Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬০
নওরিন মুনতাহা হিয়া

কলেজের সব ছাএ ছাএীর মুখে এখন শুধু আদ্রিয়ান আর মেঘের কথা! যার আভাস তিহানের কানে যায়! সারা ক্লাস রুম জুড়ে খুঁজেও মেঘের সন্ধান না পেয়ে, বাধ্য হয়ে ছুটে যায় আদ্রিয়ানের কেবিনে৷
বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে প্রকৃতির মাঝে। মৃদু বাতাস বয়ে যাচ্ছে। কেবিনের ছোফায় আদ্রিয়ানের বাহুর শক্ত বাঁধনে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে আছে মেঘ। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে কেবিনের বাহিরে গিয়ে দাঁড়ায় তিহান। মনে সংকোচ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ে, কিন্তু আদ্রিয়ান আর মেঘ ঘুমিয়ে থাকায় শুনতে পায় না! তিহান বেশ কয়েকবার দরজায় কড়া নাড়ে। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নাই! তিহান মাথা উঁচু করে কেবিনের কাঁচের ফাঁকা অংশ দিয়ে ভিতরে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু দরজায় ঝুলন্ত পর্দার জন্য দেখতে পায় না!

হঠাৎ পূর্ব দিগন্ত থেকে আসা বৈরী বাতাসে কেবিনের পর্দা ধপ করে সরে যায়। হালকা মৃদু আলোয় রুমের সাইডে ছোফায় দুইটি দেহের ঘুমন্ত আলিঙ্গনের দৃশ্য দেখে তিহান স্তব্ধ হয়ে যায়! তার সারা শরীরের প্রতিটি শিরায় উপশিরায় চিনচিন ব্যাথা শুরু হয়৷ কাঁচের জানালায় হাত দিয়ে নিজের শরীরের ভর ছেড়ে দেয়! তার চোখে অশ্রু কণা জড়িয়ে পড়ে! প্রতৈক মানুষের জীবনে প্রথম প্রেম এক আলাদা অনুভূতির সৃষ্টি করে! তিহানের জীবনে ও হয়ত তাই ছিল।
রিমিঝিম এক বর্ষায় প্রথম দেখা হয় মেঘের সাথে তিহানের। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যায় সে! মনের অজান্তেই কতো স্বপ্ন আর ইচ্ছার মেলা সাজিয়ে ছিল।

কিন্তু নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্য কারো বুকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখার মতো নিষ্ঠুর অনুভূতির স্বীকার হবে তা জানত না! তিহানের দুই চোখের কোণায় মৃদু পানি জমে যায়!
অবশেষে তিহানের সন্দেহ সঠিক ছিল! মেঘ আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। মানে তারা একে অপরকে ভালোবাসে! ” ভালোবাসি” শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়ে তিহানের কণ্ঠে চাপা কান্না উৎফুল্লিত হয়! তার দ্বারা এই কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তিহান দ্রুত কেবিনের দরজা থেকে সরে দাঁড়ায়, নিজেকে শান্ত করে সিঁড়ি দিয়ে গটগট করে নিচে চলে যায়। কিন্তু অর্ধেক সিঁড়ি অবধি নামার আগেই তার দেখা হয় নূহার সাথে! মূলত নূহা মেঘকে দেখার জন্য কেবিনে এসেছিল!
ছাএ ছাএী সবার মুখে আদ্রিয়ান আর মেঘের কথা শুনে নূহা কেবিনের দিকে ছুটে আসে! হঠাৎ মেঘকে কোলে নিবে কেন আদ্রিয়ান স্যার? মেঘ কি অসুস্থ? সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠার সময় তিহানের সাথে দেখা হয় নূহা! তিহান শরীর ছেড়ে দিয়ে অবশ ভঙ্গিতে হেঁটে যাচ্ছিল, তার পাশে থাকা নূহার দিকে তাকিয়ে দেখেনি! কেবিন থেকে তিহান, মেঘের সাথে দেখা করে এসেছে? নূহা প্রশ্ন করে

