Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৯
ইনান হাওলাদার

গতরাত আর ঘুম হয়নি আহির। সে বুঝছে তূর্য যা করছে ওর উপর অভিমান থেকে করছে। তবে এই মান-অভিমানের পালা তো এবার শেষ হওয়া উচিত । মেয়েটি তার ভুল বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে, ‘ কাউকে ভালোবাসলে সর্বসম্মুখে তাকে চাওয়ার সাহস থাকা জরুরী।নাহলে ভালোবাসা নামক সম্পর্কে জড়ানো-ই উচিত নয়।’এখন যা করার ভেবে-চিন্তে করতে হবে।ঠান্ডা মাথায় তূর্যকে মানাতে হবে। এভাবে কান্না-কাটি করে কোনো ফায়দা হবে না। ইতোমধ্যে অনেকটা পা’গলামি করে নিয়েছে। সে বিছানা ছেড়ে উঠে চোখ জোড়াতে পানি ছিটিয়ে নিচে নামলো।
নিত্যদিনের মতো আজও সকালের নাস্তা করতে ব্যস্ত চৌধুরী পরিবার।আহি ব্যতীত সকলে উপস্থিত সেখানে।এখনি হয়তো সেও চলে আসবে। কাল রাতের পুরোপুরি ঘটনা না জানলেও কিছুটা সম্পর্কে অবগত আকবর চৌধুরী।তিনি আহিকে তূর্যের রুমের দরজার সামনে বসে কান্না করতে দেখেছেন। নানান কথা ভাবনা-চিন্তা করে আর এগিয়ে যাননি মেয়েটার কাছে। তিনি একবার দোতলায় চোখ বুলিয়ে নিলেন।তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন,

” চাচাতো বোন আর নিজের বোনের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এসব পা’গলামি আর করো না ”
তূর্য জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাঁকালো। বি’রক্তির সাথে বলল,
” আমি কোনো পা’গলামি করিনি। তাছাড়া,এখন এসব কথা কোত্থেকে আসছে?”
” তুমি যতটা সহজে সবটা মেনে নিতে পেরেছো ,ও পারছে না। ওকে একটু বোঝানো উচিত তোমার ”
পুনরায় খাবারে মনোযোগ দিলো তূর্য। বললো,
” স্যরি! সে বুঝতে পারছে না, ইট’স হার প্রবলেম । আমি কি করতে পারি ! ”
” মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে তূর্য ” এবারে কিছুটা শক্ত শোনা গেল আকবর চৌধুরীর গলা।
হাতের স্যান্ডুইচটা প্লেটে রাখলো তূর্য।বাবার চোখে চোখ রেখে বলল,
” তো? কি করবো আমি? তোমাদের মেয়েকে তোমরা দিবে না দিও না। যে আমাকে চায় না আমিও তাকে চাই না । ইট’স…”
তূর্যের এমন খামখেয়ালী কথায় রে’গে গেলেন আকবর চৌধুরী।তেঁ’তে উঠে বললেন,

” যার ক’ষ্টে তোমার একটুও খারাপ লাগছে না ?তাহলে তাকে কেমন ভালোবেসেছিলে? এই তোমার ভালোবাসা ? ”
” আমি এই প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না,আব্বু ” কাটকাট গলায় কথাটা বলতেই সম্মুখে নজর গেল তূর্যের। আহি আসছে ! এবারে আর মেয়েটাকে দেখে খাবার রেখে উঠলো না সে। আহির দিকে আড় চোখে তাঁকিয়ে থেকে বাবার উদ্দেশ্যে বললো,
” আব্বু ,মেয়ে দেখুন আপনারা । আই ওয়ান্ট টু গেট ম্যারিড ”
বলে এক ঘর মানুষকে অবাক করে ডাইনিং থেকে উঠে গেল সে। খাবার টেবিলের প্রত্যেকটি ব্যক্তির দৃষ্টি তখন তার যাওয়ার পানে। শুধু এক জোড়া চোখ শূন্যে থেমে গেছে। সে যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এটা ঠিক শুনলো সে? তূর্য ভাই বিয়ে করতেন চান? তাও অন্য কোনো মেয়েকে! সে নিজের চোখের সামনে কিভাবে এসব দেখবে? কিভাবে তূর্যের জিনিসে,রুমে ,সর্বোপরি তূর্যের জীবনে অন্য একটা মেয়েকে খবরদারি করতে দেখবে? তূর্য ভাই এতটা নি’ষ্ঠুর,পা’ষাণ মানব কবে হলেন ?
আহি মনে মনে বিড়বিড় করলো,

