাব হয়ে যায়! শেষমেষ তাকে কান ধরে উঠবস করালো! মনে মনে ঠিক করেছে এর প্রতিশোধ সে নিবেই!
এভাবে কান ধরে ১৫ বার উঠবস করানোর পর কিংশুক অরিনকে থামতে বলে! কিন্তু হাঁটার মতো শক্তি পাচ্ছিল না সে! মাটিতেই বসে পড়ে!
অরিন মাটিতে বসতেই ক্যাটরিনা এসে তাকে কোলে তুলে নেয়! আর ভিতরে নিয়ে যেতে থাকে!
” তোমার ভাই একটা রাক্ষস! ”
” ব্রো শুনলে আবার ও কান ধরে উঠবস করাবে!
” এই না! না! মন থেকে বলিনি!”
ক্যাটরিনা অরিনকে তার রুমে দিয়ে আসে! আর পায়ে বাম ও লাগিয়ে দেয়! যেনো ব্যাথা না হয় খুব বেশি!
কিন্তু অরিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে এর শোধ তুলেই ছাড়বে! কিংশুক যেভাবে তাকে কান ধরে উঠবস করিয়েছে সবার সামনে, সে ও কিংশুককে কান ধরে উঠবস করাবে সবার সামনে! তাও নিজের জন্য!
প্রচন্ড জীদ চেপে বসে অরিনের মনে! ফোন বের করে সিনথিয়া, মনিয়া এবং পুষ্পকে গ্রুপ কল দেয়! কিছু তো একটা করতেই হবে!
সেদিন দূপুর বেলা..!

” আজকেই সব সব ড্রাইভাদের মরতে হলো মনি?”
” কিং নির্দেশ দিয়েছে মা জননি! তাদের প্রশিক্ষণে তো যেতে হবেই! ”
” এই ভরদুপুর বেলা কী হেঁটে হেঁটে যাবো আমি??”
অরিন এবং আতিয়া বেগমের কথোপকথনের মাঝেই সিড়ি বেয়ে কিংশুক নিচে নামতে থাকে! অর্ধেক সিড়িতে নামতেই কিংশুকের পা দুটো থমকে যায়! শাড়ি পড়া অবস্থায় অরিনকে দেখে নিজের বুকে হাত দিয়ে ফেলে কিংশুক!

”’ কন্ট্রোল কিং, কন্ট্রোল! সি ইজ জাস্ট এইটটিন!”
অরিনের পড়নে কালো সিল্কের শাড়িটা যেনো তাকে অপ্সরার থেকে কম বানাইনি! পুরো এলাকায় যদি সুন্দরীদের লিস্ট করা হয়, অরিন থাকবে তার মধ্যে শীর্ষে! একদম নিখুঁত সুন্দরী যাকে বলে! তার উপরে কালো শাড়ি, অপ্সরার থেকে কম লাগছিলো না অরিনকে!
কিংশুক চুপচাপ সাইট কাটিয়ে চলে যেতে থাকে! ঠিক তখনই তার নামের ডাক পড়ে!
” কিংশুক!”
আতিয়া বেগমের ডাকে ঘুড়ে দাড়ায় কিংশুক!
” বাবা, একটু অরিনকে দিয়ে আসবি, কনভেনশন হলে!”
আতিয়া বেগম জানতো কিংশুকের উত্তর কী হবে! কারণ সে নিজের গাড়িতে কখনো কোনো মেয়ে মানুষ উঠায় না! আতিয়া বেগম ও বোধ হয় হাতে গনা দু-এক বার উঠে ছিলো!
” হ্যারিআপ!”

