লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২৯
অহনা রহমান
সময় গড়িয়েছে অনেকটা৷ রাজ, রুহি এবং হিয়া তিনজনই পৌঁছালো ভার্সিটিতে। তবে আলাদা আলাদা ভাবে। হিয়াকে নাফি এসে নামিয়ে দিয়ে গেছে। ওদিকে রাজ ও রুহি এসেছে একসাথে। হিয়া ভার্সিটিতে ঢুকেই প্রথমে নাঈমের সাথে দেখা করলো। বহুদিন নাঈমের সাথে কথা হয়নি হিয়ার। সেই যে বিয়ের পরে একদিন পার্কে দেখা করতে বলেছিলো। তারপর আর একদিনই কথা হয়েছে ওদের। নাঈম’ই পরে মেসেজ দিয়ে কথা বলেছিলো। সেদিন নাকি গ্রামে কে যেন মারা গেছিলো, তাই পরিবারসহ সেখানেই যেতে হয়েছিলো নাঈমকে। আর মৃতের ঝামেলায় হিয়ার মেসেজও সে সেদিন দেখতে পারেনি। তারপর আর তাদের কথা হয়নি আর না তো দেখা।
নাঈম ও হিয়া গল্প করতে করতে ক্লাসে ঢুকলো। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো মারজিয়া ও নাফিজ। হিয়া ওদেরকে ইগনোর করলো। ক্লাসের মাঝামাঝি একটা বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লো দুজন। নাঈম ও যথাসম্ভব ওদেরকে ইগনোরই করলো। কেননা তাদের চারজনের বন্ধুত্ব একসাথেই। আজ মারজিয়া নাফিজ যেভাবে হিয়ার সাথে বেইমানি করলো, তার সাথে যে করবে না এর কি গ্যারান্টি আছে? এসব ভেবে নাঈম ও হিয়ার পিছুপিছু গিয়ে ওর পাশেই বসে পড়লো। মারজিয়া ও নাফিজ ওদের আরও কিছু ক্লাসমেটদের সাথে গল্প করছিলো। হিয়াদের দেখে মারজিয়া নাফিজকে কি যেন ইশারা করলো। নাফিজ বাঁকা হাসলো শুধু। হিয়া ও নাঈম নিজেদের মধ্যে কথা বলছে তখন৷ হিয়া অনেকদিন পড়ালেখা থেকে দূরে৷ অনেক কিছু থেকেই পিছনে পড়ে গেছে সে। সেসব বিষয়েই কথা বলছিলো দুজন৷ ঠিক তখনই মারজিয়া ও আরও কয়েকটি মেয়ে এলো ওদের সামনে। মারজিয়া গদগদ হয়ে গেছে হিয়াকে দেখে। ও এমন একটা ভাব করতে থাকলো যেন ওদের মাঝে সবকিছুই ঠিকঠাক। ওরা ভীষণ ক্লোজ। মারজিয়া হেঁসে হেঁসে বলতে শুরু করলো,
“কি রে হিয়া? শুনলাম রাজ ভাইয়ার বড় ভাইকে বিয়ে করেছিস? কি দেখলি ওনার মাঝে?”
হিয়া ভালোই বুঝলো, মারজিয়া কথার মাঝখানে সূক্ষ্ম একটা খোঁচা মারলো। তবে সে চুপচাপ থাকলো না৷ নাঈম উত্তর দিতে যাচ্ছিলো মারজিয়ার কথার। কিন্তু হিয়া থামিয়ে দিলো ওকে। মারজিয়ার চোখে চোখ রেখে শক্ত কন্ঠে বলল,
“সেটা তোকে বলবো না নিশ্চয়ই? আমি যাকে খুশি তাকে বিয়ে করেছি। কেন করেছি তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে?”
“আরে তুই রেগে যাচ্ছিস কেন? আমি তোর ফ্রেন্ড হিসেবে জিজ্ঞেস করলাম শুধু। আচ্ছা শুনলাম তোর আর রাজের সম্পর্কের কথা নাকি তিনি জানেন। জেনেশুনে তো আর কেউ ছোট ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করবে না। কি দেখালি তাকে, যে এমন পাগল হলো তোর জন্য?”
