Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১২
ছায়া

সেই শেষ মেসেজের পর শাওনের সাথে যোগাযোগ অফ হয়ে গেলো। “You can’t message this person anymore” এই কয়েকটা শব্দ যেন ইলার বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে রইলো। বিকেল বেলা থেকে ইলা মন খারাপ করে বসে আছে পরিকেও কিছু বলতে পারছে না। পরি গালি দিবে তাই। রাত নেমে এলো ইলা পড়ার টেবিলে বসে শাওনের কথা ভাবছে। কেনো শাওন বার বার ইলাকে এভাবে ব্লক করে দেয়।সারারাত ইলা ঘুমাতে পারেনি জানালার পাশে বসে ছিলো, চাঁদের আলোয় কাঁপতে থাকা মুখে শুকনো অশ্রু।
পরের দিন সকালে শাওন নিজের ব্যাগ গুছাচ্ছে ব্যাগ গুছিয়ে সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো এমন একটা ভিডিও পোস্ট করেছে।
সেদিন বিকেলেই শাওন বাসার মানুষজনকে না জানিয়ে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলো। বাসের জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে চলন্ত গাছপালা, মেঘলা আকাশ, আর তার ভেতরের অন্ধকার শাওন একটা ভিডিও আপলোড করলো ক্যাপশনে লিখলো “ব্লক করে দিলে অথবা কথা অফ করে দিলে ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় না”

অন্যদিকে তালুকদার বাড়ি ইলার চোখ লাল হয়ে গেছে সারারাত ঘুম হয়নি মুখটা ফ্যাকাশে লাগছে।বাড়ির সবাই ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উঠোনে কোলাহল কেউ কাপড় ইস্ত্রি করছে কেউ বাজারের লিস্ট লিখছে। কিন্তু ইলা চুপচাপ নিজের রুমে বসে আছে। পরি দরজায় টোকা দিয়ে ঢুকলো হাতে গরম চা।
পরিঃ- এই নে চা খা তোকে দেখলে মনে হয় ভূত দেখেছি।
ইলা মৃদু হাসলো কিন্তু সেই হাসিটা চোখে পৌঁছালো না পরির, পরি চা খেতে খেতে ইলাকে জিগ্যেস করলো
পরিঃ- তোর কি হয়েছে রে সকাল থেকে দেখছি মুখে রঙ নাই কিছু খাসও না।
ইলা চুপ কণ্ঠে ভারি নিঃশ্বাস ইলা ভাবছে পরিকে বলবে কি বলবে না তবুও সাহস করে বলল
ইলাঃ- পরি কেউ কাউকে ভালোবাসলে ভুলতে পারে না কেনো?
পরিঃ- তুই প্রেমে পড়ছিস নাকি?
ইলাঃ- যে মানুষ নিজের কষ্টে বাঁচে তাকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
পরি হালকা বিরক্ত গলায় হলো পরি বুঝতে পারলো ইলা কার কথা বলছে পরি বিরক্ত কন্ঠে বলল
পরিঃ- তুই যার কথা বলছিস তাতে তো প্রেম না ব্যথা বেশি।
ইলাঃ- ঠিক তাই আমি শুধু ব্যথা পাই এখন।

