প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৩
রাত্রি মনি
বার রুমে মেঝেতে পা ছড়িয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে জেইন। চারপাশে ছড়ানো সিরিঞ্জগুলো যেন রক্তের ছড়াছড়ি, প্রতিটি আলোর প্রতিফলনে ভয়ানক শিহরণ ছড়ায়। হঠাৎ সে মাথা উঁচু করে, ঘাড়ে হাত রেখে দু’পাশে কাত করে ঘুরায়। ক্যাড়ক্যাড় করে ফুটে ওঠে ঘাড়ের রগ। চোখ দুটো লাল, আগুনের মতো জ্বলছে, নিঃশ্বাস ভারী, গলার ফিসফিস যেন অন্ধকারে কোনো প্রাণহীন কণ্ঠস্বর।
সে হাতের কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে অপ্রকৃস্থের মত নাকের নিচটা ঘষে নেয়। সিরিঞ্জগুলো পায়ে পিষে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে উচ্চারণ করে,
“F**k this… সব বেইমান। কিছুতেই নেশা হচ্ছে না… সব ফ্লপ… সব বেইমান…”
ঠান্ডা সিরিঞ্জের স্পর্শেও শরীরে আগুনের দগ্ধতা কমছে না। চোখে অদ্ভুত উন্মত্তা, গলার ফিসফিস যেন মনে হচ্ছে ধ্বংসের গান। সে রাগে জ্বলতে জ্বলতে আবারও নাক ঘষে। চিৎকার করে মাত্তেওকে ডাকে। মাত্তেও বার-কাউন্টারের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। চিৎকার শুনে মুহূর্তেই ছুটে আসে। হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে শ্বাস টেনে বলে
“কি হয়েছে ভাই?”
মুহূর্তেই দুই কদম পিছিয়ে যায় মাত্তেও। জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টিতে তাকানো মাত্রই সে শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলতে বাধ্য। আতঙ্কে হাত-পা শীতল হয়ে যাচ্ছে। মনে মনে দেয়ালের দিকে চেয়ে শ্বাস আটকে কণ্ঠ ফিসফিস করতে চায়, কিন্তু জেইন চিবিয়ে চিবিয়ে গর্জন করে,
“এই হারামির বাচ্চা!!! আমার নেশা হচ্ছে না কেন??? কি ড্রাগস এনেছিস এসব? মেয়াদ দেখে আনিস নি! আমার কলিজা জ্বলে যাচ্ছে, ঠান্ডা কিছু পাচ্ছি না… শান্তি চাই আমি… শান্তি… বুঝছিস না, হারামির বাচ্চা!!!! উফফ… আর সহ্য হচ্ছে না!”
মাত্তেও কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে,
“ভাই, এগুলো সব ফ্রেশ মাল। আজ সকালেই এসেছে। লুকা একটা নমুনা পরীক্ষা করেছিল… এখনো জ্ঞান ফেরেনি। বুঝতে পারছি না আপনার কেন নেশা হচ্ছে না!”
জেইন হঠাৎ ঘাড়ের পেশি ফুলিয়ে গর্জন করে,
“কু*ত্তার বাচ্চা!!!! আমি নেশা করতে চাই! এমন কিছু নিয়ে আয় যার নেশায় ডুবে থাকবো আমি। এমন কিছু যা আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলবে। যেন এক সপ্তাহের জন্য সব কিছু ভুলে থাকি। যেন শুধুই আমি আর নেশা। বুঝছিস না, কি চাইছি?”
তার চোখে উন্মাদ আগুন, শরীরের প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন ভয়ানক নেশার লালসা। মাত্তেওর কাঁপা হাত শূন্যে ঝুলছে, হৃদয় ধুকপুক করছে, মনে হচ্ছে এই মুহূর্তেই সে হিংস্র মনস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যিনি নিজের আগুন আর নেশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না।
জেইন হঠাৎ মেঝের দিকে মাথা নিচু করে সিরিঞ্জগুলোর দিকে তাকায়, ফিসফিস করে,
“এইসব তুচ্ছ। উফফ! তুমি কি জানো না, আমি কি চাই? আমি চাই মৃত্যুর মতো নেশা। আমি চাই সব কিছুকে ছাপিয়ে যাওয়া ব্যথা আর সুখ।”
সে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। মেঝেতে পড়ে থাকা সিরিঞ্জগুলো কড়মড় শব্দে ভেঙে চুরমার হয় তার ভারী বুটের নিচে। মুহূর্তেই মাত্তেওর কলিজা শুকিয়ে আসে। আতঙ্কে নিঃশ্বাস গলায় আটকে যায়। সে ধাপে ধাপে পিছু হটতে থাকে। তার চোখ বড় হয়ে যায়, ঠোঁট শুকিয়ে ফাটতে বসে।
