হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২
তামান্না ইসলাম শিমলা
“আপনার ভাই বলে ছাড় দেব না। আমি যখন বলেছি আপনার টাকা আপনি ফিরে পাবেন, মানে পাবেন।”
তেহরাবের কথায় মনোবল বাড়ল শফিকের, নিজের আপন ভাই নিজের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। রফিক ইসলাম আর শফিক ইসলাম দুই ভাই। শফিক ছোট আর রফিক বড়! জায়গা জমি সব কিছুতেই ঠকিয়েছে শফিককে, এরপর বাবা মারা যাওয়ার পর পুরো পেনসনের টাকাটাও রফিক নিয়ে গেছে। শফিক প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষক,শান্তিপ্রিয় একজন ব্যক্তি!
মাস খানিক ধরে টাকা নিয়েই দ্বন্দ্ব চলছে দুই ভাইয়ের মাঝে। আজ হঠাৎ তেহরাবের সাথে পথিমধ্যে দেখা। এই ছেলের সম্বন্ধে গ্রামের লোকেরা কখনো খারাপ বলতে পারবে না। কারন মারপিটে হলেও সবাইকে সব কাজে সাহায্য করে আসছে তেহরাব।
তার যত অশান্তি তা হলো পাশের গ্রামের কিছু ছেলেদের সাথে, ছাত্রদলের চ্যালাপ্যালারা সব কাজে এসে বাঁধা দেয়। আর তেহরাব এই জিনিসটাই মানতে পারে না, শুরু হয় ঝামেলা ঝঞ্ঝাট।
“ আচ্ছা বাবা, আমি জানি তুমি সব ভালো ভাবে সামলে নেবে।”
তেহরাব গম্ভীর মুখে তাকিয়ে রইল। হুট করে বলে উঠে,
“একটা সিগারেট দিন তো কাকা।”
শফিক হতবাক হয়ে তাকাল তেহরাবের দিকে। নিজের শিক্ষকের কাছে সিগারেট চাইছে এই ছেলে। অবশ্য সম্পর্কে শিক্ষক হলেও এ ছেলেকে দিয়ে কখনো স্যার বলাতে পারেনি সে।
শফিক থমথমে গলায় বলে,
“ আমি সিগারেট খাইনা!”
তেহরাব পকেট থেকে লাইটার বের করতে করতে বলে,
“ আমিও খাই না, পান করি। এবার দিন!”
তেহরাবের কথায় চোখমুখ কুচকে শফিক বলে,
“ এসব খাওয়া ভালো না।”
“ নাটক কম করুন শ্বশুড়মশাই!”
শফিক ভ্রু কুঁচকাল। শেষের কথাটা অস্পষ্ট কানে বাজছে, কী বলল তেহরাব?
“ কী বললে?”
তেহরাব উঠে দাঁড়াল। শফিকের শার্টের পকেটে থাকা সিগারেটটা হাতে নিয়ে আগুন জ্বালাল। এক টান দিয়ে বলল,
“ আজকে সিগারেট ফেলে আসতে মনে ছিল না নাকি? এই যাত্রায় আমার বউয়ের শাশুড়ির একমাত্র ছেলের শ্বশুড়কে তার শাশুড়ির হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলাম। থাক ধন্যবাদ লাগবে না!”
তেহরাবের ঘোরানো পেঁচানো কথা মাথায় ঢুকল না শফিকের। স্বাধে কী তাকে সাদাসিধা মানুষ বলে!
হাতের আঙুলে বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে বাইরে চলে আসল তেহরাব। দেখল তনয়াও নিজের রুম থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হচ্ছে। প্রাইভেটে যাবে বোধহয়!
তেহরাবকে এগিয়ে দিতে শফিকও বের হয়েছিল, তেহরাব সিগারেটে টান দিতে দিতে তনয়ার দিকে তাকিয় বলে,
“প্রাইভেটে যাবি?”
