Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৫

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৫

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৫
নওরিন মুনতাহা হিয়া

__ প্রায় ৭ দিন পর ___
গত ৭ দিন আগে জিয়া পাহাড়ের চুড়াঁ থেকে হারিয়ে যায়। আমেরিকায় ফিরে আসে, প্রিন্সিপ্যালের কাছে লিখিত ছুটির অবকাশ চাই। হঠাৎ মাঝ রাতে অসুস্থতা কারণে তাকে ক্যাম্প ছেড়ে বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয়েছে। জিয়ার বদলে ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য আদ্রিয়ানকে সাহায্য করতে অন্য এক লোককে পাঠান হয়। মেঘ আর আদ্রিয়ান জিয়ার এমন চলে যাওয়া দেখে অবাক হয়! পরে দুই থেকে তিনদিন পর ইরফান স্যার ফোন করে সব জানায়। জিয়ার এমস পাগলামি করার জন্য তিনি দায়ী! ছোটবেলা থেকে যদি মেয়েকে শাসন করত, তার জেদকে প্রশয় না দিত। তবে হয়ত আজ এমন নিকৃষ্ট কাজ করত না জিয়া।

আদ্রিয়ানের প্রথমে অদ্ভুত লাগলেও, পরে যখন জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার কথা বুঝে! তখন আর কিছু বলে না। আজ ক্যাম্প শেষ করে সাতদিন পর আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে ফিরে এসেছে তারা। তিনদিন আগে কারান আর আবিহা হানিমুন থেকে ফিরে এসেছে।
নিউইয়র্ক বাসার সামনে এসে দাঁড়ায় গাড়ি। দরজা খুলে বের হয়ে হাত ধরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে দুইজন নর নারী। বাসার সদর দরজা খুলে, ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করার পর। হঠাৎ সোফায় পরিচিত কয়েক ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখে আঁতকে উঠে তারা। চোখ কপালে উঠে যায়। অবাক করা কণ্ঠস্বরে দুইজন একসাথে উচ্চারণ করে উঠে

__” বড় আব্বু। আম্মু, সৃষ্টি। তোমরা এখানে?”
তাদের প্রশ্ন শুনে কোন হেলদোল হল না, বসে থাকা কয়েকজন মানুষের! সবাই যথেষ্ট শান্ত। ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে আছে সৃষ্টি, জামান সাহেব, শার্লিন বেগম, নীলিমা, রাহুল জুনাইদ। তারা কাল বিদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছে! পাশে তাদের সাথে বসে আছে, মিলন সাহেব। ফারহানা বেগম আর আবিহা রান্না ঘরে দুপুরের খাবার দেখছেন! পাশে এক কোণায় চোরের মতো মুখ লুকিয়ে বসে আছে কারান!
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বেশ আয়েস করে ছোফায় শরীর ছেড়ে দিয়ে বসে আছে জামান সাহেব। তার পাশে শার্লিন বেগম! সামনে থাকা দুইজন, মেঘ আর আদ্রিয়ান যেন কথা বলতে ভুলে গেছে! মানে কি হচ্ছে কি? বাংলাদেশ থেকে সবাই কবে এসেছে দেশে! সৃষ্টি বলেছিল , ভিসা রেডি সাত দিন পর তারা আসবে এই কথা সত্যি হয়ে গেল!
তীর্ক্ষ চোখে জামান সাহেব তাকায় দুইজনের সংঘবদ্ধ মিলিত হাতের দিকে! এরপর চোখ তুলে মেঘের দিকে দেখে! ভয়ে গুটিগুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ। যদিও আদ্রিয়ানের মুখশ্রীর মধ্যে অবাক প্রকাশ পেয়ে, কিন্তু ভয় নয়। বড় আব্বু যে তাদের সম্পর্কের কথা জেনে গেছে। তা মেঘ বুঝতে পারে! এখন কি হবে?
হাতের বাঁধন থেকে নিজ হাত ছাড়িয়ে নিয়ে, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জামান সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে

___ ” আসসালামু আলাইকুম বড় আব্বু।”
কণ্ঠে জড়তা নিয়ে মেঘ সালাম দেয়! ছোটবেলা থেকে জামান সাহেবকে বড্ড ভয় পায় মেঘ। যদিও জামান সাহেব মেঘকে অনেক আদর, যত্ন দিয়ে বড়ো করেছে! তবুও ওই গম্ভীর মুখশ্রীর দিকে তাকালে সব কথা গুলিয়ে যায় তার। জামান সাহেব সালামের উত্তর দিয়ে বলে উঠে
___” ওয়ালাইকুম সালাম। মেঘ, তোমরা দুইজন কোথায় গিয়েছিলে? একসাথে!
মেঘ উত্তর দেয়
__” মেডিক্যাল ক্যাম্পের জন্য বাহিরে যেতে হয়েছিল। আদ্রিয়ান স্যার, আমার কলেজের টির্চার। তাই একসাথে বাড়ি ফিরা হয়েছে।”
মেঘের কথার ধরণ শুনে চোখ রাঙিয়ে তাকায় আদ্রিয়ান! মাথা নিচুঁ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে মেঘ! বড় আব্বুর সামনে তার কণ্ঠ দিয়ে আর কোন শব্দ উচ্চারিত হবে না এখন! দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কারানের দিকে রাগী চোখে তাকায় আদ্রিয়ান! কারান কান ধরে “সরি বলে”! পরিস্থিতি সামাল দিতে আবিহা রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে মেঘের কাছে গিয়ে বলে

___” মেঘ, তুই হয়ত অনেক টার্য়াড। রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিবি চল। আমিও তোর সাথে যায়।”
আবিহার কথা শুনে মেঘ দ্রুত তার সাথে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়। কিন্তু এর আগেই পিছন থেকে আদ্রিয়ান গম্ভীর কণ্ঠে আবিহাকে নির্দেশ দেয়
__” আবিহা, মেঘকে আমার রুমে নিয়ে যাও। মেঘ এখন আমার রুমে থাকে আর ভবিষ্যতে ও থাকবে। আমি আবার বউ ছাড়া থাকতে পারি না।”
আদ্রিয়ানের কথায় শার্লিন বেগম চোখ বড় বড় করে তাকায়! তার ছেলে এমন বউ পাগল কবে থেকে হলো? যে মেঘকে বউ হিসাবে স্বীকার করত না, তার থেকে দূরে থাকতে চাইছে না! আর সবার সামনে এমন সাধারণ ভাষায় বলছে?
সবার মুখে এখন অবাক আর বিস্ময়ের ছাপ, কিন্তু জামান সাহেব শান্ত। চিরপরিচিত গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে

__” গত নয় বছর যাকে নিজ স্ত্রীর পরিচয় অবধি দাও নি? তার থেকে দূরে থাকতে চাও না এখন তুমি আদ্রিয়ান? হঠাৎ এমন পরিবর্তনের কারণ কি শুনি?”
সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গিয়ে পা থমকে যায় মেঘের। এমন বিস্ফোরণ কোন ঘটনা ঘটবে তা মেঘ জানত? আদ্রিয়ানের মধ্যে ভয় আর লজ্জা একদম নাই! তা সে জানে? কিন্তু বড় আব্বু! জামান সাহেব কথাটা খোঁচা মেরে বললেও আদ্রিয়ান সহজ ভাষায় বলে
___” বউয়ের সাথে একসাথে সংসার করলে। মায়া, ভালোবাসা জন্মাবে এইটা কি স্বাভাবিক নয়? আর এই জন্য বউয়ের থেকে নয় বছর দূরে থেকেছি!”
___” আদ্রিয়ান, তুমি মেঘের থেকে দূরে থেকেছ! শুধুমাএ তোমার কেরিয়ারের জন্য? ডক্টর হয়ে পিএচডি অর্জন করা মূল লক্ষ্য ছিল! আর যখন নিজ কেরিয়ার স্যাটেল করে ফেলছ। তখন তোমার মেঘের উপর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে রাইট? নিজ স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মেঘকে দূরে ঠেলে দিয়েছ, আবার প্রয়েনজনে ওকে কাছে ঢেকে নিলে? তুমি কি স্বার্থপর নও আদ্রিয়ান!
জামান সাহেবের কথা শুনে আদ্রিয়ান হাসে আর বলে