জেইন ধীরে ধীরে মাথা তোলে। চোখদুটো অগ্নিশিখার মতো লালচে। সে এক ঝলক ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাত্তেওর দিকে। সেই দৃষ্টিতে এমন অদ্ভুত ঠাণ্ডা ক্রোধ লুকিয়ে আছে, যেন মুহূর্তেই ছিঁড়ে ফেলবে তার বুকের খাঁচা। মাত্তেওর মনে হয়, যদি সে আর এক কদম সামনে এগিয়ে আসে, সে হয়তো সাথে সাথে মরে যাবে।
কিন্তু কোনো কিছু না বলেই, বড় বড় পদক্ষেপে জেইন সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
বারের কালো করিডর ভেদ করে সে হাঁটছে প্রতিটি পদক্ষেপে তার ভারী বুটের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিচ্ছে দানবীয় আগমনী সুর। তার শরীর এখনো টানটান, পেশীগুলো রাগে কেঁপে উঠছে, বুক উঠানামা করছে আগুনে ভরা নিঃশ্বাসে।
হঠাৎ থেমে যায় সে, বদলে যায় মুখ ভঙ্গি। সামনে রিমের রুম। দরজার সামনে দাঁড়িয়েই গভীরভাবে এক নিঃশ্বাস নেয়। শ্বাসটা এত ভারী যে মনে হয় যেন তার ফুসফুস ভেঙে আসছে। উত্তেজনায় বুক ফুলে ওঠে, প্রতিটি শ্বাসে চওড়া বুকের মাংসপেশি টানটান হয়ে ওঠে। কপালের শিরা খিচে উঠছে, অথচ চোখে অদ্ভুত নরম আলো খেলে যায়।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে হাত রাখতেই লক খুলে যায় বিপ শব্দে। সে রুমে ঢুকে। কিন্তু মুহূর্তেই ভ্রু কুঁচকে যায় তার।রুমটা খালি।চোখ ঘুরে চারপাশে তাকায় সে। কোথাও নেই রিম। হঠাৎ বুকে ধক করে ওঠে । তার মানে মেয়েটা এখনো ওয়াশরুমে! এতোক্ষণ ধরে ভেতরে কী করছে সে? এতো সময় তো লাগার কথা নয়।”
এক মুহূর্তের জন্য শরীরের ভেতর দিয়ে অদ্ভুত এক অস্থিরতায় ভরে যায়। সে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যায় ওয়াশরুমের দরজার সামনে। দাঁড়িয়ে দরজায় হাত রাখে। একবার গভীরভাবে চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে নেয়। নিঃশ্বাসটা ধীরে ধীরে ছেড়ে দিয়ে নরম স্বরে নক করে।
তারপর গলাটা এমন নরম আর শান্ত হয়ে ওঠে, যেন বাইরের সেই দানবীয় মানুষটা হারিয়ে গেছে। ফিসফিস করে বলে
“ফায়ারফ্লাই… সোনা, কি করছো তুমি ভেতরে?”
তার গলা আরও মোলায়েম হয়ে আসে, যেন তুলো দিয়ে মুড়িয়ে রাখা কণ্ঠ। প্রতিটা শব্দ যেন আদর করে ছুঁয়ে যায় বাতাস।
“সোনা, হয়েছে তোমার? তোমার কি কিছু লাগবে?”
কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো উত্তর আসে না। জেইনের অস্থিরতা ক্রমশ ছুঁড়ে ওঠা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কপালে চিকচিকে ঘামের ফোটা জমে আসে, যেন শরীরের ভিতর থেকে আগুন ধুয়ে বেরোচ্ছে। সে হাত দিয়ে ঘাম মুছে দেয়, কিন্তু যেন কোনো তৃষ্ণা মেটে না। মনটা অদ্ভুত অন্ধকারে ডুবে গেছে। মনে মনে আঁধারের কোণে খেলা করছে ভয়ঙ্কর চিন্তা রিম ঠিক কি করছে? কেন এতক্ষণ কোনো শব্দ নেই? কেমন ঘূর্ণি, কেমন অজানা বিপদ তার প্রিয়কে ঘিরে রেখেছে?
অসহায়, কাতর স্বরে সে ফিসফিস করে,
“সোনা… কথা বলছো না কেন তুমি? এই আমার কিন্তু ভয় করছে।”
প্রতি সেকেন্ডে তার অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। আতঙ্ক জমে তার শরীরে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এবার আর ধৈর্য রাখতে পারে না। ধরাম! জোরে লাথি মেরে খুলে ফেলে ওয়াশরুমের দরজা। ভেতরে যা দেখে, প্রথমে স্বস্তি মেলে, তারপরই বুকের ভেতর হাহাকার ছুটে যায়।
রিম এক কোণে বেসিনের সামনে গুটি শুটি মেরে বসে আছে। সে রিমের সামনে গিয়ে হাঁটু মুড়ে ঝুঁকে বসে পড়ে। হাতের তালু দিয়ে গালে আলতো স্পর্শ করে, আঙুল গুলো কাঁপছিল। ভেজা নিঃশ্বাসে সে ভাঙা গলায় ফিসফিস করে বলে,
“কি হয়েছে সোনা? আমি তোমাকে ডাকছিলাম শুনতে পাওনি? তুমি জানো আমি কত ভয় পেয়েছিলাম?”
