Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (৩)
Raiha Zubair Ripti

মেহরিন সবেই চোখ বন্ধ করতে যাচ্ছিলো এমন সময় ফের রুমে প্রবেশ করলো বাতাসি। মেহরিন কে ডাকতেই মেহরিন চোখ মেলে তাকায়। বাতাসি বলল-
“ আপু কে যেন আসছে নিচে। পরিচয় চাইলাম দিলো না। তুমি একটু যাও তো। ”
মেহরিন ওড়না ঠিক করে নিচে আসলো। সোফায় ডক্টর অয়ন কে দেখে এগিয়ে গিয়ে সালাম দিলো। উনি যে আসবে মেহরিনের তো জানা ছিলো না। তাহলে কি রুমাইসার সাথে বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা বলার জন্য আসা ডক্টর অয়নের? অয়ন সালামের জবাব দিলো। এরমধ্যে সোলেমান এসে পড়ে। মেহরিন কে নিচে দেখে রেগে রুমে নিয়ে চলে গেলো। ডক্টর বলছে রেস্ট নিতে। আর মহারাণী নিচে!
সোলেমান অয়নের সাথে কথাবার্তা বলার জন্য নিচে আসলো। উপরের করিডর দিয়ে বাতাসি নিজের রুমে যাওয়ার পথে নিচে তাকাতেই ডক্টর অয়নের সাথে চোখাচোখি হয়। ডক্টর অয়ন হাত নাড়ালো। বাতাসি তার হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো।

“ বাংলাদেশে কোনো কাজ ছিলো তোমার ডক্টর অয়ন?”
“ জ্বি স্যার। কয়েকটা অপারেশন করতে আসা। তাই ভাবলাম আপনার সাথে দেখা করে যাই। ”
“ তা কোথায় উঠেছো?”
“ হোটেলে। ”
“ ওহ্ আচ্ছা। তোমার সাথে আমার পার্সোনালি কিছু কথা ছিলো। ”
“ জ্বি স্যার বলুন। ”
“ তোমার মা কিছু বলেছে?”
“ রুমাইসা কে নিয়ে স্যার?”
“ হুমম। ”
“ হুমম। বলেছে। ”
“ তোমার কি মতামত? ”
“ আপনার বোনের কি আর আমাকে পছন্দ হবে?”
“ জিজ্ঞেস করা হয় নি। ”

“ করে দেখুন। যদি আমাকে দেখে তার পছন্দ হয় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। ”
সোলেমান কফি দিতে বললো রফিক কে ডেকে। রফিক কফি নিয়ে আসলো। অয়ন কফি খেয়ে আর কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে হোটেলে ফিরে গেলো। আজ রাতে একটা অপারেশন আছে।
বাতাসি রুমে ঢুকে বিছানায় বসে হাতের ব্যান্ডেজ টা খুলছে। ড্রেসিং করতে হবে। বা হাত দিয়ে অনেক কষ্ট করে ব্যান্ডেজ টা খুললো। তবে ঔষধ লাগিয়ে ফের ব্যান্ডেজ করতে গিয়ে বিপাকে পরলো। ইয়াসিন রুমে প্রবেশ করার সময় দেখলো বাতাসি হাতে ব্যান্ডেজ পেঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বারবার অসফল হয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে গেলো। বাতাসির থেকে ব্যান্ডেজ টা নিয়ে সন্তপর্ণে পেঁচিয়ে দিলো হাতে। তারপর শেষে উঠে যেতে যেতে বলল-
“ অ্যাম সরি। আমার বেখেয়ালির জন্য হাতটায় এতটা ব্যথা পেলে।
বাতাসি হাত ছাড়িয়ে নিলো। বসা থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় বলল-
“ মনের ব্যথার থেকে কমই ছিলো এই ব্যথা। আর আমাকে নিয়ে আপনাকে আর ভাবতে হবে না। অনেক ভেবেছেন। অনেক করেছেন। নিজেকে এখন নিজে সামলাতে পারি। আপনার সরি টাও আপনার কাছেই রাখুন। ভুল জায়গায় ব্যবহার করছেন। ”
ইয়াসিন ভ্রু কুঁচকালো। কি আশ্চর্য সে তো ইচ্ছে করে দেয় নি। তাহলে এভাবে কথা বলার কি মানে? ইয়াসিন ফের বলল-

