দাহশয্যা পর্ব ৬৩
Raiha Zubair Ripti
পুরো রিসোর্ট টাকে মাথায় তুলে নিয়েছে এজওয়ান। তন্নতন্ন করে খুঁজেছে রিসোর্টে, রিসোর্টের বাহিরে। কিন্তু তার বউ নেই। সাফওয়ান ও নেই। কোথায় গেছে দুটো? সাফওয়ান মাহি কে নিয়ে চলে যায় নি তো আবার! হাই প্রেসার উঠার মতন অবস্থা এজওয়ানের। জোরে শ্বাস নিচ্ছে। মাথার চুল খামচে ধরে এ মাথা থেকে ও মাথা পাগলের মতন হাঁটছে।
এজওয়ানের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে বাকি সদস্য রা। মাহি আর সাফওয়ান গেলো কোথায়? এজওয়ান বারবার বলছে-
“ মাহি নিশ্চিত সাফওয়ানের সাথে চলে গেছে। কোথায় গেছে ওরা? কোথায়? আমার মাহি কে চাই। ইব্রাহিম ভাই আমার মাহি কে চাই। মাহি কে না পেলে কিন্তু আমি সব তচনচ করে দিব। সাফওয়ান কে বলো আমার বউ দিয়ে যেতে। তা না হলে কসম ওরে আমি জ্যান্ত গেঁড়ে রাখবো মাটির নিচে। ”
ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না কাউকে। মাহির ফোন রিসোর্টেই। সাফওয়ানের ফোন সুইচ অফ। কোথায় খুঁজবে এখন এদের?
ঠিক সেই সময় এক লোক রিসোর্টের গেট দিয়ে দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল-
“ মাহি ম্যাডাম কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ”
এজওয়ান বিরক্ত হয়ে বলল-
“ আমি কি অজানা ? শা’লার বাচ্চা নিউ কিছু বল। কোথায় পাব বউ আমি।
সিআইডি আশরাফ ভরকে গেলো শালা সম্বোধন শুনে।
“ মাহি ম্যাডাম সাফওয়ান স্যারের সাথে জঙ্গলে গিয়েছিল মিশনে। তারপর হুট করে তার খোঁজ পাচ্ছি না আমরা। সাফওয়ান স্যার পাগলের মতন খুঁজে চলছে জঙ্গলে ম্যাডাম কে। ”
কথাটা এজওয়ানের কানে এসে পৌঁছাতেই সারা শরীর ঝিম ধরে গেলো। তেড়ে এসে বলল-
“ জঙ্গলে গেছিলো মানে? এ্যই মাহির খোঁজ নেই মানে? শা’লার বাচ্চা রা কি হইছে মাহির? ”
“ আমরা সন্ত্রাসী দের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করছিলাম। মাহি ম্যাডাম ও করছিলো। হুট করে ধোঁয়া আসার কারনে আমরা চোখে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া চলে যেতেই দেখি মাহি ম্যাডাম আমাদের সাথে নেই। ”
এজওয়ান ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো আশরাফ কে। এজওয়ানের শরীর অসম্ভব ভাবে কাঁপছে। মাহিকে না পেলে সাফওয়ানের এই পৃথিবীতে বাঁচার আয়ুও শেষ হয়ে যাবে।
এজওয়ান জঙ্গলের দিকে যেতে নিলে ইব্রাহিম এসে আঁটকায়। জঙ্গলে কত ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর জীবজন্তু আছে। এজওয়ান শুনলো না। চলে গেলো।
ইব্রাহিম ইমন ইয়াসিন কে বলল সবাই কে নিয়ে ঢাকা চলে যেতে। আবহাওয়া গরম এখন। এখানে থাকা ঠিক হবে না আর।
এজওয়ানের পেছন পেছন ইব্রাহিম ও চলে গেল।
জঙ্গলে মাহির নাম ধরে চিৎকার করে করে খুঁজে চলছে সাফওয়ান মাহি কে। সে কত করে মানা করলো মেয়েটাকে, এসো না। তারপরও জোর করে আসলো। আর এসে এখন হারিয়ে গেলো।