রিম চুপ। মুখে কোনো শব্দ নেই। তার বুকের ওঠানামা তীব্র, ঠোঁট শক্ত করে একসাথে চেপে রেখেছে। জেইন কপাল ঠেকিয়ে দেয় রিমের কপালে। তার শরীরের ভেতর তীব্র অস্থিরতা, তবুও বাইরের স্বরটা নরম,
“তুমি আমার নিঃশ্বাস। তোমাকে হারাবার ভয় আমাকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়।”
তার কণ্ঠস্বর কাঁপছে ভাঙা শিশুর মতো
“তুমি… তুমি যদি আমার সাথে কথা না বলো, আমি মরে যাবো বার্বিডল। আমি হিংস্র, দানব, অমানুষ, আমি জানি, কিন্তু তোমার সামনে আমি অসহায়। তোমার নীরবতা আমার জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর শাস্তি।”
সে ধীরে ধীরে রিমের হাত নিজের বুকের ওপর রাখে। চওড়া বুকে ঢেউ খেলে যাচ্ছে উত্তেজনায়।
“দেখো… কেমন জ্বলে আমার ভেতরটা। এটা শুধু তুমি নেভাতে পারো। শুধু তুমি।”
রিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়। একটুও নড়াচড়া করে না। কিন্তু বুকের ভেতর যেন হৃদস্পন্দন ফেটে যেতে চাইছে। তার কাঁপা আঙুল জেইনের বুকের ওপর শক্ত হয়ে ধরা।জেইন ঠোঁটে এক শয়তানি মিশ্রিত মুচকি হাসি ফোটায়।
আসলে তখনকার ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য রিম লজ্জা, অস্বস্তি আর ভয়ের কারণে ওয়াশ রুম থেকে বের হতে পারছিল না। নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল।
জেইন তার পুরো শরীরটা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। লাল চুড়িদারটা উল্টো পড়ে থাকা দেখতে পেয়ে হালকা মুচকি হাসি ফোটায় তার ঠোঁটে। তার নজর আটকে যায় রিমের কাঁপতে থাকা ঠোঁটে। হালকা পানির ছিটা লেগে আছে, তাতে যেন ঠোঁটের কালো তিল টা আরো চকচক করছে। যা তার কাছে ভয়ংকর আকর্ষণ। সে এক ধ্যানে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। জিভ বের করে ঠোঁট ভিজায়, ঢোক গিলে ফেলে, যেন সেই ছোট্ট নিঃশ্বাস, সেই নরম সৌন্দর্যটা নিজের ভেতরে গ্রাস করতে চায়।
হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই জেইন আচমকা রিমকে কোলে তুলে নেয়। রিম এক মুহূর্তের জন্য ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। আঁতকে উঠে দুহাতে জেইনের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। লাজে মুখ গুজে দেয় জেইনের শক্তপোক্ত চওড়া বুকে। তার অবস্থা বুঝতে পেরে জেইন ঠোঁট কামড়ে হাসে।
তারপর জেইন কোনো শব্দ না করেই ধীরে ধীরে রিমকে কোলে করে রুমের ভিতরে নিয়ে আসে। রিমের শ্বাস দ্রুত, হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে। আর জেইনের চোখে সেই গভীর কামুকতা আরও স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। তার কামুক দৃষ্টি, নরম আদর সবকিছু মিলিয়ে রিমের লজ্জা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। যা তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি করে।
একটা অন্ধকার কক্ষ। দেয়াল জুড়ে সাদা-কালো পোস্টার, আর কয়েকটি পুরুষের মুখ লাল টেপ দিয়ে আটকানো, যেন তাদের দৃষ্টি বারবার চোখে ঢোকে।
মাঝে বসে আছে এক যুবক, কালো লেদারের চেয়ারে। আঙুলের ফাঁকে ধরে আছে একটি Treasurer Luxury Black সিগারেট। সে মাঝে মাঝে ধোঁয়া মুখে নিয়ে নাড়াচাড়া করে, শূন্যে ভেসে যাচ্ছে তীব্র গন্ধ আর কালো ছায়া।
যুবকটির সামনে বিশাল টেবিল। টেবিলের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধুলো জড়ানো পুরোনো ফাইল। যেন কেউ এই কক্ষে বহুদিন থেকে প্রবেশ করেনি, অথবা প্রবেশ করেছে, কিন্তু এর গোপনীয়তায় ডুবে গেছে।
হঠাৎ, কক্ষের দরজায় ঠক ঠক কড়া নাড়ার শব্দ। শব্দটা এত গভীর যে মুহূর্তের জন্য ঘন অন্ধকারের মধ্যে সবকিছু থমকে যায়। যুবক ঘাড় না ঘুড়িয়েই, রুক্ষ কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,
“বেনজি, তোমাকে কতবার বলেছি, এখানে আসার জন্য কোনো অনুমতি লাগবে না!”
তার কণ্ঠা এতই ঠান্ডা, যেন প্রতিটি শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষের বাতাস জমে যায়।
জীবনবোধহীন চেয়ারের হাতলে হাত রেখে, যুবক এক ঘূর্ণিতে ঘুরে দাঁড়ায়। এক ঝলক আলো ফুটে উঠে, এবং দেখা যায় তার মুখাবয়ব। চোখের গভীরে অন্ধকার, ঠোঁটের কোণে রহস্যময়ী হাসি, যা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ে হাড়ে ভয় ঢেলে।
টেবিলের উপর রাখা নেমপ্লেটে ঝলঝল করে একটি নাম—“কায়সার লোভেদ”। নামটি যেন শুধু পরিচয় নয়, বরং শীতল হুমকি।
বেনজি ধীরে ধীরে কার্লোর দিকে এগোয়, হাতে ছোট্ট একটি হার্ডড্রাইভ। কক্ষের অন্ধকার হালকা ল্যাম্পের আলোয় ভেজা, দেওয়ালগুলো ছায়াময়। সে হার্ডড্রাইভটি কার্লোর সামনে উঁচু করে ধরে।
কার্লো এক ঝলক রহস্যময়ী হাসি নিয়ে ধীরে ধীরে হাত বাড়ায়, হার্ডড্রাইভটি হাতে তুলে নেয়।
“তাহলে, আমাদের সেই রিস্কটা নেওয়া সত্যিই ফলপ্রসূ হলো, হ্যাঁ?”
