জাহানারা পর্ব ৫১
জান্নাত মুন
সিআইডি অফিস…..
কম্পিউটারের কিবোর্ডে Enter বাটনে ক্লিক করতেই অডিওটা চলতে আরম্ভ করে,
❝সিআইডি আমাদের কিছুই করতে পারবে না।আমি এমন ভাবে পুরো খেলাটা খেলছি আমাদের ধরা তো দূরের কথা, সন্দেহের দিকটাও আসবে না।তবুও যদি বেশি বারাবাড়ি করে তাহলে ক্যাপ্টেন জায়ান শেখের মতো উপরে পাঠিয়ে দিবো।আর…কে ওখানে?কে…..❞
কম্পিউটারে চলমান অডিওটা শেষ হতেই অফিসার কবির অডিওটা অফ করে দিলো।এই নিয়ে কম হলেও শতাধিক বার রেকর্ড টা শুনা হয়েছে। কবিরের দুপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে বাকি অফিসার’রা।জিতু ভাইয়া নির্লিপ্ত ভাবে অডিও টা খুব মনযোগ দিয়ে আজ আবারও শুনলো।
বেশ কিছুমাস আগে আনুমানিক আমার বিয়ের এক দের মাস পরের ঘটনা, পুলিশ অফিসার রাকিব গোপন তথ্য অনুযায়ী অপরাধীদের একটা ডেরায় যায়।সেদিন তিনি অন্ধকারের মধ্যে কাউকে দেখতে না পেলেও বেশ কয়েকজনের কথাবার্তা শুনতে পায়।সে সেটা রেকর্ড করতে থাকে ঠিক তখনই উক্ত ব্যক্তিরা বুঝে যায় রাকিবের উপস্থিতি। সেদিন রাতে রাকিব কে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে।এমনকি তাকে শুট করে।ভাগ্যক্রমে গুলিটা রাকিবের পা ছুয়ে যায়।সেদিন যদি ঠিক টাইমে জিতু ভাইয়া না আসতো তাহলে রাকিব হয়তো আর জীবিত থাকতো না।
রাকিব সেদিন রাতেই জিতু ভাইয়ার হাতে পেনড্রাইভটি তুলে দেয়।কিন্তু সিআইডি অফিসার রা এখনো মিলাতে পারছে না এটা কার ভয়েস হতে পারে।কারণ লোকগুলো ভীষণ চতুর।যতদূর আন্দাজ করা যাচ্ছে তারা ভয়েস চেইঞ্জ করে কৌশলে কথা বলেছিলো।যাতে কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী না থাকে।
জিতু ভাইয়া ভাবতে ভাবতে হাতে একটা ফাইল তুলে নিলো।এই ফাইলটা আমি অনেকদিন আগে রাকিবকে দিয়েছিলাম ভাইয়ার হাতে দিতে।ফাইলে চৌধুরী বাড়ির সব তথ্য সহ সকলের এ টু জেট সব ইনফরমেশন আছে।
সিআইডিদের সন্দেহের তালিকায় ইফানের পর রয়েছে পঙ্কজ। কিন্তু পঙ্কজ তো তিন মাস ধরে দেশে নেই।তাহলেও দেশে কে সব চালনা করছে?জিতু ভাইয়ার মাথায় আরেকটা নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো মাহিন চৌধুরী।
কিভাবে এই অপরাধী চক্রকে খুঁজে বের করবে?সিআইডি অফিসাররা কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছে না।জায়ান ভাইয়ের পর আরেকজন কিছু সত্যি জানতো।সে হচ্ছে জায়ান ভাইয়ের এসিস্ট্যান্ট শামিন।কিন্তু জায়ান ভাই যেদিন মারা যায় সেদিন থেকেই শামিন নিখোঁজ হয়।তারপর লোকটাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।সকলের ধারণা ঐ চক্রের সম্পর্কে জায়ান ভাইয়ের পর শামিন সবটা জানতো। তাই আগেই শামনিক কে কোথাও সরিয়ে দিয়েছে।
জিতু ভাইয়া ফাইলটা চোখের সামনে ধরে আকাশ কুসুম ভাবনায় নিমজ্জিত।বাকি অফিসাররা নিজেদের মতো কাজে ব্যস্ত।হঠাৎই সারা অফিস কাঁপিয়ে জিতু ভাইয়ার ফোনটা বেজে উঠে। সকলেই ভাইয়ার দিকে তাকালো। ভাইয়া বিরক্তি নিয়ে ফোনটা চোখের সামনে ধরলো।স্কিনে একটা বিদেশি নাম্বার ভাসছে।জিতু ভইয়ার চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো।গত তিন মাস ধরে বিদেশি বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল আসে।জিতু ভাইয়া ইম্পর্ট্যান্ট কল ভেবে রিসিভ করে।কিন্তু ঐ পাশ থেকে কেউ কথা বলে না।এই যন্ত্রণায় বিদেশি নাম্বার থেকে ফোন আসলে ধরা বন্ধ দেয়।এতে ঘটে আরও বিপত্তি। কারণ অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কল মিস হয়ে যায়।তাই বাধ্য হয়ে কল রিসিভ করতে হয়।
জিতু ভাইয়া ফোন কানে ধরলো।ঐপাশ থেকে আজও কোনো উত্তর আসলো না।রাগে ফোন কেটে দিলো।বাকি অফিসাররা এখনো এদিকে তাকিয়ে। জিতু ভাইয়া সবাই কে ধমক দিয়ে বললো,
–“আজ সারারাত যদি কাজ করতে মন চায় তাহলে আমার দিকে তাকিয়ে থাক।আর যদি যেতে মন চয় তাহলে কাজ কমপ্লিট করে শেষ কর।”
সকলে শুকনো কেশে কাজে মনযোগ দিলো।বুঝতে পারছে বসের মেজাজ তুঙ্গে। জিতু ভাইয়া চোখ মুখ শক্ত করে ফাইল ঘাটছে।না তার মেজাজ ঠিক না হলে কাজে মন বসবে না!!তাই ফোনটা হাতে নিলো।ফেইসবুকে ঢুকতেই চোখে পরলো নাইন প্লাস নোটিফিকেশন এসেছে।তিনি চোখ সরু করে নোটিফিকেশনে যেতেই দেখতে পেলো অচেনা বালিকা আইডি থেকে তার পোস্টে লাইক কমেন্ট করে ভরিয়ে ফেলেছে। তিনি ঠোঁট কামড়ে ধরে একটা কমেন্টে চাপ দিতেই দেখতে পেলো সেই আইডি থেকে একটা পোস্টে কমেন্ট করেছে,
–“এই মাস্ক পড়া মেয়েটা কে?” সাথে অ্যাংরি দু’টো রিয়েক্ট!!
