প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৬
রাত্রি মনি
রাত তখন গভীর। ঘড়ির কাঁটা একটা কি দেড়টার ঘরে এসে থেমে আছে। অন্ধকার ঘরের এক কোণে মৃদু ডিম লাইটের হালকা গোলাপি আলো ফোটাচ্ছে আধো উষ্ণতা।
মখমলের নরম বিছানায় রিমের কোমল বুকে মুখ গুঁজে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে জেইন। তার ঠোঁট রিমের বুকের উষ্ণতায় ডুবে আছে, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর, ভারী, অথচ অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরা। মনে হচ্ছে এই বুকটাই যেন তার চিরকালের ঠিকানা।
তার ভারী দেহের ওজন রিমের বুক চেপে ধরেছে, যেন পুরো শরীরের সমস্ত ক্লান্তি নামিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত আশ্রয় নিয়েছে সেখানে। রিমের চুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে তার চারপাশে। গাঢ় ঘুমে ডুবে থাকা জেইনের ঠোঁটে মাঝে মাঝে একরকম তৃপ্তির নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস খেলা করছে যেন সে পৃথিবীর সব সুখ খুঁজে পেয়েছে এই কোমল বুকে।
হঠাৎ রিমের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে উঠে বিরক্ত ভঙ্গিতে ভ্রু কুঁচকালো। শ্বাস নিতে যেন কষ্ট হচ্ছে। চাপা স্বরে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“গন্ডার একটা! নিজের এই বস্তা শরীরটা যখন তখন আমার মতো মাসুম বাচ্চার ওপরে ফেলে দেয়! একটু নড়তেও দেয় না , শ্বাসটুকুও নিতে পারি না।”
শেষে প্রায় কাঁদো কাঁদো সুরে কথা খানা বলে ফেলে রিম। জেইন গভীর ঘুমে রিম যা ডোজ দিয়েছে, এখন ভূমিকম্প হলেও তার ঘুম ভাঙার প্রশ্নই আসে না। রিম খুব সতর্কভাবে নিঃশব্দে তাকে নিজের থেকে সরানোর চেষ্টা করল। কিন্তু জেইনের ভারী শরীর সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। বহু কসরতের পর অবশেষে জেইনের দেহটা পাশে গড়িয়ে দিতে সক্ষম হলো। ক্লান্ত হয়ে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল রিম যেন বিশাল কোনো যুদ্ধ জিতে এসেছে।
ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো সে। পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াল। বুক ধকধক করছে। সাবধানে পাসওয়ার্ড চাপল যেটা আগেই গোপনে দেখে রেখেছিল। হালকা বিপ শব্দে ডোর আনলক হলো।
পুরো পেন্টহাউস খালি। মাত্তেও, এলেনা, ইয়াশ সবাই কোনো এক বিশেষ কাজে বাংলাদেশ গেছে। গার্ডরা সব বাইরে পাহারায়।
অন্ধকার করিডোরে ধীরে পা ফেলে হাঁটছে রিম। প্রতিটি পদধ্বনির সাথে তার বুক কেঁপে উঠছে ভয়ে। এখন তার একমাত্র উদ্দেশ্য রিশাভকে খুঁজে বের করা।
হঠাৎ করিডোরের একপ্রান্ত থেকে তীব্র আলো চোখে এসে পড়ল। চোখ কুঁচকে তাকাতেই দেখল ভারী ধাতব সোনালী দরজা থেকে আলো ঝিলিক দিচ্ছে। আগেও সে এখানে এসেছিল, কিন্তু এক মহিলা সার্ভেন্ট তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল এই কক্ষের আশেপাশেও আসা যাবে না। কারণ জেইন এটা একদমই সহ্য করে না।
তবু কৌতূহলে কাছে গেল সে। নামপ্লেটে আঙুল বুলিয়ে পড়তে চেষ্টা করল। ঠোঁট নড়ল, ফিসফিস করে শব্দ বেরোল,
“R… O… S… E… N… 0707।”
সে ভ্রু কুঁচকে মুখ ভেংচিয়ে বিরক্তি মাখা স্বরে বলল,
“ধুর ব্যাঙ! কি সব ছাতার মাথা লিখে রেখেছে!”