” আমি যখনই মনবল যোগালাম,চাইলাম সবটা ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করতে তখনই আপনি পুনরায় আমাকে ভে’ঙে দিলেন তূর্য ভাই।শুধু নিজের দিকটাই বুঝলেন । একটাবার নিজেকে আমার জায়গা দাঁড় করিয়ে দেখলেন না।
আমার কাছে সকল স’মস্যার সমাধান আপনি ছিলেন । ভেবেছিলাম আমি যা-ই বলিনা কেন আপনি ঠিকই আমাকে নিজের করে নিবেন।এইটুকু বিশ্বাস আমার ছিল।কিন্তু আপনি আমার না হয়ে , অন্যের হওয়ার জন্যে এভাবে উঠে পড়ে লেগেছেন!”
ডাইনিংয়ের সবার দৃষ্টি পাথর হয়ে পড়ে থাকা মেয়েটার দিকে। সবার মুখেই করুণ ভাব স্পষ্ট । লতা বেগম এগিয়ে গেলেন আহির কাছে। নরম কন্ঠে সুধালেন,

” খাবি না ? বোস তাহলে ”
আহি ‘ হ্যাঁ ‘ সূচক মাথা নাড়িয়ে রোবটের মতো চেয়ার টেনে বসলো। মারুফা বেগম প্লেটে স্যান্ডুইচ তুলে দিলেন। আসলাম চৌধুরী খাওয়া শেষে উঠতে উঠতে বললেন,
” আহি, মা খাওয়া শেষে আমার সাথে একটু দেখা করো। ”
আহি এবারেও কলের পুতুলের ন্যায় ‘ হ্যাঁ ‘ সূচক মাথা নাড়ল।

আধ ঘন্টা পূর্বে তূর্যের চেম্বারে এসেছে তাসিন। টানা দেড় ঘন্টা বসে থেকে তারপর চেম্বারে ঢোকার সুযোগ পেয়েছে। তাসিনের মুখে চিন্তার ছাপ।অথচ তূর্য দিব্যি কফি খেয়ে যাচ্ছে।ছেলেটা এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছে তবুও তূর্যের কোনো সিরিয়াসনেস নেই। বিরক্তির শেষ পর্যায়ে গিয়ে তেঁতে উঠলো সে,
” তুই কি চাইছিস তূর্য? তোর মাথায় কি চলছে একটু বোঝা আমাকে ভাই। ”
সাথে সাথে ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর করলো তূর্য,

” কিছুই চলছে না। ”
” তুই সাই’কো হয়ে গেছিস ভাই।নাহলে তোর পক্ষে আহিকে এতটা কষ্ট দেওয়া পসিবল নয় ”
” সী ডিজার্ভ ইট ”
” তাই বলে বিয়ে?অতিরিক্ত করছিস তুই। তোর মত ত্রিশ বছরের ধাম’ড়া না মেয়েটা যে,সব বুঝে বসে থাকবে ”
” ই’রিটেইট না করে যা তাসিন ,প্লিজ ”
দমলো না তাসিন। সে তূর্যকে বোঝানোর কায়দায় পুনরায় বলল,
” বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয় যে, আজ আহিকে ভালোবাসার মর্মার্থ বোঝাতে বিয়ে করলি ।তারপর দুইদিন পর তাকে ডি’ভোর্স দিয়ে আবার আহিকে বিয়ে করলি। ”

