আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৮
কায়নাত খান কবিতা
” আমি যাবো না আপনার…!”
” তুই যাবি তোর বাপ ও যাবে!”
অরিনকে কোনো কথা বলতে না দিয়েই তাকে কোলে তুলে নেয় কিংশুক! আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় অরিন নিচে নামার জন্য , কিন্তু কিংশুকের দক্ষ্য হাতের বাঁধনের কাছে তার চুনো পুটির মতো শক্তি, খানিকটা লোহা এবং তুলোর মতো! তুলো যেমন লোহার কাছে কিছুই নয়, ঠিক তেমনি অরিন ও কিংশুকের কাছে কিছুই নয়!!
কিংশুক খুব শক্ত করে অরিনকে ধরে নিচে নামতে থাকে! তার পাশে ক্যাটরিনা এবং আতিয়া বেগম ও যেতে থাকে! তাদের মনে ও খুব কু-ডাকতে থাকে! কিংশুকের রাগ কতটা মারাত্মক সেটা তারা খুব ভালোই জানে!
কিংশুক অরিনকে নিয়ে নিচে নামতেই সকল গার্ডরা চোখ নিচের দিকে করে ফেলে! ভুলে ও কেউ তাদের দিকে তাকায় না! যেখানে অরিনের ছবি আকার ফলে পেইন্টারের চোখ কা’না করে ফেলেছিলো কিংশুক! সেখানে যদি বাস্তবে কেউ তার দিকে তাকায়, তাহলে হয়েছে কাজ!! কেউ আর জীবিত থাকবে না!
কিংশুক অরিনকে নিয়ে সোজা বাইরে চলে যায়!! অরিনের জানা নেই তার গন্তব্য কোথায় গিয়ে থামবে!!
——খান ম্যানশনের পিছনে কাঠের তৈরি বিশাল চিলেকোঠার মাঝে চেয়ারে বসে থাকে অরিন! তার সামনে কিংশুক এবং রকি দু-জনেই বসা! কিংশুক চেয়ারে এবং রকি মাটিতে! কিংশুকের চেয়ার একদম অরিনের চেয়ারের সামনে রাখা! অরিন চাইলে ও উঠে যেতে পারবে না! কিংশুকের পায়ের সাথে বা’রি খেয়ে পড়ে যাবে যদি উঠতে চাই তো ! ভয়ে রক্ত জমাট বেঁধেছে তার! কিংশুক তাকে এনে সোজা চেয়ারে বসিয়ে দেয়, আর রকির দিকে তাকানো ও বারণ করে দেয়! যদি তাকায় তাহলে তার অবস্থা ও খুব খারাপ হবে!!
প্রচন্ড ভয়ে ভয়ে থাকে অরিন! কিংশুকের দিকে ও তাকায় না ভয়ে! আতিয়া বেগম এবং ক্যাট বাড়ির ভিতরেই আছে! তাদের এখানে আসা বারণ!
কিছু ক্ষণের মধ্যে একটি বিশাল আয়না এনে রাখা হয় তাদের থেকে একটু দূরে! কিংশুক উঠে গিয়ে দাড়ায় আয়নার সামনে, তারপর তার লোকেরা রকিকে ও দাড় করায়! রকি বেচারা মা’র খেয়ে হাঁটার মতো শক্তি টুকু হারিয়ে ফেলেছে!!
দাঁড়ানোর সাথে সাথে কিংশুক রকির দিকে তাকায়!
” আয়নাতে তাকা!”
কিংশুক বলার সাথে সাথে রকি আয়নাতে দেখে! যেখানে তাকে এবং কিংশুককে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে!! তারপর কিংশুক রকির মুখ বরাবর গিয়ে দাড়ায়!
” আমাকে ভালো মতো দেখ!”
রকি ভয়ে ভয়ে কিংশুকের দিকে তাকায়!! কিছু ক্ষণ তার পা থেকে মাথা অব্দি দেখতে থাকে!!
” এবার বল! আমার মধ্যে এমন কোন কমতি আছে যার জন্য ও তোর বউ হবে আমার না!”
কিংশুকের কথা শুনে রকি শুকনো ঢোক গিলে!কিংশুক তো একদম পারফেক্ট! উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং এর মাঝে ও দারুণ সুদর্শন পুরুষ কিংশুক! তার মাঝে কোন কমতি খুঁজবে রকি?
” কোনো কমতি নেই স্যার!”
” গুড!”
কিংশুক সোজা অরিনের কাছে চলে যায়, তারপর তার হাত ধরে নিয়ে আসে সামনে! গার্ডদের ইশারা করে রকির শার্ট খুলে ফেলতে বলে! পরক্ষনেই নিজের টিশার্ট খুলে ও মাটিতে ফেলে দেয়!! দু-জনেই শুধু জিন্স পড়ে অরিনের সামনে দাড়ায়!!