অন্তরে কৌতূহল তীব্র হলেও দরজা খোলার চেষ্টা করল না। আগেও চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার লক্ষ্য অন্য ,রিশাবের কক্ষ। ভিডিওতে দেখেছিল, সেই কক্ষ অন্য সবকিছুর থেকে আলাদা। একবার চোখে পড়লেই চিনতে পারবে।
সে পিছন ফিরে ঘোরার মুহূর্তেই কোনো এক ব্যক্তির সাথে ধাক্কা খেল। অন্ধকারে কিছুই বোঝা গেল না। আতঙ্কে আচমকাই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“আআআআআআআহ…….”
কিন্তু মুহূর্তেই শক্ত এক হাত তার মুখ চেপে ধরল। হাঁসফাঁস করতে করতে রিম ছটফট করছে, মুখ দিয়ে মৃদুস্বরে “উমম… উমম” বেরোচ্ছে, কিন্তু লোকটাকে সরাতে পারছে না।
হঠাৎ সেই অপরিচিত লোকটা তার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“ম্যাম, চিৎকার করবেন না প্লিজ… আমি মাহিন!”
এক ঝটকায় রিমের দেহ জমে গেল। লোকটা ধীরে ধীরে মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল। রিম অবাক বিস্ময়ে ফিসফিস করে উঠল,
“মা-হিন…? এখানে… কিভাবে সম্ভব!”
রিম উঠতে নিলেই হাতে ঠান্ডা ভারী কোনো বস্তুর টান অনুভব করে। সে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে যায়।
তার হাত জেইনের হাতের সাথে হ্যান্ডকাফ দিয়ে বাঁধা। সে জেইন দিকে তাকাতেই দেখতে পায় জেইনের মুখে ক্রুর হাসি। সাথে সাথেই জ্বলে ওঠে রিম,
“জানোয়াররররর!!!!!……”
জেইন ঠোঁট কামড়ে আরও এক ধাপ দুষ্টুমি মেশানো হাসি ছড়িয়ে দিল। ধীর ভঙ্গিতে বেডের শেষ প্রান্তে হেলান দিয়ে বসে পড়ল। লম্বা সিল্কি চুলগুলো আঙুলে ব্যাক ব্রাশ করে ঝাঁকিয়ে নিল মাথা। যেন এক অনায়াস হটনেস যেটা দেখেই লক্ষ নারীর হৃদয় প্রতিদিন ভেঙে চুরমার হয়।
কিন্তু এই দৃশ্য রিমের চোখে আগুন ঢেলে দিল। তার সহ্যের বাঁধন ছিঁড়ে গেল এক নিমিষে। সে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত-পা ছুড়ে মারতে লাগল জেইনের দিকে।
হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল জেইনের পকেটে ওখানে ঝিলিক দিচ্ছে সিলভারের ছোট্ট একটা চাবি।
রিম তৎক্ষণাৎ সেটা কেড়ে নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই, জেইন বিদ্যুৎবেগে পকেট থেকে চাবিটা টেনে নিয়ে জানালার দিকে ছুড়ে ফেলল।
রিম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। মুহূর্তেই তার রাগ ক্ষোভে উথলে উঠল, কণ্ঠস্বর ভেঙে বেরোল চিৎকার করে,
“জানোয়ার এটা কি করলি তুই? আমাকে এভাবে নিজের সাথে বেঁধে দিলি কেন? এবার আমি বাইরে কি করে যাবো? খোল বলছি!”
জেইন আচমকাই ঝড়ের মতো গতি নিয়ে রিমের মুখের একেবারে সামনে এসে পড়ে।
অপ্রস্তুত রিম আতঙ্কে সরে গিয়ে বিছানার কিনারায় গা এলিয়ে দেয়। শ্বাস আটকে আসে, বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ যেন কানেও বাজতে শুরু করে।
ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটে গেল যে কিছুক্ষণ ভ্যাবাচেকা খেয়ে থাকে সে।
রিমের বুক ওঠানামা করছে দ্রুত তালে। জেইনের দৃষ্টি ধীরে ধীরে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ল। রিমের ভয় আর কাঁপা বুক জেইনের শরীরে রক্তের উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।সে ধীর ভঙ্গিতে কালো শার্টের উপর দিকের বোতাম খুলতে খুলতে আবার রিমের চোখের দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় বাঁকা হাসি টেনে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কে বলেছে বাইরে যেতে পারবে না তুমি? এখন থেকে যেখানে ইচ্ছে যেতে পারবে তুমি। আমি একটুও আটকাবো না তোমায়… বিশ্বাস করো।”
রিম রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে গলা কাঁপিয়ে বলে উঠল,
“আমার হাত যদি আপনার সাথে বাঁধা থাকে, তাহলে কিভাবে যেখানে ইচ্ছে যাব আমি?”
