Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৩

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৩

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৩
তামান্না ইসলাম শিমলা

হাসপাতালের কেবিনের বসে আছে তেহরাব, চোখে মুখে গম্ভীর ভাব।৷ ভাবনায় মত্ত সে!
ইউসুফ শুয়ে আছে বেডে, সবে জ্ঞান ফিরল তার। নার্স এসে বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে,
“তেহরাব!”
ইউসুফ ডাকল, তেহরাব তাকাল তার বাবার দিকে।
“হুম বল।”
“আমি বাসাই যাব, এখানে ভালো লাগছে না।”
তেহরাব চোখ বন্ধ করে নিল, চোখের সামনে দিয়ে তার মা বাবার বয়স বাড়ছে, সাথে বাড়ছে তেহরাবের ভয়। হারানোর ভয়!
এই যেমন আজ তার বাবা স্ট্রোক করেছে, বাইরে বাইরে নিজেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভেতর ভেতর কষ্ট হচ্ছে। তার বাবা যে শুধু তার বাবা নয়, তার ভালো খারাপের একমাত্র সঙ্গী!

“শুনেছিস?”
তেহরাব খপ করে শ্বাস ছাড়ে, তাকায় ইউসুফের দিকে।
“এত কি নিয়ে টেনশন কর? এবার এসব কাজ বাজ ছাড়ো, সারাদিন এত এত চাপ নিয়ে ঘুরলে তো স্ট্রোক করবেই।”
তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনে ইউসুফ হাসে,
“বয়স বাড়ছে, রোগব্যধি তো হবেই।”
তেহরাব উঠে দাঁড়াল,
“মাকে এখনো কিছু বলিনি, চিন্তা করবে। তোমাকে এখন ছেড়ে দেব, বাড়ি চল তারপর সব বলব। তোমার কাজ কি করে বন্ধ করি দেখে নিও।”
তেহরাব ইউসুফকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাইরে চলে আসে, পার্টি অফিসের কিছু লোকজন আছে এখানে। ডাক্তারের সাথে কথা বলে ইউসুফকে নিয়ে বেরিয়ে আসল তেহরাব, গাড়িতে বসিয়ে দিল। সাথে ফাহিমও এসেছিল,

“ফাহিম বাবাকে নিয়ে বাড়ি যা, আমার একটা কাজ আছে!”
তেহরাব যেতে নিলে ইউসুফ পিছুডাকে,
“কই যাচ্ছিস? বাড়ি যাবি না?”
তেহরাব পিছু তাকায় না, যেতে যেতে বলে,
“যাও তোমরা, আমি আসছি।”
অতঃপর ফাহিম ইউসুফকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য ছুটল, তেহরাব বাইকে চেপে ছুটল অন্য পথে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে, অন্ধকার নেমেছে সর্বত্র!

পড়তে বসেছে তনয়া ও তানহা, তনয়ার রুটিন দিয়ে দিয়েছে। সামনের মাস থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক শুরু, হাতে তেমন সময় নেই। সব মিলিয়ে পনেরো ষোলো দিন হবে, এমনিতে সব কিছুই মোটামুটি শেষ, এখন শুধু রিইাইস করবে।
“আচ্ছা আপু তুই কখনো কারো উপর ক্রাশ খাসনি?”
পড়ার মধ্যেখানে তানহার এমন প্রশ্নে বিরক্ত হয় তনয়া, ভ্রু জোড়া কুঁচকে বলে,
“পড়তে বসেছিস, ভালো করে পড়। আবুল তাবুল কথা বাদ দে!”
“আরে বল না, ক্রাশ আছে?”
তনয়া নিজের বইয়ের দিকে মনোযোগ দেয়, গম্ভীরমুখে জবাব দেয়,
“নাহ!”
তানয়া আশাহত হয়, তার বোনটা রসকষ ছাড়া,
“আপু একটা কথা বলি?”
“নাহ!”
তনয়ার তৎক্ষণাৎ জবাব, তানহা গাল ফুলিয়ে আবার বলে,
“শোনো না।”
তনয়া এবার নিজের বইটা বন্ধ করে তনয়ার দিকে গম্ভীর ভাবে তাকাল,
“বল কি বলবি?”
তানহা মৃদু লজ্জা পাওয়ার ভাব করে বলে,
“আমার একটা ক্রাশ আছে!”
তনয়া হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল,
“কিহ?”
“হ্যাঁ তো, ক্রাশ আছে। জানিস ছেলেটা হেব্বি দেখতে, যেমন এটিটিউড তেমন চালচলন। চেহারার কথা বাদই দিলাম, পুরোই সুপার হিরো!”
তনয়া তানহার কপালে চাটি মেরে রাগী কন্ঠে বলে,
“পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসব? দাঁড়া মাকে বলছি!”
তানহা ঠোঁট উল্টায়,

