Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৭+১৮

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৭+১৮

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৭+১৮
sanara

রিদ্র বলল,
— “জী, অবশ্যই।”
হোস্ট সামিরাকে বলল,
— “ম্যাম, আপনাদের পরিচয় কিভাবে হলো?’
সামিরা রিদ্রের দিকে তাকালো। তখন রিদ্র বলল—
— “আমি বলি, আমাদের পরিচয় কীভাবে হলো।”
— “জি স্যার, বলুন।” (হোস্ট)
রিদ্র বলতে শুরু করলো,

— “প্রায় দুই বছর আগে আমি USA-এর স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। তখন খুব খুশি ছিলাম। বাসায় গিয়ে জামাকাপড় গোছাতে হলে বাসায় যেতে হবে, তাই রওনা দিলাম। আমার বাসার পাশে একটি এতিমখানা ছিল। সেখানে সামিরা ছোট ছোট বাচ্চাদের চকলেট দিচ্ছিল। তার হাসি দেখে আমি স্থব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। হয়তো সেটাই আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা। তাই USA যাওয়ার আগের কয়েকটা লোককে আমি সামিরার খোঁজ রাখার দায়িত্ব দিয়েছিলাম।
দুই বছর পর USA থেকে ফিরে বাসায় যাওয়ার সময় দেখলাম, সামিরাকে আরেকজন ছেলে হাটু বাজিয়ে প্রপোজ করছে। আমি গাড়িটি দ্রুত থামাতে বললাম আমার গার্ডদের। গাড়ি থামতেই আমি দ্রুত নেমে সামিরার কাছে গিয়ে তার হাত চেপে ধরে গাড়ীতে বসালাম। সামিরা টেপ রেকর্ডের মতো চেচাতে চেচাতে আমার কান অর্ধেক শেষ করে দিচ্ছিল। তারপর তাকে জোর করে বিয়ে করি।
বিয়ের পর, সামিরাকে চোখে চোখে রাখার জন্য আমি আমার বাবার কলেজের ইংলিশ লেকচারার হিসেবে জয়েন করি। আসতে আসতে সামিরা আমাকে ভালোবেসে ফেলে। আজ আমাদের এনগেজমেন্ট ছিল। এনগেজমেন্ট সম্পন্ন করে এখানে এলাম। আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিয়ে হবে।”
হোস্ট অবাক হয়ে বলল,

– “আপনি আপনার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ম্যামের কলেজে লেকচারার হয়েছেন? অনেক ইন্টারেস্টিং, স্যার!”
— “হুম।”
সামিরা টলমল চোখে রিদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল। ভাবছিল— “আমাকে একজন লোক এতো ভালোবাসে! এতো এতো!”
রিদ্র দেখলো তার স্নিগ্ধ পরীর চোখে পানি টলমল করছে। তাই এক হাত দিয়ে সামিরাকে জড়িয়ে ধরল—
— “আমরা এখন যাই, অনেক টায়ার্ড। আমরা এখন।”
রিদ্র সামিরার হাত ধরে নিচে এলো এবং গাড়ীতে বসালো। সামিরা আর নিজের চোখের পানি সামলাতে না পেরে চেচিয়ে কান্না করতে লাগল এবং রিদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল—
— “ভালোবাসি, ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি আপনাকে।”
রিদ্র বলল,

— “জানিতো।”
বলে সামিরাকে আগলে ধরল।
রিদ্র বলল,
— “আচ্ছা, এখন ড্রাইভ করতে দাও, নাহলে এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে।”
সামিরা ছেড়ে দিলো রিদ্রকে। রিদ্র এক হাত দিয়ে সামিরার হাত আঁকড়ে ধরল। রিদ্র সামিরাকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিল।
সামিরা গাড়ি থেকে নেমে বলল,
— “বাসায় আসুন?
রিদ্র বলল,
– আজকে আর না পরে।”
সামিরা বলল,
– “ঠিক আছে, সাবধানে যাবেন।”
রিদ্র বলল,
– “আচ্ছা, ঠিক আছে।”
সামিরা আর কিছু না বলে বাসায় চলে এলো। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে সামিরা ঘুমিয়ে পড়লো, কারণ চোখ মেলে তাকাতে পারছিল না।
সকালে, ঘুম থেকে উঠে সামিরা ফোন হাতে নিয়ে দেখলো, রিদ্র কল দিয়েছে।

