Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৮

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৮

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৮
ছায়া

সকালটা বেশ ঠাণ্ডা ঢাবির ক্যাম্পাসের গাছে গাছে শিশিরের ফোঁটা ঝুলে আছে। শহীদ জননী হলের সামনে মেয়েরা সকালের দৌড় দিচ্ছে, কেউ ক্লাসে যাচ্ছে, কেউ লাইব্রেরির দিকে ছুটছে। ইলা জানালার পাশে বসে চা খাচ্ছে চোখে ভোরের আলো, ঠোঁটে হালকা হাসি, কিন্তু ভেতরে একটা দৃঢ়তা।
গত রাতের ঘটনাটা এখনো যেন মাথায় ঘুরছে আরিয়ান তার সেই রাগ,তার সেই গর্জন আর নিজের মুখে জেদে ভরা কথাগুলো।কিন্তু আজ ইলা একটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে “কোনোদিন সেই রাক্ষস লোকটার সামনে যাবে না” সে আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকালো। এক বছর আগের সেই কাঁদুনে মেয়েটা এখন পুরো বদলে গেছে। চোখে সাহস মুখে আত্মবিশ্বাস আর ভেতরে এক অদ্ভুত শান্তি।

পরি বিছানার ওপর চিৎ হয়ে পড়ে আছে হালিমা এখনো হাই তুলছে। ইলা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
ইলাঃ-ওঠ তোরা আটটা বাজে দেরি হয়ে যাবে ক্লাসে।
হালিমাঃ- দোস্ত আমার ক্লাস টা ৯ টায়।
পরিঃ- তুই যা আজকে আমার ভালো লাগছে না আমাওয়া য়া য়া য়া শা য়া য়া য়া য়া য়া য়া য়া য়া হ্লল্লর ঘুম দরকার।
ইলা হাসল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বের হয়ে গেল।শুধু একখানা সাদা কুর্তি নেভি ব্লু জিন্স আর স্নিকার্স। মুখে মাস্ক আর চুল খোলা।
রাস্তার দুই পাশে পাখিদের ডাক চারপাশে একটা প্রশান্ত পরিবেশ ইলা ভাবছে “আমি আমার মতো থাকবো যে কেউ এসে আমাকে মারবে সেটা হতে দিবো না কেউ আমাকে বাঁচাবে না আমি এখন নিজের রক্ষক”
আজ নতুন কোর্সের প্রথম ক্লাস ডিপার্টমেন্টের বড় লেকচার থিয়েটার ভর্তি ছাত্রছাত্রী ইলা সামনের দিকে গিয়ে বসল। পাশেই এক নতুন ছেলে বসে আছে নাম আয়ন । শান্ত চোখ ভদ্র হাসি সে ইলাকে দেখে বলল,

আয়নঃ- আপনি কি ইলা তালুকদার ভাইরাল ভিডিওর হিরোইন?
ইলাঃ- হিরোইন না আমি একজন সাধারণ মেয়ে।
আয়নঃ- সাধারণ মেয়ে এমন থাপ্পড় মারে?
ইলাঃ- মাঝে মাঝে বাঁচতে হলে অল্প কিছু অস্বাভাবিক হতে হয়।
দুজনের হাসিতে সকালটা হালকা হয়ে গেল, ক্লাস শেষ করে ইলা ক্যান্টিনে গেলে দেখতে পায় পরি আর হালিমা বসে খাচ্ছে আছে ক্যান্টিনে।
পরিঃ- ঐ ছেলেটা কে রে সকাল থেকে সবাই বলতেছে তোর সাথে দেখা গেছে তোরা নাকি অনেক হাসা হাসি করছিস।

ইলাঃ- নতুন ক্লাসমেট ছেলেটা শান্ত ভদ্র নাম আয়ন।
হালিমাঃ- মানে আরিয়ান ভাইয়া টাইপ না?
ইলাঃ- আরিয়ান নামটা আর মুখে আনবি না।
তার কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা যে পরি হালিমা চুপ হয়ে গেল। ইলা এখন এমনই।নিজের সিদ্ধান্তে অনড়, কাউকে নিজের মনের ভেতরে ঢুকতে দেয় না।
ইলা লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ছে পাশের টেবিলে আয়ন বসে আছে। দুজনের মাঝে নিঃশব্দ যোগাযোগ চলছে চোখের ভাষায় হঠাৎ আয়ন বলল,
আয়নঃ- তুমি জানো আমি আজ একটা কথা ভেবেছি।
ইলাঃ- কি কথা?