“ আমি সত্যি ইচ্ছে করে করি নি। ”
“ এত সাফাই গাওয়ার তো কোনো দরকার নেই। আপনি বলেছেন আমি শুনেছি। ব্যাস শেষ করুন এখানেই। আর তাছাড়া আমাদের ডিভোর্স টা কবে হতে পারে? আমি চাই না এই দম বন্ধকর সম্পর্কে আপনাকে আর জড়িয়ে রাখতে। ”
ইয়াসিন চলে যেতে যেতে বলল-
“ আমারও ইচ্ছে নেই থাকার। আমি কথা বলবো শীগ্রই উকিলের সাথে।”
“ সেটাই ভালো হবে দুজনের জন্য। ”
ইয়াসিন একবার বাতাসির দিকে ফিরে চলে গেলো রুম থেকে।
সোলেমান রান্না ঘরে ঢুকেছে। মেহরিনের খাবার-দাবারের কাজ নিজের ঘাড়ে নিয়েছে। বাচ্চা সুস্থ মতো না হওয়া অব্দি সোলেমান বাহিরের যা কাজ করার সব তা বাড়িতে থেকেই করবে। খুব ইমার্জেন্সি না হলে যাবে না। বেশিরভাগ কাজ এজওয়ান আর ইব্রাহিম সামলাবে। চুলায় ডিম পোস করতে করতে পকেট থেকে ফোনটা বের করলো সোলেমান। কল লিস্টের শুরুতেই এজওয়ানের নম্বর টা পেয়ে কল লাগালো।
এজওয়ান হোটেল রুমের বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। আকস্মিক ফোন বেজে উঠায় ঘাড় বেঁকিয়ে তাকায়। ভাইজানের ফোন এসেছে দেখেই শোয়া থেকে উঠে ফোন টা রিসিভ করলো।
সোলেমান প্লেটে ডিম উঠাতে উঠাতে বলল-

“ কোথায় এখন তুই?”
“ হোটেলে। ”
“ হোটেলে থাকার জন্য বের হয়ে গিয়েছিলি নাকি?”
“ রাখলো না তো সাথে। বাবা চড় মারলো কেনো আমার বউ কে? এত সাহস হয় কি করে? তুমি কিছু বলো নি?”
“ আমি বুঝবো কি করে তোর বাপ চ’ড় মেরে বসবে? কথা বলার সাথে সাথেই মে’রে বসলো। যাইহোক এটাই লাস্ট চান্স। মাহি তোকে না মানলে আর জ্বালাস না মেয়েটাকে। তার মতো তাকে থাকতে দে। ”
“ রেস্টুরেন্টের বিষয়টা কি হলো?”
“ তুলে নিয়ে এসেছি ছেলেটা কে। ”
“ ভালো করছো। আমার বউয়ের নামে মিথ্যা কথা বলা! পাছার হাড্ডি একটাও রাখবো না আমি এজওয়ান। ”
“ আমি করার পর শরীরে কিছু অবশিষ্ট থাকলে কেনো নয়?”
“ আচ্ছা ভাবির খেয়াল রেখো। আশা করি এই ঘটনার পেছনে কে আছে তাকে খুব শীগ্রই ধরতে পারবো আমরা। আবার মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং ও হতে পারে। কারন নতুন ব্রাঞ্চ, অনেকেই খাবার অর্ডার দিয়েছিল। ”
“ ভুল ভ্রান্তি এসব তো আমার দেখার বিষয় না। ওর ভুলের জন্য আমার বউ বাচ্চা সাফার করবে, এটা আমি মেনে নিব? যাই হোক রাখছি। নিজের কাজ গুলো মনোযোগ দিয়ে কর। ”

সোলেমান ফোন কেটে খাবার টা নিয়ে মেহরিনের রুমে চলে গেলো। রুমাইসা কে নিয়ে বাশার সুলতান হাঁটতে বেরিয়েছে। যেহেতু মেয়েদের একা বের হওয়া নিষেধ। সেজন্য বাশার সুলতান নীলক্ষেত আসলো হাঁটতে হাঁটতে। নতুন বইয়ের গন্ধে মন ভরে আসে। বাশার সুলতান বইয়ের দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল-
“ বই কিনবি রুমু?”
রুমাইসা বই গুলো দেখতে দেখতে বলল-
“ হু কেনাই যায়। ”
“ তাহলে কিন। ”
রুমাইসা একটা একটা করে তুলে নিয়ে দেখছিলো। ডান পাশের সারিতে একটা ইংরেজি নোভেল দেখে সেটা হাত বাড়িয়ে নেওয়ার সময় আচমকা একজন এসে বইটা হাতে তুলে নিলো। রুমাইসা মাথা উঁচু করে দেখে বলল-