__” কেরিয়ার কোন গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার কাছে? ডক্টর কেন হতে চেয়েছিলাম আমি? তুমি জানতে না এর উত্তর? আর আমার মূল উদ্দেশ্য কেরিয়ার হলে! তোমার উদ্দেশ্য কি ছিল? আমি যাতে আমেরিকায় না গিয়ে মেঘের সাথে সংসার করি। নিজ কেরিয়ার স্বপ্ন, পূরণ না করে বাংলাদেশে থাকি? ”
জামান সাহেব আর কথার যুক্তি দিয়ে বলে
___” আমার চাওয়া কি খুব অন্যায়। একমাত্র ছেলে, ছেলের বউ, পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে সংসার চাই ? বাবা হয়ে শুধু তোমার কাছে, আমার এতিম বন্ধুর মেয়ের জন্য আশ্রয় চেয়ে ছিলাম আমি।
আদ্রিয়ানও নিজের পক্ষে ঠিক একই যুক্তি দেয়
___” তবে কি আমার চাওয়া ভুল ছিল? নিজের বাবার জন্য ডক্টর হতে চাওয়া? সারাদিন রাত জেগে কষ্ট করে পড়াশোনা করে চান্স পাওয়া ভার্সিটিতে পড়তে যাওয়া? আমেরিকায় পিএইচডি করতে চাওয়া? আর তোমার কথায় মেঘকে বিয়ে আমি করিনি! প্রথমে রাজি ছিলাম না, কিন্তু পরে কবুল বলিনি! মেঘকে নিজ স্ত্রী রূপে মেনে নিয়েছিলাম আমি। কিন্তু তুমি বাধ্য করেছিলে ওকে ছেড়ে আসতে?
জামান সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে রাগী কণ্ঠে বলে
__” আমি বাধ্য করেছিলাম তোমায়?
__” হ্যাঁ তুমি করেছিলে?”

ড্রয়িং রুমের সবাই এক স্তব্ধ! কার মুখে কোন শব্দ নাই। শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা পাল করছে। সিঁড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে পাশ ফিরে বাবা ছেলের কথা শুনছে মেঘ। এই পরিস্থিতি যে কোন দিন হবে তা সে জানত? এখন তার কি বলা উচিত তা মেঘ বুঝতে পারে না। আদ্রিয়ান পুনরায় বলে
__” কবুল বলার পর, তুমি আম্মুকে বলনি। একবার বিয়ে হয়ে গেলে আমি আর কখনও আমেরিকায় যেতে পারব না? পিএইচডি করা হবে না আমার? তুমি জানতে না আমার কেরিয়ার জন্য কতো কষ্ট করেছি! হঠাৎ করে তোমার এমন ডিসিশন শুনে, আমার রাগ হওয়া স্বাভাবিক ছিল না? এই রাগের কারণে আমি সব ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছি!”
জামান সাহেব আদ্রিয়ানের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলে
___” তুমি নিজের রাগকে এতো প্রাধান্য দিলে যে, মেঘকে ভুলে গেলে? নয় বছর ধরে মেঘের অপেক্ষা! ভালোবাসার কোন মূল্য ছিল না তোমার কাছে? এখন হঠাৎ ওর প্রতি ভালোবাসা জেগে উঠল?”
আদ্রিয়ান মেঘের দিকে একবার তাকায়, এরপর বলে

