Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩২

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩২
ছায়া

ট্রেনের জানালার বাইরে ছুটে চলা অন্ধকার মাঝে মাঝে দপ করে আলোর ঝলক তারপর আবার গভীর নীরবতা। ট্রেনের চাকার টকটক শব্দের মাঝে ইলার চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো। সারাদিনের ক্লান্তি অজানা দুশ্চিন্তা আর মনের চাপ সব মিলিয়ে ওর শরীরটা অবসন্ন হয়ে পড়ছিল।ইলা জানালার পাশে বসে ছিল আরিয়ান তখন ফোনে কিছু একটা দেখছিল চোখের কোণে মাঝে মাঝে ইলার দিকে তাকাচ্ছিল অজান্তে। হঠাৎ দেখতে পেল ইলার মাথা একপাশে হেলে যাচ্ছে একবার সামনে একবার পিছনে যেন একটু পরেই ধপ করে পড়ে যাবে। আরিয়ান নিঃশব্দে ফোনটা রেখে দিল। হালকা করে হাত বাড়িয়ে ইলার মাথাটা নিজের কাঁধে টেনে নিলো। ইলার চুলের শ্যাম্পুর স্মেলে আরিয়ানের বুকের ভেতর কিছু অদ্ভুত ভাবে কেঁপে উঠলো। ইলা ঘুমন্ত অবস্থায় একটু নড়ল তারপর শান্ত হয়ে গেল। আরিয়ান একবার নিঃশ্বাস ফেলল চোখ বুজে বসে রইল ইলার পাশে ট্রেন চলতে থাকল অনন্ত পথের দিকে।
অন্যদিকে ঠিক সেই সময়ই তালুকদার বাড়িতে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে।বাড়িতে সবাই একসাথে বসে আছে। রাশেদ তালুকদার তার স্ত্রী, রায়েদ সহ সবাই। ঘরে আলো জ্বলছে ঠিকই কিন্তু সবার মুখে যেন একরাশ ফাঁকা ভাব। বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা পেরিয়ে এখন এক শূন্যতা। ইলা চলে গেছে দেখে বাড়ি ফাকা রায়েদ একটু তাকিয়ে দেখল তার আব্বু চুপচাপ চা খাচ্ছেন আম্মু নিঃশব্দে তাকিয়ে আছেন তার দিকে মুহূর্তটা অদ্ভুত ভারী লাগছিল রায়েদ ঠোঁটে হাসি এনে বলল,

রায়েদঃ- আব্বু একটা কথা বলি?
রফিকুল তালুকদার তাকালেন ছেলের দিকে চোখে ক্লান্তির ছায়া।
রফিকুলঃ- বলো রায়েদ।
রায়েদ মুখটা গম্ভীর করে বললো,
রায়েদঃ- আমার কি বিয়ে হবে না?
সাবিহা একবার তাকিয়ে রায়েদকে বললো,
সাবিহাঃ-তুই আবার কি বিয়ে বিয়ে করছিস এখন?
রায়েদঃ- এ বাড়িতে সবার তো বিয়ে হয়ে গেল ইলার,পরির কিন্তু আমারটা কবে হবে? আমি তো ওদের বড় ভাই আমার জন্যও তো কেউ একটা পাত্রী ঠিক করো। দুইটা বিয়ে না করতে পারি একটা বিয়ে করে তো তোমাদের বাড়ির শুন্য ফাকা জায়গা পূরণ করতে পারি।
তার কথায় আশেপাশের সবাই থমকে গেল এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে রাশেদ তালুকদার হেসে ফেললেন সেই হাসিটা প্রতিধ্বনি তুলল।

রাশেদঃ- তোর বিয়েও হবে রে একদিন কিন্তু আগে তুই মানুষ হো।
রাশেদ তালুকদার ধীরে ধীরে তার পাশে বসা সাবিহার দিকে তাকালেন সাবিহা হালকা করে মাথা নাড়লেন।
রায়েদ মুচকি হেসে বললো,
রায়েদঃ- তাহলে ঠিক আছে আমি মানুষ হই তারপর বিয়ে।
বাড়ির ভারী নীরবতার মধ্যে একটুখানি হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়লো। রাতটা ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগলো। একদিকে ট্রেনের জানালায় ঘুমন্ত ইলার শান্ত মুখ আরেকদিকে তালুকদার বাড়ির আকাশে মেঘের আড়ালে চাঁদ ঢাকা।
রাত ২:১৫ সান্তাহার স্টেশনে ট্রেনটা ধীরে ধীরে থামলো হালকা ধাক্কায় ইলার ঘুম ভাঙলো। চোখ খুলতেই দেখলো তার মাথাটা আরিয়ানের কাঁধে ঠেকানো আর আরিয়ানের একহাত জানালার ধারে অন্যহাতে ফোন স্ক্রোল করছে শান্তভাবে।মুহূর্তেই ইলার চোখ বড় হয়ে গেলো।শরীরটা হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে সোজা হয়ে বসলো সে মুখে একফোঁটা লজ্জার রঙ।

চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে মুখে নিদ্রার ছাপ।আরিয়ান হালকা হাসলো চোখ না তুলেই বলল,
আরিয়ানঃ- ঘুম ভাঙলো অবশেষে?
ইলা কিছু বলল না শুধু ব্যাগটা কোলের উপর তুলে বসে রইলো।বাইরে মানুষজন নামছে ট্রেনের সিটি বাজছে কোলাহল ভরে উঠছে চারদিক।ইলা মুখ নামিয়ে চুলগুলো ঠিক করলো কিন্তু বুকের ভিতরটা কেমন যেন অজানা কাঁপুনিতে ভরছে ট্রেন থেকে সবাই নামছে মেহেরাব খান, নাফিযা, নোহা,নেহা,ইলা আরিয়ান ইলা থামিয়ে দিলো। ইলা কিছুটা আশ্চর্য হয়ে যায়। ৫ মিনিট সময় অথচ আরিয়ান বসে আছে।
আরিয়ানঃ- আব্বু তোমরা বাসায় যাও আমি আর ইলা ঢাকায় ফিরে যাবো।
এই কথায় মেহেরাব খান একটু অবাক হয়ে তাকালেন,
মেহেরাবঃ- তুই এটা কি বলছিস অকে বাসায় নিয়ে যাবো না?
আরিয়ান একটু গম্ভীর গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- আব্বু এখন সময়টা ঠিক না গ্রামে যারা আমাদের চিনে আমার বিয়ে হয়েছে শুনলে ওকে অনেক কথা বলবে। আমি চাই না এখনই কারও মুখে কিছু শুনুক ও।ওকে হোস্টেলে রেখে আসবো সময় মতো নিজেই নিয়ে আসবো বাসায়।
মেহেরাব খান গভীর দৃষ্টিতে ছেলেকে দেখলেন চোখে রাগ নেই বরং একটা অদ্ভুত বিশ্বাসের ছায়া। নাফিযা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইলার দিকে এগিয়ে এলেন।তার পর ইলার মুখে হাত রেখে কপালে চুমু খেলেন।
নাফিযাঃ- ভালো থাকিস মা খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করিস বেশি একা একা থাকিস না। খুব শিগগিরই নিয়ে আসবে তোকে ঘরে।

ইলার চোখ ভিজে গেলো ঠোঁট কাঁপছে কিছু বলতে পারছে না চুপচাপ মাথা নিচু করে বলল,
ইলাঃ- জ্বি আআআআআম্মু
নোহা তখন পাশে দাঁড়িয়ে বললো,
নোহাঃ- ভাবি আমাদের ফোন দিও ভাইয়া সময় না পেলে ভাইয়ার খবর নিবো।
ইলাঃ- ঠিক আছে।
সবাইকে সালাম দিলো তারপর ধীরে ধীরে তারা সবাই ট্রেন থেকে নামছিলো তখনি আরিয়ানের পাশে এসে দাঁড়ালো দুইজন। তারা বলল এটা তাদের সিট। রায়েদ সান্তাহার এর পর্যন্ত টিকিট কেটেছিলো তাই এখন তাদের উঠে যেতে হবে। যেহেতু ট্রেনে অনেক বেশি ভির তাই আরিয়ান ইলাকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে গেলো। মেহেরাব খান নাফিযা নোহা,নেহা স্টেশনে দারিয়ে ছিলো। আরিয়ান আর ইলাকে নামতে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলো।
মেহেরাবঃ- কিরে তোরা নেমে এলি কেনো??

