খান সাহেব পর্ব ২৪
সুমাইয়া জাহান
সকাল থেকেই সুমু আর শেরাজের অবস্থা কাহিল। ঠান্ডায় একের পর এক হাঁচি দিয়েই চলেছে তারা। দুজনে মিলে এই নিয়ে বিশ কাপ আদা চা শেষ করেছে। আইয়ুবরা ওদের দুজনের অবস্থা দেখে মিটিমিটি হেসেছে, আর শেরাজের পিছনে লেগেছে। এখন বেলকনিতে ল্যাপটপের সামনে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে বসে আছে শেরাজ। সুমুর বেডের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে ফোন বেডের ওপর রেখে, ফোনে কিছুক্ষণ পরপর স্ক্রল করছে আর কি যেন দেখছে। পাশে চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। শেরাজ একপলক পিছনে ফিরে সুমুকে দেখল। সে সামনে তাকিয়ে ল্যাপটপে মন দিতে দিতে বলল,
“আমি ফোনটা আছাড় মেরে ভাঙার আগে, ফোন থেকে নজর সরিয়ে চা-টা শেষ করো।
সুমুর ফোনে এতোটাই ডুবে আছে যে শেরাজের কথা কান পযর্ন্ত পৌঁছায়নি তার। শেরাজ আবারও পিছন ফিরে তাকাল তার দিকে। ফোনের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে সুমু। সুমুর হাসি দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল শেরাজ। সুমু কোনো ভিডিও দেখে হাসছে না, এটা শেরাজ শিওর। কারন, ভিডিওর আওয়াজ একটু হলেও শেরাজের কানে আসতো, তার ওপর সুমুর কানে ইয়ারফোন পযর্ন্ত নেই। তাহলে হাসির কারনটা কি জানার জন্য উঠে দাঁড়াল সে। সে ধীরে গিয়ে দাঁড়াল সুমুর পেছনে। সুমু এখনও খেয়াল করেনি শেরাজকে। শেরাজ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখল, ফোনের স্ক্রিনের ওপর বাংলা ওয়ার্ডে অনেক কিছু লেখা, আর সেগুলো পড়েই সুমু হাসছে। শেরাজ একটু ঝুঁকে ফোনটা নিয়ে নিল। সুমু আচকামই বলে উঠল,
“এই! কোন শালারে?”
কথাটা বলে শোয়া থেকে উঠে তাকাতেই চোখ চড়কগাছ তার। ভুল মানুষকে ভুল কথা বলে ফেলেছে ভেবে দাঁত দিয়ে জিভে কামড়ে ধরল সে। নিজেকে সামলে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,
“ওওওওও, আপনি?”
হাঁচি দিল সুমু। শেরাজ তখনও সুমুর দিকে একইভাবে তাকিয়ে আছে। সুমু আবারও হেসে বলল,
“আসলে আমি বুঝতে পারিনি, খান সাহেব? ভুল করে বলে ফেলেছি, সরি।”
শেরাজ ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আমি তোমার শালা হই?”
সুমু আবারও দাঁত দিয়ে জিভ কামড়ে দুপাশে মাথা নেড়ে বলল,
“বালাইষাট, আপনি আমার শালা হতে যাবেন কোন দুঃখে? আপনি;তো আমার বর। ওটাতো ভুল করে বলে ফেলেছি।”
“ফোনে এগুলো কি পড়ে হাসছো তুমি?”
“ওওও, ওটা? ওটাতো গল্প। আমি ফোনে সময় পেলেই গল্প পড়ি। মাইশা আপুর বিয়েতে আসার পর থেকে যা যা হলো। আমি সময়ই পায়নি আর গল্প পড়ার। জানেন, কতোগুলো গল্প এখনও পড়ার বাকি আছে?”
“এগুলো পড়ে কি লাভ? আর তোমার না ঠান্ডা লেগেছে? এখন গল্প রাখো, আর চা-টা শেষ করে রেস্ট নাও। এখন এসব পড়লে মাথা ব্যথা করবে।”
সুমু একবার পাশে থাকা চায়ের কাপটার দিকে তাকিয়ে বেডের ওপর হাঁটুমুড়ে বসে শেরাজের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
“আমার একটা ইচ্ছা আছে, খান সাহেব।”
শেরাজ মুচকি হেসে সুমুর গালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
“কি ইচ্ছা, সুইটহার্ট?”
