Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (২)
Raiha Zubair Ripti

হাসপাতালের করিডোরে অপেক্ষার সময়টা যেন শত বছরের সমান দীর্ঘ। স্ট্রেচারে তোলা মাত্রই মেহরিন কুঁকড়ে গেল।
পেটের ভেতর ব্যথা যেন মুঠো পাকিয়ে চেপে ধরছে। কথা বলার শক্তি নেই। ঠোঁট শুকিয়ে সাদা।
তার আঙুলগুলো শুধু আঁকড়ে আছে ওড়নার কোণা।
ইমার্জেন্সি রুমের সাদা আলো চোখে বিঁধছে একজন নার্স দ্রুত প্রেসার মেশিন লাগাল।ব্লাড প্রেসার ৯০/৬০… একটু লো।
আরেকজন বলল-

“ আইভি লাইন ওপেন করুন।”
মেহরিনের হাতে সুচ ঢুকতেই শরীরটা কেঁপে উঠল। স্যালাইন ধীরে ধীরে নামতে শুরু করল।
ডিউটি গাইনি ডাক্তার দ্রুত এসে গম্ভীর গলায় বলল-
“ পেটের ব্যথা কতক্ষণ ধরে?”
রুমাইসা উত্তর দিলো-
“ ২০ মিনিট হবে। ”
ডাক্তার মাথা নেড়ে বলল-
“ওকে আল্ট্রাসাউন্ডে নিন। এখনই। ”
ডার্ক আল্ট্রাসাউন্ড রুম। ডাক্তার মনিটরের দিকে তাকিয়ে প্রোব সরাচ্ছেন। মেহরিন আধো আধো গলায় বলল-
“ আমার বাচ্চা ঠিক আছে তো ডক্টর? কিছু হয় নি তো ওর?”
কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা। তারপর টুপটুপ একটা ক্ষীণ শব্দ।
ডাক্তার গভীর শ্বাস ছাড়লেন।

“ বেবির হার্টবিট আছে।”
কথাটা কানে আসতেই মেহরিন চোখ বন্ধ করলো। এবার খুশির অশ্রু গড়ালো চোখ বেয়ে। তার কষ্ট হচ্ছে হোক। তার বাচ্চা যেন সুস্থ থাকে।
রুমাইসা জিজ্ঞেস করলো-
“ এমন ব্লিডিং আর পেট ব্যথা হওয়ার কারন কি ডক্টর?”
“ মেহরিন কি কিছু খেয়েছিল?”
“ পায়েস খেয়েছিল যতদূর জানি। ”
“ বাটিটা এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করো তো। আর ওকে আজ আমরা অ্যাডমিট রাখছি। এই স্টেজে আমরা ঝুঁকি নেব না। রক্তপাত বাড়ছে কিনা, ব্যথা কমছে কিনা সব মনিটর করবো।”
রুমাইসা রফিক কে ফোন করে পায়েসের বাটি টা এনে দিতে বলল।
এরমধ্যে সোলেমান উন্মাদের মতো ছুটে আসে হসপিটালে। একটু সাভার গিয়েছিল কাজে। আর তারমধ্যে খবর পেলো মেহরিনের ব্লিডিং আর পেট ব্যথা উঠছে। কাজ ফেলেই চলে আসছে। করিডরে চাচা ইয়াসিন আর বাশার সুলতান কে দেখে অস্থির গলায় জিজ্ঞেস করলো –

“ মেহরিন কোথায়? কি অবস্থা ওর? ঠিক আছে? আমার বাচ্চা ঠিক আছে? ডক্টর কি বললো? ব্লিডিং কেনো হলো? আর পেট ব্যথাই বা কেনো হলো?”
বাশার সুলতান ধরে বসিয়ে বলল-
“ শান্ত হ তুই। বাচ্চা আর বউমা সুস্থ আছে। রিপোর্ট হাতে আসলে জানা যাবে কেনো হয়েছে ব্লিডিং। আর মেহরিন কে স্যালাইনের সাথে ব্যথার ঔষধ দেওয়া হয়েছে। রেস্ট নিচ্ছে। ”
সোলেমান কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো। বেডে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে মেহরিন। সোলেমান এগোতে চাইলে নার্স বলল-