জেইন ভ্রু কুঁচকে উদাস ভঙ্গিতে হালকা হাসি ছড়িয়ে দিল, তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“হাতটাই তো বাঁধা… পা তো আর বাঁধা না।”
এবার রিমের চোখ ভিজে এলো। ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বারবার নাক টানছে সে। তার কাঁপা কণ্ঠে ভাঙা শব্দ বেরোতে থাকে, অথচ কোনো ভাষা গঠিত হয় না।
জেইন বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কণ্ঠে তাচ্ছিল্য মেশানো বিরক্তি,
“আরে, কাঁদছো কেন? বললাম তো যেখানে ইচ্ছে যেতে পারবে তুমি। আমি আর আটকাবো না… সত্যি বলছি।”
রিমের কান্না আরও দ্বিগুণ গতিতে বাড়তে থাকে। তার বুক হেঁপিয়ে ওঠে, কণ্ঠরোধী শব্দ বেরোয় টুকরো টুকরো করে। জেইন একদম মহা ঝামেলায় পড়ে যায়। খানিকটা ইতস্তত করে, বিরক্ত–হতবুদ্ধি ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
“আরে, কি হলো? এভাবে কাঁদছো কেন? বলবে তো একবার?”
কোনো উত্তর না দিয়ে রিম আচমকা দুই আঙুল দিয়ে “হ্যাত!” করে নাকের পানি মুছে দিল জেইনের বুকের শার্টে। জেইন মুহূর্তেই মুখ কুঁচকে ফেলে। নাক সিঁটকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে ওঠে,
“ছিঃ… ইয়াক! এতো নোংরা কেন তুমি? ছোটবেলার সেই বাজে অভ্যেসটা এখনো গেল না?”
রিম আরও জোরে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে। তার চোখ ভিজে যায় আরও গভীরভাবে।জেইন হালকা অপ্রস্তুত হেসে, অদ্ভুত নরম সুরে তাকে বোঝাতে চায়,
“আরে না না… তোমাকে নোংরা বলিনি তো। আমি… আমিই নোংরা।”
কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না। রিমের কান্না থামছে না। বরং আরও নেকিয়ে ওঠে সে,
“এএএ্য্য্য্য্য্য্য এএএ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য এএএএ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য… এ্য্য্য্য…”
জেইন বিরক্ত হয়ে কানে আঙুল দেয়, হতাশ গলায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে, মাথা নেড়ে বলে ওঠে,
“আরে বাবা, কি সমস্যা? বলবে তো? কান ঝালাপালা করে দিলো আমার!”
অবশেষে রিম নাক মুছে ভাঙা গলায় বলে উঠল,
“আমি ওয়াশরুমে যাবো।”
জেইন হালকা নিঃশ্বাস ছেড়ে দিল। তার ঠোঁটে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত বাঁকা হাসি। আচমকা কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সে রিমকে দু’হাতে তুলে নিল নিজের শক্ত বাহুতে।
রিম আতঙ্কে চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল। তার বুক কাঁপতে লাগল দ্রুত গতিতে। অজান্তেই হাত দুটো গিয়ে জড়িয়ে ধরল জেইনের গলা কোনো আশ্রয় নয়, বরং ভয় থেকে আঁকড়ে ধরা।
জেইন একটু ঝুঁকে রিমের কানের কাছে ঠান্ডা নিঃশ্বাস ছেড়ে ফিসফিস করে বলল,
“এই সমস্যা? আগে বলবে না? দাঁড়াও, আমিই নিয়ে যাচ্ছি তোমায়।”
বলতে বলতে জেইন কোনো বাড়তি সময় নষ্ট না করে রিমকে কোলে নিয়ে সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
কোনো সংকোচ না করেই তাকে নামিয়ে বসিয়ে দেয় হাই-কমোডের ওপর।
ঘটনাটা এত তাড়াতাড়ি ঘটে গেল যে রিমের দু’সেকেন্ড সময় লেগে গেল বুঝতে। সে স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকে, চোখ ফাঁকা হয়ে আছে যেন।
ঠিক তখনই জেইন আঙুল দিয়ে হালকা তুড়ি বাজিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠল,
“কি হলো? টাস্কি মেরে বসে আছো কেন? তুমি না বললে ওয়াশরুমে আসবে? তো এসেছো এখন যা করার, করো।”
রিম আচমকা চোখ বড় বড় করে তাকাল তার দিকে। গলায় কাঁপা বিস্ময় নিয়ে বলে উঠল,
“আপনার সামনে?”