তনয়া শুকনো ঢোক গিলে মাথা নাড়ে, তেহরাব আবার হাঁটা ধরে,
“ আয় আমি পৌঁছে দিচ্ছি!”
তনয়ার আখিদ্বয় গোল গোল হয়ে যায়, তাকায় শফিকের দিকে। সে হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,
“ওর সাথেই যা তাহলে, আমি তাহলে বালিয়া যাই। তোর ফুপুরা আসবে!”
তনয়া হ্যাঁ না কিছু বলার আগেই শফিকও বেড়িয়ে গেল গেট দিয়ে। তনয়া পড়ে গেল মহা ফেসাদে! তেহরাবের সাথে সে যাবে, তাও আবার একই বাইকে। ভাবতেই বুকটা ধুকধুক করছে তনয়ার।
“ ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি আমি আসব?”
তনয়া দৌড়ে গেট পেড়িয়ে রাস্তায় চলে আসে। এই ছেলেকে দিয়ে ভরসা নেই। যা ঠোঁট কাঁটা, সেখানে সেখানে যা তা বলে দেবে। মানুষ কী ভাববে সেটা নিয়ে কি তার মাথা ব্যথা আছে নাকি? এইতো সেদিন কলেজের রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সবার সামনে থাপ্পড় বসিয়ে দিয়েছিল। থাপ্পড় মারার কারন জানতে চাইলে আরেকটা থাপড় মেরে বসে, সেদিন এত গুলো মানুষের সামনে এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে তেহরাব রাগে বোম হয়ে চলে গিয়েছিল। যাওয়ার আগে বলেছিল,
“ আর কেউ যদি তোকে প্রপোজ করে আর তুই তার সাথে কথা বলিস তাহলে পরের বার আর থাপ্পড় না সোজা খুন করে ফেলব।”
সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসেছিল তনয়া, সারাদিন না খাওয়া। এতটা অধিকার তো তার প্রেমিক থাকলেও দেখাত না। তার পরের দিন কলেজ গেলে দেখে হাতে আচারের বৈয়ম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব। মানুষ রাগ অভিমান ভাঙায়, চকলেট, আইসক্রিম, ফুল দিয়ে আর এই বনমানুষ আচার নিয়ে এসেছে।
সবার সামনে আর সিন ক্রিয়েট করতে চাইনি বলে বৈয়ম নিয়ে কলেজে চলে গিয়েছিল, নাহলে দেখা যেত আরেকটা চড় বসিয়ে দিত। ক্লাসে গিয়ে দেখে বৈয়মের সাথে একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল,
“ আচার খাওয়ার অভ্যাস করেনে এলোকেশী। বিয়ের পর প্রতিবছর নিয়ম করে আচার খেতে হবে।”
তেহরাবের চিঠির মানে কে কী বুঝেছিল জানা নেই তবে তনয়া বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছিল ওই বনমানুষটা কী মানে করে এটা লিখেছে।
“ছিঃ!”
ভাবনার মাঝে কখন যে মুখ ফস্কে শব্দ আওড়াল বুঝে উঠতে পারেনি তনয়া। ওদিকে বাইকে বসে তেহরাব এক ভ্রু উচিয়ে তাকিয়ে আছে তেহরাব।
“ কী ছিঃ?”
তনয়া দ্রুত মাথা নাড়াল, তেহরাবের ভূত কি তার মাঝে প্রবেশ করল? লাগামে টান তনয়া!
“ গাড়িতে কী নিজে থেকে উঠবি নাকি চাইছিস আমি তোকে উঠাব?”
“আ.. উঠছি!”
তনয়া উঠে বসল,তেহরাব বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বলে,
“ ধরে বস।”
তনয়া তেহরাবের কাঁধে হাত রাখল। তেহরাব আবার বলে উঠে,
“ কাঁধে ধরে লাভ নেই, পড়ে যাবি। কোমরে হাত রাখ।”
“ নাহহ!”