“ শব্দ করবেন না। কেবলই চোখ টা বন্ধ করেছে। রেস্ট নিতে দিন। ব্যথা কমেছে সবে মাত্র। ”
সোলেমান নার্সের কথা শুনলো না। এগিয়ে গিয়ে মেহরিনের কপালে চুমু খেলো । হাতে চুমু খেলো। মেয়েটা একটু ব্যথা পেলেই কেমন নেতিয়ে শুকিয়ে যায়। আর সেই মেয়েই কি না বারবার ব্যথা পাচ্ছে। রাগ হচ্ছে নিজের উপর সোলেমানের।
“ রিপোর্ট আসতে কতক্ষণ লাগবে?”
“ ডক্টরের কেবিনে যান। এসে গেছে হয়তো রিপোর্ট। ”
সোলেমান হাঁটা ধরলো। ডক্টরের কেবিনে আসতেই ডক্টর সোলেমান কে বসতে বলল। সোলেমান চেয়ার টেনে বসে বলল-
“ এমন টা হলো কেনো?”
ডক্টর বলল-
“ আপনার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সি টা ভীষণ কমপ্লিলেটেড। জানেন তো সে কথা? ”
“ জানি বলেই তো মেহরিন কে নিয়ে বেশি সিরিয়াস আমি। সতর্কতার জন্য ওর দেখাশোনা করার জন্য লোক রেখেছি আলাদা। ”

“ এতই যদি সিরিয়াস আর সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন তাহলে পেঁপে খায় কি করে? প্রেগন্যান্সির সময় পেঁপে খেলে যে গর্ভপাত হয়ে যায় জানেন না সে কথা? ভাগ্যিস বেবিটা এখনও সুরক্ষিত আছে। বেশিমাত্রায় খেয়ে ফেললে তো বাচ্চা টাকে আর বাঁচানোই যেতে না। ”
সোলেমান চমকে উঠলো। মেহরিন পেঁপে খেয়েছে! কিন্তু বাড়িতে তো পেঁপে আনা বারন। প্রেগন্যান্সি তে যা যা খেলে অসুবিধা ফেইস করতে হয় সোলেমান সেসব নিষিদ্ধ করছে নিবাসে। সেখানে পেঁপে কি করে খেলো? মেহরিন তো পেঁপে খাবে না জেনেশুনে। তাহলে?
“ আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে না তো? পেঁপে আসবে কোথা থেকে? পেঁপে তো আমাদের নিবাসের ত্রিসীমানাতেও আসা নিষেধ। ”
ডক্টর ফাইল টা বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ তাহলে কি এই রিপোর্ট টা ভুল,সেটা বলতে চাচ্ছেন? এখানে স্পষ্ট লেখা আছে। মেহরিন পেঁপের পায়েস খেয়েছে। ”
সোলেমান রিপোর্ট টা দেখলো।

“ আমরা তার খাওয়া পায়েসের সিম্পল পাঠিয়েছিলাম। দ্যান জানানো হলো এটা পেঁপের পায়েস। ”
সোলেমানের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আসলো। কেবিন থেকে বেরিয়ে গিয়ে চাচার সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ বাড়িতে পেঁপে আসলো কি করে? কে বানিয়েছিল পেঁপের পায়েস?”
বাশার সুলতান ভ্রু কুঁচকালো।
“ পেঁপের পায়েস কে বানাবে? আজ তো বাড়িতে পায়েস বানানো হয় নি। ”
“ তাহলে এই রিপোর্ট কি মিথ্যা বলছে? মেহরিন পেঁপের পায়েস খেয়েছিল। কে বানিয়েছিলো বলো। ”
রুমাইসা পেছন থেকে ভাইয়ের কথা শুনে বলল-
“ মেহরিন তো পায়েস খেয়েছিল যেটা মাহি ভাবি দিয়েছিল খেতে। ”
সোলেমান সাথে সাথে পেছনে ফিরলো। মাহি দিয়েছিল পেঁপের পায়েস! বাশার সুলতান ও চমকালো সেই সাথে রাগ সপ্তম আকাশে। সোলেমানের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো চোখ মুখ তার শক্ত।
“ আমি মানা করছিলাম মেহরিন কে তার আনা খাবার না খাওয়াতে। মাহি শুনলো না। ঠেঁটা মেয়েটা খাইয়ে ছাড়লো! ”