“ আপনি!”
তেহরান পরিচিত গলার স্বর শুনে পাশ ফিরে রুমাইসা কে দেখে বলল-
“ আরে বেয়াইন আপনি! আপনি নিবেন বইটা? আচ্ছা নিন তাহলে। ”
“ না থাক নিব না। আমি অন্যটা নিচ্ছি। ”
রুমাইসা দোকানদার কে জিজ্ঞেস করে বলল- বইটার আরেক কপি আছে কি না। দোকানদার জানালো আর নেই।
তেহরান কথাটা শুনে বলল-
“ বইটা আপনিই নিন বেয়াইন। বইটা অনেক সুন্দর। সুন্দর মানুষের হাতে সুন্দর বই-ই মানায়। ”
“ না দরকার নেই। কারো জিনিস আমি নেই না। ”
আসলেই বইটা অনেক সুন্দর। তবে তেহরান যেহেতু নিতে চেয়েছিল সেজন্য আর নিলো না রুমাইসা। বাশার সুলতান ডাকতেই রুমাইসা চলে গেলো। তেহরান বইটার দাম পে করে চলে গেলো ভার্সিটির দিকে।

ডিজিএফআইয়ে আজ অনেক দিন পর Aj এসেছে। ডিজিএফআইয়ের প্রধান আনিসুল হকের সাথে কথাবার্তা বললো। রিসেন্ট তারা একটা মেয়ে পাচারকারী গ্যাং কে ধরেছে। তার সব নকশা Aj করে দিয়েছিল। Aj বাহির থেকেই তাদের সব সাহায্য করে। তবে আজ তাকে খুব নরম আর চুপচাপ দেখে একটু অবাকই হলো সকলে। কথায় কেনে রাগ আর আদেশের ছাপ নেই। গুরুত্বপূর্ণ এক মিটিং শেষে আলাদা কক্ষে নিয়ে আনিসুল হক জিজ্ঞেস করলো-
“ আর ইউ ওকে Aj? ”
Aj ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দিলো –
“ ইয়াহ্ অ্যাম অলওয়েজ ওকে। ”
“ খুব ঠান্ডা লাগছে আজ তোমায়। তোমাকে তো অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে। মনে আছে সেটা?”
“ হুম। ”
“ তারজন্য প্রিপারেশন নাও। আর শুনেছো অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষক একটা অ্যাপ্স আবিষ্কার করেছে?”
“ হুম শুনেছি। ”
“ তার সাথে কথা বলতে হবে আমাদের। ”
“ কে আবিষ্কার করেছে জানা গেছে? যতদূর জানি আবিষ্কারক সম্মুখে আসে নি। ”
“ সামনে একটা অ্যাওয়ার্ড ফাংশন আছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি তখন রিভিল হবে। ”
Aj ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে।
“ ওহ আচ্ছা তো আমরা সেই এপ্সের এক্সেস চাইলেই উনি কেনো দিবে আমাদের?”
“ সেটার জন্য তোমাকে তাকে কনভিন্স করতে হবে। দেশের জন্য এটুকু তো করতেই হবে। ”
“ ওকে আই উইল ট্রাই। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে আমি ফ্রী আছি। আমাকে এখন যখন তখন ডাকতে পারেন। ”
“ দরকার হলে অবশ্যই ডাক দিব। ”
“ এখন আসছি তাহলে। ”

Aj চলে গেলো। আনিসুল হক নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। একমাত্র তিনিই জানেন এই Aj আসলে মেয়ে নাকি ছেলে। আর সে আসলে কে।
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে কলেজে এসেছে। ক্লাসের লুচু মেয়ে গুলোর লুচ্চামি করা স্বভাব এখনও বন্ধ হয় নি। সেদিন বাপ ডাকিয়ে ছাড়লো। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলো তারপরও শিক্ষা হয় নি। সোলেমানের পেজের পোস্ট ছবির নিচে কিসব কমেন্ট করে। ব্লক করলে আবার নতুন আইডি খুলে। সোলেমান ভুল করেও মেসেঞ্জারে ঢুকে না। ভাগ্যিস মেহরিনের ফেসবুক আইডি নেই। নইলে এরা মেহরিনের আইডি তে গিয়েও ফাতরামি করতো। আর বউ তখন রেগে বোম হয়ে থাকতো। ক্লাস করানোর সময় অনেক টাইটের উপর রাখে সোলেমান স্টুডেন্ট গুলো কে। বাদ পড়ে না মেহরিনও। এত কঠিন কঠিন প্রশ্ন করে যে বলতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে। আবার না পারলে দাঁড়া করায় রাখে। আর মেহরিন যেদিন পারে সেদিন বাকিদের কানে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে।
সোলেমান সব ক্লাস শেষ করে গাড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলো মেহরিনের। মেহরিন গেট থেকে বের হয়ে হেঁটে আসছিলো। রাস্তার ধারেই পাশে বাইকের উপর দাঁড়িয়ে ছিলে কয়েকটা বখাটে ছেলে। মেহরিন তাদের ক্রস করে যাওয়ার সময় ছেলে গুলে শিস বাজিয়ে উচ্চ আওয়াজে বলতে লাগলো-
“ চুমকি চলেছে একা পথে। সঙ্গি হলে দোষ কি তাতে? ঐ বোরকা পড়া মেয়ে পাগল করেছে। ”
এমন হাবিজাবি গান গাইতে গাইতে মেহরিনের দিকে উড়ন্ত চুমু ছুঁড়ে দিলো। মেহরিন অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো। রাগে শরীর পুড়তে লাগলো। এড়িয়ে চলে যেতে চাইলে ছেলে গুলো এসে সামনে দাঁড়িয়ে পরে। মেহরিন একবার তাকিয়ে আবাড পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলে তারা হাত আঁটকে যেতে দিলো না। মেহরিন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল-

