হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৭
তামান্না ইসলাম শিমলা
তানহাকে নিয়ে চুপ করে বসে আছে তনয়া, সামনেই তার মা পাগলের মতো কাঁদছে। শুধু তার মা নয়, তাদের সকল আত্মীয়, কারনটা হচ্ছে তার মামার মৃত্যু। আশে পাশে অনেক মানুষ, সাথে পুলিশ ও সাংবাদিক
রহস্যজনক ভাবে লেবু ক্ষেতে তনয়ার মামার লাশ পাওয়া গিয়েছে, তাও স্বাভাবিক নয়, গলা কাঁটা, মাথা সম্পূর্ণ আলাদা করা। ইশ বাস্তবেও মানুষ এতটা খারাপ হতে পারে?
এখন নিয়ে যাওয়া হবে লাশ কবর দিতে, পোস্টমোর্টাম করে আজ লাশ দেওয়া হয়েছিল।
তানিয়া হাউমাউ করে কাঁদছে, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মিজু। সম্পর্কে মিজু তানিয়ার মামা, বা তনয়ার নানা।
মিজু তানিয়ার মাথায় হাত রেখে বলল,
“,একদম চিন্তা করবি না, আমরা আছি তো। কে কি করছে সব বের করমু, আমি নিজে শাস্তি দিমু।”
মিজুর কথায় আস্বাস পায় তানিয়া, মিজু তনয়া ও তানহার কাছে আসে৷ দুজনেই ভয় পেয়ে আছে,
“তোরা চল আমার সাথে।”
তানহা তনয়াকে খুব ভালোবাসে মিজু, নিজের নানার মতোই। প্রতিবার আসলেই তাদের বাড়িতেই বেশি থাকা হয় দুজনের!
মিজুর হাত ধরে দুজনে তাদের বাড়ি আসে, দুপুরের সময়। বড্ড খিদে পেয়েছে দুজনেরই। মিজু নিজের ছেলের বউকে ডেকে ওদের খাবার দেয়,
“নানু মামাকে কি মেরেছে?”
তনয়ার কথায় মিজু দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“জানি না বোন, যেই মারুক খুঁজে বের করব।”
তনয়া আর কথা বলে না, সবে চতুর্থ শ্রেনীতে উঠেছে, তেমন একটা বোঝ শক্তি তার নেই। তবে প্রচুর চঞ্চল মেয়ে, সারাদিন টুটু করা, কথা বলায় তনয়ার কাজ।
সারাটাদিন মিজুর বাড়িতেই কাটে দুজনের, এখানে থাকতেই তাদের ভালো লাগে। ছাদে উঠে বসে আছে, হঠাৎ কিছু একটার শব্দ পেয়ে উঁকি দিয়ে নিচে তাকায় তনয়া। এই দিকটা পঁচা পুকুর, কেউ যায় না। কিন্তু বর্তমানে একটি ছেলে বসে বসে কিছু একটা খাচ্ছে, ছেলেটাকে তনয়া চেনে,
“মাহিম ভাইয়া, তুমি ওখানে কি করছো?”
তনয়ার কন্ঠ পেয়ে মাহিম মাথা উচু করে উপরে তাকায়, ঝাপসা দৃষ্টিতে তনয়াকে দেখে মৃদু হাসে। উঠে দাঁড়িয়ে ক্ষেতের দিকে যেতে যেতে বলে,
“চল আখের ক্ষেতে যাই!”
তনয়া কিছু বলে না, মাহিম একাই চলে যায়। তনয়া নিচে এসে দেখে তানহা একাই বাড়ি চলে গেছে আগেই, তনয়া কিছু না ভেবে মাহিমের পিছু নেয়। মাহিমও যে তাকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসে!
আখের ক্ষেতটা তনয়ার নানার, অনেক জায়গা সম্পত্তির মালিক তিনি। তাই শত্রুরও অভাব নেই!
“আখ খাবি?”
