Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৪

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৪

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৪
ছায়া

রাতের আকাশে চাঁদটা তখন পুরো গোল হয়ে উঠেছে। তালুকদার বাড়িতে আলো ঝলমলে সাজ চারপাশে সোনালি লাইট ফুলে মোড়ানো চেয়ার মাঝখানে সাজানো মঞ্চে লেখা “Mehendi Night”। মাটির ওপর রঙিন কার্পেট পাশে ডিজে টেবিল হালকা রোমান্টিক বিট বাজছে ব্যাকগ্রাউন্ডে।মেয়েরা একে একে এসে বসছে গোল হয়ে।সবাই হাত ভর্তি করে মেহেদী লাগাতে শুরু করেছে। মেহেদীর ঘ্রাণে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।ইলা, পরি, রিমা, হালিমা, নেহা, নোহা সবাই হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত। রিমা ফোন ধরে রেকর্ড করতে করতে বলল
রিমাঃ- সবাই বলো মেহেদি নাইট ভাইরাল হতে যাচ্ছে।
ঠিক তখনই রায়েদ স্টেযে এসে মাইকে হাতে নিয়ে বলল,

রায়েদঃ- লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন… না, না লেডিস অ্যান্ড মোর লেডিস আজকের রাতটা হবে শুধুই মেয়েদের।
রাফি রায়েদ এর কথা শুনে মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে বলল,
রাফিঃ- ভাই তুমি ভুল বললা আজকের রাত শুধু মেয়েদের না আজকের রাতটা আমাদের ছেলেদের।
নোহাঃ- ছেলেদের মানে কি ভাইয়া??
রাফিঃ- মানে হচ্ছে আজ তো মেয়েরা ডান্স করতে পারবে না হাতে মেহেদি নিয়ে তাই আমরা আমাদের মতো নাচবো, গান গাইবো এবং মেয়েরা ফেলফেল করে দেখবে।
রায়েদঃ- তাহলে ঠিক আছে মেয়েরা মেহেদী লাগাক তারপর ছেলেরা ডান্স করবে। আর আমি ঘোষণা করছি আজকের সেরা ডান্সার পাবেন “মেহেদি নাইট কিং” টাইটেল।
চারপাশে আবারও হাততালি দিচ্ছে ছেলেরা আর মেয়েরা তো সবাই হাতে মেহেদি দিয়ে বসে আছে। রাফিকা নিজের চুল ঘুরিয়ে বলল

রাফিকাঃ- আমি বাজি ধরলাম আজকের “কিং” হবে আমার ফেভারিট মিস্টার আরিয়ান খান।
মেহেদী আর্টিস্টরা মেয়েদের হাতে জটিল ডিজাইন আঁকতে লাগল। ইলা নরম করে হাত বাড়িয়ে রেখেছে মেহেদির রঙে এর কারণে ওর হাতের আঙুলগুলো আরো সাদা লাগছে।
একজন মেহেদী আর্টিস্ট বলল ইলাকে ” আপু স্পেশাল কারো নাম থাকলে বলেন আমি লিখে দেই।
ইলাঃ- না না আমার কোনো স্পেশাল মানুষ নেই আপনি এমনি ডিজাইন দিন।
হালিমাঃ- কেনো আরিয়ান ভাইয়ার নামটা লিখে দে।
ইলাঃ- তুই চুপ করবি নাকি ব্যাঙ এর ভর্তা খাওয়াবো তোকে।
হালিমাঃ- আজ কাল সত্যি কথার ভাত নাই রে থাক আর কিছু না বলি।
ইলাঃ- ভাত আছে বলে তো ব্যাঙ এর ভর্তা দিতে চাইলাম স্পেশাল মেনু হিসেবে।
এদিকে মঞ্চের পাশে ছেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। রায়েদ, রাফি, সায়েম, সামিন সবাই একসাথে স্টেজের পেছনে দাঁড়িয়ে গা গরম করছে। পেছনে ডিজে সেটের পাশে রায়েদ উঠে দাঁড়িয়ে মুখে দুষ্টু হাসি হাতে মাইক নিয়ে বলল
রায়েদঃ- লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান এখন সময় এসেছে আজকের রাতের সবচেয়ে এক্সপ্লোসিভ পার্টের The Dance Show of Mehendi Night এবং প্রথমেই স্টেজে আসছে আমাদের হ্যান্ডসাম গরুমিয়া থুরি আমাদের হ্যান্ডসাম জিজু আদিব খান।
তালির ঝড় উঠলো লাইট হালকা ডিম হলো ডিজে চালালো গান শুরু হলো

“Mehndi laga rakhna
Doli saja ke rakhna
Mehndi laga rakhna
Doli saja ke rakhna
Lene tujhe o gori
Aayenge tere sajna
Mehndi laga rakhna
Doli saja ke rakhna
Oh.. ho.. oh.. ho..
O.. aa..

