পৌষপার্বণ পর্ব ১৮
Irfa Mahnaj
দুটো অধরের মিলন ঘটলো বলেই। এইতো পৌষ তার চোখ খিচে বন্ধ করে আছে।পার্বণের চোখ জোড়াও বন্ধ।
তবে সে বহুত খুশিতে আছে। বউ তার কিস করবে তাও কিনা নিজে!
পুরুষ ঠোঁটের সাথে মেয়েলি ঠোঁটের ছুঁই ছুঁই হতেই এমন কিছু হয়ে যার জন্য পৌষপার্বণ দুজনের কেউই প্রস্তুত ছিলো না।
পৌষ কাচুমাচু করছে আর পার্বণ? ও পুরো স্তব্ধ বনে গেছে। বুঝতে চেষ্টা করছে আসলে হয়েছে কি? ঘটলো কি এই মাত্র।
— হে হে হে স… সরি!আমি মুছে দিচ্ছি।
কথাটা বলেই হাতের কাছে যেই পেয়েছে সেটা দিয়েই পার্বণের মুখ মুছতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে পৌষ।
মুখ মুছতে গিয়ে এক ভুলের মধ্যে আরেক ভুল ঘটিয়ে ফেলে সে। খাটের নিচে পা মোছা তেনা রাখা ছিলো।
সেটা দিয়েই পৌষ কাজ সেরে ফেলতে নিয়েছিল। একে তো বমি তার উপর পা মোছার তেনা দিয়ে কিনা মুছছে?
পৌষের হাত সরিয়ে দিয়ে খেঁক করে উঠলো পার্বণ,
— পৌষের বাচ্চাআআআ!চুমু খাবি না বললেই তো হতো বমি করার কি দরকার ছিলো!
আসলে হয়েছে কি যখনই পৌষ পার্বণকে কিস করতে নিবে ঠিক তখনই ওর মুখের উপর বমি করে দেয়।
পৌষ নিজেও বুঝতে পারেনি কি থেকে কি হয়ে গেছে। কি বলবে তাও বুঝতে পারছে না। তাই নিজের বত্রিশ পাটি দাঁত দেখিয়ে মিনমিন করে বলে,
— সরি।
— বুঝে গেছি আমার আর এ জীবনে বউয়ের আদর খাওয়া হবে না।
কথা শেষ করে পৌষের দিকে তাকাতেই থেমে যায় পার্বণ। মুখটাকে ইনোসেন্ট বানিয়ে রেখেছে পৌষ।
সাথে চেহারাটাও কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। পার্বণ ও তাই আর কোনো নাটক করলো না। স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করলো,
— কি হয়েছে তোর? ঠিক আছিস তুই?
— হুম আমি ঠিক আছি।
পাশের টেবিল থেকে পৌষের দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো পার্বণ। বলল,
— নে পানি খা। হঠাৎ এভাবে বমি করলি!
পানি খেয়ে জবাব দিলো পৌষ,
— জানিনা।
— আচ্ছা সমস্যা নেই। আমি দেখছি এগুলো। তু্ই বরং ওয়াশরুম থেকে চোখে মুখে পানি দিয়ে আয়।
পৌষও সম্মতি জানিয়ে চলে গেলো। আর পার্বণ নিজের দিকে তাকিয়ে একবার ফোঁস করে শ্বাস নিলো।
ওর টেনশন হচ্ছে পৌষকে নিয়ে। কি হলো হঠাৎ বমি কেনো করলো। তাছাড়াও পৌষকে অসুস্থ দেখাচ্ছে।
— না এভাবে আর বসিয়ে থাকা যাবে না।বাবা মাকে বলতে হবে। দরকার পড়লে ডাক্তার ও দেখাবো।
আসলে পৌষ খুব সেনসিটিভ। ওর ছোট খাটো কিছু হলেও বাড়ির কেউ বসে থাকে না। তাছাড়া গতকালকেও ও বমি করেছিল।
তখন ব্যাপারটা গ্যাস্ট্রিক বলে ধরে নিয়েছিল পৌষ পার্বণ। এখন আবার আজকেও করলো।
না না আর বসে থাকলে চলবে না।পার্বণ তার বউ নিয়ে খুব সিরিয়াস।
— আআআআ!