সোলেমান রুমাইসা কে মেহরিনের কাছে থাকতে বলে নিবাসে চলে গেলো। পেছন পেছন বাশার সুলতান ও।
মাহি যেতে পারে নি হসপিটালে,যখন দেখলো বাতাসির হাত কেটে গেছে। বাতাসির কাছে যেতেই ততক্ষণে সবাই মেহরিন কে নিয়ে চলে গেছে। মাহি বাতাসির হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে দিতে বলল-
“ দেখেশুনে কাজ করবে তো। কতখানি কেটে গেছে। র’ক্ত বন্ধ হবার নামই নিচ্ছিলো না। ”
বাতাসি হাতের দিকে তাকালো। কেউ ইচ্ছে করে ব্যথা দিলে সেখানে কি আর সাবধানতা খাটে? নিচ থেকে সোলেমানের চিৎকারের আওয়াজ আসলো ভেসে। মাহির নাম ধরে চেঁচাচ্ছে। মাহি ডাক শুনে দৌড়ে ছুটে নিচে এসে বাশার সুলতান কে জিজ্ঞেস করে –
“ মেহরিন কেমন আছে এখন? বাচ্চা টা সুস্থ আছে তো?”
বাশার সুলতান সাথে সাথে ঠাটিয়ে একটা চ’ড় বসিয়ে দিলো। মাহি গালে হাত দিয়ে ছিটকে কয়েকদম পিছিয়ে গেলো। যেখানে তার নিজের বাবাই তার গায়ে হাত তোলার সাহস পায় নি সেখানে বাশার সুলতান কোনো কথা ছাড়াই চ’ড় মারলো!

“ হোয়াট দ্যা হ্যেল! আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে চ’ড় মারার?”
সোলেমান এগিয়ে আসলো। দাঁত চেপে কড়া গলায় বলল-
“ তোমাকে যে আমি জ্যান্ত মে’রে ফেলছি না এটাই তোমার সাত কপালোর ভাগ্য। কোন সাহসে তুমি মেহরিন কে পেঁপের পায়েস খাওয়ালে? আমার সন্তান কে মে’রে ফেলতে চাইছিলে? তুমি মেয়ে না হলে এতক্ষণে তোমাকে আমি যে কি করতাম ভাবতেও পারতে না। ”
মাহি যেন আকাশ থেকে পড়লো। পেঁপের পায়েস! কি আশ্চর্য, সে পেঁপের পায়েস কেনো খাওয়াতে যাবে?
“ মাথা ঠিক আছে আপনাদের? আমি জেনেশুনে পেঁপের পায়েস খাওয়াবো কেনো মেহরিন কে? আমি আপেলের পায়েস দিয়েছিলাম। ”
সোলেমান রিপোর্ট টা ছুঁড়ে দিলো মাহির কাছে।

“ রিপোর্ট কি মিথ্যা বলছে তাহলে? তোমার কারনে আমার বউ বাচ্চা সাফার করছে। ”
মাহি উল্টেপাল্টে দেখলো রিপোর্ট টা। অবিশ্বাস্য চাহনি নিয়ে বলল-
“ মিথ্যা এটা। আমি পেঁপের পায়েশ খাওয়াই নি। আমি তো আপেলের পায়েস দিয়েছিলাম খেতে। ”
বাশার সুলতান রাগান্বিত চেহারায় বলল-
“ মানা করেছিলাম আমি তোমায়,মেহরিন কে নিয়ে না ভাবতে। বলি নি? বলি নি ও কে বাহিরের খাবার দিও না? তারপরও কেনো দিলে তাও আবার পেঁপের পায়েস? আমাদের জীবনটাকে কি তুমি নরক বানাতে চাও? আমাদের সুখ কি তোমার সহ্য হচ্ছে না? ”
“ আঙ্কেল বিশ্বাস করুন,আমি আপেলের পায়েসই দিয়েছিলাম। আপনি রেস্টুরেন্টে খোঁজ নিয়ে দেখুন। ”
“ খোঁজ না নিয়েই কি সোলেমান এসেছে? তুমি যা অর্ডার দিয়েছিলে তারা তাই পাঠিয়েছে। এই দেখো রিসিট।”
“ রিসিট তো আমার কাছেও আছে। ওয়েট আমি নিয়ে আসছি। আমি আপেলের পায়েসই অর্ডার করেছিলাম। ”
মাহি দৌড়ে রুম থেকে রিসিট টা নিয়ে এসে সোলেমানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল-

“ নিজেই দেখুন। ”
সোলেমান খুলে দেখলো। তারপর মাহির দিকে তাক করে বলল-
“ কি লেখা এটা পড়ো। ”
মাহি সবেই বলতে যাবে আপেলের পায়েস। কিন্তু না লেখা আছে পেঁপের পায়েস! এটা কি করে সম্ভব! সে যদিও খাবার রিসিভ করার সময় নাম গুলো খেয়াল করে নি। কিন্তু তার মনে আছে সে আপেলের পায়েসই অর্ডার করেছিলো।
“ ইচ্ছে করে মেহরিন কে খাইয়েছিলে তো? এজওয়ানের উপর শোধ তুলতে? গেট আউট। তোমার মতো মেয়েকে আমি আর আমার বাড়িতে এক সেকেন্ডের জন্যও দেখতে চাই না। অনেক আগেই তোমার বিহেভিয়ারের জন্য বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিলো। একমাত্র এজওয়ানের জন্য আমি চুপ থেকেছি। এবার আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। তুমি আমার বউ বাচ্চার দিকে হাত বাড়িয়েছো। আমি কি ছেড়ে দিব তোমায়? উঁহু। এক্ষুনি এই বাড়ি থেকে বের হও। গেট আউট অফ মাই হাউস,রাইট নাও। ”
মাহি বাশার সুলতানের দিকে তাকালো।