সামিরা ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে দেখল সামিরা রিদ্র ভাইরাল,
গত কালের ইন্টারভিউতে রিদ্রকে দেখে কয়েকটা মেয়ে ক্রাশ খেলেও সামিরাকে দেখে চুপসে গিয়েছে,,
অনলাইন এবং টিভিতে শুধু রিদ্র আর সামিরার মুখ দেখা দিচ্ছে,
সামিরা এবার রিদ্রকে কল লাগালো,
রিদ্র কল ধরতেই সামিরা বলতে থাকল,
জানেন আমি আর আপনি ভাইরাল,,,,
হুম গতকাল রাতেই ভাইরাল হয়েছি আমরা,,(রিদ্র)
আপনি আমাকে জানাননি কেনো?(সামিরা)
তুমিতো সরিষার তেল নাকে লাগিয়ে মরার মতো ঘুমাও,তাহলে কি তোমাকে কলে পাওয়া যাবে?(রিদ্র)
রিদ্রর কথায় সামিরা ভ্যাবাচেকা খেলো,আচ্চগা আমি ফ্রেশ হবো এখন,আল্লাহ হাফেজ বলেই সামিরা কল কেটে দিল,

সময় রকেটের গতিতে কেটে গিয়েছে,আজ রিদ্র সামিরার গায়ে হলুদ,
আজকে সামিরা হলুদ আর লাল রঙের কম্বিনেশনের লেহেঙ্গা পরেছে, আজকে সামিরাকে বেশি মেকাপ করিয়েছে পার্লারের মেয়েরা,নাকে নধ,গলায় স্বর্ণের মালা কানে স্বর্ণের দুল, চুল গুলো খোপা করানো,ঠোঁটে নুড কালারের লিপস্টিক,
আজকে সামিরাকে আকাশ থেকে নেমে আসা হুর পরীর মতো লাগছে,সামিরা নিজেকে আয়নার দেখে নিজের উপর ক্রাশ খেলো,

রিদ্রকেও আজ কম লাগছে না😏
সাদা রঙের কোট এর মতো একটি পাঞ্জাবি পরেছে, স্পাইট করা চুল, ব্রেন্ডের ওয়াচ, হালকা চাপ দাড়ি,( উফ আপনাদের লেখিকা আপুও ক্রাশ খেয়ে নিলো রিদ্রর উপর)
রিদ্রকে একটু আগে স্টেজে বসানো হয়েছে, রিদ্র বার বার এদিকসেদিক তাকাচ্ছে, তখনি সামিরা এন্ট্রি নিলো,রিদ্র সামিরাকে দেকে মুখ হা হয়ে গেলো,
সামিরাকে রিদ্রর পাশে বসানো হলো, রিদ্র সবার অগোচরে সামিরাকে চোখ টিপ মারল, সামিরা রিদ্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো, সবাই সামিরাকে হলুদ লাগানোর আগে রিদ্র সবার অগোচরে অল্প একটু হলুদ নিয়ে সামিরার গালে লাগিয়ে দিলো, সামিরা প্রথমে অবাক হলো,তারপর সামিরাও সবার অগোচরে র অল্প একটু হলুদ নিয়ে রিদ্রর গালে লাগিয়ে দিলো,,,

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৫+১৬

হলুদের পর্ব শেষ হলো একটু আগে,রিদ্র সামিরাকে বলেছে এখন রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে যেতে কারন সামিরার উপর আজ কম দখল যায় নি তা রিদ্র জানে,,
সামিরা ভদ্র মেয়ের মতো মাথা দুলিয়ে হ্যা জানালো,
রিদ্র মুচকি হাসল, আর সামিরার কাছে একটু ঝুকে গিয়ে টুপ করে গালে একটা চুমো দিয়ে দিলো, সামিরা বড় বড় চোখ করে রিদ্রর দিকে তাকালো,

অসমাপ্ত তুমি শেষ পর্ব