মাহিমের কথায় উপর নিচ মাথা নাড়ে তনয়া, মাহিম মেশিন ঘর খুলে কাঁচি নিয়ে আখ কেটে আনে। ধরিয়ে দেয় তনয়ার হাতে, তনয়া কিছু না বলে আখটা নিয়ে চলে যেতে নিলে মাহিম খপ করে তনয়ার হাত ধরে ফেলে। তনয়া চমকায়,
“কি হয়েছে মাহিম ভাইয়া?”
মাহিম কিছু না বলে এদিক ওদিক তাকায়, নেশায় টাল হয়ে আছে ছেলেটা। মাত্রই নেশা করেছে, আর এখন নেশা চেপেছে বাচ্চা মেয়েটার দিকে। কিছু না বলে তনয়াকে নিয়ে মেশিন ঘরে নিয়ে আসে, লাগিয়ে দেয় দরজা। তনয়া ভয় পেয়ে যায়,
“আমি বাড়ি যাব মাহিম ভাইয়া, আ….
আর কিছু বলার সুযোগটাও দেয়নি মাহিম, তনয়াকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়। ছোট্ট বাচ্চাটির উপর নিজের খায়েশ মিটাতে ব্যস্ত হয়ে পরে মাহিম।
তনয়ার কি দোষ? মেয়েটার চিৎকার আহাজারি কি কারো কানে যাচ্ছে না? ছটফট করতে করতে একসময় জ্ঞান হারায় তনয়া। ঠিক এমন সময় দরজা ভেঙে প্রবেশ করে একটি ছেলে, অবাক দৃষ্টিতে মাহিমের দিকে তাকাতেই মাহিম দ্রুত উঠে নিজের পোশাক পরতে থাকে। মাহিম একবার তনয়ার রক্তাক্ত দেহের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে তাকায় সামনে থাকা ছেলেটার দিকে,
“আমি আমি বিশ্বাস কর ইচ্ছে করে ক করিনি, ত তেহরাব কাউকে বলিস না। মে মেরে ফেলবে ভাই!”
হ্যাঁ ছেলেটা আর কেউ নয় স্বয়ং তেহরাব, যার দৃষ্টি বাচ্চা মেয়েটির দিকে। চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল তেহরাব, অগ্নি দৃষ্টিতে তাকাল মাহিমের দিকে,
“তুই এতটা খারাপ মাহিম? এই ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে তুই কিনা ছিহ।”
মাহিম দৌড়ে তেহরাবের কাছে আসে,
“প্লিজ ভাই কাউকে বলিস না, আমার ভুল হয়ে গেছে। আ আমি সত্যি..
আর কিছু বলার আগেই তেহরাব মাহিমের গালে সজরে একটা চড় মারে,
“তুই মানুষ, একবার দেখ বাচ্চাটার দিকে। ছিঃ! আমি এক্ষুণি সবাইকে ডাকব!”
মাহিম তেহরাবের পা ধরে বসে পরে,
“তোর পায়ে মরি, আব্বা আমাকে মেরে ফেলবে একদম। প্লিজ এমন করিস না, বললাম তো ভুল হয়েছে।!”
“আমার ভাবতেও খারাপ লাগছে যে তুই আমার বন্ধু, ছিঃ।”
তেহরাব দ্রুত ভেতরে ঢুকে, নিচ থেকে জামাটা তুলে তনয়ার শরীরের উপর দিয়ে দেয়৷ রাগে থরথর করে কাঁপছে সে, আবারো বাইরে বেড়িয়ে আসে৷ মোবাইল বের করে কাউকে কল করতে নেবে এমন সময় মাহিম এসে ফোনটা ছিনিয়ে নেয়, তেহরাবকে টানতে টানতে নিজেদের বাড়ি নিয়ে আসে।
“ছাড় আমায়, আমি সবাইকে বলে দিব।”
“ভাই আমি বললাম তো ভুল হয়ে গেছে, কাউকে বলিস না।”
বাড়িতে আপাতত কেউ নেই, সবাই তনয়ার নানার বাড়িতে গিয়েছে। তেহরাব কিছু না বলে বেরিয়ে যেতে নিলে পেছন থেকে তেহরাবের মাথায় বারি মারে মাহিম। আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না সে।
তেহরাব মাথা ধরে বসে পরে, মাহিম আরেকটা বারি দেয়। এবার আর তাল সামলাতে পারে না তেহরাব, পরে যায় মেঝেতে।
“হুদাই পুলা জিদ দেহাও ক্যান,তুমি আমগো আত্মীয়। সব ভুইলা যাও!”