“ আঙ্কেল আপনি তো বিশ্বাস করুন। ”
“ বিশ্বাস! তাও তোমাকে! তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার হাতে চা খেয়ে আমি মরতে বসেছিলাম। আমার ছেলেটা হসপিটালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলো,আর তুমি কি করেছিলে ভুলে গেছি ভেবেছো? বিশ্বাস করার মতো একটা কাজও কি তুমি করেছো আজ অব্দি? সোলেমান যা বলছে তাই শোনো। তুমি তার কলিজায় হাত দিছো। এখনও যে বেঁচে আছো এটাই অনেক। ”
মাহি এজওয়ান কে খুঁজতে লাগলো। এজওয়ান কি অবিশ্বাস করবে মাহি কে? কোথায় উনি? সবাই অবিশ্বাস করছে যে।
“ কথা কি কানে যায় নি? এই মেয়ে আমার চোখের সামনে থেকে দূর হও। আর কিভাবে বললে বের হবে আমার বাড়ি থেকে? সিকিউরিটি ডেকে বের করে দিব?”
এত অপমানিত মাহি জীবনেও হয় নি। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝড়তে লাগলো। আর এক মিনিট থাকলে মাহি ম’রে যাবে অপমানে। মাহি আর থাকলো না। ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
এজওয়ান মেহরিনের খবর টা পেয়েছে। ভাই আর বাপ নিবাসে এসেছে শুনে নিবাসের দিকে আসছিলো। কিন্তু বাগানে মাহিকে বিধ্বস্ত হয়ে হেঁটে যেতে দেখে এজওয়ান দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করলো-

“ ভাবি আর বাচ্চা নাকি ঠিক আছে শুনলাম? তুমি গিয়েছিলে?”
মাহি জবাব দিলো না। হাঁটতে থাকলো। এজওয়ানের কপাল কুঁচকে আসলো মাহির এমন ব্যবহারে। আবার দৌড়ে মাহির কাছে এসে বলল-
“ কোথায় যাচ্ছ? আর এমন বিধ্বস্ত রূপ কেনো? ”
মাহি এবারও কিছু বললো না। অপমানে তার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। এজওয়ান টানলে মাহি তা ছাড়িয়ে নেয়।
“ সমস্যা কি, কোথায় যাচ্ছ? ভেতরে চলো। ”
মাহি নিবাসের গেট থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল-
“ আমি যাব না আর এই বাড়ির ভেতরে। ”
মাহি চলে গেলো। এজওয়ান দৌড়ে নিবাসে আসলো। বাপ ভাইকে সোফায় বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ বাবা, ভাইজান মাহির কি হইছে? এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে কেনো? কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে জবাব দিচ্ছে না। বাড়িতেও আসবে না বললো। ”
সোলেমান বিরক্ত হলো। বাশার সুলতানের দিকে তাকিয়ে বলল-

“ ছেলেকে সামলাও। একটা উঁচু আওয়াজ যেন আমার কানে না আসে খবরদার। ”
বাশার সুলতান ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ মাহি কে বের করে দেওয়া হইছে সুলতান নিবাস থেকে। ”
এজওয়ান চমকে উঠলো। বের করে দিছে মানে?
“ বের করে দিছ মানে? কি করছে মাহি?”
“ তোর বউ মেহরিনের বাচ্চা কে মে’রে ফেলতে চাইছিলো। আপেলের পায়েস বলে পেঁপের পায়েস খাইয়েছে। বেচারি মেহরিনের এই অবস্থা তোর বউয়ের জন্য। ”
এজওয়ানের বিশ্বাস হলো না এই কথা।
“ মাথা খারাপ নাকি তোমাদের? হ্যাঁ মানছি মাহি তোমাদের পছন্দ না। তাই বলে এভাবে উল্টাপাল্টা এলিগ্যেশন দিবা? ”
সোলেমান উঠে দাঁড়ালো।