যত জোরে সম্ভব ততো জোরে চিৎকার করছে আর দৌড়াচ্ছে বসন্ত। বসন্ত একাই না সাথে আছে তার পুকি আম্রপালি।
— ওরে বলদ হাতের সিঙ্গারা ফেল।
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেই জবাব দেয় বসন্ত,
— না কখনোই না। জান থাকতে আমি আমার সিঙ্গারা ওই দুষ্টদের দিবো না।
— কু*ত্তার কামড় খেলে বুঝবি মজা। তখন ইনজেকশনের বদলে তোর পা*ছায় সিঙ্গারা দিতে বলবো।
বলতে বলতে আম্রপালিনিজেও জান প্রাণ লাগিয়ে ছুটছে। সাথে বসন্ত গালি দেওয়া ওর গুষ্টির তুষ্টি করা ও চিৎকার তো ফ্রি আছেই।
কয়দিন পরপর বসন্তের মাথায় নতুন ক্যাড়া উঠে। এই যেমন এবার ইচ্ছে হয়েছে ডেটিংয়ে যাবে আম্রপালিকে নিয়ে।
আম্রপালি ও রাজি হয়ে যায়। ওরা দিন,সময় ঠিক করে। সেই অনুযায়ী আজকে বিকেলে বের হয়।
হাত ধরে হাটে,ঘুরে বেড়ায়, লাফায়, খায়। সব কিছুই স্বাভাবিক আর সুন্দর ভাবে ঘটছিলো।
যা ভাবনায় ফেলে দেয় আম্রপালিকে। বসন্ত আছে আর কোনো ঝামেলা হচ্ছে তাও আবার সম্ভব নাকি!
আম্রপালির সন্দেহ সত্যি করে দেয় আমাদের বসন্ত বাবাজি। চারটা সিঙ্গারা কিনে বসন্ত খাওয়ার জন্য।
তু্ই খা বেশ ভালো কথা। কিন্তু না মহাশয় সিঙ্গারা নিয়ে যান কু*ত্তা খোচাতে।কি মনে করছে কে জানে।
কু*ত্তার সামনে গিয়ে সিঙ্গারা ধরে তুতু করা শুরু করে দেয়। এটা দেখে তো আঁতকে উঠে আম্রপালি। বলে,
— ওই তু্ই ওদের খোঁচাচ্ছিস কেনো এভাবে।
— ভালো লাগছে।
— তোর ভালো লাগা বের হয়ে যাবে কুত্তা খেপলে।
বলতে দেরি কিন্তু কুকুর গুলোর খেপতে দেরি হয় না। বার বার ওদের মুখের সামনে খাবার ধরে আবার নিয়ে যাচ্ছে।
ওরা তো খেপবেই। ব্যাস সেই থেকেই সিঙ্গারা সমেত বসন্ত দৌড়াচ্ছে ওর পাশে আম্রপালি দৌড়াচ্ছে।
আর ওদের দৌড় করাচ্ছে ওদের পিছন দৌঁড়াতে থাকা কুকুর মহোদয়রা।
— তোর ডেটিংয়ের কপালে পিছার বাড়ি।
— হে হে জান, বাবু রাগ করে না।
— তু্ই সিঙ্গারা ফেল।
— কইলজা এটাক করবে।
— বসন্তের বাচ্চা ফেল।
— আমার বাচ্চারা তো এখোনো আসেনি। আসলে ফেলে দিবে।