সুমু আলতো হেসে বলল,
“আমিও একটা গল্প লিখতে চাই, খান সাহেব। আপনাকে আর আমাকে নিয়ে।”
শেরাজ ভ্রু কুঁচকে সুমুর দিকে তাঁকিয়ে বলল,
“এতে লাভ? শুধু শুধু চোখ নষ্ট করে কোনো লাভ নেই। তোমার এখনও আমাকে ফুল নেকেড দেখা বাকি আছে। এসব গল্প লিখতে হবেনা তোমাকে।”
সুমু কিছুটা লজ্জা পেলেও জেদ ধরে বসে রইল। সে যখন বলেছে গল্প লিখবে, তার মানে সে লিখবেই। শেরাজ বাধ্য হলো সুমুর জেদের কাছে নিজের পরাজয় শিকার করতে। সে অনুমতি দিল তাকে গল্প লেখার। তবে, তার সাথে কিছু শর্তও জুড়ে দিল। সুমু সব শর্ত মেনে নিতে রাজি হলো। খুশিতে আটখানা সুমু। সে শেরাজের গালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। সুমুর আচমকা ঘটানো কাজে শেরাজ অবাক হলো তবে মুখে কিছুই বলল না, সুমু লজ্জা পাবে ভেবে। আর এমনিতেও এখন সুমুর লজ্জামাখা মুখটা দেখলে শেরাজের সুমুকে কাছে পেতে ইচ্ছে করবে, তাই সে চেপে গেল ব্যাপারটা। সুমুর পাগলামি দেখে শেরাজ আলতো হেসে বলল,
“গল্প লিখবে তা ঠিক আছে। তবে গল্পের নাম আর পেজের নাম কি দিবে, তা ঠিক করেছো?”
সুমু কিছুটা ভেবে বলল,
“যা আমার তা আপনার, যা আপনার তা আমার। আর তাই, পেজেটা শুধু আমার একার হবেনা, আপনারাও হবে। তাহলে সুমাইয়ার ‘সুমু’ আর শেরাজের ‘রাজ’। তাই আমি পেজের নাম দিবো ‘সুমুরাজ’। নামটা সুন্দর না?”
শেরাজ মুচকি হেসে বলল,
“খুব সুন্দর সুইটহার্ট। আর গল্পের নাম কি দেবে?”
সুমু এবার আর ভাবল না। সে না ভেবেই বলল,
“গল্পটা যেহেতু আপনাকে আর আমাকে নিয়ে লিখব। আর আমার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আর ভালোবাসা মানুষটা যেহেতু আপনি। সেহেতু গল্পের নাম হবে ‘খান সাহেব’।”
শেরাজ আবারও হাসল। সুমুকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে চায়ের কাপটা সুমুর হাতে দিয়ে বলল,
“খুব সুন্দর নাম।”
সুমু চায়ের কাপে চুমুক বসাল। শেরাজ আলতো করে সুমুর কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল।
আফতাব চৌধুরী পেছনে দুইহাত বেঁধে গার্ডেনে পায়চারি করছেন। সকাল থেকে তিনি তার একমাত্র গুণধর পুত্রকে একশতবার কল করেছেন। কিন্তু আরিয়ান একবারও কল রিসিভ করেনি। আফতাব চৌধুরী কাল রাত থেকেই বড্ড ক্ষেপে আছে ছেলের ওপর।
হঠাৎ বাড়ির গেট দিয়ে সাই সাই করে দুটো হোয়াইট মার্সিডিজ ঢুকলো। সামনের গাড়ি থেকে চারজন গার্ড নেমে দৌড়ে গিয়ে পেছনের গাড়ির দরজা খুলো দিলো। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল আরিয়ান। আরিয়ান ঠিকমতো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পরছেনা বলে গার্ড দুজন তাকে ধরতে নিলে, সে হাত দিয়ে বারন করে দিলো। সরে গেল গার্ড দুজন। সে দুলতে দুলতে এগিয়ে গেল। আফতাব চৌধুরী ছেলের কান্ড দেখে ভ্রু কুঁচকে ছেলের সামনে এসে দাঁড়াল। তিনি একটু সময় নিয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন,
“কাল থেকে কতোবার কল করেছি তোমায়? কল পিক করছিলে না কেন?”
“ওহ ড্যাড, আমি অনেক বিজি ছিলাম। আর ব্যস্ততার সময় আমাকে বারবার কল করবেনা তো। বিরক্ত লাগে।”
আফতাব চৌধুরী হুংকার করে বললেন,
“এখানে এসেই এসব অসভ্যতা না করলে চলছিল না তোমার?”
“ওহ কম অন ড্যাড! ইটস কলড এডিকশন, নট অসভ্যতা।”
“তুমি কি কোনোদিনও শুধরাবে না, আরিয়ান?”
“ড্যাড, ড্যাড, ড্যাড, মাই সুইট ড্যাড! শুধরাব তো। তবে তার আগে বলো তো আমার ভিতর ভালোটা কি?”