মারজিয়ার কথা শুনে ক্লাসের সকলে হেঁসে উঠলো উচ্চশব্দে। হিয়া কিছু বলতে গিয়েও পারলো না। কিন্তু গর্জে উঠলো নাঈম। ও দাঁড়িয়ে পড়লো। রাগের খেই হারিয়ে বলল,
“মুখ সামলে কথা বল মারজি৷ তুই ভুলে যাস না কার সাথে কথা বলছিস। অন্যের বিষয়ে এতো ইন্টারেস্ট কেন তোর? কি সমস্যা হ্যাঁ? কিছু বলে না বলে মাথা কিনে নিয়েছিস?”
মারজিয়া ওর সাথের মেয়েদের দিকে তাকিয়ে চোখ ইশারা করলো। নাফিজ ততক্ষণে রুম থেকে বের হয়ে গেছে। মারজিয়া বলল,
“আরে অন্যের বিষয় কেন হবে, হিয়া তো আমার ফ্রেন্ড। একদম জানে জিগার দোস্ত। দোস্তরা কখনো পর হয় বল তো?”
হিয়া বলে উঠলো,
“আমি তোকে ফ্রেন্ড ভাবি না মারজি৷ তুই আমার কিছুই হোস না। কিছুই না। আমরা জাস্ট অপরিচিত। আর আমার বিষয়ে অপরিচিত কেউ নাক গলাক, তা আমি একটুও ভালো চোখে দেখবো না।”
হিয়ার কথা শেষ হওয়া মাত্রই দরজার কাছ থেকে রুহির গলা শোনা গেল।
“ও নাহয় পর। কিন্তু আমি তো পর নই হিয়া তাইনা? কেন গেলি আমার শশুরবাড়িতে? আমি তো জানতাম না রাজ তোর বয়ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু তুই জেনে-বুঝে কেন এমন করলি? তুই জানিস এজন্য আমার সংসারে কেমন অশান্তি হচ্ছে?”
রুহিকে এখানে কেউই আশা করেনি। না হিয়া আর না তো নাঈম। হিয়া অবাক হয়ে গেল রুহির এসব কথাতে৷ ও জানতো না? হিয়া ভালোভাবেই বুঝতে পারলো রুহি এখানে ওকে হেনেস্তা করতে এসেছে৷ নাহলে বাড়ি বসে তো একবারও এসব কথা তোলে না৷ এখানে জনসম্মুখে কেন এসব বলছে? হিয়ার থতমত খাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে রুহি প্রশান্তির শ্বাস ফেললো। ন্যাকা কান্নার অভিনয় করে বলল,
“জানিস হিয়া, বাড়িতে কতবার ভেবেছি এসব বিষয়ে কথা বলবো তোর সাথে। কিন্তু তা তে আর হয়ই না। তুই তো বাড়ির বড় বউ। আমার সংসার টা তো নিয়েই নিলি। বাড়িতে কথা বলতে কেমন অস্বস্তি হয়। তাই তো বাধ্য হয়ে এখানে বলছি৷ প্লিজ আবার কিছু মনে করিস না।” এরপর রুহি অন্যদের উদ্দেশ্যে বলল,
“এসব নিয়ে হিয়াকে কেউ কথা শোনাবে না। আমাদের দুই বোনের বিষয় এটা। আমার কষ্ট হচ্ছে বলেই বললাম শুধু। নাহলে, তোমাদের সামনে কখনো বলতাম না। বোঝো তো তোমরা, এক্স গার্লফ্রেন্ডকে ভাইয়ের বউ হিসেবে দেখলে_একটা ছেলের কেমন লাগতে পারে৷”
হিয়া বাকরুদ্ধ! রুহি ও ওদের ভার্সিটির সিনিয়র আপু। তাই ওর কথা সহজেই সকলে বিশ্বাস করে নিলো। হিয়ার দিকে সবাই কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকাতে থাকলো৷ হিয়া দেখলো সবকিছু৷ নিজেকে সে সময়ে ভীষণ অসহায় লাগলো।
“আপু এসব কথা আপনি হিয়াকে আলাদা করে বলতেন। এখানে কেন বলছেন?”