আদিব এক হাতে সানগ্লাস ঘুরিয়ে স্টেজে উঠলো ধীর ভঙ্গিতে হাত ছুঁড়ে বিটে নাচতে শুরু করলো। সবাই চিৎকার করে উঠলো “ওওও ভাইয়া” পরি লজ্জায় মুখ ঢাকলো তবুও হাসিটা থামলো না। রাফি, নেহা, নোহা তো চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছে। গানের শেষে আদিব নাচ শেষ করে পরিকে একটা ফ্লাইং কিস করে চলে গেলো নেমে। রায়েদ স্টেজে উঠে মাইক হাতে বলল
রায়েদঃ- ওয়াও এন্ট্রি টা তো পুরো হিরো লেভেল ছিলো ভাইয়া।এবার আসছে আমার প্রিয় বিয়ে বাড়ির পার্টনার ইন ক্রাইম মেম্বার আমি আর রাফি।
ডিজে চালালো রাফি আর রায়েদ একসাথে উঠে পড়লো স্টেজে দু’জনের মধ্যে দারুণ সিঙ্ক একজন হাত নাচায়, অন্যজন ঘুরে কাঁধে টোকা দেয়।
গান শুরু হলো,

Haan Kab Tak Jawaani Chhupaaogi Rani
Arre Kab Tak Jawaani Chhupaaogi Rani
Kanwaaron Ko Kitna Sataaogi Rani
Kabhi To Kisi Ki Dulhaniya Banogi
Mujhse Shaadi Karogi,…
Mujhse Shaadi Karogi
Mujhse Shaadi Karogi….
Mujhse Shaadi Karogi

তাদের সাথে দর্শকরাও তাল মিলিয়ে চিৎকার করছে “ওওও রায়েদ ভাই রাফি ভাই সুপার” ইলা হেসে বলল,
ইলাঃ- এই দুইজন একসাথে মানে পুরো স্টেজ কাপিয়ে দিবে।
রাদের আর রাফি স্টেজ ফাটিয়ে দিচ্ছে চারদিকেই যেন আনন্দের ঢেউ। এদিকে ইলা একটু হাঁপাচ্ছিল মুখ শুকিয়ে গেছে। হালিমাকে বলে সে উঠলো
ইলাঃ- আমি একটু পানি খেয়ে আসি হালিমা।
ইলা পাঞ্জ খাওয়ার জন্য আসলো কিন্তু দুই হাতে মেহেদি ভর্তি কনুই পর্যন্ত তাই গ্লাস ধরা অসম্ভব। পাশে টেবিলে বোতল রাখা আছে কিন্তু খুলে তোলার উপায় নেই। ঠিক তখনই দূরে ফোন কানে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরিয়ানের ইলার দিকে চোখ পড়ে। ফোনের ওপাশে কেউ কিছু বলছে তবু আরিয়ান মনোযোগ হারিয়ে ফেলে ইলার দিকে তাকায়। মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে অসহায়ভাবে ঠোঁট শুকিয়ে গেছে চোখে একরাশ অস্বস্তি। আরিয়ান ফোনটা কেটে ইলার কাছে এসে বলে

আরিয়ানঃ- কোনো সমস্যা হচ্ছে?
ইলা একটু চুপ থাকে কিছু বলে না মুখ নিচু করে শুধু বলে,
ইলাঃ- না কিছু না…।
আরিয়ান ঘুরে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ইলা আস্তে বলে,
ইলাঃ- আসলে… একটু তৃষ্ণা পেয়েছে… কিন্তু হাতে মেহেদি থাকায় পানি খেতে পারছিনা।
আরিয়ান কিছু না বলে টেবিল থেকে বোতলটা তুলে নেয়। ঢাকনা টা খুলে তার সামনে ধরে কণ্ঠে মৃদু গম্ভীরতা ‘নিন’ ইলা কিছুটা ইতস্তত করে তবু বোতলের মুখে ঠোঁট রাখে। এক চুমুক, দুই চুমুক… পানি গড়িয়ে নামছে তার গলায়। ঘাড়ের কাছে আলতো ঘামের দাগ চোখ আধখোলা আরিয়ান সেই দৃশ্য থেকে চোখ সরাতে পারছে না। যেন সময় থেমে গেছে দুজনের মাঝখানে পানি খাওয়া শেষ হলে ইলা ধীরে বলে “ধন্যবাদ” আরিয়ান মাথা নাড়িয়ে বললো“ওয়েলকাম”তারপর ঘুরে যেতে লাগলো স্টেজের দিকে।