দিন কেটে যাচ্ছে ইলা নিজের মত চুপ হয়ে গেছে কারো সাথে তেমন কথা বলে না। ইলার এই পরিবর্তন সাবিহা ঠিক লক্ষ করেছে রাশেদ ও তাই। এভাবে ঈদের দিন এগিয়ে আসলো
ঈদের আর ১ দিন বাকি বাড়িতে সাজসজ্জা, বাজার, হাসাহাসি, পরি মেহেদির ডিজাইন ঠিক করছে। কিন্তু ইলা যেন ওই বাড়িরই না। ইলার মা যতই বলুক
সাবিহাঃ- ইলা তুই মেহেদি পড়বি না?
ইলা শুধু মাথা নাড়ে ঠোঁট বন্ধ রাখে বিকেল পরি, বড় মা, মেঝো মা সবাই বসেছে উঠোনে, হাতে মেহেদি, হাসাহাসি চলছে। মিষ্টির গন্ধে ভরে গেছে পুরো বাড়ি পরি হাসতে হাসতে বললো,
পরিঃ- ইলা আয় না তোর হাতেও মেহেদি দিই,এই ডিজাইনটা দেখ নতুন সবাই দিচ্ছে।
ইলাঃ- আজকে আমার মেহেদি পড়তে ইচ্ছা করছে না।
পরিঃ- পাগল হইছিস নাকি ঈদের আগের দিন মেহেদি না পরলে চলে?
ইলাঃ- যে মানুষের মনে রঙ নেই তার হাতে রঙ মানায়?
সবাই কিছুক্ষণ চুপ হয়ে গেলো ইলার কথা শুনে বাড়ির ছোট মেয়ের মুখে এমন কথা কেনো কে ওর মন ভেঙেছে এভাবে বড় মা বললো,

তাসলিমাঃ- কি বলছিস রে তুই এমন কথা মুখে আনিস না।
ইলা হালকা হাসলো চোখ নামিয়ে বললো,
ইলাঃ- না বড় মা আমি ঠিক আছি তোমরা পরো আমি দেখি।
পরি মেহেদি হাতে নিয়ে এগিয়ে এলো,
পরিঃ- একটা ফুল আঁকি তোর হাতে ভালো লাগবে।
ইলা ধীরে করে হাত সরিয়ে নিলো,
ইলাঃ- না পরি আজ আমার হাতে ফুল নয় মনে দাগই মানায়।
বাতাসে থেমে গেলো হাসির শব্দ কোণার দিকে বসে থাকা ইলার মুখে চাঁদের মতো এক বিষণ্ণ আলো।তার চোখে কেবল শাওনের সেই শেষ লাইন “তুমি দেরি করে ফেলেছো এখন শুধু নীরবতাই আমার সঙ্গী।
ওইদিকে গ্রামের বাড়িতে বসে শাওন নিঃশব্দে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে মোবাইলটা হাতে মনে মনে বলছে, “ও হয়তো এখন মেহেদি পরছে হাসছে বন্ধুদের সঙ্গে।
আকাশের একই চাঁদ এক প্রান্তে শাওনের নিঃশব্দ কষ্ট আরেক প্রান্তে ইলার শুকনো চোখের জল।দুইজনের মাঝখানে নীরব ঈদের চাঁদ যে জানে না ভালোবাসা কখনো দূরত্বে হারায় না শুধু নীরব হয়ে যায়।
ঈদের দিন সকাল সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে পুরো তালুকদার বাড়ি।উঠোনে ঝাড় দেওয়া হয়েছে নতুন পর্দা টাঙানো রান্নাঘরে কোরবানির গরুকে গোসল করানো হচ্ছে।
সবাই ব্যস্ত,হাসিখুশি পরিবেশ, কিন্তু এক কোণে বসে আছে ইলা নীরব, গম্ভীর, নিজের মতো হারিয়ে যাওয়া এক মেয়ে।

আজ তার গায়ে ঈদে কেনা সাদা জামা, চুলে খোপা, হাতে সাদা চুড়ি।সাজগোজ সুন্দর, কিন্তু মুখে কোনো হাসি নেই।পরি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে হেসে বললো,
পরিঃ- কি রে ইলা আজ ঈদ তুই এখনো ঐ মরা মুখ নিয়ে বসে আছিস?
ইলা মৃদু হাসলো মুখে কষ্টের ছায়া
ইলাঃ- সবাই তো খুশি আমারও খুশি থাকা উচিত… কিন্তু কেন যেন পারছি না।
পরি কাঁধে হাত রাখলো
পরিঃ- শাওনের কথা ভাবছিস তাই না?
ইলা কিছু না বলে চুপ করে রইলো তার চোখে একটু জল টলমল করছিলো। পরি বুঝতে পারলো তার বোনটা আজও মনের ভেতর কোথাও একটা ভার বহন করছে।
ঈদের নামাজের সময় সবাই মসজিদে গেলো ইলা চুপচাপ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। রাস্তায় বাচ্চারা দৌড়াচ্ছে, কেউ সালামি নিচ্ছে কেউ নতুন জামার ঘের দেখাচ্ছে। এই হাসি খুশি দৃশ্যটা যেন ইলার চোখে কাঁটার মতো লাগছিলো। ঠিক তখনই পরি এসে দরজায় দাঁড়ালো,