সে হার্ডড্রাইভটি ল্যাপটপে ঢুকিয়ে দেয়, চেয়ারে ঝুঁকে বসে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি। মুহূর্তের জন্য যেন সব শ্বাস থেমে যায় অপেক্ষার উত্তেজনা। ল্যাপটপের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে।
কিন্তু হঠাৎ হাসি ভেঙে যায়। স্ক্রিনে দেখা যায় না তার কাঙ্ক্ষিত ভিডিও। বরং, ঘন অন্ধকারে ঢাকা একটি মুখ সুন্দর, কিন্তু ভয়ঙ্কর হিংস্র বাঁকা হাসি মুখে। চোখে এমন এক দাহক আগুন, যা মুহূর্তেই কার্লোর সমস্ত আত্মবিশ্বাস কেটে দেয়।
“Stupid… তুমি কি সত্যিই ভেবেছিলে, আমার kingdom-এ এসে আমার জিনিসে হাত দিতে পারবে, আমার permission ছাড়া?”
জন্মগত অহংকারে যুবকটি হেসে ওঠে। তার হাসি তাচ্ছিল্যপূর্ণ, আয়নাতে প্রতিফলিত অন্ধকারের মতো।
“আমি এতটা বোকা ভাবিনি। But bad luck, buddy. এবার তোমার সব trick fail। Next time চেষ্টা করতে পারো… but I doubt, সফল হবে কিনা!”
কার্লোর রাগ মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়। ল্যাপটপটি সে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে, লোহার হাড়ভাঙা শব্দে ধ্বংস হয়। নিঃশ্বাস ফুঁস ফুঁস করছে, চোখ লাল।
“ড্যাম…ড্যাম…ড্যাম!! ওর চোখ ফাঁকি দেওয়া… এটা এত সহজ নয়। হি… হি ইজ… অ্যা মনস্টার।”
কার্লোর চোখে ভেসে ওঠে সেই রাত—
যাকে বলে অন্ধকার চুক্তির রাত্রি। মাফিয়াদের ছায়া ঘিরে রেখেছিল চারপাশ। আর সেই রাতের Author ছিল একটাই নাম ‘Aratrik Zain Chaudhary’।
সেদিন কার্লো আর বেনজি সেদিন ছদ্মবেশে প্রবেশ করেছিল ভিড়ের মধ্যে। মানুষের মুখে ছিল ফিসফাস কেউ কেউ ফিসফিস করে বলছিল, “He is not human… he is a shadow in flesh.”
সেদিনই কার্লো প্রথমবার নিজের চোখে দেখেছিল জেইনকে। সেই চোখের ঠাণ্ডা হিমেল শূন্যতা, সেই হাঁটার ভঙ্গি আর মুহূর্তে নৃশংস হত্যার দৃশ্য। তার হাতে কুঠার। এক শীতল মুহূর্তে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি ছেলের উপর। ধাপ! ধাপ! ধাপ!
লোহার আঘাতে মাংস ছিঁড়ে যাচ্ছে। বাতাসে ভেসে আসে চিৎকার, রক্তের গন্ধ, আর ভয়। শেষ আঘাতে বুক ফুঁড়ে সে ছিঁড়ে আনে ভেজা, ধুকপুক করা কলিজা।
ঘরে ছড়িয়ে পড়ে স্তব্ধতা। কেউ সাহস পায়নি শব্দ করার।
কার্লো আর বেনজি তখনও নিজেদের সামলে দাঁড়িয়ে।তারা লুকিয়ে ক্যামেরা সেট করেছিল জেইন সম্পর্কে সকল Data জানার জন্য। তাদের বসানো হিডেন ক্যামেরা ছিল পিঁপড়ের থেকেও ছোট এক অতি আধুনিক ডিভাইস। চোখে ধরা পড়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।
কিন্তু সেটাও জেইন ধরে ফেলেছে। কিভাবে? How the hell? কার্লোর শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে। মাথার ভেতর প্রশ্নের পর প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। আরও ভয়ঙ্কর হলো একটু আগের ভিডিওটিতে জেইনকে দেখা যাচ্ছিল না। বরং অন্য কেউ। অচেনা এক ছায়ামূর্তি।
কার্লো কপাল চেপে ধরে ফিসফিস করে,
“ইট কান্ট বি… তাহলে সেদিন আমি যাকে দেখেছিলাম… সে কি সত্যিই জেইন ছিল? নাকি…”
একটা ভয়ানক সম্ভাবনা বুকের ভেতরে কাঁপতে থাকে,
জেইন কি একজন নয়? সে কি ছায়ার আড়ালে নিজের মতো আরেক দানব তৈরি করেছে? নাকি জেইনের মুখে লুকিয়ে আছে অন্য কারও ছায়া?
