Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬২

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬২

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬২
জান্নাতি আক্তার জারা

সময় টা বিকাল পাঁচটার ঘরে, তালুকদার বাড়ির কিচেন রুমে ইফতারের তোরজোড় চলছে, আদিবা তালুকদার রাবেয়া তালুকদার দুই জা মিলে ব্যস্ত হাতে ইফতার রেডি করছে, তাঁদের সঙ্গে শুকনো মুখ নিয়ে হেল্প করছে আইরা, চুলার ওপর কড়াইয়ে গরম তেল টগবগ করে ফুটছে, আর সেই তেলে একের পর এক পড়ছে পেঁয়াজু, বেগুনি আর খাস্তা পকোড়া আগের রেডি হয়ে গেছে, গরম গরম ভাজাপোড়ার গন্ধে পুরো রান্নাঘরটা ভরে গেছে,কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাঁদের চোখে-মুখে একরকম ক্লান্ত ভাব স্পষ্ট, এদিকে আরাত নিজের ছোট্ট মেয়েকে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসিয়ে রেখে ইফতারের জন্য ফলমূল কাটছে,বড় একটা বাটিতে সাজিয়ে রাখছে লাল টকটকে তরমুজ আর মালতার টুকরো, পাশে ছোলা আর খেজুরও সাজিয়ে রাখা, তার সঙ্গে ঠান্ডা ঠান্ডা লেবুর শরবত তো আছেই, আরাত মন দিয়ে গ্লাসে গ্লাসে শরবত ঢালছে,মাম্মাকে এত ব্যস্ত হাতে কাজ করতে দেখে ছোট্ট মাহা চেয়ারে বসে পা দোলাতে দোলাতে নরম ছোট্ট কণ্ঠে ডেকে উঠলো,

___”মাম্মা?
আরাত শরবত নেড়েচেড়ে গ্লাসে ঢালতে ঢালতে মেয়ের দিকে না তাকিয়েই স্নেহভরা গলায় জবাব দিলো,
___”বলো মাম্মা!
মাহা একটু ঠোঁট ফুলিয়ে মায়ের দিকে তাকাল,পুনরায় ডাইনিং টেবিলের ওপর সাজানো ইফতার গুলোর দিকে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
___”মাম্মা, আমি কি একটা তরমুজ খেতে পারি?
আরাত মেয়ের কথায় মুচকি হেঁসে মেয়ের দিকে তাকাল, মেয়ের সেই মায়াভরা মুখ দেখে আরাতের ব্যস্ততার মাঝেও চোখে কোমলতা নেমে এল, আরাত ছোট থাকতে যেমন চঞ্চল ছিলো তাঁর মেয়েটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হয়েছে, আরাত উপুড় হয়ে হাসি মুখে একটা ছোট্ট তরমুজের টুকরো হাতে তুলে মেয়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” এই নেও মাম্মা, আর দাদু নানুভাই কে ডেকে নিয়ে এসো কেমন!

মাহা খুশিতে গাদোগাদো হয়ে তরমুজটা হাতে নিল, তরমুজ খেতে খেতে চেয়ার থেকে নেমে ছোট ছোট পায়ে আদনান তালুকদারের রুমের দিকে এগিয়ে গেল, বাইরে তখন বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে, ঘরের ভেতর ইফতারের অপেক্ষায় এক অদ্ভুত শান্তি আর ব্যস্ততা মিলেমিশে আছে, ড্রায়িং রুমে সোফাতে একপাশে ছোট এরান রোজা রেখে চুপটি করে বসে আছে, মুখটা ছোট হয়ে গেছে, মুখে কেনোরুপ কথা নেই, হাঁটুতে ভর দিয়ে গালে দুহাত রেখে সামনে সোফাতে বসা বীরাত আর আহিনের দুষ্টুমি দেখছে, সেই বারো বছরের ছোট্ট আহিন আজ উনিশে পা দিয়েছে, ফর্সা গায়ের রং এর লম্বাটে গড়ন আর কপালের ওপর পড়ে থাকা কালো এলোমেলো চুলগুলো মাঝেমধ্যেই কপালে নেমে আসে,এতে যেন তাকে আরো বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে, গভীর চোখ দুটো সবসময় চঞ্চলতা স্বভাবে ভরা, সেই আগের কিশোরসুলভ হাসি দুষ্টুমি আর হৈচৈ নিয়েই যেন তার চারপাশটা সবসময় মেতে রাখে, সবসময় সাদামাটা পোষাকেই স্বচ্ছন্দ থাকতে ভালো বাসে, এইতো সাদা পাঞ্জাবিতে তাকে বেশ স্মার্ট প্রাণবন্ত লাগছে, মুখে লেগে আছে সিদ্ধতা, রোজা রেখেও আহিন একদম চুপচাপ বসে থাকার ছেলে না, বীরাতের সঙ্গে সোফায় বসে পাড়াপাড়ি আর হাসাহাসি করেই যাচ্ছে, মাঝে মাঝে আবার দুষ্টুমি করে বীরাতকে খোঁচা দিচ্ছে, যেন রোজার ক্লান্তি তার গায়েই লাগেনি, আহিন বীরাত এর সঙ্গে দুষ্টামি করতে করতে এরান এর দিকে তাকালো, এরান কে চুপটি করে বসে থাকতে দেখে হাসি মুখে কিছুটা গম্ভীর্য এনে বলল,

___” কী ভাইয়ের বেটা রোজা লাগছে?
এরান আহিনের এর কথায় পেতে হাত রেখে আস্তে করে মাথা ঝাঁকাল, আহির মুচকি হেঁসে হাতের ঘড়িতে সময় দেখে নিলো, ইফতারের আর বেশি দেরি নেই পনেরো মিনিটের মতো বাকি, আহিন সময় দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সোফায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিয়ে দুষ্টুভরা কন্ঠে বলল,