পরিঃ- এই আয় না নিচে মা ডাকছে ছোটদের সালামি দিতে হবে।
ইলা একটু হাসার চেষ্টা করলো,
ইলাঃ- তুই যা আমি একটু পরে আসব।
পরিঃ- আবার ঐ একই মুখ আজ ঈদ, তোর জন্য আমি নতুন ব্রেসলেট কিনেছি, আর তুই এমন মরা মুখে বসে আছিস?
ইলাঃ- পরি তুই শাওনের নতুন ভিডিও দেখেছিস?
পরিঃ- দেখেছি কিন্তু এখন ঐ ছেলেকে নিয়ে কিছু শুনতে চাই না।
ইলাঃ- একবার দেখা তো কেমন আছে ও এখন।
পরিঃ- না রে ইলা ওকে ভুলে যা। ও এখন অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত নিজের জীবনটা ঠিক করে নিচ্ছে। তুই কেনো নিজেকে এত কষ্ট দিচ্ছিস?
ইলা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলো, ঠোঁট কাঁপছে, চোখে জল জমে আছে।
ইলাঃ- পরি… আমি ভুলে যেতে চাচ্ছি কিন্তু পারছি না। যে মানুষটার হাসি আমি প্রতিদিন শুনতাম আজ তাকে হাসতে দেখতে পারছি না।
পরি চুপ ইলার কণ্ঠে কাঁপুনি প্রতিটা শব্দ যেন ব্যথার সুর।

ইলাঃ- তুই জানিস ওর ভিডিও দেখলেই মনে হয় আমার চোখের সামনে ও আছে।আমি জানি ওর লাইফে অন্য কেউ আছে তবুও আমি চাই ও সুখে থাকুক।
দেখে নিস পরি আমি আর কখনো ওকে মেসেজ করবো না, কিন্তু একবার শুধু একবার ওর হাসিটা দেখতে দে…।পরি দীর্ঘশ্বাস ফেললো তার চোখেও জল চলে এলো।
পরিঃ- তুই যে কেমন মানুষ রে ইলা আমি বুঝি না। যে তোরে এত কষ্ট দিলো তার জন্য তুই এখনো কাঁদিস।
ইলাঃ- সবাই কাঁদে পরি কেউ দেখে না শুধু।
পরি ধীরে ধীরে ফোনটা বের করলো “এই নে দেখ ওর ভিডিও কিন্তু প্লিজ আবার পরে মন খারাপ করে কান্না কিসসিস না। ইলার চোখে হঠাৎ এক অদ্ভুত আলো ফুটে উঠলো মিশ্র আবেগ বেদনা আর শান্তি। ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালো।
একটা ভিডিও চলছে শাওন দাঁড়িয়ে আছে মসজিদের সামনে, চারপাশে বাচ্চারা, হাসছে, মিষ্টি বিলাচ্ছে। ক্যামেরার বাচ্চাদের দিকে তাক করে শাওন বলছে,
শাওনঃ- ঈদ মোবারক সবাইকে আজকে যারা একা আছো মন খারাপ করো না। হয়তো এখন একা কিন্তু কোনো একদিন কেউ আসবে যে তোমাকে এই ঈদের দিন এর মতো সব সময় হাসাবে।
এই কথাগুলো শুনে ইলার বুক কেঁপে উঠলো তার চোখ ভিজে গেলো ঠোঁট কাঁপতে লাগলো ফোনটা বুকে চেপে ধরে বললো,

