violent love 2 part 1
Mariam akter juthi
“বউ, কোথায় আমার বউ।”
আকস্মিক তর্জন দিয়ে খান বাড়ির মেইন দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে উক্ত কথাটা বলল আরিশ। তখন সময়টা ছিল দুপুর ১২ টা নাগাদ। বাড়ির কর্তারা ছিল ব্যবসার কাজে নিজেদের অফিসে। কর্ত্রীদের রান্না প্রায় শেষের দিক। তাই একে একে সবাই গোসলের প্রস্তুতি নিলো। রান্না যেহেতু এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি তাই লিমা খান থেকে গেলেন রান্নাঘরে। বাকিরা যে যার ঘরে গোসলের জন্য চলে গেলেন। ঠিক সেই সময় আরিশ বউ কোথায় বউ কোথায় বলতে বলতে বসার ঘর পর্যন্ত আসতে কাউকেই দেখতে না পেয়ে ফের চেঁচিয়ে বলল,
‘এই বউ বউরে। দেখ আমি চলে এসেছি। জলদি আমার সামনে আয়।’ — কথাটা বলতে চারপাশ একবার চোখ বুলিয়ে হাসোউজ্জ্বল মুখ নিয়ে আরিশ পেটের কোণারে গুলি লাগা জায়গাটায় হাত চেপে ধরে উপরের জুথির রুমের দিক তাকাতে আবারো ডাকতে নেবে এমন সময় আরিশের কন্ঠ পেয়ে লিমা খান রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে আরিশ কে দেখামাত্র চোখ দুটো বড় বড় করে গলা ফাটিয়ে সবাইকে ডাকতে ডাকতে বললেন,
‘বড় ভাবি, কোথায় তুমি। কোথায় তোমরা সবাই। শিগগিরি নিচে আসো। দেখো আমাদের আরিশ আব্বু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে।’ — সানজিদা খান মাত্রই গোসলে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় মেজো জায়ের গলা ছেড়ে আরিশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে শুনে বিশ্বাস হলো না। পরপর একই ভাবে লিমা খানের চিৎকারে চমকিত হাতে, হাতের জামাকাপড় গুলো বিছানার উপর রেখে দ্রুত পায়ে করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতে ততক্ষণে লিমা খানের চিৎকার সবার কানে পৌঁছাতে যে যার রুম থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে আসলো। অবশ্য মেহজাবিন খান, নিচে নামতে পারিনি। কারণ উনি ইতিমধ্যে গোসলে ঢুকে পড়েছেন। সানজিদা খান কম্পিত পায়ে অশ্রু চোখে দৃঢ় পায়ে আরিশের দিকে এগিয়ে এসে হুট করে বাঁধভাঙা কান্নার ভেঙ্গে পড়তে আরিশ ব্যথার স্থান থেকে হাতটা সরিয়ে সানজিদা খানের দিকে এগিয়ে গিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতে সানজিদা খান আরো কান্নায় ভেঙে পড়লেন। আরিশের সমস্ত শরীর চেহারায় হাত বুলিয়ে দেখতে দেখতে বললেন,
‘আমার বাবা, আমার ছেলে আমার আরিশ। আমার আর কিছুই চাইনা। আমার ছেলে সুস্থ হয়ে গেছে। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া। তার দরবারে একটাই প্রার্থনা আমার ছেলেটা যাতে সুস্থ থাকে। ভালো থাকে।’ – বলে আরিশের সাদা টি-শার্টটা পেটের থেকে তুলে গুলিবিদ্ধ জায়গাটা বের করে দেখলেন। সেই জায়গা অনেকটা তুলো চেপে চারপাশে টেপ দিয়ে আটকানো। সানজিদা খান জায়গা পরপর ছুয়ে দেখলেন। আর অজস্র অশ্রু ফেলতে লাগলেন। আরিশ মায়ের এমন কান্না দেখে উনাকে শান্ত করার জন্য সোফার উপর বসিয়ে বলল,