” হয়েছে তোর? হলে যা এখন ”
খানিকটা জোর গলায় বলতে আরম্ভ করলো তাসিন,
” না হয়নি। এসবের মূলে তো তুই নিজে তূর্য। ওসব ছবি পাঠাপাঠি করে জল ঘোলা না করে তুই যদি নিজে তোর চাচার সাথে কথা বলতিস আমার মনে হয় তিনি বুঝতেন। ছোট থেকে তুই আহিকে কি চোখে দেখিস সেটা শুধু তুই-ই জানিস ।বাড়ির সকলে তো আর জানে না।তারা তোদের ভাই-বোন-ই ভেবে আসছে।এখন হুট করে ওমন ছবি দেখলে সবারই খারাপ লাগবে , রা’গ উঠবে।সেখানে উনি তো আহির বাবা।এটা একটু বোঝ ভাই ”
তূর্য বুঝলো কি বুঝলো না কে জানে! সে দাঁত চেপে বলল,
” তোদের আমি কি বলেছিলাম ? আর তোরা কি করেছিস? কি’সিং পিকচার কেন দিয়েছিলি স্টু’পিড?
তাসিন থতমত করতে করতে বলল,
” আমরা একটা পিক নিয়েই চলে যাচ্ছিলাম ভাই।ওইটা ভুল করে ক্লিক হয়ে গেছে। ”
তূর্য পুনরায় দাঁত পি’ষে বললো,

” যাচ্ছিলাম মানে কি? তোদের আমি চলে যেতে বলেছিলাম,ওই টাইমে ঐখানে কি করছিলি ,বল আমাকে ”
” এমন ভাব করছিস যেন লিপ কি’স করেছিস। গালেই তো চু’মু খেয়েছিলি।দেখেছি তো কি হয়েছে ? তাছাড়া আমাদের তোর বা’সর দেখারও ইচ্ছে আছে।”
তারপর আবার সন্দিহান গলায় তাসিন বললো,
” তখন না খেলেও আগে পরে খেয়েছিস নাকি ভাই? লি’প …. কি’স !”
” সেই কৈফিয়ত তোকে দিতে হবে? ” কড়া গলায় বলল তূর্য।
তাসিন ,তূর্যের দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে সেটাকে উপর – নিচ নাচতে নাচতে হাসি দিয়ে বলল,
” তারমানে খেয়েছিস , হুমমম ? হুমমম?”
” নাহ ” গম্ভীর গলায় বলল তূর্য। তাসিন তার কথায় অনড় । সে একই কথার জের ধরে বলল,
” এত কিছু করার পরেও তুই অন্য মেয়েকে বিয়ের কথা মাথায় কেমনে আনলি ভাই?”
প্রশ্নটি করে দম ফেলার আগেই তূর্যের মোবাইলে পরপর কয়েকটা নোটিফিকেশন এলো। এই যাত্রায় বেঁচে গেল তাসিন।
তূর্য মোবাইল আনলক করে ম্যাসেজ চেইক করলো। পাঁচ থেকে সাতটা মেয়ের ছবি,আকবর চৌধুরী পাঠিয়েছেন। তূর্য ঠোঁ’ট বাঁকিয়ে হাসলো।আর বলল,

