Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৪৯

দাহশয্যা পর্ব ৪৯

দাহশয্যা পর্ব ৪৯
Raiha Zubair Ripti

মেয়ে এসেছে শুনেই তার একদিন পর সকালে নাস্তা সেরেই সুলতান ভিলায় গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসে মোতালেব ভুঁইয়া । অনেক দিন ধরেই মেয়েকে দেখে না। আজ বড় মেয়েও আসবে। মেহরিন বাবার মুখে শুনেছে সে খালামুনি হতে যাচ্ছে । শুনে কি যে খুশি হয়েছে। আফিয়া সুলতান বাঁধা দেয় নি যাওয়া নিয়ে। হাসি মুখেই বলেছে যতদিন ইচ্ছে থাকতে। মেহরিন বাবার হাত ধরে নিজের বাড়িতে চলে আসে।
অনেক দিন পর নিজের পরিচিত রুমে এসে বেশ শান্তি পেলো মেহরিন। অপেক্ষা গুনছে আপার আসার।
মেহরিন এসেছে শুনে ঊর্মিও ছুটে চলে এসেছে। এবার অনেক দিন থাকবে এখানে মেহরিন।
ঊর্মি এসে থেকেই মেহরিনের পা থেকে মাথা অব্দি দেখছে। মেহরিন ঊর্মির এমন চাহনিতে অস্বস্তিতে পড়ছে। আর না পেরে বলল-

-” এভাবে দেখছিস কেনো আমায়?
ঊর্মি মেহরিনের তুলতুলে নরম গাল টেনে বলল-
-” আগের থেকে কি গুলুমুলু হয়ে গেছিস তুই মেহু। দুলাভাই অনেক আদর করেছে এই কয়েক দিনে তাই না?
মেহরিন লজ্জা পেলো। ঊর্মির হাত সরিয়ে দিয়ে বলল-
-” তুইও না। বাজে বকিস না তো। তেমন কিছুই না।
-” জানি জানি আদরের ফল সব।
মেহরিনের মনে পড়ে গেলো গারো পাহাড়ে কাটানো এক রাতের কথা। ইশ কি লজ্জা। মানসম্মানের রফাদফা।
-” মেহু শোন।
-” হুম বল।
-” জানিস ইমন ভাই কোথায় কাজ করে?
মেহরিন ভ্রু কুঁচকালো।

-” না তো।
-” ঐ যে তোর দেবর টা আছে না?
-” এজওয়ান ভাইয়া?
-” এটা আবার কে? এটা না। মেয়র উনি।
-” ইব্রাহিম ভাইয়া?
-” হুমম। উনার ওখানে কাজ করে ইমন ভাইয়া।
মেহরিন বিস্ময়ের সহিত বলল-
-” সত্যি?
-” হুমম। তাই তো বললো।
-” তোর মুখেই জানতে পারলাম আমি। ইমন ভাইয়া ভালো আছে?
ঊর্মি বিরস মুখে বলল-
-” আগের তুলনায় এখন খুব কম ফোন দেয়। আমরা দিলেও হু হ্যাঁ না এমন ছোট ছোট করে জবাব দেয়।
-” বোধহয় কাজের প্রেসার সেজন্য।
-” হতে পারে।
মেহরিন ঊর্মির কথার মাঝেই সেরিন ও চলে আসে অনিকের সাথে। সানজিদা বেগম হাঁক ছেড়ে মেহরিন কে ডেকে বলল-