আফতাব চৌধুরী কিছু বলার আগেই আরিয়ান আবারও বলল,
“খুঁজে পাবেনা তো ভালোটা। কারন আমার ভেতর ভালো কিছুই নেই। আর তুমি নিজেই বলো ড্যাড, এতো খারাপকে ভালো বানানোর মতো এতো সময় কই আমার হাতে। তাই আমি ঠিক করেছি, আমি এমনই থাকব।”
“অন্তত কালকের রাতটা নিজেকে সামলে রাখতে পারতে। হঠাৎ করেই পার্টি থেকে গায়েব হয়ে গেলে। কালরাতের পার্টিটা তো তোমার জন্যই অর্গানাইজ করেছিলাম। আর তুমি কিনা…”
“ড্যাড প্লিজ! আমি এখন অনেক টায়ার্ড। আমাকে রুমে যেতে দাও।”
কথাগুলো বলে আরিয়ান দুলতে দুলতে বাড়ির ভেতরে চলে গেল। দুজন গার্ড বাড়ির বাহিরে রইল আর দুজন আরিয়ানের পিছু পিছু গেল। আফতাব চৌধুরী হাতশার নিঃশ্বাস ফেলে ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
বিকাল চারটা বাজে। আরিয়ান ঘুম থেকে উঠল। ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে দেখতে লাগল। পরনে একটা টাওয়েল। বুক আর পিঠের ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে টাওয়েল ভিজে যাচ্ছে। চুল দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে মেঝে ভিজে যাচ্ছে। বেড থেকে অ্যাপেল কোম্পানির ফোনটা হাতে তুলে নিল সে। আবারও ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে ক্যামেরা অন করে মিররের ভিতর দিয়ে নিজের একটা হট পিক নিল। তারপর ইনস্টাগ্রামে ঢুকে “হট শাওয়ার” ক্যাপশন লিখে ছবিটা পোস্ট করল। আপলোডের সাথে সাথে লাইক কমেন্টের জোয়ার বয়ে গেল। সে কমেন্ট চেক না করে বেরিয়ে গেল ইনস্টাগ্রাম থেকে। ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পরিপাটি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
ঘড়ির কাটায় সময় সন্ধ্যা ৬:৩০। শেরাজ বেলকনিতে বসে আছে। চোখ দুটো তার ফোনে আটকে আছে। সুমু রিসোর্টের কিচেনে খুব সুন্দর করে চা বানাচ্ছে। কারণ তার খান সাহেব কফির থেকে চা বেশি পছন্দ করে। সে দুকাপ চা ট্রে’তে করে নিয়ে এসে দাঁড়াল শেরাজের সামনে। এককাপ চা শেরাজের হাতে দিয়ে, অন্য কাপ চা টেবিলের ওপর রাখল। ট্রে’টা নিয়ে কিচেনে রেখে এসে আবারও বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। সে
শেরাজের পাশের চেয়ারে বসতে গেলে শেরাজ তার কোমর আকড়ে ধরে নিজের উরুর ওপর বসাল। নিজের কাপটাতে একবার চুমুক দিয়ে সুমুর ঠোঁটের সামনে ধরল। সুমু মুচকি হেসে চায়ের কাপে চুমুক বসাল। শেরাজ সুমুর ঠোঁটের কাছে থেকে কাপ সরিয়ে এনে নিজে আবারও চুমুক বসিয়ে বলল,
“নাউ পারফেক্ট।”
সুমু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
“কি?”
শেরাজ হালকা দুষ্টু হেসে বলল,
“সুগার।”
সুমু আলতো হেসে আবারও শেরাজের হাত থেকে কাপটা নিতে গেল। শেরাজ চায়ের কাপটা দূরে সরিয়ে বলল,
“নাউ ইটস ওনলি মাইন। আই কান্ট শেয়ার উইথ ইউ এনিমোর, সুইটহার্ট।”
সুমু কিছুক্ষণ শেরাজের দিকে তাকিয়ে রইল। সে টেবিল থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে চুমুক বসাল। শেরাজ নিজের চা-টা শেষ করে টেবিলের ওপর কাপটা রেখে সুমুর হাতের কাপটাও কেড়ে নিল। সুমুর কিছু বলার আগেই একচুমুকে চা-টা শেষ করল। চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখে টেবিল থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে ঢুকল। ইনস্টাগ্রামে ঢুকতেই আরিয়ানের পিকটা সামনে এলো তার। সুমু আরিয়ানের পিকটা দেখে একটা দুষ্টু বুদ্ধি আঁটল মাথায়। তার চা কেড়ে নিয়ে খাবার শোধ নেওয়ার জন্য সে বলল,
“সো বিউটিফুল, সো এলিগেন্ট, জাস্ট লুকিং লাইক আ হট। দেখছেন খান সাহেব, আরিয়ান চৌধুরী কতোটা হট?’