সাফওয়ান হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লো মাটি তে। কোথায় নিয়ে গেলো মাহিকে ওরা? কোথায় খুঁজবে মেয়েটাকে। উল্টাপাল্টা কিছু যেন না করে মাহির সাথে ওরা। তাহলে সাফওয়ান বাঁচবে না।
আকস্মিক কেউ এসে সাফওয়ানের কলার চেপে ধরে মাটিতে শুইয়ে তার উপর চেপে বসলো। সাফওয়ান তাকিয়ে দেখলো র’ক্তাক্ত চাহনি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে এজওয়ান। এজওয়ান সাফওয়ানের কলার চেপে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল –
“ তোর যদি ক্ষমতাই না থাকে মাহি কে প্রটেক্ট করার তাহলে কেনো নিয়ে আসলি মাহি কে? আমার কাছে থাকা অবস্থায় তো কেউ কখনও মাহিকে নিয়ে যাওয়া তো দূরে থাক স্পর্শ টাও করতে পারে নি। তাহলে তোর বেলায় কেনো উল্টো টা হলো? তুই কেনো আগলে রাখতে পারলি না মাহি কে? বল কেনো পারলি ন? ”
ইব্রাহিম এসে ছাড়িয়ে টেনে নিলো এজওয়ান কে। সাফওয়ান উঠে দাঁড়ালো। সাফওয়ানের মুখ নেই এজওয়ানের কথার পাল্টা জবাব দেওয়ার। আসলেই তো,সে পারে নি মাহি কে প্রটেক্ট করতে।
ইব্রাহিম সাফওয়ান কে বলল-
“ আপনার উচিত হয় নি মাহি কে নিয়ে আসা। আপনাদের মিশনে কি করে আন প্রফেশনালি বাহির লোক কে সাথে নেন? ”
সাফওয়ান মাথা নত করে বলল-
“ আমি অসংখ্য বার মাহি কে মানা করেছি। কিন্তু মাহি শোনে নি। ও জোর করেই এসেছে। আর যদি বলেন আন প্রফেশনালির কথা। তাহলে বলবো আসলেই আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু মাহির পারফরম্যান্স দেখে মনে হলো না ও আন প্রফেশনালি। ”
এজওয়ান তেড়ে এসে বলল-
“ ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর জায়গায় ঘুরে বেড়ানো মেয়ে মাহি,তোর কি মনে হয় এমনি কোনো প্রশিক্ষণ না শিখেই যায়? ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি আমি মাহির খোঁজ না পাইছি সাফওয়ান তাহলে তোর সিআইডি ক্যারিয়ারের সাথে সাথে তোকেও আমি একদম শেষ করে ফেলবো বলে রাখলাম। ”
এজওয়ান পকেট থেকে ফোন বের করে ইমিডিয়েটলি নিজের গার্ড,ফোর্স দের হেলিকপ্টার পাঠাতে বলল সুন্দর বনে।
আধঘন্টার ভেতরে কালো পোশাক পড়া ফোর্স আর হেলিকপ্টার আসলে এজওয়ান ঐ লোকদের পুরো বনে খুঁজতে বলে হেলিকপ্টারে চড়ে বসলো। বাহাদুরের হাতে থাকা ড্রোন টা উড়িয়ে দিলো এজওয়ান। পুরো জঙ্গলের আনাচে-কানাচেতে খুঁজা হলো।
ড্রোন রিলে জ্যাম হলো ঘন পাতায় সিগনাল হারাচ্ছে।
বাহাদুর বলছে- “ড্রোনের ক্যামেরা সিগনাল ড্রপ করছে, পাল্লার নিচে সারফেস ইন্টারফিয়ারেন্স।”
তারা খুঁজলো নদীর পাড়, ভাঙা নৌকা, জোয়ার-ঘাট, পুরনো মেঘলার মাঝ, ছায়াযুক্ত ছোপ জঙ্গলে। এক দল বিশ্লেষণ করলো আগুনের ছাই, কোথাও কোনো অগ্নিসংযোগের চিহ্ন। অল্প কিছু পোড়া কাঠ।
এজওয়ানের ধারণা ওরা এই জঙ্গলেই নেই।
হেলিকপ্টার ঘুরে এলো খুলনা,সাতক্ষীরা মেইন রোডে। বনের বাহিরে যেতে হলে এই রাস্তা তেই ওদের আসতে হবে। এজওয়ান আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সিসিটিভি আছে কি না। না নেই। এজওয়ান কনফিউজড ওরা ডানে গেছে নাকি বামে গেছে?