আরিয়ানঃ- আব্বু সিট নেই তাই নেমে আসছি দেখি কালকের টিকিট কাটতে হবে।
নাফিযাঃ- তাহলে কি বউমা কে নিয়ে এখন বাসায় যাবি?
আরিয়ানঃ- না এখানেই কোনো একটা হোটেলে থেকে যাবো তোমরা বুঝার চেষ্টা করছো না কেনো।
মেহেরাবঃ- যেহেতু তোরা যাবি না তাহলে আশে পাশে একটা হোটেল এ উঠে যা আমরা রওনা দেই গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।
আরিয়ান সবাইকে বিদাই দিয়ে দিলো সবাই চলে গেলো। ট্রেন ও ছেড়ে চলে গেলো শব্দ মিলিয়ে গেলো শহরের ব্যস্ত রাস্তায়।আরিয়ান কিছু না বলে সামনে হাঁটতে শুরু করলো ইলা চুপচাপ তার পিছু নিলো।
সান্তাহার স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান আর ইলা চারপাশে রাতের নিস্তব্ধতা, মাঝে মাঝে দূর থেকে ট্রাকের বেজে ওঠা হর্ন, আর দু’জনের মধ্যকার অদ্ভুত অস্বস্তি।ইলা মাথা নিচু করে বলল,

ইলাঃ- এত রাতে হোটেল পাব তো?
আরিয়ান চোখ না তুলে উত্তর দিল
আরিয়ানঃ- হোটেলই তো কোন পাঁচতারা রিসোর্ট না একটা না একটা মিলবেই।
বলার ভঙ্গিটা এমন যেন সারা জীবন সান্তাহারের প্রতিটা হোটেলের মালিক সে নিজে।পাঁচ মিনিটও হয়নি আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে স্টেশনের কাছেই একটা হোটেলের সামনে।বোর্ডে লেখা “হোটেল স্টার” মানসম্মত থাকার ব্যবস্থা।যেহেতু অনেক রাত তাই আরিয়ান আর কিছু না আরিয়ান বুক ফুলিয়ে ভেতরে ঢুকল। কাউন্টারে বসা লোকটি আরিয়ানকে দেখে হাসলো,তারপর ইলার দিকে তাকিয়ে আরও বড় হাসি দিল।
“স্যার আপনাদের কি কাপল রুম লাগবে?”

বাক্যটা শেষ হতেই ইলার চোখ বড় মুখ লাল।আরিয়ান থমকে গেলো।গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
আরিয়ানঃ- না না কাপল না… মানে… আমরা… মানে…।
লোকটি আরো রহস্যময় হাসি দিলো“
“আচ্ছা স্যার তাহলে হয়তো আপনারা ভাই-বোন?
ইলা তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,
ইলাঃ- হ্যাঁ ভাই-বোন।
আরিয়ান ভুরু তুললো
আরিয়ানঃ- ওহ তাই না আমরা ভাই বোন।
কিন্তু ইলাকে কিছু বলল না লোকটা এবার রেজিস্টার খাতা বাড়িয়ে দিলো।আরিয়ান কলম ধরেছে ঠিকই কিন্তু রুম নম্বরের পাশে “Relationship”লেখায় এসে কলমের নিব থমকে গেছে।আরিয়ান ফিসফিস করে ইলাকে বলল,
আরিয়ানঃ- এখন কি লিখবো?ভাই-বোন লিখলে পরে পুলিশে ধরলে তখন কি হবে?
ইলা ফিসফিস করে বললো,

ইলাঃ- আপনি যা ইচ্ছা লিখেন আমাকে জড়াবেন না।আর পুলিশ ধরবে কেনো আজব তো।
ইলার কথা শুনে টাইম নষ্ট না করে শেষ পর্যন্ত আরিয়ান লিখল “Relationship: হাজবেন্ড ওয়াইফ”
লোকটি পাশ থেকে ঝুঁকে হেসে বলল,
“হুম…নাইস কাপল।
ইলা এই কথা শুনে কেনো জানি লজ্জা লাগলো লজ্জার চটে চেয়ারের নিচে ঢুকে যেতে চাইল।
আরিয়ান চাবি নিয়ে রুমের দিকে হাটা দিলো ইলা আরিয়ানের পিছু পিছু দৌড়াচ্ছে আরিয়ান জোরে হাটছে আর ইলা হেটে কুল পাচ্ছে না তাই দৌড়ে লাগাল ধরছে। অবশেষে রুমে আসলো দুজনেই রুমে ঢুকতেই সমস্যা শুরু।একটা বড় বিছানা আর একটা ছোট সোফা ইলা জোরে বলে উঠল,

ইলাঃ- এটা কেমন রুম।
আরিয়ান শান্তভাবে বলল,
আরিয়ানঃ- আগে জানলে তো আপনার বেডরুমটা ব্যাগে গুছিয়ে নিয়ে আসতাম।
আরিয়ানের কথা শুনে ইলা লজ্জা পেলো ঠোঁট কামড়ে বলল,
ইলাঃ- থাক আমি মেঝেতে ঘুমাব।
আরিয়ান চোখ বড় করে তাকিয়ে,
আরিয়ানঃ- মেঝেতে ঘুমালে ঠান্ডা লাগবে। তারপর জ্বর হবে তারপর আব্বু আমাকে খুন করবে এটাই আপনি চান তাই না।
ইলাঃ- তাহলে আপনি মেঝেতে ঘুমান।
আরিয়ানঃ- আমি মেঝেতে ঘুমালে জ্বর হবে… তারপর আব্বু তোমাকেও খুন করবে।
ইলা: “……”