“আরে আরে রাগ করছ কেন? ভালো লাগতেই পারে সেটা কি আমার দোষ?”
তনয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই দেখতে পায় তার মা তাদের ঘরে আসছে, তাই দুজনেই চুপ হয়ে যায়। মুখ গুঁজে বইয়ে, তানিয়া ঘরে আসে,
“তনয়া চল আমার সাথে!”
তানিয়ার গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনে ভরকে যায় তনয়া, হঠাৎ কি হলো? তার মা তাকে ডাকছে কেন?
“কোথায় যাব?”
তানিয়া একই ভাবে জবাব দেয়,
“বসার ঘরে, চল!”
“আম্মু আমি যাব না?”
মাঝখানে তানহার কথা শুনে তানিয়া তার দিকে তাকায়,
“নাহ, চুপচাপ পড়। আর তোকে কি এখন নিমন্ত্রণ করে ডাকতে হবে?”
মায়ের কড়া আওয়াজ পেয়ে এবার তনয়া উঠে দাঁড়াল, বুক তার ধকধক করছে। হঠাৎ তাকে কেন ডাকছে?
মায়ের পিছু পিছু বসার ঘরে আসে তনয়া, ভেতরে শুধু সালমাই বসে আছে। তানিয়া গিয়ে বসল সালমার পাশে, তনয়াকেও বসতে বলল।
তনয়া বসল, তবে ভেতর ভেতর ভয় হচ্ছে তার।
সালমা এবার মুখ খুলে,

“ তোর সিট তো তোর আমার বাসার ওইদিকে পরেছে, তাই আমরা চাইছিলাম তুই পরিক্ষা ওখান থেকেই দে।”
তনয়া নিশ্চুপ, এতে তারই সুবিধা।
“এত ভঙচঙ না করে আসল কথা বলেন আপা, এত আমতা আমতা করার কি আছে?”
তানিয়ার ঠেস মারা কথায় সালমা চোখ গরম করে তাকায় তার দিকে,। সালমা নিজেই তনয়ার পাশে গিয়ে বসল, তনয়ার হাত জোড়া নিজের হাতের মুঠে নিয়ে বলল,
“ তোর বড় চাচা এসেছিল আজ, ছোট বেলাই রফিকের মেয়ে রাফার সাথে আমার বড় ছেলে প্রত্যয়ের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলাম। মাঝখানে এতএত ঝামেলা হয়ে গিয়েছে, আজ রফিক সব ঠিক করতেই এসেছিল। আর প্রত্যয় রাফার বিয়ের কথাটাও বলতে এসেছিল, আমি চাইছি প্রত্যয়ের সাথে সাথে শিহাবের সাথে তোর বিয়েটাও দিয়ে দিতে। তোর যদি কোনো আপত্তি না থাকে তাহলে আমি চায় পরিক্ষার আগেই চারজনের বিয়েটা হয়ে যাক।”
কথাটা কর্ণপাত হতেই পাথরের ন্যায় জমে যায় তনয়া, তার বিয়ে? নাহ নাহ এটা কি করে হতে পারে!
তনয়া ফট করে উঠে দাঁড়ায়,

“নাহ নাহ, আমি বিয়ে করব না।!”
তনয়ার চটপট জবাবে রাগ হলো তানিয়ার, সেও সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল।
“বিয়ে করবি না মানে? মুখে মুখে কথা বলতে শিখে গেছিস?”
তানিয়াকে রাগতে থেকে সালমা তাকে আটকায়,
“তানিয়া কি হচ্ছে কি? তনয়া বড় হয়েছে, ওরও একটা ইচ্ছা অনিচ্ছা আছে। তুই চুপ করে বস আমি কথা বলছি।”
তনয়া বসে না, উল্টো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকে তনয়ার দিকে। তনয়ার তো এখন কান্না পাচ্ছে, সালমা তনয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,

“আচ্ছা শান্ত হো, শিহাবের সাথে তোর বিয়েটা আগে থেকেই ঠিক করা, যেমন রাফার সাথে প্রত্যয়ের। তুই তো জানতিস সবটা, এখন তাহলে না করছিস কেন?”
তনয়ার কথা আটকে গেছে, এখন শুধু তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পরছে অশ্রুবিন্দু। মস্তিষ্ক জট পাকিয়ে যাচ্ছে, হ্যাঁ সে জানত৷ আর জানত বলেই সবসময় নিজেকে সব কিছুর থেকে দূরে রেখেছে, অবশেষে কি লাভ হলো? বিন্দু পরিমাণ অনুভূতি তো শিহাবের জন্য কাজ করে না তার, উল্টো এক আগুন্তক এসে তার অনুভূতি গুলো দখল করে নিয়েছে। না চাইতেই তেহরাব নামক মানুষটার প্রতি দুর্বল হয়ে পরেছে সে, চোখের সামনে যে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না!
“আপা তুমি যাও তো, আমারে কথা বলতে দাও৷ ইদানীং ওর মতি গতি আমার কাছে ভালো লাগে না!”
তানিয়া আসতে নিলে সালমা ধমকে উঠে,
“তানিয়া তোকে বসতে বলেছি আমি,আমি কথা বলছি তো। একটা কথাও বলবি না!”
সালমাকে বেশ সম্মান করে তানিয়া, ভালোও বাসে। তার কথা অমান্য করে কি করে?
তনয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে।