___” আর একটু ধৈর্য ধর বেটা, আজান পড়লেই ইফতারে পেঁয়াজু বেগুনির উপর তিন কাক্কু মিলে হামলা দিবো।
আহিনের কথায় বীরাত শব্দ করে হেঁসে উঠলো, এরানের শুকনো মুখেও হালকা হাসি ফুটে উঠছে, ঘরের ভেতর ইফতারের গরম গরম পেঁয়াজু, বেগুনি আর পকোড়ার গন্ধ ছড়িয়েছে এতে যেন এরান আরো বেশি কাচুমাচু করছে আজান শুনার জন্য, না চাইতেও বারবার ডাইনিং টেবিলের ওপর সাজানো তরমুজ, মালতা, ছোলা আর খেজুরের দিকে চোখ চলে যাচ্ছে বারবার, এরান আজকে রোজা রেখেছে, পুরো মাস জুড়ে আজকে নিয়ে তাঁর রোজা হবে তিনটা, আর বীরাত মাহা তো সাড়ে চার বছরের বাচ্চা , সেহরির সময় ঘুম থেকে উঠে সবার সঙ্গে সেহরি খেতে খেতে বলবে পুরো রোজায় রাখবে, আবার সকাল হতেই খিদে তে ছটফট করবে দুই ভাইবোন, বাড়ির মানুষ গুলো এতে শুধু হাসবে, জমজ ভাইবোন হলেও তাঁদের স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন, হটাৎতে মিলে যায়, ছোট মাহা তাকবীরের মতো ফর্সা হলেও বীরাত আরাত এর শরীরের রং পেয়েছে, লালচে ফর্সা আভা, বেশ শান্ত স্বাভাবের, ছোট ছোট চোখ দুটোতে সবসময় একটা গম্ভীর ভাব লেগে থাকে, তবে আহিনের আশেপাশে থাকলে তাকে আর শান্ত থাকতে দেখা যায় না, আর মাহা গোলগাল মুখটায় হাসলে গাল দুটোতে তোল পড়ে, এই ছোট ছোট হাত-পায় দিয়ে খেলা করা বাচ্চারাই এখন তালুকদার বাড়ির হাসিখুশীর কারণ হয়েছে, সবকিছুতে নতুনত্ব লেগে আছে, তাঁদের দুষ্টুমি তে পুরো বাড়ি মেতে থাকে, তবুও কোথাও যেন একটা কমতি থেকে যায়, সেই পুরনো হাস্যজ্জল তালুকদার বাড়ি আর নেই, হয়তো এই আরাতের মধ্যে সেই পুনোরো চঞ্চলতা নেই বলে, সেই পুনোরো রশ্মিরাত কে এক সঙ্গে দেখা যায় না বলে, হয়তো পুরো বাড়ি মায়াবতী মায়াবতী বলে মাতিয়ে রাখা দুষ্টু আলভী টাও আজ তালুকদার বাড়িতে নেই বলে, হ্যাঁ কোথাও একটা পুরনো হাসিখুশি তালুকদার বাড়ি থমকে আছে,

হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে মিম পার্থ কে সঙ্গে করে তালুকদার বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে, যদিও রাফি এসে পার্থ কে আজকে ছাড়তে নারাজ ছিলো, কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে বলছিলো,কিন্তু মিম রাফি কে এটা-ওটা বুঝিয়ে পার্থ কে নিয়ে তালুকদার বাড়িতে যাচ্ছে, যে কয়েকদিন পার্থ পুরপুরি সুস্থ হয়ে না উঠছে, মিম তালুকদার বাড়িতে থেকে যাবে, রাফি তালুকদার বাড়িতে এসে এসে পার্থ কে দেখে যাবে, গাড়ি এসে থামলো তালুকদার বাড়ির সামনে, মিম গাড়ির ভিতর থেকে কাঁচ ভেদ করে দেখতে লাগলো, এই সাত বছরে তালুকদার বাড়ির গার্ডেন টা বদলে গেছে, গার্ডেনের একপাশে ফুল বাগানের পাশেই ছোট বাচ্চা দের খেলার জন্য নানারকম খেলনা দেখা যাচ্ছে,বলতে গেলে বাড়ির গার্ডেনে ছোট একটা পার্ক সাজিয়েছে, গাড়ি এসে থেমেছে দু’মিনিটের মতো তবুও মিমের নামার নাম নেই, সেই চিরচেনা শহর, সেই চিরচেনা আপন মুখগুলো, আজকে কত বছর পড়ে তাঁদের মুখ গুলো দেখবে, মিম কে দেখা তাঁরা কেমন রিয়াক্ট করবে, খুশি হবে কী তাঁরা, না-কি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিবে, মিম গাড়িতে বসে নিজের মনে ভাবছিল, পার্থ মিম কে নামতে না দেখে মৃদু স্বরে বলল,

___” গাড়িতেই বসে থাকবি?
মিম পার্থর কথায় নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে এলো, একনজর পার্থ কে দেখে ধীর পায়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো, পুনরায় গাড়ির বিপরীত পাশে এসে অসুস্থ পার্থ কে গাড়ি থেকে নামতে হেল্প করতে লাগলো, পার্থ গাড়ির ভিতর থেকে মিমের হাতে কিছুটা ভর দিয়ে বের হয়ে এলো গাড়ি ভিতর থেকে, বের হয়ে পার্থ পুরো তালুকদার বাড়িতে চোখ বোলাচ্ছে, পার্থর মনে একটাই কথা চলছে, মিমের বাড়ি গ্রামে কিন্তু মিম শহরে তাঁর ফুপির বাড়িতে উঠলো, আর রশ্মি কে মিম পূর্বে থেকে জানে চিনে, তাহলে তো আরাত কেউ মিম জানে, যদি কখনো আরাত পার্থর সামনে পড়ে, আরাত কী পার্থ কে কমে ছেড়ে দিবে, রশ্মি কে কষ্ট দেওয়ার খেসারতে, পার্থ মিমের এক হাতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে তালুকদার বাড়ির ভিতরের দিকে যাচ্ছে,তখনও জানে না এটাই আরাত এর বাড়ি, আর মিম আরাতের মামাতো বোন,

মিম চারপাশ দেখতে দেখতে অসুস্থ পার্থ কে ধরে বুকে অস্তি অজানা ভয় এবং ধুকপুক বুকে হেঁটে মেইন গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো, দরজা টা খুলাই ছিলো, মিম দরজায় দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধ মুখে ড্রয়িং রুম মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে, পার্থ মিমের মতো দেখছে চারপাশ, বীরাত অচেনা এক ছেলে এক মেয়ে কে দরজার সামনে দাঁড়াতে থাকতে দেখে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো, দরজার সামনে এসে মাথা উঁচু একনজর অসুস্থ পার্থের দিকে তাকালো, পুনরায় দুজন কে দেখতে দেখতে কোমরে হাত রেখে ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,