” আব্বু তো দেখছি আমার থেকেও বেশি ফাস্ট ”
তূর্যের কথায় কৌতূহল নিয়ে ফোনের স্ক্রিনে তাঁকালো তাসিন।সাথে সাথে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবি গুলো দেখলো।তারপর অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
” তুই সত্যি-ই বিয়ে করবি তূর্য?”
” তোর কী মনে হচ্ছে? আমি ফান করছি ?”
” তাহলে মা’তলামি করেছিস কেন ওর জন্যে? আর মা’তাল হয়ে কিসব বলেছিস সেটার রেকর্ডও তোকে শুনিয়েছি।অস্বিকার করার কোনো রাস্তা নেই।
কেন করেছিস এসব ? ”
” পাস্ট ইজ পাস্ট ! এখন করছি কিনা সেটা দেখ ”
তূর্যের সাথে কথা বা যুক্তির সাথে পেরে ওঠা কারো পসিবল নয়। তাই সচরাচর সবাই আগে থেকেই হার মেনে নেয়।কিন্ত তাসিন আজকে কিছুতেই হার মানতে নারাজ।সে পুনরায় জেরা করতে আরম্ভ করলো,

” আচ্ছা ,সেসব কথা থাক।মেনে নিলাম মুভ অন করেছিস। সি’গারেট কেন ছাড়তে পারছিস না? ”
” এসব সো কল্ড , ইল’লজিক্যাল কোশ্চেন না করে যা।” কেবিনের দরজার দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল তূর্য। তাসিন এবার অন্য প্রসঙ্গ টানলো,
” ওকে! তো কি ভাবলি? কার পছন্দে বিয়ে করবি ? তোর নাকি ফ্যামিলির?”
” বিয়ে যেহেতু আমার , পছন্দও আমার-ই হবে। ”
” সেটা তো অবশ্যই! তো, এদের মধ্যে থেকে কাউকে পছন্দ হলো? ” বলেই আবার তাসিন বলল,
“যদিও হওয়ারই কথা! আমাদের আহি অনেক কিউট,মিষ্টি একটা মেয়ে সেটা আমরা সবাই জানি ।তবে সত্যি বলতে এরা প্রত্যেকেই সৌন্দর্যের দিক দিয়ে আহির থেকে এগিয়ে।এখন….”
তাসিনকে থামিয়ে দিয়ে তূর্য হালকা হেসে বলল,

” পছন্দ হয়েছে তোর? চাইলে একটা নিতে পারিস ”
তাসিন কোনো জবাব দেওয়ার পূর্বেই আবার দাঁত চেপে বলে উঠলো সে,
” আর এক সেকেন্ড টাইম ওয়েস্ট করালে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করবো তোকে ,রাস্কেল। এখনি চোখের সামনে থেকে যাবি।রাইট নাউ!”
” আহির উপর হম্বিতম্বি না করতে পেরে এখন ওর উপর অ্যাপ্লাই করা ডায়ালগ আমার উপর দিয়ে চালাচ্ছিস। কিন্তু ,বিয়ের পর কি করবি ভাই ? তখন তো অন্য কারো হয়ে যাবি ”
” অতীতে যার ছিলাম এখনও তার আছি।এন্ড ইন ফিউচারও তার-ই থাকবো । নাউ, গেইট আউট ”

বিএমডাবলু খচিত কালো গাড়িটা বাড়ির গ্যারেজে রেখে অবাক হয়ে আশপাশটায় চোখ বুলালো তূর্য। বাড়ির কোনা-কানাচ দিয়ে সদ্য বেড়ে ওঠা ঘাস-গুল্ম-লতাগুলো কেঁ’টে খুব সুন্দর করে পরিপাটি করা হয়েছে। বেলা প্রায় শেষের দিকে এখনোও পর্যন্ত কিছু লোক কাজ করে যাচ্ছে।এনাদের হয়তো এক-দুই দিনের জন্যে কাজে নেওয়া হয়েছে। তূর্য চারপাশটা দেখতে দেখতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। ভিতরেও ফার্নিচার মোছার কাজ চলছে।কয়েকজন মহিলা কাজগুলো করছেন। এমন ভাব যেন বাড়িতে বিয়ে লেগেছে। সে তো এখনো বলেনি কোন মেয়ে পছন্দ হয়েছে বা আদেও কাউকে পছন্দ হয়েছে কিনা।
তূর্য অন্যমনস্কতায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো।কয়েকটা সিঁড়ি ভাঙ’তেই দেখতে পেলো তাহি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে নিচে নামছে। সে ওকে আটকালো। আদুরে গলায় জানতে চাইলো,