ইলাঃ- শাওন… আপনি জানেন না আমি কেমন করে আপনার ভিডিও দেখছি।
পরি এগিয়ে এসে ইলার কাঁধে হাত রাখলো ইলাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল
পরিঃ- তুই একদিন ঠিক হাসবি আমি জানি।
ইলাঃ- আমি হাসবো পরি কিন্তু শাওনের সেই হাসিটা মনে রেখেই।
দু’জন কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো বাইরের বাতাসে ঈদের গন্ধ, কিন্তু ইলার ভেতর এখনো একটা অদ্ভুত শূন্যতা।ঈদের দিনটা শেষ হলো কিন্তু ইলার মনে যেন একটা শুরু হলো নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার আর শাওনের ভালোবাসার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকার।
বৃষ্টি ঝরা এক বিকেল আকাশে ঘন মেঘ, বাতাসে হালকা ঠান্ডা ভাব। জানালার বাইরে রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি পড়ছে অথচ ইলার ঘরটা আজও নিঃশব্দ। কয়েক দিন হয়ে গেছে ঈদের সেই দিনটার পর সেই শেষ ভিডিও,সেই শেষ হাসি, আর সেই শেষ কথা এই কয়েকটা সৃতি যেন ইলার বুকের ভেতরে অজস্র সূঁচের মতো বিঁধে আছে। যেন প্রতিটা শ্বাসের সঙ্গে ও শব্দ গুলো গলায় আটকে যায়।
সেদিন থেকে ইলা আর আগের ইলা নেই হাসির বদলে মুখে নিঃশব্দ,প্রাণচঞ্চল চোখে কেবল একরাশ শূন্যতা। রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় না সকালে মুখ ধুয়ে আয়নায় তাকালেই নিজের চোখে কেমন অপরিচিত লাগে। শাওন ইলাকে ব্লক করার পর ইলার আর চেষ্টা করা হয়নি, ইলা নিজ থেকে চায় নি কারণ ইলা যানে ইলার মত হাজার হাজার মেয়ে তার ফ্যান একজন ফ্যান এর জন্য তার কিছু যায় আসবে না।
বাড়ির সবাই ব্যস্ত নিজের মতো কেউ এই নীরব মেয়েটার ভেতরের আগুনটা বোঝে না। পরি এখনো মাঝে মাঝে রাগ করে বলে,

পরিঃ- তোর আবার সেই একই মুখ একটা ছেলের জন্য এভাবে নিজেকে শেষ করে ফেলছিস?
ইলা শুধু মৃদু হাসে কিন্তু কিছু বলে না ওর হাসিটাও এখন ভেতরের কান্না লুকানোর একটা মুখোশ মাত্র। দিন গড়িয়ে সপ্তাহ পার হয়ে গেলো। ইলার মা সাবিহা লক্ষ্য করছে মেয়ে আগের মতো আর কথা বলে না, হাসে না,কখনো জানালার পাশে বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো রাত জেগে বই খোলে আবার একই জায়গায় চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। রাশেদ তালুকদার একদিন এসে বলেছিলো সাবিহার পাশে
রাশেদঃ- সাবিহা মেয়েটা ঠিক আছে তো এই ক’দিন ধরেই দেখি মুখে হাসি নাই।
সাবিহা শুধু নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলো
সাবিহাঃ- মেয়েরা বড় হলে এমন হয় হয়তো একটু সময় দাও ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু ইলার এই নীরবতা সময়ের সঙ্গে গভীর হয়ে উঠলো। যে মেয়েটা একসময় হেসে বাড়ি কাঁপাতো এখন তার মুখে শব্দ নেই শুধু চোখের তলায় কালি আর মুখে হালকা ফ্যাকাশে ভাব।
রাশেদ তালুকদার রুমে এসে সাবিহার পাশে বসলো ইলার পরিবর্তন রাশেদ তালুকদারকে টেনশনে ফেলে দিয়েছে তাই রাশেদ তালুকদার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইলার বিয়ে দিবে। সাবিহার সাথে এই বিষয়ে কথা বলবে রাশেদ কথা শুরু করার আগেই হঠাৎ সাবিহা বলল