-” ও মেহু দেখ সেরিন এসে গেছে।
মায়ের ডাক শুনে ঊর্মি মেহরিন দু’জনেই রুম থেকে বের হয়ে উঠানে আসে।
কালো বোরকায় তার বোন সেরিনের এক হাত ধরে অনিক এগিয়ে আসতেছে। মেহরিন দৌড়ে গিয়ে বোনের সামনে দাঁড়িয়ে অনিক কে সালাম দিয়ে বলল-
-” আপা কেমন আছো? ভাইয়া কেমন আছেন?
সেরিন ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল-
-” কোনো রকমে আছি রে।
সানজিদা বেগম ঠান্ডা পানি এনে দিলো। অনিক সেরিন খেলো। সানজিদা বেগম অনিক কে খাবার বেড়ে দিতে চাইলে অনিক মানা করে। সে এখনই চলে যাবে। খাবে না কিছু
সানজিদা বেগম অবাক হয়। আসলোই তো কেবল। এখনই চলে যাবে!
খুব জরুরি হওয়ায় অনিক তৎক্ষনাৎ ই চলে গেলো। দু একের মধ্যে আবার আসবে। মেহরিন বোন কে ভালোমতন দেখছে। না পেট এখনও উঁচু হয় নি। আপার কয় মাস হতে পারে? মেহরিন কে এভাবে পেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সেরিন জিজ্ঞেস করলো-

-” কি দেখছিস?
মেহরিন জবাব দিলো-
-” তোমার পেট টা কে। ক’মাস তোমার?
-” সবে দু মাস।
-” বাবুর অস্তিত্ব টের পাও?
-” সেভাবে তেমন পাওয়া যায় না।
-” আমি অনেক আদর করবো বাবু কে।
-” আমার হয়ে গেলে তুই ও একটা নিয়ে ফেল বাবু মেহু। যত তাড়াতাড়ি নিবি তত তাড়াতাড়ি বাবুর সাথে নিজের সময় বেশি কাটাতে পারবি।
মেহরিন নিজের রুমে চলে আসলো। ইসস আসলেই বাচ্চা নিবে? বয়স কত তার? ১৮! তারা দুজন তো ঠিকঠাক মতন কাছাকাছিই আসতে পারে নি। যা-ও সেদিন আসলো মেহরিন সইতে পারলো না। আল্লাহ যখন দেয় তখন হবে।
ডিসেম্বরের ১ তারিখে মরিয়ম সুলতানের ২৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পূরণ হলো। সুলতান নিবাস ও সুলতান ভিলায় সেদিন হুজুর ডেকে দোয়া ও কবর জিয়ারত করা হলো। এতিম বাচ্চাদের খাবার জামাকাপড় দেওয়া হলো। মাহি সব টা দেখলো নিবাসে। আমজাদ সুলতানের মৃত্যু বার্ষিকীর মতনই সেম সব কিছু হলো। আশ্চর্য হলো এই ভেবে যে উনাদের ছেলে মেয়েকে সে দেখছে না।
দেখলো কবর জিয়ারতের সময় সোলেমান সাহেব কে কেমন নিশ্চুপ হয়ে যেতে। অনেকক্ষণ বসে ছিলেন কবরের সামনে। তারপর রুমে গিয়ে সেই যে রুমে ঢুকলেন আর বের হলেন না।
এজওয়ান ঘরে আসা মাত্রই মাহি জিজ্ঞেস করলো-

-” আজও উনাদের ছেলে মেয়েকে দেখলাম না আমি। কেনো? ওরা কোথায় থাকে? আপনাদের সাথে থাকে না কেনো?
এজওয়ান ক্লান্ত শরীর সোফায় এলিয়ে দিয়ে বলল-
-” সব জানতে হবে তোমার?
-” অবশ্যই।
-” আচ্ছা তাহলে আইলাভিউ বলো সব বলে দিব। এ টু জেট যা জানি।
-” সেটা তো জীবনেও মুখ দিয়ে বের হবে না।
-” তাহলে আর আমার বলাও হলো না।
-” আমি খোঁজ লাগাবো?
-” লাগাও আজাইরা সময় হাতে থেকে থাকলে।
-” আজাইরা কেনো বলছেন?
-” তা ছাড়া কি বলবো? উনাদের ছেলেমেয়ে তো তোমার চোখের সামনেই।
-” আমার চোখের সামনে মানে? কোথায় তারা? আমি তো দেখি না।
-” ভাইজান আর রুমু।