এজওয়ান ফের পকেট থেকে ফোন বের করে সুন্দর বনের আন্ডারে থাকা পুলিশ সিআইডি আর্মি সব গুলো কে খবর দিয়ে বলল তার বউয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয় টা। তারা যেন তার বউকে যতদ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করে।
এমপির ভাই,পাওয়ারফুল লোক। পুলিশ আর্মি সব নেমে পড়লো। ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা একটি সাইট থেকে সব জায়গায় রেডিও-ট্রিড়ে-ট্রিড়ে নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু সুন্দরবনের জঙ্গল সোজা রাস্তা নয় নোংরা কাঁদামাটি, জোয়ার-ভাটা, ছোট ছোট খাল আর কাঁটাতারা। সেনাবাহিনীর টহলদল হাঁটছে।
এজওয়ান মেন রোডে গাড়ির চাকার ছাপ দেখতে পেলো। গাড়ির টায়ারের ছাপ দেখে অনুমান করলো এটা কোনো টয়োটা অক্সিও গাড়ি হবে।
এজওয়ান তড়িঘড়ি সিসিটিভি খুঁজতে লাগলো। রাস্তায় এক দোকানের সামনে সিসিটিভি দেখতে পেয়ে সেটা চেক করলো।
ভোর পাঁচ টার দিকে একটা টয়োটা অক্সিও গাড়ি এই দোকানের সামনে দিয়ে চলে গেছে। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৭-৬৩৪২।
এজওয়ান সিসিটিভির ফুটেজ টা সব আর্মি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিলো। পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশ আর্মি। প্রতিটি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখছে।
রাস্তায় ব্লকপোস্ট বসানো হল। সেনাবাহিনী-সহ পুলিশ সবগুলো রুটে চেকপোস্ট দিল।
গণযোগাযোগে এখন ভয়াবহ কড়া। প্রশাসনিক তদারকি ও মিডিয়ার চাপ সেনাবাহিনীকে হিমসিম খাওয়াচ্ছে। কখন কোথায় কোন ইউনিট বসবে, কাদেরকে সঙ্গে নেয়া হবে,গ্রিডে সব মিলিয়ে লেটিং-অ্যান্ড-রাইটিং চলছে। র্যাব বলছে তারা লোকাল ইন্টেলিজেন্স চাচ্ছে, পুলিশ চায় আরও সিসিটিভি; সিআইডি ড্রাইভিং রুট ম্যাপ করছে, কিন্তু প্রত্যেকটি রুটে লোকাল কন্ট্রোল কম, এবং বনের ধারে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল,মোবাইল ট্রায়াংগুলেশন প্রমাণ করতে দেরি হচ্ছে।
সন্ধ্যার আগেই পুরো কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে গাড়িটির চিত্র ছড়িয়ে পড়ল। জানানো হলো ঐ গাড়ি ঢাকার দিকে চলে গেছে। এজওয়ান হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আসলো।
দিন গিয়ে ফের রাত হয়ে এসেছে। সারাটাদিন খাওয়া নাওয়া বন্ধ এজওয়ানের। এখানে ওখানে ছোটাছুটি করতেছে। এর ওর সাথে কথা বলতেছে।
ঢাকা জুড়ে তল্লাশির ঝড় বইছে। থানায়, সিআইডি সেন্টারে, সিসিটিভি রুমে, সবখানেই উপস্থিত। ঢাকা বড় শহর। হাজার হাজার গলিপথ, অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক, বিক্রি-সামগ্রী ভর্তি লজিস্টিক হাব। সব সিসিটিভি চেক করা যায় না, কেউ কোনো ফুটেজ মুছে দিতে পারে।
প্রধান বাধা হচ্ছে একটাই টাইমিং আর মিসম্যাচ। সিসিটিভি যেখানেই মিলছে, তারা দেখতে লাগল—ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৭-৬৩৪২ নম্বরের কালো টয়োটা অক্সিও এর মতো অনেক গাড়ি উঠে এসেছে। শহরে প্রতি মিনিটে মিনিটে ওই ধরনের অনেক গাড়ি ঘোরে রাস্তায়। নম্বর কপি করা, মোড়ালিপ্লেট বদলানো। গাড়িটা বারবার নম্বর প্লেট চেঞ্জ করছে।
আরেকটা সমস্যা,ফুটেজের হোল্ডিং টাইম। অনেক দোকান-ব্যবসার সিসিটিভি ২৪ ঘণ্টার বেশি সেভ করে না অনেকেই রুটিনভাবে পুরনো ফুটেজ মুছে দেয়। পরোক্ষভাবে সহায়তা না করলে পুরো চেইন ধরে ট্র্যাক করা মুশকিল। তাছাড়া গাড়ির নেম প্লেট বদলে ফেলা নিয়ে এজওয়ানের লোকজন বারবার ফাঁকি খেয়ে যাচ্ছে।
এজওয়ান থেমে থাকল না। এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না।
এজওয়ান সিসিটিভি চেইন-বিল্ডিং করলো। সন্ধ্যার দোকান থেকে শুরু করে মেইন রোড, টোল প্লাজার ক্যামেরা, শহরের আন্ডার-ফ্লাইওভার ক্যামেরা সব ফুটেজ একত্র করল। গাড়িটা এই নিয়ে তিনবার নেম প্লেট চেঞ্জ করেছে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হয়তো সেম নম্বর আবার ইউজ করবে।