“ সমস্যা কি? পথ আটকাচ্ছেন কেনো?”
ছেলে গুলোর মধ্যে একজন বলল-
“ ইউ মেহরিন তাবাসসুম? ”
মেহরিন অবাক হলো।
“ নাম জানলেন কি করে আমার?”
“ খোঁজ নিয়ে। তোমার স্বামী তো সামিরের হাত কে’টে নিয়েছে। তোমার নিকাব টেনে ধরায়। তো আমরাও দেখতে চাই তোমার স্বামী আমাদের কি করে। ”
কথাটা বলেই ছেলেটা মেহরিনের মুখের নিকাব টান দিয়ে ধরতে আসলে মেহরিন খপ করে হাতটা ধরে পেছনে মুচড়ে বলে-
“ আমার স্বামী ঐ ছেলের হাত কে’টেছে? বেশ করেছে। আমি মেহরিন তাবাসসুম হলে ওর কলিজা টেনে বের করে নিয়ে আসতাম আমাকে ছুঁতে চাওয়ার মতো দুঃসাহস দেখানোর জন্য। ”
ছেলেটা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। আরেকটা ছেলে মেহরিনের দিকে তেড়ে আসতে চাইলে মেহরিন এই ছেলেটা কে ছেড়ে দিয়ে ঐ ছেলের গালে সজোরে একটা চ’ড় বসিয়ে বলল-
“ খবরদার এই দুঃসাহস যেন দ্বিতীয় বার করতে না দেখি। শরীর টা খারাপ বলে জাস্ট চড়ের উপরে রেখেছি। শরীর খারাপ না হলে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে এখন পেটাতাম। আমি যেমন নরম তেমন গরম। গালটা নির্ঘাত আজ রাতে ফুলে যাবে। হাত নরম হতে পারে আমার। তবে এই হাতের চ’ড় নয়। ফারদার আমার সামনে আসবি না। আসলেও চোখ তুলে অন্তত কথা বলবি না। দেখে তো ভদ্র ঘরেরই মনে হয়। তা ঘরে মা বোন নেই? ”

“ মা বোন তুলে কথা বলবি না। ”
কথাটা বলার সাথে সাথে মেহরিন আবার চ’ড় লাগালো।
“ অন্যের মা বোনের সাথে অশ্লীল কাজকর্ম করতে আসার সময় এই কথা মাথায় ছিলো না? পারিবারিক শিক্ষার কি অভাব আছে? জাস্ট আর একবার আমার পথ আটকিয়ে দেখা, একজনও সোজা ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবি না ঐ পা নিয়ে। কেউ আমাকে অসম্মান করবে,আমার পর্দা নিয়ে টানাটানি করবে তাকে কি আমি ছেড়ে দিব? বন্ধুর পথে চললে বন্ধুর তো হাত কেটে নিছে তোদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে। যাতে ঐ চোখ দিয়ে আর কোনো নারী কে দেখা তো দূরে থাক। ছুঁতে গেলেও দশ বার ভাবিস। ”
সোলেমান এবার গাড়ি থেকে বের হলো। এতক্ষণ ভেতরে থেকে বউয়ের কার্যকলাপ দেখছিলো। এই না হলে সিংহের বউ! পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ফোন করে ছেলে গুলোর ছবি পাঠিয়ে দিলো। সাথে বলে দিলো রাতের মধ্যে তাদের আমার চাই।
সোলেমান কে দেখামাত্রই ছেলে গুলো হন্তদন্ত হয়ে বাইকে উঠে চলে গেলো। মেহরিনের মেজাজ সপ্তম আকাশে। এগিয়ে এসে সোলেমানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-