মাহি বিস্ময়ের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো। এজওয়ান এটা কি বললো? রুমাইসা আর সোলেমান সাহেব ওনাদের ছেলে মেয়ে! সেদিন এজন্য রুমাইসা বাবা বাবা বলে চিৎকার করছিলো! আফিয়া সুলতান কে তাহলে বাবা মা বলে ডাকে কেনো তারা? আফিয়া সুলতানের ছেলে মেয়ে কোথায়? নেই? মাথা হ্যাঙ হয়ে যেতে লাগলো মাহির।
ফের প্রশ্ন করতে যেতেই দেখলো এজওয়ান ওয়াশরুমে ঢুকে গেছে।
মেহরিন অলংকারপুর থাকায় জানতে পারে নি আজ কারো মৃত্যু বার্ষিকী পালন হচ্ছে ও বাড়িতে।ও বাড়ি থেকে কেউ জানায়ও নি ফোন করে। রুমাইসা খুব কেঁদে চলছে মা বাবা কে ভেবে। রুমাইসার যখন ৩ মাস তখন আমজাদ সুলতান মা’রা যায়। যখন ছয় মাস তখন মা মা’রা যায়। সেই টুকু বয়সে দেখা বাবা মায়ের চেহারা কি আর মনে থাকে? ছবি দেখে চিনিয়েছে সোলেমান কোনটা বাবা আর কোনটা মা।

সোলেমান নিজের রুমের ফ্লোরে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে এক পায়ের উপর হাত ঠেকিয়ে মায়ের ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে। কি অপরূপা সুন্দর ছিলো তার মা। ফর্সা ধবধবে গায়ের রং। লম্বা কালো ঘন কেশ,ডাগরডাগর চোখ,গোলগাল চেহারা। এই রূপ দেখেই বুঝি তার বাবা আমজাদ সুলতান প্রেমে পড়েছিলেন?
অথচ এই রূপই তার মায়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সোলেমানের নানা দেওয়ান নওরোজ শাহ লুকিয়ে রাখতেন মেয়ে মরিয়ম কে। চোখ ধাঁধানো সুন্দরী ছিলো মরিয়ম। এতই সুন্দরী ছিলো যে একবার পুরুষের নজর মরিয়ম সুলতানের উপর পড়লে সেই নজর সরানো দায় হয়ে যেত।
সোলেমান দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তার মায়ের মতনই মেহরিনও সুন্দর। তবে মরিয়ম সুলতান একেবারে উর্ধে চলে গেছিলেন সুন্দরের দিক দিয়ে।

সোলেমানের বুক ভারী হয়ে আসে। আর কটা বছর বেঁচে থাকতো তার বাবা মা। যেই বয়সটায় বাবা মা কে বেশি প্রয়োজন ছিলো সেই বয়সটাতেই সোলেমান আর রুমাইসা এতিম হয়ে গেছে।
তখন কেউ ছিলো না এই ছোট্ট সোলেমান আর রুমাইসা কে সামলানোর জন্য। সোলেমান বোন কে কোলে নিয়ে বাবা আর মায়ের ছবির সামনে বসে কাঁদত তো কখনও বাবা মায়ের কবরের পাশে গিয়ে বোন কে নিয়ে শুয়ে থাকতো। কি বিভৎস ভাবেই না সে দিন কাটিয়েছিল তখন। এই সুলতান নিবাসে তখন ছয় মাসের রুমাইসা আর সাত বছরের সোলেমান একা একা কাটিয়েছে পনেরো টা দিন। কেউ ছিলো না। কেউ না।
আনোয়ার সুলতান আর আমিরুল সুলতানের প্রবেশ নিষেধ ছিলো সুলতান নিবাসে। কেনো তা জানে না সোলেমান। আমজাদ সুলতান খুব একটা সম্পর্ক রাখতে চাইতেন না বাপ আর মেঝ ভাই আমিরুলের সাথে।
সোলেমান মায়ের ছবিটার দিকে শেষবার তাকালো। অস্ফুট স্বরে বলল-

-” রুমাইসা তো তবুও একটা মা পেলো। মা বাবার মতন দু’জনের আদর পেলো। কিন্তু আমি তোমাদের হারিয়ে আর কাউকে পেলাম না।
কিছুক্ষন চুপ থেকে ফের বলল-
-” জানো? তোমার মত লয়নি কেহ আর আমায় বুকে টানি। আঁচল দিয়ে মুছে নি কেও আমার চোখের পানি।