___” তিহান, আপনার সাথে কি মেঘের দেখা হয়েছে? মেঘ কি অসুস্থ? ওর শরীরের অবস্থা এখন কেমন?”
নূহার কথার উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে চলে যায় তিহান. তার মাথায় এখন কোন কথায় ঢুকছে না। এমন চুপচাপ তিহানকে চলে যেতে দেখে, নূহা ভীষণ অবাক হয়! প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর পর এই তিহানের কি হয়? পাঁচ মিনিট হাসিখুশি থাকলে, আর দশ মুখ গম্ভীর করে বসে থাকে! মুখ চোখে এমন দেবদাসের মতো করে রাখে কেন? অদ্ভুত! থাক, তার এইসব চিন্তা করার কি প্রয়োজন। আগে মেঘের শরীরের অবস্থা জানা প্রয়োজন। নূহা পুনরায় কেবিনে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়।
ঘুম ঘুম চোখে পিটপিট করে চোখ তুলে তাকায় মেঘ। দক্ষিণা ধমকা হওয়ায় জানালার পর্দা নড়ে উঠল, আকাশে কালো মেঘ জমেছে। এখুনি হয়ত বৃষ্টি পড়বে! বাতাসের বেগ এতো তীব্র নয়, মৃদু গুঁড়ি গুঁড়ি বর্ষণ হবে। ঝড়ের পূর্বভাসে আগমন দিতে, আকাশে তড়িৎ বেগে বজ্রপাত শুরু হয়। ঘুম জড়ান অবস্থায় বাহির থেকে আসা বজ্রপাতের শব্দে ভয়ে কেঁপে উঠে মেঘ।

হঠাৎ অসময়ে এমন বৃষ্টির কারণ উপলব্ধি করতে পারল না! কিন্তু বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে এখুনি তার ঘুম থেকে উঠা উচিত। দ্রুত শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানর চেষ্টা করে মেঘ, কিন্তু সম্ভব হয় না! তার বাহুদ্বয় অন্য কারো অধীনে! এপাশ মাথা করে মুখ উঁচু করে তাকায় মেঘ। হঠাৎ আদ্রিয়ানকে দেখে চমকে উঠে! আদ্রিয়ান এখানে কি করছে? তার এখন কলেজে থাকার কথা! তবে? প্রশ্নটা মনে মনে করে উত্তর খুঁজার উদ্দেশ্য চারপাশে তাকায়!
টেবিলের মধ্যে ছোট ফ্রেমের মধ্যে আদ্রিয়ানের ছবি দেখে, তার হুঁশ ফিরে আসে! মাথায় চাপ প্রয়োগ করে ঘুমিয়ে পড়ার আগের ঘটনা মনে করে। সাথে সাথেই চমকে যায়! মেঘ এতোখন আদ্রিয়ানের সাথে ছিল? তাও, আবার কলেজে? কেউ যদি তাদের একসাথে দেখে ফেলে তখন? কলেজ গাউনে কোলে তুলার ঘটনা নিয়ে নিশ্চয়ই যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে! মেঘের এখন নিজেে উপর রাগ হচ্ছে, গালিও দিতে ইচ্ছা করছে।

তখন জিয়া এসেছে, বলে মেঘ ছোফায় ঘুমানর মিথ্যা নাটক করেছিল। কিন্তু সত্যি সত্যি যে, ঘুমিয়ে পড়বে তার হয়ত ভাবেনি! মেঘ বিরক্তি মাখা মুখ নিয়ে আশেপাশে চোখ বুলায়, তখুনি তার চোখ আটকে যায় আদ্রিয়ানের ঘুমন্ত মুখশ্রীর উপর! মনের একরাশ বিরক্তি দূরে ঠেলে ঘুমন্ত স্বামীর কাছে এগিয়ে যায় মেঘ! ছোফায় সংকুচিত জায়গায় ছড়িয়ে থাকা আদ্রিয়ানের বাম হাতের উপর মাথা রাখে! মাথা এগিয়ে নিয়ে এসে কাঁধে শুয়ে পড়ে মেঘ! খুব নিকট থেকে নিখুঁত চোখে আদ্রিয়ানকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে মেঘ। তার ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে প্রথমে আদ্রিয়ানের কপাল ছুঁয়ে দেয়, এরপর ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় আর্দ্রর সরু নাকে, ঠোঁটে আঙুল ছুয়িঁয়ে হালকা স্লাইড করে নেয়।
দুষ্ট হাসি দিয়ে মেঘ, কাঁধে থাকা মাথা এগিয়ে নিয়ে ঘুমন্ত আদ্রিয়ানের মুখশ্রীর খুব নিকটে নিয়ে যায়। মাথা একটু নিচুঁ করে যখন আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কাছে যাবে। তার আগেই বাম হাত দিয়ে মাথার চুলে শক্ত চাপ প্রয়োগ করে নিজের ঠোঁটের মিশিয়ে নেয় আদ্রিয়ান মেঘকে! হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন কাণ্ডে মাএা অতিরিক্ত অবাক হয় মেঘ!
ধপ করে চোখ খুলে তাকায় আদ্রিয়ান। মুখে তার রহস্যময় হাসি আর ঠোঁটে মেঘের উষ্ণ ঠোঁট! ক্ষাণিক সময়ের জন্য অবাক হয়ে যায় মেঘ! কিন্তু যখন আদ্রিয়ানের চালাকি বুঝে উঠে, বৃথা নিজেকে ছাড়ানর চেষ্টা করে সে! কিন্তু পুরুষালি আর্দ্রর শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে নিজ স্বামীর কাছে আত্মাসমর্পন কর।