পার্বণ এবার পাগলই হয়ে যাবে। পাগল হবে না? যে বউ ছাড়া থাকতে পারে না সেই কিনা এখন বউয়ের কাছে যেতে পারছে না।
যতবার যাচ্ছে কাছে ততবার গন্ধ গন্ধ করছে। বলছে নাকি ওর গা থেকে গন্ধ।
মানলো তাই গেঞ্জি পাল্টে একদম ফ্রেশ নতুন গেঞ্জি পড়লো তাও কাছে গেলেই বলে গন্ধ।চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছে করলেও সেটা দমিয়ে সেন্ট মেরে গেছে।
ওমা তাও নাকি গন্ধ লাগছে। আশ্চর্য! হলো কি ওর বউর। বউকে আদরের অভাবে এদিকে ওর এনার্জি ফল করছে।
বেশ কিছুক্ষন সময় নিয়ে শেষে গোসল করে নতুন জামা কাপড় পড়ে একদম ফ্রেশ হয়ে পৌষের কাছে যায় পার্বণ।
পৌষ তখন আর নাক সিটকায় না। গন্ধ, গন্ধ ও করে না। খুশি হয়ে যায় পার্বণ। তবে গুঁড়ে বালি।
যেই মুখটা কাছে নেই অমনি “ওয়াক” “ওয়াক” আওয়াজ তুলে বমি করতে নেয়। বলে,
— দূরে সর তোর মুখ থেকে বাজে গন্ধ আসছে।
পার্বণ বেচারা পারলে হাত পা ছুড়ে কান্না করে। কাঁদো কাঁদো হয়ে জানায়,
— জান এমন করছিস কেনো? সেই যে কটা চুমু খেলাম তার পর থেকে তোর ধারেও ঘেঁষতে দিচ্ছিস না।
— আগে তু্ই দূরে সরে কথা বল।
অগত্যা দূরে সরতে হয় পার্বণকে। ও বেচারা শেষে দিশাবিশা না পেয়ে ছুটে যায় মায়ের কাছে।
ফাল্গুন তো আবার আরেকজন। পুরো বাড়ি মাথায় করে নিয়ে ছোটে পার্বণের রুমে। যেখানে বিছানায় আগে থেকেই শুয়ে আছে পৌষ।
রুমের এক কোনায় এতিমের মতো দাঁড়িয়ে আছে পার্বণ। এছাড়া আর করবেই বা কি বেচারা। বউয়ের কাছে যেতে পারছে না। এর থেকে বড় কষ্ট আর হয়!
পৌষের মাথার কাছে বসে বর্ষা বলেন,
— পৌষ আমার বাচ্চা কি হয়েছে মা?
মায়ের চিন্তিত চেহারার দিকে একনজর তাকায় পৌষ। পরপরই দেখতে পায় পায়ের কাছে বসে আছে মাঘ।
যে ওর আঙ্গুল টানছে। ডান পাশে বসে হাত ডলছে ফাল্গুন। আর বাম পাশে বসে আছে চৈত্র।
সবার দিকে তাকানো শেষে আবারো তাকায় নিজের মায়ের দিকে যে ওর মাথায় চুল টেনে দিচ্ছে।
ও কিছু বলবে তার আগেই মাঘ বলে উঠে,
— পৌষ সোনা এখন ঠিক আছে তুমি? বেশি খারাপ লাগছে?