“ বউকে হ্যারাস করছিলো কতগুলো ছেলে মিলে আর আপনি গাড়ির ভেতর বসে ছিলেন বাবু হয়ে! ”
সোলেমান গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলল-
“ কলিজা মাপছিলাম আমি। ”
“ কার?”
“ ওদের। মেবি দশ হাত তাই না? ছোট করতে হবে। ”
মেহরিন গাড়িতে উঠে বসে বলল-
“ সামির ছেলেটার হাত কে’টে ছিলেন?”
সোলেমান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল-
“ না তো। জাস্ট ব্লেন্ডারে হাতটা চেপে ধরেছিলাম। যা করার ব্লেন্ডারই করেছে। আমি কিছু করি নি। ”
“ কিহ! ”
মেহরিনের চোখ বড় বড় হয়ে আসলো।
“ অবাক হলে মনে হয়? তুমি তো শুনলাম কলিজা টেনে বের করে আনতে চেয়েছিলে। ”
আরেহ্ মেহরিন তো কথার কথা বলেছিল। তাই বলে কি সত্যি সত্যি কলিজা টেনে বের করতো নাকি!

সন্ধ্যার পর একটা কাজ সেরে মাহি তার অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে। সে মূলত ঐ রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। তবে জানতে পেলো যে খাবারের অর্ডার নেয় সেই ছেলে আজ আসে নি। দ্যান ফিরে আসতে হলো। পেলে কয়কটা চড় থাপ্পড় মারতো।
আজকে বিকেলের পর থেকে আকাশ টা মেঘলা হয়ে আছে। হয়তো ঝড় আসবে রাতে।
অ্যাপার্টমেন্টের গেটের সামনে আসতেই দেখা মিললো এজওয়ানের। এজওয়ান মাহির ফেরার অপেক্ষা করছিলো। দারোয়ান তো ঢুকতে দিবে না আর। মাহি কে দেখেই সে এগিয়ে আসতেই মাহি বলল-
“ আপনি আবার আমার অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসেছেন! আমি বলেছিলাম না, না আসতে?”
“ কেমন আছো তরিকুলের বেটি? আজ সারাদিন তোমাকে দেখি নি। অস্থির লাগছিলো। ”
মাহি মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে বলল-
“ আপনি এখানে কেনো এসেছেন?”
“ বললাম তো,তোমাকে দেখতে। ”
“ দেখা শেষ এখন চলে যান। ”
“ তুমি বললেই আমাকে শুনতে হবে? ”
“ অবশ্যই। ”
“ কখনই না। তোমার কথা শুনে তো তোমাকে চাওয়া বন্ধ করি নি। আর না করেছি ভালোবাসা বন্ধ। তাহলে এটা কেনো শুনবো? ”
“ এবার অন্তত আমাকে দয়া করুন। আমাকে চাওয়া বন্ধ করুন। আর ফিরে যান সুলতান নিবাসে। আমার পিছনে পড়ে থেকে তো কোনো লাভ নেই। যেখানে দেড় বছরেও আপনাকে আমার পছন্দ হয় নি। সেখানে এখন তো আরো পছন্দ হবে না।

“ আমার কিন্তু তোমাকে ভালোবাসার কথা ছিলো না। তারপরও আমি আমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাকে ভালোবেসেছি। আমার বিশ্বাস একদিন তুমি আমাকে খুব পছন্দ করবে। আমাকে ভালোওবাসবে। আর খুব করে আমাকে চাইবে। আর সেটাও হৃদয়ের বিরুদ্ধে গিয়েই। কারন আমরা কেউ হৃদয় কে কন্ট্রোল করতে পারি না।”
মাহি তাচ্ছিল্যের সহিত বলল-
“ সিরিয়াসলি আমি আপনাকে পছন্দ করবো! আবারও ভালোও বাসবো! জীবনেও না। এই চিন্তা মাথাতেও আনবেন না ভুল করে।”
“ এতটা কনফিডেন্স নিয়ে বলার কি দরকার? যদিও তুমি হেরে যাবে। তারপরও খারাপ লাগে শুনতে।”
“ তাহলে আবার বলছি। আপনাকে আমার পছন্দ না। কস্মিনকালেও পছন্দ হবে না। ভালোবাসা তো দূর কি বাত। যান বাড়ি যান। ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিব,সাইন করে দিবেন। তারপর বাপের কথা মতো ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিবেন। আসছি। আমার অ্যাপার্টমেন্টের আশেপাশেও যেন না দেখি আর। ”
“ যাব না আমি কোথাও। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো।”
“ থাকুন তবে। ”
মাহি চলে গেলো। এজওয়ান ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো। মাহি নিজের রুমে ঢুকে একটা ডিম সেদ্ধ করে সাথে ব্রেড নিয়ে খেয়ে শুয়ে পড়লো।