প্রায় পাঁচ মিনিট পর যখন, মেঘের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম! তখন হাত দিয়ে আদ্রিয়ানের বুকে মৃদু থাপ্পড় দেয় মেঘ! তার কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করে দেয়, তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এখুনি ছেড়ে দিতে! কিন্তু আদ্রিয়ান এখন ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। তার ঠোঁটের পৃষ্ঠে শক্ত করে চেপে ধরে মেঘকে! মেঘ আর পারবে না, এইবার নিশ্বাস না ছাড়লে সে মারা যাবে!
উপরন্তু উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদ্রিয়ানের ঠোঁটে কামড় বসায় মেঘ। বেশ জোরে লাগে ঠোঁট! হঠাৎ এমন আক্রমণে নয়, বরং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে দেখে ঠোঁট ছেড়ে দেয় আদ্রিয়ান। ঔষ্ঠ জোড়া ছাড়া পেয়ে, ঘনঘন নি:শ্বাস ছাড়ে মেঘ! এরপর ক্ষিপ্ত চোখে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে

____” আদ্রিয়ান, আপনি পা’গ’ল? মারা যাচ্ছিলাম আমি এখুনি?”
দুষ্ট হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে আদ্রিয়ান বলে
___”স্বামীর আদর পেয়ে কেউ মারা যায় না মেঘ। নয় বছরের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এইটুকু হবে স্বাভাবিক।”
রাগে দাঁত কটমট করে তাকায় মেঘ। চোখ দিয়ে যেন খুন করে ফেলবে আদ্রিয়নাকে। জোরে জোরে নি:শ্বাস ছেড়ে নিজেকে শান্ত করে সে।
কেবিনের বাহিরে এসে দাঁড়ায় নূহা। সাহস করে দরজায় কড়া নাড়ে, চাপা কণ্ঠে ডাক দিয়ে বলে উঠে
__” মেঘ, আমি নূহা। তুমি কি ভিতরে আছো?”
নূহার কণ্ঠ শুনে কেবিনের ভিতরে থাকা দুইজনের হুঁশ ফিরে আসে! আদ্রিয়ানকে ঠেলে দূরে সরিয়ে ছোফায় থেকে উঠে বসে, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সময় : দুপুর ১:০০। প্রায় কলেজের সব ক্লাস শেষ, এখুনি ছুটি হয়ে যাবে! মেঘকে উঠে দাঁড়াতে দেখে আদ্রিয়ানও শুয়া থাকা অবস্থা থেকে উঠে বসে, এরপর বলে
—- ” মেঘ, কোথায় যাচ্ছো? আজ আর ক্লাস করতে হবে না। চলো বাসায় গিয়ে বাকি রোমান্স কন্টিনিউ করি।”
হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন প্রস্তাব শুনে, কান গরম হয়ে যায় মেঘের! যেন এখুনি ধোয়াঁ বের হবে! চোখ বড় বড় হয়ে তাকিয়ে বলে