” দাঁড়া ভাইয়া।বাড়িতে কি হচ্ছে? ”
তাহি খুবই ব্যস্ত ।প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তার নেই।সে তূর্যের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আবারো নিচে নামতে নামতে বলল,
” আহি আপু আমাকে ধরে নিবে।একটু পর তোমার কাছে আসছি ভাইয়া ”
অবাকের চরম পর্যায়ে গিয়ে ভ্রু কুঁচকালো তূর্য। আজ সকাল পর্যন্তও যে মেয়ের মুখে কোনো হাসি ছিল না।সে এখন খেলাধুলা করছে? তার অগচরে কি চলছে এই বাড়িতে? সবকিছু এমন লাগছে কেন?আরও নানান চিন্তা ভাবনার মাঝে দেখতে সে পেল আহিও দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে নিচে নামছে।মুখে সেই আগের চিরো চেনা হাসি।খুব খুশি মনে হচ্ছে। তূর্য একবার ওকে আটকাতে চাইলো।এসব কি হচ্ছে জিজ্ঞেস করতে চাইলো।তারপর আবার নিজেকে আটকে নিলো।আহি এত দ্রুত গতিতে নিচে নামলো যে একটা আস্ত জ্বলজ্যান্ত মানুষ সিঁড়ির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে খেয়াল করলো না ।নাকি খেয়াল করেও করলো না কে জানে !
তূর্য নিজের রুমে যাওয়ার পথে একবার পারভিন বেগমের রুম ঘুরে গেল।বলতে চেয়েছিল অনেক কথা ।কিন্তু সেসবের কিছুই না বলে এক কাপ কফি চেয়ে বেরিয়ে এলো।
কিছুক্ষণ পর পারভিন বেগম কফি দিয়ে গেলেন।ততক্ষণে তূর্য ফ্রেশ হয়ে গায়ে টিশার্ট, ট্রাউজার জড়িয়ে নিয়েছে। কফির মগটা হাতে নিয়ে বাগানের দিকের জানালার পর্দা টেনে গ্লাস সরিয়ে দিলো। পুনরায় অবাক হলো সে। বাগান কেন পরিষ্কার করছে? নিজের কৌতূহল আর চেপে রাখতে পারলো না তূর্য। দ্রুত গতিতে বাগানে গেল । কিছুক্ষণ সবটা পরখ করে বলল,

” তারেক চাচা ?এত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে কেন জানেন কিছু? ”
ষাটোর্ধ্ব লোকটি কাজ থামিয়ে তূর্যের দিকে তাঁকালেন। স্বভাবসুলভ হেসে বলল,
” মশকরা করছো বাবা? তুমি জানো না ? ”
” সত্যিই জানি না চাচা।কি হচ্ছে এসব ”
” আমি বলছি কি হচ্ছে ”
পিছন থেকে ভেসে আসলো কথাটা। তড়িৎ গতিতে পিছনে ফিরে তাঁকালো তূর্য।আসলাম চৌধুরী মুখে হাসি লেপ্টে দাঁড়িয়ে আছেন। তূর্য এগিয়ে গেল।গম্ভীর কন্ঠে বললো,
” কি হচ্ছে ? ”