জেইন হালকা মাথা কাত করে, নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“হ্যা… তো সমস্যা কী? আর তাছাড়া দেখতে পাচ্ছ না তোমার হাত আমার সঙ্গে বাঁধা? তাই তুমি যা করবে, আমার সামনেই করতে হবে। সিম্পল একটা অঙ্ক বুঝতে পারছ না? আজব!”
রিম কিরমিড়িয়ে ওঠে, সে নাকি বুঝতে পারছে না! নিজের দোষ তার ওপর চাপাচ্ছে। এতো জ্বালা কি সহ্য করা যায়? রিমের এক মুহূর্তে মনে হয় সত্যি হয়তো এই লোকটার মাথায় কোনো সমস্যা আছে। নইলে কেউ এরকম করে! রিম মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় মাত্তেও সাথে কথা বলে এই লোকটাকে একটা পাগলের ডাক্তার দেখাবে। যত যাই হোক জানোয়ার হলেও এটা তো এখন তার স্বামী! পাগলকে তো আর স্বামী বলে মানা যায় না! কিন্তু এখন সে কি করবে? হঠাৎ রিমের ভাবনার সুতো ছিঁড়ে গেল জেইনের কর্কশ কন্ঠে,
“কি হলো কিছু না করলে মূর্তির মতো বসে আছো কেন শুধু শুধু?”
জেইন তাকে আবার কোলে তুলে নিতে উদ্যত হয়,
“চলো রুমে চলে যাই। শুধু শুধু বসে থেকে লাভ নেই।”
রিম আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। মিনমিনে গলায় বলে,
“আমি মুতু দিবো তো।”
জেইন ঠোঁট কামড়ে শয়তানি হাসে, তারপর ভাব নিয়ে বলে,
“হ্যা তো দাও। আমি কি মানা করেছি নাকি?
রিম নাক কুঁচকে কেঁদে ওঠে।
“এএ্য্য্য্য্য্য্য্য্য্য এটা খুলে দিন। আমি আপনার সামনে মুতু দিতে পারবো না। আমার লজ্জা করে।”
জেইন বহু কষ্টে নিজের হাসি চেপে রাখে। রিম নাক টেনে কাঁদছে। তার নাকের ডগা লাল হয়ে গেছে। জেইনের কাছে রিমকে এই মুহূর্তে একদম টসটসে রসগোল্লার মতো লাগছে। সে যদি পারতো তাহলে এই মেয়েটাকে একদম কামড়ে খেয়ে ফেলতে, তাতে যদি মনে একটু তৃপ্তি পেতে! সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে সিলভারের চকচকে চাবিটা বের করে। রিম অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে,
“আপনি না চাবি ফেলে দিয়েছিলেন তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো?”
জেইন একটু ভাব নিয়ে ফিসফিস করে উত্তর দিল,
“Because I always have a plan B.”
জেইন নিচের দিকে ঝুঁকে বসে চাবি দিয়ে হ্যান্ডকাফ খুলতে শুরু করে। চাবি খোলা শেষে রিমের নাক টেনে আহ্লাদি গলায় রিমকে বাচ্চাদের মতো বুঝিয়ে বলে,
“তুমি মুতু দিয়ে আসো আমি বাইরে অপেক্ষা করছি, কেমন? আর শোনো যদি কিছু প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ডাকবে আমি এখানেই আছি। ওক্কে?”