হাতের ফোনটা দূরে ছুড়ে ফেলে দিলো শেরাজ। মুহুর্তেই ফোনটা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। সুমু ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল। শেরাজ এখনও তাকাইনি সুমুর দিকে। সে উঠে দাঁড়িয়ে সুমুকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে এলো। বেডের ওপর সুমুকে ফেলে ক্যাবার্ড থেকে দুটো ওড়না বের করে আনল।
সুমু মনে মনে শিওর হলো, আজ তার শেষ দিন। সে ভয়ে চোখ বন্ধ করে কালেমা পাঠ করছে। শেরাজ সুমু দুইহাত বেডের সাথে বাঁধল। আচমকাই কিছু একটার শব্দ পেয়ে সুমু এক চোখ খুলে তাকাল। এক চোখ দিয়ে পুরো রুম পরখ করে সে দেখল, রুমের কোথায় শেরাজ নেই। দুই চোখ মেলে তাকাল সে। ঘন ঘন চোখের পল্লব নেড়ে আবারও পুরো রুমে চোখ বোলালো। না কোথাও তার খান সাহেব নেই। সুমুর ভ্রু কুঁচকে এলো। সে বিরবিড়িয়ে বলল,
“আমাকে এভাবে বেঁধে রেখে কোথায় গেল, খান সাহেব? আমাকে বেঁধে পিটানোর জন্য কি মোটা বড় লাঠি আনতে গেল?”
সুমুর কথার মাঝেই ওয়াশরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ ভেসে এলো। সুমু বুঝতে পারল না এখানে কি হতে চলেছে। সে আবারও বিরবিড়িয়ে বলল,
“আজব তো! এই খান সাহেব করছেন টা কি?
ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে সুমু চোখ কপালে উঠে গেল। শেরাজ মাত্র শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। পরনে টাওয়েল। শরীরটা একটুও মুছেনি। টপটপ করে চুল, বুক বেয়ে পানি পড়ছে। সুমু এমন দৃশ্য দেখে ঢোক গিললো।
শেরাজ এগিয়ে এলো সুমুর কাছে। সে দুইহাত সুমুর দু’কাঁধের পাশে রেখে ঝুঁকে রইল সুমুর ওপর। তারপর সুমুর মুখের ওপর ফুঁ দিয়ে তার কপালের ওপর চলে আসা অবাধ্য চুলগুলোকে সরিয়ে দিলো। সুমু নির্লজ্জর মতো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে শেরাজের দিকে। সে আবারও বড় করে ঢোক গিলে বলল,
“আপনি এইভাবে? এখন? কেনো? ঠান্ডা…”
শেরাজ বাঁকা হাসল। সে সুমুর ঠোঁটে ওপর হাত রেখে বলল,
“হট লাগে?”
সুমু পুনরায় ঢোক গিলে বলল,
“আসলে খান সাহেব আমি তখন…”
“উফ, সুইটহার্ট! হট লাগে কিনা বলো?”
সুমু চোখ বন্ধ করে একবার বড় করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। এতেই শেরাজ তার উত্তর পেয়ে মুচকি হাসল। সুমু চোখ মেলে তাকানোর আগেই শেরাজ সুমুর গলায় মুখ গুঁজে পড়ে রইল। শেরাজের ঠান্ডা শরীরের স্পর্শে কেঁপে উঠল সুমু। শেরাজ মুখ তুলে সুমুর দু’হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে আবার সুমুর গলায় মুখ গুঁজল। হাত ছাড়া পেয়ে সুমুর শেরাজের উন্মুক্ত পিঠ আঁকড়ে ধরল।
শেরাজ মুচকি হেসে বলল,
খান সাহেব পর্ব ২৩
“ইউর স্কেচ পেন ইজ ইউর নেইলস, ইউর পার্সোনাল নোটবুক ইজ মাই ব্যাক, সুইটহার্ট।”
সুমু মৃদু লজ্জা পেয়ে আরও জোরে আঁকড়ে ধরল শেরাজকে। শেরাজ গলা থেকে মুখ তুলে তাকিয়ে রইল সুমুর লজ্জামাখা মুখটার দিকে। এই লজ্জামাখা মুখটা শেরাজের ভীষণ রকমের পছন্দের। শেরাজের আজ কোনো বাঁধা মানতে ইচ্ছে করছে না। তার এই মুহুর্তে ডুবে যেতে ইচ্ছে করছে সুমুর মাঝে।