‘আম্মু এত কান্না করছো কেন। এই যে দেখো তোমার ছেলে চলে এসেছি তো।’
সানজিদা খান আরিশের কথায় ওকে আবারো জড়িয়ে ধরতে আরিশ ওর মায়ের মাথায় হাত রেখে এক নজর সবার দিক তাকিয়ে বলল,
‘কেমন আছো তোমরা সবাই।’
‘আমরা ভালো আছি বাবা।’
আরিশ সবার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে পুরো বাড়ির দিকটা একবার তাকালো। তার দেখা বাড়িটা এখনকার দেখা বাড়িটা কেমন গুমোট হয়ে আছে। মনে হচ্ছে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। আরিশ দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিল। অতঃপর মায়ের দিক তাকিয়ে বলল,
‘আম্মু আমার বউ কই? আমি আমার মৌকে একটা নজর দেখবো।’ – বলে উনাকে ছাড়িয়ে সিঁড়ির দিক উঠতে নিলে আয়ান তাড়াহুড়ায় হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ির ভিতর ঢুকে চারবার দেখতে দেখতে বলল,
‘আরিশ ভাই, আমার ভাই। বলে পিছন দিক থেকেই দৌড়ে গিয়ে ওকে ওভাবে জড়িয়ে ধরতে আরিশ ঈষৎ ব্যথায় আহ শব্দ করে উঠলো। কারণ আয়ান আরিশের গুলিবদ্ধ জায়গাটার উপর থেকে জড়িয়ে ধরেছে। আরিশ আহ শব্দ করতে আয়ান সাথে সাথেই হাতটা সরিয়ে নিতে আরিশ ঘুরে আয়ানের দিক তাকিয়ে দেখে আয়ানের দু চোখ জুড়ে অশ্রু টলটল করছে। এটা দেখে আরিশ মধু হেসে বলল,
‘তোর চোখের এই জলটুকু মোছার সামর্থ্যটুকু ফিরে পেতেই আমি মনে হয় আবারো মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি, ভাই। কাদিস না আয়ান। তোর আরিশ ভাই চলে এসেছে। আরিশ কথাটা বলতে আয়ান চোখের জমা অশ্রুগুলো ছেড়ে আরিশের হাত দুটো মুঠোর মধ্য নিয়ে বলল,
‘তোমার দেওয়া আমানত আমি ভালো রাখতে পারিনি ভাই। তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি ব্যর্থ। বলে মাথাটা নিচু করে নিতে আরিশ সেদিক তাকিয়ে বলল,
‘আজ যতটুকু আছে সেগুলো তোর উসিলায়। আমার মায়ের উসিলায় আছে। আমি জানি তোরা দুজন যতদিন আমার বউয়ের পাশে থাকবি ওর কোন ক্ষতি হবে না। এটুকু ভরসা আল্লাহর উপর আছে। সে যাই হোক এখন আমি আমার মৌয়ের সাথে দেখা করতে চাই। ওকে নিজের বুকের মধ্য নিয়ে একটু শান্তি পেতে চাই।’ বলে আরিশ আবারো পেছন ঘুরেতে নিলে আয়ান আরিশের হাতটা ধরে করুন কণ্ঠে বলল,
‘সব মানলাম, কিন্তু ছয় মাস পর তোমার জ্ঞান ফিরতে না ফিরতে তুমি ডক্টরের কোন কথা না শুনেই কেন শরীরের স্যালাইন মাক্স খুলে ওই সুদূর সুইজারল্যান্ড থেকে ১০ ঘন্টা জার্নি করে আসতে গেলে। পথিমদ্ধ যদি তোমার কোন ক্ষতি হতো, বা তুমি অসুস্থ হয়ে পড়তে। তখন কি করতে? বলো কি করতে? কেন তুমি এই পাগলামি গুলো করছ?
‘এটা তুই জানিস আয়ান।’ – বলে নিঃশ্বাস ফেলে আবারো উপরের দিক উঠতে নিলে আয়ান ফের হাত চেপে ধরে বলল,
‘ভাই তুমি উপরে কোথায় যাচ্ছ?’