রিম ভ্রু কুঁচকে তাকায়, সে কি বাচ্চা মেয়ে নাকি? যে তাকে নিয়ে এতো তোষামোদ করছে। কিছুদিন পর তার ১৯ পেরিয়ে ২০ হবে। আর এই ছেলে তাকে এমন বাচ্চাদের মতো ট্রিট করে! একেবারে গা পিচ্চি জ্বলে যায়। আদিখ্যেতা যত্তোসব! জেইন বেরিয়ে যেতেই রিম হাফ ছেড়ে বাঁচার মতো অনুভব করল। মনে হচ্ছে, এবার একটু শ্বাস নেওয়া যাবে কিছুটা স্বাধীনতা ফিরে এসেছে।
তবে এতেও পুরোপুরি স্বস্তি মেলে না। কারণ লোকটা সারাক্ষণ তার সাথে আঠার মত চিপকে থাকে, এক মুহূর্তও দূরে থাকে না। ‘লোকটার কি আর কোনো কাজ নেই নাকি? অসহ্য!’
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই রিমের চোখ আটকে গেল। জেইন দরজার সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে অপলক দৃষ্টি, ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
রিম পা বাড়াতে নিলেই তার কানে বাজল জেইনের কণ্ঠ,
“তোমার মুতু দেয়া হয়েছে?”
রিম বিরক্তিতে দাঁত চেপে, কণ্ঠে বিদ্রূপ ছুঁড়ে দিল,
“না হলে কি করবেন? আপনি করিয়ে দিয়ে আসবেন?”
কথা শেষ করে সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ জেইন খপ করে তার হাত চেপে ধরল। এক টানে আবারও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিল। লক ঘোরানোর টকটক শব্দে রিমের বুক ধক করে উঠল। জেইন হালকা হাসি মেখে গম্ভীর সুরে বলল,
“তুমি বললে… অবশ্যই দিয়ে আসবো।”
কথা শেষ হতেই তাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিল।
রিম ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এতক্ষণে তার শরীরের প্রতিরোধের শক্তিও নিঃশেষ। তাই কোনো শব্দ না করে চুপচাপ জেইনের বুকে মাথা নামিয়ে রাখল।
জেইন তাকে বিছানায় বসিয়ে দিল। তারপর নতুন করে খাবারের প্লেট নিয়ে এসে সামনে রাখল। আদুরে গলায় বলল,
“নাও… আমার হাতে খেতে হবে না। নিজের হাতেই খাও। হুমহ? এখন আর কোনো বায়না শুনব না কিন্তু।”
রিম কোনো কথা না বাড়িয়ে নিঃশব্দে খেতে শুরু করে। জেইন ভ্রু তুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই মেয়েটা আবার কবে থেকে এতো ভদ্র হলো? তার মনে হয়, এ নিশ্চয়ই ঝড়ের আগে এক অদ্ভুত শান্তি। যাই হোক, আপাতত অন্তত খাচ্ছে এটাই অনেক। তাই আর বাড়তি কথা না বলে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
ঠিক তখনই ফ্যাক্স মেশিনের ভেতর থেকে হঠাৎ কাগজ বেরোনোর শব্দে ঘরটা ভরে ওঠে। জেইনের চোখ মুহূর্তেই বদলে যায়। সে এক দৃষ্টি রিমের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ব্লুটুথ কানে লাগিয়ে নীরব স্বরে কারও সাথে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ওপাশের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট নয়, কিন্তু জেইনের ঠোঁটের টান ও চোয়ালের কঠোরতা বোঝায় খবরটা জরুরি।
শেষে মাত্র দুটি শব্দ শোনা যায় তার ঠোঁট থেকে
“ঠিক আছে, আমি আসছি।”
ফোন রেখে আবার চোখ ফেরায় রিমের দিকে। মেয়েটা মুখভর্তি খাবার নিয়ে চুপচাপ চিবোচ্ছে গাল দুটো ফুলে আছে দেখতে যেন একেবারে খরগোশ! জেইনের ঠোঁট বেঁকে ওঠে। আচমকা রিমের সামনে গিয়ে গালে হালকা টোকা দিয়ে চুমু খায়। রিম চমকে স্থির হয়ে যায়।
এক মুহূর্ত দ্বিধায় থেকে জেইন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বাধ্য হয়ে হ্যান্ডকাফের চাবি বের করে ধীরে ধীরে তার হাত মুক্ত করে দেয়। গলায় অস্বাভাবিক শান্ত স্বর নামিয়ে বলে,