তখনই স্নেহা নামের একজন বলে উঠলো,
“কেন রে নাঈম? তোর এতো জ্বলছে কেন? যখনই দেখছি হিয়াকে কেউ কিছু বলছে, তখনই তুই জ্বলে উঠছিস। হিয়া কি ডাবল টাইমিং করছে নাকি?”
কথাটা কানে পৌঁছানো মাত্রই হিয়ার সমস্ত শরীরের শক্তি সব লোপ পেল। নাঈম হাত মুঠো করে ফেললো রাগে। তেড়ে গেল মেয়েটাকে মারতে। কিন্তু মেয়ে মানুষ বিধায় সে গায়ে হাত তুললো না। বেঞ্চে সজোরে পাঞ্চ মারলো। হিয়ার হাত ধরে বলল,
“ও আমার বোন হয় বোন৷ আর বোনকে প্রটেক্ট করা ভাইদের দায়িত্ব। বিশেষ করে তোদের মতো জা নো য়ার দের হাত থেকে!”
স্নেহা মেয়েটি থতমত খেয়ে গেল। ও কি বলেছে ভেবে বলেনি। কথাটা হুট করে মাথায় এসেছে তাই বলে ফেলেছে। তাছাড়া ভার্সিটিতে থাকতে গেলে সিনিয়রদের অনেক কাজে লাগে। সিনিয়রদের মন রাখতে গেলে তো একটু আধটু এসব করায় যায়। স্নেহা মারজিয়াকে খোঁচা মারলো তার পক্ষে কিছু বলার জন্য। তবে মারজিয়া তা বললো না। নাঈমের রাগী মুখাবয়বের দিকে তাকালেই তো তার কাজ হয়ে যাচ্ছে। ওদের চুপ থাকতে দেখে নাঈম ফের আওরালো,
“কি চুপ আছিস কেন বল কিছু! তোরা মানুষ রূপি একেকটা জা নো য়া র। মেয়েরা হয় মায়াবী অথচ তোরা একেকটা কালনাগীনি। হিয়া তো তোদেরই ফ্রেন্ড। ওর সম্মন্ধে এমন একটা কথা বলার আগে একবারও তোরা ভাবলি না?”
হিয়া তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। রুহি এসব গুলো বেশ ভালোই উপভোগ করছিলো। কিন্তু নিজেকে তো ভালো দেখাতেই হবে। তাই রুহি সামনে এলো। হিয়ার নত দৃষ্টির দিকে তাকালো সে৷ সে যা চেয়েছিলো সেটাই হয়েছে। তিন ভাগের একভাগ হয়েছে। সে পেরেছে হিয়াকে সবার সামনে ছোট করতে। রুহি বলে উঠলো,
“স্যরি গো! আমি বুঝতেই পারিনি আমার জন্য তোমাদের ফ্রেন্ডদের মাঝে ঝামেলা হবে। যদি বুঝতাম তাহলে কখনোই এখানে এসব বলতাম না।” একটু থেমে সে ফের বলল,
“কি করবো বলো? আমার সংসারে তো খুব অশান্তি। ব্যাপারটা আমার বাড়ির। বলতে চাইছিলাম না এখানে। কিন্তু না বলে পারলাম না। তাছাড়া হিয়া ও রাজের সম্পর্কের কথা তোমরা জানতে, তাই বললাম।”
মারজিয়া এবারে সাহস করে বলে উঠলো,
“রুহি আপু তো ঠিকই বলেছে৷ আমরা সবাই জানি হিয়া ও রাজ ভাইয়ের রিলেশনের কথা। তারপর ফ্যামিলির চাপে পড়ে ভাইয়ার বিয়ে করতে হলো। এবং কিছুদিনের মধ্যে আবার হিয়া নাফি ভাইকে বিয়ে করে নিলো। ব্যাপারটা রহস্যজনক না?”