মেহরিন আর ঊর্মি বিকেলের শেষ আলোয় তাদের বাড়ির পাশের সরু লেন ধরে হাঁটছে। গলির দু’পাশের দেয়ালগুলোতে সোনালি আভা পড়েছে, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে হালকা ধুলোর ঘ্রাণ। মেহরিন এক হাতে ছোট বাজারের ব্যাগ ধরে, অন্য হাতে ওড়না সামলে হাঁটছে। বাড়ির মোড়েই মোতালেব ভুঁইয়া ব্যাগ টা এসে দিয়ে গেছে। কি যেনো একটা জরুরি কাজ থাকায় বাসা অব্দি আসতে পারে নি। সানজিদা বেগম আসতে চেয়েছিলো কিন্তু ঊর্মি থাকায় মেহরিন বলল- “ আসার দরকার নেই। তুমি বাসায় আপুর সাথে থাকো।
মেহরিন ঊর্মি নিজেদের মধ্যে গল্প করছে। হাসির মধ্যে হঠাৎ মেহরিনের শরীরের সঙ্গে কারো জোরে ধাক্কা লাগলো। মেহরিন কিছুটা টলকে গেল। চোখের সামনে তখন এক মধ্যবয়সী মহিলা, যার শাড়ির রং বোঝাই যায় না। ময়লা আর ধুলায় মাখা হয়ে আছে। শরীরের স্কিন টোনটাও বোঝা যাচ্ছে না। এনাকে আগে কখনও দেখে নি মেহরিন।
মহিলাটা প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। মেহরিন তাড়াতাড়ি তাকে ধরে ফেলল। তার বাহু দুটো ধরে ধীরে ধীরে সোজা করে দাঁড় করালো। মহিলার শরীর ভীষণ হালকা, যেন একটু চাপেই ভেঙে যাবে। তার চুলগুলো উসকোখুসকো, ঠোঁট ফেটে আছে। মুখজুড়ে ক্লান্তির রেখা, আর গায়ে ছেঁড়া শাড়ির আঁচল। মনে হলো অনেক দিন ধরে না খাওয়া। বা ঠিক মতো খেতে পায় না।
মেহরিন স্নিগ্ধ স্বরে শরীরের ধুলো মুছে দিতে দিতে বলল-

-” আপনার লাগে নি তো?
মহিলাটা প্রথমে কিছু বললো না। হুট করে কি যেন হলো,চোখ দুটো বড় বড় করে মেহরিনের দিকে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টি একেবারে অদ্ভুত।
মেহরিনের কথাটা শেষ করেই মহিলার দিকে তাকাতেই কপালে ভাঁজ পড়ল। এমনভাবে তাকিয়ে থাকায় ওর গা কাঁটার মতো শিহরন হলো।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে, মহিলা অস্থির গলায় বলল-
-” মেয়ে… তোর সামনে ঘোর বিপদ আছে রে।
মেহরিন আকস্মিক এমন কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেলো। ঊর্মি আর মেহরিন একে ওপরের মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি করলো। ঊর্মি জিজ্ঞেস করলো-
-” কিসের বিপদ?
মহিলা তখনো মেহরিনের হাত চেপে ধরে আছে। এবার আরো শক্ত করে ধরলো। মেহরিন ব্যথা পেতে লাগলো। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলে আরো সেঁটে ধরলো।