“আমি বাইরে যাচ্ছি। তবে তুমি… এক পা’ও এই রুম থেকে বের হবে না। পালানোর চেষ্টা করলে কিন্তু খুব খারাপ হবে। তোমার পছন্দের সমস্ত খাবার ফ্রিজে আছে। যেটা ভালো লাগবে নিয়ে খাবে। আর তোমার প্রয়োজনের সবকিছু এই রুমেই আছে। তাই কোনো অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তারপর পাশের টেবিলে রাখা লাল বোতামটা দেখিয়ে ঠান্ডা গলায় যোগ করে,
“আর যদি খুব বেশি প্রয়োজন হয়, এটা চাপলেই মাত্তেও এসে যাবে। কিছু চাইলে তাকে বলবে।”
রিম মুখ ভর্তি খাবার চিবোতে চিবোতে নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। জেইন ঝুঁকে গিয়ে তার কপালে দীর্ঘ, গভীর এক চুমু রেখে দিল। সেই চুমুতে মিশে ছিল মিষ্টি আদর। তারপর কোনো কথা না বলে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
মৃদু অন্ধকারে লালচে আলোর ঝলকানি, দরজার ওপরে বড়ো অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে—
“Inferno Roso”।
দেখতে সাধারণ এক লাক্সারি লাউঞ্জ, কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায় এটা আসলে এক অন্ধকার রাজ্য।
লোহার তৈরি ভারী দরজা ঠেলতেই ঘন সিগারের ধোঁয়া আর পোড়া কাঠের গন্ধ নাকে আছড়ে পড়ে। ভেতরে আলো খুব কম শুধু লাল-কালো ঝলকানির খেলা, যেন দেয়ালের ভেতর কোথাও আগুন জ্বলছে। সিলিং থেকে ঝুলছে কালো আয়রন ল্যাম্প, কিন্তু সেগুলোতেও যেন আগুনের শিখা নিভে আসছে, দপদপ করছে অদ্ভুত ভৌতিক ছন্দে।
কাঁচের তাকজুড়ে সাজানো বোতলগুলোতে প্রতিফলিত হচ্ছে সেই রক্তাভ আলো, দেখে মনে হয় বোতলের ভেতর হুইস্কি নয় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। পিয়ানো বাজছে এক কোণে, কিন্তু সুরটা আনন্দের না, বরং শোকগাথার মতো। প্রতিটি টেবিল ছায়ায় ঢাকা, অতিথিদের মুখ স্পষ্ট দেখা যায় না শুধু জ্বলজ্বল করা চোখ, হালকা ফিসফিসানি, আর রহস্যময়ী হাসি।
বারটেন্ডারের চোখে যেন অদ্ভুত ঠাণ্ডা শূন্যতা, গ্লাসে ঢালছে কালচে তরল যার প্রতিফলনে মনে হয় কালি মিশে গেছে। ভেতরে ঢুকলেই শরীর কেমন শিহরে ওঠে, যেন এই বারের দেয়ালগুলো একেকটা গোপন রক্তাক্ত ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে।
এটা এমন একটা জায়গা যেখানে পাপ, প্রলোভন আর মৃত্যুর গন্ধ একসাথে ভেসে বেড়ায়।
বারের লালাভ আলো-ছায়ার গভীরতা ভেদ করে জেইন প্রবেশ করল সেই গোপন কক্ষে, যেটাকে বলা হয় Inferno Roso’র Black Chamber—পুরো মাফিয়া দুনিয়ার কন্ট্রোল রুম।
ঘরটা ভারী অন্ধকারে ঢাকা। দেয়ালে লাল রঙে আঁকা পুরনো প্রতীক—সাপ, মুকুট আর আগুনের চিহ্ন। একপাশে পুরু কালো পর্দা টানানো, আর বাতাসে ভাসছে ধোঁয়া আর হুইস্কির গন্ধ। মাঝখানে রাখা একমাত্র রাজকীয় লেদারের চেয়ার।
সেই চেয়ারেই বসে আছে এক যুবক। কালো লেদারের চেয়ারে হেলান দিয়ে, মুখ অদৃশ্য ছায়ায় ঢাকা। শুধু তার গভীর গলা ঘর কাঁপিয়ে তোলে
“ওয়েলকাম… ওয়েল কাম, AJ। এতক্ষণ তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। জানতাম, শেষ পর্যন্ত আসতেই হবে তোকে। অবশেষে আমার মতো এক ‘তুচ্ছ মানুষ’-এর জন্য স্বয়ং Mafia Godfather হাজির হয়েছে। তবে তোকে তোর রাজত্ব থেকে তোরে টেনে বের করতে পারলাম তো।”
এই বলে যুবকটা ধীরে ধীরে চেয়ার ঘুরিয়ে নিল। হালকা আলোয় দৃশ্যমান হলো তার নীলাভ চোখ । শীতল, অথচ আগুনের মতো জ্বলজ্বলে। তীক্ষ্ণ চোয়াল, ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