এজওয়ান মানুষের তত্ত্বাবধানে গাড়ি-চালকের পরিচিত ড্রাইভার, হাইওয়ে স্টপ, লজিস্টিক পার্কের ইনফর্ম্যান্টরা খোঁজা হল।
সব সূত্র মিলিয়ে ক্রমে একটা রুট দাঁড়ালো। তারা খুলনা সাতক্ষীরা মেইন রোড হয়ে ঢাকার দিকে এসে মাওয়া-ফেরি পাড় হয়ে নরসিংদী হয়ে বরিশাল রুটের দিকে গেছে।
টানা ৪৮ ঘণ্টা পর, আশা, ভয়, অস্থিরতা সব মিশে একটি ছোট টাইমলাইনে রূপ নিল। আর তখনই ভোরবেলা একটা সূত্র এল মেইন রোডের এক ছোট ট্রাক স্টপে থাকা ট্রাকারের ফোন।
সে বলল-
“ গত রাতে জামালপুর,বরিশাল রুটে একটা কালো সেডান দেখেছিলাম, পরে সে সেডানটা একটা বড় ধূসর রঙের পিক-আপ ট্রাকের পেছনে ঢুকে গেলো। তারপর কোনোমতে লঞ্চের লোডিং জোনের কাছে গেছে। ”
এজওয়ান ওঠেপড়ে বসল। সিসিটিভি চেইন আবার কষা হলো। লঞ্চ ঘাটের ক্যামেরা দেখা হলো। সেখানে একই অক্সিও এর টেইললাইট, গাড়ির বাম পক্ষের কাটা-চিহ্ন,আরেকটা ফুটেজে দেখা গেল, লঞ্চের পাশেই এক পুরনো গোডাউনের সামনে ওই পিক-আপ দাঁড়ায়। অক্সিও এর ডোর খোলা থাকে, দূরের আলোয় খণ্ডচিহ্নে দেখা গেলো কালো পোশাক পরিহিত এক নারীর হাত পা বেঁধে মুখে ট্যেপ লাগিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে।
এজওয়ানের চিনতে অসুবিধে হলো মাহি কে। মাহির পোশাকের স্টাইল সে খুব ভালো করে জানে।
এজওয়ান সেই লোক কে বললো গাড়িটা ফলো করতে। সে এক্ষুনি আসতেছে।
লোকটা ফলো করে করতে এজওয়ান কে আপডেট দিতে শুরু করলো।
বরিশালের একটি পুরনো গোডাউন এসে ঐ গাড়িটা থামে। লোকটা এজওয়ান কে গোডাউনে বাহিরের ছবি ও লোকেশন পাঠিয়ে চলে গেলো।
এজওয়ান বাহাদুর আর দুজন গার্ড নিয়ে বেরিয়ে যায়। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার ও রাস্তা দুটোই ব্যবহার করে।
গোডাউনের সামনে তারা পৌঁছায় সন্ধ্যার পরপর। গোডাউনটা পুরোনো, বাইরের শাটার লোয়ারড,ভেতরে এক আলাদা কক্ষ, কিছু মাচা, বড় বড় কাঠের প্যালেট। শোয়ার জন্য বিছানাও আছে। তবে ভেতরে আলোর ব্যবস্থা খারাপ ছিল। তিন থেকে চার জন পুরুষ ছিলো হাতে রাইফেল নিয়ে।
এজওয়ান বাহির থেকেই নিজের গান বের করে ওদের হাত বরাবর গুলি করে। গুলি লাগায় হাত থেকে ওদের রাইফেল পড়ে যায়। বাহাদুর আর এজওয়ানের গার্ড রা গিয়ে রাইফেল গুলে তুলে নেয়।
এজওয়ান দৌড়ে এসে ঝাপিয়ে পড়লো ওদের উপর। মারামারি তে ভীষণ ওস্তাদ এজওয়ান। ওদের মা’রতে মা’রতে জিজ্ঞেস করলো-
“ মাহি কোথায়? ”
ওরা হাতের ইশারায় দেখালো এক রুমের দিকে। এজওয়ান ঐ রুমের দিকে দৌড়ে গেলো। তার পেছন পেছন একজন দৌড়ে আসলে এজওয়ান পেট বরাবর লাত্থি দিয়ে ফেলে দিয়ে বলল-
“ দু টো মিনিট দে আমাকে। তারপর আয় মারামারি করতে।
এজওয়ান ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলো চেয়ারে হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছে মাহিকে। মুখে ট্যেপ।
এজওয়ান কে দেখে মাহি চমকালো। মাথার চুল গুলো উষ্কখুষ্ক, কেমন পাগলের মতন অবস্থা। এজওয়ান পাগলের মতন দৌড়ে এসে মাহির দিকে ঝুঁকে মুখের ট্যেপ খুলে দু গালে হাত টেখে মাহির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।
মাহি হতভম্ব হয়ে গেলো। মিনিট দুই পড়ে এজওয়ান মাহিকে ছেড়ে দিয়ে ফ্লোরে বসে স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল-
“ তরিকুলের বেটি মনে হচ্ছে এখন প্রোপার নিঃশ্বাস নিতে পারতেছি। ৪৮ ঘন্টা মনে হয়েছে অক্সিজেনের বদলে আমি কার্বনডাইঅক্সাইড গ্রহণ করেছিলাম। ফাইনালি এখন নিজেকে জীবিত জীবিত লাগছে। ”
মাহি কি রিয়াক্ট দিবে বুঝতে পারতেছে না। তার হাত পায়ের বাঁধন না খুলে দিয়ে সে তার ঠোঁটে চলে গেছে অক্সিজেন নিতে! আল্লাহ এই বান্দা কি দিয়ে তৈরি?