‘আমার বউয়ের কাছে।’
‘বনু উপরে নেই! কলেজে গেছে।’ – আরিশ বুঝলো ছয় মাস একটুখানি সময় না অনেকটা সময়। সে কমায় ছিল। এরমধ্যে তার বউ বাড়ি বসে থাকবে না এটা স্বাভাবিক। এসএসসি রেজাল্ট পেয়ে কলেজ ভর্তি হবে। তাই বাণীতা না করে ডাইরেক্ট কলেজের নাম জানতে চেয়ে বলল।
‘কোন কলেজ?’
‘ও যে স্কুলে পড়াশোনা করত ওখানকার কলেজেই ভর্তি হয়েছে।’
‘ওকে।’ বলে আয়ান কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে,। ওদের বলা এতক্ষণের কথোপকথনের মধ্য সানজিদা খান আটকে আছেন সেই আরিশের বলা তোরা দুজন থাকতে আমার মৌয়ের আল্লাহর রহমতে কিছুই হবে না কথাটাতে। তার ছেলেটা ৬-৬ টা মাস কমায় ছিল। এই ছয়টা মাসে বদলে গেছে অনেক কিছু। আর সেই বদলে যাওয়ার পিছনে দায়ী সে নিজে। সে যদি আরেকটু সতর্ক থাকত তাহলে হয়তো এমন কিছুই হতো না। তার ছেলের অনুপস্থিতিতে তার ছেলের বউটাকে যদি একটু আগলে রাখতো তাহলে হয়তো মেয়েটা সব ভুলে যেত না। মেয়েটার সাথে অন্যায় হয়েছে। তার ছেলের বিশ্বাস সে রাখতে পারল না। এই কথাটুকু মাথার মধ্যে শ্রাবণ হতে ভীষণ অস্বস্তি ফিল করলেন। এর আগেও ছেলের অনুপস্থিতিতে সে তার ছেলের বউকে সেভাবে আগলে রাখতে পারেনি। এবারও পারল না। কিন্তু সামনের দিনগুলো সে আর অবহেলায় পার করতে চায় না। আরো আগলে রাখতে চাই ছেলে ও ছেলের বউকে। সানজিদা খান মুখ তুলে আরিশের দিক তাকিয়ে বললেন,
‘আরিশ আব্বু যাবার আগে আমার কথা শোনো। মৌ আগের অবস্থাতে নেই। ও,’ ওনার বাকি কথাটুকু বলার আগে আরিশ বাড়ি থেকে বেরোতে বেরোতে বলল,
‘আম্মু তোমার কথা আমি বাড়ি এসে শুনবো। আপাতত আমার বউয়ের কাছে যাই। মনটা কেমন আনচান আনচান করছে বউটার জন্য। ভিতরটা ভীষণ পুড়ছে। এ জ্বালা সহ্য করার মতো নয় মা। এ শুধু মিটবে তখন, যখন তার সান্নিধ্য পাব। তাকে একটু এই ব্যথিত বুকে আগলে নিতে পারব।’ আর কিছু শোনা গেল না। হয়তো যেতে যেতে আরিশ আরো অনেক কথা বলেছে কিন্তু সেগুলো স্পষ্ট বোঝা গেল না বসার ঘরে থাকায়। আরিশ চোখের দৃষ্টিকোণ হতে সানজিদা খান আয়ানের দিক তাকিয়ে বললেন,
‘আয়ান আব্বু। আরিশ সবে মাত্র কমা থেকে ফিরলাম। তুমি ওর সাথে যাও। তাছাড়া তুমি তো জানো মৌয়ের বর্তমান কন্ডিশন। এটা হয়তো আরিশ মানতে নাও পারে। তাই পরিস্থিতি বিগ্রে যাওয়ার আগে তুমি সামাল দিতে পারো।’
‘হুম। বড় আম্ম।’ বলে সেও খান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখল আরিশ তার বাইকটা নিয়ে বেরিয়েছে। কি আর করার। পুনরায় বাড়ির ভিতর এসে আরিশের বাইকের চাবিটা নিয়ে সেও তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে গেল।
