হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৪
তামান্না ইসলাম শিমলা
একের পর এক তনয়াকে কল করে যাচ্ছে তেহরাব, অথচ তনয়ার ফোন বন্ধ। অবশ্য এটা নতুন নয়, প্রায় সয় এই মেয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে।
আজ এমনিতেই তেহরাবের মনটা ভালো নেই, সারাদির যা সব হলো ভালো থাকবেই বা কি করে।আপাতত তনয়ার বাড়ির পেছনের রাস্তায় বাইক নিয়ে বসে আছে মিনিট ত্রিশ যাবৎ, একবার ভাবছে এক্ষুনি তনয়ার বাড়ি চলে যাবে। কিন্তু এটা করা যাবে না!!
এদিকে তারও যে মন বসছে না, অস্থির অস্থির লাগছে। বাইকে বসেই বাইকে লাথি মারল, নিজের রাগটা সংযত রাখতে পারছে না,
“এত জ্বালাস কেন আমায় তনয়া, ফোনটা খোল না জান। আমার কষ্ট হচ্ছে, একটু কথা বল!”
ফোনের দিকে তাকিয়ে অস্থির কন্ঠে কথাগুলো আওড়াই তেহরাব। তাতে কি? তনয়া কি ফোন খুলবে? কথা বলবে তার সাথে?
রিংটনের আওয়াজ কানে আসতেই ঠোঁটে হাসির রেখা দৃশ্যমান হয়, ভাবল তনয়া। কই? এটা তো তনয়া না, বরং ইরার নাম্বার! আশাহত তেহরাব চোখজোরা বন্ধ করে নিল, কলটা রিসিভ করে কানে ধরল,
“হ্যাঁ বল।”
ওপাশ থেকে ইরা স্বাভাবিক কন্ঠেই বলল,
“আম্মু বাড়ি আসতে বলছে তোকে, ওদিকে সাহিলের মা বাবাও কাল আসবে। বাসাই তোকেই সবটা সামলাতে হবে!”
তেহরাব শুনল, বিপরীতে কোনো জবাব দিল না। তার দৃষ্টি তনয়াদের বাড়ির দিকে, মাথা ব্যথা করছে তার।
“হ্যালো, কি হলো শুনছিস?”
“হুহ!”
তেহরাব হুমি নেয়, অতংপর বলে,
“আসছি আমি!”
ইরাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দেয়, বড্ড বেশি অস্থির লাগছে। নিজের শার্টের তিন নাম্বার বোতামটা খুলে দিতেই দৃশ্যমান হয় একটি চেইন, যেখানে ইংরেজি “টি” লেখা লকেট।
শেষ বারের মতো এক নজর তনয়াদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে বাইক স্টার্ট দেয়, কাল বরং কলেজের সামনে গিয়েই দেখা করবে। অথচ এই পাগলা প্রেমিক পুরুষটি যে জানতেও পারল না তার এলোকেশীর সাথে আদেও তার সাক্ষাৎ হবে কিনা!!
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে দরজা খুলে দেয় তানহা, তনয়া সেই আগের মতোই চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।
দরজার বাইরে তানিয়া, সে ভেতরে দৃষ্টি রেখে তানহাকে বলল,
“খেয়ে আয়, তোর ফুপি অপেক্ষা করছে।”
তানহা তাকায় তনয়ার দিকে,
“আপু খাবে না?”
তানিয়া তনয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘তুই যা!”
তানহার খটকা লাগে, আড় চোখে একবার তনয়া ও একবার তানিয়ার দিকে তাকায়। কিছু তো একটা হয়েছে!
“ছাগলের মতো দাঁড়িযে আছিস কেন? যেতে বলছি না?”
ধমক খেয়ে তানহা বেড়িয়ে যায় ঠিকি তবে তার খুঁতখুঁতানি আরো বেড়ে যায়। তানহা যেতেই তানিয়া দরজা আটকিয়ে দেয়, বিছানার সামনে এসে দাঁড়ায়। তনয়া ওপাশ ফিরে আছে,
“উঠ!”