আয়নঃ- তুমি মানুষকে ভয় দেখাও না তুমি মানুষকে ভাবিয়ে দাও।
ইলা চুপ করে তাকিয়ে রইলো তার মনে হলো, এই ছেলেটা হয়তো সত্যিই ভিন্ন। দিন টা ইলার এভাবে কেটে গেলো। হলের ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ইলা। চাঁদের আলো মুখে পড়েছে তার কানে বাজছে পুরোনো গান, মনে পড়ছে কালকের সেই সন্ধ্যার নদী, সেই রাগ, সেই থাপ্পড় “কেনো মানুষটাকে মনে পড়ছে আবার” ইলা মাথা নাড়লো। “না ওর কথা ভাবা মানে নিজের স্বাধীনতাকে বাঁধা দেওয়া” হালিমা পেছন থেকে এসে বসল পাশে।
হালিমাঃ- কি দেখছিস আকাশে?
ইলাঃ- আমার শান্তি খুঁজতেছি।

হালিমাঃ- আরিয়ান ভাইয়া তোকে দেখে এখন শান্ত হয় নাকি আগুন ধরায় জানি না।
ইলাঃ- আমি আর কারো আগুনের ভেতরে পুড়বো না কিউটি এবার আমি নিজেই আলো হবো।
পরের দিন সকালে ইলা পরি আর হালিমা মিলে ক্লাসে যাচ্ছিলো। একটু পরে আয়ন তাদের সাথে এড হলো। দূর থেকে কেউ তাকিয়ে আছে, কালো সানগ্লাস, কালো গাড়ি থেকে। চোখে সেই পরিচিত আগুন, মুখে হালকা রাগ সে আরিয়ান খান।
আরিয়ান ইলার দিকে তাকিয়ে আছে ইলা হাসছে, তার পাশে নতুন ছেলেটা আরিয়ান মৃদু স্বরে বলল “ভালো আছে মেয়েটা কিন্তু কেন জানি শান্তি লাগছে না” আরিয়ান চলে গেলো ইলা একবার ঘুরে তাকালো কেউ নেই। শুধু বাতাস বইছে আর পাতার মৃদু শব্দ তার হৃদয়টা হালকা কেঁপে উঠলো। কিন্তু সে নিজের মনে বলল “না আমি আর কোনো রাক্ষসের গল্পে ফিরবো না এবার আমি আমার গল্পের নায়িকা”

১ মাস কেটে গেলো সেদিনের পর থেকে আরিয়ান আর ইলার সামনে আসেনি। আর ইলাও আরিয়ান কে ভুলে গেছে ইলা ইলার মত বিন্দাস আছে। ইলা হালিমা পরি এই এক মাসে যত ভন্ডামি আছে করে বেরিয়েছে।
আজ ইলা তার মামা বাড়ি থেকে হল এ ফিরছিলো বিকেলের ঢাকা তখন যেন মানুষে গমগম করছে আকাশে হালকা ধুলোর কুয়াশা কিন্তু গরম এখনো মাটির গায়ে আটকে আছে। ইলা তার মামার বাসা থেকে ফিরছিলো ট্রাফিক এত বেশি যে বাসে উঠা অসম্ভব অবশেষে সে মেট্রোরেলেই উঠলো।
ট্রেনের ভেতর ঢুকেই যেন এক সমুদ্র ভিড় কেউ ফোনে চিৎকার করছে কেউ কারও কাঁধে ঝুলে আছে।ইলা কষ্টে কোনো ভাবে একটা জায়গায় দাঁড়ালো একদম কোণের দিকে।
ইলার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে ভিড়ের ঘামের গন্ধ আর শব্দে মাথা ঝিমঝিম করছে।
ঠিক তখনই তার চোখ গেলো এক জায়গায় নেভি ব্লু শার্ট, শার্টের হাতা মোরানো কুনুই পর্যন্ত, বাম হাতে কালো ঘড়ি, ডান হাতে একটা ব্রেসলেট পায়ের সাদা স্নিকার্সে।এক মুহূর্তে ইলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো সে আর কেউ নয় আরিয়ান।