“ প্রমান ছাড়া কথা বলছি না এজওয়ান। চাচা তোমার ছেলেকে দেখাও। বউয়ের নেউটা হয়ে গেছে। দোষ চোখে পড়ে না ওর। তাই বলে অন্যদের চোখেও কি পড়বে না? ”
বাশার সুলতান সব দেখালো। সব দেখার পরও সে মানতে নারাজ। এতটা নিকৃষ্ট মাহি হতেই পারে না।
“ বিশ্বাস হচ্ছে না এখনও?”
সোলেমানের কথায় এজওয়ান সোলেমানের দিকে তাকালো।
“ সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না আমার। তুমি আমি আসা অব্দি তো অপেক্ষা করতে পারতে। মাহিকে কি করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে! আমায় বলার প্রয়োজন বোধ টুকুও করলে না আগে!”
“ আমি কি করবো না করবো সব কি আগে তোকে
বলে তারপর আমাকে করতে হবে? বউ হসপিটাল আমার,তোর না। ক্ষতি হলে হতো আমার বাচ্চার তোর না। তাই আমাকে ঠিক ভুল শেখাতে আসবি না এখন। মাথা ঠিক নেই উল্টাপাল্টা কি থেকে কি বলে দিব,তোর জন্য তা ভালো হবে না একদমই। ”

“ কি উল্টা পাল্টা বলবে আমাকে? আমি হাজার বার বলবো মাহি এমন কিছু করতে পারে না। ”
“ গলার আওয়াজ নিচু করে কথা বলতে বলছি না? ঝগড়া করতে চাইছিস আমার সাথে? তুই কি ভেবেছিস তোর বউ কে আমি চিনি না? হাড়ে হাড়ে চিনি। ও মেয়ে কি করতে পারে আর না পারে তা বেশ ভালো করেই জানি। আর আমি যা করেছি তা ভালোর জন্যই করেছি। তোর সমস্যা হলে তুইও চলে যেতে পারিস বউয়ের পিছু পিছু। ”
বাশার সুলতান সোলেমানের মুখের দিকে তাকালো।
“ এটা কি বলছিস তুই? এজওয়ান চলে যাবে মানে?”
“ তোমার ছেলে বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে মানে টা। আশা করছি আমাকে আর আমার এনার্জি নষ্ট করতে হবে না। ”
এজওয়ান ফাইল টা ফ্লোরে ছুঁড়ে মে’রে ফেলে দিয়ে চলে গেলো।
বাশার সুলতান এজওয়ান কে ডাকতে লাগলো- যাস না এজওয়ান, সোলেমান রেগে বলছে। ওর কথা ধরিস না। ওর মাথা ঠিক নেই।

কিন্তু এজওয়ানের শুনলো না। চলে গেলো। এই মাহি নামের মেয়েটা জাহান্নাম বানিয়ে ছাড়লো তাদের জীবন টা। ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ বেঁধে গেলো তাকে নিয়ে! এই মেয়েটাকে ছাড়বে না বাশার সুলতান।
এজওয়ান নিবাস থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজে বামের রাস্তা ধরে হাঁটা ধরলো। মাহি নিশ্চয়ই তার অ্যাপার্টমেন্টে যাবে। হাঁটতে হাঁটতে এক ফাঁকা রাস্তায় এজওয়ান মাহি কে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো। রাস্তার ধারে ফাঁকা বেঞ্চে একা হয়ে বসে আছে।
এজওয়ান দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়ে পাশে দাঁড়ালো। মাহি একবার পাশ ফিরে তাকালো। মাহির চোখ অসম্ভব রকমের লাল হয়ে আছে। কান্না করেছে এতক্ষণ?
“ আপনিও কি বিশ্বাস করেন আমি মেহরিনের এমন ক্ষতি করবো? আমি সত্যি কিচ্ছু করি নি। আমি পেঁপের পায়েস অর্ডার দেই নি। আমি আপেলের টা দিয়েছিলাম। আমি কত করে বললাম। অথচ আমার কথা কেউ বিশ্বাস করলো না। অপমান করে বের করে দিলো। আপনার বাবা আমার গায়ে পর্যন্ত হাত তুলেছে। আপনি যদি আমাকে ঐ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসে থাকেন। তাহলে সরি টু স্যে আমি আর ঐ বাড়িতে কোনোদিন ফিরে যাব না। আপনি চলে যান। চলে যান আপনি। ”