কিংশুক অরিনকে জলদি আসতে বলে তার সাথে, আর নিজে সামনে যেতে থাকে! তার মুখে এক কৃত্রিম হাসি! যেটা সে ছাড়া আর কেউ দেখিনি! কারণ এসব ছিলো কিংশুকের প্ল্যানের একটি অংশ মাত্র! অরিনের সাথে তার তেমন কোনো কথা বলার সুযোগ হচ্ছিল না, যার মাধ্যমে অরিন তাকে জানতে পারবে!তাই ইচ্ছে করে কিংশুক সব ড্রাইভারদের প্রি-ট্রেলিং এ পাঠায়! কারণ কিংশুক আগে থেকেই জানতো আজকে দূপুরে অরিনের ফ্রেন্ডস দের সাথে গেটটুগেদারের প্রোগ্রাম রয়েছে! এইচএসসির পর সবাই মিলে আড্ডা দিবে আজকে! তাই পূর্বপরিকল্পা সহিত প্ল্যান করে ড্রাইভাদের ট্রেনিং এ পাঠায় কিংশুক!
কিংশুক বাইরে যেতে থাকে, আর অরিন ও চুপচাপ তার পিছু পিছু হাঁটতে থাকে! কিংশুক বাইরে আসা মাত্র বডিগার্ডরা লম্বা হয়ে দাড়ায়, আর কিংশুককে গাড়ি অব্দী জায়গা করে দেয় যাওয়ার জন্য! অরিন ও কিংশুকের পিছু পিছু যেতে থাকে!

কিংশুক গাড়ির সামনে আসতেই দরজা খোলে দেয় তার লোকেরা! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিংশুক সেখানে না বসে অপর পাশের ডোর খুলে বসে, আর এপাশের টা খোলাই রাখে!
অরিনকে একজন গার্ড সামনে বসার জন্য বলে! অরিন চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে কিংশুকের পাশের সিটে বসে পরে! আজকে কিংশুক আর অরিন একদম ম্যাচিং ম্যাচিং! দু-জনেই কালো রং এর ড্রেস পড়েছে!
সারা রাস্তা অরিন এবং কিংশুক চুপচাপ বসে থাকে। কিংশুক তো কোনো কথা বলেই না, আর অরিন সে তো ভয়েই কিছু বলে না!
কনভেনশন হলের সামনে যেয়ে গাড়ি থামে। অরিন ডোর খুলে চুপচাপ নামতে যাবে তার আগে কিংশুক তার হাত ধরে টান দিয়ে আবার সিটে বসায়!
” Don’t try to burn me orin! ”
অরিন কিংশুকের কথার আগামাথা ও বুঝে না! সে কীভাবে কিংশুককে জ্বালাচ্ছে? তাই কোনো উত্তর না দিয়েই চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে পড়ে! এ রাক্ষসের সাথে কথা বলে লাভ নেই! কখন কী বলে একমাত্র সেই ভালো জানে!

” কী-রে অরিন, তোর বয়ফ্রেন্ড দিয়ে গেলো না-কি? ”
অরিনের ফ্রেন্ডরা খুব জোড়েই কথাটি বলে বসে!
” চুপ কর বলদ! কিংশুক আঙ্কেল ওটা!”
” কিংশুক খান তাও তোকে দিয়ে গেলো! কোনো মিডিয়া বা প্রোটেকশন ছাড়া! কই দেখি তো!”
অরিনের ফ্রেন্ডরা গাড়ির কাছে আসতেই কিংশুক কাচ নামিয়ে তাদের দিকে তাকায়! কিংশুককে দেখা মাত্র সবাই রিতিমতো ঝাটকা খায়! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতী এভাবে রাস্তায়!
” সরি! সরি! আঙ্কেল ওরা বুঝতে পারে নি! আপনাকে আমার বয়ফ্রেন্ড ভেবেছে!”
বাকিরা ও সরি বলে চুপচাপ তাড়াতাড়ি করে অরিনের হাত ধরে ভেতরে চলে যায়!
” আর একটু হলে তোদের জন্য প্রচুর বকা খেতাম!”
” আরে আমরা কীভাবে জানবো ওটা আসলেই কিংশুক আবির খান!”