___” আঙ্কেলের কী হয়েছে ?
ছোট্ট গম্ভীর কণ্ঠ শুনে মিম আর পার্থ দুজনেই অবাক চোখে নিচু হয়ে ছোট্ট ছেলেটার দিকে তাকাল,দরজার সামনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকা বীরাত কে দেখে মিমের মুখে হালকা বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠল, এই ছোট বাচ্চার মধ্যে এতটা গম্ভীর্য, বীরাত কে দেখে মিমের চিনতে অসুবিধা হলো না এটাই আরাত তাকবীরের ছেলে বীরাত, কেনোনা মিম এরান মাহা বীরাত কে আগেই ফোনে দেখেছিলো, কিন্তু বীরাত মিম কে চিনতে পারলো না, মিম পার্থ কে ছেড়ে দিয়ে বীরাত এর সামনে হাঁটু মুড়ে বসলো, হাসি মুখে বীরাত এর গালে হাত রেখে নরম গলায় বলল,
___ ” কিছু না, আঙ্কেলটা একটু অসুস্থ, তোমার নাম বীরাত রাইট?
বীরাত মিমের কথায় পুনরায় ভ্রু কুঁচকে পার্থের দিকে তাকাল, যেন নিজের মতো করে ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করছে, পার্থ কে দেখে মিমের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলে উঠলো,

___” হ্যাঁ, আপনার নাম কী?
মিম হেঁসে উঠলো, ছোট বীরাত তাঁর নাম জিজ্ঞেস করছে, ইসস কতটা আদুরে লাগছে ছোট বীরাত কে, মিম হাসি মুখে আহ্লাদি স্বরে বলল,
___” আমার নাম,আমার নাম তো মিম।
মিমের কথায় বীরাত স্বাভাবিক ভাবে তাকিয়ে থাকলেও মিম নাম টা কানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ডাইনিং টেবিলের মানুষ গুলোর অবিশ্বাস্য চাহনি পরলো সদর দরজার দিকে, হটাৎ মিমের আগমন টা যেন থমকে দিলো তালুকদার বাড়ি কে, মাগরিবের আজান দিয়েছে মিনিট পাঁচেক আগে, সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করছিলো, ইফতার করার মধ্যে দিয়ে হটাৎ আমার নাম তো মিম, খুব পরিচয় কন্ঠ কানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার হাত থেমে গেল, চোখ চলে গেলো সদর দরজার দিকে, আদিবা তালুকদার এর চোখে মুহূর্তের মধ্যে পানি এসে ভর করেছে, আরাত আইরা চেয়ার থেকে অবিশ্বাস্য মুখে দ্রুত পায়ে উঠে আসলো, মিম আরাত আইরা তে দেখে বীরাত কে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ, সবার চোখে পানি, মিম চোখে পানি নিয়ে একটা ঢোক গিলে আরাত আইরা কে দেখছে, মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না, কথাগুলো যেন গলায় দলাচাপা দিয়ে কান্না হয়ে বের হয়ে আসতে চাইছে, আরাত আইরা মিমের সামনে এসে একি ভাবে নিষপলক চেয়ে আছে, যেন তাঁরা স্বপ্ন দেখছে এটা কোনোরুপ মিম হতেই পারে না, হঠাৎই নিস্তব্ধ নীরবতা ঘুমোট পরিবেশ ভেঙ্গে আরাত মিম কে জরিয়ে ধরলো কান্না করতে করতে,

___” মিম……
আরাত মিম কে জরিয়ে ধরে কান্না করছে, সঙ্গে যোগ হলো আইরাও, খাবার টেবিলে সবাই ধীরে ধীরে উঠে ড্রয়িং রুমে আসতে লাগলো, মিম নিজেও ফুপিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো, না এটা দুঃখের কান্না না, বহুদিন পড়ে আপনজন দের ফিরে পাওয়ার আনন্দের কান্না, মাহা বীরাত এরান বিস্মিত চোখে দেখছে সবাই কে, তাঁদের ছোট মাথায় কিছুই ঢুকছে না, আরাত আইরা মিম তিনজন তিন জনক জরিয়ে ধরে কান্না করতে দেখে রাবেয়া তালুকদার চোখের কোণের পানি মুছে নরম গলায় বলে উঠলেন,
___”আচ্ছা, আগে বসো তোমরা… এতদিন পর এসেছে মেয়েটা, তাকে দাঁড় করিয়ে রেখে শুধু কাঁদলেই হবে?
রাবেয়া তালুকদারের কথায় ঘরের ভারী নীরবতাটা একটু একটু করে নরম হয়ে এলো, আরাত ধীরে ধীরে মিমকে ছেড়ে দিল, কিন্তু হাতটা এখনো শক্ত করে ধরে আছে যেন ছেড়ে দিলে আবার হারিয়ে যাবে, তাকবীর এক সাইটে দাঁড়িয়ে হাত ভাঁজ করে পার্থ কে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, মিম যে এভাবে হটাৎ বাংলাদেশে আসবে তাকবীর নিজেও জানতো না, আনাস কৌতূহলী চোখে পার্থের দিকে এগিয়ে এসে ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইলো ,

___” এক্সকিউজ মি আপনি কি মিমের সঙ্গে এসেছেন?
আনাস এর কথায় সবার নজর পরলো পার্থর দিকে, এতক্ষণ মিম কে ঘিরে এতটা মগ্ন ছিলো পাশেই অসুস্থ শরীরে পার্থ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ খেয়ালই করেনি, সবার মুখে অবাকের স্যাপ একমাত্র আরাত শুধু পার্থর দিকে অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে কিছু মনে করার চেষ্টা করছে, পার্থ তালুকদার বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই আরাত কে দেখে ঝটকা খেয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মানুষ বলে না পৃথিবীটা গোল,কেনো না কেনো ভাবে দেখা হয়েই যায় হ্যাঁ পৃথিবীটা সত্যিই গোল,তাই মানুষ যত দূরেই থাক বা যাক কোনো না কোনো মোড়ে যেকোনো ভাবে আবার দেখা হয়ে যায়, কিছুক্ষণ ভাবার পড়ে আরাতের মুখ অপ্রত্যাশিত পার্থ কে দেখে চোখের পাতা পিটপিট করতে লাগলো, পার্থের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে, আনাস পার্থের ফ্যাকাশে মুখের দিকে চেয়ে পুনরায় বলে উঠলো,