শেষ পর্যন্ত এই কথা কাটাকাটি শেষ করে বিছানার দুই কোণে দুজন দুই পাশে শুয়ে রইলো।মাঝখানে বালিশের পাহাড় তৈরি করে আরিয়ান বালিশ সাজাতে সাজাতে বলল,
আরিয়ানঃ- এটা হলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। হাত পা এপাশে পার হলে যুদ্ধ লাগবে। একবারে গুলি করে উড়ায় দিবো বলে দিলাম।
ইলার মুখে না চাইলেও সামান্য হাসি ফিরে এলো কিন্তু কিছু বলল না।আরিয়ান লাইট অফ করে শুতে আসলো লাইট অফ হতেই নীরবতা।কিছুক্ষণ পর ইলা ধীরে বলল
ইলাঃ- আপনি কি জাগে আছেন?
আরিয়ানঃ- “না” এটা আমি ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া উত্তর দিলাম।
ইলাঃ- আমাকে মশা কামড়াচ্ছে।
আরিয়ান হাত বাড়িয়ে মশা তাড়ানোর ভঙ্গি করল,
আরিয়ানঃ- এখন আর কামড়াবে না।
ইলা একটু অবাক হয়ে বললো,

ইলাঃ- কেন?
আরিয়ান খুব সিরিয়াস মুখ করে বলল,
আরিয়ানঃ- কারণ আমি বলেছি মশারা আমাকে ভয় পায় তাই কামড়াবে না।
ইলা হেসে দিলো কিন্তু মুখ চেপে রাখল যাতে ধরা না পড়ে যায় আরিয়ানের কাছে।দশ মিনিট পর হঠাৎ ইলা হালকা কেশে উঠলো।আরিয়ান সাথে সাথেই জেগে উঠল।
আরিয়ানঃ- কি হলো?
ইলাঃ- কিছু না গরম লাগছে।
আরিয়ান উঠে ফ্যানের গতি বাড়িয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এখন সব ঠিক আছে?
ইলাঃ- হ্যাঁ।

আরিয়ান বিছানায় ফিরেই নিজের দিকে বালিশ সরিয়ে ইলার জায়গাটা একটু বাড়িয়ে দিলো কিন্তু মুখে কিছু বলল না।ইলা টের পেলো কিন্তু ভান করলো কিছুই দেখেনি।
পরের দিন ঘড়িতে তখন সকাল ৭:১০ বাজে রুমের পর্দার ফাঁক দিয়ে সূর্যের হালকা সোনালি আলো ঠিকরে পড়ছে বিছানার ওপর।আরিয়ান আধঘুমে চোখ মেলল ইলার দিকটা ফাঁকা। বালিশের “সীমান্তরেখা” ভেঙে গেছে,আরিয়ান চোখ মুছে উঠে বসলো।
তারপরই হঠাৎ বাথরুমের দরজা খুলে ইলা বের হলো ভেজা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে গায়ে হালকা কমলা রঙের কুর্তা। মুখটা ফেকাশে হয়ে আছে চোখে মুখে ঘুমের কোমল ভাব।ইলাকে এভাবে দেখে আরিয়ান যেন মুহূর্তেই জমে গেল চোখ বড় হয়ে গেল। সে পুরো এক মিনিট অপলক তাকিয়ে রইলো।
ইলাঃ- কি… কি হলো? এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?

