Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি শেষ পর্ব

অসমাপ্ত তুমি শেষ পর্ব

অসমাপ্ত তুমি শেষ পর্ব
sanara

সামিরা রিদ্রর দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালো,,তখনি রিদ্র বলল,
তোমার গুলোমুলো গালটায় শুধু চুমো দিতে মন চায়,তাই দিয়ে দিলাম, এই চুমোটা হারাম না,,হালাম চুমো,,,
কাল আমাদের বিয়ে তাই আমি এখন ঘুমোতে যাচ্ছি,,বলেই সামিরা তার ঘরে চলে গেলো,,
রিদ্র আর কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে এলো,রিদ্র খুব এক্সাইটেড কারন তার আর সামিরার বিয়ে আগামী কাল।
সকালে

সামিরা ঘুম থেকে উঠে কি মনে করে রিদ্রকে কল দিলো কিন্তু রিদ্র কল ধরল না,সামিরার এখন খুব চিন্তা হচ্ছে,এই নিয়ে ৭ বার রিদ্রকে কল দিলো সামিরা,রিদ্র একবার ও কল ধরল নারিদ্র গত কাল খুব লেট এ ঘুমিয়েছিলো তাই সকালে রিদ্রের ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়েগিয়েছে,ঘুম থেকে উঠে দেখলো সামিরা অনেকগুলো কল দিয়েছে,তাই রিদ্র সাথে সাথে সামিরাকে কল লাগালো,
রিদ্র কল দেয়ার সাথে সাথে সামিরা কল ধরে অস্থির গলায় বলতে থাকল,,
আপনি ঠিক আছেন রিদ্র,,,আপনি কোথায়?কথা বলছেন না কেনো?,,রিদ্র,,,(সামিরা)
আরেএএ আমাকেতো কথা বলার টাইমটাতো দিবে নাকি?আস্ত টেপ রেকর্ড একটা,,(রিদ্র)
আমার খুব টেনশন হচ্ছিলো আপনি কল না ধরায়,,(সামিরা)
আমি ঘুমাচ্ছিলাম তাই কল ধরতে পারিনি,,সরি,,(রিদ্র)

আচ্ছা আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন।রাখি,বলেই সামিরা কল কেটে দিলো,,
রিদ্রর আজ কেমন যেনো লাগছে,আজকে মনে হচ্ছে কিছু খারাপ হতে যাবে,,
সামিরাকে পার্লারে নেয়া হলো বউ সাজানোর জন্য,,,সামিরাকে গোল্ডেন কালারের লেহেঙ্গা পড়ানো হয়েছে,,ঠোঁটে নুড কালার এর লিপস্টিক লাগানো হয়েছে,হাতে মানতাসা লাগানো হয়েছেসামিরাকে আজ খুব মিষ্টি লাগছে,,,,,রিদ্রর স্নিগ্ধপরী লাগছে একদম,,
রিদ্র আজ কালো রঙের ব্লেজার এর ভেতর ইন করা সাদা শার্ট এর দুটো বোতাম খোলা, চুল স্পাইট করা,হাতে ব্রেন্ডের ওয়াচ পড়া,
উউফ আজকে রিদ্রকেও খুব হেন্ডসাম দেখাচ্ছে,,,

সামিরা পার্লার থেকে এসে নিজের রুমে গিয়ে বসল,তখনি তার বেস্ট ফ্রেন্ড সানিয়া সামিরাকে জড়িয়ে ধরলো,,,
সরি দোস্ত,,, বাহিরে প্রচুর জ্যাম ছিল তাই আসতে লেট হয়েছে,,(সানিয়া)
মিথ্যা,, সানিয়ার সাজতে প্রচুর সময় লেগেছে সামিরা(ইফতি)
(অহও আপনাদের বলতে ভূলে গিয়েছিলাম,,সানিয়া আর ইফতি দুজন দুজনকে ভালোবাসে)
আমি জানতাম(সামিরা)
তখনি সামিরার ফোনে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজ আসল,,
সামিরা আমি রিদ্র,তুমি একটু ছাদের এসো,,
সামিরা সানিয়া আর ইফতিকে বলল,আমি একটু ছাদে যাচ্ছি রিদ্র আমাকে ছাদে যেতে বলেছে,,
আচ্ছা যা,,(সানিয়া ইফতি)
হুম বলেই সামিরা পা বারালো ছাদের দিকে,,

সামিরা ছাদে এসে দেখল কেউ নেই,তাই সামিরা পিছনে ফিরতে নিবে তখনি কেউ হাত টান দিলো,
সামিরা দেখল সিমি তার হাত টেনে রেলিং এর কাছে নিয়ে যাচ্ছে,
আপনি এখানে কেনো?আর আমাকে অখানে নিয়ে যাচ্ছেন কেনো?(সামিরা)
আপদ দূর করার জন্য(সিমি সামিরাকে টান্তে টান্তে বলছে)
আমাকে ছাড়ুন(সামিরা)
তোমাকে ছেড়ে দিবো কিছু এখানে নই,নিচে,,,
বলে সামিরাকে ধাক্কা মারলো নিচে,,,,,