ঠিক তখনই হঠাৎ ইলার চুড়ির ঘর্ষণে পিঠের দিকের চোলির একটা হুক খুলে যায়। হালকা বাতাসে পিঠের কিছুটা অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ইলা হঠাৎ থমকে যায় চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে ‘ইস’ বলে উঠে ইলা দুহাত দিয়ে ধরতে চায় কিন্তু মেহেদি ভর্তি হাত নড়াতে পারছে না।
আরিয়ান ইলার শন্দে ফিরে তাকাতেই দেখে ইলা সজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুহূর্তেই চারপাশের শব্দ যেন মিলিয়ে গেল।আরিয়ান আস্তে এগিয়ে আসে পেছন থেকে খুব কাছে এসে নরম কণ্ঠে বলে,
আরিয়ানঃ- আবার কিছু হয়েছে??
ইলা চুপ করে আছে লজ্জায় কিছু বলছে না, আরিয়ান কিছু না বুঝে কিছুটা বিরক্ত হয়ে যায়। আবার রাগ করে বলে
আরিয়ানঃ- কি হয়েছে বলবেন তো না বললে বুঝবো কি করে কি হয়েছে।
ইলা এবার ভয়ে ভয়ে বলল

ইলাঃ- আমার চোলির হুক খুলে গেছে তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
আরিয়ানঃ- আচ্ছা ঠিক আছে আমি কাউকে ডাকছি আপনার হেল্পার জন্য।
ইলা মাথা নাড়ালো আরিয়ান স্টেজের দিকে গেলো হালিমা কে ডাকলো, হালিমা তখন ডান্স দেখায় ব্যস্ত আরিয়ান কি বলছে কিছু বুঝতে পারছে না। আরিয়ান দেখে সবাই রায়েদ আর রাফির ডান্স দেখায় ব্যস্ত তাই আবার ইলার কাছে ফিরে গেলো।
আরিয়ানঃ- সরি আমি আপয়ানার হেল্পার জন্য কাউকে পেলাম না।
ইলাঃ- ইটস অকে আমি রুমে চলে যাচ্ছি আমার আর ঐদিকে যাওয়া হবে না।
আরিয়ানঃ- আপনার কোনো আপত্তি না থাকলে আমি হেল্প করছি আপনাকে।
ইলা চুপ করে আছে কিছু বলছে না কি বা বলবে আরিয়ান তো একটা ছেলে। আরিয়ান ইলার লজ্জা পাওয়া দেখে বলল আচ্ছা ঠিক আছে আপনার অস্বস্তি হলে আপনি রুমে যান।
ইলাঃ- আচ্ছা তবে আপনাকে চোখ বন্ধ রাখতো হবে।
আরিয়ান একটু দুষ্টুমি করে হেসে বলল

আরিয়ানঃ- চোখ বন্ধ করে কাজ করলে এক্সিডেন্টলি যদি টার্চ হয়ে যায় তখন আমাকে কিছু বলতে পারবেন না।
ইলাঃ- এই না তাহলে থাক আমি উপরে গেলাম।
আরিয়ান ইলার পিছনে গিয়ে দাড়ালো ইলার লজ্জা লাগছে আরিয়ান ইলাকে বলল
আরিয়ানঃ- স্থির থাকেন নড়বেন না।
ইলার নিঃশ্বাস থেমে যায় ইলার গাল গরম হয়ে ওঠে বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যায়। আরিয়ান আলতো করে আঙুলের ডগায় চোলির হুকটা টেনে ঠিক করে দেয়। তার আঙুল ছুঁয়ে যায় ইলার পিঠ যেন এক সেকেন্ডের জন্য বাতাসও নিঃশব্দ হয়ে যায় ঠিক করার পর একটু ঝুঁকে বলে,
আরিয়ানঃ- এবার ঠিক আছে।
ইলা মুখ ফিরিয়ে তাকায় না শুধু চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলে তার ঠোঁট কাঁপে “থ্যাঙ্ক ইউ” আরিয়ান হালকা হাসে নিঃশব্দে বলে
আরিয়ানঃ- “ওয়েলকাম” তবে পরের বার থেকে এমন টাইট ড্রেস পড়বেন না। সব সময় হেল্প করার জন্য আরিয়ান থাকবে না।