ইলার কথায় হুস ফিরলো আরিয়ান চমকে উঠে মুখ ঘুরিয়ে নিলো “আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ… আস্তাগফিরুল্লাহ…” (মনে মনে পড়া শুরু করলো) কিন্তু সাথে সাথেই সে থেমে গেল।নিজের মাথায় নিজেই চাপড় মেরে ভাবলো “দাঁড়া দাঁড়া… আমি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ছি কেন?আমি তো আমার নিজের বউকেই দেখছিলাম। আর এটা তো গুনাহ না… এটা তো….আরিয়ানের মুখটা অল্প লাল হয়ে গেল আরিয়ান মাথা নিচু করে বলল,
আরিয়ানঃ- আপনি মানে… ঠিক আছেন তো? চোখে কোনো সাবান ঢুকেছে নাকি চোখ এমন লাল হয়ে গেছে কেনো?
ইলাঃ- আমার কিছু হয় নি আপনি এভাবে তাকিয়ে কি দেখছিলেন?
আরিয়ানঃ- আমি… আমি তো… কাশি পাচ্ছিলো তাই তাকাচ্ছিলাম।
ইলাঃ- কাশি আসলে মানুষ তাকিয়ে থাকে নাকি?
আরিয়ানঃ- থাক না… মানে… আমি নতুন থিওরি বের করেছি।কাশির সময় তাকালে কাশি কমে যায়।
ইলা মাথা নেড়ে ধীরে ধীরে হাসিতে ফেটে পড়লো।আরিয়ান ভান করলো সে কিছুই শুনেনি। আরিয়ান আর কিছু না বলে তারাহুরো করে বাথরুম এ ডুকে পড়লো।

Time Skip……
হোটেলের নিচতলার ছোট্ট রেস্টুরেন্টে দুজন পাশাপাশি বসে।ওমলেট, পরোটা, সবজি, আর চা খাচ্ছে ইলা চা নেড়েচেড়ে বলল
ইলাঃ- আপনি আজ আমাকে এমনভাবে দেখছিলেন কেনো?
আরিয়ান চা মুখে নিয়েছিল এতটাই চমকে উঠল যে চা প্রায় নাকে ঢুকে যাচ্ছিল।
আরিয়ানঃ- আরে না না দেখছি মানে আপনি গোসলে করেছেন ঠান্ডা লেগেছিলো নাকি সেটাই দেখছিলাম স্বাস্থসচেতন থাকতে হয় বুঝেছেন।
ইলা আবার হাসি চেপে ফেললো ইলা বুঝে গেছে আরিয়ান যত লুকাবে, ততই ধরা খাবে। খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ রুমে থাকলো দুইজন নিজেদের ফোন নিয়ে ব্যস্ত কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। ফোন স্ক্রোল করতে করতে ১১:৩০ বেজে গেলো তারা চেক আউট করে স্টেশন এ চলে আসলো।
তখন সান্তাহার স্টেশনে গরম হাওয়া বইছে।ট্রেনের হুইসেল বাজতেই দুজন উঠে বসল সিটে।ট্রেন চলা শুরু করতেই ইলা জানালার পাশে হেলে বসল।চুলগুলো হাওয়ায় উড়ে আরিয়ানের গালে লাগছে। আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
আরিয়ানঃ- আপনার চুলগুলো কি ইচ্ছা করে উড়ে আমার দিকে আসছে?
ইলাঃ- এটাতে হাওয়া দোষী আমার চুল না।

আরিয়ানঃ- হাওয়া যদি আরেকবার দোষ করে আমি ওকে মামলা দিয়ে কোর্টে নিয়ে যাবো।
আরিয়ানের কথা শুনে ইলা হেসে ফেললো গালে হাত চাপা দিয়ে মুখ লুকালো। কিছুক্ষণ পর ট্রেন জোরে ঝাঁকুনি দিল।ইলা একটু দুলে গেল আরিয়ান হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললো দুজনেই স্থির হয়ে গেল। ইলার হাত আরিয়ানের হাতে কিছুক্ষণ রয়ে গেল।পরে ইলা আস্তে করে হাত সরিয়ে নিলো কিন্তু চোখের কোণে লালচে আভা।
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ ট্রেনের শব্দ, হাওয়া,আর দুজনের মাঝে এক অদ্ভুত নরম নরম দূরত্ব যা দূরত্ব নয় আবার পুরো কাছেও নয়।
সন্ধ্যা ৬:৫৫ ট্রেন থেকে নেমে দুজন রিকশা নিলো।হলের সামনে এসে আরিয়ান ব্যাগটা নামিয়ে দিলো ইলা মাথা নিচু করে বলল
ইলাঃ- ধন্যবাদ… আজ পুরোদিন যত যত্ন নিয়েছেন সব গুলোর জন্য।
আরিয়ান এর হাত পকেটে ঢোকানো মুখ অন্যদিকে
আরিয়ানঃ- আমি যত্ন না নিলে আর কে নেবে?আপনি তো আমার (বাকিটা বলতে গিয়েও থেমে গেল)
ইলাঃ- আপনার কি কিছু বলার ছিল?
আরিয়ানঃ- হ্যাঁ ছিল…কিন্তু আপনি আপাতত হলে ঢুকে যান। না হলে আবার গার্ড ভাববে আমি তোমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছি। আর হ্যাঁ একটা কথা এখন থেকে আপনি মুক্ত।
ইলাঃ- মানে?