মাহি বলল-
“ আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিন। ”
এজওয়ান মাহির হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিতে দিতে দুজন লোক চলে আসতেছে ধারালো অস্ত্র নিয়ে। ততক্ষণে মাহির বাঁধন খুলে দেওয়া শেষ। এজওয়ান ঐ লোক গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলো, না রাইফেল,গান বন্দুক নেই। আছে জাস্ট ছু’রি।
শরীর টা ভীষণ টায়ার্ডা। দুটো দিন খাওয়া দাওয়া ঘুম কিছুই হয় নি এজওয়ানের। এজওয়ান পাশে থাকা শক্ত বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।
মাহি চমকালো। আশ্চর্য এই লোক শুচ্ছে কেনো?
এজওয়ান ডাকলো-
“ আরে শুয়ে পড়লেন কেনো? উঠুন। ওরা তো মারতে আসতেছে। ”
এজওয়ান হাই তুলতে তুলতে বলল-
“ আমি ভীষণ টায়ার্ড মাহি। অনেক ফাইট করেছি। বাহিরে ৩ টাকে শুইয়ে দিয়ে এসেছি। এক মাসে হাড়গোড় জুড়া লাগবে কি না সন্দেহ। আর পারবো না ফাইট করতে। তুমি নিজেও ফাইট করতে পারো। এখন নিজে করো। আমি শুয়ে শুয়ে দেখি। ”
মাহি পারছে না এজওয়ান কে কাঁচা চিবিয়ে খেতে। মানে কুছবি! এমন সিরিয়াস মুহূর্তেও এই ছেলে এমন নাটক করতেছে! আল্লাহ!
লোক গুলো এগিয়ে এসে ছু’রি দিয়ে কোপ বসাতে গেলে মাহি উঠে দাঁড়িয়ে হাত ধরে বেকিয়ে দিলো। পাশের জনের পেট বরাবর লাত্থি মে’রে নাক মুখে ক্রমাগত ঘুষি মা’রতে লাগলো।
এজওয়ান গালে হাত ঠেকিয়ে বউয়ের ফাইট দেখছে। আর হাত তালি দিয়ে বলছে-
” ওয়াও কি ফাইট! নাইস। অ্যাম ইমপ্রেস মিসেস সুলতান। ”
মাহি রাগান্বিত হয়ে তাকাচ্ছে বারবার এজওয়ানের দিকে। কেমন অসভ্য লোক। বউ দুজনের সাথে ফাইট করছে আর সে বাবু হয়ে শুয়ে শুয়ে দেখছে।
লোক দুটো কাহিল হয়ে গেলো। বাহিরে পুলিচের গাড়ির সাইরেন বাজতেই মাহি বুঝলো পুলিশ ফোর্স এসেছে। পুলিশ গুলো এসে ওদের ধরে নিয়ে গেলো। মাহি পুলিশ দের বলেছে ওরা নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত। আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নারী পাচার করে ডেনমার্কে পাঠানোর কথা। সব কথা ইনফরমেশন যেন বের করা হয় এদের পেট থেকে।
পুলিশ চলে যেতেই মাহি ক্লান্ত শরীর নিয়ে এজওয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ উঠুন। সিনারি শেষ। দেখার মতন আর কিছু নেই। ”
বাহাদুর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
” তাড়াতাড়ি আয়। এখানে শুয়ে আছিস কেনো? ”
এজওয়ান পাশে তাকিয়ে দেখলো কলা আর ফলমূল আছে। একটা কলা নিয়ে খেতে খেতে বলল-
” তুই চলে যা। আমি আর মাহি পরে আসতেছি। ”
বাহাদুর ভ্রু কুঁচকে বলল-
“ চলে যাব মানে? আসবি কখন? ”
“ ঘন্টা দুয়েক পর আসতেছি আমরা তুই যা। দরজা চাপিয়ে দিয়ে যা। আসবি না একদম বলে রাখলাম দুই ঘন্টার আগে। পারলে তুই ঢাকা রওনা দে। ”
বাহাদুর সরু চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঠাস করে দরজা চাপিশে দিয়ে চলে গেলো।
মাহি কোমরে দু হাত গুঁজে রেগে বলল-
“ আশ্চর্য আমরা এখানে থেকে কি করবো? বাড়ি চলুন। ক্ষুধা লেগেছে আমার। ক্লান্ত আমি। ”
এজওয়ান আপেল বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ আর আমি তো চাঙ্গা দেখো না? গত ৪৮ ঘন্টা আমি শুধু খাওয়ার উপরেই ছিলাম। দেখো না স্বাস্থ্যবান হয়ে গেছি। ”
এজওয়ান ভালো করে পরখ করলো। সেদিন রাতে যেই পোশাকে ছিলো এজওয়ান আজও সেই পোশাকেই। মেল্লস গোসল করে নি দু দিন! হায় আল্লাহ। এই লোক তো দিনে দুই বার করে গোসল করে। সেই লোক দুদিন ধরে গোসল না করে কিভাবে থাকলো!