বেলা দুপুর সাড়ে বারোটা। ছাত্র-ছাত্রীদের বিরতি টাইম। কেউ কেউ ক্যান্টিনে পেট পুড়তে গেছে। কেউ কেউ মোটা বট গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর করছে। সাথে টুকিটাকি ঘোষ গল্প তো আছেই। আবার কেউ কেউ ক্লাসরুমেই রয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ পড়াগুলো পুনরায় নোট করে নিচ্ছে। সামনেই ফার্স্ট সেমিস্টার পরীক্ষা। এবছর সেভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি কেউই নিতে পারেনি। এই জুলাই আন্দোলন গেল। তারপর ২৫ সালে ২৪ এর প্রভাব অনেকটা রয়ে গেছে। ২৫ সালের শিক্ষাব্যবস্থা কারিক্রম অনেকটা চেঞ্জ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উঠে দাঁড়াতে বেশ তোরজোর করতে হয়েছে। পড়ালেখার মান সিলেবাস চেঞ্জের জন্য। তাছাড়া ২০২৫ এর এসএসসি পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট আগস্টের শেষের দিকে দিয়েছে। আর তারপর কলেজে ওঠা পড়াশোনা শুরু করা সবমিলিয়ে কয়েকজন পড়াটা এগিয়ে যেতে পারলেও অনেকেই পিছিয়ে আছে।
এই যেমন জুথি চার মাস হল কলেজে উঠল ঠিকই কিন্তু পড়ালেখায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাসখানেক হয় কলেজে আসা শুরু করেছে। তাই ও বেশ পিছিয়ে আছে। তবে তানিশা শুরু থেকে মোটামুটি যতটুকু করা যায় চেষ্টা করেছে। যেহেতু সবার প্রিপারেশন সমান নয় তাই ফার্স্ট সেমিস্টারের পরীক্ষা পিছিয়ে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় রাখা হয়েছে। যদিও সে সময় রোজা থাকবে। কিন্তু এর চেয়েও যদি পিছানো হয় তাহলে ফাস্ট সেমিস্টারের পরীক্ষাটা আর হবেই না তাই এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের। সেই জন্যই জুথি নোটগুলো ঘোঁচাতে ক্লাসরুমে রয়ে গেছে। যদিও তানিশা হেল্প করছে। কিন্তু পড়াটা ঘুচিয়ে উঠতে বেশ টাইম লাগবে। জুথি নোট লিখছে তানিশা পাশে বসে একটা একটা দেখাচ্ছে আর জিমাচ্ছে। তার ভীশণ খুদা লেগেছে। আজ কলেজ আসতে দেরি হওয়ায় খাবারটা খেয়েও আসতে পারিনি। এদিকে জুথির নোট শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। তানিশা এবার বেশ বিরক্ত হয়ে বলল,
‘বইন এবার রাখ। চল ক্যান্টিন থেকে কে কিছু খেয়ে আসি। তারপর আবার না হয় করিস।’
‘তোর বেশি খিদে পেলে তুই যা। আমার আর একটু বাকি আছে।’
‘ঠিক আছে তাড়াতাড়ি কর এক সাথেই যাব। নয়তো আবার আমাকে একটু চোখের আড়াল হলে বলবি তুই কে।’
তানিশার কথা শুনে জুথি মুচকি হাসি দিয়ে বলল।
‘আচ্ছা।’
জুথি আরো বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে নোটগুলো শেষ করল। অতঃপর খাতা কলম বেগে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস ফেলে দুই হাত জারার মতো করে বলল,
‘হয়ে গেছে চল।’