এজওয়ান চমকালো। বাবা হাত তুলেছে মাহির উপর! যেখানে এজওয়ান আজ অব্দি তুলে নি। সেখানে বাবা এটা করলো! রাগে শরীর ফুঁসতে শুরু করলো। এজওয়ান মাহি কে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল-
“ পৃথিবীর সবাই তোমাকে অবিশ্বাস করলেও আমি তোমাকে বিশ্বাস করি তরিকুলের বেটি। তোমাকে যেতে হবে না ঐ সুলতান নিবাসে। আমি চাই না যেই বাড়ি থেকে আমার বউ কে বের করে দেওয়া হয়েছে সেই বাড়িতে আমার বউ দ্বিতীয় বার পা রাখুক। আমি জানি আমার তরিকুলের বেটি এত জঘন্য কাজ করতে পারে না।”
মাহি এবার ডুকরে কেঁদে উঠলো। অথচ কেউ বিশ্বাস করলো না মাহি কে। আর এই ছেলে অবিশ্বাস করছে না মাহি কে! মাহি এই প্রথম এজওয়ানের বুকে মুখ চেপে কাঁদছে। এজওয়ানের বুকটা পুড়তে লাগলো। অথচ এজওয়ান এই দিনটাই চেয়েছিল তরিকুলের বেটি তার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদবে। কিন্তু এইভাবে তো চায় নি। এই কান্নায় সুখ নেই। আছে এক যন্ত্রণা। কাঁদতে কাঁদতে মাহির কাশি উঠে গেলো। এজওয়ান আশেপাশে তাকালো। রাস্তার ওপাশে একটা টঙের দোকান খোলা আছে। মাহি কে বুক থেকে সরিয়ে বলল-

“ আমি পানি নিয়ে আসছি। ”
এজওয়ান চলে গেলো আর তখনই মাহির ফোনে ফোন আসলো। তাকিয়ে দেখলো বাশার সুলতান ফোন করেছে। ইচ্ছে করলো না রিসিভ করতে। তারপরও কি মনে করে যেন রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে অস্থির গলায় বাশার সুলতান বলল-
“ এজওয়ান কি তোমার কাছে গেছে?
“ হ্যাঁ। ”
“ এই তোমার কারনে ছেলেটা আমার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া হয়েছে এই প্রথমবার। তোমার যদি মিনিমাম লজ্জাবোধ থাকে দয়া করে আমার ছেলের থেকে দূরে থাকো। আমার ছেলেটাকে একটু শান্তি দাও। এই দেড় বছরে ছেলেটাকে এক সেকেন্ডের জন্যও শান্তি দাও নি তুমি। এবার রেহাই দাও। ছেড়ে দাও তাকে। আমার ছেলেকে আমাদের কাছে কাছে ফিরিয়ে দাও। আমার এই ছেলে ছাড়া আছেই বা কে বলো। সে-ও যদি এক তোমার জন্য আমাদের ছেড়ে যায় তাহলে থাকি কি করে? এমনিতেও তো তুমি আমার ছেলেকে সহ্য করতে পারো না। আশা করছি এবার এই সম্পর্ক টার ইতি টানবে এখানে। নইলে সত্যি বলছি আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। বাপ ছেলে,ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে এক তোমার কারনে। ”

মাহি কে’টে দিলো ফোন। ঘাড় বেঁকিয়ে রাস্তার ওপাশে তাকালো। এজওয়ান পানির বোতল কিনছে। মাহি চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়ালো। এজওয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে বলল-
“ আমাদের হয়তো আর সংসার করা হবে না এজওয়ান। আপনার পথ আর আমার পথ যে শুরু থেকেই আলাদা। দু মেরুর মানুষ এক হয় কি করে বলুন? আমি চাই না আপনি সব ছেড়ে ছুঁড়ে চলে আসুন আমার কাছে। আপনার পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হোক তাও আবার আমার জন্য কখনই চাই না। আমাদের বিচ্ছেদ হলে খুব বেশি কেও কষ্ট পাবে না। বিশেষ করে আমি তো না-ই। বুঝেছেন? ”
মাহি চলে গেলো। এজওয়ান পানির বোতল নিয়ে ফিরে এসে দেখলো মাহি নেই! কোথায় গেলো! এই মেয়েটা এজওয়ান কে টেনশনে ফেলে নির্ঘাত একদিন মেরেই ফেলবে। এজওয়ান পকেট থেকে ফোন বের করে মাহি কে কল লাগালো। ধরছে না মাহি। শরীর কাঁপছে রাগে। একটা রিকশা ডেকে তাতে চড়ে উঠে বসলো। মিনিট দশেক পর রিকশাটা গিয়ে থামলো মাহির অ্যাপার্টমেন্টের সামনে। এজওয়ান ভাড়া মিটিয়ে ভেতরে ঢুকতে চাইলে সিকিউরিটি আঁটকে দেয়। এন্ট্রি কার্ড দেখতে চায়। এদিকে তো এজওয়ানের এন্ট্রি কার্ড নেই। সে তো এই অ্যাপার্টমেন্টে থাকে না। এজওয়ান বলল-