সাবিহাঃ- ইলাকে দেখেছো ইলার আব্বু মেয়েটা দিন দিন কেমন মলিন হয়ে যাচ্ছে।
রাশেদঃ- দেখেছি ওর চোখে এখন কেবল শূন্যতা। হয়তো কেউ ওকে কষ্ট দিয়েছে। তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাবিহাঃ- কি ইলার আব্বু কি সিদ্ধান্ত নিয়েছো??
রাশেদঃ- কাল ইলাকে দেখতে ছেলেপক্ষ আসবে। আগের বারের মতো আর কোনো ঝামেলা যেন না করে অকে বলে দিবে।
সাবিহা চুপচাপ সেলাইতে আবার মন দিলো শুধু কিন্তু চোখের কোণে একটুখানি ভয়ের রেখা।
রাতে ডিনার টেবিলে সবাই খাচ্ছে ইলা ভাত নারছে কিন্তু খাচ্ছে না। রাশেদ ইলাকে তখনি কালকের কথাটা বলতে চাইলো কিন্তু সাবিহা বলতে দিলো না।
ডিনার শেষ করে সাবিহা ইলার রুমের কাছে গেলো ধীরে দরজায় টোকা দেয়,
সাবিহাঃ- ইলা ঘুমাসনি এখনো?
ভেতর থেকে নিঃশব্দ গলা “না আম্মু” সাবিহা দরজা খুলে ঢুকে দেখে মেয়েটা জানালার পাশে বসে আকাশ দেখছে। চাঁদের আলো পড়েছে ওর মুখে, নিঃস্পন্দ, নির্বাক।
সাবিহাঃ- শোন ইলা কালকে ছেলে পক্ষ তোকে দেখতে আসবে ।আগের বারের মতো কোনো ঝামেলা যেন না করিস বুঝছিস।

ইলা একটু চমকে তাকালো কিন্তু মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।তার চোখে শুধু ক্লান্ত এক প্রশ্ন কেনো বারবার আমাকে এই জেলখানায় ডুকাতে চাও আম্মু। ইলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল মৃদু কণ্ঠে
ইলাঃ- ঠিক আছে আম্মু টেনশন করিও না আর তোমাদের মানসম্মান নিয়ে খেলবো না।
ইলার মা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো মেয়ের দিকে এমন উত্তর শুনে বের হয়ে গেলো পেছনে দরজাটা বন্ধ করে দিলো। ঘরে নেমে এলো আরও ভারি নীরবতা। জানালার পাশে রাখা বাতিটা নিভিয়ে দিলো ইলা শুধু পর্দার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছে। ইলা মনে মনে বলল
ইলাঃ- আম্মু আমি তো এখন মরে গেছি অনেক আগেই এখন যে আসবে সে একটা খোলস দেখবে শুধু আমার।
রাত তিনটায় বাতাসের শব্দে জানালার পর্দা উড়ছে ইলা এখনো ঘুমায়নি। ড্রয়ার খুলে মোবাইল বের করে পুরনো ছবিগুলো দেখে ভিডিও গুলো দেখে শাওনের সেই হাসি সেই কণ্ঠের টুকরো ভিডিও একটা ভিডিও থামিয়ে রাখে সে
শাওন বলছে,

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১১

“যে মানুষ ভালোবাসে সে কখনো শেষ হয় না।”
ইলার ঠোঁট কাঁপে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। নরম গলায় ফিসফিস করে বলে
ইলাঃ- হায় রে ভয়েজের মায়া আজ এই ভয়েজের জন্য রাত জেগে কান্না করছি।
শাওন তার নিজের জীবন নিয়ে হ্যাপি আছে যে হয়তো জানাও না একজন পাখি তার জন্য প্রতিরাতে কান্না করে। তাকে আল্লাহ কাছে চায়। আবার নিয়েই নিজেকে সান্ত্বনা দেয় আমি তাকে চাইলেও সে হয়তো অন্য কাউকে চায়। সে থাকুক তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৩