‘অবশেষে হল!’ – বলে দুজনই ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা পর্যন্ত আসতে আচমকা কেউ একজন এসে হুট করেই জুথিকে জাপটে বুকের মধ্য জড়িয়ে ধরে ক্লাসের মধ্যে দু’পা পিছিয়ে গেল। আকস্মিক হঠাৎ আক্রমণে জুথি কিছুই বুঝতে পারোল না। এদিকে হুট করে এমন হওয়ায় জুথি ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরা মানুষটাকে নিয়ে পড়ে যেতে নিলে তৎক্ষণাৎ জুথিকে সামলে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এলোপাথালি জুথির মাথায় চুমু খেতে শুরু করলো আগন্তুক ব্যক্তিটি। চুমুর সংখ্যা শতের কাছাকাছি পৌঁছাতে জুথি মগজে আনলো কোন এক অসভ্য ব্যক্তি তাকে জড়িয়ে ধরে অসভ্যতামি করছে। তবে এতোটুকু বুঝতে পারলো জড়িয়ে ধরা ব্যক্তি কোন মেয়ে মানুষ নয়। একজন বলিষ্ঠ শক্তিমান পুরুষ। তাই ছোট্ট শরীরের যতটুকু শক্তি ছিল সেই সব শক্তি দিয়ে জড়িয়ে রাখা ব্যক্তিকে ঠেলে সরাতে চাইলে ব্যর্থ হল ব্যক্তির শক্তির সাথে। শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে ব্যক্তির সাথে না পেরে গালাগালি শুরু করল,
‘অসভ্য, নষ্ট নির্লজ্জ বিবেকবর্জিত রুচিহীন বেহায়া লুচ্চা ছাড় আমাকে।’ এতেও যখন কাজ হলো না। তখন জুথি আগন্তুকের পিঠে অজস্র থাপরাধি শুরু করল। বেচারী এতেও সফল হলো না। লোকটা ছাড়ছে না দেখে জুথি রাগে শূন্য হয়ে ব্যক্তির ঘাড়ে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে কামড় বসিয়ে দিল। কামড়ের তীব্র ব্যথা অনুভব হতে আরিশের আকস্মিক চুমু থেমে গেল। কিন্তু জুথিকে বুকের থেকে এক চুল পরিমাণ সরালো না। বরং কামড়ের তীব্র ব্যাথা অনুভব হতে চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। আরিশ কে থেমে যেতে দেখে জুথি নিশ্বাস নিতে নিতে ওকে ঠেলে সরাতে চেয়ে বলল,
‘জঘন্য পুরুষ! লুচ্চামি হয়ে থাকলে ছাড় আমাকে।’ জুথি কথাটা বলতে দেরি কিন্তু আরিশের চেপে রাখা জুথির মাথাটা বুকের সাথে আরো জোরে চেপে ধরতে দেরি হলো না। আরিশের এমন কাজে জুথি অতিরিক্ত হাইপার হয়ে উঠতে আরিশ জুথিকে বুকের থেকে সরিয়ে এনে ওকে স্বাভাবিক করার জন্য ওর বাহুতে হাত রেখে ঠান্ডা কণ্ঠে কিছু বলতে নিবে এমন সময় জুথি ছাড়া পেয়ে ঠাস করে আরিশের ডান গলে ঠাটিয়ে থাপ্পড় মেরে বলল,
‘শালা লুচ্চা মেয়ে মানুষ দেখলেই ইনটু পিন্টু করতে মন চায়? লুচ্চামি করার জায়গা পাস না। চেনো আমাকে তুই। একদম শে*টা ভাঙ্গা দিয়ে দিব। তখন লুচ্চামি করা পিছন দিয়ে বের হয়ে যাবে।’ বলে হাপাতে শুরু করল। জুথিকে এভাবে হাপাতে দেখে সাথে বিচ্ছিরি গালিগালাজ করতে দেখে আরিশ ওকে স্বাভাবিক করার জন্য বলল,
‘মৌ, মৌ, মৌ আমি। রিলাক্স। শান্ত হ। আমি তোর স্বামী আরিশ ।’ – আরিশ কথাটা বলতে জুথি মুখ তুলে আরিশের মুখের দিক তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল। জুথি বোঝার চেষ্টা করলো লোকটা কে যে ওর স্বামী বলে দাবি করছে। কিন্তু না লোকটাকে চেনা মনে হচ্ছে না। তাই ভ্রু কুঁচকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তিটা কে জানতে চেয়ে বলল,
‘কে আপনি?’