তনয়া চেঁচিয়ে উঠল। পরমুহূর্তেই এদিক ওদিক তাকায়। তেহরাব মাথা ঘুরিয়ে তনয়ার দিকে তাকায়।
“ পরে বলিস না আমি তোকে ওয়ার্ন করিনি।”
বলেই বাইক স্টার্ট দেয় তেহরাব, সাথে সাথে গতির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তনয়া ঝটকা খেয়ে দ্রুত চোখমুখ কুচকে দুহাত দিয়ে তেহরাবের কোমর জড়িয়ে ধরে। মাথা ঠেকায় তেহরাবের প্রস্বস্থ পিঠে।
ধীরে ধীরে গতি কমে আসে বাইকের, তেহরাব ঠোঁট কামরে বাঁকা হাসে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে……. কী ভেবেছেন? আঙুল বাঁকাতে বলব? উহু! ওইটা তো প্রাচীন কালের ট্রিকস!
সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে চামচ ব্যবহার করতে হয়!
তনয়ার কান্না পাচ্ছে। একে তো বাইকে উঠতে পারে না তার উপর এত স্পিডে। একটুর জন্য জানপাখিটা উড়ে যায়নি। তেহরাব স্পিড কমালেও তা সাধারণের থেকে বেশিই আছে। তনয়া ভয় মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠল,
“ ভাইয়া আস্তে চালান প্লিজ, ভয় করছে।”
সাথে সাথে বাইক থেমে যায়। তনয়া তেহরাবকে ছেড়ে সোজা হয়ে বসে।
“ নাম।”
“এ্যাঁ?”
“এ্যাঁ না হ্যাঁ, নাম।”
তনয়া ভেবে পেল না তেহরাব তাকে নামিয়ে দিচ্ছে কেন। তনয়া তেহরাবের কথা মতোই নেমে পড়ল। তেহরাবও নামল। বসল বাইকে হেলান দিয়ে, পকেট থেকে কিছু একটি বের করে তনয়ার দিকে তাকাল।
“ হাত দে।”
“ হুম?”
তেহরাব গম্ভীর দৃষ্টিতে তনয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,
“এক কথা দুবার বলতে হবে কেন আমাকে? মনোযোগ কোথায় থাকে তোর? লিসেন, তোর একমাত্র ধ্যান জ্ঞান মনোযোগ থাকবে এই তেহরাব সরকারের উপর। অন্য দিকে তাকানোর কোনো প্রয়োজন নেয়। এবার হাত দে।”
তনয়া হাত বাড়ায়। তেহরাব তনয়ার হাতে একটি ছোট্ট প্যাকেট ধরিয়ে দেয় ।
“ কী এটা?”
বলেই প্যাকেটটা তেহরাবের হাতে দিয়ে চলে যেতে নেয় তনয়া। তেহরাব খপ করে তার হাত ধরে ফেলে। কিছুটা রাগী স্বরে বলে,
“ ট্রাস্ট মি তনয়া, এইটা যদি আজ তুই না নিস তাহলে আমি……তোকে আমি সময় দিচ্ছি, তোর সপ্ন পূরন করার জন্য এখনো আমি তোর বাড়িতে বিয়ের কথা বলছি না, তাই বলে এই না তোর সবকিছু এই তেহরাব সরকার মেনে নেবে। ভুলে যাস না আমি এই লোকজনের বলা কথার ধার ধারি না, সোজা তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলব!”
তনয়া ততক্ষণে ফুপিয়ে কেঁদে উঠেছে। তেহরাব তনয়ার হাত ছেড়ে দিল। তবে তার মুখ ভঙ্গিমা আগের ন্যায়। তনয়া কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠে,
“ কেন করছেন এসব? আপনি মানুষের কথার ধার ধারেন না, কিন্তু আমিতো ধারি।”
“কে ধরতে বলেছে তোকে?”