চোখের নিচে কালো দাগ ও পড়েছে। মাহি আপেলে টা জায়গায় মত রেখে বলল-
“ বুঝলাম গত ২ টা দিন আপনি পাগলের মতন কাটিয়েছেন। ”
“ বুঝে আমার বাল ফালায় দিলা। মাতারি জানিস ২ টা দিন আমার কাছে লেগেছে ২ বছরের সমান। আমায় ভালোবাসিস না মানি। তাই বলে কি শান্তিও দিবি না একটু? ঐ রাত করে এক্সের সাথে বেরিয়ে গেলি! যদি বাজে কিছু হয়ে যেত তোর তখন কি হতো? ”
“ কি হতো? ”
“ তোর এক্স এতক্ষণে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতো। ”
“ চলুন বাড়ি যাব। ”
“ না পড়ে যাব। রেস্ট নিয়ে একেবারে। ”
“ তাহলে আমি চলে যাচ্ছি। ”
এজওয়ান হাত টেনে ধরলো মাহির।
“ এ্যই না। তোমার সাথেই রেস্ট নিব আমি। প্লিজ। ”
মাহি এজওয়ান চোখ মুখ দেখে যা বোঝার বুঝে গেল। ভাবসাব ভালো না। মাহি হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলল-
“ এজওয়ান প্লিজ না। এখানে না। ”
এজওয়ান টেনে এনে বলল-
“ কোনো সমস্যা হবে না। বিছানা টা জাস্ট একটু শক্ত। তাছাড়া রুম টাও অন্ধকার,দরজাও আছে সেটাও লাগানো। একদম পারফেক্ট। ”
মাহি ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু এজওয়ানের সাথে পারলো না। মাহিকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে জ্যাকেট খুলতে খুলতে বলল-
“ দিসনারে দিসনারে দিসনারে দিসনারে বাধা
আজকে আমি কৃষ্ণ হবো তুই হবি রাধা
আমার দিলে নাই কাদা,মনটা বড় যে সাদা
মিলন ছাড়া মিটবে নারে প্রেমের ক্ষুধা। ”
মাহি হতাশ হয়ে গেলো। এজওয়ান কাছে আসতেই মাহি বলল-
“ প্লিজ এজওয়ান, বাসায় ফিরে নেই,তারপর….”
“ নো। ”
“ আপনি আমার কথা শুনবেন না? ”
“ তুমি আমার কথা শুনো? যে আমি শুনবো? তারপরও যাও শুনবো। তবে একটা শর্তে। ”
মাহি জানতে চাইলো-
“ কি শর্ত? ”
এজওয়ান মাহির গালের সাথে নিজের গাল চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল-
“ When I’m doing it, you say Ajowan, don’t stop, don’t stop.Then I’ll stop.”