আসলাম চৌধুরী তাকে একটু দূরে আসতে ইশারা করলেন। তূর্য ওনার ইশারা মোতাবেক এগিয়ে গেল। জায়গাটা কিছুটা নির্জন।দুইটি বেতের চেয়ার পাতা। সেখানের একটিতে তিনি বসলেন আর অন্যটিতে তূর্যকে বসতে ইশারা করলেন। তূর্য গিয়ে বসলো।পুনরায় একই প্রশ্ন করলো,
” কি হচ্ছে বাড়িতে ? ”
আসলাম চৌধুরী একটু সময় নিয়ে বললেন,
” হচ্ছে না, হবে ! বিয়ে হবে চৌধুরী বাড়িতে ”
তূর্য যা আন্দাজ করেছিল তাই! সে বি’রক্ত ভঙ্গিতে বলল,
” বিয়ে করবো বলেছি,আব্বু কিছু মেয়ের পিকচারও পাঠিয়েছেন। বাট, সেখান থেকে আমি এখনো কাউকে চুজ করিনি । তাহলে ? ”
হালকা হাসলেন আসলাম চৌধুরী।বললেন,
” কে বললো তোমার বিয়ে ? আমার মেয়ের বিয়ে! চৌধুরী বাড়ির বড় কন্যার বিয়ে ! আফহানা চৌধুরী আহি’র বিয়ে ”

হঠাৎ মস্তিষ্ক জুড়ে ক্রো’ধের আগুন নেমে এলো তূর্যের।হি’তাহিত জ্ঞা’নশূন্য হয়ে ব’জ্রকন্ঠে চেঁ’চিয়ে উঠলো,
” কিসব নাটক শুরু করেছেন চাচ্চু ? আপনার সাথে আমার কি কথা হয়েছিল ? বলেছিলেন, আপনার মেয়ে যদি আমার জন্য টানা এক মাস পাগলামি করে আপনি দ্বিতীয় কোনো কোশ্চেন ছাড়া ওকে আমার হাতে তুলে দিবেন। এর জন্যে ওকে ই’গনোর করতে হবে আমার,বোঝাতে হবে আমি ওকে ভালোবাসি না, ভুলে গেছি ওকে। ”
আসলাম চৌধুরী তূর্যের পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে শান্ত কন্ঠে বললেন,
” এভাবে উ’ত্তেজিত হচ্ছো কেন? ”
” হবো না কেন? এই দেড় মাস ধরে আমার জন্যে করা ওর পাগলামি আপনি দেখেননি ? তাহলে? ”
” হুঁ,দেখলাম ! শেষ পর্যন্ত মি’থ্যা বিয়ের নাটক করছো?কত ছ’লচাতুরি-ই না করছো আমার মেয়েকে পা’গলামি করানোর জন্যে।”

” ছ’লচাতুরি করলে ওকে এভাবে এত হা’র্ট করতাম না। ”
তিরতিরে মে’জাজে কথাটা বলে একটু থামলো তূর্য। তারপর মে’জাজ নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত কন্ঠে পুনরায় বলল,
” ওকে ,ফাইন ! আপনার মেয়ে যদি এই বিয়েতে সম্মতি দেয় আপনি ওকে বিয়ে দিবেন ,আমি ইন্টারফেয়ার করবো না।কিন্তু যদি,ও একবার না বলে……”
তূর্যের কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই আসলাম চৌধুরী বলে উঠলেন,
” আমার মেয়ে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়ে দিয়েছে। আর দেখলেই তো কত খুশি। আগের মতো খেলাধুলা করছে, মজা করছে । ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৮

তূর্য একটি আগের ঘটনা কল্পনা করলো। সত্যিই তো আহি হেসে-খেলে বেড়াচ্ছে। কিভাবে পসিবল এটা। মেজো চাচ্চু কি বুঝিয়েছেন ওকে? ও সত্যি সত্যিই বিয়েতে সম্মতি দিয়ে বসলো না তো!গলা শুকিয়ে এলো তূর্যের । ও একটা শুকনো ঢোক গিললো।তারপর শান্ত কন্ঠে হু’মকি দিয়ে বললো,
” আমিও দেখবো আপনার মেয়ের সমন্ধ নিয়ে এই বাড়ির সীমানায় পা ফেলার সাহস কে দেখায়। ” তারপর বড়বড় পা ফেলে জায়গা ছাড়লো সে। ও যেতেই আসলাম চৌধুরী হাসলেন।উচ্চ গলায় বললেন,
” পারলে আটকিও ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৪৯ (২)