আরিয়ান ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- মানে কেউ আপনাকে আর কিছু বলবে না।কেউ আপনাকে প্রশ্ন করবে না কেউ বিচার করবে না আপনি আপনার মতো থাকতে পারেন।
তার কণ্ঠে যেন এক অদ্ভুত ঠান্ডা শূন্যতা ইলার বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো সে কাঁপা গলায় বলল,
ইলাঃ- আপনি… মানে আপনি কি আর ভার্সিটিতে আসবেন না?
আরিয়ান হালকা হাসলো ঠোঁটে এক চিলতে কষ্টের রেখা,
আরিয়ানঃ- আমার ভার্সিটিতে কাজ শেষ এখন আর এসে কী করবো?
ইলাঃ- মানে আপনি এই ভার্সিটির স্টুডেন্ট না?
আরিয়ান তাকালো ইলার দিকে চোখে একটা গভীর শান্ত বিষণ্ণতা,
আরিয়ানঃ- না আমি স্টুডেন্ট না মাঝে মাঝে এখানে কাজে আসতাম এখন থেকে আর আসবো না।আপনি টেনশন মুক্ত থাকতে পারেন।

ইলা যেন নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছে না তার ঠোঁট কাঁপছে কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।এই মানুষটা যাকে সে মাত্র কয়েকদিন আগে ঘৃণা আর ভালোবাসার মাঝখানে চিনেছে আজ এত সহজে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে?আরিয়ান ঘুরে দাঁড়ালো একবার পিছনে তাকালো ইলার চোখে তখন জল জমে আছে ঠোঁট কামড়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে সে।দুজনের চোখ চার সেকেন্ডের জন্য আটকে রইলো।তারপর ইলা ভেতরে চলে গেল।আরিয়ান হালকা নিঃশ্বাস ফেলল “আস্তাগফিরুল্লাহ…না এটা আস্তাগফিরুল্লাহর বিষয় না এটা তো আমার বউ আর বউকে দেখলে পাপ হয় না।তারপর আরিয়ান চলে গেলো এক মুহূর্তের নীরবতা।
ইলা নিজের রুমে চলে গেলো দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ করে ইলা হঠাৎ মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগলো নিঃশব্দে।চারপাশে কেবল ঘড়ির টিকটিক আর শহরের দূরের শব্দ। কিছুক্ষণ পর নিজের ফোন টা হাতে নিয়ে নাম্বার ডায়াল করলো “হালিমা” ওপাশ থেকে পরিচিত গলা,
হালিমাঃ- কিরে ইলা কেমন আছিস?

ইলা কান্না চেপে গলা ভারী করে বলল,
ইলাঃ- সব শেষ হালিমা… আমি একা হয়ে গেছি আরিয়ান আমাকে হোস্টেলে রেখে চলে গেছে বলে গেছে আমি মুক্ত।
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা তারপর হালিমার গলা ভারী হয়ে উঠলো,
হালিমাঃ- তুই কাঁদিস না আমি আসছি।
আমি দুপুরের ট্রেন ধরবো আজ রাতেই পৌঁছে যাবো।ইলা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
ইলাঃ- তাড়াতাড়ি আয় হালিমা একদম একা লাগছে।আব্বুকে দেয়া কথা রাখতে পারলাম না।
হালিমাঃ- তুই টেনশন করিস না আমি আসছি।
ফোনটা বন্ধ করে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল বাইরে আকাশে হালকা বৃষ্টি পড়ছে।আর তার মনে বাজছে কেবল একটাই কথা “মুক্তি” নামে কিছু নেই শুধু ফাঁকা একাকীত্ব আছে।
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিস্তব্ধতার মধ্যে দূরে কোথাও একটা গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ মিলিয়ে গেল।আরিয়ান নিজের ঘরে বসে ব্যাগটা টেবিলের পাশে রেখে ইউনিফর্মটা ভাঁজ করছিলো ধীরে ধীরে।চোখে ক্লান্তি মন ভার নিজের মনের সঙ্গেই লড়াই চলছে। ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল স্ক্রিনে ভেসে উঠলো “রাশেদ তালুকদার” এর নাম্বার এক মুহূর্ত থেমে গিয়ে আরিয়ান কলটা রিসিভ করল। রাশেদ তালুকদার শান্ত গলায় বলল
রাশেদঃ- আরিয়ান ইলাকে হোস্টেলে রেখে এসেছো শুনলাম ব্যাপারটা কী?
আরিয়ান একটু দম নিলো চোখ নামিয়ে বলল,