তার চোখে একরাশ দুষ্টুমি মুখে শান্ত হাসি আরিয়ান ধীরে পা বাড়ায় স্টেজের দিকে, আর ইলা দাঁড়িয়ে থাকে হাত মেহেদিতে মোড়া মন অন্য এক অজানা কম্পনে ভরা। ইলাও আর কিছু না ভেবে স্টেজের দিকে গেলো।
গান শেষ হতেই রাফি মাইক ধরলো “রায়েদ ভাই আমাদের তো নাচ হলো রোমান্স ছাড়া এবার একটু রোমান্স দেয়া যাক
রায়েদ বলল “রোমান্স ওহ হ্যাঁ… এবার স্টেজে আসছে আমাদের স্লো মোশন কিং সায়েম” সায়েম রাফির কাছে এসে বলল
সায়েমঃ- ভাই আমি যদি ডান্স দিতে দিতে পড়ে যাই?
রাফিঃ- সমস্যা নাই যদি পড়ে যাস তাহলে শুয়ে একটা স্টাইল করে ডান্স স্টেপ করে দিবি সবাই মনে করবে এটা ডান্স এর একটা অংশ।
গান বাজতে শুরু করলো

Hum Tere Bin Ab Reh Nehi Sakte
Tere Bina Kya Wajood Mera.
Hum Tere Bin Ab Reh Nehi Sakte
Tere Bina Kya Wajood Mera,
Tujhse Juda Gar Ho Jaayenge
Toh Khud Se Hi Ho Jaayenge Juda
Kyunki Tum Hi Ho
Ab Tum Hi Ho
Zindagi Ab Tum Hi Ho
Chain Bhi, Mera Dard Bhi,
Meri Aashiqui Ab Tum Hi Ho.

সায়েম স্টেযে উঠলো ধীরে ধীরে বিটের সাথে স্টেপ নিচ্ছে চোখ বন্ধ হাত ছড়িয়ে পুরো পরিবেশে যেন হঠাৎ শান্তির ঢেউ।
মেয়েরা চুপ করে তাকিয়ে রইলো।হালিমা ফিসফিস করে ইলাকে বলল,
হালিমাঃ- এই ছেলেটা যদি সিনেমায় যেতো নায়িকার হার্ট আটকে যেত।
ইলাঃ- তোর হয়েছে কি না সেটা দেখ আগে
গান শেষ হতেই সায়েম স্টেজ থেকে নেমে গেলো সবাই হাত তালি দিলো রায়েদ স্টেজে উঠে বলল,
রায়েদঃ- ওকে…এবার আসছে আমাদের এনার্জি বোমা সামিন।
গান শুরু হলো

Bajne de dhadak dhadak
Dhol taashe thadak thadak
Bhandara jhidak jhidak malhari
Khadak tadak bhadak jhaali
Chatak matak fatak saali
Dushman ki dekho jo waat lav
Arre Bajne de dhadak dhadak
Dhol taashe thadak thadak
Bhandara jhidak jhidak malhari
Khadak tadak bhadak jhaali
Chatak matak fatak saali
Dushman ki dekho jo waat lavli
Bajne de dhadak dhadak
Dhol taashe thadak thadak
Bhandara jhidak jhidak malhari
Khadak tadak bhadak jhaali
Chatak matak fatak saali
Dushman ki dekho jo waat lavli

সামিন মুভি স্টাইল ঘুরে এলো স্টেজে “জয় মালহারি” বলে গর্জে উঠলো সবাই তালি দিতে লাগলো আদিবও হেসে উঠলো “এই ছেলে পাগল” সামিনের শক্তিশালী মুভে পুরো স্টেজ কাঁপে শব্দ, চিৎকার, হাসি পুরো মেহেদি নাইট যেন এক্সপ্লোশন গান শেষ হতেই ডিজে মিউজিক থামালো। রায়েদ এবার গলায় হালকা রহস্যের সুর আনলো
রায়েদঃ- ওকে… সবাই শান্ত হও…কারণ এখন যিনি আসছেন তিনি আজকের রাতের সবচেয়ে ওয়েটেড পারফর্মার…সে মঞ্চে উঠলেই আলো নিভে যাবে,গান বাজবে,আর মেয়েরা “আহা” বলে উঠবে প্লিজ কাম ওন স্টেজ আমাদের বড় ভাই আরিয়ান ভাই
এক সেকেন্ডের জন্যই যেন সব আলো ম্লান হয়ে গেল। আরিয়ান ধীরে মঞ্চের দিকে হেঁটে এলো। মিন্ট-গ্রিন পাঞ্জাবিতে, কালো ঘড়ি হাতে, চোখে হালকা দৃষ্টি, চুলে হাত বুলিয়ে নিলো এক হাতে পাঞ্জাবির কলার টানল, আর মঞ্চে একেবারে স্লোমো ভঙ্গিতে পা ফেলল।
রায়েদঃ আরিয়ান ভাই এবার আপনিই দেখান কীভাবে মেয়েদের নিঃশ্বাস আটকে দিতে হয়।
পেছনে বাজতে শুরু করলো বিট