তনয়া একদম শান্ত, উঠে বসল। তাকাল তার মায়ের দিকে, তানিয়া এক নজর তনয়ার শান্ত, থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। কন্ঠে গম্ভীরতা এনে বলল,
“শিহাব তোর সাথে কথা বলতে চাইছে, উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। খবরদার এমন কিছু বলেছিস যে শিহাব এই বিয়েতে অমত করেছে তো তোর একদিন কি আমার একদিন!”
তনয়া চেয়ে থাকে তানিয়ার দিকে, হঠাৎ প্রশ্ন করে,
“আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসো তাইনা?”
তনয়ার প্রশ্নে তানিয়া অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়, তনয়ার ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি,
“আমি জানি আম্মু, তুমি আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসো। তাই তো আমার ভবিষ্যত নিয়ে এত ভাবছ, কিন্তু একবারও কি শিহাব ভাইয়েরর কথা ভাবছ না? আল্লাহ না করুক যদি ডাক্তারের কথা সত্যি হয় তখন কি হবে?”
তনয়ার শীতল দৃষ্টি সাথে শান্ত কন্ঠস্বরে বলা কথাগুলো কর্ণপাত হতেই কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পরে তানিয়া। অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল তনয়ার দিকে, কি আশ্চর্য। অসহায় তো তনয়া নিজে।
“এসব বলিস না মা, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আপাকে কথা দিয়ে ফেলেছি, তারা সব জেনে মেনে তোকে গ্রহণ করছে এখানে আমার তো আপত্তি থাকার কথা না!”
তনয়া মাথা নিচু করে হাসে,
“তারা তো আশায় আছে আমি সুস্থ হয়ে যাব এই ভেবে, কিন্তু যদি না হয় তখন? ধরলাম ফুপি বা শিহাব ভাইয়া তবুও মেনে নিল, কিন্তু আমি? আমি জেনে বুঝে কারো জীবন নষ্ট করতে চাই না। আমার জন্য শিহাব ভাইয়ের ভবিষ্যত নষ্ট হোক এটা তুমি মেনে নিতে পারবে তো আম্মু?”
তানিয়ার চোখের কার্ণিশ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে, আসলেই তো। সে তার মেয়ের কথা ভাবতে গিয়ে স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে না তো? তানিয়া দ্রুত জড়িয়ে ধরল তনয়াকে, কেঁদে উঠল শব্দ করে,
“এসব বলিস না তনয়া, এসব বলিস না। সব ঠিক হয়ে যাবে, সব। তুই শুধু আমাদের মানসম্মান ডুবাস না।”
তনয়া মূর্তির ন্যায় বসে আছে, এই মুহূর্তে নিজেকে অনুভূতি শূন্য একটি প্রাণ মনে হচ্ছে। তানিয়া ছাড়ল, তনয়ার দুগালে হাত রাখল,
“খুব লেগেছে তাই না? কি করতাম বল, মাথা ঠিক ছিল না। তুই এমন একটা কাজ করতে পারিস আসি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, যা হয়েছে হয়েছে তুই আমাদের মান সম্মান ডুবাস না।!”
তনয়ার চোখের পাতাও নড়ছে না,মাকে পাশ কাটিয়ে বিছানা থেকে নামল। ওড়না ভালোমতো মাথায় চাপিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে, সেদিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলল তানিয়া।
উঠোনের এক কোণায় উল্টো পাশ ফিরে দাঁড়িয়ে আছে শিহাব, তনয়া ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে তার পাশাপাশি দাঁড়াল৷
নিজের পাশে আরেকটি সত্তা অনুভব করতেি পাশ ফিরে তাকাল শিহাব, তনয়াকে দেখে অধরে এক শান্তির হাসি ফুটে উঠল।
“খাওয়া দাওয়া করেছ?”
শিহাবের কথায় ছোট্ট করে জবাব দেয় তনয়া,
“উহু!”