ইলার একটু ভয় হলো আজ আবার না মার খায় একা বের হওয়ার জন্য। আজ এক মাস পর দেখা কিন্তু ঠিক সেই রাগী চেহারা ঠোঁটে অন্যমনস্ক ভাব। কানে ছোট ইয়ারফোন কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক স্থিরতা। আরিয়ান এমন ভান করলো যে ইলাকে দেখেনি আরিয়ান এর দৃষ্টি বাইরে ট্রেনের জানালার দিকে।
ইলা দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলো বুকের ভেতর যেন হঠাৎ ঝড় উঠলো গলা শুকিয়ে গেলো। মনে হলো এই শহরের সব শব্দ হারিয়ে গেছে শুধু ট্রেনের শব্দ আর নিজের হৃদস্পন্দন বাজছে কানে। ইলা মনে মনে ভাবলো “সে এখানে কেন?কিন্তু সে চুপ একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার উপস্থিতি যেন পুরো জায়গাটার বাতাস বদলে দিয়েছে।
মেট্রোরেল পরের স্টেশনে পৌঁছাতেই নতুন করে মানুষ উঠলো। ভিড় বেড়ে গেলো শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর। ঠিক তখন কিছু ছেলে উঠলো বয়সে হয়তো ২০–২২ এর মধ্যে। তারা চারপাশে তাকিয়ে হেসে হেসে একে অপরকে কিছু বলছে। এর পর তাদের একজন ইলার দিকে তাকিয়ে হালকা ভঙ্গিতে এগিয়ে এলো।
ইলা একদম দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো পাশে আর জায়গা নেই। ভিড়ের অজুহাতে ছেলেটা ঠিক ইলার সাইডে এসে দাঁড়ালো শরীর ঘেঁষে। ইলার মুখ একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।চোখে ভয় নয় এক অজানা রাগের ছাপ ফুটে উঠলো। সে নড়তে চাইল কিন্তু জায়গা নেই। ভিড় ঠেলে কেউ সামনে থেকে আসছে আবার কেউ পেছনে সরে যাচ্ছে এমন একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।
ইলার কেনো জানি নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে কান্না করবে এমন অবস্থা। ঠিক তখনই একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর ভিড়ের মাঝ দিয়ে এলো “Excuse me” ইলা মাথা তুলে তাকি দেখে
আরিয়ান।
আরিয়ান ভিড় ঠেলে আসছে সামনে তার চোখ ঠাণ্ডা মুখ শক্ত একটাও শব্দ নেই। দুই সেকেন্ডের মধ্যে সে এসে দাঁড়ালো ইলার সামনে আর সেই ছেলেগুলোকে ঠেলে সাইড করে দিলো। আরিয়ান সরাসরি ছেলেগুলোর চোখে তাকিয়ে বলল

“এখানে জায়গা ফাঁকা করো”
তার কণ্ঠে এমন কিছু ছিলো যা কেউ সাহস পেলো না প্রতিবাদ করার।ছেলেগুলো একে অপরের দিকে তাকিয়ে পিছিয়ে গেলো। আরিয়ান ইলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালো যেন একটা ঢাল হয়ে গেছে মেয়েটার সামনে।
ট্রেন হালকা দুলছে মানুষ ঠেলছে একে অপরকে কিন্তু ইলার চারপাশে এখন একটা অদ্ভুত সুরক্ষা বলয়। আরিয়ান সামান্য হাত বাড়িয়ে দেয়ালের পাশে হাত রেখে জায়গা তৈরি করলো যাতে কেউ কাছাকাছি না আসে।
ইলা কিছু বললো না শুধু নিঃশব্দে চোখ নামিয়ে নিলো। তার বুকের ভেতর তীব্রভাবে ধকধক করছে যেন প্রতিটা স্পন্দন নিজের কানে শুনতে পাচ্ছে।