জেইন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। সে রাজাধিরাজের মতো পায়ের উপর পা তুলে সামনে থাকা লেদারের সিংহাসনে বসে পড়ল। সেন্টার টেবিলের উপর থেকে হুইস্কির গ্লাসটা তুলে এক নিঃশ্বাসে রক্তাভ তরল গিলে ফেলল। তারপর আঙুলে গ্লাসটা ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ শব্দ করে ফ্লোরে ছুড়ে মারল। ভাঙা কাঁচের ঝনঝন শব্দে যেন কক্ষটা দপদপ করে কেঁপে উঠল।
জেইন মাথা হালকা কাত করে, কপালে আঙুল বুলিয়ে, তারপর আচমকা ঝড়ের বেগে সামনে ঝুঁকে এলো। তার চোখের ধার যেন ছুরি। ঠোঁটে বাঁকিয়ে বললো,
“অ্যালেস, আমার ছোট ভাই। তোকে যতটা ধূর্ত ভেবেছিলাম, তুই তার চেয়েও বেশি বোকা। তুই সত্যিই ভাবলি যে তুই আমাকে বাধ্য করেছিস এখানে আসতে?”
তারপর হালকা শয়তানি হেসে সোজা হয়ে বসল, নিঃশব্দে ঘাড় টানটান করে দুপাশে কাত করে রগ গুলো ফুটিয়ে নিলো চাপা আগ্রাসনের ঝলক যেন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। মুখে ভঙ্গিমা করে বলল,
“নোপ, অ্যাল..এস। তুই আমাকে না তোকে আমি এখানে আনতে বাধ্য করেছি। আর ভুলে যাস না তুই এখন যে বারে বসে আছিস, সেটাও আমি ওউন করি। তুই বললি না আমাকে আমার রাজত্ব থেকে টেনে বের করেছিস? ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফরমেশন এই পুরো ইতালির মাটি আমার হুকুমের অপেক্ষায় থাকে। আকাশ থেকে পাতাল—বিশ্বের এমন কোনো অন্ধকার গলি নেই যেখানে আমার ছায়া পৌঁছায় না। প্রতিটি অন্ধকার গলিতে আমার রাজত্ব বিদ্যামান।এমন কোনো গ্যাংস্টার নেই, যে আমার নাম শুনলে ভয়ে সিঁটিয়ে যায় না।”
যুবকটি গলায় রহস্যময় ভরাট হাসি মিশিয়ে বলল,
“ওহ্ রিয়েলি? আমি আলেসান্দ্রো, ইউ নো না…আ’ম দ্যা King of my Kingdom.”
জেইন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না,কেবল আঙুলের চাপ দিল কালো রিমোটে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কক্ষ লেলিহান আগুনে ভরে উঠল। পর্দা, টেবিল, মদভর্তি বোতল সব দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল। আগুন যেন তাদের দুজনকে গিলে খেতে চাইছে।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার দু’জনের একজনও নড়ল না। দুজনেই আরাম করে চেয়ারে বসে, চোখে চোখ রেখে, আগুনের ভেতরেও শীতল দৃষ্টিতে একে অপরকে মাপছে।
জেইন আরাম করে বসে, প্রতিটি শব্দ বরফের মতো ছুঁড়ে দিল আলেসান্দ্রোর দিকে
“তুই যদি তোর Kingdom-এর King হোস… তাহলে আমি এই পুরো World-এর Lord।”
এক মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা যেন তার কথার সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে উঠল আর কক্ষটিকে করে তুলল মৃত্যুর রাজসিংহাসন।
আলেসান্দ্রো মুখে বাঁকা হাসি নিয়ে ধীরে ধীরে বলল
“But your world’s control is now in my hands. সেই হার্ড ড্রাইভটা যেটা এতদিন পাগলের মতো খুজছিলি, জ্বালিয়ে দিয়েছি! জানি এখন আর তোরও প্রয়োজন নেই। কারণ এতোক্ষণে তুই নিশ্চয়ই জেনে গেছিস সে এখন আমার কাছে আছে। তোর ম্…”
একটু ভেবে সে আরও নিচু, ক্রুর স্বরে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল
“কিন্তু একটা জিনিস আমি বুঝলাম না। বারো বছর আগে, যাকে তুই নিজের হাতে ছুরিকাঘাত করেছিলি, যার মুখ দেখতে তুই ঘৃণা করতিস হুট করে কেন তাকে খোঁজার জন্য তুই এমন মরিয়া হয়ে পড়লি? Isn’t it strange? নাকি এমন কিছু জেনে গেছিস যেটা তোর জানার কথা ছিল না?”