আরিয়ানঃ- ওকে হোস্টেলে দিয়ে এসেছি এখন আপাতত অকে নিজের মতো থাকতে দেওয়া ভালো।
রাশেদ তালুকদার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন তারপর গলায় সামান্য কড়া ভাব এনে বললেন,
রাশেদঃ- তুমি জানো ওর বিয়ের ব্যাপারে বাড়িতে এখন কতটা চাপ চলছে? মেয়েটা একা মানসিকভাবে ভীষণ দুর্বল।তুমি ওকে একা ফেলে এভাবে চলে এলে এটা ঠিক হয়নি।
আরিয়ান নিঃশব্দে জানালার দিকে তাকাল চাঁদের আলো তার মুখে পড়ছে তবুও চোখে যেন একটা অজানা অন্ধকার আরিয়ান ধীরে বলল,
আরিয়ানঃ- আমি জানি কিন্তু ওর এখন সময় দরকার। ওর মন এলোমেলো।আমি ওর পাশে থেকে কিছু করতে পারতাম কিন্তু সেটা হয়তো ওর আরও কষ্ট বাড়িয়ে দিত তাই দূর থেকে ওর ভালোটা চেয়েছি।
রাশেদ তালুকদার গভীর গলায় বললেন,
রাশেদঃ- সব সময় দূরে থেকে ভালো করা যায় না আরিয়ান।মেয়েরা বাহিরে শক্ত দেখায় কিন্তু ভিতরে ভীষণ ভাঙা।তুমি যেভাবে ওর পাশে দাঁড়াও সেটা হয়তো এখনকার দিনে খুব কম মানুষ পারে।তবুও মনে রেখো ওকে একা ছেড়ে দিলে হয়তো সেই ভরসাটুকুও হারাবে।

আরিয়ান চোখ বন্ধ করল তার নিঃশ্বাস ভারি হয়ে উঠল গলায় কষ্ট লুকিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- আমি কথা দিচ্ছি আমি ওর জীবন থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছি না দূর থেকে খেয়াল রাখব।
ওপাশ থেকে নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল।রাশেদ তালুকদার বললেন,
রাশেদঃ- তোমার কথাগুলো আমার কাছে অপরিচিত নয় আরিয়ান।তুমি তোমার দায়িত্ব বুঝে চলছো তবুও মনে রেখো ভালোবাসা কখনো দায়িত্বের মতো শুষ্ক হয় না ওর মনে হয়তো তুমিই একমাত্র ভরসা।
আরিয়ান একটু হেসে ফেলল একটা নিঃসাড় হাসি।
আরিয়ানঃ- আমি সেনা পরিবারের সন্তান আমি শিখেছি অনুভূতি যত গভীর হোক দায়িত্ব তার থেকেও বড়।
ফোনের ওপাশে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা তারপর রাশেদ বললেন,

রাশেদঃ- তবুও মনটা তো মানুষই রাখে আরিয়ান।
কল কেটে গেল আরিয়ান ফোনটা টেবিলে রেখে ধীরে উঠে দাঁড়াল জানালার বাইরে রাতের হাওয়া বইছে সে মনে মনে ভাবল “তুমি মুক্ত ইলা… কিন্তু আমি কি পারব মুক্ত হতে? তারপর পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা ছোট চুলের ক্লিপ বের করল ইলার হেয়ার ক্লিপ যা ট্রেনের সিটে পড়ে গিয়েছিল।চোখে হাসি আর ব্যথার রেখা নিয়ে আরিয়ান সেটি আলতো করে টেবিলের ওপর রাখল।রাতটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার ভেতরও যেন কারো নাম ফিসফিস করে বাজছে “ইলা…”

অন্যদিকে রাত তখন প্রায় ১ টা হোস্টেলের রুম নিস্তব্ধ চুপচাপ জানালার পাশে চাঁদের আলো এসে পড়ছে ইলার মুখে।বিছানায় শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে ইলা কিন্তু ঘুম কিছুতেই আসছে না।মাথায় শুধু ঘুরছে আরিয়ানের সাথে সারাদিন কাটানো সময় গুলো আরিয়ানের কেয়ার, আর শেষে তার চলে যাওয়া পায়ের শব্দ।বালিশে মুখ গুঁজে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর ইলা হঠাৎ উঠে বসল।চোখে ক্লান্তি কিন্তু মনে একটাই চিন্তা কিছু একটা করতে হবে যাতে মনটা ব্যস্ত থাকে।ফোনটা হাতে নিয়ে গেমটা ওপেন করলো।স্ক্রিনে পরিচিত নীল লোডিং পেজটা ভেসে উঠলো“Free Fire” লগইন করার সঙ্গে সঙ্গে লবিতে দেখতে পেলো “Nobita is online.”ইলা একটু থেমে গেলো হালকা হাসলো নিজের অজান্তে।তারপর নবিতাকে ইনভাইটেশন পাঠালো নবিতা সাথে সাথে এক্সেপ্ট করে নিলো গ্রুপে এড হওয়ার পরে কিছু না বলে “Start Game” বাটনে ক্লিক করলো।খেলা শুরু হতেই মাইকের অপর পাশ থেকে একটা নরম কণ্ঠ ভেসে এলো
নবিতাঃ- সিজুকা তুমি আবার কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে?