তনয়া নিজের চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে,
“আপনারা বড়লোক মানুষ, টাকা পয়সা ধন দৌলতের সামনে মানুষ চুপসে যায়। আপনি একটা ভুল করলে দুদিন পর সবাই সেটা ভুলে যাবে, কিন্তু আমি? বা আমরা? আমরা একটা সমাজে বাস করি, আমাদের কাছে মূল্যবান বলতে এই মান সম্মান, যাতে এক বিন্দুও কালি লাগুক আমরা চাই না।”
তেহরাব বুঝতে পারে না তনয়া কেন বার বার এই কথা বলে। সে তো তনয়াকে স্ব সম্মানে নিজের ঘরে তুলতে চায়। তাতেও কেন এই মেয়ে রাজি হয় না!
“ যা বলবি সোজাসুজি বল।”
তনয়া নিজের কান্না থামিয়ে বলে,
“ আপনাদের সাথে আমাদের কোনো দিক দিয়েই যায় না, প্রথমত আপনার পরিবারই সব থেকে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে৷ আর যদি মেনেও নেই মানুষ কি বলবে জানেন? বলবে আমি বড়লোক ছেলে ফাঁসিয়ে বিয়ে করছি, আমার পরিবারকে তারা লোভী বলতেও দুবার ভাববে না। আপনাদের কিচ্ছু হবে না বিশ্বাস করুন, তবে সারা জীবন নিচু হয়ে থাকবে হবে আমার মা বাবাকে। আমি চাই না আমার মা বাবার অসম্মান হোক, দরকার পরলে আমাদের থেকে নিচু ঘরে বিয়ে করব তা………..…আহ!
পুরোটা বলার আগেই কথা আটকে যায় তনয়ার, যাবেই বা না কেন। তেহরাব তার শক্ত পুক্ত হাত দিয়ে চেপে ধরেছে তনয়ার গাল, কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে ইতি মধ্যে!
“মেরে ফেলব, একদম মেরে ফেলব। এই মুখে অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা উচ্চারণ করার ভুল করবি না তনয়া, ট্রাস্ট মি আই উইল কিল ইউ। ফা*কড আপ!”
তনয়াকে ছেড়ে দেয় তেহরাব, দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“ আমাকে আর পাঁচটা প্রেমিক পুরুষের মতো ভেবে থাকলে ভাবনা পাল্টা। এইসব সো কোল্ড মানুষের কথা গায়ে মেখে সারাজীবন আফসোস, যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার ছেলে আমি না। যা আমার তা আমার। পেয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ, নাহলে ছিনিয়ে নিতেও দু’বার ভাববো না!”
তনয়াকে কাঁদতে দেখে তেহরাব তাচ্ছিল্যে হাসে,
“তোর উপর নির্ভর করছে তোর ভবিষ্যত কেমন হবে, কারন তুই যেই গল্পের নায়িকা আমি সেই গল্পের খলনায়ক। তুই খুঁজছিস সভ্য পুরুষ , কিন্তু তোর কপালে লেখা এই অসভ্য তেহরাব সরকার!”
তনয়া মাথা নিচু করে কাঁদছে। কেন এই ছেলেটা এত পাগলামি করে? কেন বুঝে না তারা এক হতে পারে না।
তেহরাব একটা রিকশা দাঁড় করায়। তনয়ার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় আদেশ করে,
“ আজকে ছেড়ে দিচ্ছি বলে ভাবিস না তুই মুক্তি পাচ্ছিস!”
রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে তেহরাবের, কপালের রগ ফুলে উঠেছে। দ্রুত বাইকে চেপে বসল, মুহূর্তের মধ্যেই চলে গেল দৃষ্টির বাইরে। তনয়া একপলক সেদিকে তাকিয়ে রিকশায় উঠে বসল। রিকশাওয়ালা কে গাড়ি ঘুরাতে বলল।
এখন সে কিছুতেই প্রাইভেটে যেতে পারবে না, বাড়িতে চলে আসাই ভালো।
দরজা বন্ধ করে হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে তনয়া। প্যাকেটটা কিছু সময় আগে খুলেছে, সেখানে একজোড়া নুপুর। মায়ের নজরে পড়লে একশো একটা প্রশ্ন করবে, এসব ঝামেলা ঝাটি ভালো লাগছে না তনয়ার। নুপুর জোরা ব্যাগে রেখে দিল সে। নিজের অজান্তেই অনুভূতির লেনদেন করে ফেলছে সে।
এই ছেলেটার পাগলামি, ভালোবাসা, মায়ায় নিজেকেও জড়িয়ে ফেলছে সে, কিন্তু এটা সম্ভব না। কখনই না!
“কেন আসলেন আমার জীবনে?কেন এত ভালোবাসছেন আমাকে? আমি আপনাকে চাই না তেহরাব ভাই, আমি আপনাকে চাই না!”
দরজায় খটখট আওয়াজ পরতেই দ্রুত নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে তনয়া। চোখের পানি মুছে দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে প্রবেশ করে তনয়ার ছোট বোন তানহা, বিরক্ত নিয়ে ব্যাগটা বিছানায় ছুরে ফেলে নিজেই বসে পরে।
তনয়া তাকিয়ে থাকে তানহার দিকে। তানহা তনয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,
“ ওই বা*লটা যে আজ বাড়ি আসছে আগে বলিসনি কেন? শা*লা অসভ্য বজ্জাত ইতর বাটপার!”
তনয়া দরজা দিয়ে বাইরে তাকায়। ফুপি আর ফুপাতো ভাই শিহাব এসেছে। তনয়ার মন মেজাজ এমনিতেই ভালো নেই তাই তানহার সাথে কথা বাড়াল না। বসে পড়ল পড়ার টেবিলের সামনের চেয়ারে, তানহা পেছন থেকে তনয়ার গলা জড়িয়ে ধরে।
“ মন খারাপ?”
তনয়া হাত ছাড়িয়ে বই বের করল, সামনের মাসেই এইচ এস সি পরীক্ষা। এখন পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়াই উত্তম। তার উপর বিজ্ঞান বিভাগ!
তানহা কি আর সেই মেয়ে? সে বই বন্ধ করে তনয়ার সামনে দাঁড়ায়। ভ্রু নাচিয়ে হেসে বলে,
“এহুম এহুম, কী ব্যাপার বেহেন? জিজাজিকি সাথ ঝাগড়া হুয়াহে?”
তানহার ভুল ভাল হিন্দি আর কথা শুনে তনয়া চোখ কটমট করে তার দিকে তাকায়। তানহা ঠোঁট উল্টে সড়ে দাঁড়ায়।
“ আমিতো মজা করছিলাম, রাগ করিস কেন? বাই দা শপিং মলের রাস্তা, তোর হয়েছেটা কী?”
তনয়ার বিরক্ত লাগছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তানহাকে কোনো জবাব না দিলে এই মেয়ে আরো বকবক করবে যা এই মুহূর্তে তনয়া চাইছে না। তাই বই খুলতে খুলতে জবাব দিল,
“ সামনে পরীক্ষা তাই চাপে আছি, ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে পড়তে বস। তোর না সামনে টেস্ট এক্সাম? এবার ফেইল করলে এসএসসি দিতে দেবে না মনে রাখিস, সোজা বিয়ে দিয়ে বিদায় করবে!”
তানহা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আলমারির কাছে চলে যায়,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১
“ পড়াশোনার থেকে বিয়ে করে সংসার করা ভালো, আমার এসব পড়াশোনা ভালো লাগে না। মাকে বলে বিয়েটা দিয়ে দে।”
তনয়া কলমদানি থেকে একটি কলম নিয়ে তানহার দিকে ছুঁড়ে মারে। তানহা হাসতে হাসতে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