“,ভুলে যাব মানে? আপনার নাতি অপরাধ করেছে, একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে ছিঃ।”
তেহরাবের কথায় মিজু পানের পিচকি ফেলে মাহিমের দিকে তাকাল, মাহিম মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে।
“ যা হওয়ার হইয়া গেছে, ব্যাডা মানুষ একটু আকটু ভুল করতেই পারে, আর তনয়া আমার নাতনি ওর কথা আমি ভাবুমনে। তুমি কিছু বলতে যাইয়ো না তেহরাব, তাইলে কিন্তু হীতে বিপরীত হইব।”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকায়,
“মানে?”
“মানে বুঝো নাই? তুমি বেশি উজাইলে তোমার পরিবারের ক্ষতি হয়ব, সুতরাং তুমি সব ভুইলা যাও। কিছুই দেহ নাই, জানো না, মনে করো ওই সময় তুমি অন্ধ আছিলা।”
তেহরাব রেগে যায়, উঠে দাঁড়ায় বিছানা থেকে,
“আমি ভয় পাই না, আপনার নাতি ভুল করেছে। একটা জীবন নষ্ট করেছে, আর আপনি কিনা প্রশ্রয় দিচ্ছেন?”
“তেহরাব এত বড় গলা আমি পছন্দ করি না, বেশি বাড় বাড়লে তোমার তোমার আব্বার অবস্থা হয়ব তনয়ার মামার মতো। ওই শালাও এমন উজাইছে, তাই চুপ চাপ বাড়ি যাও।”
তেহরাব চমকায়, তনয়াকে সে চেনে না তবে কাল যে খুন হলো সেটা তো মিজুর ভাগনে।
“মানে? আপনি আপনার ভাগনে কে মেরেছেন?”
মিজু হাসল,
“ হয় মারছি, তাই বলতাছি চুপ থাকো। আর তনয়ারে লয় যা করার করমুনে, দরকার পরলে মাহিমের লগেই বিয়া দিয়া দিমুনে৷ এহন সোজা বাড়ি যাও বাছা!”
তেহরাব থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে, এই মানুষগুলো কে সে কতই না ভালো ভেবেছিল। আর আজ সকল মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেল, এতটা জঘন্য এরা? অপরাধ করে এত বড় মুখ করে আবার বলছে, তেহরাবের চোখের সামনে ভাসছে তনয়ার মুখশ্রী। বাচ্চা মেয়েটির জীবনটা নষ্ট করে দিল, এখন বলছে মাহিমের সাথে বিয়ে দেবে? ছিঃ!
বেরিয়ে আসে তেহরাব, মাথা কাজ করছে না। এই লোক গুলো মারাত্মক খারাপ, জঘন্য।
সেদিনের পর তনয়ার সকল তথ্য বের করে তেহরাব, জানতে পারে পাশের গ্রামেরই মেয়ে। আর তনয়া? মেয়েটি সেদিন জানে বেঁচে গেলেও মানসিকভাবে সেদিন মরে গিয়েছিল, চঞ্চল তনয়া আর চঞ্চলতা প্রকাশ করতে পারেনি। যেতে পারেনি মানুষের সামনে, আর মাহিম? তাকে দুদিনও জেলে রাখতে পারেনি। না বিচার হয়েছিল তনয়ার মামার খুনের, সবই টাকার কাছে বিক্রি।
তেহরাবের মায়া লাগত, সেদিনের ঘটনাটা ভুলতে পারত না। কেমন দম বন্ধ হয়ে আসত, মনে হতো তার জন্যই মাহিম শাস্তি পেল না। ন্যায় বিচার পেল না বাচ্চা মেয়েটি, মায়া বা কোনো এক কারনে মাঝে মধ্যেই দূর থেকে তনয়াকে দেখে চলে আসত। তাও স্কুলে, এভাবেই বছর তিনেক কাটে।