সবাই লিভিং রুমে উপস্থিত হয়েছে। শুধু ইকবাল চৌধুরী আর ইমরান রাজনৈতিক কাজে এখনো বাড়িতে আসে নি।সামনেই নির্বাচন।তাই বাপ ছেলে পার্টির সাথে বেশ কয়েক জায়গায় মিটিং করছে।ইফান এতদিন ধরে নেই। তাই ইমরানের উপর সব ভার এসে পড়েছে। বেচারা এমন একটা পর্যায়ে আছে যে আদরের বউটাকেও একটু সময় দিতে পারছে না।নাবিলা চৌধুরী, নকুল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী সোফায় বসে বিজনেস নিয়ে আলোচনা করছে।নাবিলা চৌধুরী বললো,
–“আই থিংক এই প্রজেক্টটা আমাদের কোম্পানিকে আরও সম্মৃদ্ধ করবে।”
–“একদম ঠিক বলেছিস নাবু।আমারও বেশ পছন্দ হয়েছে।”
নুলক চৌধুরীর কথা শেষ হলে ইরহাম চৌধুরী বললো,”তাহলে এটাই ফাইনাল।তোমরা কি বল?”
–“আর কি বলা বলির আছে।এটা অবশ্যই ফাইনাল।”
–“আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ভাইয়ারও তো মত আছে!যতই তুই কোম্পানি চালনা কর ভাইয়াও তো কোম্পানির CEO।”
নুলক চৌধুরীর কথায় নাবিলা চৌধুরী হেসে বললো,”ওর আবার কিসের সিদ্ধান্ত।আমি ওকে উঠতে বললে ও উঠবে আর বসতে বললে বসবে।”
কথাটা শুনেই নুলক চৌধুরীর মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো।তবুও জোর করে হাসার চেষ্টা করলো।
মাহিন, ইফান আর মীরা একসাথে গল্প করছে।আমি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সবার কার্যকলাপ দেখছি।রান্না সব কমপ্লিট। কাকিয়া সবাইকে ডাইনিং টেবিলে বসতে বললো।সকলেই এক এক করে বসলো।নাবিলা চৌধুরী নিজের নির্ধারিত চেয়ার ধরে টানলেন বসবে বলে।কিন্তু উনি বসার আগেই আমি বসে পড়লাম।নাবিলা চৌধুরী রাগে ফুঁসে উঠলো,
–“এটা আমার চেয়ার উঠে যা-ও।”
–“চেয়ারে কারো নাম লেখা নেই। তার মানে যে কেউ বসতে পারবে।”
নাবিলা চৌধুরী ছেলের দিকে তাকালো।ইফান বাসায় মহিলাদের সাথে কখনো কেচালে জড়ায় না।আজও তাই।নাবিলা চৌধুরী ছেলের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো কিন্তু ইফান একবারো তাকালো না।সে প্লেটে খাবার তুলে নিজের মতো করে খাচ্ছে। নাবিলা চৌধুরী রাগ নিয়ন্ত্রণ করে আমার পাশের চেয়ার টেনে বসে পড়লো।
সবাই খাচ্ছে।নাবিলা চৌধুরী খাওয়ার মাঝে বারবার আমার দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। আমার মাথায় শাড়ির আচল টেনে কাঁধ জড়িয়ে রাখা।বলতে গেলে সারা শরীর ঢাকা।ঠান্ডা পড়ছে তাই অসময়ে গোসল করায় শীত শীত লাগছে।নাবিলা চৌধুরী আমার সাথে চেপে বসলো।আমি খেতে খেতে আড় চোখে উনাকে দেখে উনার মতিগতি বুঝার চেষ্টা করলাম।নাবিলা চৌধুরী শুকনো কেশে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
–“বেহায়া মেয়েছেলে লজ্জা লাগে না?”
আমি অবাক!আমি এখন কি করলাম!নাবিলা চৌধুরী খাবার চিবাতে চিবাতে আবারো ফিসফিস করে বললো,”ছেলেটা আসলো কি আসলো না ওমনি বেহা’য়াপ’না শুরু করে দিয়েছ!”
–“আজীব তো আমি আবার আপনার কোন পাকা ধানে মই দিলাম!”
আমিও ফিসফিস করে বললাম।নাবিলা চৌধুরী নাক ছিটকে বললো,”আবার বে’হা’য়ার মতো জিগ্যেস করে!বলছি যে জামাইয়ের সাথে দিনদুপুরে ন’ষ্টা’মি করেছ আবার সেটা মুরুব্বিদের বুঝাতে চাইছ।ল’জ্জা করে না!”
নাবিলা চৌধুরীর কথায় আমি আকাশ থেকে পড়লাম!নাবিলা চৌধুরী ইনিয়েবিনিয়ে আমার ভেজা চুলগুলোকে ইঙ্গিত করে কিছু একটা বুঝাতে চাইছে।আমিও উনার মতো নাক ছিটকে বললাম,
–“আপনার লজ্জা করে না ছেলের বউকে এসব বলতে?”
–“আহা হা নোং’রা’মি করবে তুমি, আমি উপদেশ দিলেই দোষ!”