” লুক অ্যাট মি জানন! আমার মধ্যে এমন কোন কমতি আছে যার জন্য তুমি ওকে ভালোবাসো আমাকে নয়?”
খুব জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে কথা গুলো বলতে থাকে কিংশুক! হঠাৎ এমন কথা শুনে অরিন আরো ভয় পেয়ে যায়! কী বলবে সে? ভালো বাসা তো মন থেকে হয়, কে কার থেকে বেটার সেটার উপর নির্ভর করে নয়!
অরিন কিংশুকের দিকে তাকিয়ে যখনই ঘাড় ঘুড়িয়ে রকির দিকে তাকাতে যাবে, ঠিক তখনই কিংশুক গর্জে উঠে!
” খবরদার জাননন! পরপুরুষের দিকে নজর নয়! আয়নাতে দেখে বলো , কে বেটার?””
চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন! এটা কী আদোও সম্ভব? সে কীভাবে বলবে কে বেটার?
” জ্বলদি বল!”
চমকে উঠে অরিন! কান্নায় ভেঙে পড়ে সে! এ কেমন পরিস্থিতিতে ফেললো উপর ওয়ালা তাকে!
” আমি জানি নাহহহ!”
চোয়াল শক্ত হয়ে আসে কিংশুকের! অরিন কিংশুককে না বেছে কিছু জানে না বলছে! বিষয়টা খুবই অপছন্দ হয় কিংশুকের! সে এসে সোজা অরিনের সামনে দাড়ায়! তারপর হাত ধরে নিজের ছিক্সপ্যাক গুলোর উপরে আলতো করে ছোঁয়া দিতে থাকে!! ঘৃণাতে অন্য দিকে মুখ সরিয়ে ফেলে অরিন!
অরিনের এই প্রত্যাখান মেনে নিতে পারে না কিংশুক! সে অরিনের চোয়াল ধরে নিজের দিকে ঘোড়ায়!
” ফিল মি জান! ডোন্ট ইউ ডেয়ার লুক অ্যাট সামহোয়্যার এলস! আইস অন মি জান!”
অরিন খুব কষ্ট করে কিংশুকের দিকে তাকায়! চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তেই থাকে! তার হাত এখন ও কিংশুকের এবসের উপরে!!
” এবার বলো কে বেটার?’
অরিন বুঝে যায়, এখন যদি বলে রকি বেটার তাহলে রকিকে ম’রতে হবে! ধরতে গেলে কিংশুক শতগুন রকির থেকে বেটার! কিন্তু তার এই সাইকোগিরির জন্য পুরোপুরি মন থেকে উঠে গেলো অরিনের!
” আপনি! ”
” ইয়েসস! আই নিউ ইট!!”
কিংশুক খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অরিনকে! নিঃশ্বাস নিতে ও কষ্ট হয় অরিনের এতোটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে!
” তুমি শুধুই আমার বেবি গার্ল! এন্ড আই ম বেস্ট ফর ইউ!”
” আই কান্ট লাভ ইউ! ”
কিংশুক অরিনের কোমর ধরে তাকে নিজের সামনে নিয়ে আসে!!
” পেয়ার কিয়া তো নিভাবা জান!”
” ওসব মিথ্যে ছিলো! ”
” তাতে কী? আমি তো সিরিয়াস হয়ে গেছি জান! এখন আমার তোমাকেই লাগবে বেবি গার্ল! ”
কান্না ভেঙে পড়ে অরিন! বান্ধবীদের সাথে মজা করে ডেয়ার ধরে কিংশুকের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সে! আর কিংশুক তাতেই সিরিয়াস হয়ে যায়! একেই বলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মা-রা!
হঠাৎ করে কিংশুক অরিনকে ঘুড়িয়ে ধরে রকির দিকে!!এবং পিছন থেকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অরিনকে!! ঘৃণাতে নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে অরিন!! অরিন যতই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে, কিংশুকের হাতের বাঁধন ততই শক্ত হতে থাকে!!
” বিয়ের আগে প্রেগনেন্ট হতে চাও?”
চুপসে যায় অরিন! নড়াচড়া ও বন্ধ করে দেয় একদম! একটা একা মেয়ে মানুষ কীভাবে কি করবে সে? এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে বাঁচাবে নিজেকে?
” তুমি তো সকালে ওকে জড়িয়ে ধরেছিলে, ওর কী করা যায় বলো তো জান?”
ভয়ে চোখ কপালে উঠে যায় অরিনের!! সে তো কিংশুককে বেটার বললো রকির থেকে! তারপর ও আবার শাস্তি কীসের?