___” মনে হচ্ছে আপনি সিক, চাইলে সোফাতে বসে কথা বলতে পারেন।
সবাই পার্থ কে লক্ষ করে দেখলো পার্থর মাথায় ব্যান্ডেজ করা, হাতে পায়ে কিছুকিছু জায়গায় লাল হয়ে আছে, সবার মুখে আনাস এর মতো প্রশ্ন ঝুলছে, এই ছেলেটা কে, আর এত অসুস্থ কিভাবে হলো, সবার চাহনি দেখে পার্থ মিমের দিকে তাকালো, মিম চোখের কোণের পানি হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে সবাই কে উদ্দেশ্য করে ধীরে ধীরে বলল,
___” আমার ফ্রেন্ড পার্থ চৌধুরী , বাংলাদেশে এসে এক্সিডেন্ট করেছিলো, আমরা হাসপাতাল থেকে ফিরলাম।
মিমের কথায় সবার মুখে বিচলিত ভাব ফুটে উঠলো, কিভাবে এক্সিডেন্ট করেছে জানার জন্য, আদনান তালুকদার ব্যাস্ত কন্ঠে বলল,
___” দাঁড়িয়ে আছো কেনো, পড়ে পরিচিত হওয়া যাবে, ছেলেটা কে আগে বসতে দেও ।
আদনান তালুকদার এর কথায় পরিবেশ টা কিছুটা বদলে গেলো, আনাস পার্থ কে হেল্প করলো সোফাতে বসতে, এদিকে মাগরিবের আজান অনেক আগে পড়ায় নামাজের সময় চলে যাচ্ছে, আহাদ তালুকদার গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

___” চলো নামাজের লেট হয়ে যাচ্ছে, আদিবা তুমি ওঁদের খাবারের ব্যবস্থা করো।
কথাটা বলেই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন, একে একে আনাস তাকবীর আহিন আদনান তালুকদার আর এরান কে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে নামাজের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো, মিম দূরে দাঁড়ানো ফুপির দিকে চেয়ে কান্নারত কন্ঠে বলল,
___” ফুপি আমার কাছে আসবে না, আমাকে আদর করে দিবে না? এখনো আমার উপর অভিমান করে থাকবে?
আদিবা তালুকদার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না, চোখের পানি মুছে নিজেকে ঠিক করে নিয়ে দ্রুত পায়ে মিমের সামনে এসে দাঁড়ালো, চোখের পানি মুছতেই পুনরায় চোখ ভিজে উঠছে, আরাত আইরা রাবেয়া তালুকদার সবাই মিম আর আদিবা তালুকদার কে দেখছে, আদিবা তালুকদার মিমের সামনে এসে দাঁড়াতেই মিম আদিবা তালুকদারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো, মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল,মিম শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে আদিবা তালুকদার কে, যেন এতদিনের জমে থাকা সব কষ্ট আর অপেক্ষা একসাথে লুটে নিতে চাইছে,
আদিবা তালুকদার চোখে পানি মুখে হাসি নিয়ে কাঁপা হাতে মিমের মাথায় হাত রাখলেন, কন্ঠ কাঁপছে,কাঁপা কন্ঠে মিম কে আরো জরিয়ে নিয়ে বললেন,

___” আমার মেয়েটা, এতদিন পরে আমাদের কথা মনে পড়লো ?
মিম মাথা নাড়ল, কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না, তাঁর চোখে পানি যেন সব না বলা কথা গুলো বলে দিচ্ছে, আইরা একটু হেঁসে তাঁদের কাছে এসে নরম কন্ঠে বলে উঠলো,
___” আচ্ছা আচ্ছা, আর কাঁদতে হবে না, এতদিন পরে দেখা হয়েছে, এখন যদি শুধু কান্নাই করো তাহলে খুশির মুহূর্তগুলো কে উপভোগ করবে?
আইরা পুনরায় আদিবা তালুকদারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে বুঝানোর ন্যায় বলে উঠলো,
___” মামনী দেখছো তো? আমাদের মিম ঠিকই ফিরে এসেছে,আর কোনো অভিমান রাখার দরকার নেই, পৃথিবীটা সত্যিই গোল মানুষ যত দূরেই যাক, একদিন না একদিন নিজের জায়গায় ঠিকই ফিরে আসতে হয়।
মিম আদিবা তালুকদার কে ছাড়লো না, যেন অনেকদিন পড়ে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়টা ফিরে পেয়েছে, রাবেয়া তালুকদার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন,
তার মনে হচ্ছিল বহুদিনের ভাঙা একটা সম্পর্ক আজ আবার জোড়া লাগছে,এতদিনের অশান্তির পর আজ যেন সবাই একটু করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে

রাত দশ-টা, আজকে তালুকদার বাড়িতে অন্য রকম খুশির ঝিলিক, পার্থ কে থাকার জন্য গেস্ট রুম দেখিয়ে দিয়েছে, রাতের ডিনার করে মেডিসিন নিয়ে রেস্ট নিচ্ছে পার্থ, মিম কে ঘিরে ড্রায়িং রুমে বসে আছে আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার আনাস আইরা আরাত আদিবা রাবেয়া তালুকদার আহিন, একেকজন একেকটা একটার পর একটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছে মিম কে, আর মিম ধীরে ধীরে সবার প্রশ্নের উত্তর করছে, মাহা মিমের কোলে বসে বড়দের কথা শুনছে, রাত দশ-টা তবুও তাঁর চোখে ঘুম নেই, অথচ বীরাত এরান ভদ্র ছেলের মতো নয়টা বাজতেই ঘুমাতে চলে গেছে, বড়দের চোখ-মুখে পার্থ কে ঘিরে কৌতূহল, পার্থ কী মিমের স্পেশাল কেউ, যদি স্পেশাল না হতো তাহলে কেনো মিম তাঁর সঙ্গে পার্থ কে বাংলাদেশে নিয়ে এলো, কিন্তু বড়রা মিম কে সরাসরি কিছু বলতে পারলো না, হতেই পারে স্পেশাল কেউ, এভাবে তো আর মুখের উপর জানতে চাওয়া যায় না, কিন্তু বড়দের না বলা কথা আহিন মিম কে বলে উঠলো,