ক্যালাব্রিয়া, পেন্টহাউজ
জেইন রিমকে বুকের সাথে জড়িয়ে খুব ধীরে, যেন ভাঙা কাঁচ বহন করছে, তেমন সাবধানে বিছানায় বসিয়ে দেয়। রিম বসতেই হঠাৎ করেই কুঁকড়ে যায়, দুই হাত পেটে চেপে ধরে ব্যথায় গোঙাতে থাকে। জেইনের বুকটা যেন এক ঝটকায় কেউ ছিঁড়ে ফেললো। তার চোখের সামনে রিমের এমন কাতর যন্ত্রণা সে সহ্যই করতে পারছে না।
অস্থিরতায় কণ্ঠ কেঁপে ওঠে তার, সে ঝুঁকে কাতর স্বরে বলে,
“কি হয়েছে সোনা? ব্যথা করছে খুব?”
রিম কিছু বলতেই পারে না। তার ঠোঁট কেঁপে ওঠে, মুখ বেঁকে যায় তীব্র যন্ত্রণায়। সচরাচর তার এভাবে পিরিয়ডের সময় ব্যথা হয় না কিন্তু এইবার যেন সহ্যের বাইরে।
জেইনের মাথা কাজ করছে না। বুকের ভেতর আগুন জ্বলছে সে বুঝে উঠতে পারছে না, ঠিক কীভাবে রিমকে সাহায্য করবে। তার আঙুলগুলো কাঁপতে থাকে, যেন অসহায়। হঠাৎই সে রিমের দিকে আরও কাছে ঝুঁকে পড়ে। রিম কিছু বোঝার আগেই জেইন সাবধানে তার জামাটা একপাশে সরিয়ে দেয়, আর পরম মমতায় নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় তার উন্মুক্ত নাভিতে।
ঠান্ডা ভেজা চুমুর পরশে শিরশির করে কেঁপে ওঠে রিমের শরীর। যন্ত্রণার ভাঁজের মাঝেও তার চোখ হঠাৎ ভয় আর অচেনা অনুভূতিতে বিস্তৃত হয়ে যায়। কাঁপা গলায় আতঙ্ক মেশা স্বরে ফিসফিসিয়ে ওঠে সে,
“কি… কি করছেন এসব?”
জেইন ধীরে মুখটা একটু তুলে তাকায় তার চোখের গভীরে। তার দৃষ্টি তখন রক্তাভ, ব্যথায় রিমকে দেখে পাগলপ্রায়। গাড়, নিচু কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,
“তোমার তো ব্যাথা হচ্ছে তাই না? তাই তোমার ব্যথায় চুমু খাচ্ছি। দেখবে তোমার আর ব্যাথা হবে না।”
বলেই আবার গভীরভাবে মুখ ডুবিয়ে দেয় তার কোমল নাভিতে। একের পর এক চুমুতে রিমের চামড়া ভিজে ওঠে। নরম ঠোঁটের প্রতিটি স্পর্শে যেন শিরদাঁড়া বেয়ে বিদ্যুৎ বয়ে যায়। রিম বিছানার চাদর মুঠো করে ধরে, আঙুলগুলো সাদা হয়ে যায় চাপের টানে। তার পা হালকা কুঁকড়ে আসে, বুক ওঠানামা করে দ্রুততর ছন্দে।
শরীর ব্যথায় ভেঙে আসছে, তবুও সেই যন্ত্রণার ভেতর কোথাও এক অচেনা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে। চোখ আধখোলা রেখে, ঠোঁট কাঁপিয়ে কষ্টে আর অস্বস্তির মিশ্রণে ফিসফিসিয়ে বলে,
“এভাবে… এভাবে কি ব্যথা কমে?”
জেইন আবারো মুখ উঁচু করে রিমের দিকে তাকায়। চোখদুটো লাল, শ্বাস ভারী, তবুও স্বরটা ভাঙা কাতরতায় ভরা,
“তাহলে আমাকে বলো, কিভাবে তোমার ব্যথা কমবে? আমি তাই করবো।”
রিম শ্বাস টেনে ফিসফিসিয়ে মাথা নাড়ে। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলে,
“আপনাকে… কিছু করতে হবে না। আমার… আমার ব্যথা নেই এখন।”
জেইনের বুক হঠাৎ করে ধড়ফড় করে উঠে। রিমের কথা তার বিশ্বাস হয় না। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। বুক তীব্রভাবে উঠানামা করছে, চোখে এক অদ্ভুত জ্বলন্ত শূন্যতা।
“না… তুমি মিথ্যে বলছো। আমি জানি তোমার ব্যথা হচ্ছে। নইলে আমার বুক কেন জ্বলছে বলো? কেন আমার শরীরের প্রতিটা শিরা কাঁপছে?”
সে হঠাৎ একপাশে পা চালিয়ে হাঁটতে লাগে। যেন অস্থির, নিজের সাথেই যুদ্ধ করছে। আচমকা হাতের তর্জনী দিয়ে নিজের নাকের নিচটা ঘষে নেয়।অভ্যাসগত ভঙ্গি, যখন মাথায় কিছুতেই সমাধান আসে না। কণ্ঠে অস্থিরতা মিশে গেছে
“দাঁড়াও… দাঁড়াও আমি কিছু একটা করছি।”
কিন্তু করবেই বা কি? কাকে জিজ্ঞেস করবে? মাত্তেও? মাথায় নামটা আসতেই নিজের উপরই প্রচণ্ড রাগ হলো তার। চুলোয় যাক! মাত্তেওকে কিভাবে বলবে এসব? সে এসবের জানেই বা কি!