“তনয়া!”
তনয়ার মুখটা উঁচু করে ধরে সালমা, চোখে চোখ রাখে। তনয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কাঁদছিস কেন পাগলি? আচ্ছা বস তুই.!”
সালমা তনয়াকে বসায়, হাসি মুখেই প্রশ্ন করে,
“ তোর কি কোনো পছন্দ আছে? নিরদ্বিধায় বলতে পারিস, তাকা আমার দিকে।”
তনয়া তাকায় না, তার গলা দিয়ে একটি শব্দও বের হচ্ছে না। ওদিকে তানিয়া অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তারই দিকে।
সালমা এবার কিছুটা সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলে,
“তনয়া আমার দিকে তাকা, তোর যা বলার তুই বল। কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, তোর কাউকে পছন্দ? কাউকে ভালোবাসিস? তাহলে আমি নিজে তার সাথে তোর বিয়ে দেব, বল আমায়!”
তনয়া এবার শব্দ করে কেঁদে দেয়, সালমা জড়িয়ে ধরে তৎক্ষনাৎ। সে অবাক হচ্ছে,

“তনয়া বলবি তো কি হয়েছে?”
তনয়া ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে,
“ আ..আমি ব বিয়ে করব না এখন, আ আমি পড়াশোনা করব!”
সালমা হেসে উঠে পাগলি মেয়ের কথা শুনে, পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“এটা কেমন কথা? তুই কি ভেবছিস? বিয়ে করলে কি পড়াশোনা করতে পারবি না? তুই না চাইলেও তোকে দিয়ে আমি পড়াশোনা করাব, চাকরি করাব বুঝলি। পাগলি মেয়ে। এখন যেভাবে তোর জীবন চলছে সেভাবেই চলবে!”
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেই, তার মাথা ঘুরছে। চোখের সামনে শুধু তেহরাবের হাস্যজ্জ্বল মুখশ্রী ভেসে উঠছে। ভেসে উঠছে লোকটার পাগলামি করা দৃশ্য গুলে, এই যেন বলছে,

“জান তোকে বউ সাজিয়ে আমার বাড়ি আনব, সবাইকে দেখাব আমার এলোকেশী শুধু আমার।”
কই? না তো! এই এলোকেশী তেহরাবের না, এটা হতে পারে না কখনোই। ধপ করে চোখ খুলে তনয়া, বড় বড় করে শ্বাস নেয় কয়েকবার। সালমা তনয়াকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নেয়,চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,
“সময় নে মা, তুই তো বুঝদার। আজ নাহয় কাল বিয়েটা তো হবেই, এখন হলে দোষ কোথায়?”
তনয়া এখন আর কাঁদছে না, মূর্তির ন্যায় বসে আছে।ভাবছে কিছু একটা, সালমা উঠে দাঁড়াল, তার ফোনটা বাজছে। বড় ছেলে প্রত্যয় ফোন করেছে,

“তানিয়া আমি একটু আসছি, প্রত্যয় কল করেছে।”
বেড়িয়ে যায় সালমা, সালমা বেড়িয়ে যেতেই তানিয়া উঠে দাঁড়ায়। তনয়ার সামনে এসে তার বাহু চেপে ধরে দাঁড় করায়, তনয়ার ধ্যান ভাঙে। তানিয়া দরজার দিকে তাকিয়ে মৃদু দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“ প্রেমিক জুটিয়েছিস? শিহাবের সাথে তোর বিয়ের কথা জানা সত্ত্বেও? কে ওই ছেলে বল? কে?”
তনয়া চমকে উঠে, এসব কি বলছে তার মা। গলা শুকিয়ে আসছে তার, তবে কি …….
তানিয়া ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয় তনয়ার গালে, তনয়া তাল সামলাতে না পেরে সোফাতে বসে পরে।
তানিয়া তনয়ার গালে খুঁচা মেরে বলে,
“ পায়ে নুপুর, ডাইরিতে ফুল এসব কে দিয়েছে? লজ্জা করে না তোর তনয়া? একটুও লজ্জা করে না? তোর নাগর জানে তোর বিষয়ে?”
তনয়া কেঁদে উঠে, তানিয়া আবারও মারতে নিলে তনয়া বসে পরে নিচে।
“আম্মু বিশ্বাস কর আমি কোনো কিছু করিনি, আমি কোনো খারাপ সম্পর্কে জড়ায়নি!”
তানিয়া আবারও তনয়াকে দাঁড় করায়,