মাহির কান গরম হয়ে গেলো। ছি ছি কি কথা এগুলো! মাহও এসব বলবে! জীবনেও না। এজওয়ান মাহির নীরবতা দেখে বলল-
“ মনে হচ্ছে শর্তে রাজি না তুমি। তাহলে আর আমায় আটকায় কে? ”
মাহি আর আটকালো না এজওয়ান কে। অসভ্য ব্যাটা। এই গোডাউনেই যা অকাজ করার করে ফেললো।
মেহরিন জাস্ট বিরক্ত হয়ে গেছে বাড়ির ম্যেড দের হাতে ওসব বিদেশি খাবার খেতে খেতে। তার আজ ডাল,ভর্তা,ভাজি খেতে ইচ্ছে করছে। সেজন্য মেহরিন রান্না ঘরে এসেছে। বাড়ির ম্যেড গুলো বারবার মানা করছে। তারা রেঁধে দিবে দরকার পড়লে ইউটিউব দেখে দেখে, তারপরও যেন মেহরিন না করে রান্না। স্যার শুনলে চাকরি খেয়ে নিবে।
অ্যালিজা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেহরিনের রান্না দেখছে। মেহরিন যত্ন সহকারে রাঁধছে। অ্যালিজা আজ ফাস্ট টাইম বাঙালি খাবার খাবে। মেহরিন রান্নাবান্না সেরে টেবিলে গুছিয়ে গোসল করে নিলো।
সোলেমান এসেছে দুপুরে খেতে। তবে টেবিলে ডাল, ভাজি দেখে ম্যেড দের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বলল-
” এসব কেনো এখানে? বাড়ির মানুষ এগুলো খাবে? ”
মেহরিন রান্না ঘর থেকে পায়েসের বাটি নিয়ে এসে বলল-
“ বকছেন কেনো ওদের? আমি রেঁধেছি। আসার পর থেকেই আপনার বাড়ির ম্যেড দের হাতের রান্না খেতে খেতে আমি তিক্ত হয়ে গেছি। এসব খেতে ইচ্ছে করছিলো খুব। ”.
সোলেমান চুপ হয়ে গেলো। ভদ্র ছেলের মতো চেয়ার টেনে বসলো। অ্যালিজাও বসলো। মেহরিন খাবার বেড়ে দিয়ে নিজেও খেতে বসলো।
অ্যালিজা ফাস্ট টাইম মেহরিনের হাতের রান্না,তাও আবার বাঙ্গালী রান্না খেয়ে অনেক প্রশংসা করলো। এ-ও বললো তাকে যেনো শিখিয়ে দেওয়া হয় রান্না। মেহরিন শেখাবে বললো।
সোলেমান চুপচাপ খাবার খেয়ে রুমে গেলো। ডাল ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া যায় নাকি? তারপরও খেলো সোলেমান। না খেলে ল্যাদা বউ গুষা করবে। বউ আজকাল ভালোই গুষা করতে শিখে গেছে।
খাওয়া দাওয়া শেষে লুকা এসে নিয়ে গেলো অ্যালিজা কে। মেহরিন রুমে আসতেই দেখলো সোলেমান সিগারেট টান দিচ্ছে আর ফোনে কথা বলছে।
সোলেমান বাশার সুলতান কে জিজ্ঞেস করছে মাহির খোঁজ পেয়েছে কি না। বাশার সুলতান জানালো পেয়েছে খোঁজ।
সোলেমান বিরক্তির সহিত বলল-
” সুলতান বাড়ির বউদের এইরকম ব্যবহার শোভা পায় না চাচা। ওর কি দরকার ছিলো ওভাবে চলে যাওয়ার? ও প্রশাসনের লোক? না তো। তাহলে এত পাকনামি করতে কে বলে? ”
বাশার সুলতান বিরক্ত হয়ে বলল-
“ তোর ভাইই তো দেয় আশকারা। ও তো শাসন করে না। ”
“ দুটোকেই আমি একদিন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সুলতান বাড়ি থেকে বের করে দিব বলে রাখছি। ঐ মেয়ের সংসার করার ইচ্ছে না থাকলে চলে যাক। তোমার ছেলের সংসার করার ইচ্ছে থাকলে যেন নিজের সাথে বউকেও বোঝায়। দেশের আসার পর থেকেই অঘটন ঘটিয়েই চলছে দুটো। আমার রাজনীতি ক্যারিয়ার ওরা ডোবাতে চাইছে। দুটোকে বাংলাদেশ থেকে তাড়াও আমি ফেরার আগে বলে রাখছি। ”
“ আমার কথা কি ওরা শুনে? শুনে না তো। উল্টো আমাকে গুনায় ধরে না। ”
“ তাহলে তুমি পটল তুলতে চলে যাও। ছেলে সামলাতে পারো না,ছেলের বউ সামলাতে পাটো না। তাহলে পারো টা কি? এর ওর রোমান্সের সময় শুধু বাগড়া দিতে? এটাই পারো শুধু। ”
বাশার সুলতান ফোন কেটে দিলো। বৃদ্ধাশ্রমে চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে তার। উঠতে বসতে এভাবে অপমান! আর মেনে নিবে না বাশার সুলতান।
সোলেমান ফোনটা ছুঁড়ে ফেললো বিছানায়। মেহরিন সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ হোয়াটস হ্যাপেন্ড? ”
সোলেমান মেহরিন কে তার কোলের উপর বসিয়ে বুকে মাথা গুঁজে বলল-
” আমার জীবনে শান্তি নাই। সব ছেড়ে ছুড়ে চলে আসলেও সব আমাকে ছাড়ে না। ”
মেহরিন সোলেমানের মাথা চেপে ধরে বলল-
“ কোনো সমস্যা হয়েছে? আমাকে বলুন। ”
“ কিস মি মেহরিন। আই নিড ইট। ”
মেহরিন হতবিহ্বল হয়ে গেলো। কেবলই সমস্যার কথা বলছিল। এখন আবার বলছে কিস মি!