-” এ্যই মেয়ে এখনও সময় আছে তুই পালায় যা। ওরা তোকে ছাড়বে না… তোর সংসার বেশি দিন টিকবে না। তুই ঝড়ে যাবি। তোকে ওরা মে’রে ফেলবে। তোর কোল জুড়ে কখনও সন্তান আসবে না। ওরা আসতে দিবেই না। তোর সংসার করাও আর হবে না…
ঊর্মি আতঙ্কিত হয়ে মেহরিনকে মহিলার থেকে ছাড়িয়ে পেছনে টেনে নিল। ঊর্মির শরীর রাগে কাঁপছে।
-” এই আপনি এসব কি বলছেন হু? মাথা ঠিক আছে আপনার?
ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে কয়েকজন লোক দৌড়ে এল। তাদের কারও মুখে হাঁপ ধরা, কারও কপালে ঘাম। একজন বলল-
-” আপা, ওরে ধরেন! পাগল মহিলা। শিকল ভেঙে পালাইছে!
ঊর্মি মহিলাটার হাত চেপে ধরলো। এবার মহিলার মুখে ভয়ের ছাপ দেখা গেলো।
-” আমাকে ছেড়ে দাও৷ ছেড়ে দাও আমায়। আমি যাব না।
লোকগুলো মহিলাটিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। মহিলা যেতে যেতে একবার পেছন ফিরে তাকাল মেহরিনের দিকে। ফের আবার বলল-

-” তোর অপেক্ষায় হয়তো কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে বুঝলি । জীবন বাঁচাতে চাইলে ওর খোঁজ কখনও পেলেই ওর হাত ধরে পালিয়ে যাবি। ওরা বাঁচতে দিবে না তোদের। ওরা মে’রে ফেলবে সবাইকে। ওরা খুব ভয়ঙ্কর। খুউউউব। ওরা আমায় খুব মা’রে।
মেহরিন নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতর কেমন অজানা ভয়ে খামচে ধরলো। ঐ মহিলা এসব কেনো বলল? মহিলা জানলো কি করে সে বিবাহিত?
ঊর্মি মেহরিন কে এভাবে বরফের মতন জমে থাকতে দেখে বলল-
-” আরে ধূর উনার কথা বিশ্বাস করিস না। পাগল মহিলা। কোথা থেকে যেন সেদিন চলে এসেছে পাশের গ্রামে। আর এসেই যাকে পায় তাকেই এভাবে ভয় দেখায়। চল তো।
মেহরিন যেতে যেতে বার বার পেছন ফিরে তাকালো। মহিলা টাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে লোক গুলো। কেনো বললো সে ওগুলো? সবাইকেই কি এই কথা বলেছে?
বাসায় ফিরে বাজারের ব্যাগটা মায়ের হাতে দেয় মেহরিন। সানজিদা বেগম ব্যাগটা নিতেই মেহরিন রুমে চলে আসে। মন টা এখনও ভয়ে অস্থির হয়ে আছে। ভীষণ ভয় পায় মেহরিন এসব কথাবার্তা কে। তারা এমন ভাবে বলে যেন মনে হয় তা আসলেই কোনো একদিন ঘটবে।
মেহরিন ওয়াশরুমে ঢুকে ওজু করে আসলো। মন মস্তিষ্ক শান্ত করার উপায় একটাই নামাজ। মেহরিন দু রাকাআত নফল নামাজ পড়লো। তারপরও শান্ত হলো না হৃদয়। এতটাই গভীরে গিয়ে আটকালো সেই কথাগুলো!
সানজিদা বেগম মেয়ের রুমে ঢুকে মেয়েকে অদ্ভুত ভাবে কাঁপতে দেখে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো-

দাহশয্যা পর্ব ৪৮

-” কি হয়েছে? রাস্তায় কেউ কিছু বলেছে?
মেহরিন জবাবে মাথা দু দিকে নাড়ালো।
-” তাহলে?
মেহরিন মা’কে সবটা খুলে বলল। সবটা শুনে সানজিদা বেগম মেয়েকে বলল-
-” পাগল মেয়ে। এসব কথা কেউ কানে নেয়? এসব অবাস্তব। এসব বিশ্বাস করা মানে কুফরি করা। নামাজ পড়ে নে মন শান্ত হবে।
-” পড়েছি তারপরও শান্ত হচ্ছে না।
সেই রাতে আবার গা কাঁপিয়ে জ্বর আসলো মেহরিনের। সেই বয়স্ক মহিলাকে দেখলো স্বপ্নে। বিকেলের সেম ঘটনাটাই আবার রিপিট হলো স্বপ্নে।

দাহশয্যা পর্ব ৫০