Tera mukhda chaand da tukda
Ni teri ainak, tere shoe
Kya baat ae! Kya baat ae!
Kya baat ae!
Mujhko tere ye ishaare samajh nahi aate
Lekin dil ne sun li hain teri dil waali baatein
Mujhko tere ye ishaare samajh nahi aate
Lekin dil ne sun li hain teri dil waali baatein
Tere lakk ton tu lagda Karachi di
Fan marjaaniye, Bugatti di
Dil kare tere naal bannheyan ravaan
Tere jism ‘ch khushboo ilaachi di

আরিয়ান ধীরে ধীরে সামনে এলো হালকা হাসি মুখে।স্টেপে স্টেপে এমন নাচছে যেনো প্রতিটা মুভ যেন কোরিওগ্রাফ এর করা সিনেমা। কিছু সময় পর সবাই তাল দিয়ে উঠলো ইলা তাকিয়ে রইলো আরিয়ানের দিকে চোখে অদ্ভুত এক আলো ভয়, টান, না ভালো লাগা নিজেই বুঝে উঠতে পারলো না। গান শেষ হতেই সবাই দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে লাগলো। রায়েদ মাইক নিয়ে বলল
রায়েদঃ- ওকে…এখন আসছে টুইস্ট অফ দ্য নাইট এই ডান্সটা স্পেশাল…কারণ এবার স্টেজে উঠছে আমাদের সিনিয়র আমাদের দুই আইকন আমার বাবা রফিকুল তালুকদার এবং আমার চাচ্চু রাশেদ তালুকদার এই পারফরম্যান্সটা ডেডিকেটেড আমাদের প্রিয় কনে পরির জন্য সবাই চিৎকার “ওওওওও”
চালালো গান

Main daalu taal pe Bhangdaa
Tu bhi gidda paa le
Chal aisa rang jamaa de hum ke,
bane sabhi matwaale
Mann kahe ke main le aaun
Chaand aur taare saare
Inn haathon par main chaand rakhun
Iss maang mein bhar doon taare
Hello!
Hello!
tu floor pe jab hai aayi
Ye lo,
ye lo,
badi solid masti chaayi
Hello!
Hello!
too much hai tumne lagayi
Ye lo,
ye lo,
control* karo mere bhai*
Dhak-dhak, dhak-dhak, dhadke ye dil
Chhan chhan bole Amritsari choodiyan
Raat badi hai mastaani,
toh dilbar jaani
kar le gallan goodiyan
ooooo-ohoho
Dhak-dhak, dhak-dhak, dhadke ye dil
Chhan chhan bole Amritsari choodiyan
Raat badi hai mastaani,
toh dilbar jaani
kar le gallan goodiyan

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৩

রফিকুল আর রাশেদ দুজনই মজা করে ঢুকে পড়লেন স্টেজে কেউ ভাবতে পারেনি দুই সিনিয়র এভাবে নাচতে পারেন পুরো উঠোনে হাসি আর তালি পড়ে গেল পরি তো হাসতে হাসতে কেঁদে ফেললো রায়েদ মজার ছলে বলল
রায়েদঃ- এই হলো তালুকদার পরিবারের পাওয়ার যুবকরা যেমন নাচে বুড়োরা তার চেয়েও ভালো নাচে।
সবাই দাঁড়িয়ে তালি দিল আর মেহেদির রাত ভরে উঠলো আলো, হাসি, ভালোবাসা আর নাচের উন্মাদনায়। একে একে সবাই স্টেজে উঠে গেলো ডান্স করার জন্য। কারো নেই কোনো ভেদাভেদ সবাই আজ খুশি। ইলা আজ মন খুলে হাসছে মজা করছে স্টেজে উঠে ডান্স ও করছে। দূর থেকে আরিয়ান বুকে দুই হাত ভাজ করে দিয়ে ইলাকে দেখছে। ইলাকে এর আগে এভাবে হাসতে কখনো দেখে নি। আরিয়ান মনে মনে বলল
আরিয়ানঃ- এই মেয়ের হাসি যথেষ্ট আমাকে পাগল বানানোর জন্য।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ২৫