অরিন আর ফ্রেন্ড রা বাকি ফ্রেন্ডদের কাছে চলে যায়! আজকে তাদের ব্যাচের পূর্নমিলন! অনেক দিন কেউ কারো সাথে দেখা করে না বলে আজকে সকলে গেটটুগেদার করে! প্রায় সারা দূপুরই তারা সেখানে খুব আনন্দ করে!
বিকেল প্রায় ৫:৫৬ মিনিট! এক এক করে সকলে চলে যায়! অরিন ও তার ফ্রেন্ডের সাথে বাইরে আসে! এসে দেখতে পায়, সকালে কিংশুকের গাড়ি যেখানে ছিলো এখন ও ঠিক সেখানেই আছে!
অরিন সাতপাঁচ না ভেবেই গাড়ির কাছে চলে যায়! গাড়ির কাছে যেতেই ডোর অটোমেটিক খুলে যায়!
অরিন একটু কাছে যেতেই খুব জোরে টান পড়ে তার হাতে!
খুব শক্ত করে হাতে টান পড়ে অরিনের! তাল সামলাতে না পেরে গাড়ির ভেতরে হুমড়ি খেয়ে পরে যেতে যেতে বেঁচে যায় অরিন! কেউ একজন খুব শক্ত করে তাকে ধরে ফেলে! ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে আবার ও চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন! না এটা হতেই পারে না! সে কিংশুকের কোলে! এ নিয়ে দু-বার!

” আমার নাম?”
কিংশুকের কন্ঠ কানে ভাসে আসতেই বড় বড় করে চোখ তুলে তাকায় অরিন!
” কিংশুক!”
” শুনতে পায়নি আবার বল!”
” কিং… কিংশুক!”
” বলতে থাক!”
” হ্যাঁ?”
কিংশুক খুব রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায় অরিনের দিকে। অরিন ও ভয় পেয়ে সারারাস্তা কিংশুক কিংশুক করতে থাকে! কিংশুক অরিনকে ছাড়ে না আবার তার থেকে দৃষ্টি ও সরায় না! এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিনের দিকে! অরিন ও কিংশুকের দিকে তাকিয়ে সারারাস্তা কিংশুকের নাম বলতে থাকে!
আঙ্কেল ডাকার কারণে প্রায় ২৩৭ বার নিজের নাম বলাতে থাকে কিংশুক অরিনকে! অরিনের চোখ দিয়ে প্রায় পানি আসবে আসবে ভাব! কিন্তু খুব কষ্ট করে আঁটকে রাখে সে!
গাড়ি এসে সোজা খান বাড়ির সদর দরজায় থামে! গাড়ি থামার সাথে সাথে অরিন ও নড়েচড়ে উঠে নামার জন্য! কিন্তু কিংশুক তাকে আরো শক্ত করে ধরে ফেলে!
” পরের বার থেকে আঙ্কেল ডাকার আগে ১০০ বার ভাববি!”
তারপর ছেড়ে দেয় অরিনকে! অরিন ও সুন্দর মতো আস্তে ধীরে গাড়ি থেকে নামে! গাড়ি থেকে নেমেই অরিন পিছনে না তাকিয়ে ভেতরে চলে যায়!
” কী-রে এতো দেরি হলো তোর?”
” কিংশুক!”
” কীহ?”
” কিংশুক!”
” হ্যা?”

অরিনের মুখ থেকে কিংশুকের নাম বের হতেই থাকে! এতো বার কারো নাম ধরে ডাকলে, সেটা যে তোতা পাখির মতো বলি হয়ে যায় সেটা অরিন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে!
” কী হয়েছে কিংশুকের? ওর নাম এতো কেন নিচ্ছিস?”
অরিন কিছু না বলে নিজের মুখে হাত দিয়ে থাকে! এতোক্ষণ কিংশুকের নাম ধরে ডাকার ফলে তার গাল প্রচন্ড ব্যথা শুরু করে!
আতিয়া বেগম এবং অরিনের কথার মাঝেই কিংশুক ভেতরে প্রবেশ করে! সাথে তার বডিগার্ডরা ও!
” কী-রে বাবা, এতো তাড়াতাড়ি এলি?”
” জরুরি জিনিস বাসায় আছে! ”
কিংশুক সাইট কাটিয়ে উপড়ে উঠতে থাকে! অরিন রাগে তার দিকে তাকায় ও না!
কিংশুক যাওয়ার সাথে সাথে অরিন ও নিজের রুমে চলে যায়! অরিন যেতেই দেখে তার বেডে একটা গোলাপ রাখা! অরিন গোলাপ টা নিয়ে সাইটে রেখে দেই!