সেই মুহূর্তে মাথায় এক ঝলক আইডিয়া এলো। জেইন তাড়াহুড়ো করে টেবিলে রাখা ট্যাবটা হাতে তুলে নিল। আঙুল কাঁপতে কাঁপতে গুগলে সার্চ দিতে লাগলো, “How to reduce period pain fast”।
তার চোখ ট্যাবের দিকে স্থির , মনোযোগ দিয়ে প্রতিটা লাইন পড়ছে। কিছুক্ষণ পর সে গভীর শ্বাস ছাড়ে, মুখে এক ধরনের একাগ্রতা নেমে আসে।
সে ট্যাবটা নামিয়ে রাখে। রিমের দিকে তাকিয়ে নরম কন্ঠে বলে,
“তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি এক্ষুনি আসছি।”
এবার দ্রুতগতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে যায়। গ্যাস অন করে, কেতলিতে পানি বসায়। মিনিট কয়েক পর গরম পানি নিয়ে সাবধানে একটা হট ওয়াটার ব্যাগ ভরে। সেইসাথে কিচেনের ফ্রিজ থেকে বের করে আনে পাইনঅ্যাপেল, দ্রুত ছুরি চালিয়ে টুকরো করে। জুসার মেশিনে ঢুকিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লাস ভরে ঠান্ডা সোনালি রঙের পাইনঅ্যাপেল জুস তৈরি হয়ে যায়।
সবকিছু হাতে নিয়ে সে আবার রিমের কাছে ফিরে আসে।বিছানার পাশে বসে হালকা গলায় বলল,
“সোনা…. দেখো, আমি কি নিয়ে এসেছি। এটা তোমার ব্যাথা কমাতে সাহায্য করবে। তুমি শুধু একটু ভরসা করো আমায়।”
জেইন হট ওয়াটার ব্যাগটা দু’হাতে ধরে রিমের পাশে বসে। তার ভেতরটা অস্থিরতায় ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যে এক ধরনের কোমল যত্ন ঢেলে আছে। সে খুব আস্তে, যেন কাঁচ ভেঙে যাবে এমন সাবধানতায়, ব্যাগটা রিমের পেটের উপর রাখে। আগে নিজের হাত দিয়ে ব্যাগটা ছুঁয়ে উষ্ণতা পরীক্ষা করে।
“একদম ঠিক আছে, সোনা। গরম না, শুধু হালকা উষ্ণ ব্যথা একটু হলেও কমবে।”
রিম শ্বাস টেনে চুপচাপ শুয়ে থাকে। চোখ বন্ধ করে সামান্য কুঁকড়ে গেলেও উষ্ণতার ছোঁয়ায় তার শরীর কিছুটা ঢিলে হয়।
এরপর জেইন হাতে নিয়ে নেয় গ্লাসভর্তি পাইনঅ্যাপেল জুস। রিমের সামনে ধরতেই রিম ভ্রু কুঁচকে চোখ মেলে। নাক সিটকিয়ে বলে,
“না, আমি এটা খাবো না। আমার পাইনঅ্যাপেল একেবারেই পছন্দ না।”
তার মুখটা এমনভাবে কুঁচকে গেল, যেন কেউ তাকে কষ্ট করে তিক্ত কিছু খেতে বলছে। জেইনের বুঝতে পারছে রিম সত্যিই এটা খেতে চাইছে না। কিন্তু এবার সে হাল ছাড়বে না। গ্লাসটা রিমের মুখের সামনে ধরে ধীরস্বরে বোঝাতে লাগে
“শোনো, আমি জানি তুমি এটা পছন্দ করো না। কিন্তু বিশ্বাস করো, এই জুস তোমার ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পাইনঅ্যাপেলের মধ্যে এমন উপাদান আছে যেটা এই সময় শরীরের ব্যথা কমিয়ে দেয়, শরীরকে হালকা করে। শুধু ব্যথাই না, এতে তোমার শরীরের অনেক উপকার হবে।”
রিম মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকায়। ঠোঁট ফোলানো স্বরে ফিসফিস করে বলে,
“না, আমি চাই না।”
জেইন গ্লাস নামায় না। তার কণ্ঠে একধরনের জেদ,
“দেখো বার্বিডল… তুমি সবসময় আমার অবাধ্য হতে পারো। রাগ করতে পারো। কিন্তু এখন তোমাকে আমার কথা শুনতেই হবে। কারণ, তোমার কষ্ট আমি দেখতে পারি না।”
সে আস্তে করে রিমের থুতনি আঙুল দিয়ে উঁচু করে দেয়, চোখের গভীরে ডুবে গিয়ে নিঃশ্বাস আটকে ফিসফিস করে বলে
“শুধু এক চুমুক… তারপর না চাইলে আর দেবো না। প্লিজ সোনা… শুধু একটু খানি খাও।”
রিম প্রথমে ঠোঁট শক্ত করে বন্ধ করে রাখে। কিছুক্ষণ দ্বিধা করে। তারপর ধীরে ধীরে অনিচ্ছায় একটু মুখ খুলে। জেইনের চোখে এক ঝলক স্বস্তি ফুটে উঠে। সে গ্লাসটা ঠোঁটের কাছে ধরে, ধীরে ধীরে এক চুমুক খাইয়ে দেয়।