–“বেশ করেছি আরও করবো।”
কথা শেষ করেই মাথার কাপড়টা ফেলে দিলাম।দৃশ্যমান হলো ভেজা চুলে টাউয়াল পেচিয়ে রাখা।তার সাথে দৃশ্যমান হলো গলার নেকলেস টা।নাবিলা চৌধুরী আশ্চর্য হয়ে আমার গলার দিকে তাকিয়ে। উনি খাচ্ছেন না দেখে সকলে তার দৃষ্টি অনুসারে তাকাতেই দেখলো আমার গলার নেকলেস। সকলেই আশ্চর্য হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে। তাদের চোখে কৌতুহলে ভরপুর।ইফানের উপস্থিতির কারণে কেউ কিছু জিগ্যেস করতেও পারছে না।সবার এমন দৃষ্টি দেকে আমার অস্বস্তি হচ্ছে। বুঝতে পারছি মাথার আচলটা ফেলে দেওয়া ঠিক হয় নি।
প্লেটে আমার হাত চলছে না দেখে ইফান মাথা তুলে তাকাতেই সকলে আমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে খাওয়ায় মনযোগ দিলো।
কিন্তু মীরা নিজের কৌতুক ধরে রাখতে পারলো না।বেশ কিছুক্ষণ আমার নেকলেস টা মনযোগ দিয়ে দেখে বললো,”ভাবি তোমার গলার নেকলেসটা খুব সুন্দর তো।এটা….!!
–“হোপ নেকলেস।”
মীরার কথা বুঝতে পেরে আমি আগেই উত্তর দিয়ে দিলাম।মীরা অবাক হয়ে বলে উঠলো, “হোয়াট!!”
বাড়ির সকলে আবার আমার দিকে তাকালো।আমি ভেতরের অস্বস্তি টা প্রকাশ না করে মৃদু হাসলাম।মীরা আবার শুধালো,”এটা তুমি কোথায় পেলে?”
আমি আর চোখে ইফানের দিকে তাকালাম। তারপর টুশ করে ছাড়লাম এক কথা,”আমি আনি নি তো।তোমার ভাই চুরি করে এনেছে।”
মূহুর্তেই সকলে কাশতে আরম্ভ করলো।ইফানের হাত প্লেটেই থেমে গেলো।চোখ তুলে কটমট করে আমার দিকে তাকালো।আমি আড় চোখে ইফানের লাল চোখ দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে দৃষ্টি নত করে নিলাম।
ইফান আমার বোকা কথা শুনে ভাবতে লাগলো সেই ছয়মাস আগের কথা……..
তখন ইফান আর আমি শেখ বাড়িতে ছিলাম।ইফান আমাদের বাড়িতে আসার কদিন আগে ইনান আর মাহিনকে জানায় হোপ ডায়মন্ডের নেকলেসটা সে কিনতে চায়।যত টাকায় লাগুক না কেন তার লাগবেই।
ইফানের কথা অনুযায়ী নেকলেসটা কেনার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করে ব্ল্যাক ভে-নম গ্রুপের ক্যাপ্টেন।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দেশের এই মূল্যবান সম্পদ বিক্রিয় করতে নারাজ।এটা নিয়ে ইফান বেজায় চটে যায়।সেদিন ইফান সেই জন্যই প্রচন্ড রেগে ছিলো।আর আমাকে নিয়ে চৌধুরী বাড়িতে ফিরে আসে।
তারপর ইফান যুক্তরাষ্ট্রে যায়।সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথেও এটা নিয়ে আলোচনা করে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মাফিয়া ইফান চৌধুরী কে আর তার বিখ্যাত মাফিয়া গ্রুপ ব্ল্যাক ভে-নমকেও ভালো করে চেনে।ইকবাল চৌধুরীর সাথেও ভালো সম্পর্ক যেহেতু উভয়ই রাজনৈতিক মানুষ।অন্যদিকে ইফানের সাথে আরও আগে থেকেই পূর্ব পরিচিত।রাজনৈতিক বিভিন্ন কাজে ইরফানের থেকে সাহায্য নিয়ে থাকে।বলতে গেলে রাজনীতিতে টিকে থাকার অন্যতম অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া বস ইফান চৌধুরী।
সেদিন ইফান অনেক রাগারাগি করে,কেন তার প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দিয়েছি।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেদিন ভয়ে ভয়ে ইফানের সব কথা শুনে। কিন্তু তিনিও কিছু করতে পারবেন না।দেশের সব ক্ষমতা তার হাতে থাকলেও সরকারের উপরে কিছু করতে গেলেই বিপাকে পড়বে।সামনে নির্বাচন জনগণ ক্ষ্যাপানো যাবে না।
ইফান সেদিন ওপেনলি চ্যালেন্জ করে বলে,এই নেকলেস টা আমি নিয়েই ছাড়বো।আটকাতে পারলে আটকাবেন।”
প্রেসিডেন্ট চুপ করে ইফানের কথা শুনে।তিনি বলেন,”আপনার যা ইচ্ছে করেন আমি বাঁধা প্রধান করবো না।শুধু সতর্ক থাকবেন।আমি পরে বাকিটা মেনেজ করে নিব।”
এরপর ব্ল্যাক ভে-নম কদিনের মধ্যে নেকলেসটা লুট করে আনে।আর পুরো টিমকে সামনাসামনি লিড দেয় মাহিন চৌধুরী।মিশনও সাকসেসফুল হয়। কিন্তু তারপর……
–“ব্রো ভাবি এসব কি বলছে!!”
মীরার কন্ঠ শুনে ইফান ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসে।এদিকে ইফান কিছু বলার আগেই আমি হেসে হেসে ছাড়লাম আরেক কথা,
–“আরে বোইন ও কি বলবে!চোর কি চুরি করে বলে আমি চুরি করেছি।আহারে আমার সাসুমাটার জন্য কষ্ট লাগছে গো।এখন তো সবাই বলবে চোরের ছেরা চোর।আহ্ লজ্জা কি লজ্জা!!
আমি নাটকীয় ভঙ্গিমায় দুঃখ প্রকাশ করলাম।উপস্থিত সবাই আমার কথা শুনে শুকনো কাশতে লাগলো।মাহিনের গলায় খাবার আটকে গেছে।এদিকে নাবিলা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলো,
–“হা’রাম’জাদি ছোটলোকের বাচ্চা,তোর কত বড় সাহস আমার ছেলেকে চোর বলিস!!”