মধ্য রাতে সোলেমান এসেছে গোডাউনে যেখানে সেই ছেলে আর রেস্টুরেন্টের ছেলেকে বন্দি করে রেখেছে। রেস্টুরেন্টের ছেলেটাকে খুব মারা হয়েছে তবে সে বারবার বলেছে মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং ছিলো। সেম খাবার আরেকজনও অর্ডার দিয়েছিল। আর তার নামও মাহি ছিলো। শুধু ভিন্ন ছিলো পায়েসে। সোলেমান রেস্টুরেন্টের সেই ছেলেকে শেষে নিজ খরচে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছে। এখন বাকি আছে কলেজের বাহিরে অসভ্যতামি করা ছেলে গুলো। সোলেমান কোনো কথায় আসলো না। সোজা হাত টেনে হাতুড়ি দিয়ে অনবরত শুধু মারতে লাগলো। ছেলেগুলো যেন চিৎকার করতে না পারে সেজন্য মুখে কাপড় বাঁধা। হাত একদম থেঁতলে দেওয়া শেষে বড় সুই এনে দু চোখে বিঁধে দিলো। মরণ যন্ত্রণা কাকে বলে সোলেমান হারে হারে বুঝিয়ে দিচ্ছে। যারা ভালো তাদের জন্য সোলেমান প্রাণ অব্দি দিয়ে দিবে। কিন্তু কেউ তার কলিজায় হাত বাড়ালে,খারাপ হলে, দোষ করলে তাকে তো বাঁচতে দিবে না। শেষে অর্ডার দিলো দেহ গুলো জীবিত জ্বালিয়ে দিতে। বাশার সুলতান তাই করলো। একটা কক্ষে নিয়ে জ্যান্ত পু’ড়িয়ে মারলো।
বাশার সুলতান হাত ধুয়ে এসে বলল-

“ এক মেয়ের জন্য আর কত খু’ন করবি তুই সোলেমান?”
সোলোমন ছুরি ধার দিতে দিতে বলল-
“ পৃথিবীর ৪.০৩২ বিলিয়ন পুরুষ যদি এখন আমার বউয়ের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আমার বউকে ভালোবাসার চেষ্টা করে তাহলে আমি নওয়াজ সোলেমান সুলতান তো সব ক’টাকেই মেরে ফেলার চেষ্টা করবো।”
“ হাঁপিয়ে গেলাম তো বাপ লা’শ লুকাতে লুকাতে। এই মৃ’ত্যু নিয়ে খেলার কি কোনো শেষ নেই ?”
সোলেমান ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো বাশার সুলতানের দিকে।
“শেষ? আমার বউয়ের ব্যাপারে শেষ বলে কিছু নেই। সব আনকাউন্টেবল। আমার বউয়ের দিকে তাকানোর অধিকার আমি ব্যতিত আর কারোর নেই।”
“ তোর বউ যেদিন জানবে তুই একজন খুনি। সেদিন কি হবে ভেবে দেখেছিস? ”
“সে কোনোদিন জানবে না এটা। আমি জানতে দিবই না।আমার বউয়ের চোখে আমি একজন আদর্শ স্বামী তার জন্য নিরাপদ আশ্রয়। আর সেটাই চিরন্তন সত্য হয়ে থাকবে। এখন কেউ যদি এই সত্য টাকে মিথ্যা বানানোর চেষ্টা করে তাহলে কসম সবগুলোর বেঁচে থাকাকে হালাল থেকে হারাম করতে আমি ন্যানো সেকেন্ডও নিব না। নিকৃষ্ট হওয়া কাকে বলে,কত প্রকার ও কি কি তা আমি হাড়েহাড়ে বুঝিয়ে দিবে সবাইকে। সেটা তুমি হলে তুমিও পাবে না ছাড়। ”
বাশার সুলতান মুখ বাঁকিয়ে বললো –