___” মিম আপু তুমি কিন্তু বললে না, ছেলেটা কে?
আহিনের কথায় মিম স্বাভাবিক মুখে বলে উঠলো,
___” তখন তো বললাম ফ্রেন্ড।
সবার চোখে একি কৌতূহল, আহিনের চোখেমুখে গোয়েন্দা ভাব ফুটে তুলে মিম কে জিরা করতে লাগলো,
___” জাস্ট ফ্রেন্ড?
মিমের মুখে খানিকটা বিরক্ত ভাব,
___” ওয়াট ডু ইউ মীন?
আহিন আগের ন্যায় জানতে চাইলো,
___” আই মিন স্পেশাল কেউ ?
মিম নীরব চোখে তাকালো আহিনের দিকে, ছেলেটা কত বড় হয়ে গেছে, কেমন বড়দের মতো প্রশ্ন করতে শিখে গেছে, মিম পুনরায় বড়দের দেখে নিলো, সবার চোখে একি কৌতূহল দেখে মিম দীর্ঘশ্বাস ফেললো, একটাই আপসোস এতবছরেও মিম কে তাঁরা চিনলো না, আরাতের মনে অনেক প্রশ্ন জমা হয়েছে, মিমের সঙ্গে একা কথা বলতে হবে, মিম চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলে পুনরায় চোখ মেলে বলতে লাগলো,
___” জাস্ট ফ্রেন্ড না বাট বেস্ট ফ্রেন্ড,স্পেশাল কেউ না, তবু স্পেশালের চেয়ে একটু বেশি,আমার সব কষ্টের সঙ্গ দেওয়া সঙ্গী।
মিমের উত্তরের সবার মধ্যে কিছুটা কৌতূহল কমে গেলো, কিন্তু এখনো আরাতের কাছে সবকিছু পরিস্কার হলো না, আনাস মিমের কথায় বলে উঠলো,

___” আচ্ছা ঠিক আছে বাদ দে এসব, আমি মামা-মামী কে ফোন করে আসতে বলি।
আনাস এর কথায় সবাই সায় জানালো কিন্তু মিম বাঁধা দিয়ে বললো,
___” আম্মু আব্বু কে আসতে হবে না, আমি কালপরশু গ্রামে চলে যাবো।
মিমের কথায় মাহা মন খারাপ করে মিমের দিকে তাকালো, আদিবা তালুকদার বলে উঠলেন,
___” গ্রামে কেনো যাবে, অনেক বছর পড়ে আমাদের কাছে এসেছো তোমাকে এত সহজে ছাড়ছি না।
মাহা আদিবা তালুকদার এর কথায় খুশি হয়ে গেলো, হুট করে মিমের গালে চুমু রেখে দিয়ে হাত তালি দিতে দিতে বলল,

___” ইয়ে খালামনী যাবে না, খালামনী তুমি থেকে যাও তোমাকে আমি এত এত চকলেট দিবো।
মাহার কথায় সবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো, মিম কে আটকাতে ছোট মাহা তাঁর চকলেট ঘুষ দিয়ে চাইছে, যে চকলেটর জন্য দিনরাত সবাই কে জ্বালিয়ে মারে,
মিম হাসি মুখে মাহার গালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে বলল,
___” তাহলে তো চকলেট মিস করা যাবে না, উহুহু কী করা যায়, কী করা যায়, আচ্ছা ঠিক আছে থেকে গেলাম।
___” ইয়েহেহহহ খালামনী থেকে যাবে।
মাহা দুহাত উজাড় করে দিয়ে খুশিতে বলল কথাগুলো, সবার মুখে হাসি, আরাত দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখলো রাত সাড়ে দশ-টার উপরে, সেহরির জন্য পুনরায় গভীর রাতে উঠতে হবে, মেয়ে কে একটু ধমকে বলল,
___” মাম্মা যাও অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমাতে যাও।
মাহা গাল ফুলালো সে যাবে না, খালামনী এসেছে, এত তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই তার,এখনই যদি ঘুমিয়ে পড়ে তাহলে তো গল্পই করা হবে না, মাহা তাঁর ছোট মস্তিষ্কে কথাগুলো ভেবে মিম কে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো,

___” না, আমি এখন ঘুমাবো না, আমি খালামনীর সাথে গল্প করবো।
মিম আলটু হেঁসে মাহার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, আরাত ভ্রু কুঁচকে দু’জন কে দেখছে, কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ছোট মাহা কতটা আপন করে নিয়েছে মিম কে, অথচ আজকেই প্রথম দেখা তাঁদের, আরাত নিজেও ছোট বাচ্চাদের মতো করে বলে উঠলো,
___” আচ্ছা, গল্প করতে করতে যদি মাম্মার চোখ লেগে যায় তখন?
মাহা গালে হাত রেখে একটু ভেবে নিয়ে চোখমুখে হাসি ফুটে ছোট্ট গলায় বলল,
___” তাহলে খালামনী আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।
মাহার সেই নিষ্পাপ কথায় আবারও ঘর ভরে উঠলো হাসিতে, মাহা গাল ফুলিয়ে বসে রইলো, তার স্পষ্ট জবাব সে যাবে না, আরাত চোখের ইশারায় দেয়াল ঘড়ির দিকে ইশারা করে বলল,

___” সময়টা দেখেছো? রাত সাড়ে দশটা পার হয়ে গেছে, সকালে সেহরির জন্য উঠতে হবে, এখন যদি না ঘুমাও, সেহরির সময় কিন্তু উঠতে পারবে না।
মাহার মুখে চিন্তার ভাজ পরলো, ঘরের সবাই মাহার মুখের দিকে চেয়ে মুচকি হাসতে লাগলো,মিম একটু ঝুঁকে মাহার কপালে আলতো করে চুমু রেখে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
___” মাহা মণির চিন্তার কিছু নেই, তুমি মাম্মার সঙ্গে গিয়ে ফটাফট ঘুমিয়ে পড়ো, আমি তোমার সঙ্গে সকাল বেলা জমিয়ে আড্ডা দিবো।
মাহা নিজের কচি আঙ্গুল মিমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” প্রমিস?
মিম হেঁসে উঠলো, পুনরায় নিজের আঙুলটা মাহার আঙুলের সাথে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদী গলায় বলল,
___” প্রমিস, একদম পাকা প্রমিস করলাম।
মাহা তখনও মিম কে পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে বড় বড় চোখে তাকিয়ে সন্ধিহান গলায় বলল,
___” সকালে আবার পালাবে না তো?