নাবিলা চৌধুরী উঠতে নিলেই ইফান হেসে তার মাকে বলে,”ওহ্ মম রিলাক্স রিলাক্স।”
ইফান আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,”আমার ঘরের বান্দি মন্দ বলে নি।শালি তো নিজেই চুরির মাল।আউচ্!!”
আমি রাগে গদগদ করছি।কিছু বলতে যাব তার আগেই আমার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।ঠোঁট দু’টো আপনা-আপনি আলাদা হয়ে যায়।ইফান বাঁকা হেসে খাবার চিবাচ্ছে।আবার জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলছে।এই হাসিটা সেই পুরাতন ইফান চৌধুরীর।দেখেই গা ঘিনঘিন করে।কিন্তু এত কিছু ভাবতে পারছি না।কারণ খাওয়ার টেবিলের নিচ দিয়ে সবার আড়ালে ইফানের এক পা আমার পায়ে আল্ত করে স্পর্শ করছে।ওর এমন নমনীয় স্পর্শে আমার শরীর কেঁপে উঠছে।
আমি ইফানের দিকে ইফান আমার দিকে তাকিয়ে।ইফানের চেহারায় হাসির ঝলক। আর আমি হতবিহ্বলের মতো চেয়ে।আমি নিজের উরুতে খামচে ধরে শুকনো ঢুক গিললাম। ইফানের পা আস্তে আস্তে আমার পা’য়ে আল্ত স্পর্শ করতে করতে উপরের দিকে উঠছে।আমি সবার সামনে কিছু বলতেও পারছি না।সবাই মনযোগ দিয়ে খাচ্ছে। মীরা দেখলো আমি খাচ্ছি না।তাই বললো,
–“ভাবি খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে খেয়ে নাও।”
–“খাখা..আআআ”
আচমকা আমি মৃদু আর্তনাদ করায় সবাই আমার দিকে তাকালো।আমি অপ্রস্তুত হয়ে মৃদু হাসলাম।ইফানের পা আমার স্পর্শকাতর অঙ্গে লাগার সাথে সাথেই আমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠি।ইফান তার পায়ের ধারালো নখর দিয়ে একটা আচর কেটে পা সরিয়ে নিয়েছে।সে মাথা নিচু করে প্লেটের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে চাপা হাসিতে ফেটে পরছে আমার এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে।
রাগে আমার নাকের পাঠা আর বুক উঠানামা করছে।কাকিয়া বললো,
–“আরে বউমা শরীর ঠিক আছে।এমন করছ কেন?”
আমি রাগে দুঃখে সবার সামনে ইফানের উরুতে থাপ্পড় মারলাম কয়েকটা।ইফান হাসছে।নাবিলা চৌধুরী আমার উপর চেঁচাচ্ছে। আমি কানে নিলাম না।ইফানকে সবার সামনে দিলাম এক খাপছাড়া গালি,
–“শালা ন’ডি*রপুত। তর সাউ*য়ায় আল্লার গজব পড়বে।”
কাকা শ্বশুর ইরহাম চৌধুরী তব্দা মেরেছে।চোখের পলকও পড়ছে না।বাকিরা কাশতে কাশতে চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। মাহিন বিষম খেয়েছে।মনিরা বেগম পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ইফান আগের মতো প্লেটের দিকে চেয়ে চাপা হাসছে।এদিকে নাবিলা চৌধুরী ফুঁসে উঠেছে। তিনি আমার দিকে তেড়ে এসে বললো,
–“যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা।ছোটলোকের বাচ্চা তুই কাকে ন*ডির পুত বলছিস।এই মেয়ে তুই আমার স্বামী সন্তান কে গা’লাগা’লি করার সাহস কোথায় পেলি।”
–“আমি আপনার জাইমাইকে কখন বললাম!!”
আমি অবাক হয়ে বললাম।নাবিলা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলো,”তাহলে নাডি কাকে বললি?আমাকে বললি!”
আমি আড় চোখে তাকিয়ে মুখ বেঁকিয়ে বলালম,”বেশ করেছি বলেছি।আপনি আর আপনার ছেলে একই চরিত্রের। পার্থক্য আর পের্থক্য হইলো আপনার পোলা যোয়ান বয়সে বউকে স্টক মারে।আর আপনি বেডি হয়া বুইরা বয়সে বেডাকে স্টক মারেন।”
–“ব্যাস অনেক হয়েছে।”
আচমকা ইফান ধমকে উঠলো।আমি আর নাবিলা চৌধুরী দুজনেই মুখ মুচরে আগের জায়গায় গিয়ে বসলাম।বসতে বসতে আবারও ইফানকে বকলাম,”চোরের ঘরের চোর…..”
আমি বসতে না বসতেই ইফান টান মেরে আমার চেয়ার নিজের কাছে নিয়ে আসলো।আমাকে চোয়াল শক্ত করে বললো,
–“শা’লি তোর ঘটে কি গু ভরা নাকি!সেই তখন থেকে বো’কাচু’দার মতো ঘ্যানঘ্যান করছিস।আমি চাইলে পুরো বাংলাদেশ কে কিনে নিতে পারি।আর তুই এক বা’লের জিনিস নিয়ে পড়ছস।”
–“তুই একটা চোর।”
আমি চোখমুখ শক্ত করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফানের দিকে তাকিয়ে বললাম।ইফান চোখ মেরে ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখিয়ে বললো,”ঠিক আছে বউ।এবার আমার নেক্সট টার্গেট তোর বুড়া বাপের বেঁকে যাওয়া মাল।”
সকলে পুনরায় কেশে উঠলো।আমি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করি।
–“কিরে নাত বউ গলার হারটা তো খুব সুন্দর। ভাই দিলো নাকি?”
আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম,”তোমার নাতিকে নিয়ে কথা বললে কিন্তু আমি ইতির রুমে চলে যাব।”
দাদি তছবি জপতে জপতে আমার সাথে গল্প করছে।ঘড়ির কাটা এখন রাত প্রায় বারোটার ঘরে।আমি খাবার খেয়ে দাদির রুমে চলে এসেছি।কিছুক্ষণ আগেও ইতি,মীরা আর পলিও ছিলো।ইমরান বাসায় আসায় পলি চলে যায়।আর ইতির ঘুম লেগে যাওয়ায় মীরা ওকে রুমে নিয়ে যায়।আজ মীরা ইতির সাথেই ঘুমাবে।
–“শুন বউ,বিয়ে হইসে অতীত ভুলে যা।স্বামী সংসারে মনযোগ দে।ইহকাল আর কয়দিনের বোইন।এখনই তো সময় জীবনডারে ভোগ করবার।এই দেখ এখন আমি স্বামী হারা কেমনে শেষ সময় পার করতাছি।যৌবন কালে স্বামীর কত ভালোবাসা পাইছি।তবুও এই বয়সে স্বামীর লাগি পরান কান্দে।ভালোবাসা এমনই রে বোইন।আমি তরে কই পিছনে কি আছিন আর ফিরে চাইস না।সামনে কি আছে ঐটা নিয়ে ভাব।সুখে সংসার কর।তবুও যদি তর মন শান্ত না হয় তাহলে পোলাপান লয়া লা।তর বিয়ের তো বছর হইয়েই গেলো।এবার বাচ্চা আন।দেখবি সংসারে তর মনও বসে গেছে। আর আমরাও বংশের নতুন সদস্য পায়াম।কতদিন ধরে আমাগো চৌধুরী বাড়িতে ছোট সদস্যের মুখ দেখি না।ছোট বউটারেও কইলাম পোলাপান নিতে।বউ কইলো চেষ্টা করতাসে আল্লাহ দিলে ওদের আপত্তি নাই। তুইও চেষ্টা কর।”
–“নষ্ট পুরুষের সন্তান পৃথিবীতে আনলে মানুষ নাল্লত দিবে গো।”
–“ছিছি বোইন এইটা তুই কি কইলি রে।আল্লাহ পাপ দিবো।এমন বলতে নাই।শুন…”
–“প্লিজ দাদি এসব নিয়ে আর কথা বাড়িও না।আমার ভালো লাগে না।আমি মানসিক শান্তির জন্য তোমাদের কাছে আসি।এখানেও যদিও এসব হয় তাহলে আমি আমার রুমেই চলে যাচ্ছি।”
আমার বুক ছিড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসলো।মনটা অশান্ত হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যায়।
–“নাতবউ তুই আর চাপ লইস না। আমার পাশে বস।আল্লাহই সব ঠিক করে দিবে।”
দাদি আর আমি পাশাপাশি শুইয়ে গল্প করছি। হঠাৎই দরজায় শব্দ হলো।আমার বুকটা ধক করে উঠে।আমি উঠে বসে চুল ঠিক করতে করতে শুকনো ঢুক গিললাম।দাদি চোখ বুজে থেকে বললো,”বউ কে আইছে দেখ তো।”
আমার ঠোঁট গুলো শুকিয়ে আসলো।আমি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলাম।আবার দরজায় নক হলো।দাদি আমাকে আবার দরজা খুলতে বললো।আমার হাত পা অসার হয়ে আসছে।ইচ্ছে করছে না দরজা খুলতে।কিন্তু দরজায় যে পরিমাণ শব্দ হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে দরজা না খুললে ভেঙে ভেতরে চলে আসবে। আমি শাড়ির আচল কাঁধে তুলে সময় নিয়ে দরজা খুললাম।কেউ দরজা ঠেলে ভেতরে আসলো না।আমি দরজা হালকা খুলে মাথা বের করতেই শিউরে উঠলাম।
ঘামে ভেজা খালি গা।হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট তাও আবার বিপদ সীমার নিচে নেমে আছে।দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বুকে দুহাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে ইফান।মাতালের মতো দৃষ্টি আমার দিকে।আমি কাঁধের আচলটা আরেকটু টেনে নিলাম।ইফান বড়সড় ঢোক গিলে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“তোমার অপেক্ষা করতে করতে জিম করে নিলাম।আবার দু প্যাক মালও গিলে নিলাম।তবুও আমার চান্দুর দেখা নেই।”
ইফান আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ব্রু নাচালো।আমি ঢোক গিলতে লাগলাম।আমার রুমের ভেতরেই ইফানের জিম ঘর।সেখানেই তার ম’দ ড্রা’গ’স রাখে।ইফানের অবর্তমানে আমি সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছি।এখন ইফান জানলে কি করবে আল্লাহ মাবুদ জানে।কারণ কম হলেও বিশাল বড় অংকের টাকার জিনিস ছিলো।পুরো একটা ফ্রিজ ভর্তি দামি দামি হুইস্কির বোতল সব নষ্ট করে খালি বোতল আগের জায়গায় রেখে দিয়েছি।এটার শাস্তি তো ইফান নিশ্চয়ই দিবে।আর সেই জন্যই দাদির ঘরে বসেছিলাম।এখন ইফানকে এমন মাতাল দেখে ভয় করছে।আমি আমতা আমতা করে বললাম,
–“ম ম’দ কোথায় পেলে?”
–“আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম।ঘরেরগুলো তো…..রুমে চলো।”
ইফানের এমন অদ্ভুত চাহনি আর কথা শুনে গলা শুকিয়ে গেলো।তবুও আমতা আমতা করে বলালম,
–“আআমি আজ দাদির সাথে ঘুমাবো।”
ইফান এক ব্রু উঁচিয়ে আগের ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে শান্ত কন্ঠে বললো,”কি বললা?”
–“আমি আজ দা…..”
আমার মুখের কথা মুখেই আঁটকে গেলো।কারণ ইফান শরীর টানা দিতে দিতে এক পা আমার দিকে এগিয়েছে।ইফান হাই তুলতে তুলতে বললো,”কি যেন বলছিলে?”
ইফান এক পা করে এগিয়ে আসছে।আমি এক পা করে পিছিয়ে যেতে লাগলাম।এক পর্যায়ে ইফানের মুখের সামনে দরজা আটকে দিতে চাইলে ইফান ধরে নিলো।আমি ছুটে বিছানার উপর উঠে পড়লাম।দাদি আমার এমন কান্ডে হতবাক হয়ে শুয়া থেকে উঠে বসলো।ইফান দরজা আটকে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।ঠোঁটে বাঁকা হাসি।আমি এদিক ওদিক তাকাতেই চোখে পড়লো বিছানা ঝাড়ু।সেটাই হাতে নিয়ে নিলাম।
দাদি হা হয়ে বললো,”বউ ঝাড়ু দিয়ে কি করবি?”