“ আমার কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে আমি বলতে যাব?”
“ কথার কথা বললাম এই আর কি। ”
বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে বজ্রপাত ও হচ্ছে। মাহি ঘুমানোর আগে জানালা লাগাতে ভুলে গিয়েছিল। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছিটা আসতেই ঘুম ভেঙে গেলো। বিছানা ছেড়ে উঠে জানালা লাগাতে গিয়ে বাহিরে চোখ যেতেই চমকে উঠলো। ল্যাম্পপোস্টের ঘোলটে আলোয় দেখা যাচ্ছে এজওয়ান বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি তার মাহির রুমের জানালার দিকে। মাহির কি যে রাগ হচ্ছে এজওয়ানের উপর তা বলার বাহিরে। এভাবে বৃষ্টিতে এই ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কি মানে? একটা বজ্রপাত যদি তার মাথায় এসে পড়ে তখন? হিরোগিরী শুধু সব জায়গায় ছাগল টার। মাহি আলমারি খুলে ছাতা নিয়ে বের হলো। এজওয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ আমি তো চলে যেতে বলেছিলাম এজওয়ান। এই ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে ভেজার কি মানে? আবার আপনার বাবার হাতে আমাকে চ’ড় খাওয়ানোর ইচ্ছে হয়েছে আপনার?”
“ বাবার আর সাহস হবে না তোমার গায়ে হাত তোলার। এই গ্যারান্টি আমার। ”
“ তাহলে চলে যান। ”
“ না। ”
“ কেনো?”
“ ভালোবাসি যে তোমায় সেজন্য। ”
মাহি জাস্ট স্পিচলেস হয়ে গেলো।
“ আপনি এখনও আমার জন্য এত পাগল কেনো এজওয়ান! এত কষ্ট দেওয়ার পরও কি করে একটা মানুষ পাগলের মতো এতোটা ভালোবাসতে পারে! আমি আপনার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নই। বুঝুন একটু। আমি তো শুধু দুঃখ দেই আপনাকে। ”

এজওয়ান মাহির গালে হাত রেখে বলল-
“ দুঃখ দাও, কষ্ট দাও,যা ইচ্ছে হয় তাই দাও। আমি না হয় তোমার দেওয়া সেই দুঃখ গুলোকেই সুখ ভেবে আপন করে নিব তরিকুলের বেটি। ”
মাহি গাল থেকে এজওয়ানের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ অন্ধ হয়ে গেছেন ভালোবাসায়?”
“ হুমম। বাট তুমি এতটা পাষাণ কেনো হচ্ছো মাহি? একটু থাকতে দাও না তোমার সাথে। তুমি জানো? বাবা আর ভাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিছে। একটা টাকাও নেই। ভাইজান আমার সব ব্যাংক একাউন্ট ব্লক করে দিছে। কোথায় থাকবো বলো? তুমি আশ্রয় না দিলে আমাকে এভাবেই রাস্তায় রাস্তায় কাটাতে হবে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে। ”
“ সেজন্য কি এখন আমাকে জ্বালিয়ে মারবেন? আর আপনাকে নিবাস থেকে বের করে দিছে নাকি নিজে বের হয়ে এসেছেন নিজ থেকে?”
“ না বের করে দিছে। তোমার হয়ে একটু কথা বলছিলাম সেজন্য বউয়ের নেউটা বলে যা নয় তাই বললো। আমি এই অপমান মেনে নিতে পারি নি। অনেক কষ্ট পাইছি। ভাইজান মা’রতে আসছিলো আমায়। জানো তো আমি ভাইজান কে কতটা ভালোবাসি। আমি মানতে পারি নাই ভাইজান আমাকে মারছে। গালে চপাট চপাট দুটো চড় দিছে। এখন আমার তুমি ছাড়া কেউ নাই। বাপের সাথেও রাগারাগি করে আসছি। ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে। ঝড় বৃষ্টি তে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে সে নিজেও ভিজে যাচ্ছে।
“ আচ্ছা ঠিক আছে,যেহেতু আপনার এখন যাওয়ার জায়গা নেই তাই আমি আপনাকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে এক সপ্তাহের জন্য থাকতে দিব। তারপর চলে যাবেন। তবে শর্ত আছে। আর আমার সব শর্ত আপনাকে মানতে হবে।”
“ তুমি যা শর্ত দিবে আমি তাই মেনে নিব। ”

“ ভেবে বলছেন তো? পরে রুমে নেওয়ার সাথে সাথে পাল্টি খেলে মাথা ফাটায় দিব বলে রাখলাম। ”
“ বিশ্বাস করতে পারো আমায়। তোমার অবাধ্য হবো না আমি।
“ আগামী এক সপ্তাহ ভদ্রলোকের মতন থাকবেন।কোনো অসামাজিক কাজকর্ম করবেন না আমার সাথে। ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। ঠোঁটের উপর তর্জনী ঠেকিয়ে বলল-
“ অসামাজিক কাজকর্ম বলতে কোন গুলো কে বুঝাচ্ছো তরিকুলের বেটি?
“ আমি যা মিন করেছি,আপনি তা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারছেন। যেহেতু এখনও আমরা স্বামী স্ত্রী। ”
“ আচ্ছা দিনে আমি তোমাকে জ্বালাবো না। সব কথা শুনবো। তুমি হাগতে বললে হাগবো। মুততে বললে মুতবো। ওকে? তবে আমারও কিছু চাই এর বিনিময়ে। ”
“ আপনার আবার কি চাই?”
“ রাত টা চাই। আমার শুধু রাতটা চাই। সেই সময় টুকুতে আমি তোমাকে যেভাবে চাইবো, যেখানে চাইবো,যতটা চাইবো। সবটা দিবে। দিনে আমি তোমার আর রাতে তুমি আমার। ডিল ফাইনাল?”
মাহি উল্টো হাঁটা দিতে দিতে বলল-