“ কি হলো, বললাম তো কিস মি। শুনছো না কেনো? স্বামী কিছু চাইলে দিতে হয়, ফেরাতে হয় না। ”
মেহরিন কপালে চুমু খেলো। সোলেমান বলল-
“ আমি কি কপালে খেতে বলেছি? ”
“ কোথায় দিব তাহলে? ”
সোলেমান তার ঠোঁট দেখিয়ে বলল-
“ আমার পিংকিস ঠোঁটে। ”
মেহরিন বসা থেকে উঠে বলল-
“ আপনি সিগারেট খেয়েছেন। আমি দিব না চুমু ঠোঁটে। সরুন। ”
সোলেমান টেনে বসিয়ে নিজেই চুমু খেয়ে বলল-
” খেতেই হবে চুমু। খাবে না মানে? আমি জোর করেই খাব। ”
মেহরিন ঠোঁট মুছতে মুছতে ওয়াক বলে ওয়াশরুমে দৌড়ে চলে গেলো। মুখ ধুয়ে এসে বলল-
” খবরদার,এরপর যদি সিগারেট খাওয়া মুখ দিয়ে চুমু খাইছেন তো আপনার খবর আছে। ”
সোলেমান জানতে চাইলো-
” কয়টার খবর? রাত ১২ টার? তাহলে আমি রোজ খাব রাত ১২ টার সিন দেখার জন্য। ”
মেহরিন সোলেমানের গলায় কামড় বসিয়ে চলে গেলো।
এরমধ্যে কেটে গেলো ১৫-২০ দিনের মতন। এক রাতে যখন মেহরিন আর সোলেমান ক্লান্ত হয়ে শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়লো তখন তাদের ফোনে একটা ফোনকল এসে জানানো হলো সেরিনের একটা মেয়ে বাবু হয়েছে।
কথাটা শুনেই মেহরিনের ঘুম সব উবে গেলো। তড়িঘড়ি করে ভিডিও কল দিয়ে বোনের মেয়েটাকে দেখলো। মাশা-আল্লাহ মাশা-আল্লাহ। মেহরিনের কোলে নিতে ইচ্ছে করলো বাবুকে। কিন্তু দূরে থাকায় পারছে না। মেহরিন জিজ্ঞেস করলো আপা কেমন আছে?
মেহরিনের মা জানালো- “ সুস্থ আছে। এখন ওটিতে।
মেহরিন চমকালো।
“ সিজারে হয়েছে? ”
“ হুম। ”
মেহরিন ভাবনায় পড়ে গেলো। ইশ কি কষ্ট হচ্ছে এখন তার আপার! পেট কাটার যন্ত্রণা আবার প্রসবের যন্ত্রণা। ভাবলেই গা শিউরে উঠছে।
সোলেমান জড়িয়ে ধরে আছে মেহরিন কে। মেহরিনের ভাবুক চেহারা দেখে বলল-
” কি ভাবছো? ”
মেহরিন সোলেমানের বুকে আঁকিবুঁকি করতে করতে করতে বলল-
” আমার বাবু হলে আমি সিজার করবো না সুলতান সাহেব। নরমালে আনার চেষ্টা করবো। সিজারে আনলে আমার পেট কেটে ফেলবে। ”
সোলেমান মৃদু হাসলো।
“ নরমালে অনেক ব্যথা সহ্য করতে হয় জান। তুমি পারবে না। তুমি একটু ব্যথা তেই এলোমেলো হয়ে যাও। নরমালে হলে তোমাকে আমি খুঁজেই পাবো না। ”
“ তাহলে কি পেট কেটে আনবো? ”
সোলেমান মেহরিন কে রাগানোর জন্য বলল-
“ এক কাজ করি,বাচ্চা আমি পেটে নিয়ে লালনপালন করি। আমিই সিজার করে তাকে জন্ম দেই। তাহলে ভালো হবে না? তোমার কোনো কষ্ট পেতে হবে না। ”
মেহরিন কথার ঘোরে পড়ে বলতে যাচ্ছিল –
দাহশয্যা পর্ব ৬২
“ এমনটা করলে আসলেই ভালো হয়। ”
কিন্তু পরক্ষণেই কথার মানে বুঝতে পেরে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে মনে আসা কথা গুলোকে মনেই দাফন দিয়ে সোলেমানের উন্মুক্ত বুকে চিমটি বসালো।
সোলেমান হো হো করে হেঁসে উঠলো। মেহরিন ফাজিল বলে উল্টোপাশে ফিরে শুয়ে পড়লো।