ইফান বিছানার সামনে এসে থামলো। থামতে বাধ্য হলো। কারণ আমি ঝাঁটা ওর দিকে ধরে।আমি দাদিকে বললাম,”ওকে চলে যেতে বল দাদি।”
দাদি ইফানের দিকে তাকাতেই ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,”ডার্লিং তুমি এখন রুম থেকে বেড়িয়ে যাও।আমার বউয়ের সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে।”
দাদি মুখে হাত ধরে চাপা হাসলো।অতঃপর বিছানা থেকে নামতে প্রস্তুতি নিলেই আমি ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে বললাম,”একদম যাবে না।এই শয়তান কে বল যেতে।”
দাদি বোকার মতো ইফানের দিকে তাকাতেই ইফান চোখ মেরে ইশারা করলো ওপাশ ফিরে শুইয়ে পড়তে।দাদি পড়নের হিজাবের মাথা মুখে টেনে নিঃশব্দে ওপাশ ফিরে শুইয়ে পড়লো।আমি ইফানের দিকে ঝাড়ু মারতে নিলেই সরে যায়।আমি বলতে লাগলাম এখান থেকে বেড়িয়ে যেতে।কিন্তু যাওয়ার নামই নিচ্ছে না।
ইফান বিছানার ধারে কাছে আসতে নিলেই আমি ঝাড়ু দিয়ে আক্রমণ করছি।ইফান জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
–“সোনা বউ আমার ঝাঁট রেখে নিচে নেমে আস জান।এখন ভালোবাসা করার সময়।”
আমি নাকের পাটা ফুলিয়ে বললাম,”ইফাইন্নার বাচ্চা দাদির রুম থেকে এক্ষুনি বেড়িয়ে যা।নাহলে আমার হাতে ঝাঁটা পিটা খাবি।”
ইফান কোমরে হাত ধরে জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলতে লাগলো। কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে আমাকে দেখে মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।আমি ঝাঁটা হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে দরজা বন্ধ করে শান্তির নিশ্বাস ছাড়লাম।তারপর দাদিকে বলে লাইট অফ আর ডিম লাইট অন করে শুইয়ে পরলাম।
ঘড়ির কাটা প্রায় একটার ঘরে। আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।হঠাৎ করে দরজাটা খুলে গেলো।অতঃপর আগুন্তকঃ দরজা লাগিয়ে অন্ধকারে আমার কাছে বিছানার পাশে এসে থামলো।দাদি আরেকপ্রান্তে আমাকে পিঠ দিয়ে শুইয়ে ঘুমাচ্ছে। আগুন্তকঃ আমার উপর উঠে আসলো।ঘুমের মধ্যে হঠাৎই অনুভব করলাম আমার শাড়ি পা থেকে আস্তে আস্তে উপরে উঠে যাচ্ছে।কিছু একটা আমার উপর ঝুঁকে।আগুন্তকঃ আমার উপর নিজের ভর ছাড়তেই ঘুমের মধ্যে গোঙ্গানিয়ে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম,
–“আম্মা গো…”
–“হিশশশ তর জামাই।”
মূহুর্তেই আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।ঘুম পালিয়েছে।আমার মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে গেছে।আমার নাকে চেনা পুরুষটার শরীরের ঘ্রাণ আসছে।তার চেয়ে বেশি ইফানের মুখ থেকে সিগারেট আর ওয়াইনের তীব্র বিচ্ছিরি গন্ধ আসছে।আমার পেটের সব নাড়িভুড়ি যেন বেড়িয়ে আসার উপক্রম।আমি ওকে ছাড়াতে চাইছি পারছি না।
ইফান আমার ওষ্ঠ ভাঁজে গাঢ় চুমু দিচ্ছে।ইফানের চুমুর শব্দে হঠাৎই মনে পড়লো আমি তো দাদির রুমে। আর দাদি তো বিছানাতেই।লজ্জা কি লজ্জা!! আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমি মুখ দেখাবো কি করে!এভাবে দাদির সাথে থেকে আমরা আন্তরঙ্গ মূহুর্ত ছিহ্ ছিহ্!!
আমি উমউম করে কিছু বলতে চাইলাম।তার আগে ইফানই আমার ওষ্ঠ থেকে ন্যানোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,”চেচামেচি করো না বুলবুলি।দাদি রুমেই।আমার কিন্তু আবার লোকলাজ নাই।লজ্জায় কিন্তু তুমিই পড়বে।”
আর কিছু বলতে পারার মতো কথা খুঁজে পেলাম না।আমি লজ্জা শরমের কথা আর ভাবতে পারছি না।মদ সিগারেটের গন্ধে সত্যি সত্যি দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমি ইফানের মুখ দূরে ঠেলে বমি করার মতো মুখ খিচকে নিলাম।ইফান আমার ঠোঁটে পুনরায় ডুব দিতে নিলে আমি ওর ঠোঁটে হাত ধরে বাঁধা দিয়ে বলালম,
–“মুখ সরাও আমার বমি চলে আসছে।ওয়াক ওয়াক!!
–“উফফ, বাল ভুলেই গেছি!”
আমার কথা শুনে ইফান মুখ সরিয়ে নিলো।অতঃপর পেন্টের পকেট থেকে একমুঠো সেন্টার ফ্রেশের পেকেট বের করে আনলো।আমি অবাক হয়ে বলালম,
–“এগুলো!!”