আরিয়ানও মুখ ফিরিয়ে রেখেছে কিন্তু চোখের কোণায় বারবার পড়ছে মেয়েটার চোখে। ইলার চুলের পাশে ছোট্ট দুল দুলছে চোখের পলক কাঁপছে হালকা। মুহূর্তের ভেতর পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে। বাইরের শব্দে ট্রেনের দুলুনিতে মানুষের ভিড়ে সব কিছুর মাঝেও দুজনের মধ্যে এক নীরব সংলাপ শুরু হয়ে গেছে।
ইলা বুঝতে পারলো আরিয়ান যতই চায় না তাকাতে তবুও তাকাচ্ছে। আরিয়ান ইলার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা যতই ঠাণ্ডা মুখে থাকুক তবুও সে ভয় পেয়েছে এবং সেই ভয় লুকাতে পারছে না।
একটু পরে ট্রেন একটা মোড় নিতেই ধাক্কা লাগলো। আরিয়ান সামান্য পিছলে গেলো আর কোনোভাবে নিজেকে সামলাতে না পেরে ইলার কাছাকাছি চলে এলো। দুজনের মধ্যে এখন এক ইঞ্চিরও কম দূরত্ব। ইলার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো আরিয়ানের হার্টবিট শুনতে পাচ্ছে ইলা, সাথে আরিয়ানের দেয়া মাতাল করা ব্লু শ্যানেল পারফিউম দিয়েছে আরিয়ান ( এই পারফিউমটা ইলার খুব পছন্দের) ইলা মাঝে মাঝে ভাবে ও মেয়ে না হয়ে ছেলে হলে এই পারফিউম টা ব্যবহার করতো।

আর আরিয়ান নিজের চোখ নামাতে চাইলেও নামাতে পারলো না তার চোখ ইলার চোখে আটকে গেলো সরাসরি। চারপাশে সবাই নিজেদের জগতে ব্যস্ত কিন্তু এই দুইজনের সময় যেন অন্য পথে চলছে।
ইলার চুল উরে এসে লাগছে আরিয়ানের মুখে আরিয়ান গভীর নিঃশ্বাস নিলো মেয়েটার পারফিউম আর চুলের শ্যাম্পুর স্মেলে যেন হার্ট বের হয়ে যাবে এমন অবস্থা।
আরিয়ান হাত মুঠো করে আছে যেন নিজেকে থামাতে চাচ্ছে।
“না এটা ঠিক না…আমি কেন ওর দিকে এমন তাকাচ্ছি? মনে মনে ভাবছে আরিয়ান কিন্তু চোখ সরাতে পারছে না।
ইলারও শরীর জমে গেছে এই প্রথম কোনো ছেলে এতটা কাছে এসেছে তবুও ইলা ভয় পায়নি। বরং তার বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে।
হঠাৎ ট্রেনের ঝাঁকুনিতে দুজনের কাঁধ একে অপরের সাথে লেগে গেলো।ইলার চোখ হঠাৎ উঠে গেলো আরিয়ানের চোখে আরিয়ানও তাকিয়ে আছে। আরিয়ান এর অস্তি হচ্ছে তাই কিছুটা পিছিয়ে আসলো।
দুজনেই নিঃশব্দ কেউ কিছু বলে না কিন্তু সেই নীরবতার ভেতর কথার চেয়ে বেশি কিছু বলা হয়ে যায়। আরিয়ান মুখ ফিরিয়ে জানালার বাইরে তাকালো ঠোঁটের কোণে সামান্য টান। ইলা বুঝতে পারছে আরিয়ান চুপ আছে কিন্তু তার ভেতরে একটা ঝড় বইছে।