সারাদিনের ক্লান্তি শেষ করার জন্য একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার! অরিন তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে, বারান্দায় চলে যায়, কফি নিয়ে! কিংশুকের বারান্দা তখন ও খালি! হয়তো সে ঘুমাচ্ছে বা কাজে ব্যস্ত! অরিন কফি নিয়ে ভেজা চুলে বারান্দায় পায়ের উপরে পা তুলে ফোন টিপতে থাকে! চুলের পানিতে অরিনের টিশার্ট হালকা ভিজে যায়! অরিন বরাবরই মর্ডান ড্রেস পরে! খুব কম সময় গেছে যখন সে ট্রেডিশনাল আউট ফিট ক্যারি করে!
কফি খেতে খেতে অরিন লক্ষ করে তার ফোনে বেশ কয়েকটা নোটিফিকেশন এসেছে!
অরিন সেগুলো দেখতেই দেখে ইন্সা, ফেসবুকে রিকুয়েষ্ট কয়েকজন ছেলের! যারা তার ভার্সিটির ফ্রেন্ড! কিন্তু তারা তো আগে থেকে এড ছিলো, তাখন হঠাৎ লিস্ট থেকে আনফ্রেন্ড এবং আনফলো কে করলো! অরিন নিজের আইডিগুলোতে ঢুকে দেখে তার কোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই! এবং লিস্টে কোনো ছেলে নেই! তারপর ভালোমতো দেখে তার লিস্টে শুধু একটায় ছেলে আছে! সেটা কিংশুক আবির খান! কিন্তু অরিন যতদূর জানে কিংশুকের সোশ্যাল মিডিয়া হেন্ডেল করার লোক আছে! তাহলে এই কাজগুলো করলে কে!
ঠিক তখনই ভারি কন্ঠস্বর কানে ভেসে উঠে অরিনের!

” অরিনননন!”
সাইটে তাকিয়ে দেখে কিংশুক খুব রাগি চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে! কিন্তু হঠাৎ এমন রাগের কারণ মাথায় আসে না তার!
ভয়ে ভয়ে দাড়িয়ে পড়ে অরিন!
” ভাইয়া,! ”
” রুমে যা!”
খুব জোড়ে ঝাড়ি দিয়ে উঠে কিংশুক! কিংশুকের ঝাড়ি শুনে অরিন চুপচাপ রুমে চলে যায়! চোখে পানি চলে আসে তার! এভাবে আজ অব্দি কেউ তার সাথে কথা বলেনি!
অরিন চুপচাপ রুমে এসে কান্না করতে থাকে!
” কী-রে অরিন কাঁদছিস কেন?”
” কিংশুক কু’ত্তা ঝাড়ি দিয়েছে! ”
ক্যাটরিনা প্রচন্ড জোড়ে হাসতে থাকে! কিংশুক আজ সকাল থেকে যে অরিনের পিছনে লেগেছে সেটা সকলেরই অবগত!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৩

রাত ১১টা ১৫ মিনিট!
অরিন তার ফ্রেন্ডের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে নিচে যেতে থাকে! কিংশুকের পাশের রুমটা ছিলে অরিনের! তাই যেতে আসতে তাদের মোটামুটি দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে! যদি কিংশুক তার রুমের লক খোলা রাখে তবে! কিন্তু কিংশুকের রুমের লক ২৪ ঘন্টায় বন্ধ! বাহির হতে দেখা যায় না ভিতরে কী করে সে সারাদিন!
অরিন নিজের ধ্যানে ফোনে কথা বলতে বলতে যায়। তার পিছনে কে হাঁটছে বা কে তাকে অনুসরণ করছে, সেদিকে কোনো ধ্যানই নেই অরিনের!
No! No! It’s, ” Abhi Jah Sanam, Yu Na kar Sitam, Tere Bahomey… Oh i forget the line!”
” Mar Mitenge Hum!”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