“ আমি মাহির কাছে এসেছি। তার সাথে দেখা করবো। মাহি এসেছে না অ্যাপার্টমেন্টে? ”
সিকিউরিটি বলল-
“ হ্যাঁ ম্যাডাম এসেছে। তবে ম্যাডাম বলে গেছে তার সাথে কেউ দেখা করতে আসলে যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়। সে কারো সাথে দেখা করতে রাজি না। আর আপনি সিনক্রিয়েট করলে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিতে বলছে। ”
হোয়াট দ্যা ফা’ক! কথাটা শুনে রাগ যেন আরে টগবগিয়ে উঠলো এজওয়ানের। মাহির স্বামী সে। তাকে ঢুকতে দিচ্ছে না! পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে এই এজওয়ান কে! এজওয়ান ঢোকার জন্য ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেললো। সিকিউরিটি গার্ডরা না পেরে দরজা তালা মেরে মাহি কে ফোন করলো। মাহি জানালো পুলিশ ডেকে তাড়িয়ে দিতে। তারা তাই করলো। পুলিশ কে ফোন করলো।
পুলিশ এসে এজওয়ান কে টেনে নিয়ে যেতে চাইলে এজওয়ান আবার মাহি কে ফোন করলো।
মাহি রুমের জানালা থেকে সবটা দেখছিলো। এবার ফোন টা রিসিভ করলো।

“ মাহি নিচে আসো। ”
“ না। ”
“ তুমি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছ আমায়! ”
“ আপনাকে তো ভদ্র মতো চলে যেতে বলা হয়েছিলো। তখন চলে যান নি কেনো? তা যাবেন কেনো আপনি তো….”
এজওয়ান আর শেষ করতে দিলো না কথাটা। কেঁড়ে নিয়ে বলল-
“ মাদারচোদ। আমি একটা মাদারচোদ। যে কি না বউ আর ফ্যামিলির মাঝে চাপা পড়ে একটা মাদারচোদ হয়ে গেছে। ”
এজওয়ান এরকম থার্ডক্লাস বকা দেওয়ায় মাহি সাথে সাথে ফোন কেটে ব্লক লিস্টে ফেলে রাখলো। এবার সুলতান পরিবার তার ছেলেকে ধরে রাখুক। মাহির কাউকে চাই না। কাউকেই না।
অতঃপর জানালা থেকে সরে কাভার্ড থেকে হ্যান্ড গান টা বের করে। সেটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে-
“ এবার থেকে তুই ফ্রী মাহি। কোনো পিছুটান নেই। আগের জীবনে পুরোদমে ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে তোর। ”

পরের দিন মেহরিন কে নিবাসে নিয়ে আসা হলো। নিবাসে এসে জানতে পারলো মাহি কে বের করে দেওয়া হয়েছে নিবাস থেকে। কারন জানতে চাইলে জানানো হয় মাহি তাকে আপেলের পায়েসের নাম করে পেঁপের পায়েস খাইয়েছিল। যার কারনে ওমন ব্লিডিং আর পেট ব্যথা হয়েছে। মেহরিনের বিশ্বাস হচ্ছিলো না। মাহি কেনো মেহরিন আর মেহরিনের সন্তানের ক্ষতি করতে যাবে? এতে তার কি লাভ? সোলেমানের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে চাইলো। সোলেমান কথা বলতে নারাজ। মাহি কে নিয়ে সে কোনো কথা বলবে না। রাতে পুলিশ স্টেশন থেকে এজওয়ান কে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছে বাশার সুলতান। তবে এজওয়ান নিবাসে আসে নি। হোটেলে গিয়ে উঠছে। সোলেমান সেটা নিয়ে কোনো কমেন্ট করে নি। যার যেখানে ইচ্ছে সেখানে গিয়ে থাকুক।
বিকেলে বাতাসি মেহরিনের রুমে আসলো। সকালে দেখা করে গেছে। এখন আসলো। একা একা ভালো লাগে না। মেহরিন সকালে দেখেছিল বাতাসির হাতে ব্যান্ডেজ। তবে জিজ্ঞেস করা হয় নি কি করে কাটলো। এবার জিজ্ঞেস করতেই বলল- গ্লাস ভেঙেছিলো। সেটাই তুলতে গিয়ে।
মেহরিন তার জন্য আনা চকলেটের প্যাকেট এগিয়ে দিলো। যেটা মোতালেব ভুঁইয়া এনেছিল। চকলেট খেতে মানা করছে ডক্টর। বাতাসি চকলেট টা বে করে নিজের মুখের সামনে ধরে বলল-