ইলার আঙুল থেমে গেলো স্ক্রিনে সেই পুরোনো ডাকটা শুনে মনে হলো যেন সময়টা পাঁচ বছর পিছিয়ে গেছে।ধীরে ধীরে বলল,
ইলাঃ- আমার বোনের বিয়ে ছিলো তাই একটু ব্যস্ত ছিলাম।
তারপর দু’জনেই চুপচাপ শুধু গেমের মধ্যে বন্দুকের আওয়াজ গাড়ির শব্দ আর দূরের পটভূমির হালকা মিউজিক।অনেকক্ষণ পর নবিতা মাইকে আবার কথা বলল,
নবিতাঃ- সিজুকা অনেক দিন তো হলো এখন কি আমি তোমার আসল নামটা জানতে পারি?
ইলা একটু চুপ করে থাকলো যেন চিন্তা করছে বলবে কি না তারপর ধীরে বলল,
ইলাঃ- আমার নাম ইলা তালুকদার।
ওপাশ থেকে হালকা হাসির আওয়াজ ভেসে এলো,
নবিতাঃ- ইলা তালুকদার… সুন্দর নাম।
ইলাঃ- আর আপনার নাম?
নবিতাঃ- আমার নাম “লিয়ান চৌধুরী” তুমি এখন কী করো ইলা?
ইলাঃ- আমি এখন ঢাকার ইউনিভার্সিটিতে পড়ি জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট।
লিয়ানঃ- ওহ ইউনিভার্সিটি গার্ল তাহলে তুমি তো বেশ বড় হয়ে গেছো।
লিয়ান হালকা হাসলো ইলা একটু মুচকি হেসে বলল,
ইলাঃ- আপনি এখন কী করেন?
লিয়ান মাইক অন রেখেই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তারপর হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
লিয়ানঃ- আমি আমি খাই ঘুমাই… আর মাঝেমাঝে এই গেমে ডুবে থাকি।এটাই এখন আমার পেশা আমার নেশা আমার সব।

ইলাঃ- মানে আপনি কোনো কাজ করেন না?
লিয়ানঃ- কাজ হুম… হয়তো করি, হয়তো করি না,তুমি হয়তো ভাবছো আমি একটা নির্দিষ্ট মানুষ, কিন্তু আমি নিজেকেই এখনো চিনতে পারিনি।
ইলা চুপ করে গেলো তার চোখ তখন স্ক্রিনে কিন্তু মন কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।এই অপরিচিত ছেলেটার কথাগুলো অদ্ভুতভাবে শান্তি দিচ্ছে লিয়ান আবার বলল,
লিয়ানঃ- ইলা তুমি কেমন আছো এখন পাঁচ বছর আগের সেই চঞ্চল সিজুকা কি এখনও বেঁচে আছে তোমার ভেতরে?
ইলা চুপচাপ হেডফোন খুলে রাখলো পাশে জানালার দিকে তাকালো।চাঁদের আলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার গাল ভিজে গেছে চোখের পানিত ইলা মৃদু স্বরে বলল,

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩১

ইলাঃ- না… এখনকার সিজুকা অনেক বদলে গেছে লিয়ান ভাইয়া।
লিয়ানঃ- আবার লিয়ান ভাইয়া তোমাকে না বলছি আমাকে ভাইয়া না ডাকতে
ওপাশ থেকে কোনো শব্দ এলো না শুধু গেমে একটা রাউন্ড শেষ হওয়ার আওয়াজ “Victory” লিয়ান হালকা স্বরে বলল
লিয়ানঃ- তবুও ভালো লাগলো তুমি ফিরে এসেছো।আর হারিয়ে যেও না প্লিজ।
ইলাঃ- হয়তো সত্যিই… আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম আবার হারিয়ে যাবো।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৩৩