কিছুক্ষণ আগে রিদ্র স্টেজে এসে বসল,, অনেকক্ষণ হলো সামিরাকে কোথাও দেখছে না তাই ইফতি আর সানিয়ার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,,
সামিরা কোথায় তাকে দেখছি না যে?
আরে জিজু আপনি এখানে? আপনি তো সামিরার সাথে ছাদে থাকার কথা!(সানিয়া)
মানে কি? (রিদ্র)
আরে আপনিতো সামিরাকে মেসেজ দিয়ে বললেন ছাদে যেতে, (সানিয়া)
আমি কখন সামিরাকে ছাদে যেতে বললাম?!!বলেই রিদ্র দ্রুত ছাদে এলো,, ছাদে এসে দেখেল সামিরা কোথাও নেই,, তাই রিদ্র সামিরা নাম ধরে ডাকা শুরু করল,,

আমাকে বাচান রিদ্র আমি পরে যাচ্ছি!!(সামিরা)
যেখান থেকে আওয়াজ হল সেখানে রিদ্র দ্রুত গেলো আর দেখল,,সামিরা এক হাত দিয়ে রেলিং ধরে ঝুলে আছে,, রিদ্র এক সেকেন্ড ও দেড়ি না করে সামিরাকে টেনে উঠালো,,
সামিরাকে উঠানোর সাথে সাথে সামিরা রিদ্রকে ঝাপটে ধরে কান্না করতে করতে বলতে থাকলো,,
আমার মনে হচ্ছিলো আমি আর বাঁচতে পারবোনা,,আপনার হয়ে থাকতে পারবো না,,,,,
কিছু হবে না জানপাখি,,আমি আছিতো,,আমি থাকতে তোমার কিছু হবে নাহ,,(রিদ্র)
হুম(সামিরা)
কিন্তু তুমি ছাদ থেকে পড়লে কিভাবে?!! (রিদ্র)
আমি ইচ্ছে করে পড়িনি সিমি ম্যাম আমাকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল,, (সামিরা)
মানে?সে কেন ধাক্কা দিবে?(সিমি)
আমি জানি না,,আমাকে অন্য নাম্বার দিয়ে মেসেজ দিয়ে বলল,”আমি রিদ্র,,তুমি জলদি ছাদে এসো,,”
(সামিরা)

এই কথা শুনে রিদ্রর পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেলো,তার সাহস কি করে হয় সামিরাকে ধাক্কা মারার?
রিদ্র কিছু না বলে কাকে যেন কল দিয়ে বলল,,
আপনি জলদি সিমিকে নিয়ে ছাদে আসুন,, বলে কল কেটে সামিরাকে জড়িয়ে ধরল,,
কিছুক্ষণ পর কয়েকজন পুলিশ সিমিকে টানতে টানতে ছাদে সামিরা আর রিদ্রর সামনে দাঁড় করাল,,
এই মেয়ে আপনার সাহস কী করো হ্যাঁ আমার জান পাখিকে ধাক্কা মারার?(রিদ্র)
এই মেয়ে সব মিথ্যে বলেছে তোমাকে রিদ্র,,(সিমি)
চুপ মেয়ে,,,এই মুখ দিয়ে মিথ্যা বলতে খারাপ লাগছে না আপনার?আমি কতোবার বলব আমি আপনাকে ভালোবাসি না ভাই,,,,,,

রিদ্র সিমির সাথে আর কথা না বলে পুলিশকে বলল,,এই মেয়েকে নিয়ে যান,,তাকে যেনো আর না দেখি,,,,বলে গরম চোখে সিমির দিকে তাকালো,,
সিমি তাচ্ছিল্য হেসে বলল,,
“আমি তোমাকে কখনো ভূলবো না রিদ্র
কারণ ভূলাটা কখনো ভালোবাসা নয়””
তখনি পুলিশরা সিমিকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো,,
রিদ্র সামিরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,,
চলো বউ বিয়ে করবো,,এখানে দাড়িয়ে থাকলে তো আর তোমার নাতি নাতনির নানা হতে পারব না,,
সামিরা রিদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল,
চলুন,,বলেই সামিরা রিদ্রর হাত ধরে নিচে নেমে এলো,,,,
(সামিরার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা বাসার কেউ যানে না,,তাই কেউ সামিরার ব্যাপারে মাথা ঘাটায় নি)
সামিরা আর রিদ্র একসাথে বসেছে।।
কবুল বলো মা(কাজী)