রিম জুস মুখে নিয়েই সামান্য নাক কুঁচকায়, কিন্তু চুপ করে খায়। আবার খাওয়াতে চাইলে গ্লাস সরিয়ে নেয়। মাথা নাড়ে, ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,
“আর না।”
জেইন ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে আবার বোঝায়
“না, আর না মানা হবে না। ধীরে ধীরে খাওয়ার চেষ্টা করো। পুরোটা শেষ করতে হবে।”
রিম চোখে ভর্ৎসনার আভা নিয়ে তাকায়, কিন্তু আর প্রতিবাদ করে না। ধীরে ধীরে, একেক চুমুকে জেইনই তাকে খাওয়াতে লাগে। প্রতিবারই সে গ্লাস ঠোঁটে ছুঁইয়ে দেয়, রিম ধীরে ধীরে পান করে। একসময় গ্লাসটা প্রায় শেষ হয়ে আসে।
জেইনের চোখের দৃষ্টি তখন কোমল ও পরিপূর্ণ যত্নে ভরা। রিম তার দিকে তাকাতে পারছিলো না ভেতরে কোথাও যেন এক অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছিল।
শেষ চুমুক খাওয়ানোর পর জেইন গ্লাসটা নামিয়ে রেখে খুব আস্তে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। নিঃশ্বাস মিশে ফিসফিস করে বলে,
“লক্ষীইই সোনা আমার। এখন ব্যথা কমে যাবে। তুমি শুধু চোখ বন্ধ করে একটু আমার বুকে মাথা রাখো।”
সে হাত বাড়িয়ে রিমকে নিজের বুকে টেনে নেয়, মাথাটা আস্তে করে বুকের ওপরে রেখে দেয়। তার আঙুলগুলো আলতো করে রিমের চুলে চলতে থাকে, যেন প্রতিটি স্পর্শেই বলছে তুমি আমার কাছে নিরাপদ।
রিম মুখটা কুঁচকে ফেলে। যেন ছোট্ট বাচ্চারা তেতো কিছু খেলে যেমন বিরক্তি নিয়ে মুখ বাঁকায়, ঠিক তেমন। চোখে জল চিকচিক করছে, ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে কাঁদো গলায় ফিসফিস করে বলে
“এটা খুব বাজে… আমার মুখের টেস্ট নষ্ট হয়ে গেছে। একদম ভালো লাগছে না। আমিহ্…”
শব্দগুলো যেন জেইনের ভেতর গিয়ে ছুরির মতো বিঁধে। সে এক মুহূর্তও আর স্থির থাকতে পারে না। বুক ভেতর থেকে কেঁপে ওঠে। হঠাৎই ঝুঁকে পড়ে রিমের মুখের উপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরে।
প্রথম মুহূর্তে রিম শক খেয়ে যায়। চোখ বড় বড় হয়ে ওঠে। শরীর শক্ত হয়ে যায়। ঠোঁট সরাতে চায়, হাত দুটো সামনের দিকে ঠেলতে গিয়ে আবার থেমে যায়। কারণ তার শরীরের প্রতিরোধের শক্তি গলে গিয়ে জড়ো হয় বুকের ভেতরে।
জেইনের ঠোঁট নরম অথচ দৃঢ়ভাবে তার ঠোঁটকে জড়িয়ে ধরে। ধীরে ধীরে, আস্তে আস্তে চাপ বাড়তে থাকে। নিঃশ্বাস গরম হয়ে মিশে যায়। একেবারে মিষ্টি এক স্বাদ ঢুকে পড়ে রিমের মুখে। অচেনা কিন্তু অদ্ভুত আরামদায়ক। পাইনঅ্যাপেলের তেতো স্বাদ যেন মিলিয়ে যায়।
রিম শিরশিরিয়ে ওঠে। শরীর কেঁপে ওঠে ভেতর থেকে। একেবারে অচেতন প্রতিক্রিয়ায় হাত দুটো উঠে গিয়ে জেইনের শার্টের পিঠ শক্ত করে খামচে ধরে। আঙুলে চাপ পড়ে, নখ বসে যায় কাপড়ে।
জেইন তীব্রতা বাড়ায় না হুট করে। প্রথমে শান্ত, তারপর আস্তে আস্তে তার ঠোঁটের স্পর্শে গভীরতা আনে। রিমের কাঁপতে থাকা ঠোঁট সে নিজের ভেতরে টেনে নেয়। প্রতিটি মুহূর্তে যেন আরও বেশি করে তাকে নিজের অংশ করে নেয়।
রিম ছটফট করে ওঠে। বুক ওঠানামা করতে থাকে। শ্বাস নিতে গিয়ে থেমে যায়। ঠোঁট সরাতে চায়, কিন্তু জেইনের টান তাকে আটকে রাখে। আর অদ্ভুতভাবে তার প্রতিরোধও দুর্বল হয়ে আসে। হৃদপিণ্ডে ধকধক শব্দটা এত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে নিজেকেই অচেনা লাগে তার।
চোখ বুজে আসে রিমের। নিঃশ্বাস এলোমেলো হয়। ঠোঁট থমকে দাঁড়ায়। হঠাৎই নিজের অজান্তে সামান্য এগিয়ে আসে সে জেইনের ঠোঁটের টানে, তার উষ্ণতার নেশায়।