মিম হালকা হেঁসে মাহার নাকটা আলতো করে চেপে ধরল, একটু নটকী ভঙ্গীমায় বলে উঠলো,
___” উহুঁ, পালাবো না, আমার মাহা মণির সাথে গল্প না করে কোথাও যাওয়া যাবে নাকি ?
এবার যেন নিশ্চিন্ত হলো মাহা,খুশিতে মিমকে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে সোফা থেকে নেমে দৌড়ে এসে আরাতের হাত ধরলো, কিছুটা ব্যস্ত কন্ঠে বলতে লাগলো,
___” চলো মাম্মা, তাড়াতাড়ি ঘুমাই, সকালে উঠতে হবে তো, খালামনীর সঙ্গে অনেক গল্প করতে হবে।
মাহার কথায় আবারও ঘরজুড়ে নরম হাসির ঢেউ উঠলো, আরাত মাহা কে হাসি মুখে কোলে তুলে নিয়ে একপলক মিমের দিকে তাকালো,চোখে যেন অদ্ভুত এক নীরব অনুভূতি খেলা করছে, মনে অনেক কথায় জমে আছে, শুধু সঠিক সময় দরকার, আরাত মাহা কে কোলে তুলে নিয়ে নরম কন্ঠে বলল,

___” মাম্মা সবাই কে আল্লাহ হাফেজ বলো।
মাহা দুহাত উঁচু করে তাঁর ছোট মিষ্টি কন্ঠে সবাইকে বলল,
___” আল্লাহ হাফেজ সবাই কে !
মাহার ছোট্ট কণ্ঠে বলা কথাটায় ঘরের সবাই মুচকি হেঁসে এক সঙ্গে আল্লাহ হাফেজ বলে উঠলো, এবার মাহা সত্যিই খুশি হলো, আরাত ধীরে ধীরে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো, আহাদ তালুকদার মেয়ে আর নাতনীর দিকে মুগ্ধ চোখে দেখছিলেন এতক্ষণ, ভদ্রলোকের একসময় খুব চিন্তা হতো চঞ্চল আরাত কে নিয়ে, মেয়ে কে বিয়ে দিলে কিভাবে সংসার করবে ভেবে, অন্য ফ্যামিলিতে সবকিছু মেনে নিতে পারবে কি-না, অথচ আজকে উনার সব চিন্তা মুক্ত, ছোট মেয়েটা আজ অনেক বড় হয়ে গেছে, সংসার করছে বাচ্চা কে সামলাচ্ছে, আগের মতো আর ছেলেমানুষী করে না, আর সবকিছু নিজের চোখের সামনে দেখে আরছে, এর থেকে আনন্দ একটা বাবার আর কী হতে পারে, চোখের সামনে মেয়ের সুখের ঘর দেখতে দেখতে আজ আহাদ তালুকদার এর বয়স হয়ে গেছে বেশ, হয়তো মেয়ে কে অন্য কোন ফ্যামিলিতে বিয়ে দিলে এতটা নিশ্চিত থাকতে পারতেন না, হয়তো মেয়ের ছেলেমেয়ে কে এতটা কাছে থেকে আদর করতে পারতেন না, বুড়ো বয়সে এসে নাতি নাতনী দের সঙ্গে দুষ্টামি এবং খেলা করে কাটিয়ে দেওয়ার মতো সুখ হয়তো এই পৃথিবীতে এক টুকরো জান্নাত, যা বুড়ো বয়সে এক অন্য রকম অনুভূতি দেন, সময় কাটানোর সঙ্গী হয়ে যায় নাতি নাতনী রা, বীরাত মাহা শান্তশিষ্ট হলেও আনাস আইরার ছেলে এরান হয়েছে একদম ভিন্ন, কাউকে ভয় পায় না,

একদম জেদি, শুধু মাএ মায়ের সামনে শান্তশিষ্ট, আইরা কে ভিষণ ভয় পায়, তালুকদার বাড়ির প্রথম নাতি, তাঁর বড় হওয়া টা ছিলো একদম ভিন্ন, তালুকদার বাড়ির ছোট আহিন থেকে আদনান তালুকদারের চোখের মণি ছিলো এরান, এরান জন্ম নেওয়ার দু’বছর পড়ে তাকবীর আরাতের ঘরে দুটো জমজ বাচ্চা হওয়ার পর যেন এরান এর আদরের কমতি হয়নি বরং বীরাত মাহা এরান তিনজন তালুকদার বাড়ির জান, তিনজনে কোনো প্রকার ক্ষতি হয়ে গেলে তালুকদার বাড়ির আলো নিভে যাবে, বাড়ির দুই কর্তার মনে যতটা নাতি নাতনী দের নিয়ে ভালোবাসা আহ্লাদী চলে, উনাদের নিজেদের ছেলেমেয়ে নিয়ে যেনো এতটা আহ্লাদী ছিলো না, আরাত মাহা কে নিয়ে রুমে যাওয়ার পরপর আহিন নিজের রুমে চলে গেলো, আহিনের সঙ্গে এরান আর বীরাত থাকে, যদিও দুই ভাইয়ের জন্য আলেদা রুম আছে, কিন্তু তাঁরা বেশিভাগ তাঁদের একমাত্র কাক্কু মিস্টার ভন্ড আহিন সাহবের সঙ্গে থাকতে সচ্ছন্নবোধ করে।

ধীরে ধীরে আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার রাবেয়া তালুকদার আনাস আইরা নিজেদের রুমে চলে গেলো, আইরা হল রুম কয়েক মিনিটের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গেলো, আদিবা তালুকদার ধীর পায়ে ভাতিজীর কাছে এসে মিমের পাশে বসলো, মিম নিজের ফুপি কে দেখে হাসি মুখে আদিবা তালুকদার কে জরিয়ে ধরলো, এত বছর পড়ে নিজের আপন মানুষ গুলো কে দেখে মনটা শুধু ছটফট করছে, রুমে যেতে ইচ্ছা করছে না, মনটা বলছে সবার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে রাত কেটে দিতে, এই মুহূর্ত গুলো কে কেনো ভাবে আটকে রাখতে ইচ্ছা করছে, এই মায়া ছেড়ে কয়েকদিন পড়ে আবার দূর দেশে ফিরে যাবে, ভাবতে গেলেই বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠছে, এখন মিম কে দেখে যেমন সবাই এতটা খুশি হয়েছে, মিম চলে যাওয়ার কথা শুনলে হয়তো তাঁরা পুনরায় কষ্ট পাবে, মিমের বুক ছটফট করছে রুপালী বেগমের মুখ টা দেখের জন্য, নিজের বাবা কে দেখার জন্য, কিন্তু পার্থর জন্য পাচ্ছে না, রাফি তালুকদার বাড়িতে এসে পার্থ কে দেখে দেখে যাবে, আবার মাথার ক্ষত স্থানে ড্রেসিং তো আছেয়, তাইতো রুপোলী বেগমের কমতি আদিবা তালুকদারের কাছে লুটে নিতে চাইছে, নিজের ফুপির বুকে মাথা রেখে শান্তি খুঁজে নিচ্ছে, আদিবা তালুকদার মিম কে দু’হাতে আগলে নিলো, কিছুটা সময় এভাবেই নীরবতা দিয়ে হল রুম কেটে গেলো, আদিবা তালুকদার নীরবতা ভাঙ্গতে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলেন,