আলহামদুলিল্লাহ কবুল কবুল কবুল (সামিরা)
সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলল,,,
কবুল বলো বাবা(রিদ্র)
কাজীর বলতে দেরী হয়েছে কিন্তু রিদ্রর কবুল বলতে দেরী হয়নি,,,
এই কথা নিয়ে সবাই খুব হেসেছে,,,
বিয়ের সব কাজ শেষ,, এখন বিদায়ের সময়,,
মা তুমি একদম কাদবে না,,তুমি কান্না করলে আমার কান্না চলে আসবে,,আর আমি আগামী কাল আবার আসবো সো নো কান্নাকাটি অকেই?(সামিরা)
সামিরার মা হুম বলেই একফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরল,
সামিরা চলো,,(রিদ্র)
সামিরা তার মা থেকে বিদায় নিয়ে রিদ্রর পাশের সিটে বসে পরলো,,
কিছুক্ষণ পর খান বাড়ির সামনে এশে গাড়ি থামল,,
রিদ্র সামিরাকে গাড়ী থেকে বের করে তার হাত ধরে খান বাড়িরতে প্রবেশ করলো,
সামিরা আর রিদ্রর খুব প্রশংসা করলো সবাই,,
সামিরাকে রিদ্রর রুমে বসানো হলো,,
কিছুক্ষণ পর রিদ্র রুমে প্রবেশ করলো, দেখলো সামিরা হুর পরীর মতো বসে আছে,,
রিদ্র সামিরার কাছে গিয়ে বসল,,

আর বলল,,
খুব ভালোবাসি জান,,,
সামিরা টলমল চোখে রিদ্রর দিকে তাকিয়ে খুব জোরে জড়িয়ে ধরে বলল,
আমিও খুব ভালোবাসি জামাই জান আপনাকে,,,,,,,
রিদ্র মুচকি হাসল,,
জান,,,তোমাকে ভালোবাসতে দিবে?একদম তোমার সাথে মিশে দিতে?(রিদ্র)
সামিরা মুচকি হেসে রিদ্রর বুকে মাথা লুকালো,,
রিদ্রর মুচকি হাসি দিলো,,
রিদ্র সামিরার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো,,,আর ভয়ংকর ভালোবাসা ডুব দিলো,,,
৪ বছর পর,

রিদ্রিতা জলদি খাবার খাও,,(সামিরা)
না মা আর খাবো না,,(রিদ্রিতা)
(রিদ্রিতা হলো সামিরা আর রিদ্রর একমাত্র মেয়ে,,)
না খেলে মাইর দিবো,,, জলদি খাও(সামিরা)
সামিরার ভয়ে রিদ্রিতা খাবার খেয়ে নিলো জলদি,,,
এখন ঘুমাও,না ঘুমালে সন্ধ্যায় তোমার সানিয়া আন্টির বাসায় নিয়ে যাবো না,,,(সামিরা)
আচ্ছা ঠিক আছে ঘুমাচ্ছিতো,,বোকছো কেনো,, বলেই রিদ্রিতা ঘুমিয়েপড়লো,,
বিকেলে সামিরা এক কাপ চা নিয়েমুখ ফুলিয়ে বেলকনিতে বসে আছে,,আজকে সামিরা আর রিদ্রর ৪র্থ তম বিবাহবার্ষিকী,,,,
কিন্তু রিদ্রর কনো খোজখবর নেই,,
হটাৎ করে কেও পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল,,
সরি বউ,,,অনেক ব্যাস্ত ছিলাম,, তুমিতো বুঝো আমার কষ্ট,,,(রিদ্র)

ও বউউউ ভালোবাসি,, জান,,,আমি খুব ক্লান্তও,,,আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,, আমার সমাপ্ত জীবনে #অসমাপ্ত_তুমি বউ,,তোমার জন্য কালো গোলাপ এনেছি,,নাওনা,,,
এবার সামিরা রিদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল,,
আমিও তো আপনাকে ভালোবাসি,,,আমার চেয়ে অনেক,,বলেই রিদ্রর হাত থেকে গোলাপটা নিলো।
রাগ শেষ? (রিদ্র)
হুহ,, বলেই সামিরা উঠে রান্নাঘর থেকে এক কাপ চা নিয়ে রিদ্র দিকে বারিয়ে দিলো,,
রিদ্র সামিরার দেয়া চায়ের কাপটা নিলো,,

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১৭+১৮

সামিরা নিজের চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বলল,
“আমার চা’য়ের কাপে বৃষ্টি নামুক, আপনি খুঁজে নিয়েন ঠাই!!
প্রতিটি বৃষ্টিকণায় লেখা থাকুক শেষ অবধি “আমি আপনাকেই চাই!!!”
রিদ্র দারুন একটা হাসি সামিরাকে উপহার দিলো,,,

সমাপ্ত