—-” আপনি একায় বাসায় যান! আর পারলে জিয়াকে সাথে নিয়ে যান! দুইজনে মিলে বাকি রোমান্স কন্টিনিউ করবেন! নির্লজ্জ, জঘন্য পুরুষ আপনি।”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান শব্দ করে হেঁসে উঠে! এরপর চোখ টিপ দিয়ে বলে
—-” এই জঘন্য পুরুষ তোমার স্বামী হয় মেঘ। তাছাড়া বউয়ের সামনে একটু নিলর্জ্জ হওয়া জায়েজ আছে!
মেঘ রাগে দাঁত কটমট করে বলে
—-” আপনি থাকুক এই জায়েজ নিয়ে! আপনি গেলাম।”
কথাটা বলেই কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মেঘ পা বাড়ায়। কেবিনের দরজার কাছে গিয়ে তার মাথার চুল, আর ঠোঁটের লিপস্টিক ঠিক করে! ভিতর থেকে দরজা খুলে দেয়। কেবিনের ভিতরে মেঘকে দেখে নূহা বিচলিত কণ্ঠে বলে উঠে
____” মেঘ, তুমি এতোখন আদ্রিয়ান স্যারের কেবিনে কি করছিলে? তুমি কি অসুস্থ? শরীর খারাপ তোমার?”
নূহার কথা শুনে মেঘ ঘাবড়ে যায়! এখন সে কি উত্তর দিবে? মিথ্যা অযুহাত দিতে হবে তাকে! কিন্তু নূহা যে নাছোরবান্দা তাকে বিশ্বাস করবে? মেঘ বলে উঠে

—- নূহা, হঠাৎ কলেজ গাউনে আমার শরীর অসুস্থ হয়ে যায়! মাথায় প্রচণ্ড ব্যাথা, আর হাত পা কেমন অবশ হয়ে গিয়েছিল তখন! হাঁটা চলার শক্তি ছিল না, তাই বাধ্য হয়ে আদ্রিয়ান স্যার কোলে তুলে ওনার কেবিনে নিয়ে আসেন। এতোখন আমি বিশ্রাম নিলাম কেবিনে।
নূহার দুশ্চিন্তা দূর হয় ও বলে
___” তোমার শরীর এখন কেমন? মাথার ব্যাথা কি কমেছে?”
__” আমি এখন সুস্থ আছি। মাথার ব্যাথার জন্য ওষুধ খেয়েছি।”
নূহা শান্ত হয়ে কেবিনের ভিতরে থাকা আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়! মেঘের ভীত চোখ _ মুখ দেখে মনে হচ্ছে ও কোন কথা লুকানর চেষ্টা করছে! না, মিথ্যা বলছে? আদ্রিয়ান স্যারের সাথে আসলে মেঘের কি সম্পর্ক? শুধুই কি আত্মীয় না এর চেয়ে বেশি! যদিও নূহার আগে থেকেই সন্দেহ ছিল! নূহা বলে

—-” মেঘ, তোমার মাথা ব্যাথা কি ঔষধ খেয়ে ঠিক হয়েছে? না আদ্রিয়ান স্যারের কেবিনে এসে! ওনার সেবা যত্ন আর কাছে গিয়ে?”
নূহার কথার অর্থ বেশ ভালোই বুঝতে পারে মেঘ! ওর মুখে লজ্জা আর মৃদু রাগের আর্ভিভাব ঘটে। তবে তাদের দুইজনের কথার মাঝে দরজার আড়াল থেকে পুরুষালি এক কণ্ঠ ভেসে আসে
—-” ডক্টর : আদ্রিয়ান রোদায়ানের ঔষধ খেয়ে সব রোগীয় সুস্থ হয়ে যায়। মাথা ব্যাথা আর মনের সব অসুখ সারাতে আমি পারি, নূহা।”
হঠাৎ আদ্রিয়ানের কণ্ঠ শুনে নূহা থতমত খেয়ে যায়। ভিতরে যে আদ্রিয়ান স্যার ছিল, তা হয়ত নূহা ভুলে গেছে! আদ্রিয়ান দরজার আড়াল থেকে সম্মমুখে আসে, মেঘের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে নূহার দিকে তাকায়! নূহার এইবার লজ্জায় মারা যেতে ইচ্ছা করছে! জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট কেটে মাথা নিচুঁ করে ফেলে। যতই হোক আদ্রিয়ান তার স্যার হয়! এইসব কথা যে শুনে ফেলবে তার আশা করেনি! নূহার অবস্থা দেখে মেঘ চোখ দিয়ে আদ্রিয়ানকে শাশায়, এরপর বলে

