আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৬
কায়নাত খান কবিতা
—কিং নাহহহহ”
অরিনের কথা শেষ হওয়ার আগেই কিংশুক আর কোনো কথা না শুনে বুলডোজারের লিভার টেনে দেয়।ভয়ংকর শব্দ করে বিশাল বুলডোজারটা সামনে ধেয়ে আসতে থাকে অরিনের।
চোখ বড় হয়ে যায় তার। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে যেন জমে গিয়েছিল। তারপর হঠাৎ নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে পাশের দিকে সরে দাঁড়ায়।যার ফল স্বরূপ বুলডোজারটা গিয়ে সজোরে আঘাত করে দেয়ালে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো দেয়ালটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ধুলোর মেঘে ঢেকে যায় চারপাশ। ইট, সিমেন্টের টুকরো ছিটকে পড়ে মাটিতে।
অরিন কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। তার বুক ধড়ফড় করছে খুব। ভয়ে তার পুরো শরীর কাঁপতে থাকে। আর একটু হলেই! সত্যিই তার জীবনটা শেষ হয়ে যেত।
কাঁপতে কাঁপতে সে তাকায় কিংশুকের দিকে।
বুলডোজারের ওপরে বসে আছে সে। তার চোখে অদ্ভুত এক পাগলামি। ঠোঁটে সেই ভয়ংকর হাসি।
কিংশুক ধীরে ধীরে বুলডোজার থেকে নামে। তারপর পকেট থেকে একটা ধারালো ব্লেড বের করে।
ব্লেডটা আঙুলে ঘুরাতে ঘুরাতে অরিনের দিকে এগোতে থাকে।অরিনের বুকের ভেতরটা হিম হয়ে যায়। অরিন আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না।
ভাঙা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে সে এক দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
তারপর এক নিমিষেই জঙ্গলের অন্ধকারে মিলিয়ে যায় সে।সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে কয়েক সেকেন্ড কিংশুক স্থির দাঁড়িয়ে থাকে।
তারপর হঠাৎ করেই হেসে ওঠে।
— বউটা এত পালায় কেন? ধুর…ওমার?”
—বস?”
—বস গুলো গাড়ি বের করো।”
‘’খান ম্যানশন”
রাত তখন ১:৪৫ মিনিট।খান বাড়িতে কলিং বেলের শব্দ ভেসে ওঠে। বাড়ির সবাই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ।শুধু একজন জেগে থাকেন এ সময়ে।আতিয়া বেগম।উনি প্রায়ই রাত জেগে থাকেন।বেলের শব্দ শুনে অবাক হয়ে বলেন,
এত রাতে কে এলো?”
মাধুরি ঘুমিয়ে আছে।
তাই উনিই নিচে নেমে দরজা খুলতে যান।
অপর প্রান্তে রক্তাক্ত পা নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত খান বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় অরিন
তার নিঃশ্বাস যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। বুকের ভেতর দম আটকে আসছে বারবার। হাত-পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে তার।পায়ের ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে তার।
কোনো রকমে কলিং বেল টিপে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে সে। কয়েক মিনিটের মধ্যে খান বাড়ির বিশাল দরজা খুলে যায়। বেরিয়ে আসে আতিয়া বেগম।
— মনি!”
চোখের সামনে অরিনকে অক্ষত অবস্থায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে খানিকটা আবেগ প্রবল হয়ে পরেন আতিয়া বেগম।
তিনি তাড়াতাড়ি তাকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি কখনো কল্পনা ও করতে পারেননি অরিনকে আবার দেখতে পারবেন এভাবে। কিংশুকের থেকে এতো জলদি রেহায় পাবে সে এটা দূর স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়।
—অরিনহহহ”
— ম…!
অরিনের পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ তার হাতে শক্ত একটা টান পড়ে।
কেউ একজন তাকে আতিয়া বেগমের কাছ থেকে জোরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে নেয়।অরিন ঘুরে তাকাতেইতার চোখে পড়ে সেই মানুষটার চোখে।
কিংশুক।মুহূর্তের মধ্যেই তার শরীর থেকে সব শক্তি যেন চলে যায়।সে জোরে জোরে কেঁদে ওঠে।নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে।
কিংশুক তার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
তার কণ্ঠে ঠান্ডা হাসি।
—কি বউ? আমি কি কম আদর দিচ্ছি?মনির কাছে ছুটে এলি আমাকে ছেড়ে?”