কিংশুক ইশারা করে তার লোকদের! কিংশুকের ইশারার সাথে সাথে মোটা গরম শীক তাদের সামনে ধরা হয়! কিংশুক অরিনের হাত ধরে শীকটা ধরে! অরিন সেটা না ধরার জন্য অনেক চেষ্ঠা করে! কিন্তু কিংশুক তো কিংশুকই! ঝাড়ি দিয়ে উঠে অরিনকে!
তারপর কিংশুকের লোকেরা রকিকে তুলে তাদের সামনে ধরে!! অরিন প্রচন্ড ভয়ে ভয়ে থাকে, এখন কী করবে কিংশুক? গলা শুকিয়ে আসে তার!!
” ইউ নো জান, আই লাভ ইউ এ লট! কিন্তু তুমি ওকে জড়িয়ে ধরেছো, এটা কীভাবে মানি বেবি গার্ল? ”
কিংশুক অরিনের হাত দিয়ে গরম করা শিক’টি রকির বুকে ধরে! গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে রকি! অরিন ও আঁতকে উঠে!!
” কিংশুক না প্লিজ!..প্লিজ কিংশুকককক! ”
অরিন প্রচন্ড আকুতি মিনতি শুরু করে দেয়! কিন্তু কোনো লাভ হয় না, কিংশুক এক এক করে চার বার রকির পুরো বুকে শী’কটি ঠেসে ধরে! মাটিতে পরে ছটফট করতে থাকে রকি!
অরিন কিংশুকের হাতে পায়ে ধরা শুরু করে!
” কিংশুক প্লিজ..ও মা-রা যাবে! ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান! প্লিজ কিংশুক!!! প্লিজজজ!'”
ভাবহীন ভাবে দাড়িয়ে থাকে কিংশুক! যেনো তার কানে কিছু ঢুকছেই না! অরিন রকির কাছে ও যেতে পারে না! কিংশুক তার হাত এতো শক্ত করে ধরে থাকে! দু-কদম সামনে ফেলার মতো উপায় নেই তার!!
” কিংশুক প্লিজ..! প্লিজ কিংশুক! ”
” তুমি ওকে বাঁচাতে চাও?”
” চাই!”
” তাহলে বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো ওকে নয়!”
কিংশুকের মাঝে আজ একটা জানো’য়ারকে দেখতে পারছে অরিন! যার মনে না আছে মায়া, আর না আছে ভালোবাসা! একজন মানুষ চোখের সামনে ছটফট করছে, কিন্তু তাতে তার কোনো কিছু যায় আসে না! মনুষ্যত্ব বোধ টুকু ও নেই তার!!
” আমি আপনাকে ভালোবাসি!”
” হাগ মি জান!”
চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন! জড়িয়ে ধরে কিংশুককে! কিংশুক ও অরিনকে এতোটাই শক্ত করে ধরে যে ছেড়ে দিলেই বোধ হয় সে পালাবে!!
” বাধ্য মেয়ের মতো কাল আমাকে রিং পড়িয়ে দিবে! না-হলে..! ”
” দিবো! :’
” গুড! ”
কিংশুক ইশারা করে সবাইকে চলে যেতে বলে! অরিনের সাথে তার একটু একান্তে সময় কাটানো দরকার!
চিলেকোঠায় এখন শুধু কিংশুক এবং অরিন! অরিন চুপচাপ জড়িয়ে ধরে থাকে কিংশুককে! কোনো নড়াচড়া ও নেই তার! একদম জড়বস্তুর মতো!
” কি’স মি জান! ”
চোখ বড় বড় হয়ে যায় অরিনের! সেদিন নাহয় বৃষ্টি ছিলো, আবেগে বিবেক হারিয়ে ভুল করে ফেলে! কিন্তু আজ তো আর আবেগ নেই! তার উপরে কিংশুককে এখন প্রচন্ড ঘৃণা করে অরিন! তাকে কি’স কীভাবে করবে!
কিংশুক অরিনকে ছেড়ে দিয়ে তার কোমর জাপ্টে ধরে!
” করবে না কি’স? ”
” নাহহহ!”
” ওকে!”
কিংশুক ছেড়ে দেয় অরিনের কোমর! ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথে অরিন বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়! আর সাথে সাথে কিংশুক অরিনের পিছনে ঘা’ড় ধরে তাকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে নেয়, আর অরিনের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দেয়! দু-হাত দিয়ে কিংশুককে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে চাই অরিন! তাতে কোনো লাভ হয় না অবশ্য!! কিংশুক নিজের মন মতো অরিনকে কি’স করতে থাকে!!
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৭
বেশ কিছু ক্ষণ পর ছেড়ে দেয় অরিনকে! ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথে অরিনও দৌড়ে চলে যায়! কিংশুক চিলেকোঠাতেই থেকে যায়! অরিনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে!
” আজ দৌড়ে পালাচ্ছ, কাল দৌড়ে কোলে উঠবে, আই প্রমিস টু ইউ জান! ‘ইউ ওয়েল বি মাইন!”