শিহাব বুকে হাত গুঁজে, কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না৷ বড্ড অস্বস্তি বোধ হচ্ছে এই মুহূর্তে, তা বোধহয় লক্ষ করল তনয়া। তাই নিজেই বলল,
“আমি এই বিয়েতে রাজি, কারো জোরাজোরিতে নয় বরং নিজ ইচ্ছায়। তবে বিষয়টা আপনার ভেবে দেখা উচিত, কারন এটা আপনার জীবন।”
তনয়া রাজি, কথাটা শোনা মাত্র মনটা খুশিতে লাফিয়ে উঠল। এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব হচ্ছে, প্রাণ ভরে শ্বাস নিযে নিজেও সামনের দিকে তাকাল,
“তোমাকে ভালোবাসি আমি, আজ থেকে নয় সেই পাঁচ বছর আগে থেকে যেদিন থেকে তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে এটা জানতে পেরেছি । আমার অন্তরস্থলে এক বিশেষ জায়গা জুরে তোমার বিচরণ, তনয়া নামক মানুষটার বিচরণ। কতটা ভালোবসি জানা নেই, শুধু জানি ভালোবাসি”
“সবটা জেনেও? আপনার তো একটা ভবিষ্যত আছে!’
তনয়ার থমথমে গলার প্রশ্ন শুনো শিহাব মৃদু হাসে, গালে মৃদু টোল পরে, এটাই তার সৌন্দর্যের বিশেষত্ব!
“ ভবিষ্যত? আমার ভবিষ্যত তুমি হলেই চলবে, আর কিছু চাই না আমি৷ হবে তো আমার, থাকবে সারাজীবন?”
তনয়া জবাব দেয় না, সে তাকিয়ে আছে শূন্যে, যে শূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছ একটি অবয়ব ৷ তেহরাব ভাই, নিজের অজান্তেই মন দখল করা তেহরাব ভাই।চোখ বন্ধ করে নিল তনয়া, কান্না গুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে, চেপে রাখল গলায়। শুধু বলল,
“আমি বিয়েতে রাজি!”
সাথে সাথেই দু’ফোঁটা জল গাড়ি পরল গাল বেয়ে৷ চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়াও এ অশ্রু দেখতে পারল না পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিহাব। শুধু এক তীক্ষ্ণ অসহনীয় যস্ত্রনা অনুভব করল তনয়া, মনে মনে এ নিয়ে নিজেকে ধমকালো৷ সে কেন কাঁদছে, কেন কষ্ট পাচ্ছে?
মনে মনে বিড়বিড়াল,
“ হটাৎ করে আসা মানুষ গুলো হঠাৎ করেই চলে যায়, এ নিয়ে আফসোস করতে নেই তনয়া। তুই বরং দ্বিতীয়বার প্রেমে পর, শিহাবের প্রেমে!”
আর এক মুহুর্ত দাঁড়াল না তনয়া, চলে গেলে বাড়ির দিকে। এদিকে শিহাব ভাবল তার তনয়া বুঝি লজ্জা পেয়েছে, হাসল সে।
ড্রয়িং রুমে বসে আছে তেহরাব, ইরা, তাসলিমা আর ইউসুফ। ইউসুফকে কি আর ঘরে বেঁধে রাখা যায়?
“এতদির পর বাড়ি আসলাম অথচ তোমরা কেমন মরা মানুষের মতো বসে আছো, ধ্যাত ভাল্লাগে না।”
ইরার কথা শুনে ইউসুফ হাসে,
“আমি আছি তো, তোর মা ভাই তো আজ মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। তুই আমার সাথে কথা বল, কেমন চলছে পড়াশোনা?”
ইরা এসে ইউসুফের পাশে বসে, জড়িয়ে ধরে আলতো করে,
“হুম ভালো, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরিক্ষা শেষ হয়েছে কদিন আগে, তাইতো ছুটি পেয়েছি।”
ইউসুফ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তসলিমার দিকে তাকালেন। তার বউটা মুখ ফুলিয়ে বসে আছে, চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।৷ বিষয়টা বুঝতে পেরে ইউসুফ তাসলিমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“তুমি বেহুদা চিন্তা করতেছ, এই দেখ আমি একদম ফাইন। অন্তত তোমার ছেলের থেকে বেশি!”
শেষ কথাটা তেহরাবের দিকে তাকিয়ে বলল, যে কিনা চোখ বন্ধ করে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে।
তাসলিমা তেহরাবকে লক্ষ করল, ছেলেটা বাড়ি আসার পর থেকে একটা কথাও বলছে না। শুধু ওষুধ গুলো রেখে সোফায় বসে পরেছে!!
তাসলিমা তেহরাবকে ধাক্কা দেয়,
“ কি হয়েছে তোর? মাথা ব্যথা করছে?”
“হুম”
তেহরাব ছোট্ট করে জবাব দেয, এতেই ফোঁস করে উঠেন তাসলিমা।
“মাথা তো ব্যথা হবেই, সারাদিন বাইক নিয়ে টুটু করলে মাথা ব্যথা করবে না আবার?”
তাসলিমার কথা শুনে পাশ থেকে ইরা খিলখিল করে হেসে উঠে, মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
“হ্যাঁ হ্যাঁ তোমার লজিক আছে, আমার মাথা ব্যথা হলে সেটার দোষ মোবাইলের, ভাইয়ার হলে বাইকের, বাবার হলে চায়ের। শুধু নিজের বেলায় সাতখুন মাফ!”
বলেই আবারও হাসতে লাগল ইরা, তাতে যোগ দিলেন ইউসুফ। তাসলিমা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন,
“আমি তো তোদের মতো শুয়ে বসে থাকি না, সংসারের কত কাজ থাকে তোর হিসাব আছে? বিয়ে কর তারপর বুঝতে পারবি।”
“করে নিয়েছি তো!”
ফট করে বলা কথায় নিজেই ভরকে ইরা, মুখ ফসকে কি বলে ফেলল সে? তাসলিমা ভ্রু উচিয়ে ইরার দিকে তাকিয়ে আছে, মেয়ের কিছু সময় আগে বলা কথাটা বোঝার চেষ্টা করছে। ইরা বুঝতে পারল সে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে, মেকি হাসল সে।
তেহরাবের মাথাটা সত্যি ব্যথা করছে, অনেক বেশি। হয়ত জ্বর আসবে!! তার উপর এসব কোলাহল তার মাথার যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিচ্ছে, চোখ খুলে সোজা হয়ে বসল তেহরাব। চেহারায় গম্ভীরতা ও সিরিয়াসনেেসের সংমিশ্রণ,
“আমার একটা কথা আছে!”
তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনে সকলের দৃষ্টিপাত হলো তার দিকে, তেহরাব তার মা ও বাবার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল,
“ইরা বড় হচ্ছে, এবার বিয়ে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত!”
তাসলিমা আর ইউসুফ কিছুটা অবাক হলো, তেহরাব হটাৎ এসব বলছে। সেদিকে পাত্তা না দিয়ে তেহরাব আবার বলল,
“আমার একজন বন্ধু আছে, কলেজের প্রফেসর। ইরাকে পছন্দ হয়েছে তাদের, তারা চাইছে কালকে দেখতে আসতে। আর যেহেতু ইরা বাসায়ই তাই আর না করিনি, কালকে বিকেলে আসবে তারা!”
“ভাইয়া, কি বলছ এসব? আমি এখনই বিয়ে করব না!”
ইরার কথা শুনে তেহরাব তার দিকে তাকায়, মেয়েটা এত নাটক করতে পারে! বিয়ে করে বসে আছে, আর এখানে বলছে বিয়ে করব না। তেহরাব তাসলিমার দিকে তাকাল, ফোন থেকে একটি ছবি বের করে দেখাল তাকে,
“সাহিল আহমেদ, ছেলেটা ভালো। আমার মতো উংশৃঙ্খল, অভদ্র নয়, দেখো ভালো লাগে কিনা!”
তাসলিমা দেখল, ছেলে তো দেখতে সুন্দর, কিন্তু তার মেয়ে? মেয়ের অমতে কিচ্ছুটি সে করবে না। তাসলিমা ফোন নিয়ে ইউসুফকে দেখাল,
“দেখ!”
ইউসুফ মনোযোগ দিয়ে দেখল, দেখতে শুনতে ভালোই।
“তেহরাব যখন আসতে বলেছে তবে আসুক, তারপর ইরার যা মনে হয় বলবে!”
ইউসুফের কথায় তাসলিমাও সায় জানায়, ইউসুফ গাল ফুলিয়ে বসে থাকা ইরার মাথায় হাত দিয়ে বলে।
“গাল ফুলিয়ে বসে আছিস কেন? তোকে তো কালকেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি না, দেখতে আসুক তারপর তোর পছন্দ হলে কথা এগোবো!”
মনে মনে হাসছে ইরা, মনতো খুশিতে নাচছে। তবে বাইরে প্রকাশ করল বিপরীত, যেন সে এখন বিয়ে করতে নারাজ।
“আচ্ছা এখন এসব রাখো তোমরা, রাত হয়েছে চল খেয়ে নাও সবাই।!”
তাসলিমা তেহরাবের ফোন তার হাতে দিয়ে উঠে দাঁড়াল, ইরা ও ইউসুফ ডাইনিং টেবিলের দিকে পা বাড়ায়৷ তেহরাব আসে না, উল্টো উপরে যেতে নিলে তাসলিমা আটকায়,
“উপরে যাচ্ছিস কেন? খেয়ে যা, মাথা না ব্যথা করছে, খেয়ে ওষুধ খা!”
তেহরাব দাঁড়ায় না, যেতে যেতে বলে,
“ইচ্ছে করছে না!”
মাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে আসে নিজের রুমে, বাইকের চাবিটা ওয়ারড্রবের উপর রেখে গা ছেড়ে বসে বিছানার উপর। গোটা ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার, গা এলিয়ে দিল বিছানায়। অচানক বুকে চিনচিন ব্যথা অনুভব হলো, বুকের বাম পাশে হাত রাখল। চোখ জোরা খুলে রাখতে পারছে না তেহরাব, মাথাটা অসম্ভব যন্ত্রণা করছে। চোখ বন্ধ করে বিড়বিড়ালো,
“জান যন্ত্রণা হচ্ছে, দেখ মাথায়, বুকে মনে সব খানেই যন্ত্রণা হচ্ছে। একটাবার কল ধরলে কি হতো? করুনা করেই নাহয় দুমিনিট কথা বলতি, এই তেহরাবকে কি করুণা করাও যায় না? কেন এত ঘৃণা করিস?”
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৩
চোখ বন্ধ রেখেই বিছানা হাতরে ফোনটা হাতে নেয়,চোখ খুলে আবারও ডায়াল করে তনয়ার নাম্বারে। রিং যাচ্ছে, চট করে উঠে বসল তেহরাব, অধরে ফুটে উঠল হাসি। কল রিসিভ ও হলো, ওপাশ থেকে কেউ হ্যালো বলতেই বুঝতে পারল এটা তার তনয়া না, চুপ রইল তেহরাব। নাম্বারটা তো ঠিকি আছে, অতঃপর বুঝতে পারল এটা তনয়ার মাযের কন্ঠস্বর। বিরক্ত লাগল তেহরাবের, কলটা কেটে বিছানায় ছুঁড়ে মারল। আবারও ধপ করে শুয়ে পরল, চোখ বন্ধ করতেই দুপুরের দৃশ্যটা ভেসে উঠছে,
“তনয়ারে তুই শান্তি দে একটু আমায়, এত পুড়াস না।”