___” নিজের জীবন টা কবে গুছিয়ে নিবে মা?
আদিবা তালুকদার এর কথায় মিম কয়েক সেকেন্ড এর জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো, মনে পড়ে গেলো সেই ক্ষতবিক্ষত করা অতীত, সেই অপ্রিয় থেকে প্রিয় মুখ টার কথা, হয়তো এতদিনে সে তাঁর জীবন গুছিয়ে নিয়েছে, শুধু মিম তাঁর সেই পুরনো অতীতে পড়ে আছে, মিম নিজের ভাবনায় নিজেই তাচ্ছিল্য হাসলো, মনে মনে ভাবলো, ” কিসব ভাবছে সে, কেউ কারো জন্য সাত বছর অপেক্ষা করতে পারে কী, পুনরায় ভাবলো, করতে পারবে না কেনো সে তো করছে, নিজের ভাবনায় নিজেই মিম বারবার তাচ্ছিল্য হাসলো, সে তো এখন একজন সাকসেসফুল ডক্টর হয়ে গেছে, মিম কে সে তো আগেই চায়নি ভালোবাসে নি, তাহলে তাঁকে নিয়ে ভাবনা টা নিকট বোকামি বৈকি না, মিম আদিবা তালুকদার এর বুকে মাথা রেখেই মলিন হেঁসে বলল,

___” আমার জীবন তো গুছানো ফুপি, তোমার ভাতিজী জব করতে চেয়েছিলো, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলো, দেখো সে এখন জব করে, পুরনো ক্ষতবিক্ষত ভয়ংকর অতীতকে পিছনে ফেলে নিজের পায়ে দাড়িয়ে ছে, সবকিছু তাঁর প্ল্যান মতো চলছে, আমি তো এমনই জীবন চেয়েছিলাম ফুপি।
আদিবা তালুকদার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো, মিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে পুনরায় বললেন,
___” তোমার কী মনে হয় না, এতকিছুর ভীড়ে কোথাও একটা কমতি আছে, তোমার জীবনের মূল শূন্যস্থান তো পূরণ না মা ?
মিম বুঝলো ফুপির কথার মানে, কথাগুলো শুনে মিমের ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি ফুটলো, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কোথাও যেন লুকিয়ে আছে চাপা কষ্ট, একটা ঢোক গিলে ধরে আসা গলায় বলে উঠলো,
___” সব শূন্যস্থান কি পূরণ করতেই হয় ফুপি?
আদিবা তালুকদার কিছু বললেন না, গভীর দৃষ্টিতে মিমের মুখপানে তাকিয়ে রইলেন, মিম পুনরায় মলিন মুখে বলে উঠলো,

___” কিছু শূন্যস্থান থাকলে থাকুক না ফুপি,
জীবনের সব শূন্যতা যদি পূরণ হয়ে যায়,তাহলে হয়তো গভীর রাতে চোখ ভিজানোর অনুভূতির সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করতে হবে,একটু একটু করে এই অনুভূতি আমার জীবনের সঙ্গে জরিয়ে গেছে , তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বড্ড বেমানান লাগবে এই জীবনে!
কথাগুলো মধ্যে লুকিয়ে আছে হয়তো হাজারো বেদনা প্রতিটা রাত কেমন কাটে কেবল মিম আর তাঁর গভীর রাতের থমকে যাওয়া মুহূর্তগুলো জানে, এই যে নিজের জীবন টা এখন নিজের কাছেই উপহাস করে তুলেছে, মুখে বলছে এক হৃদয় করছে আরেক আর বুকের ভেতরটা কারো জন্য ক্ষণে ক্ষণে মোচড় দিয়ে উঠে, তবুও সবকিছুর আড়ালে সবার সামনে মিম হাসি মুখে প্রেজেন্ট করছে, নিজেকে নিজের কাছেই মিথ্যে ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসতেছে বছরের পর বছর থেকে, আদিবা তালুকদার মিমের গালে আলতো করে হাত রাখলেন, কন্ঠে আদুপাড়া মিশিয়ে বললেন,

___” মা, নিজের কষ্টটা সবসময় এত শক্ত করে লুকিয়ে রাখতে নেই, মানুষ একা একা সব লড়াই করতে পারে না।
মিম এবার চোখ তুলে ফুপির দিকে তাকালো, চোখের দৃষ্টি শান্ত, গভীরে কোথাও জমে আছে বহুদিনের না বলা কিছু অনুভূতি, মিম আর নিজেকে ভাঙতে দিলো না, এতটুকু তেই আদিবা তালুকদার মিমের মন কে পড়ে নিয়েছে, যদি মিমের প্রতিরাতে ছটফটানি দেখতে তাহলে কী করতো, মিম গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে সামলে মুখে হাসি টেনে বলল,
___” আব্বু আম্মুর কথা ভিষণ মনে পড়ছে ফুপি, মন চাইছে ছুটে চলে যাই গ্রামে, কিন্তু এই ডাফার এর জন্য এখানে আটকা পড়তে হলো।
মিমের কথায় আদিবা তালুকদার একটু মন খারাপ করে বললেন,
___” ফুপির আদরে মন ভরছে না বুঝতে পারছি, তারমানে ফুপি কে তুমি নিজের ভাবো না তাইতো?
মিম আদিবা তালুকদার কে ছেড়ে দিয়ে মুচকি হাসলো,কয়েক সেকেন্ড আদিবা তালুকদার কে নীরব চোখে দেখে হটাৎই পুনরায় আদিবা তালুকদার কে জরিয়ে ধরে বলল,

___” তোমাদের সবাই কে আমি খুব মিস করি ফুপি, তাইতো সবাই কে একসঙ্গে দেখার জন্য ছটফট করে মন, এই যে তোমাকে পেয়ে গেছি এখন আব্বু আম্মু কে মনে পড়ছে, এক কাজ করলে কেমন হয় ফুপি, সবাই কে নিয়ে গ্রামে চলো, এই ঈদে সবাই মিলে গ্রামে একসঙ্গে ঈদ করবো দারুণ হবে।
মিমের কথা আদিবা তালুকদার কিছুক্ষণ ভাবলেন, ব্যাপার টা মন্দ না, অনেকদিন গ্রামে যাওয়া হয় না, দুতিন বছর আগে আহাদ তালুকদার কে নিয়ে একদিনের জন্য ঘুরে এসেছিলো, আনাস আইরা কে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য থেকে এসেছিলো তাও তিন-চার বছর হবে, মিম এসেছে এই সুযোগে যদি সবাই একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো যায়, আর সেটা যদি হয় গ্রামের খোলামেলা পরিবেশে, তাহলে তো মনটা ফুরফুরে হয়ে যাবে, আদিবা তালুকদার বললেন,