“বিশ্বাস আর তোকে? ভাগ্যিস বিকেলে তোর ব্যাগ থেকে খাতা নিতে গিয়েছিলাম,নাহলে এত কিছু দেখতাম? বল ছেলেটা কে?”
তনয়া কাঁদছে, সে কি জবাব দেবে? তাদের মাঝে তো কোনো সম্পর্কই নেই এটা তার মাকে কি করে বোঝাবে?
তানিয়া ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল তনয়াকে, রাগে চোখ মুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে তার।
“সে যেই হোক না কেন, বিয়ে তো শিহাবকেই করতে হবে তোর। কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নে, ওসব ছেলেরা না দুদিন প্রেম করে যখন সব পাওয়া হয়ে যাবে তখন আবর্জনার মতো ফেলে দেবে৷ শিহাব কোন দিক দিয়ে কম? ভদ্র, ভালো চরিত্র, দেখতেও কম না। সব থেকে বড় কথা তোর মতো মেয়েকে জেনেশুনে শিহাব ভালোবাসে, তোর ওই নাগরকে সত্যিটা বলিস তারপর দেখ সে তোকে বিয়ে করতে চাইবে নাকি।”

তানিয়া নিজেও বসে পরে সোফায়, তার চোখ দিয়েও পানি পরছে,
“অপয়া মেয়ে একটা, আমার কোন পাপের ফল হিসেবে যে আল্লাহ তোকে দিয়েছিল সেটা আল্লাহ ভালো জানেন, জন্মের পর থেকে সব নষ্ট করো যাচ্ছিস। অপয়া একটা, এই অপয়া মেয়েকে শিহাবের মতো ভালো ছেলে কি দেখে ভালোবাসল আল্লাহ জানে, ভাগ্যিস সালমা আপা আর তার ছেলে দুটো মাটির মানুষ, নাহলে এত বড় খুত থাকার পরেও কেউ এমন মেয়ে ঘরে তুলতে চাইত? তাও তো এই নাগরের কথা আমি ছাড়া কেউ জানেই না, অসভ্য মেয়ে একটা!”
তনয়া ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে, কথা গুলো সে সহ্য করতে পারছে না। নিজের মায়ের মুখে এমন কথা কেই বা সহ্য করতে পারে? সে তো সত্যি কোনো ভুল করেনি!
তনয়া তানয়ার হাত ধরল, ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলল,
“আম্মু বিশ্বাস কর আমি কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে নেই, ফুলগুলো একজন দিয়েছিল আমি শুধু এনেছিলাম। এর বেশি কিছু না!”
তানিয়া চট করে হাত ছাড়িয়ে নেয়,

“আর নুপুর, ব্যগে থাকা চিরকুট?”
তনয়া দ্রুত তাকায় নিজের নুপুরের দিকে, শখ করে নুপুর গুলো পরেছিল। এটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল, এখন কি বলবে সে? তনয়াকে চুপ থাকতে দেখে তানিয়া ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠে,
“কাল থেকে প্রাইভেট যাওয়া বন্ধ, কলেজেও যেতে হতে না। সামনের সপ্তাহের মধ্যেই বিয়ের তারিখ ঠিক করব, তারপর যা ইচ্ছা কর। তোর মতো মেয়ে আমার দরকার নাই, জন্মের পর থেকে আমাকে জ্বালিয়ে মারছিস!”
তানিয়া উঠে চলে যায় টেবিলের কাছে, গ্লাসে পানি ভরে ঢকঢক করে পানি পান করল। নিজেকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করছে সে, তনয়াকে এখনো আগের জায়গায় বসে থাকতে দেখে তানিয়ার রাগটা দ্বিগুণ হলো।
“মরা কান্না জুরেছিস কেন? সবাইকে জানাতে চাচ্ছিস? যাহ ঘরে যাহ।”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১২

তনয়া এক নজর মায়ের দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে আসল বসার ঘর থেকে, ছুটে চলে আসল নিজের ঘরে৷ দরজা বন্ধ করে শুয়ে পরল বিছানায়, আচমকা এমন হওয়ায় তানহা ভ্রু কুঁচকাল৷ হঠাৎ তার বোনের আবার কি হলো? জিজ্ঞেস করতে চাইল, আবার ভাবল থাক দরকার নেই। হয়ত নিজেই বকা খাবে, তাই আবারো নিজের পড়ায় মনোযোগ দিল।

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৪