___” মেঘকে কখনও অপেক্ষা করতে বলেনি আমি আব্বু? কবুল বলার পর ওর মুখ অবধি দেখেনি! আমি কি করে জানব, ও আমায় কবে থেকে ভালোবাসে? ওকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি আমি! বরং সাত বছর পর ওকে ডিভোর্স দিয়ে মুক্ত করে দিতে চেয়েছিলাম। নয় বছরে আমার বাড়ি না ফিরার কারণ ছিল মেঘ! কারণ আমি যদি বাড়ি ফিরে আসতাম, তবে হয়ত ওর সাথে সংসার করা সম্ভব হতো না। বিয়ে জোর করে করান যায়, কিন্তু ভালোবাসা নয়! সাত বছর আগে যদি আমেরিকায় না গিয়ে, ওর সাথে সংসার করতাম। তবে আমরা সুখি হতাম না। আমার পিএইচডি করতে না পারার কারণ হিসাবে ওকে দায়ী করতাম।
আদ্রিয়ানের কথা শুনে জামান সাহেব একটু শান্ত হন, ওনি বলেন
__” তবে কি তুমি বউ রেখে সাত বছর বিদেশে থেকে! খুব সঠিক ডিসিশন নিয়েছ?”
আদ্রিয়ান বলে উঠে
__” ডিসিশন নেওয়ার পরিস্থিতি খারাপ ছিল কিন্তু ফল নয়? বিয়ে যেমন কবুল বলে হয়, ডিভোর্স কিন্তু তিন বার তালাক শব্দ উচ্চারণ করে হয়। মেঘের বয়স তখন চৌদ্দ ছিল। স্বামী, সংসার এর বিষয়ে তার ধারণা ছিল না! আর আমারও তখন আঠারো বছর ছিল! রাগ, জেদ ছিল শরীরে। আমেরিকার না যাওয়ার কারণ হিসাবে মেঘকে দোষ দিতাম সবসময় আমি তখন। আর মেঘ না পারত স্বামী আর সংসার সামলাতে আর পড়াশোনা করতে। মেঘের জীবন ধ্বংস হয়ে যেত।

___” কবুল বলার পর বউকে ঘৃণা করে বিদেশে চলে আসতে চাইনি আব্বু। আমি শুধু চেয়ে ছিলাম, বিয়ে পর মেঘকে রেখে পড়াশোনা করতে আমেরিকায় চলে আসতে। বাংলাদেশে থেকে মেঘও পড়াশোনা করত! যখন মেঘ ম্যাচিউর হতো, আর আমার পড়াশোনা শেষ হতো। তখন পূর্ণ মযার্দায় ওকে ঘরে তুলে নিয়ে আসা। দেখ এখন, আমি আর মেঘ কতো সুন্দর সংসার করছি। আমি এইটাই চেয়ে ছিলাম আব্বু। বিয়ে আর সংসারের মধ্যে পার্থক্য থাকে! সবকিছুর মধ্যে জেদ, আর নিজের সিদ্ধান্তের উপর একগেয়ামি চলে না৷
মেঘ খুব শান্ত হয়ে আদ্রিয়ানের কথা শুনল! প্রতিটা কথায় সঠিক। নয় বছর আগে মেঘ সত্যি বুঝত না সংসার কি? ভালোবাসা কি? হয়ত তখন সংসার করে, পড়াশোনা করা সম্ভব হতো না। জামান সাহেবও শান্ত হলেন তবে নিজের জেদ ছেড়ে দেয় না। জামান সাহেব বলে

___” তবে তুমি এখন কি চাও? মেঘকে ডিভোর্স দিতে? ডিভোর্স পেপার রেডি করে রেখেছি আমি। সাইন করে দাও?”
আদ্রিয়ান হেঁসে বলে উঠে
___” ডিভোর্স নিয়ে এতো তাড়া কেন? আমার বউকে আবার বিয়ে দিবে তুমি আব্বু! ফারহানের সাথে?”
জামান সাহেব বলে
___” হুম দিব।”
আদ্রিয়ান কোন কথা বলতে যাবে, এর আগেই সিঁড়ি দিয়ে চিল্লিয়ে উঠে মেঘ বলে
___” আমার দ্বারা ফারহানকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বড় আব্বু। তুমি চাইলেও এই বিয়ে হবে না!”
মেঘ যথেষ্ট সাহস নিয়ে কথা বলে, এগিয়ে আসে সবার কাছে। কিন্তু যখন জামান সাহেবের সামনে দাঁড়ায়। ওর কণ্ঠ থেকে কোন শব্দ বের হয় না। জামান সাহেব প্রশ্ন করে
___” কেন সম্ভব নয় ফারহানে বিয়ে করা?
মেঘ মাথা নিচুঁ করে এক অবিশ্বাস্য কথা বলে উঠে, যা শুনে সবাই তিনশো ভোল্টেজের ঝটকা খায়! মেঘ বলে