“ আমি আর চকলেট দেখতে সেম তাই না আপু?”
মেহরিন সে কথা শুনে ভ্রু কুঁচকালো। মেয়েটা খুব সাফার করে গায়ের রং নিয়ে। মেহরিন ইশারায় কাছে আসতে বলল। বাতাসি আসলো। মেহরিন তার দু গালে হাত রেখে বলল-
“ গায়ের রং সুন্দর হওয়ার চেয়ে ভেতর আত্মাটা সুন্দর হওয়া জরুরি। যেটা তোমার আছে। কেউ গায়ের রং নিয়ে কথা বললে মন খারাপ করবে না। বরং সেই ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। যারা গায়ের রং নিয়ে কটুক্তি করে তারা আল্লাহর সৃষ্টি কে নিয়ে সমালোচনা করে। আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে আমার সবটুকু সৌন্দর্য তোমাকে দিয়ে দিতাম। কিন্তু সেই ক্ষমতা তো নেই। তবে তোমাকে সঠিক টা বলার তো ক্ষমতা আছে আমার। তাই বলছি সবার আগে তুমি নিজেকে ভালোবাসো বাতাসি। নিজেকে যদি নিজেই ভালো না বাসতে পারো তাহলে লোকেরা তো তোমাকে কষ্ট দেওয়ার সাহস পাবেই। সব কথা হজম করতে নেই চুপচাপ। পরিস্থিতি ভেদে পাল্টা জবাবও দিতে হয়। তা না হলে ওপর পাশের মানুষ তোমাকে নরম ভেবে আরো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে। ইয়াসিন ভাই তোমাকে মানে না! সেজন্য কাঁদবে কেনো? কষ্ট পাবে কেনো? জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় শুধু করুণা। আর তুমি কারো করুণায় বাঁচতে যাবে কেনো বলো তো? তুমি বাঁচবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে। কারো পায়ের তলায় গড়াগড়ি খেয়ে নয়। ”

“ আমার তো কেউ নাই আপু। যাওয়ার জায়গা নাই। এক বেলা ভাত দিবে কেউ সেই কপালও নাই। ”
“ আমি আছি তো। ”
“ সে তো করুণাই হলো। ”
“ করুণা আর সাহায্য এক জিনিস না। করুণা সেটা যেটা তোমাকে চেয়ে চেয়ে নিতে হচ্ছে আর সাহায্য সেটা যেটা তোমাকে কেউ করতে চাচ্ছে নিজ থেকে। নিজের যত্ন নাও আজ থেকে। নামজ কালামে মনোযোগী হও। স্রষ্টা পারে না এমন কোনো কাজই নেই। দোয়া ক্যান চেঞ্জ এভ্রিথিং বাতাসি। আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। ”
“ কতই তো চাইলাম। আল্লাহ দেয় না কিছু। ভুল বললাম দেয় তো। শুধু দুঃখ দেয়। ”
“ কাঙ্খিত জিনিস যদি না পাও তাহলে বুঝতে হবে আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। তার বদলে উত্তম কিছু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। ইহকালে না পেলে পরকালে অবশ্যই দিবে। আর পরকালের পুরষ্কার ইহকালে পাওয়ার চেয়ে হাজার গুন উত্তম। ইহকালের শেষ আছে। কিন্তু পরকালের শেষ নেই। ”
বাতাসি মেহরিন কে জড়িয়ে ধরলো।

“ আপনি অনেক ভালো আপু। ”
“ তুমি তার চেয়েও বেশি ভালো। কষ্ট পেও না আর বোন। হৃদয় টাকে শক্ত করো। যে পছন্দ করে না তোমাকে সেখানে তার রুচির সমস্যা, তোমার না। নিজের যত্ন নিবা। নিজেকে ভালোবাসবা। ব্যাস দেখবে জীবন কত সহজ আর কত সুন্দর। ”
বাতাসি সত্যি মুগ্ধ হয়ে শুনলো। কখনো তার নিজেকে ভালোবাসা হয় নি। সব সময় ঘৃণা নিয়ে দেখেছে নিজেকে আর পাঁচ-দশজনের মতই। এবার নিজেকে ভালোবেসে দেখা যাক?
মেহরিনের রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে যাওয়ার পথে কলিংবেল টা বেজে উঠলো। বাতাসি সদর দরজার কাছে এসে দরজটা খুলতেই দেখতে পেলো এক অচেনা ফর্সা সুদর্শন পুরুষ কে। বাতাসি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো-

দাহশয্যা পর্ব ৮৮

“ কে আপনি? কাকে চাই?”
লোকটা চোখ থেকে সানগ্লাস টা খুলে ফেললো। বাতাসি কে আপাদমস্তক দেখে তারপর ভ্রু কুঁচকে বুকে দু হাত গুঁজে বলল-
“ আগে বলুন আপনি কে? হু আর ইউ ব্লাক ডায়মন্ড?”

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (৩)