— মনি… প্লিজ… আমি উনার সাথে থাকবো না!”
আতিয়া বেগম এগিয়ে এসে কিংশুকের হাত থেকে অরিনকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন।
— কিংশুক! ছাড় আমার মেয়েকে!”
কিংশুক শান্ত গলায় বলে
— ওকে ছেড়ে দিলে আমি বাঁচবো কীভাবে, মনি?”
— ও তোকে ভয় পায়!”
— এই জন্যই তো জোর করে সব করি।”
আতিয়া বেগম ঘৃণায় বলে ওঠেন
— ছি! কিংশুক! তুই কি মানুষ?”
কিংশুক হেসে বলে—
— তুমি চাইলে অরিনের crazy lover ও বলতে পারো।”
তার হাসি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।অরিন আরও কাঁপতে থাকে।কারণ সে জানে।এই হাসির পরেই কিংশুক ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
কিংশুক বলে—
— ওকে এত ভালোবাসা দেবো যে ভয় পাওয়া বন্ধ করে দেবে।ইউ ক্যান ট্রাস্ট মি, মনি।”
আতিয়া বেগম রাগে বলেন
— কীভাবে ট্রাস্ট করবো? দেখ একবার ওর কী অবস্থা করেছিস! এসব কী মানুষের কাজ কিং?”
কিংশুক ঠান্ডা গলায় বলে—
— ওর জন্য পশু হতেও পারি। কিন্তু ওকে ছাড়ছি না।”
তারপর সে অরিনকে কোলে তুলে নেয়।আতিয়া বেগম প্রাণপণ চেষ্টা করেন তাকে থামাতে।
— কিংশুক! ওকে ছেড়ে দে বাবা!” তুই ফুফির কথা শুনবি না?”
কিংশুক থেমে বলে—
— তোমার কথা শুনেই তো দুই বছর ওর থেকে দূরে ছিলাম।আর কত?”
শেষ পর্যন্ত আতিয়া বেগম বুঝে যান।আজ তাকে থামানো সম্ভব নয়।কিংশুক অরিনকে গাড়িতে বসায়।নিজে বসতে যাবেঠিক তখনই, অরিন দরজা খুলে আবার দৌড় দেয়।আজ যা-ই হোক।সে আর ধরা দেবে না।কিংশুক দাঁড়িয়ে দেখে।তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
সে আতিয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে—
— আজকে তোমার মেয়ের কী অবস্থা হবে।তার গ্যারান্টি আমি দিতে পারলাম না, মনি।”
আতিয়া বেগম কেঁদে ফেলেন।কারণ তিনি জানেন।কিংশুকের রাগ কত ভয়ংকর।
কিংশুক নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
অরিন তখন ও দৌড়াচ্ছে।কিন্তু গাড়ির গতির কাছে মানুষের দৌড় কিছুই না, তাই খুব বেশি দূরে সে যেতে পারেনি। একদম কিংশুকের গাড়ির কাছাকাছি তার গতি।
তবুও কিংশুক তাকে ধরে না।বরং গাড়ির গতি ঠিক অরিনের মতো রাখে।সামনে অরিন দৌড়াচ্ছে।পিছনে কিংশুকের গাড়ি ধীরে ধীরে তাকে অনুসরণ করছে।
পিছনে আরও কয়েকটা বডিগার্ডের গাড়ি।
কিংশুক অরিনকে না ধরে মাইক তুলে বলে,
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪৫
— এই সবাই সাইটে..আমার বউ পালাচ্ছে!”
রাতের নিস্তব্ধ রাস্তায় তার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে।গার্ডরা অবাক হয়ে তাকায়।
কিংশুক হাসতে হাসতে বলে—
— “কাম অন বউ! আরো জোরে দৌড়াও!না হলে লোকে বলবে আমি তোমাকে খেতে দিই না!
আরো জোরে দৌড়াও! কাম অন”