শেষ স্টেশন ঘোষণা হতেই ট্রেন থামলো মানুষ নামতে লাগলো ঠেলাঠেলি করে ইলা নামলো ধীরে। পেছনে তাকালো না কিন্তু পায়ের শব্দ বুঝে নিলো আরিয়ানও নামছে।
বাইরে রাত নামছে বাতাসে ঠাণ্ডা ছোঁয়া ইলা মনে মনে বললো “একটা শহরে কতবার দেখা হয় একজনের সাথে” এটা কি ভাগ্য বারবার ঠেলে দেয় নাকি এই ছেলের কোনো প্লান।
ইলা চুপচাপ দাড়িয়ে আছে শহরের বাতাসে ক্লান্তির গন্ধ আর তার মনে কেমন যেন অজানা এক শান্তি আজ আবার দেখা হলো কিন্তু কোনো কথা বললাম না অন্তত একটা ধন্যবাদ দেয়া দরকার। ইলা পিছনে ঘুরে বলল
ইলাঃ- ধন্যবাদ আমাকে প্রটেক্ট করার জন্য।
আরিয়ান একবারও চোখ তুলে তাকালো না ইলার দিকে কেবল সামান্য মাথা নেড়ে ভিড়ের ভেতরে হারিয়ে গেল। ইলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো তার পেছনের দিকে তারপর নিঃশব্দে হলে ফিরে গেল।
হলে এসে এই ঘটনাটা কাউকে বলল না কারণ ইলা জানে পরি আর হালিমা এটা শুনলে দুইজনি মজা নিবে তাই ইলা চেপে গেলো। রুমে ঢুকেই ইলা দেখলো পরি বিছানায় বসে আছে চুপচাপ। হালিমা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বই উল্টে পাল্টে দেখছে কিন্তু মুখে অদ্ভুত একটা গাম্ভীর্য।

ইলাঃ- কি রে পরি এমন বাংলার পাঁচ হয়ে বসে আছিস কেনো আমি ছাড়া কে তোকে বকেছে?
পরি মাথা নিচু করে আছে কিছু বলল না হালিমা একদম শান্ত গলায় বললো
হালিমাঃ- তোদের তো এখন বাড়ির টিকিট কাটতে হবে।
ইলাঃ- কেনো আমরা তো পরের সপ্তাহে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম।
হালিমাঃ- কিছু দিন আগে পরির বিয়ের প্রস্তাব এসেছিলো তোর মনে আছে?
ইলাঃ- হ্যাঁ মনে আছে পরি তো বলেছিলো ছেলেটা খুব ভদ্র ছবি দেখেই পরিকে পছন্দ করেছে বলছিলি পরিও ছেলেটাকে পছন্দ করছে দেশে আসলে বিয়ে করে নিবে।
হালিমাঃ- ছেলেটা দেশে চলে এসেছে আগামী মাসের মধ্যেই বিয়ে।
এক মুহূর্তে রুমটা নিস্তব্ধ হয়ে গেলো শুধু ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে ইলা কিছু বললো না। তার চোখে এক ঝলক পানির আলো কিন্তু সে চায় না কেউ সেটা টের পাক। বুকের ভেতর হালকা একটা খালি জায়গা তৈরি হলো যেন কেউ তার শৈশবটা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে। পরি নিচু গলায় বললো,

পরিঃ- তুই কিছু বলছিস না কেনো এখন ইলা।
ইলাঃ- বলবো কি রে তুই চলে গেলে আমি তো একদম একা হয়ে যাবো। একসাথে বড় হয়েছি, খেলেছি, মার খেয়েছি আজ তুই বিয়ে করে চলে যাবি।
ইলা আর কিছু বলতে পারলো না পরি এগিয়ে এসে ইলার কাঁধে মাথা রাখলো দুইজন চুপচাপ বসে রইলো কিছুক্ষণ।
হালিমা নরম স্বরে বললো
হালিমাঃ- তোরা দুইজন এখন কাঁদবি না আমি কিন্তু কান্না করে দিবো। আর তোরা এত ঢং করিস কেনো বিয়ের পর বন্ধুত্ব শেষ হয় নাকি।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৭

ইলাঃ- শেষ হয় না ঠিকই কিন্তু বদলে যায় অনেক কিছু।
রাতের জানালা দিয়ে হালকা বাতাস ঢুকছে পরির চুল উড়ছে আর ইলা তাকিয়ে রইলো আকাশের দিকে। চাঁদটা আজও আছে কিন্তু আজ যেন একটু দূরে মনে হচ্ছে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৯