—-” নূহা, চলো ক্লাসে যায়। শেষ ক্লাস হয়ত শুরু হয়ে যাবে।”
নূহা চোখ উপরে উঠিয়ে চলে যা-ওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায় এর আগেই তার চোখে পড়ে! আদ্রিয়ানের ঠোঁটে লেগে থাকা লাল রঙের উপর! নূহা তীক্ষ চোখে তাকায়! এরপর সন্দেহ বোধক দৃষ্টি নিয়ে মেঘের ঠোঁটের দিকে তাকানর পরে দুই দুইয়ে চার হয়ে যায়! মেঘ নূহার হাত ধরে কেবিন থেকে বের হয়ে যেতে চাই, এর আগেই নূহা ওকে থামিয়ে আদ্রিয়ানকে বলে উঠে
—-” আদ্রিয়ান স্যার, আপনার ঠোঁটে লাল রং রয়েছে রয়েছে। মেইবি আপনি ঠোঁটে লিপিস্টক দিয়েছেন! না হয়ত যার ঠোঁটে —-.
নূহার কথা শেষ হওয়ার আগেই তড়িৎ বেগে মেঘ তাকে থামিয়ে দেয়। আদ্রিয়ান দ্রুত তার ঠোঁটে আঙ্গুল ছুঁয়ায় সত্যি সেখানে লিপস্টিক লেগে আছে! মেঘ বলে

—-” নূহা চলো এখান থেকে।”
নূহার হাত ধরে মেঘ দ্রুত তাকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায়! জোরে শব্দ করে মেঘকে পরামর্শ দিয়ে বলে উঠে
—-” মেঘ, তুমি কি ওয়াশরুম থেকে ঠোঁটটা মুছে আসবে। যদিও তোমার ঠোঁটের লাল লিপি স্টক নাই? কোথাও উদাও হয়ে গেছে।”
নূহার কথা শুনে মেঘের লজ্জা বাড়ে! শেষ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আদ্রিয়ানের দৃষ্টি সীমানার বাহিরে যাওয়ার আগে। মেঘ একবার পিছনে ফিরে তাকায়। আঙুল দিয়ে ঠোঁট ছুঁয়ে ব্লাসিং করতে থাকে আদ্রিয়ানের! মেঘের দিকে তাকিয়ে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেয় আর হাতের ইশারা করে প্রথমে নিজকে বোঝায়, এরপর লাভ একেঁ মেঘের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কথার ইশারায় বুঝায়

—-” আই লাভ ইউ মেঘ।”
কিন্তু আদ্রিয়ানের এমন প্রপোজের উত্তরে মুখ ভেংচি কাটে মেঘ! এরপর সিঁড়ির নিচ দিকে তাকিয়ে লজ্জা মিশ্রিত হাসি দেয়! মনে মনে বলে
—–” আই লাভ ইউ টু আদ্রিয়ান।”

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৯

শেষের ক্লাসে দ্বিতীয় সারিতে একা বসে আছে নূহা। পাশে তিহান নেই! কিন্তু তিহান কোথায় চলে গেল। সকাল থেকে প্রতিটা ক্লাস করেছে কিন্তু হঠাৎ কি হলো ওর? নূহা ক্লাস রুমের চারপাশে নজর বুলায় কিন্তু কোথায় তিহান নাই! তখন সিঁড়ি নিয়ে নিচে নামার সময় তিহানের মুখ এমন দেখাচ্ছিল কেন? কিছু কি হয়েছে? তিহান আজ এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে কেন? ঝগড়া করেনি, তর্ক করল না শান্ত চুপচাপ! কিন্তু নূহা কেন তিহানকে নিয়ে ভাবছে এতো? কি হয়েছে ওর! তিহান ওর শএু হয়। কিন্তু নূহার মন মানছে না, একবার তিহানকে দেখার ইচ্ছা করছে তার।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬১