Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৬১

দাহশয্যা পর্ব ৬১

দাহশয্যা পর্ব ৬১
Raiha Zubair Ripti

সোলেমান রুমে এসে দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখলো, নাহ্ মেহরিন নেই। ম্যেড কে ডেকে জিজ্ঞেস করলো-
“ তোমাদের ম্যাডাম কোথায়? ”
ম্যেড জানালো-
“ ম্যাম নামাজ ঘরে। ”
সোলেমান ওয়াশরুমে ঢুকে একেবারে গোসল সেরে নামাজ ঘরে গেলো। দরজার কাছে দাঁড়াতেই শুনতে পেলো সুমধুর মিষ্টি গলায় কোরআন তিলাওয়াত। সোলেমান এগিয়ে আসলো। মেহরিনের পাশে বসতেই মেহরিন আড়চোখে তাকালো। আয়াত শেষ হতেই পড়া থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“ কখন এলেন? ”
সোলেমান বলল-
“ অনেকক্ষণ হয়েছে এসেছি। তুমি পড়ো,আমি শুনি। শুনতে ভালো লাগছে। ”
মেহরিন ইশারায় তার কোলে মাথা রেখে শুতে বলল। সোলেমান বাচ্চা ছেলের মতন মেহরিনের কোলে মাথা রেখ শুলো। মেহরিন এক হাতে সোলেমানের মাথার চুল নেড়েচেড়ে পড়তে লাগলো।
শ্রেষ্ঠ একটা সুন্দর মূহুর্ত সোলেমান স্বচক্ষে দেখতে পেলো। মেহরিন বেশ কিছুক্ষণ পড়ে রেহাল সমেত কোরআন শরীফ টা সাইডে সরিয়ে রাখলো। চোখ বুজে থাকা সোলেমানের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল-

“ ঘুমিয়ে পড়লেন নাকি? ”
সোলেমান চোখ মেলে তাকালো। উল্টো ঘুরে মেহরিনের পেটে মুখ গুঁজে বলল-
“ তুমি ঘুম পাড়িয়ে দিলে অবশ্যই ঘুমিয়ে পড়বো। ”
মেহরিন জিজ্ঞেস করলো-
“ আমরা দেশে ফিরবো কবে সুলতান সাহেব? ”
“ দেরি আছে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে। ”
“ আপনি তো আসার সময় আব্বু সাথে আমায় দেখা করিয়ে আনলেন না। এসে থেকে একবার ও কথা বলতে পারি নি। ফোন টাও ভিলায় রেখে এসেছি আমার টা। ”
সোলেমান নিজের ফোনটা মেহরিনের হাতে দিয়ে বলল-
“ কথা বলে নিও পরে। আসলে মনে নেই তোমার আব্বুর সাথে দেখা করাতে। শুনেছি উনি এসেছিলেন ভিলায় তোমার সাথে দেখা করতে। তখন আমরা বরিশাল ছিলাম। ”
মেহরিন তার বোনের ফোনে ফোন করলো।
সেরিন উঠানে বসে রোদ পোহাচ্ছিল। দু এক মাসের মধ্যে তার ডেলিভারি হয়ে যাবে। আকস্মিক পাশে থাকা ফোনে আননোন নম্বর দেখে ভ্রু কুঁচকালো। কে দিয়েছে ভেবে দ্বিতীয় বার বাজতেই রিসিভ করে কানে নিলো। মেহরিন বলল-

“ হ্যালো আপা,আমি মেহরিন। ”
সেরিনের চোখ জ্বলে উঠলো খুশিতে। কিন্তু অভিমান হলো। যাওয়ার আগে দেখা করে যাবে না একবার?
“ মনে পড়লো তাহলে আমাদের? ”
মেহরিন বুঝলো আপার অভিমান।
“ আসলে আমার ফোনটা তো ভিলায় রেখে আসছি আপা। তুমি কেমন আছো? আব্বু আম্মু কেমন আছে? ”
“ আব্বা তো উঠতে বসতে তোর জন্য হার্ট অ্যাটাক করে। সেদিন গিয়েছিল দেখা করতে। গিয়ে শুনে চলে গেছিস। ”
“ আব্বা কে ফোনটা দাও। ”
“ বাসায় নেই। বাজারে গিয়েছে। মায়ের সাথে কথা বল।
সেরিন সানজিদা বেগমের কাছে ফোন টা দিয়ে আসলো। মেহরিন মায়ের সাথে কথা বলে বলল মোতালেব ভুঁইয়া আসলে যেন ফোন দেয় তাকে। কথা বলবে মেহরিন বাপের সাথে।
সানজিদা বেগম আচ্ছা বললো। মেহরিন ফোনটা কেটে সোলেমানের দিকে বাড়িয়ে দিলো। সোলেমান ফোনটা ফ্লোরে রেখে দু হাত দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরলো মেহরিনের।
মেহরিন সোলেমানের মাথার চুলে হাত ডুবিয়ে নেড়েচেড়ে দিতেই খেয়াল করলো,তার সুলতান সাহেবের একটা চুল পেকে সাদা হয়ে আছে। মেহরিন বলল-

“ এ বাবা আপনার তো দেখি চুল পেকে গেছে। ”
কথাটা কানে আসতেই সোলেমান আৎকে উঠলো। শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে বলল-
“ কোথায় পেকেছে? কোথায়? ”
মেহরিন ফোন টা নিয়ে একটা ছবি তুলে দেখিয়ে বলল-
” এই যে। ”
সোলেমানের চোখ কপালে। হোয়াট! সে এত তাড়াতাড়ি বুড়ো হচ্ছে কি করে! সে তো এখনও বাপই হয় নি,দাদুও হয় নি। তাহলে চুল কেনো পাকবে? সোলেমান উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল টাকে ক্রমাগত দেখতে লাগলো।
মেহরিন কোরআন শরীফ টা নিয়ে চলে গেলো।
সোলেমান ইব্রাহিমের নম্বরে কল লাগালো। শালার ও কি চুল পেকেছে? জিজ্ঞেস করতে হবে।
ইব্রাহিম ফোন রিসিভ করতেই সোলেমান বলল-

“ এ শালা তোর বাল পাকছে? ”
ইব্রাহিম ভ্রু কুঁচকালো।
“ আমার বাল পাকতে যাবে কেনো?”
সোলেমানের কপালে হাত। “
“ পাকে নি বলছিস? কিন্তু আমার তো সর্বনাশ হয়ে গেছে রে। ”
“ কি সর্বনাশ হইছে তোর?”
“ আমার তো একটা বাল পেকে গেছে। ”
ইব্রাহিমের চোখ বড় হয়ে এলো। আশ্চর্যের সহিত বলল-
“ হোয়াট! তোর বাল পেকে গেছে মানে! এত তাড়াতাড়ি! আমি যতদূর জানি এটা ধীরে ধীরে আরো পরে পাকে। তোর এত তাড়াতাড়ি পাকলো কি করে ভাই! ”
“ শালা গাধার বাচ্চা,এটা সেই বাল না। আমার মাথার চুল একটা পেকে গেছে। আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি! আমার ল্যাদা বউ আবার সেই চুল দেখেও ফেলছে। আমার ল্যাদা বউয়ের পাশে দাঁড়ালে আমাকে এখন বুড়ো বুড়ো লাগবে রে। ”
ইব্রাহিম তড়িঘড়ি করে নিজের চুল গুলো আয়নায় দেখলো। না তার একটা চুলও পাকে নি। তারমানে সে এখনও টগবগে যুবক। হাই তুলতে তুলতে বলল-
“ দুলহান লাগিয়ে কালো করে ফেল ব্যাটা। দুই একটা বাল পাকলে ব্যাডা মানুষ বুড়া হয় না। ”
সোলেমান মুখে দাড়ি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বলল-
“ ভাগ্যিস বউ পাকা চুল দেখে এখনও লজ্জা দিয়ে বলে নি – আমি জুয়ান একটা মাইয়া বুইড়া জামাইয়ের কাছে আমায় বাবায় দিছে বিয়া। কম লজ্জায় তো পড়ি নি এই ল্যাদা বউ নিয়ে। ”

রুমাইসারা আজ ট্রলার দিয়ে সুন্দরবন টা ঘুরবে। সেজন্য সুন্দর করে রেডি হয়ে একটা সুতি থ্রিপিস পড়ে নিলো। চুল গুলো কে বিনুনি করে ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক নিলো। যত্তসব তূর্ণ ফূর্ণর জন্য কি না রুমাইসা মন খারাপ করেছিল! এই ব্যাডার সাথে জীবনে আর কথা বলবে না রুমাইসা। সুলতান বাড়ির একমাত্র মেয়ে সে। তার সাথে এমন বিহেভিয়ার মানায় না। সে আর ঐ ব্লগার কে দেখার জন্য ছ্যাবলামি করবে না। আয়নায় নিজেকে আর একবার দেখে রুম থেকে বেরিয়ে বাহিরে আসলো। কটেজের গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে ফোন টা দিয়ে সেলফি তুলতে লাগলো। সেলফি তোলার মাঝেই পোস দেওয়ার জন্য একটু ঘুরতে গিয়ে ব্যাকা হতেই কারো সাথে ধাক্কা খেতে খেতে নিজেকে সামলো নেয়। কিন্তু যার সাথে খেয়েছে সে সামলাতে পারে নি। দূর্ভাগ্যবশত কাদায় পড়ে যায়। রুমাইসা পেছন ফিরে দেখে একটা বাচ্চা ছেলে কাদায় পড়ে আছে। চোখ মুখে রাগ স্পষ্ট। রুমাইসা সরি বলে উঠাতে গেলে ছেলেটা ঝাড়া মেরে হাত সরিয়ে দিয়ে বলে-
“ আমাকে ফেলে দিয়ে এখন আবার উঠানোর জন্য হাত বাড়াচ্ছ! আজব মেয়ে তো। তোমার জন্য এখন আমাকে বকা খেতে হবে। বলবে বেয়াদবের বাচ্চা তোকে বলেছি না ভালো মতন থাকতে? কিন্তু আমি তো ভালো মতনই আসছিলাম। তুমিই তো খারাপ ভাবে ফেলে দিলে। আমার বকা গুলো কি এখন তুমি খাবে? ”
রুমাইসার চেনা চেনা লাগলো ছেলেটাকে। কোথায় এগজ্যাক্টলী দেখেছে মনে পড়ছে না।

“ সরি ভাই। দেখি নি। দেখলে তো ফেলতাম না তোমায়। এখন উঠো। ”
তানভীর উঠে দাঁড়ালো। দূর থেকে তেহরান তানভীরের শরীরে কাদা দেখে পাশ থেকে বাঁশের কুঞ্চী হাতে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসে। সবেই একটা ধমক দিতে যাবে এমন সময় পাশে চোখ যেতেই চমকে গেলো। আরেহ্ এটা মেহরিনের ননদ টা না! রুমাইসা তেহরান কে দেখে ভ্রু কুঁচকালো। কিছুক্ষণ ভেবে বলল-
“ আপনি ভাবির কিছু হোন? মেহরিন ভাবির? ”
“ একদম ঠিক চিনেছেন। কিন্তু আপনি এখানে কি করে? কার সাথে এসেছেন? ”
” মেঝ ভাইয়া দের সাথে। ”
“ এই বনবিবি তেই উঠেছেন নাকি? ”
“ হ্যাঁ। ”
“ আচ্ছা পরে দেখা হবে বেয়াইন। ”
তেহরান তানভীরের কলার টেনে টেনে নিয়ে গেলো ভেতরে। চোখ দিয়ে শাসাতে ভুললো না। তানভীর ভয়ে চুপসে গেলো।
তেহরান নিজেদের রুমে এসে কোমরে দু হাত গুঁজে রাগী গলায় বলল-
“ ফাজিলের হাড্ডি নর্দমার ময়লা তোরে বলছি না লম্ফঝম্প না করতে? তুই চিৎপটাং হয়ে কাদায় পরলি কেনো? ”
তানভীর মাথা নত করে বলল-

“ ঐ আপুই তো ফেলে দিলো। আমি কি ইচ্ছে করে পড়েছি নাকি? ঐ আপুর দোষ। ঐ আপুকে গিয়ে বকো। ”
দরজা ঠেলে সৈকত কে আসতে দেখে তানভীর তার পেছনে লুকিয়ে বলল-
“ আমাকে বকছে ভাই। তুমি বলেছিলে আমাকে দেখে রাখবে। কিন্তু রাখলে না। যার দরুন এক মেয়ে আপু এসে আমায় ফেলে দিছে। দোষ তোমারও। ”
তেহরান এসে কান চেপে ধরলো তানভীরের।
“ এর দোষ ওর দোষ। আর তুই সাধু? চ’ড়িয়ে দাঁত ফেলায় দিব ছা’গল। যা গোসল করে আয়। ”
সাফওয়ানের সাথে মাহির দেখা হয়েছে কটেজের রিসিপশনে। মাহি বেশ চমকালো সাফওয়ান কে এখানে দেখে। মাহি ধরে নিয়েছে তার কারনেই সাফওয়ান এসেছে। তাই বলল-

“ এখানে কেনো এসেছেন সাফওয়ান? ”
সাফওয়ান মাহিকে দেখে নিজেও চমকেছিল। তবে তা প্রকাশ না করে বলল-
“ তোমার পিছু আসি নি ডোন্ট ওয়ারি। কাজে এসেছি। ”
এজওয়ান সবেই মাহিকে দেখো এগিয়ে আসছিলো। কিন্তু সাফওয়ান কে দেখে কপালে দু ভাজ পড়লো। বিরক্ত হয়ে বলল-
“ হালা হাবাইদা এখানেও চলে এসেছে!”
মাহির পাশে গিয়ে এজওয়ান বলল-
“ চলো সুইটহার্ট যাওয়া যাক। ”
সাফওয়ান ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে। মাহির দিকে তাকিয়ে বলল-
“ কোথায় যাচ্ছ তুমি? ”
মাহি বলল-
“ সুন্দরবনের দিকে ঘুরতে। ”
সাফওয়ান বলল-
“ যেও না । বনে সন্ত্রাসী রা ঢুকেছে বিপদে পড়তে পারো। তোমার ভালোর জন্যই বলছি। ”
পাশ থেকে এজওয়ান তেড়ে এসে বলল-
“ ভালো মন্দের জ্ঞান দিচ্ছিস তাও আবার আমার বউ কে! ”
“ যদি তোর মনে হয় আমি মাহি কে জ্ঞান দিচ্ছি। তাহলে হ্যাঁ দিচ্ছি। ”
“ তুই কে রে মাহি কে জ্ঞান দেওয়ার? ”
সাফওয়ান এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ তোর বউয়ের এক্স। তুই কে আমাকে জিজ্ঞেস করার? ”
এজওয়ান বাঁকা হেঁসে মাহির কোমর চেপে মাহিকে নিজের সাথে চেপে ধরে বলল-
“ আমি তোর এক্সের পার্সোনাল ইমরান হাশমি। ”
মাহি এজওয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল-
“ উফ কি শুরু করলেন দুটো? সাফওয়ান যখন বলছে বের হওয়া উচিত হবে না। তার মানে আমরা যাচ্ছি না। আপনার ম’রার সখ হলে আপনি যেতে পারেন। ”

মাহি চলে আসলো রুমে। সাফওয়ান হাসলো। এজওয়ানের শরীর জ্বলে উঠলো সেই হাসি দেখে। বউ এখন প’রকীয়া করার জন্য আরো সুযোগ পেয়ে গেলো! বউ দিয়ে বিশ্বাস নেই। বউ তাকে দু পয়সার দামও দেয় না। এক্সকে মেলা ভালোবাসে বেডি। তার অগোচরে যে এক্সের কাছে যাবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নাই। এজওয়ান কি না এখন বউয়ের উপর নজর রাখবে! শা’লার কাজ আর ফুরায় না। একটার পর একটা কাজ শুধু কাঁধে এসে চাপে।
এজওয়ান মাহির পেছন পেছন রুমে এসে মাহওর উদ্দেশ্যে বলল-
“ তুমি এখন প’রকীয়ায় লিপ্ত হবে তাই না মাহি? ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো। আশ্চর্য হয়ে বলল-
“ হোয়াট! ”
এজওয়ান এগিয়ে এসে বলল-
“ সো বলতে ভুলে গেলে নাকি? শুধু হোয়াট বললে কেনো? বলো সো হোয়াট। ”
মাহি বিরক্ত হয়ে বলল-
“ আচ্ছা বললাম। সো হোয়াট? ”
এজওয়ান রুমে পায়চারি করতে করতে বলল-
“ শালি আমি কিন্তু কান্না করে দিব। ”
মাহি জানতে চাইলো-
“ কোন স্টাইলে কাঁদবেন? বাচ্চাদের মতন গড়াগড়ি করে নাকি হাত পা ছুড়াছুড়ি করে? ”
এজওয়ান রাগে দুঃখে মাহির মুখে কুশান ছুঁড়ে দিয়ে রুম থেকে ম’দের বোতল নিয়ে রিসোর্টের কাঠের ব্রিজের নিচে নৌকার উপর বসলো। তার শরীর জ্বলছে বউয়ের এক্সের হাসি দেখে। এখন শরীর ঠান্ডা করবে মদের বোতলে চুমুক দিয়ে। সাথে কিছু ইয়ে টাইপের খাওয়ার জিনিসও আছে। মানে গাঞ্জা। এজওয়ান মদের বোতলে চুমুক দিচ্ছে আর আকাশের দিকে তাকিয়ে ভারাক্রান্ত ছলছল নয়নে গলা ছেড়ে গাইছে

~ ব্রিজের তলায় নরম মাটি
কাগজ দিয়া বানাইয়া পাটি
রাজার বেশে বইসা থাকি রানি পাশে নাই..
যে রাজার রানি নাই সে রাজায় গাঁজা খায়
যে রাজার রানি নাই সে রাজায় ঝিমায়।
যেদিন রানির দেখা নাই
সেদিন রাজায় গাঁজা খায়।
রাজার এখন গাঁজায় চলে
রানি টাটা গুড বাই..
বাহাদুর আর ইব্রাহিম খুঁজছিল এজওয়ান কে। বের হওয়ার কথা বলে এটার কোনো খোঁজই নেই! হুট করে এজওয়ানের গলা শুনে নিচে তাকিয়ে দেখে মগাদের মতন নৌকায় বসে বসে মদ গাঞ্জা একেবারে সব খাচ্ছে।
“ কিরে তুই এভাবে নৌকায় বসে এসব খাচ্ছিস কেনো? ”

এজওয়ান হাতের ইশারায় বলল আসতে। বাহাদুর ইব্রাহিম দুজনই আসলো। এজওয়ান ইব্রাহিম কে জড়িয়ে ধরে বলল-
“ ভাই ও ভাই,বউ তো আমারে ভালোবাসে না। খালি ঝগড়া করে। একটা লুচি পরোটা মেয়ে বিয়ে করছি আমি। বউ আমার এক সাথে ডিম ডাল দুটোই খায়। ”
ইব্রাহিম এজওয়ানের কথার কোনো আগামাথা বুঝলো না। কিসের পরোটা কিসের ডিম ডাল?
“ তুই না বললি ঘুরতে বের হবি? তাহলে এসব কেনো টানছিস এখানে বসে? ”
“ দুঃখে টানতেছি গো ভাই। বউয়ের এক্স এসে বলল মাহি তুমি যেও না। বিপদ আছে। বউ আমার ঢ্যাং ঢ্যাং করে তার কথা শুনে বলল- আমার ভালোবাসা আমাকে যেতে মানা করেছে তাই আমি যাব না এজওয়ান। তোমার ম’রার সখ হলে তুমি মরো গিয়ে। ”
বাহাদুর বলল-
“ আমি শুনছি কিছু সন্ত্রাসী এসে লুকিয়েছে সুন্দরবনে। ভালোর জন্যই তো বলছে বেডায়। ঘুরতে গিয়ে যদি সন্ত্রাসীদের মুখের উপর পড়ে যাই? তখন তো জান মান সব লুটে নিবে। ”
এজওয়ান রেগে বাহাদুরকে এক পা দিয়ে লা’ত্থি মেরে বলল-

“ মীরজাফরের বাচ্চা। আমার বন্ধু হয়ে তুই আমার বউয়ের এক্সের কথাকে সমর্থন করছিস! তুই পানিতে ঝাপ দিয়ে ম’রে যা শালার ব্যাটা। কুমির গুলো তোকে খেয়ে ফেলুক। আমি বসে বসে দেখি। ”
বাহাদুর মুখ জামটা দিলো। এজওয়ান ইব্রাহিম কে উদ্দেশ্য করে বলল-
“ ভাই তুমিই ভালো আছো। বউ নাই তাই অশান্তিও নাই জীবনে। সাথে মদ গাঞ্জা ও নাই। ”
ইব্রাহিম মিনমিন করে বলল-
“ বউ ঘাড়ে নিয়ে জীবন ঝালাপালা করে দিতে চাই। তারপরও বউ চাই। ”
এজওয়ান বলল-
“ কিছু কি বললে? ”
“ না কিছু বলি নি। আর কত গিলবি? ”
এজওয়ান মদের বোতল বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ তুমি একটু খেয়ে কমিয়ে দাও। তাহলে তাড়াতাড়ি শেষ হবে। ”
“ এসব খাই না। বেশি পাওয়ারফুল এটা। খেলে কন্ট্রোলে থাকবো না। ”
“ তাতে কি? তোমার তো বউ নেই। কন্ট্রোল লেস হলেই কি। তুমি তো করতে পারবা না। খাও কিচ্ছু হবে না। ”

এজওয়ান ঠেসেই ইব্রাহিম কে খাইয়ে দিলো। এদিকে ঠেসাঠেসি তে নৌকা নড়েচড়ে উঠলে বাহাদুর লাফিয়ে নৌকা থেকে নেমে গেলো। একবার পানিতে পড়লে সোজা কুমিরের পেটে চালান হয়ে যাবে। এজু ব্যাটাকে দিয়ে বিশ্বাস নাই। দেখা যাবে বাহাদুর কে এজওয়ান নিজ হাতে পানিতে ঠেলে ফেলে দিয়ে বসে বসে গালে হাত দিয়ে তার সিনারি দেখছে। কোনো সন্দেহ নেই এতে।
এক ঢকে এজওয়ান ইব্রাহিম কে প্রায় অর্ধেক বোতলের মতন খাইয়ে দিছে। পুরো শরীর গরম হয়ে গেলো ইব্রাহিমের। মাথা ঘোরাচ্ছে মৃদু। এই এজওয়ানের কাছে আর দু মিনিট থাকলে পুরো মদ টাই তার পেটে চালান করে দিবে এজওয়ান নিঃসন্দেহে।
নেমে গেলো ইব্রাহিম নৌকা থেকে। নিজে ডুববে তো ডুববেই সাথে কেউ তার ভালো করতে গেলে তাকেও ডুবিয়ে ছাড়বে এই মগায়।
ইব্রাহিম এলোমেলো পায়ে রিসোর্টের ভিতরে আসলো। উত্তেজবার চরম লেভেলে চলে গেছে ইব্রাহিম। রিসোর্টে করিডরে বসে অপেক্ষা করছিলো রুমাইসা আর ঊর্মি। ইব্রাহিম কে দেখেই রুমাইসা জিজ্ঞেস করলো-

“ রাত হয়ে আসলো। অথচ আমাদের যাওয়া আর হলো না। যখন নিবেই না তাহলে বললে কেনো রেডি হতে? ”
ইব্রাহিম মাথা চেপে বলল-
“ সুন্দরবনে রেস্ট্রিকটেড জারি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ঢুকেছে। ”
“ তাহলে কি করবো আমরা? ”
ইব্রাহিম বিরক্ত হয়ে বলল-
“ তুই রুমে যা। ”
রুমাইসা মুখ বেঁকিয়ে চলে গেলো। ঊর্মিও চলে যেতে নিলে ইব্রাহিম ঊর্মির হাত চেপে ধরলো।
ঊর্মি চমকে উঠলো। আশেপাশে তাকিয়ে বলল-
“ হ…হাত কেনো ধরলেন? ছাড়ুন। ভাইয়া দেখে ফেলবে। ”
ইব্রাহিম খাম্বার সাথে ঊর্মি কে চেপে ধরলো।
“ তোমার ভাইকে আমি ভয় পাই? ”
“ আমি পাই। ”
“ তাহলে তোমার আর আমার বিয়ে হবে না এই জনমে। ”
“ না হলে নাই। বিয়ে করার মুরোদ না থাকলে বলেছেন কেনো? ”
“ মুরোদ আছে। কিন্তু তোমার ভাইয়ের রেস্ট্রিকটেড আছে। আমাদের মতন রাজনীতি করা ছেলেদের কাছে তার বোন দিবে না। ”
“ তাহলে ছাড়ুন আমায়। ”

“ ছাড়বো না। আমি বিয়ে তোমাকেই করবো। তোমার ভাই ভালোয় ভালোয় দিবে তা না হলে একদম তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো বলে রাখছি। চিনে না তো আমাকে। প্রেম করবে আমার সাথে আর বিয়ে আরেকজন! নো ওয়ে। ”
“ ভাইয়া না দিলে আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। ”
ইব্রাহিম হাসলো। ইব্রাহিমের হাসি, চোখ সব অস্বাভাবিক ঠেকছে ঊর্মির।

দাহশয্যা পর্ব ৬০

“ তোমাকে আমি বউ হিসেবে কবুল করে নিছি। কবুল কবুল কবুল। তোমার ভাই পারলে আটকে দেখাক তোমাকে আমার হওয়া থেকে। ”
কথাটা শেষ করেই ইব্রাহিম ঊর্মির ঠোঁটে চুমু খেলো। সাথে সাথে ঊর্মির শরীর কেঁপে উঠলো। ভয়ে উত্তেজনায় রাগে ইব্রাহিম কে নিজের থেকে সরিয়ে গালে ঠাস করে একটা চ’ড় মেরে কান্না করতে করতে চলে গেলো।
ইব্রাহিম গালে হাত দিয়ে হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে রইলো। সে কি করলো এটা!

দাহশয্যা পর্ব ৬২