নাফিজ এলো সামনে,
“আমার তো মনেহয় রাজের সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন হিয়া নাফি ভাইয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তারপর নাফি ভাই রাজ ভাইকে বাধ্য করেছে বিয়ে করতে।” আফসোসের স্বরে নাফিজ আবারও বলল,
“আমাদের হিয়া এমন তা তো আমরাও ভাবতে পারিনি৷ ফ্রেন্ড যদি এমন বারোভা** হয় তাহলে তো আমাদের বলতেই হয় তাই না?”
নাঈম আর চুপ থাকলো না। এতক্ষণের রাগটা উগরে দিলো নাফিজের উপর। সর্বশক্তিকে ঘুষি মেরে দিলো নাফিজের নাকের উপর। মুহুর্তের মধ্যেই ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হলো সেখান থেকে। নাঈম আরও তিন-চারটা মেরে তবেই থামলো। হঠাৎ এহেন কাজে হতবিহ্বল সবাই। নাফিজ তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। মারজিয়া সহ সকলে ঘিরে ধরলো নাফিজকে৷ ওকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লো সকলে। এমতাবস্থায় রুহি হিয়ার জামা টেনে ধরলো বুকের কাছে।
“দেখেছিস তোর জন্য আজ একজন রক্তাক্ত হলো। ছোটবেলায় বাপকে খেয়েছিস। আমার সমস্ত প্রাপ্য কেড়ে নিয়েছিস। আমার প্রাপ্য ভালোবাসায় ভাগ বসিয়েছিস। হিয়া তুই আর কি কেড়ে নিতে চাস? আর কি নিলে তুই ক্ষ্যান্ত হবি?”
হিয়া সব মেনে নিয়েছিলো। কিন্তু নিজের বাবার কথা শুনে হিয়া আর স্থির থাকতে পারলো না। ঠাটিয়ে এক চড় মারলো রুহির মুখের উপর। খেঁকিয়ে বলে উঠলো,
“মুখ সামলে কত বলো তুমি। যা যা বলেছো সব শুনেছি কিন্তু। খবরদার আমার বাবাকে নিয়ে কথা বলবে না। আর কি বললে তোমরা? রাজকে ফ্যামিলি জোর করে বিয়ে দিয়েছে। শুনে রাখো, রাজ আমাকে ঠকিয়ে একে বিয়ে করেছে। আর নাফি? ওর আমার বিয়ে হয়েছে ফ্যামিলির সিদ্ধান্তে। তাছাড়া এই রাজকে সাহায্য করেছে, এই নাফিজ আর মারজি! তোরা আমাকে দোষারোপ করিস? আয়নায় নিজেদেরকে দেখিস না? কিভাবে দেখিস? অনুশোচনা হয় না? এভাবে মিথ্যার উপর মিথ্যা বলতে বলতে পাহাড় বানিয়েছিস। ভয় হয়না?”
সবাই ততক্ষণে তটস্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মারজিয়া ও রুহি রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো। হিয়া তখন বেরিয়েছে বেঞ্চ থেকে। হিয়া প্রথমে মারজিয়ার মুখোমুখি দাঁড়ালো। ওকে কিছু বুঝতে না দিয়েই, মারলো ঠাস করে আরেকটা থাপ্পড়। বলে উঠলো,
“তোর এই মুখ যেন আর না দেখি মুখপুড়ি! আমার জীবনে বিশ্বাসঘাতকদের কোনো জায়গা নেই।”
নাফিজের মুখে মেরে দিলো এক খাবলা থুতু!
“তোরা এসবেরই যোগ্য। তোরা আমার ফ্রেন্ড কখনো ছিলি না। আর থাকবিও না।”
হিয়া নাঈমের দিকে ফিরে বলল,
“যাবি তুই?”