পৌষ শুধু ছোট করে বলে,
— আমি ঠিক আছি তোমরা এতো চিন্তা করো না।
ঠিক তখন ফাল্গুন বলে,
— ওই হাদারামের কথা না হয় বাদই দিলাম পৌষ। তু্ই যে অসুস্থ এতবার বমি করলি তা আমাদের কাউকে জানাবি তো।
চৈত্রও মায়ের সাথে তাল মিলিয়ে বলে,
— হ্যা মা তো ঠিক কথাই বলেছে। তোর এই আপাকে বললেও তো পারতি।
কথা শেষ করে পার্বণের দিকে কটমট করে তাকাতেই এবার মুখ খুলে পার্বণ।
— আরে কি আজব! আমাকে কথা শুনাচ্ছ কেনো আমিই তো তোমাদের বললাম। নাহয় তোমাদের আদরের পৌষ তো কিছু বলেইনি।
সবার কথার মাঝে পৌষ বলে,
— পার্বণের কোনো দোষ নেই। আমিই ওকে জানাতে দেইনি।
ওদের কথার মাঝে সেখানে ডাক্তার নিয়ে উপস্থিত হন বৈশাখ ও আষাঢ়। জ্যৈষ্ঠ বাড়ি নেই।কাজের জন্য বাহিরে গেছে।
ডাক্তারটি পৌষদের পরিচিত হওয়ায় কোনো সমস্যা হয়নি। পার্বণকে ইশারা করতেই ও একটা চেয়ার এগিয়ে দেয়।
ডাক্তারএর নাম লেবু। ওনার এই অদ্ভূদ নামের পিছনে অনার দাদু তালের হাত আছে। এই নাম নিয়ে যে কত হাসির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
সেসব যাকগে। লেবু পৌষকে দেখে, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে, ওর চোখ দেখে, জিহবা দেখে। শেষে জানতে চায়,
— কি কি সমস্যা হচ্ছে?
— বমি হচ্ছে, সব কিছু কেমন গন্ধ গন্ধ লাগছে।
— মাথা ঘুরায় ?
— জি।
— আচ্ছা।
তারপর ডাক্তার লেবু আরো কিছু জিজ্ঞেস করেন। এবং বিজ্ঞদের মতো করে কিছুক্ষন হাবিজাবি ভাবেন।
তারপরই তিনি বোম ব্লাস্ট করেন। সকলের উদ্দেশ্যে করে পৌষকে বলেন,
— কংগ্রাচুলেশন পৌষ তুমি মা হতে যাচ্ছ।
খবরটা শুনতে দেরি পৌষের জ্ঞান হারাতে দেরি হয়না। এটা দেখে পার্বণ,
— বিয়ের কথা শুনেও জ্ঞান হারাচ্ছে, মা হওয়ার কথা শুনেও জ্ঞান হারাচ্ছে। এখানে জ্ঞান হারানের মতো হলো কি?
পৌষ যে জ্ঞান হারিয়েছে সেদিকে পার্বণ বাদে কারো খেয়াল আছে জানা নেই। কিন্তু সবাই কোমায় ঠিকই চলে গেছে।
তাঁদের মাথায় বুঝি আকাশ ভেঙে পড়েছে। ফাল্গুন একবার পৌষের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার পার্বণের দিকে। ও ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
ও এটাই ভাবতে পারছে না এই ছেলে নাকি বাপ হবে!এই ছেলে!আশ্চর্য কথাবার্তা।
বর্ষা ভাবছে এই তো সেদিন তার ডিম ফুটে তার ছাও বের হলো এখন নাকি সেই ছাও ডিম দিবে? তারপর বাচ্চা ফুটাবে!
— আজ তাহলে উঠি আমি?
সবার ঘোর ভাঙে। আষাঢ় রোবটের মতো হেটে ডাক্তারকে এগিয়ে দিতে যায়। ডাক্তার যেতোই বৈশাখ ধরে পার্বণকে।
— এই হতচ্ছাড়া ছেলে বাপ হবি মানে?
— বাপ হবো মানে বাবা হবো।
পার্বণের কান টেনে ধরে বৈশাখ। বললেন,
— বাবা হবি মানে? নাক টিপলে দুধ বের হয় যার সে কিনা হবে বাবা!
ফাল্গুন ও এগিয়ে আসে। স্বামীকে বলে,
— দেও আরো জোরে দেও। নিজেই এখনো বাচ্চা সে নাকি হতে চলেছে বাপ?