জেইনের মুখটা একদম স্থির, যেন ভেতরে কোনো অনুভূতি নেই। চোখ দুটো বরফের মতো শীতল। সে ধীরে ধীরে নির্দয় কন্ঠে বলল,
“হ্যাঁ। করতে চেয়েছিলাম খুন!”
সে কথাটা এমন ভাবে বলল যেন তার ভেতরে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। এক মিনিটের মতো নীরবতা। কেবল আগুনের গুলগুল শব্দ। জেইনের চোখে অদ্ভুত এক স্থিরতা,
“ভেবেছিলাম সেদিনই হয়তো মারা গেছে। কিন্তু সে এখনো বেঁচে আছে। আর এখন আমি তাকে চাই। আমাকে অনেক কিছু জানতে হবে, অনেক প্রশ্নের উত্তর চাই আমি।”
আলেসান্দ্রো ঠোঁটের এক কোণে হাসি দিল অবজ্ঞার মতো। কক্ষে আগুন আরও জোরে শাস ফেলল, কিন্তু তাদের দুটি ছায়াই অটল রইল
“তাহলে। এতটুকুই বলি সবকিছু এখন আমার হাতে আছে। কিন্তু আমি সবকিছু বিনা মূল্যে দেব না। তুই যদি তাকে চাস প্রথমে আমাকে দেখাবি তুই কি দিতে পারিস। তোর ক্ষমতা, তোর নেটওয়ার্ক, তোর দাম। ভাবিস না এসব চাইবো। ক্ষমতা তোর থেকে কোনো অংশে কম নেই আমার। I want something rare, something that only you can give. সিদ্ধান্ত তোর হাতে।”
জেইন ধীরে উঠে দাঁড়ালো। আগুনের লেলিহান প্রতিফলনে তার চেহারা অদ্ভুতভাবে নির্মম হয়ে উঠল। হাওয়ায় ভাসা ধোঁয়া মুখে লাগে তবু সে অটল। কণ্ঠে কেবল এক লাইন, বরফের মতো ঠাণ্ডা উক্তি,
“আমি কোনোদিন কাউকে, কোনো কিছুর বিনিময়ে কিছু দেই না। আমার যেটা প্রয়োজন সেটা আমি ছিনিয়ে নেই।”
ঘরটা যেন মুহূর্তে স্তব্ধ। আগুনের গর্জনও কাঁপে না শুধু দুই চোখ একে অপরের ওপর ঝঙ্কৃত। আলেসান্দ্রো কয়েক সেকেন্ড চুপ করে ছিল। তারপর হেসে দিল হাসি না, বরং রক্ত-মেশানো একটা আহ্বান। সে ধীর কণ্ঠে বলল
“আমি-ও নিজের জিনিস ছিনিয়ে নিতেই পছন্দ করি।”
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৫
একটা মূহুর্ত আলোর মধ্যে তাদের দুই ছায়াই যেন মিলল দুই ধূমায়িত রাজা। আলেসান্দ্রো একটু এগিয়ে এসে নিজের কব্জি টানাল, চোখে এক অদ্ভুত আলৌকিক অহঙ্কার,
“আমাদের মাঝে কত মিল, তাই না? হবে না কেন? রক্ত যে এক।”
শব্দটা কক্ষের ভিতর বাজিয়ে উঠল উপলব্ধি, হুমকি আর আমন্ত্রণের একসঙ্গে সুর। আগুন ভীষণ উচ্চে উঠছে কিন্তু দুইজনই অটল, কে কী ছিনিয়ে নেবে এটাই এখন গল্পের কেন্দ্র।…..