___” কারণ আমি প্রেগনেন্ট। তুমি দাদা হতে যাচ্ছো বড় আব্বু।”
এমন কথা শুনে ড্রয়িং রুমের সবাই অবাক। আদ্রিয়ান চোখ বড় বড় করে তাকায় মেঘের দিকে! কি বলছে মেঘ? প্রেগনেন্ট মানে? আজ অবধি বউকে কিস ছাড়া আর কিছু করেনি! তার মতো ভদ্র টিচার্র এই দুনিয়ায় নাই। ছাএী বউ হলেও কি তাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করবে? আর বউকে কিস করবে প্রেগনেন্ট হয়ে যায়! ডক্টরির মধ্যে কি ভুল পড়ান হয়েছে। কারান বেচারা আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে অবিশ্বাস্য চোখে। বিয়ে করে হানিমুনে গেল সে, অথচ বাসায় থেকে বাবা হয়ে গেল আদ্রিয়ান।
কারানের কাছে এখন পৃথিবীর সেরা ব্যার্থ মানুষ সে শার্লিন বেগম খুশিতে গদগদ হয়ে গেছে, সে দাদী হবে? শার্লিন বেগম জোরে বলে উঠে

___” আলহামদুলিল্লাহ।”
আদ্রিয়ান ছোট স্বরে বলে উঠে
___ নাউজুবিল্লাহ।”
জামান সাহেব আর কি বলবে? ওনিও খুশি হয়েছেন! তালুকদার বাড়িতে নতুন মেহমান আসছে। কিন্তু আদ্রিয়ান বেচারা মুখ ফেকাসে হয়ে গেছে? বাচ্চা কোথাও থেকে আসল! আকাশ থেকে? মেঘ মাথা নিচুঁ করে মিটমিট করে হাসছে।
জামান সাহেব বলে
__” তবে ফারহানের কি হবে?
আদ্রিয়ান দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে
___” আব্বু তুমি দুই কেজি মিষ্টি কিনে নিয়ে গিয়ে। ফারহানকে খায়িয়ে দিয়ে এসো। ও মামা হতে যাচ্ছে।”
মেঘ ফিক করে হেঁসে উঠে। ফারহানা বেগম সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে বিজি। শার্লিন বেগমের খুশির কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না! আদ্রিয়ান ভ্যাবাচাকা খেয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। শার্লিন বেগম বলে

___” মেঘ,তুমি রুমে যাও। এই অবস্থায় বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়।”
আবিহা এসে মেঘকে রুমে নিয়ে যায়। কারান এসে দাঁড়ায় আদ্রিয়ানের কাছে এরপর ওর কাঁধে হাত রেখে বলে
___” এই ঘটনা কি করে? তুই বাসর ও করে ফেললি? আবার বাবাও হয়ে যাচ্ছিস।”
আদ্রিয়ান বেচারা মুখ করে বলে
___” বিশ্বাস কর আমি কিছু করিনি। বউকে কিস করা ছাড়া?
__” ওই শুধু কিস করলে বাচ্চা হয়? আমি তো সারাদিন বউকে কিস করি। কোথায় আমার বউ কি প্রেগনেন্ট হয়? ”
আদ্রিয়ান ভাবে মেঘ কি তবে মিথ্যা বলল? এখুনি ওর সাথে কথা বলা উচিত! আদ্রিয়ান বলে
___” আচ্ছা আমি রুমে যায়। বিশ্রাম নিতে। তোমরা থাক।”

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৪

এই কথা বলে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায় আদ্রিয়ান। জামান সাহেব মুচকি হাসে! তার ছেলে সত্যি বউ পাগল হয়েছে! মেঘের কাছে থাকলে আদ্রিয়ান ওর প্রেমে পড়বে তা ওনি জানতেন। তবে আগে বলা আদ্রিযানের কথা ভুল নয়। ওনি আদ্রিয়ানের সাথে অন্যায করেছেন। নিজের জেদ স্বার্থের জন্য নিজের ছেলের জীবন নষ্ট করেছেন। তবে যায় হোক সব ভালো শেষ ভালো। ওরা দুইজন খুশি থাকলেও ওনি হ্যাপি। তার বন্ধুর কথা রাখতে পারবে।

তোমার নামে নীলচে তারা শেষ পর্ব