–“তোমার খারাপ লাগবে বলে নিয়ে আসছিলাম।আগে বলবা না তোমার খারাপ লাগছে।”
আমি ইফানের থেকে চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম,”পুরো তুমিটাই আমার খারাপ লাগছে।আমার উপর থেকে সর ব্যাথা পাচ্ছি।”
ইফান এক সাথে দুটো চুইঙ্গাম মুখে পুরে চিবতে চিবতে আমার কানের কাছে হিসহিসিয়ে বললো,”ব্যাথা দেওয়ার জন্যই তো ধরেছি।বেশি তিড়িংবিড়িং করো না।জানো না তুমি বেশি নাড়াচাড়া করলে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়।নিজেকে রাইট সেন্সে ধরে রাখতে পারি না।”
আমি প্রতিত্তোরে কিছু বলার আগেই লোকটা আমার বুক থেকে শাড়ির আচল সরিয়ে নিলো।ঠোঁটে চুমু দিতে দিতে তার মুখের চুইঙ্গাম আমার মুখে দিতে নিলেই ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম।ইফান হয় তো হাসলো।
সে আমার ঠোঁট আঁকড়ে ধরে এলোমেলো হাতে ব্লাউজের বোতাম খুলতে গিয়ে বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেললো।আমি ইফনের বুকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরাতেই ইফান আমার গা থেকে ব্লাউজ খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।অতঃপর চাদরের নিচে দুজনকে মুড়ে নিলো। আমার সারা মুখে শব্দ করে চুমু খেতে লাগলো।আমি ঠেলে সরাতে চাইলাম।এতে ইফান আমার দু’হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে। আমার আঙ্গুলের ভাজে ভাজে তার আঙ্গুল রাখলো।
সময়ের সাথে সাথে ইফান আরও উন্মাদ হয়ে উঠছে।ফলস্বরূপ তার হাতের নিচে আমার বন্দী হাত দু’টোতে আরও বেশি বল প্রয়োগ করছে।
ঘড়ির কাটা টিকটিক করে রাত দুইটাই এসে থামলো।সারা রুমে আমাদের উন্মাদনার ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস রুমের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বারি খেয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।ব্যথায় সারা শরীর জর্জরিত।একই চাদরের নিচে আমি আর ইফান।আমার অর্ধনগ্ন দেহের উপর জলহস্তির মতো একটা শরীর। ইফানের ভার আমি নিতে পারছি না।আমি হা করে ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছি। ইফান আমার বুকের মধ্যে ঠোঁট ছুঁইয়ে জিহ্বা দিয়ে লেহন করছে।ঠোঁট থেকে গলা বুক সবটা লালায় ভিজে বাজে অবস্থা।আমার ঠোঁটগুলো মনে হয় ফুলে গেছে।যেমন চুমু খেয়েছে তেমন কামড়েছেও।রক্তও বেড়িয়েছিলো।রাক্ষসটা চেটে খেয়ে নিয়েছে।খেয়ে আবার বলে,
–“নোনতা লাগে কেন বউ?”
কত বড় জাউরা হলে এমন ধরণের কথা বলে।আমার সারা মুখে ক্লান্তির ছাপ।কিছুক্ষণ আগেও ঘুমে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছিলো।আর এখন শরীরে অসহ্য ব্যথার ঠেলায় কাঁদতে মন চাইছে।এতটাও ব্যথা দিতে পারতো না যদি আমাদের রুমে থাকতাম।কিন্তু দাদির রুম হওয়ায় মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছি।চেচামেচি ধস্তাধস্তিও করতে পারছি না।আর ইফান চৌধুরী তো সুযোগ লুফে নিতে উস্তাদ।
ইফানের বন্য স্পর্শগুলো আর সহ্য করতে পারছি না।এদিকে ইফানের মতো তার অসভ্য হাত দু’টো আমার দেহের স্পর্শ কাতর অঙ্গগুলোতে বিচরণ করছে।ইফানের বিশাল আকৃতির দেহের নিচে আমার মোমের মতো এইটুকু শরীর।দুজনেই ঘেমে একাকার। আমার কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম পড়ছে।এখন আর ঘনগন শ্বাস নিতে পারছি না।মুখ হা করে খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছি। তনু বুকটা সেই সাথে ধীরে ধীরে উঠানামা করছে।ইফানের হাত আমার তল পেটে। হঠাৎই চাপ বসাতেই আমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম,
–“উহুহ্, লাগছে!”
ইফানের খালি দেহ তাই ওর কাঁধেই খামচে ধরলাম।আজ চেচামেচি করতে না পেরে ওর শরীরে আচ্ছা মতো খামচে দিয়েছি।আবারো খামচে ধরলাম।ইফান থেমে গেলো।নিজের উন্মাদনাকে রুখে ঠোঁটের আসেপাশে লেগে থাকা তরলটুকু জিহ্বা দিয়ে লেহন করে ঢোক গিললো।অতঃপর আমার ক্লান্ত চেহারায় নজর বুলালো।মূহুর্তেই ইফানের চোখ দুটো শীতল হয়ে আসলো।মৃদু আলোতে আমার বেহাল দশা দেখে সারা মুখে শব্দ করে চুমু খেলো।আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সারা মুখে ফু দিতে লাগলো।আল্ত শীতল হাওয়ায় চোখ বন্ধ করে নিয়ে ঢুক গিললাম।ইফান এক হাতে আামর মাথায় এখনো হাত বুলিয়ে আমাকে একটু শান্ত করছে।আমি ভিষণ অস্থির হয়ে আছি।শরীরটা মাঝেমধ্যেই কেঁপে উঠছে।ইফান আমার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
–“তুমি নিজের দোষেই খালি মা’রা খাও।কে বলেছিলো আমার ড্রা’গ’সগুলো সরিয়ে দিতে!এখন আমি নিজেকে শান্ত করবো তারও উপায় নেই।আমি না থাকায় খেয়েদেয়ে তো ভালোই মুটি হয়ে গেছে।স্বামীহীনা আরও সুন্দরও হয়ে গেছ।আজ নিজেকে নিজের কাছেই মাতাল লাগছে বউ।”
ইফান আমার নাকে নাক ঘষে ঠোঁটে টুপ করে শব্দ করে চুমু খেলো।কিছুক্ষণ আমাকে তার বুকের মধ্যে আগলে রাখলো।যেই আমি কান্তিতে চোখ দুটো বন্ধ করেছি ওমনি তার উন্মাদনা আবারও বেড়ে গেলো।এই রে রুমে যে দাদি আছে আমি তো ভুলেই গেছি।মনে পড়তেই ইফানকে আমার থেকে সরাতে সরাতে বললাম,
–“আমাদের রুমে চল।”
–“এখন পারবো না।বিজি আছি।”
আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,”এখানে দাদি আছে। আল্লাহ হেদায়েত কর।”
ইফান বিরক্ততে চ বর্গীয় আওয়াজ বের করে হিসহিসিয়ে বললো,”তাতে কি হইসে, যৌবন কালে শালিও আমাদের মতো হিংকি-পিংকি করতো।”
ইফানের উন্মাদনা আবারো বাড়তেই বললাম,”আস্তে খাট নড়াচড়া করছে শব্দ হচ্ছে তো।দাদি শুনে ফেলবে।”
ইফান আমার গালে চুমু খেতে যাচ্ছিল।কিন্তু এতক্ষণ পর আমার এমন বোকা কথা শুনে ঘারে মুখ ডুবিয়ে নিঃশব্দে হাসতে লাগলো।ওর হাসির তোরে আমার দেহও কম্পিত হচ্ছে।ইফান নিজেকে সামলে আমার গালে দাঁত বসিয়ে দিলো।আমি আবারও চাপা আর্তনাদ করে উঠলাম।ও হাস্কি স্বরে কানে ফিসফিস করে বললো,
–“বুড়ি ঘুমাচ্ছে শুনবে না।”
আমি ঘার বাকিয়ে দাদির দিকে তাকালাম। দাদি আমাকে পিঠ করে দেয়ালের সাথে চেপে শুয়ে আছে।আমি ইফানের দিকে তাকালাম।ইফান ঠোঁট কামড়ে হেসে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।আমি দাঁতে দাঁত পিষলাম।কিছু একটা ভেবে একটা ঢুক গিলে মিনমিন স্বরে ডাকলাম,
–“দাদি…”
–‘হ বোইন ক..”