“ খবিশ কোথাকার। খেতে দিলে শুতে চায়। শুতে দিলে ওসব চায়। ”
এজওয়ান মাথার পেছনে চুলকে বলল-
“ আসবো কি?”
“ আসুন। ”
এজওয়ানের খুশি দেখে কে! ব্যাটা পেছনে নাগিন ডান্স দিতে দিতে চলে আসলো। মাহি রুমে এসে এজওয়ানের হাতে টাওয়াল দিলো। সেই সাথে এজওয়ানের আগের জামাকাপড় গুলো বের করে দিলো। এজওয়ান সেগুলো নিয়ে ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আসলে মাহি বলল-
“ এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ডিভোর্স পেপার চলে আসবে। আশা করি আপনি সাইন করে দিয়ে চলে যাবেন। ”
এজওয়ান হাই তুলতে তুলতে বিছানায় উপর হয়ে দু হাত পা মেলে শুয়ে হাই তুলতে তুলতে বলল-
“ আগে পেপার তো আসুক। তারপর যা করার দরকার হয় আমি সব করবো। ”

পরের দিন সুলতান নিবাসে একটা পার্সেল আসলো রুমাইসার নামে। পার্সেল টা বাতাসি রিসিভ করলো রুমাইসা ওয়াশরুমে থাকায়। রুনাইসার রুমেই বাতাসি থাকে এখন। দুজন মিলে এখন পার্লারে যায়,স্কিন কেয়ার করে। বাতাসির শরীরের স্কিন অনেক টা পরিষ্কার হয়ে গেছে আগের তুলনায়। তবে ফর্সা হয় নি। ফর্সার কোনো প্রডাক্ট বাতাসি ইউজ করে না। সে হবে না ফর্সা। এই গায়ের রং টা কেই ভালোবাসতে শুরু করেছে। ইয়াসিন উপর থেকে দেখলো বাতাসি পার্সেল রিসিভ করেছে। বাতাসি পাশ দিয়ে যেতেই জিজ্ঞেস করলো-
“ কে পাঠিয়েছে?”
বাতাসি যেতে যেতে বলল-
“ জানি না। ”

দাহশয্যা পর্ব ৮৮ (২)

আসলেই বাতাসি জানে না কে দিয়েছে। নামটাও দেখে নি। অন্যের পার্সেল সে কেনো দেখবে। ইয়াসিন নিচে এসে ঐ ডেলিভারি ম্যান কে জিজ্ঞেস করলো – কে পাঠিয়েছে। ডেলিভারি ম্যান জানালো- তূর্ণ নামের এক ছেলে।
ইয়াসিনের সটান থাকা কপালে এবার দুটো ভাজ পড়লো। তূর্ণ টা আবার কে?
রুমাইসার গোসল শেষ হলে বাহিরে এসে জামাকাপড় গুলো ছড়িয়ে দিয়ে পার্সেলের উপর নাম টা দেখে চমকালো। বজ্জাত ব্যাটা কি পাঠিয়েছে এতে? বজ্জাত ব্যাটা সামনে আসে না কিছু না। আবার গিফট পাঠিয়েছে! রুমাইসা খুলতেই একটা বই পেলো। সাথে চকলেট আর গোলাপ ফুল আর একটা সুন্দর নীল চিরকুট। এটা সেই বই যেটা গতকাল নীলক্ষেত থেকে কেনা হয় নি। তেহরান নিয়ে নিয়েছিল। রাতে অবশ্য বিষয় টা তূর্ণ কে সে জানিয়েছিল। তবে সে যে সত্যি সত্যি এই বইটা পাঠিয়ে দিবে রুমাইসা তা একটুর জন্যও ভাবতে পারে নি। সাথে সাথে ফোনে মেসেজ আসলো-
“ এবার আর অপেক্ষা করাবো না তোমায় প্রিয়তমা। আমাদের দেখা হবে এবার সামনা-সামনি। আমাকে দেখার পর আবার রিজেক্ট করে বসো না যেন? কষ্ট পাবো তাহলে। ”

দাহশয্যা পর্ব ৮৯