___” আমি তোমার ফুপা কে বলে দেখি উনি কী বলে, তারপর সবার মত নিতে হবে তো।
মিম মাথা ঝেকে বলল,
___” ওকে।
আদিবা তালুকদার পুনরায় বললেন,
___” অনেক রাত হয়েছে ঘুমাতে যাও, ভোররাতে উঠতে হবে।
মিম আদিবা তালুকদার কে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসতে বসতে বলল,
___” আল্লাহ হাফেজ ফুপি, তুমি ঘুমাতে যাও, আমার ঘুমাতে লেট হবে, আমি তাকবীর ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলে ঘুমাতে যাবো।
আদিবা তালুকদার সোফা থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
___” আচ্ছা ঠিক আছে বেশি রাত করো না, আল্লাহ হাফেজ।
আদিবা তালুকদার চলে গেলো, মিম পুনরায় কয়েক মিনিট হল রুমে বসে থাকল, নীরবতায় ঘেরা তালুকদার বাড়ি কে কয়েক সেকেন্ড উপলব্ধি করলো, বাড়িটা আগের মতোই আছে, শুধু বাড়ির রং পরিবর্তন করছে, তবে আগের ফাঁকা রুম গল্প এখন পরিপূর্ণ বাড়ির বাচ্চা গুলো দিয়ে, মিম একটা নিশ্বাস ফেলে সোফা থেকে উঠে ধীর পায়ে সিড়ির বেয়ে দোতালায় উঠতে লাগলো, তাকবীরের সঙ্গে কথা দেখা করতে, আসার পর শুধু একবার দেখা হয়েছিলো কিন্তু কথা হয়নি,

শপিং মলের ভিড়টা আজ অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশিই, চারদিকে মানুষের কোলাহল, উজ্জ্বল আলো আর দোকানগুলোর সামনে মানুষের ভীর, তালুকদার বাড়ির বিচ্ছু বাচ্চু সবটি মিলে আজ ভীড় জমিয়েছে শপিং মলে, সামনে ঈদ, ঈদ উপলক্ষে শপিং চলছে তাঁদের, তারউপর সকাল বেলা আদিবা তালুকদার গ্রামের ঈদ করার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সবাই রাজি হয়ে গিয়েছে, মিম পার্থ আগামীকাল গ্রামে চলে যাবে, দুজন আগে গ্রামে গেলেও তালুকদার বাড়ির সদস্য রা ঈদের আগের দিন গ্রামে যাবে, কারণ এই পাঁচ-ছয় দিনে অফিস সামলে নিয়ে সবকিছু গুছিয়ে ঈদের আগে সবাই মিলে গ্রামে যাবে আনন্দ করতে করতে, তালুকদার বাড়ি বলতে গেলে কয়েক দিনের জন্য তালাবদ্ধ করে রেখে দিবে, তাইতো আজকে সবটি মিলে শপিং করতে এসেছে, আরাত আইরা মিম চেয়ারে বসে একটার পর একটা কাপড় দেখছে, পাশেই বসে আছে এরান বীরাত, আনাস এক সাইটে চেয়ারে বসে মাহা কে কোলে নিয়ে বসে ফোন স্ক্রল করছে, পার্থ অসুস্থ শরীর নিয়ে পুরো শপিংমল ঘুরে ঘুরে দেখছে, মিম পার্থ কে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে আসতে নারাজ ছিলো, কিন্তু পার্থ মিমের কথা অগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে এসেছে, আরাত পার্থ কে দেখলেও তাঁদের সামনাসামনি এখনো কথা হয়নি, আরাত মাহা এর জন্য ছোট একটা স্কাট নিয়ে আনাস এর কাছে এসে বসলো, আনাস আরাত কে দেখে ফোন পকেটে রেখে দিয়ে হাসি মুখে মাহা কে নিজের কোলে দাঁড় করালো, আরাত একটু উপুড় হয়ে মাহার সামনে স্কাট ধরে দেখতে লাগলো, আনাস মাহা কে দেখতে দেখতে হাসি মুখে বলল ,

___” মাশাআল্লাহ আমার মামা কে একদম পরীর মতো সুন্দর লাগছে।
আনাস এর কথায় ছোট মাহা খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠলো, তাঁদের খুনসুটির মধ্যেই হটাৎ অতি চিরচেনা কন্ঠে আরাত নিজের নাম শুনে কপাল কুঁচকে পিছনে ফিরে তাকালো, পিছনে ফিরে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে আরাতের ঠোঁটের কোণে একটা নাম ভেসে উঠলো,
___” রশ্মি….

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬১

রশ্মি মাহির দুজন, তিথি কে বাড়িতে রেখে শপিংমলে এসেছে, বাড়ির সবার জন্য টুকিটাকি শপিং করতে, রশ্মি এদিক ওদিক তাকিয়ে দোকানের কাঁচের ভিতর দিয়ে ঝুলানো পোষণ গুলো দেখছিল ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে,করিডোর দিয়ে হেঁটে যেতেই এক দোকানের সামনে পরিচিত কয়েক জোরা মুখগুলো দেখে রশ্মির পা থেমে গেলো, মুহূর্তের জন্য যেন রশ্মির সময়টা থমকে গেল, আনাস এর কোলে ছোট একটা বোরকা পরিহিত বাচ্চা, বোরকা পড়ার কারণে ছোট বাচ্চা টা কে দেখতে একদম সাজানো পুতুলের মতো লাগছে , তাঁদের সামনে একটা মেয়ে বোরকা পড়ে আনাস এর কোলের বাচ্চা কে বোরকার উপরে স্কাট সামনে ধরে দেখছে আর এটা ওটা বলছে, রশ্মির আর আরাত কে চিনতে অসুবিধা হলো না, বোরকা পরিহিত আরাত কে এক দেখায় চিনে ফেললো, রশ্মি কে দাঁড়াতে দেখে মাহির নিজেও দাঁড়িয়ে রশ্মির চোখ অনুসরণ করে আরাত দের দিকে তাকালো, রশ্মির মুখ থেকে আপনাআপনি আরাত নাম টা বের হয়ে এলো,
___”আরাত।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি ঈদ স্পেশাল