তেহরাব বুঝতে পারে এই মায়া থেকেই তার মনে অনুভূতির জন্ম, তনয়ার ভয়ার্ত মুখশ্রী বারবার সেদিনের কথা ভাবায় তেহরাবকে। নিজের অনুভূতির সাথে পরিচিত হওয়ার পরেই তেহরাব বন্দি করে মাহিমকে, শাস্তি না দিলে যে শান্তি পেত না।
ক্লাস ফোর থেকে এইট পর্যন্ত তনয়া স্কুলে আসত মায়ের সাথে, কোনোদিন মাথা তুলে তাকাতও না। আর তেহরাব দূর থেকে দেখত, ভালোবাসত।
সবসময় নজরে নজরে রাখত, একটি ছেলেও আশে পাশে ঘেঁষতে পারত না তনয়ার।
ক্লাস নাইনে উঠার পর প্রথম তেহরাব তনয়ার সাথে কথা বলে তাও স্কুলের সভাপতির ছেলে হিসেবে। তারপর থেকে আস্তে ধীরে বিরক্ত করে হোক বা যেভাবেই তনাকে নিয়ে আসে স্বাভাবিক জীবনে।
এমনকি কলেজে ভর্তি হওয়ার আবেদনেও তেহরাব ইচ্ছে করে মহিলা কলেজ আগে দিয়িয়েছিল। কতগুলো বছর? আট নয় বছর তো হবেই, এই মেয়েটাকে সে নিজেই আগলে রেখেছে।
সব কিছুই যে তার জানা, অথচ বোকা মেয়ে ভেবেছে সত্যিটা জানলে তেহরাব তাকে ছেড়ে যাবে। যেখানে সবটা জেনে, সাক্ষী হয়ে পাগলের মতো চেয়ে গেছে সে।
অতীত থেকে বেরিয়ে আসে তেহরাব, বিষাক্ত অতীত সে আর ভাবতে চায় না। তবে মিজু আর মাহিমকে তার শাস্তি দেওয়া বাকি, যা করার এবার সেই করবে!
“শুনুন।”
তেহরাব চমকায়, পাশ ফিরে দেখে তনয়া দাঁড়িয়ে আছে। মুচকি হেসে বলল,
“হুম বল।”
তনয়া দরজা লাগিয়ে এসেছে, বিষয়টা নজরে পরতেই ভ্রু জোড়া কুঁচকে নিল সে, উঠে বসল বিছানায়।
তনয়াও বসল,
“একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলার আছে আমার।”
তেহরাব তনয়ার মুখের দিকে তাকাল, কেমন হাসফাস করছে। হাত কচলাচ্ছে,
“কি হয়েছে? এত হেজিটেড ফিল করছিস কেন? যা বলার স্পষ্ট বল।”
তনয়া চোখ জোড়া বন্ধ করে নিল, শরীর গলা সব কাঁপছে তার।
“আসলে…আমি জানি না আপনি কেমন রিয়াক্ট করবেন বা এসব শোনার পর আদেও আমাকে ভালোবাসবেন কিনা। তবে আমি সত্যিটা আর লুকাতে চাই না।!”
“যা বলবি স্পষ্ট বল!”
তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠ, তনয়ার তো এখুনি কান্না পাচ্ছে। চোখ বন্ধ করে ওড়না খামচে ধরল, বড় করে শ্বাস নিয়ে বলল,
“আ আসলে আ আমি, মানে আমার মা হওয়ার সম্ভাবনা এতদম কম। হয়ত মা হতেও পারব না।”
“তো?”
তেহরাবের এমন জবাব বা প্রতিক্রিয়া মোটেও আশা করেনি তনয়া, চোখ খুলে অবাক নয়নে তাকাল তেহরাবের চোখের দিকে। তেহরাব ভাবলেশ ভাবে বসে আছে,
“এসব কোনো সিরিয়াস কথা হলো? আমি তো ভেবেছিলাম তুই বলবি “ আপনার মতো রোগী নিয়ে সংসার করতে পারব না।” তাইতো হাতটা প্রস্তুত রাখছিলাম, গালে লাগিয়ে দিতাম।!’