জেইনের ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে। যেন চারপাশের সবকিছু মিলিয়ে যায়। শুধু তাদের শ্বাসের শব্দ, ঠোঁটের মিলন, আর বুকের ধুপধুপানি টিকে থাকে। সে দু’হাতে রিমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, বুকের কাছে টেনে আনে। আশ্লেষে ডুবে যায়।
তারপর চুমুর মাঝে জেইনের জিহ্বা আলতো করে ছুঁয়ে যায় রিমের ঠোঁট। বিদ্যুতের মতো ঝাঁকুনি খায় রিম। হঠাৎই শরীর কেঁপে ওঠে। অজান্তেই তার নখ ডুবে যায় জেইনের পিঠে। ব্যথার সেই ছোঁয়া জেইনের কাছে পরম সুখ হয়ে ওঠে। তার তীব্রতা আরও বাড়ে।
কখনো সে রিমের নরম ঠোঁটে মৃদু কামড় বসায়। তারপরই আবার ভালোবাসায় ভরিয়ে শুষে নেয়। রিম কুঁকড়ে ওঠে, কেঁপে যায়। কিন্তু জেইন প্রতিটি কষ্টটুকু নিজের ঠোঁট দিয়ে টেনে নিয়ে যায়, বদলে দেয় মিষ্টি প্রশান্তিতে।
রিম অস্ফুটে শব্দ করে। ঠোঁট কাঁপে, যেন কিছু বলতে চায়। কিন্তু জেইন কোনো ফাঁক রাখে না। ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট এমনভাবে দখল করে রাখে যে রিম নিঃশ্বাস নেওয়াটাও ভুলে যায়। ফুঁপিয়ে ওঠে সে, বুক ওঠানামা করে তীব্রভাবে।
অবশেষে জেইন আলগা হয়। আস্তে করে ঠোঁট ছেড়ে দেয়। হাত বাড়িয়ে দু’গাল জড়িয়ে ধরে রিমের মুখ। তার চোখের ভেতর তাকায়, নেশামাখা, গভীর, আদুরে দৃষ্টি।
নেশালো স্বরে, আদুরে কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,
“এবার ঠিক আছে? মিষ্টি লেগেছে তো?”
রিমের বুক ধুকপুক করছে জোরে। ঠোঁট কাঁপছে। মুখে লজ্জার লাল আভা ছড়িয়ে গেছে। কোনো শব্দ বেরোয় না। সে কেবল কুঁকড়ে যায়। ধীরে ধীরে মাথা নামিয়ে আনে জেইনের বুকে। যেন কলমি লতার মতো নুইয়ে পড়ে তার আশ্রয়ে।
জেইন রিমকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে রাখে। তার উষ্ণতা যেন পুরো শরীর জুড়ে ছড়িয়ে যায়। রিমের মুখটা চাপা পড়ে থাকে জেইনের বুকের ঠিক মাঝখানে। সেখান থেকে স্পষ্ট শোনা যায় জেইনের হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি।
প্রথমে হালকা, তারপর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে শব্দটা। ধুপ… ধুপ… ধুপ…
রিম চোখ বন্ধ করে মন দিয়ে শোনে। কানে বাজতে থাকে সেই একটিমাত্র ছন্দ। তার কাছে সেটা আর কোনো সাধারণ শব্দ নয় বরং যেন অদ্ভুত এক মধুর সুর। এমন সুর, যা তার ব্যথা মুছে দেয়, তাকে এক অচেনা প্রশান্তিতে ডুবিয়ে দেয়।
রিম আরেকটু মিশে গিয়ে ভালো করে কান পেতে রাখে। বুকের ভেতর ধুকপুকানির তালে তালে তার ঠোঁটে হালকা হাসি খেলে যায়। মনে হয়, এ শব্দটা সে সারাজীবন শুনে যেতে চায়।
জেইন নিচের দিকে তাকিয়ে সব দেখে। তার চোখ নরম হয়ে আসে। হাত বাড়িয়ে রিমকে আরও শক্ত করে টেনে নেয় নিজের ভেতরে। বুকের সাথে মিশিয়ে দেয় একেবারে। সে গরম নিঃশ্বাস ফেলে গাঢ় কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,
“এই শব্দটা… তোমার ভালো লাগছে?”
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩২
রিম চোখ মুদেই থাকে। লাজুক ভঙ্গিতে আস্তে আস্তে মাথা নাড়িয়ে “হ্যাঁ” বোঝায়। গাল গরম হয়ে ওঠে, শ্বাস কেঁপে ওঠে সামান্য।
জেইন মৃদু হেসে ওঠে। তার আঙুলগুলো আলতো করে রিমের চুলে বুলিয়ে চলে। তারপর মাথার উপর ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় আদরে। বুকের ভেতরকার ধুপধুপানি আরও তীব্র হয়, যেন সে ইচ্ছে করেই জোরে বাজিয়ে চলেছে, যাতে রিম প্রতিটি স্পন্দন শুনতে পায়।