নাঈম চলে গেল হিয়ার পিছনে। ওরা দুজন বের হয়ে গেল ক্লাসরুম থেকে। দুজন কেউ কারো সাথে কথা বলল না আর। নাঈমের একটা ইম্পর্ট্যান্ট কল এলো তখুনি। ও হিয়াকে বিদায় জানালো। নাঈমে ভার্সিটির অন্য গেইট দিয়ে বেড়িয়ে গেল। এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ কল যে হিয়াকে এগিয়ে দেওয়ার সময়টুকু পেল না।
হিয়া তখন মাঠ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তখনই সে দেখতে পেল রাজের দলবলকে। যদিও ওরা একটু দূরেই দাঁড়ানো। তবে হিয়ার সামনে এলো জিহাদ। হিয়ার পথ আটকালো সে।
“বড় ভাবি আপনাকে ডাকছে রাজ।”
হিয়া স্পষ্ট বুঝলো জিহাদের কথায় ছিলো তাচ্ছিল্য ও খোঁচা। এমনিতেই হিয়ার মাথা ছিলো গরম। তাই জিহাদকে ও মারলো এক চড়।
“তোর কোন জন্মের ভাবি লাগি আমি? আর রাজ কে? কেন যাবো আমি রাজের কাছে? ফিরে যদি আমার পথ আটকানোর চেষ্টা করিস না, আমি ডিরেক্ট মামলা করবো তোদের নামে।”
হিয়ার এমন রনচন্ডী আচরণে রাজরা বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। জিহাদ নিজেই কিংকর্তব্যবিমূঢ়! হিয়া আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না ওখানে। হেঁটে বেড়িয়ে গেল ভার্সিটি ছেড়ে।
তখন রাত আটটা। নাফি সবে বাড়ি এসেছে। ড্রয়িংরুমে এসেই দেখতে পেল, নাসিমা মুখ ভার করে বসে আছে৷ এতে বিচলিত হলো সে। নাফি গিয়ে বসলো মায়ের পাশে। আদুরে স্বরে বলে উঠলো,
“আম্মু মন খারাপ তোমার?”
নাফিকে দেখে যেন নাসিমা স্বস্তি পেলেন। তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন,
“হিয়া মামনির কি হলো জানি! আমি কলেজ থেকে ফিরেই দেখছি রুমে আছে। দেখলাম মন খারাপ। রাবেয়া বলল, দুপুরে খায়নি। মেয়েটার কি হলো কে জানে!”
নাসিমার কথা শুনে নাফি অবাক হলো। তার কপালে ভাজ পড়লো চারটা। হিয়ার মন খারাপ? তবে নাফি পটু ভাবে মাকে আস্বস্ত করলো। বলল,
“তুমি চিন্তা করো না আম্মু। আমি দেখছি কি হয়েছে। যাও তুমি রুমে যাও। রেস্ট করো।”
নাফি নাসিমাকে রুমে পাঠিয়ে দিলো। এবং সে নিজেই চিন্তিত হয়ে উপরে গেল। নিজের রুমের কাছে গিয় দরজায় নক করলো দুইবার। তিনবারের বার নক করতেই দরজা খুলে দিলো হিয়া। এবং দরজা খুলে সে অন্য দিনের মতো লাজুক হাসলো না। মুখ গোমড়া করেই ভেতরে গেল। নাফির কাছ থেকে অফিসের ব্যাগটা নিলো। হিয়া নাফির ব্যাগটা নিয়েই চলে যেতে চাইলো। কিন্তু বাঁধ সাধলো নাফি। ওর হাত টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। হিয়ার কপালে/চোখ জুড়ে থাকা বেবি হেয়ার গুলো কানের পাশে গুঁজে দিলো। কপালে চুমু খেলো সে। স্বভাবতই সে আদুরে স্বরে প্রিয় ডাক নামে বলে উঠলো,
“ময়নার কি মন খারাপ? কি হয়েছে আমার রোদ্দুরীর? আজ মন আকাশে রোদের বদলে মেঘ কেন জমলো?”
হিয়া মন খারাপের মাঝেও মুচকি হাসলো।
“কিছু না।”
“উহুম! কিছু তো হয়েছেই। বলো আমায় কি হয়েছে।”
লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২৮
তখনের কথা মনে করে হিয়ার মাথায় আবারও রাগ উঠলো। নাফির কোমল ভালোবাসা হিয়ার মনের আগুন নেভাতে পারলো না৷ সে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,
“আপনি জানতেন আমি আপনার ছোট ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড? কেন বিয়ে করেছিলেন আমাকে?”
নাফির চোয়াল শক্ত হলো হিয়ার কথা শুনে। তাহলে এই কারণ, হিয়ার মন খারাপের!