তনয়া কিংকর্তব্যবিমুরের ন্যায় তাকিয়ে থাকে তেহরাবের দিকে,
“আপনি কি ভাবছেন আমি মজা করছি? আমি সত্যি বলছি, আমার মা হওয়ার সম্ভাবনা কম, নেই বললেই চলে। আর সেদিন সে সাথে আমি হাসপাতালে এর জন্যই গিয়েছিলাম, তোকে বিশ্বাস করুন আমি তাকে যেতে বলিনি। মা জোর করে পাঠিয়েছে, মা ভেবেছিল আপনাকে বললে আপনি আমাকে ছেড়ে দেবেন। তাই সবটা লুকিয়ে যেতে বলেছিল, কিন্তু আমি আর আপনার কাছ থেকে কিছু লুকাতে চাই না।”
তেহরাব কানে নিল না, হায় তুলতে তুলতে বলল,
“এগুলো পুরনো প্যাচাল, নতুন কোন খবর থাকলে বল। “
তনয়া উঠে দাঁড়ায়, তেহরাব কি তার কথা সিরিয়াস নিচ্ছে না?
“ আমি সিরিয়াসলি বলছি।”
তেহরাব চোখ উল্টে তাকাল,
“আমি না করলাম কই?”
“তাহলে এমন রিয়াক্ট কেন করছেন?’
‘তো কেমন করব?”
তনয়ার এবার কান্না পাচ্ছে, এর বদলে তেহরাব তাকে বকলেও তার শান্তি লাগত। এমন বিহেব কেন করছে?
“শোন তনয়া, আল্লাহ যা চাইবে তাই হবে। সে যদি বাচ্চা দেয় তবে দেবে, এখানে তোর আমার সমস্যা থাক বা না থাক। তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামাসনা, এখন আমার মাথাটা টিপেদে।”
তনয়া নিশ্চুপ, এত সহজ ভাবে সবটা বলে দিল? বিষয়টা কি তবে এতটাই সহজ ছিল? নাকি তেহরাবের দৃষ্টি ভঙ্গি সহজ ভাবে নিয়েছে?
“আমি যে ধর্ষিতা তা জানেন?”
তনয়ার বুক ধুকধুক করছে, এবার হয়ত তেহরাব কোনো রিয়াক্ট করবে। কিন্তু না, এবারেও কোনো রিয়াক্ট করল না, উল্টো বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে উঠলো,
“বা*লের আলাপ বন্ধ করতো, আমি জানতে চেয়েছি অতীতে কি হয়েছে? যা ইচ্ছা হোক, আমার জানার প্রয়োজন নেই। তুই আমার বর্তমান, আর তুই ভবিষ্যত। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলার থাকলে বল।”
তনয়ার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরছে পরল নোনা পানি, লোকটা এতটা সহজ ভাবে নিল সবটা? এত ভালো বাসে কেন?
তনয়া দৌড়ে গিয়ে জাপটে জড়িয়ে ধরল তেহরাবকে, শব্দ করে কেঁদে উঠল,
“এত ভালো কেন বাসেন? অন্য কেউ হলে তো আমাকে এতক্ষণে বের করে দিত বাড়ি থেকে।”
“আমাকে অন্যকারো সাথে তুলনা কেন দিচ্ছিস? তুলনা জিনিসটা অপছন্দনীয়, তেহরাব একজনই আর সে আমি।”
তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠ, তনয়া আরো শক্ত করে ধরে রাখল,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৬
“ভালোবাসি, অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি তেহরাব!”
তনয়ার কান্না মিশ্রিত কন্ঠস্বরে ভালোবাসি কথাটি শুনে মৃদু হাসল তেহরাব নিজেও শক্ত করে ধরল,
“তুই আমার, অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সবমিলিয়ে তুই আমার। আর এই তেহরাব সব মিলিয়েই তোকে চেয়েছে এবং অবশেষে পেয়েছে। তুই আমার জীবনে সেই হাওয়াই মিঠাই যা ছোঁয়ার আগেই মিলিয়ে যায়, তবে ধরতে পারলে সব মিষ্টত্ব গ্রহণ করা যায়৷ তুই আমার হাওয়াই মিঠাই, আমার এলোকেশী। ভালোবাসি!”