— আহা! লাগছে বাবা ছাড়ো।
— লাগার জন্যই তো দিলাম।
কিছুক্ষন পর কান ছেড়ে দেয় বৈশাখ। কান ডলতে ডলতে সবার দিকে তাকিয়ে বোকা বনে যায়।
একেকজনের রিঅ্যাকশন দেখে শিহরিত পার্বণ। ভাগ্যিস এখন তার ব্রাদার্স পার্টি হেমন্ত, বসন্ত ও ভাদ্র নেই।
তবে যাই হোক পার্বণের বেশ লাগছে সবার মুখ গুলো দেখতে। বহু কষ্টে হাসি চেপে আছে।
একেকজনের মুখের যা এক্সপ্রেশন। হাঁ করে আছে সবাই। বলতে গেলে ফ্রিজ হয়ে আছে। কি বলবে তারা।
যেই ছেলে মেয়েকে এখনো ভাত খাইয়ে দেয়। ওরা মারামারি করলে ছুটিয়ে দেয়। একটায় আরেকটাকে মেরে ফাটিয়ে ফেলে তার পর বিচার বসে।
সেই তারাই নাকি মা বাপ হচ্ছে। এদেরই তো এখনো পালা লাগে এরা আবার বাচ্চা কি পালবে।
সবার মুখের দিকে তাকিয়ে শুকনো কাশি কেশে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে পার্বণ। সফলও হয়।
সবাই তাকালে ও বলে,
— আশ্চর্য এরকম রিঅ্যাকশন দেওয়ার কি আছে? বাপ তো একদিন হতামই আজ হোক কিংবা কাল।
সবাই চিন্তিত বদনে পার্বণের রুমে বসে আছে। বসে আছে বললে ভুল হবে এক প্রকার ঘাঁটি গেড়েছে।
পার্বণ বেচারা না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে সইতে। এখন কোনো কথা বলা মানেই ওর ঘাড় মটকে দিবে বাড়ির লোক।
পার্বণ তো ভাই এটাই বুঝছে না ও করেছে কি? জাস্ট বাবাই তো হয়েছে।
পৌষের জ্ঞান এখনো ফিরেনি। পরিবেশ খুব ঠান্ডা। কেউ কোনো কথা বলছে না। শুধু ফ্যান চলার ঘ্যাটঘ্যাট আওয়াজ হচ্ছে ব্যস এই শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই হচ্ছে না।
ঠিক তখনি শোনা যায় অদ্ভূদ এক গান।
“দোহাই লেংটা, দোহাই লেংটা,
জয়ফুলি সোলেমান লেংটা!
দোহাই লেংটা, দোহাই লেংটা…
কাটা কেল্লা, কাটা কেল্লা,
কেল্লায় করে আল্লাহ আল্লাহ! [২]
কাটা কেল্লা, কাটা কেল্লা…
কেল্লায় করে আল্লাহ আল্লাহ!
গোউলি শাহ্র কান্দুরী শাহ্,
ভোক্তে করে তোমার আশা!
তুমি ভোক্তার মুশকিল আশা,
গুনিস্তানে গোলাপ শাহ্ বাবা! [২]
দোহাই লেংটা, দোহাই লেংটা…
চরণ ধূলি আমায় দিবা! ”
যা আর কোথাও থেকে আসছে না বরং পার্বণের ফোনের রিংটোন থেকে আসছে।
সিরিয়াস এক মোমেন্টে এমন উজবুক মার্কা আওয়াজ শুনে আরো খেপে যায় সবাই। একেই ঘটিয়েছে এক কান্ড।
ফাল্গুন খেঁক করে উঠতেই পার্বণ ভেটকাইয়া মায়ের দিকে তাকায়। পরপর সবার দিকে তাকাতেই বুঝতে পারে অবস্থা ভালো না।
পৌষপার্বণ পর্ব ১৭
— হে হে গাইস!আসসালামু আলাইকুম।
পার্বণের বলতে দেরি ফাল্গুনের পাশে থাকা পানির বোতল ওর দিকে ছুড়তে দেরি হয় না।বোতলের বাড়ি পিঠে পড়তেই পিঠ ডলতে ডলতে রুম থেকে বের হয় পার্বণ। আর ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফাল্গুন তেতে উঠে বলে,
— এক জাউরা জন্ম দিছি। জাউরার রিংটোনও জাউরার মতো। এই পোলায় নাকি আবার বাপ হইছে!