রাত দুইটা বেজে দশ।সিঙ্গেল কাউচটায় আয়েশ ভঙ্গিমায় বসে আছে নাবিলা চৌধুরী।পড়নে নীল রঙের নাইটডি। হাতে সাদা,লাল আর হলুদ রঙের তিনটি চন্দ্রমল্লিকা ফুল।তিনি খুব মনযোগ দিয়ে ফুলগুলো কে দেখতে দেখতে আল্ত করে তাতে হাত বুলচ্ছে।তার চোখেমুখে হাসির ঝিলিক দিচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে ইকবাল চৌধুরী বাড়িতে এসেছে। ইমরান আরও আগেই বউয়ের জন্য চলে এসেছিলো।কিন্তু ইকবাল চৌধুরী সব কাজ শেষ করে আসতে আরও দেরি হয়েছে।
এদিকে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে বসেছিলো নাবিলা চৌধুরী।ইকবাল চৌধুরী আসতেই নাবিলা চৌধুরী তার স্বামী কে জড়িয়ে ধরে।ইকবাল চৌধুরী বউয়ের কপালে চুমু খেয়ে ফুল গুলো দেয়।তিনি প্রতিদিন রাতে বাসায় আসার সময় নাবিলা চৌধুরীর জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসে।
ইকবাল চৌধুরী ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে গেছে। নাবিলা চৌধুরী অপেক্ষা করছে।এই বয়সেও তিনি অনেক আহ্লাদি মানুষ। বাইরে থেকে অনেক কঠিন হলেও ছেলে আর স্বামীর ক্ষত্রে তিনি ভিষণ নরম।এই জন্যই তো স্বামীকে সবসময় কড়া শাসনে রাখে।তিনি সবসময় একা সবার ভালোবাসা পেতে চায়।এদিকে উনার ছেলেরা বউদের বেশি প্রায়োরিটি দেয় বলে পলি আর আমি উনার দু-চোখর বিষ।শুধু আমি আর পলিই না, উনার থেকে কেউ যদি অন্য কাউকে বেশি গুরুত্ব দেয়,তাদেরকেই সহ্য করতে পারে না।
ইকবাল চৌধুরী শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসে।এসে দেখে তার বউ ফুলগুলো দেখে মুচকি হাসছে।তিনি এগিয়ে এসে বলে,
–“বাচ্চাদের মা এত খুশি কেন আজ!”
নাবিলা চৌধুরী ঝটপট তাকাই। তারপর তাড়াতাড়ি ওঠে ইকবাল চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে। ইকবাল চৌধুরী নাবিলা চৌধুরীর হাত থেকে একটা লাল ফুল নিয়ে বউয়ের কানে গুঁজে দিলো।নাবিলা চৌধুরী খুশিতে ইকবাল চৌধুরীর গালে শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো,
–“বাচ্চাদের বাবাকে পেয়ে খুশি।”
ইকবাল চৌধুরী হোহো করে হাসলো।তিনি হেয়ালি করে বললো,”এই বয়সেও তুমি বাচ্চাদের মতো আচরণ কর নাবু।আমার মনে পড়ে যায় এই তো সেই দিনই তুমি আঠারো বছরের খুকি ছিলে।”
নাবিলা চৌধুরী গাল ফুলিয়ে বলে উঠে,”এই বয়স কি হ্যাঁ।আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি!!”
জাহানারা পর্ব ৫০
–“একদমই না। তুমি এখনো আমার খুকি বউই আছ।”
–“থাক আর ডং করতে হবে না।”
নাবিলা চৌধুরী আর একবার চৌধুরী কিছুক্ষণ গল্প করলো।অতঃপর রুমের লাইট অফ করে দুজন শুইয়ে পড়লো।
তাদের রুম থেকে হাসিঠাট্টার শব্দ শুনা যাচ্ছে। কখনো চুমুর শব্দ ভেসে আসছে।এদিকে তাদের দরজার বাইরে অশরীরির মতো দাঁড়িয়ে আছে কেউ একজন। চারিদিকে অন্ধকার।আগুন্তকের চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝড়ছে।উক্ত ব্যক্তি দেয়ালে হেলান দিয়ে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে অশ্রু ঝরালো যতক্ষণ পর্যন্ত মন্ত্রী সাহেবের রুমের প্রেম গুঞ্জন শুনা যাচ্ছিল।
